আন্তর্জাতিক

১০ দিনের আল্টিমেটাম: চুক্তি না করলে ইরানে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
আরব সাগরে মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: রয়টার্স
আরব সাগরে মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুতগতিতে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসন ও প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, প্রস্তুতি এমন পর্যায়ে রয়েছে যে প্রয়োজনে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকেই ইরানে হামলা চালাতে পারে ওয়াশিংটন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে ১০ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে চুক্তিতে না এলে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

 

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হামলা চালানো হলে তা কীভাবে হবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরি ও উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি রাখা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র–সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও উৎক্ষেপণকেন্দ্র।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের মূল উদ্বেগ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে তেহরান। যদিও ইরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা-তে দুই দেশের সর্বশেষ বৈঠকে কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

 

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে গাজা বোর্ড অব পিস-এর এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, গত বছর ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা না চালালে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আরও বিঘ্নিত হতো। তিনি বলেন, হয়তো আমাদের আরও এক ধাপ এগোতে হবে। আবার হয়তো একটি চুক্তিও হতে পারে। আগামী ১০ দিনের মধ্যেই তা জানা যাবে।

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরি, ডেস্ট্রয়ার ও ক্রুজার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং ৫০টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে F-35 Lightning II, F-22 Raptor ও F-16 Fighting Falcon রয়েছে। এছাড়া গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় ব্যবহৃত B-2 Spirit বোমারু বিমানগুলোও উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।

 

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি স্থায়ী সামরিক ঘাঁটিতে বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। সম্প্রতি সেখানে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যা ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

 

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়-এর ইরানবিশেষজ্ঞ ভালি নাসর মনে করেন, আলোচনা চলমান রেখে যুক্তরাষ্ট্র সময় নিচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানও প্রতিশোধমূলক হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে। সম্ভাব্য সংঘাতের মূল্য ও ঝুঁকি ট্রাম্প প্রশাসনকে বিবেচনায় রাখতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে সক্রিয় হয়েছে ইসরায়েলও। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েল চায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র কার্যকর পদক্ষেপ নিক।

 

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত দুই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশটির সামরিক বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ হামলার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন জোরালো হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ | ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি ও সম্পদ মুক্তি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো আলোচনা নয়: ইরানের কঠোর বার্তা

লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ধরনের আলোচনায় বসবে না তেহরান। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এই কড়া শর্তের কথা জানিয়েছেন।   শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইতিমধ্যে ইরানি প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছেছেন এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি দল রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে স্পিকার ঘালিবাফের এই নতুন বার্তায় নির্ধারিত এই বৈঠক এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ঘালিবাফ স্পষ্ট করে বলেছেন, "আলোচনা শুরুর আগেই এই দুটি শর্ত পূরণ করতে হবে।"   এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ ও ট্যাংকার থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। শুক্রবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন জানিয়েছে, এখন থেকে এই পথে যাতায়াতের টোল কেবল ইরানি মুদ্রা ‘রিয়াল’-এ পরিশোধ করতে হবে। এর আগে এই টোল ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনা মুদ্রা ইউয়ানে নেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও তেহরান এখন নিজস্ব মুদ্রাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। ভারতের মুম্বাইস্থ ইরানি কনস্যুলেট জেনারেলও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   সূত্র: আলজাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি নারী ইয়াসমিনের হত্যাকারীকে ‘পশু’ বললেন ট্রাম্প

তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাং-এর শীর্ষ নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট মা ইং-জেউ-এর সঙ্গে এক বিরল ও ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং | ছবি: সংগৃহীত

দুই নেতার ঐতিহাসিক বৈঠক: তাইওয়ানকে আরও কাছে টানছে চীন

বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার | ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ‘অগ্রহণযোগ্য’, বসতি স্থাপন বন্ধের দাবি বেলজিয়ামের

ছবি: সংগৃহীত
৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের ১৮ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি; ধ্বংস হয়েছে ১ লাখের বেশি ঘরবাড়ি

মাত্র ৪০ দিনের যুদ্ধেই ইরানজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের বরাতে আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, এই যুদ্ধে ইরানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকার সমান।   ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড জানিয়েছেন, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ আবাসিক বাড়ি রয়েছে। এছাড়া ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র হামলার শিকার হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।   বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ইরানের সামরিক শক্তির ওপরও বড় আঘাত এসেছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের চারটি প্রধান ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র—খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ এবং শারাউদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে ২৯টি মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ৫টি জ্বালানি সংরক্ষণাগারেও হামলা চালানো হয়েছে।   এই যুদ্ধের ফলে অনেক ইরানি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন এবং দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে।   সূত্র: আল-আরাবিয়া, ওয়াশিংটন পোস্ট

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনার লাশ ফেরত দিল রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি বৈঠক শনিবার; উভয় দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের তালিকা প্রকাশ

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস | ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা: ইরানে পুনরায় দূতাবাস খোলার ঘোষণা স্পেনের

ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে ৪ অভিবাসীর মৃত্যু; ডিঙি থেকে সাগরে পড়ে মর্মান্তিক পরিণতি

উত্তর ফ্রান্সের উপকূল থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে যাওয়ার চেষ্টাকালে নৌকা থেকে পড়ে ৪ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোরে ফ্রান্সের ক্যালে অঞ্চলের ইকুাইহেন ও একল্ট সৈকতের মাঝামাঝি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   স্থানীয় মেয়র ক্রিশ্চিয়ান ফোরক্রয় জানান, প্রায় ৩০ জনের একটি অভিবাসী দল একটি ইনফ্ল্যাটেবল ডিঙি নৌকায় ওঠার চেষ্টা করার সময় বিপদে পড়ে পানিতে তলিয়ে যান। মৃতদের মধ্যে দুজন নারী এবং দুজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া আরও এক অভিবাসীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদল অভিবাসী সাগরে পড়ে গেলেও ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি না থেমে বাকিদের নিয়ে ব্রিটেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখে।   পুলিশ জানিয়েছে, মানবপাচারকারীরা নজরদারি এড়াতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘ট্যাক্সি-বোট’ কৌশল ব্যবহার করায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে। চলতি বছরের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৭৭৬ জন অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। এই বিপজ্জনক পারাপার রোধে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে 'ওয়ান ইন, ওয়ান আউট' চুক্তি থাকলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি।   অভিবাসন নিয়ে এই প্রাণহানি এবং নিয়মিত অনুপ্রবেশ ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, শুধু সীমান্ত পাহারা দিয়ে এই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়; অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও আইনি পথ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।   সূত্র: রয়টার্স

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান | ছবি: সংগৃহীত

আমাদের আঙুল এখনো ট্রিগারে: লেবানন ইস্যুতে ইসরায়েলকে ইরানের কড়া বার্তা

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস | ছবি: সংগৃহীত

'একতরফা প্রত্যাশা অন্যায্য', ট্রাম্পের সমালোচনার কড়া জবাব ইউরোপের

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার ব্রায়ান হেগসেথ | ছবি: সংগৃহীত

ইরানে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' ঐতিহাসিক বিজয়: পিট হেগসেথ

0 Comments