সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য করা হবে: মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য করা হবে: মোজতবা খামেনির হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তেই হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতি। এক কড়া বার্তায় তিনি মার্কিন বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগের এই চরম হুঁশিয়ারি দেন।   বিবৃতিতে খামেনি দাবি করেন, ইরানি বীর যোদ্ধাদের পালটা আঘাতে পর্যুদস্ত হয়ে মার্কিন বাহিনী এখন আর আরব সাগরের বাইরে আসার সাহস পাচ্ছে না। খুব শিগগিরই এই সাগরও তাদের উপস্থিতি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।   এরপর গত মার্চ মাসে তার ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই একই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে, যার কারণে দীর্ঘ সময় তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।   এদিকে, চলমান এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সাইডলাইনে ইরান একটি সাত দফা শান্তি প্রস্তাবও উত্থাপন করেছে। এই প্রস্তাবের অংশ হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে রাজি আছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও, চলতি সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আরও আলোচনা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালিতে সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ মার্কিন মেরিন সেনা আহত

হরমুজ প্রণালিতে একটি সামুদ্রিক জাহাজে ইরানের ছোড়া জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় আট মার্কিন মেরিন আহত হয়েছেন। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালিতে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আট মেরিনের মধ্যে সাতজন তালিকাভুক্ত সদস্য এবং একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তারা একটি ব্যাটালিয়ন ল্যান্ডিং দলের অংশ হিসেবে ওই জাহাজে দায়িত্ব পালন করছিলেন।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের পর আহতদের ধোঁয়া শ্বাস নেওয়ার কারণে অসুস্থতা এবং মাথায় আঘাতজনিত সমস্যার সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের কয়েকজন মাথাব্যথাসহ মস্তিষ্কে আঘাতের মতো উপসর্গ অনুভব করেন। তবে আহতদের কারও অবস্থা গুরুতর ছিল না এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আটজনই আবার দায়িত্বে ফিরে যান।   ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মেরিনরা ওই সময় মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজে ছিলেন না। মার্কিন কর্মকর্তারা জাহাজটির মালিকানা বা ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এটিকে শুধু একটি সামুদ্রিক জাহাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় ওই জাহাজে থাকা মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির বিষয়টি তখন প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এনবিসি আরও জানিয়েছে, ১৪ সেপ্টেম্বরের হামলার বিষয়ে সে সময় পেন্টাগনের পক্ষ থেকে মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরে প্রতিরক্ষা বিভাগের সামরিক হতাহত সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারে আহত আট মেরিনের তথ্য যুক্ত করা হয়।   পেন্টাগনের ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম বা ডিসিএএসের তথ্য অনুযায়ী, এই আটজনকে যুক্ত করার পর ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতে আহত মার্কিন সামরিক সদস্যের সংখ্যা ৮৬১ জনে পৌঁছায়। ওয়াশিংটন পোস্টের পর্যালোচনা অনুযায়ী, একই সময়ে আরও ২৯ জন মার্কিন নৌসদস্যের তথ্য যোগ হওয়ায় মোট আহতের সংখ্যা এক সপ্তাহে ৩৭ জন বেড়েছিল।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামরিক সদস্য আহত হওয়ার তথ্য প্রকাশে অনেক সময় বিলম্ব হতে পারে। কোনো আঘাতের উপসর্গ তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ না পাওয়ায় এবং তথ্যভান্ডার তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ না হওয়ায় এমন বিলম্ব হয়। প্রকাশ্য ডিসিএএস তথ্যভান্ডারে ওই আট মেরিন কোথায়, কখন এবং কীভাবে আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   হরমুজ প্রণালি সামরিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা এই প্রণালির মধ্য দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়ার পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও নৌনিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে তারা সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। জুলাইয়ে সেন্টকম জানিয়েছিল, ইরানি হামলার পরও প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা রয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী সেখানে জাহাজ চলাচলে সহায়তা করছে।   সেন্টকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থা এবং নৌ সক্ষমতার ওপর হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।   সাম্প্রতিক ঘটনায় মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত আট মেরিন গুরুতর অবস্থায় ছিলেন না এবং হামলার পর দ্রুত দায়িত্বে ফিরে যান। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সংঘাতে মার্কিন সামরিক সদস্যদের হতাহতের প্রকৃত চিত্র নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   সূত্র: এনবিসি নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরাকে আবার নিয়মিত নগদ ডলার সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতা
কয়েক মাসের টানাপোড়েন শেষে ইরাকে আবার নিয়মিত ডলার পাঠাতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র

কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার পর ইরাকে নগদ মার্কিন ডলারের নিয়মিত চালান অব্যাহত রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে বাগদাদ। ইরাক সরকারের মুখপাত্র হায়দার আল-আবুদি জানিয়েছেন, নতুন একটি নগদ ডলারের চালান আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে পৌঁছাবে। তবে চালানটির পরিমাণ এবং নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করা হয়নি।   ইরাকি সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জাইদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের ধারাবাহিক আলোচনার ফলেই এই সমঝোতা হয়েছে। গত জুলাইয়ে ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ট্রেজারি সেক্রেটারিসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন আল-জাইদি। অর্থনৈতিক ও আর্থিক সম্পর্ক জোরদার করা ছিল ওই সফরের অন্যতম প্রধান বিষয়।   নতুন সমঝোতার লক্ষ্য ইরাকের বৈধ বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানো এবং স্থানীয় বাজারে ডলারের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা। একই সঙ্গে ডলার কোথায় যাচ্ছে এবং কী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাগদাদ।   ইরাকি সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ঠেকানো, ডলার বিতরণে নজরদারি বাড়ানো এবং আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করে ধীরে ধীরে ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশটি।   কেন বন্ধ হয়েছিল ডলারের চালান   গত এপ্রিলে ইরাকে নগদ ডলার পাঠানোর নিয়মিত প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি নগদ চালানও আটকে দেওয়া হয়েছিল। ইরান-সমর্থিত স শ স্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব এবং অবৈধ আর্থিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডলার ইরান ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর কাছে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল ওয়াশিংটনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ।   তবে জুলাইয়ের শুরুতেই পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। রয়টার্স নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে জানিয়েছিল, কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারে নগদ ডলারের বিমান চালান আবার শুরু করেছে। সে সময় হোয়াইট হাউস, পররাষ্ট্র দপ্তর ও ট্রেজারি প্রকাশ্যে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও স্বাধীনভাবে তথ্যটি যাচাই করতে পারেনি।   এ কারণে এখনকার ঘোষণাকে একেবারে প্রথমবার ‘ডলার পাঠানো আবার শুরু’ বলা পুরোপুরি সঠিক হবে না। বরং সর্বশেষ সমঝোতা ইরাকে নিয়মিত ও অব্যাহত নগদ ডলার সরবরাহ নিশ্চিত করার নতুন ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ইরাকের জন্য মার্কিন ডলার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন   ইরাক এখনো বড় পরিসরে নগদনির্ভর অর্থনীতি। দেশটির তেল রপ্তানি থেকে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসাবে রাখা হয়। সেখান থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ ডলার ইরাকে পাঠানো হয়।   ডলারের সরবরাহ কমে গেলে ইরাকের অনানুষ্ঠানিক বাজারে ডলারের বিপরীতে দিনারের ওপর চাপ বাড়তে পারে। আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এর প্রভাব পণ্যের দামেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের প্রবাহ বাড়ার প্রত্যাশার মধ্যে ইরাকি দিনারের অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হওয়ার খবরও এসেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় তাই একদিকে ইরাকের বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা মেটানোর চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে ডলার যেন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে না পৌঁছায়, সে জন্য আর্থিক নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে।   এখন নজর থাকবে আগামী কয়েক দিনের দিকে। ইরাকি সরকার বলছে, নতুন নগদ ডলারের চালান শিগগিরই পৌঁছাবে। তবে কত অর্থ আসছে এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবধানে চালান পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই, জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের তাগিদ চীনের
ফিলিস্তিন শাসন করবে ফিলিস্তিনিরাই, জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের তাগিদ চীনের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ফিলিস্তিনের শাসনভার ফিলিস্তিনিদের হাতেই ন্যস্ত থাকার বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে চীন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেং এই জোরালো বার্তা প্রদান করেন।   তিনি সুস্পষ্টভাবে জানান, ফিলিস্তিনিরাই নিজেদের দেশ পরিচালনা করবে এবং এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিম তীরের সার্বিক উন্নয়ন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। ফিলিস্তিন সংকটের একটি চিরস্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের জন্য যত দ্রুত সম্ভব 'দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক' সমাধানের ফর্মুলায় ফিরে যাওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।   জাতিসংঘ বা নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এককভাবে কোনো দেশের ওপর হামলা চালানোকে চরম অন্যায় আখ্যা দিয়ে হান ঝেং বলেন, যেকোনো বিরোধ কেবল আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা বুদ্ধিমানের কাজ। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বৃহৎ শক্তিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।   মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি প্রসঙ্গে চীনের উপ-রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি রক্ষার্থে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ চেইন সচল রাখার বিষয়েও তিনি জোর দেন।   ফিলিস্তিন ইস্যুর পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের সংকট নিয়েও অধিবেশনে কথা বলেন চীনের এই শীর্ষ নেতা। তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চীন নিজস্ব উদ্যোগে শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া কিউবার ওপর থেকে সব ধরনের একতরফা ও অন্যায় নিষেধাজ্ঞা এবং হুমকি অবিলম্বে তুলে নেওয়ারও জোরালো দাবি জানান তিনি।   আধুনিক প্রযুক্তির প্রসঙ্গে হান ঝেং বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর যুগে প্রযুক্তির বিকাশ ও ব্যবহার যেন কেবল মানবকল্যাণেই নিবেদিত হয়। বিশ্বে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমান সুযোগ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নৌবাহিনীর এই রণতরিতে নাবিকদের মানসিক অবসাদের বিষয়টি সম্প্রতি একটি চিঠির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে ৮ নাবিকের আত্মহত্যার চেষ্টা, তোপের মুখে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা এই রণতরী ও এর সঙ্গে থাকা ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে অভিযানের শুরু থেকে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে এসব ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি।   মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ডকে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানিয়েছেন। মঙ্গলবারের তারিখ দেওয়া ওই চিঠিটি বুধবার প্রকাশ্যে আসে। গিলিব্র্যান্ড ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও জাহাজের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়ে নৌবাহিনীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন।   হাং কাওয়ের চিঠি অনুযায়ী, আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার হিসাব শুধু ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মূল ক্রুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এতে ক্যারিয়ারের বিমান শাখা, ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ও ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রনের কর্মী, সঙ্গে থাকা ডেস্ট্রয়ার এবং জাহাজে অবস্থানরত বিমান স্কোয়াড্রনের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত।   চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় কোনো নাবিক আত্মহত্যা করে মারা যাননি। এর আগে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বাড়তি সংকট দেখা যায়নি বলে জানানো হয়েছিল। নতুন তথ্য প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।   কাও জানান, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য জাহাজে পাঁচজন ধর্মীয় পরামর্শদাতা, একজন মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিরোধবিষয়ক সমন্বয়কারী, একজন মনোবিজ্ঞানী, একজন ক্লিনিক্যাল সমাজকর্মী, তিনজন আচরণগত স্বাস্থ্যকর্মী এবং একটি প্রশিক্ষিত সহায়ক কুকুর ছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্ট্রাইক গ্রুপের অন্যান্য জাহাজেও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা ছিল।   নতুন এই তথ্যের সঙ্গে জাহাজটির দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে এর অভিযান ছিল ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে। পরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাহাজটির দায়িত্বের ক্ষেত্র পরিবর্তিত হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছানোর আগে জাহাজটি প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে ছিল।   মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানের সময় জাহাজটির স্ট্রাইক গ্রুপ ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক অভিযানে যুক্ত ছিল। দীর্ঘ সময় কোনো বন্দরে না থেমে দায়িত্ব পালনের কারণে নাবিকদের কর্মপরিবেশ, বিশ্রাম, খাবার ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে নাবিকদের পরিবার ও কয়েকজন আইনপ্রণেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আগস্টে মার্কিন সিনেটের কয়েকজন সদস্য নৌবাহিনীর কাছে পরিস্থিতি নিয়ে জবাবও দাবি করেন।   আগস্টে নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ অভিযান মিশনের প্রয়োজনেই বাড়ানো হয়েছিল। তিনি তখন জানান, নাবিক ও মেরিনদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর ওই বিবৃতিতে ২৬৬ দিনের মোতায়েন ও ২০০ দিন যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, কিছু মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘটনা চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছিল, তবে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।   এদিকে জাহাজের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘ অভিযানের কারণে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে এমন বক্তব্যকে খাটো করে দেখেছেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। নতুন করে আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার তথ্য প্রকাশের পর তাঁর অবস্থান নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।   সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সমালোচনা করে বলেছেন, প্রশাসন যে উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেয়নি, সেগুলো এখন গুরুতর পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্যের এই অংশটি রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে এবং এটি গিলিব্র্যান্ডের নিজস্ব মূল্যায়ন।   তবে আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার সংখ্যা পুরো নৌবাহিনীর তুলনায় কী অবস্থানে রয়েছে, সে বিষয়েও প্রেক্ষাপট রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর সক্রিয় সদস্যদের মধ্যে ৩৫৬টি আত্মহত্যার চেষ্টা নথিভুক্ত হয়েছিল। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপে প্রায় ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার নাবিক বিভিন্ন জাহাজে মোতায়েন ছিলেন। তবে একটি নির্দিষ্ট অভিযানের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের বার্ষিক পরিসংখ্যানের সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে সময়কাল ও জনসংখ্যার পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।   এর আগে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের কয়েকজন নাবিক জাহাজ থেকে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে। নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিবের চিঠিতে বলা হয়েছে, আগস্টের শুরুতে ক্যারিয়ার এয়ার উইংয়ের একজন নাবিক পানিতে পড়ে যাওয়ার পর দ্রুত উদ্ধার করা হয় এবং তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মার্চে আরেক নাবিক পানিতে যাওয়ার চেষ্টা করলে সহকর্মীরা তাকে থামিয়ে দেন এবং পরে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়।   দীর্ঘ অভিযানের অবসানে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ থাইল্যান্ডে নির্ধারিত বন্দর সফরে যায়। মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, লায়েম চাবাংয়ে অবস্থানটি ছিল দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পর নাবিক ও মেরিনদের বিশ্রাম নেওয়ার একটি সুযোগ। ৬ সেপ্টেম্বর স্ট্রাইক গ্রুপটি থাইল্যান্ড ত্যাগ করে।   আটটি আত্মহত্যার চেষ্টার নতুন তথ্য প্রকাশের ফলে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা মার্কিন নৌসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য, যুদ্ধকালীন দায়িত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের চাপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার উপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক, সিএনএন ও মার্কিন নৌবাহিনী

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন উপসাগরীয় ছয় দেশের নেতারা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ৬ উপসাগরীয় দেশের বৈঠক, টেবিলে যেসব বড় দাবি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতারা। ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল, জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসির ছয় দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান—এই ছয় দেশ জিসিসির সদস্য। বৈঠকটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর। এসব দেশের অর্থনীতির বড় অংশ তেল ও গ্যাস রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি অবকাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এসব দেশ, কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে এই জলপথের ভূমিকা রয়েছে।   বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর একটি অভিন্ন উদ্বেগ হতে পারে—ইরানের সঙ্গে সংঘাত যেন আরও বড় আকার না নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হলে এর প্রভাব সরাসরি উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে। তাই তারা উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার বিষয়ে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারে।   হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ নৌ চলাচলও বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং অবরোধ তুলে নিলে তারা এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত।   তবে ছয়টি দেশের স্বার্থ পুরোপুরি এক নয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে কিছু তেল রপ্তানি করতে পারলেও কাতারের গ্যাস রপ্তানি এই জলপথের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। ফলে সংঘাত আবার বাড়লে কাতারের জ্বালানি অবকাঠামো ও রপ্তানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   সৌদি আরবের জন্য ইয়েমেনের হুতিদের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে সৌদি আরব চাইতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের হুতিদের হামলা মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিক।   অন্যদিকে ট্রাম্পের জন্যও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা বলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম নিয়েও চাপ রয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তেলের সরবরাহ ও দাম আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে—যা মার্কিন অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। তবে আলোচনার মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু করার পথ তৈরি হতে পারে। কাতার বা পাকিস্তানের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আলোচনার উদ্যোগও সামনে আসতে পারে।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রধান উদ্বেগ—যুদ্ধ যেন আরও না বাড়ে, হরমুজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং তাদের জ্বালানি অবকাঠামো নিরাপদ থাকে। আর ট্রাম্পের জন্য বড় প্রশ্ন হলো, ইরান ইস্যুতে সামরিক চাপ বাড়াবেন, নাকি আবারও কূটনীতির পথে ফিরবেন। বৈঠকে দুই পক্ষের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
তেহরানে সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন ইরানের সাধারণ নাগরিকরা। ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি হামলা মোকাবিলায় সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান

বিদেশি হামলার সম্ভাবনা ও চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান। এ উদ্দেশ্যে তেহরানে সরকার-সমর্থিত একটি বড় সমাবেশ ও সামরিক মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে নারী, তরুণ ও বিভিন্ন বয়সী সাধারণ মানুষ অংশ নেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ‘জানফাদায়ে ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য জীবন উৎসর্গকারী’ নামে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সম্ভাব্য সংকটের সময় দেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। সমাবেশে সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনের পাশাপাশি নাগরিকদের অস্ত্র ব্যবহারের প্রাথমিক প্রশিক্ষণের বিষয়টিও সামনে এসেছে।   তেহরানের বিভিন্ন সড়কে এ কর্মসূচিকে ঘিরে বড় বড় ব্যানার দেখা গেছে। এসব ব্যানারে রকেটচালিত গ্রেনেড, স্নাইপার রাইফেল ও অ্যাসল্ট রাইফেলের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। কোথাও লেখা ছিল, এসব অস্ত্র কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে মানুষকে জানতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।   শুক্রবারের মহড়ায় অস্ত্র হাতে নারী ও বিভিন্ন বয়সী মানুষকে অংশ নিতে দেখা যায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এটিকে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রস্তুতি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। উদ্ধারকাজ, জরুরি সেবা এবং অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য একটি বড় স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যও এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।   তবে কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সম্ভাব্য বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে প্রস্তুতির পাশাপাশি ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় সাধারণ নাগরিকদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করাই এর একটি লক্ষ্য। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের ভূমিকা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও এর পেছনে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।   ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় বাসিজের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। এটি আইআরজিসির অধীন একটি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী, যাকে বিভিন্ন সময় সামাজিক, নিরাপত্তা ও সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হলে জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারের হাতে অতিরিক্ত স্বেচ্ছাসেবী জনবল তৈরি হতে পারে।   সমাবেশে শুধু সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়টিই সামনে আসেনি, জাতীয় ঐক্যের বার্তাও গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারি সমর্থকেরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সম্ভাব্য বিদেশি হামলার বিরুদ্ধে জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক সংঘাত ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরান এমন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।   তবে কর্মসূচিতে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ বা সামরিক পরিস্থিতির সঙ্গে শিশুদের পরিচিত করানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ এটিকে জাতীয় প্রস্তুতি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে তুলে ধরছে।   তেহরানের আইআরজিসি কমান্ডার হাসান হাসানজাদেহের উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে ছয় লাখের বেশি মানুষ সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য নিবন্ধন করেছেন এবং শিগগিরই এই সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়াতে পারে। প্রশিক্ষণে অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।   ইরানের অর্থনৈতিক চাপ, অতীতের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা কর্মসূচি দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে এসব কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ কতটা স্থায়ী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই তেহরানে এ ধরনের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ নাগরিকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি শুধু সামরিক প্রস্তুতির বিষয় নয়, বরং ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও জনসম্পৃক্ততার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স, ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। সোমবার তিনি জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই তার এই নিউইয়র্ক সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।    ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, বিমানবন্দরে আরাঘচিকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেইন দারজি। নিউইয়র্কে তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।    নিউইয়র্কে আসার আগে আরাঘচি কাতারের রাজধানী দোহায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। আঞ্চলিক কূটনীতিতে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে এই বৈঠকও নজর কেড়েছে।    জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজেদের দেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন।    আরাঘচির নিউইয়র্ক সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। চলমান সংঘাতের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য ভিসা দিয়েছে। তবে ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাচল ও কিছু কেনাকাটার ওপর যুক্তরাষ্ট্র বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্বনেতা ও কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে।    আরাঘচির নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের মঞ্চে ইরানের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কোনো বৈঠক বা আলোচনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সমঝোতা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
রিয়াদে হামলার পর নতুন শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের কাছে ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত প্রস্তাবটির আনুমানিক মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পরই এর পরবর্তী ধাপ এগোবে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই অনুমোদনের মাধ্যমে সৌদি আরবকে এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, সিমুলেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রিটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্র সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।   এফ-৩৫ বিক্রির ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর হুথিরা দাবি করে, তারা ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি নামানো হয়েছে। তবে সৌদি সরকার এ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণেও ঘটনাটিকে এখনো যাচাইসাপেক্ষ বলা হয়েছে।   হুথিদের এই দাবির মধ্যেই সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে এবং দেশটি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরসহ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার চেষ্টা করছে। একই সময়ে হুথিদের হামলায় সৌদি ভূখণ্ডে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।   তবে নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দ্রুত সৌদি আরবের বর্তমান সংঘাতে ব্যবহৃত হবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চুক্তি কংগ্রেসে অনুমোদিত হলেও বিমান সরবরাহ শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে এফ-৩৫ বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি বেইজিংয়ের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি এ কারণেই প্রস্তাবিত বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনের নাগালের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করা উচিত নয়।   ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও এই চুক্তিকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। সৌদি আরবকে একই যুদ্ধবিমান দেওয়ার সম্ভাবনা দেশটির দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের নীতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রির ফলে অঞ্চলটির সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন হবে না।   এফ-৩৫ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব হবে প্রথম আরব দেশ, যারা এফ-৩৫ পরিচালনা করবে।   এরই মধ্যে সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। তুরস্ক ও পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা।   এফ-৩৫ কর্মসূচি নিয়ে এর আগে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন হয়েছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এফ-৩৫ প্রযুক্তির সমন্বয় হলে সংবেদনশীল সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা। কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কীভাবে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না।   সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টসহ কর্মকর্তাদের এবারও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) কর্মকর্তাদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হতে পারছেন না আব্বাস।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ডের কারণে পিএ ও পিএলও কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল ও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ সরাসরি আলোচনার বাইরে আন্তর্জাতিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধ আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে যাচ্ছে।   ওয়াশিংটনের আরও অভিযোগ, ইসরায়েলিদের ওপর হামলায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মার্কিন আইনেরও লঙ্ঘন করছে। যুক্তরাষ্ট্র এসব পদক্ষেপকে শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে দেখছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কারণেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখা হয়েছে।   তবে ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের নিয়মিত কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। জাতিসংঘের সদর দপ্তর চুক্তির আওতায় ফিলিস্তিনি মিশনের বিশেষ সুবিধা বহাল থাকবে। ফলে তাদের নিয়মিত কূটনীতিক ও কর্মীরা নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন, যদিও নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।   গত বছরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র মাহমুদ আব্বাসসহ প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৪৫-৫ ভোটে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে, যাতে ভিসা না পাওয়ায় আব্বাসের সরাসরি উপস্থিতির পরিবর্তে ভিডিও বা আগে থেকে ধারণ করা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।    জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৪৭ সালের সদর দপ্তর চুক্তি নিয়ে এ সিদ্ধান্তের কারণে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ২০২৫ সালে বলেছিলেন, জাতিসংঘের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে আসা কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। তাদের মতে, সদর দপ্তর চুক্তির অধীনে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিতে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।    এদিকে এ বছরের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং গাজার মানবিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হওয়ার কথা। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডাসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।   ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট সরাসরি নিউইয়র্কে উপস্থিত হতে না পারায় এবারও তার বক্তব্য কীভাবে জাতিসংঘে উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়ে আলাদা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৫ সালে ভিসা প্রত্যাখ্যানের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বিশেষ ব্যবস্থায় আব্বাসের রেকর্ড করা বক্তব্য প্রচারের অনুমতি দিয়েছিল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ একদম শেষের পথে, ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি চুক্তির দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ‘আশা করছি শেষের দিকে’ এগোচ্ছে। বুধবার তিনি দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়েছে এবং তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে একই ধরনের নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।    ট্রাম্পের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত সপ্তম মাসে গড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের লড়াইও সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র হয়েছে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী। জুনে তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনার কাঠামো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।    ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক পর্যায়েও তৎপরতা বেড়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযত হয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি সমঝোতার কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।    তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক শান্তি ঘোষণা হয়নি। বরং একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সঙ্গে সৌদি বাহিনীর সংঘর্ষ এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হলেও যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো নেই।    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে এর প্রভাব শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে কোনো চুক্তি হলে তার শর্ত এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ধারণ করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান
সৌদি আরবে ইরানি হা মলায় বিধ্বস্ত মার্কিন ঘাঁটি, ধ্বংস ২৭০ মিলিয়ন ডলারের গোয়েন্দা বিমান

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জামাদির ওপর ইরান পরিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি আরব এবং কুয়েতে কর্মরত মার্কিন সেনাসদস্যদের পাঠানো নতুন কিছু ছবিতে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান, বিধ্বস্ত ক্যাম্প, ফাঁপা হয়ে যাওয়া ভবন ও পুড়ে যাওয়া যানবাহনের ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে।   এই ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়া ২৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক আমেরিকান ই-৩ সেন্ট্রি গোয়েন্দা বিমান। সে সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে থাকা ১৬টি এধরনের বিমানের মধ্যে ছয়টিই ওই ঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল।   এছাড়া কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং এবং ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন গ্রাউন্ড ট্রুপসদের ব্যবহৃত ট্রেইলার ও গাড়ি ধ্বংসের ছবিও সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, ক্যাম্প আরিফজানের কয়েক মাইল দক্ষিণে অবস্থিত শুয়াইবা বন্দরেই যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানি ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সেনাসদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘাঁটিতে হওয়া এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা আমেরিকান জনগণের কাছে গোপন রাখা হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, পরিস্থিতি এমন যে তারা চোখ বন্ধ করে কেবল মার খাচ্ছেন। ওই সেনাসদস্য মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সেই দাবিও দৃঢ়ভাবে খণ্ডন করেন, যেখানে বলা হয়েছিল যে মাত্র কয়েকটি ইরানি হামলা মার্কিন প্রতিরক্ষা ভেদ করতে পেরেছে।   হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তারা আসলে ঘাঁটিগুলোর কোনো প্রতিরক্ষাই দিতে পারছেন না, বরং চোখের সামনে কেবল সেগুলো ধ্বংস হতে দেখছেন। এই বিস্ফোরক তথ্যের বিষয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।   হামলার এই ভয়াবহ ছবিগুলো এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যার মাত্র দুদিন আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় ইরান যুদ্ধের ব্যয়ের ওপর তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ইউএসএআইডি-এর তথ্য সম্বলিত ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সংঘাতে প্রায় ৬০টি বিমানসহ মোট সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের খরচ বাদ দিয়েই যুদ্ধের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
নয়াদিল্লিতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা মুসলিম দেশগুলোকে পরস্পরের শত্রু বানাতে চায়: পেজেশকিয়ান

মুসলিম ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের কোনো সমস্যা নেই। তেহরান শুধু নিজেদের আন্তর্জাতিক অধিকার ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান চায়।   শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের পার্শ্ববর্তী এক বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে আলোচনার সময় এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। বৈঠকে দুই নেতা আঞ্চলিক পরিস্থিতি, ইরান-মালয়েশিয়া সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেন।   পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান চায় বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।   ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, “আমেরিকা চায়, আমরা যারা বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ, তারা যেন একে অপরের শত্রুতে পরিণত হই।” তিনি বলেন, ইরানের মূল দাবি হলো দেশটির আন্তর্জাতিক অধিকারকে সম্মান করা।   পেজেশকিয়ান আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। তার দাবি, এ অঞ্চলের স্বাধীন দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।   ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে পেজেশকিয়ান বলেন, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিশু ও বিজ্ঞানীরাও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে কিছু ভ্রাতৃপ্রতিম ও মুসলিম দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষা ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো পথ ছিল না। প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা হামলাকারীদের সামরিক স্থাপনাগুলোকে ইরান সেই কারণেই লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে দাবি করেন তিনি।   তবে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুদ্ধ বা সংঘাত দীর্ঘায়িত করতে চায় না। তিনি বলেন, তেহরান তার অধিকারকে সম্মান করা এবং ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায়।   “আমরা কখনো আত্মসমর্পণ করব না”, বলেন পেজেশকিয়ান। ইরান তার জনগণের অধিকার ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের সক্ষমতা ব্যবহার করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো বাইরের ‘আঞ্চলিক পুলিশ’ বা নিয়ন্ত্রকের প্রয়োজন নেই। তার মতে, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অঞ্চলটির প্রধান দেশগুলোরই হওয়া উচিত।   তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন। পেজেশকিয়ানের মতে, পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ কমবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে রক্ষা করতে পারবে।   বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই এ বিষয়ে মালয়েশিয়া নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি দেশটির সম্মান রয়েছে।   আনোয়ার ইব্রাহিম ইরানের জনগণের প্রতিরোধ ও দেশটির সরকারের অবস্থানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ইরান ও মালয়েশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।   নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে এবারের আলোচনায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সম্মেলনের নেতারা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়া আরোপিত একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন।   ইরান ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সাম্প্রতিক এই বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে।   সূত্র: তাসনিম নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত ব্রিকসের, শিগগিরই আসছে দিল্লি ঘোষণা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসে বড় সমঝোতা, দিল্লি থেকে আসছে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা

ইরান যুদ্ধ নিয়ে অবশেষে ঐকমত্যে পৌঁছেছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যৌথ ঘোষণাপত্র প্রকাশের বিষয়ে কয়েক দিনের টানা আলোচনার পর সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। শিগগিরই এই যৌথ ঘোষণা গ্রহণ করা হবে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে মতবিরোধ ছিল। বিশেষ করে যুদ্ধ নিয়ে যৌথ ঘোষণাপত্রের ভাষা কী হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। চলতি বছরের মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্যেই ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশের শীর্ষ আলোচকরা যৌথ ঘোষণাপত্রে সম্মতি আনতে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যান। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৪ সালে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশকে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা তৈরির চেষ্টা করছে ভারত। এবারও যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করতে ভারতীয় কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিও ছিল। এ নিয়ে গত ছয় মাস ধরে ইরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই মতপার্থক্য কাটিয়ে ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ যৌথ ঘোষণার বিষয়ে একমত হওয়ায় নয়াদিল্লি সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ একটি সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের মরুভূমিতে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে হামলা, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ মিসরের

সৌদি আরবের রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে মিসর। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।   মিসর জানিয়েছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তারা সৌদি আরবের পাশে রয়েছে। দেশটি সৌদি আরবের সঙ্গে পূর্ণ সংহতিও প্রকাশ করেছে।   সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর সকালে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনটিতে একাধিকবার হামলা চালানো হয়। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।   সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরাক থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে এখন পর্যন্ত হামলার সরাসরি নির্দেশদাতা বা হামলাকারী কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।   ইরাকের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবকে তাৎক্ষণিক পাল্টা ব্যবস্থা না নিয়ে ইরাকি সরকারকে হামলার উৎস বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। সেই অনুরোধের পর সৌদি আরব আপাতত পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকারও বহাল রেখেছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামলার জন্য ইরান সম্ভবত দায়ী। তবে এটি এখনো সৌদি সরকারের চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা কোনো অভিযোগ নয়।   হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ইরাক তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটি। ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে সরাসরি তথ্য থাকা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলায় প্রায় আটটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানেও গুরুতর ক্ষতি হয়েছে এবং সেটির একটি ডানা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলো পরে আবার কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোরের মধ্যে জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। আল আজরাক এলাকার কাছে অবস্থিত ঘাঁটিটি জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিবিএস নিউজ জানায়, হামলার সময় ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সরাসরি বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে। তারা প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দেন।   হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলোর ক্ষয়ক্ষতিকে তুলনামূলকভাবে সামান্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় আটটি এফ-১৫ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেগুলোকে আবার পরিষেবায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। অন্যদিকে এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানটির ক্ষতি ছিল বেশি। সিবিএসের সূত্র অনুযায়ী, ওই যুদ্ধবিমানটিতে আঘাত লাগে এবং পরে সেটির একটি ডানা অনুপস্থিত অবস্থায় পাওয়া যায়। রয়টার্সও সিবিএসের তথ্যের ভিত্তিতে একই ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে।   হামলার সময় মার্কিন বাহিনী ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ৩০টির বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনী ওই হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জর্ডানে চালানো এই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।   ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করেছে, তারা একাধিক সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। এই হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা জানায়। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের একটি মার্কিন নৌযানকে লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ওই ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্য করা হয়। চারটি ট্যাংকারে ওমান উপসাগরে এবং একটি ট্যাংকারে পারস্য উপসাগরের খার্গ দ্বীপের কাছে হামলা চালানো হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার পর ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। জর্ডানের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির দিকে ছোড়া ২০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। জর্ডানের পক্ষ থেকে ওই হামলায় কোনো হতাহতের খবর জানানো হয়নি।   হামলার পর জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা সামরিক সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ও এ-১০ যুদ্ধবিমানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে আসায় ইরানের পাল্টা হামলার প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। তবে সিবিএসের প্রতিবেদনে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানগুলোকে পুনরায় কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও এ-১০ যুদ্ধবিমানটির পরবর্তী ব্যবহারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   এই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার নতুন একটি পর্যায় হিসেবে সামনে এসেছে। এর আগে উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এবার সরাসরি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও নৌপথ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং এর পর ইরানের পাল্টা হামলার কারণে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশ পেল। সিবিএস নিউজ ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, হামলার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মধ্যে রয়েছে একটি এ-১০ যুদ্ধবিমানের ডানা বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের সামান্য ক্ষতি।   সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প
হরমুজকে এখন থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ ডাকবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইরানের ভূখণ্ডে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে এখন থেকে এই জলপথকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ নামে ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   গতকাল বুধবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান পার্টির একটি নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রচারণায় অংশ নিতেই ডালাসে গিয়েছিলেন তিনি। সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে তেলের দাম কমবে। তাঁর দাবি, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই জয় পেতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হরমুজের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে জয়ী হলে তাঁরও কিছু ‘প্রাপ্তি’ থাকা উচিত। আর সেই প্রাপ্তি হিসেবে হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরে সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি বলেন, “ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, আজ আমি এখানে ঘোষণা করছি—এখন থেকে আমরা এই জলপথকে ট্রাম্প প্রণালি নামে ডাকব।” তাঁর দাবি, এ নাম ইরানের নেতাদের মধ্যে শিহরণ তৈরি করবে। ইরান সম্পর্কে ট্রাম্প আরও বলেন, দেশটি ‘ভেঙে পড়ছে’। গত ৫১ বছর ধরে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ‘গুন্ডামি’ করে আসছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, এই সময় শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই মানচিত্রেও প্রণালিটির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ভৌগোলিকভাবে হরমুজ প্রণালি ইরানের ভূখণ্ডের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের কোনো বাধা ছিল না। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায় এবং হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের ঘোষণা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরে ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ জারি করলে দেশটির বন্দরে কোনো দেশি-বিদেশি জাহাজের প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপরও বাধা তৈরি হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা ‘অনানুষ্ঠানিক বিরতির’ পর গত ৩০ আগস্ট রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এর আগে ২৮ আগস্ট সৌদি আরবের দুটি ট্যাংকার গোপনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব। গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাশয় ও ভৌগোলিক স্থানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার উদ্যোগ নেন তিনি। এরপর গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার অন্টারিও প্রদেশের মধ্যবর্তী লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা হ্রদ’ রাখার উদ্যোগও নেন ট্রাম্প।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলের মতো করে তৈরি করা একটি ছবি ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
নিজের মুখের আদলে ইরানের মানচিত্র পোস্ট করলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে পরিবর্তন করা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ নিজের মুখের আদলে ইরানের মানচিত্র পোস্ট করলেন ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে পরিবর্তন করে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। ছবিতে ইরানের প্রচলিত মানচিত্রের সঙ্গে পরিবর্তিত একটি মানচিত্র পাশাপাশি দেখানো হয়েছে। ছবিটির ‘বিফোর’ অংশে ইরানের স্বাভাবিক মানচিত্র দেখা যায়। আর ‘আফটার’ অংশে দেশটির সীমানা এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে সেটি ট্রাম্পের মুখমণ্ডল ও চুলের পাশের অবয়বের মতো দেখায়।   তবে ছবিটি প্রকাশের সঙ্গে এর উদ্দেশ্য বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। ফলে কেন তিনি এমন একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক মানচিত্র নয় এবং এর মাধ্যমে ইরানের সীমান্ত পরিবর্তন বা নতুন কোনো ভৌগোলিক দাবির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পরিবর্তিত ছবি প্রকাশ করেছেন।   ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প একই সময়ে আরও কয়েকটি পোস্ট করেন। এসব পোস্টে ইরান ও চলমান সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন প্রতীকী ছবি প্রকাশের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা চলার সময়ে দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে উপস্থাপন করায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   তবে ছবিটির প্রকৃত উদ্দেশ্য বা এর মাধ্যমে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।করেন তিনি। এতে ‘বিফোর’ আগের অংশে ইরানের প্রচলিত মানচিত্র দেখানো হলেও ‘আফটার’ তথা পরের অংশে দেশটির সীমানা পরিবর্তন করে ট্রাম্পের মুখ ও চুলের পাশের অবয়বের মতো করে দেখানো হয়েছে।   তবে ছবিটির সঙ্গে এর উদ্দেশ্য বা অর্থ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক নতুন মানচিত্র বা ইরানের সীমান্ত পরিবর্তনের ঘোষণা নয়; বরং ট্রাম্পের পোস্ট করা পরিবর্তিত একটি ছবি। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে আরও কয়েকটি পোস্টও করেন তিনি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই নাম পরিবর্তনের বিষয়ে আলোকপাত করেন।   বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়, তাই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত ওই পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।   এই নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, প্রণালিটির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ করা উচিত কি না, তা নিয়ে এখন চিন্তাভাবনা করার সময় এসেছে।   তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতোই এই জলপথটি এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।   পোস্টের শেষে সবাইকে বিষয়টি নিয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প’ হিসেবে নিজের স্বাক্ষর যুক্ত করেন।   ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি আন্তর্জাতিক জলপথের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে আসায় তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
ইরান আবার হামলা চালালে আরও কঠোরভাবে আঘাত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ফের হামলা চালালে ইরানকে ‘পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ করার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাতের পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান আবার হামলা চালালে দেশটিকে আরও কঠোরভাবে আঘাত করা হবে। এমনকি তৃতীয় দফায় সংঘাত হলে ইরান ‘দেশ হিসেবে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ হয়ে যেতে পারে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।   মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আবারও হামলা চালায়, তাহলে তাদের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তৃতীয়বার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের জন্য পরিণতি ভয়াবহ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য তিনি কোনো চাপ প্রয়োগ করছেন না। ইরান কোনো চুক্তিতে সই করল কি না, সেটি নিয়েও তিনি খুব বেশি চিন্তিত নন বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই সর্বশেষ মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়।   তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, মার্কিন হামলায় বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে তারা জানিয়েছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল এমন একটি বাড়িতে হামলায় পাঁচজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।   মঙ্গলবারের মার্কিন হামলার পর বুধবার বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েত ইরানের হামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন করে সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রায় ৯৫ ডলারে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারিতে এই দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বাড়ছে। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশটির নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম প্রতিদিনই গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের ওপরে ছিল। বুধবার জাতীয় গড় দাম দাঁড়িয়েছে গ্যালনপ্রতি ৪.১২ ডলার। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে।   এর মধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের পরিবর্তনের খবর এসেছে। প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর পদত্যাগ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যান ড্রিসকল। হোয়াইট হাউস ড্রিসকলের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেছে, তাঁর সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনী আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে তাঁর পদত্যাগের নির্দিষ্ট কারণ এখনো জানানো হয়নি।   বিভিন্ন প্রতিবেদনে ড্রিসকল ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের মধ্যে মতবিরোধের কথা উঠে এসেছে। সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নিয়ে দুজনের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল বলে জানা গেছে। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল র‌্যান্ডি জর্জ এবং ইউরোপে মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডারকে সরানো নিয়েও মতবিরোধের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ড্রোন আধুনিকায়নের একটি কর্মসূচি, যেটির পক্ষে ড্রিসকল ছিলেন, সেটিও পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।   ড্রিসকলের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনো ঘোষণা করেনি হোয়াইট হাউস। অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির পর এখন দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০