মধ্যপ্রাচ্য

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সাইবার হামলায় বিধ্বস্ত ইসরায়েল

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরানি সাইবার হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত এক বছরে এসব হামলার সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।   সোমবার (২৯ জুন) জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ডাই ওয়েল্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ইসরায়েলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক ইয়োসি কারাদি।   তার দাবি, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি শত্রুভাবাপন্ন সাইবার হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০টিতে পৌঁছেছে।   ইয়োসি কারাদি বলেন, “কিছু হ্যাকিং গোষ্ঠী প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ। আমরা তাদের মোকাবিলা করতে সক্ষম হলেও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাইবার জগতেও কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি নেই।”   তিনি জানান, এসব হামলার মূল লক্ষ্য ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো, সরকারি সংস্থা, বিভিন্ন পাবলিক সেক্টর এবং ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও হিসাবরক্ষণ সংস্থাগুলো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে।   ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জাতীয় অবকাঠামোর বিরুদ্ধে চালানো সব সাইবার হামলা এখন পর্যন্ত প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে যেসব ছোট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছে হ্যাকাররা।   ইসরায়েলের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির জানাজায় ২ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে: ইরানি গণমাধ্যম

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছেন দেশটির প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। এ উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।   ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে খামেনির দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। মাশহাদই তার জন্মস্থান।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষকৃত্য অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ইরানের পুলিশ ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যৌথভাবে কাজ করছে। সম্ভাব্য বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।   এদিকে, ইরাকের কারবালায় অবস্থিত একটি শিয়া ধর্মীয় মাজারে খামেনিকে স্মরণ করে পৃথক একটি অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।   মেহের নিউজের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফার হামলায় তেহরানে সরকারি বাসভবনে নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। নিরাপত্তাজনিত কারণে তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান একাধিকবার পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প পুরোপুরি ব্যর্থ: নিউজার্সির গভর্নর

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র কোনো কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর মিকি শেরিল। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আসলে কী অর্জন করেছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ডেমোক্র্যাট এই নেতা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধসংক্রান্ত লক্ষ্য বারবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং সংঘাতের ব্যয়ও ক্রমাগত বেড়েছে। তার ভাষায়, মার্কিন জনগণের জানার অধিকার রয়েছে—এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা নিরাপদ করেছে এবং এর বাস্তব অর্জন কী।   মিকি শেরিলের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর বিভিন্ন সময়ে হোয়াইট হাউস ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য সামনে এনেছে। কখনও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস, কখনও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, আবার কখনও সরকার পরিবর্তন কিংবা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কথা বলা হয়েছে।   তার অভিযোগ, প্রশাসন ঘোষিত এসব লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত অর্জন করতে পারেনি। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ফলাফল নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   শেরিল আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তাই ওই জলপথ পুনরায় চালুর বিষয়টিকে সামরিক অভিযানের সাফল্য হিসেবে দেখানোর সুযোগ নেই।   ডেমোক্র্যাট নেতাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ইরান-নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, সুস্পষ্ট কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও বেড়েছে।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা দুর্বল করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে সেই লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
প্রতীকী ফাইল ছবি: রয়টার্স
সমঝোতার পরও স্বস্তি নেই, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলল ইরান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হাসান আহমাদিয়ান। তার দাবি, ওয়াশিংটন নিজের স্বাক্ষর করা সমঝোতা স্মারকের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে নতুন শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান আহমাদিয়ান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি একটি ‘ডোমিনো এফেক্ট’-এর সূচনা করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্ককে চরম উত্তেজনার দিকে নিয়ে যাবে।   তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি আমরা একটি চরম উত্তেজনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কারণ, এটি স্পষ্ট যে ইরান এই হামলার পাল্টা জবাব দেবে।’ চলমান সমঝোতা স্মারকের প্রসঙ্গ তুলে আহমাদিয়ান বলেন, স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, প্রথম ৬০ দিন ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করবে। এরপর ইরান ও ওমান যৌথভাবে এ দায়িত্ব পালন করবে।   তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখন সেই সমঝোতা স্মারকের শর্ত উপেক্ষা করে নতুন ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চাইছে। আহমাদিয়ান বলেন, ‘আমরা যা দেখছি তা হলো, যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতা স্মারক থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। অথচ একই সময়ে তারা ইরানকে চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলতে বাধ্য করছে।’   তিনি আরও দাবি করেন, লেবানন ইস্যুতেও নতুন একটি কাঠামোগত চুক্তির মধ্যস্থতার সময় যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিল। ইরানের অবস্থান ব্যাখ্যা করে এই অধ্যাপক বলেন, তেহরান চায় প্রণালিটি দিয়ে কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করুক। যে জাহাজগুলো আগে থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে না, সেগুলোকে সামরিক জাহাজ বা সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।   তার ভাষায়, ইরান নিজের জলসীমায় এমন কোনো কার্যক্রম চায় না, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আহমাদিয়ান বলেন, ‘নিরাপদ চলাচলের বিষয়টি ইরানের মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়া এবং প্রথম দুই মাস কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরানের অবস্থানের পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে।   তাই আমি মনে করি না যে ইরান এই অবস্থান থেকে সরে আসবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তেজনা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ আরও জোরদার করবে।’

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আল জাজিরা
নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ধনী দেশ হতে পারে ইরান

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা ইরান নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ইরানি তেল উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহে সাময়িক ছাড় দেওয়ার পর দেশটির অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকলে আগামী এক দশকের মধ্যে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।   ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ৬০ দিনের জন্য ইরানি খনিজ তেল উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহে অনুমতি দেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন শোধনাগারগুলো সরাসরি ইরানি তেল কিনতে পারবে, ডলারে লেনদেন করতে পারবে এবং পূর্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত ট্যাংকার থেকেও তেল গ্রহণের সুযোগ পাবে।   ১৯৮০ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ইরানের তেল কেনা নিষিদ্ধ করে। পরে ধাপে ধাপে কঠোরতর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিলে আবারও কঠোর অবরোধ ফিরে আসে।   বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ছাড় আগের যেকোনো শিথিলতার তুলনায় অনেক বিস্তৃত। এর ফলে ইরানের তেল খাত আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি ইতোমধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে।   তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার হিসাব অনুযায়ী, কয়েক মাস আগেও যেখানে রপ্তানি প্রায় স্থবির ছিল, সেখানে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হচ্ছে। ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ থেকেও জাহাজে তেল বোঝাইয়ের হার বেড়েছে। যদিও যুদ্ধের আগে দেশটি দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করত, সেই পর্যায়ে ফিরতে এখনো কিছুটা সময় লাগবে।   কেন ধনী হতে পারে ইরান?   বিশেষজ্ঞদের মতে, নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে শিথিল থাকলে ইরান কয়েকটি বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। প্রথমত, দেশটির তেল ও গ্যাস রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি মজুতের মালিক ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি ক্রেতা আকর্ষণ করতে পারবে।   দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং ও লেনদেনের জটিলতা কমে গেলে প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি থেকে দেশটির আয় বাড়বে। তৃতীয়ত, বর্তমানে অবরুদ্ধ থাকা বিদেশি সম্পদ ও তহবিল ধীরে ধীরে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। চতুর্থত, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সম্ভাব্য ট্রানজিট ও নৌ-পরিচালনা আয়ের সুযোগও ইরানের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে।   নতুন ক্রেতার অপেক্ষায় তেহরান   গত কয়েক বছরে ইরানের অধিকাংশ তেল গেছে চীনের ছোট স্বাধীন শোধনাগারগুলোতে। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকলে ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো পুরোনো ক্রেতারাও আবার বাজারে ফিরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   কারণ তারা নিশ্চিত হতে চায় যে বর্তমান ছাড় সাময়িক নয় এবং ভবিষ্যতে হঠাৎ করে আবার নিষেধাজ্ঞা ফিরে আসবে না। এ ছাড়া ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল থাকায় আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে?   ওয়াশিংটনের আশা ছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমবে, চীনের ওপর ইরানের নির্ভরতা কমবে এবং হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা সহজ হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব লক্ষ্য অর্জনের নিশ্চয়তা নেই। বরং ইরান ইতোমধ্যেই বাড়তি অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে শুরু করেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশিত কৌশলগত সুবিধা এখনো স্পষ্টভাবে পায়নি।   সামনে কী হতে পারে?   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যদি বর্তমান নীতি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকে এবং ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে পূর্ণমাত্রায় ফিরতে পারে, তাহলে তেল রপ্তানি, ট্রানজিট আয়, অবমুক্ত সম্পদ এবং সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগ মিলিয়ে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের উত্থান দেখতে পারে।   সেই পরিস্থিতিতে আগামী দশকের মধ্যে ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের ‘বৃহত্তর পরিকল্পনা’ ধূলিসাৎ করে দিয়েছে পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আড়ালে নীরবে এক বড় ভূরাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে গেছে, যেখানে প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। কেবল একটি মুসলিম রাষ্ট্র নয়, বরং দক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের অস্বাভাবিক সক্রিয়তা ইসরায়েলের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা বৃহত্তর পরিকল্পনাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। পর্দার আড়ালের এই কূটনীতি একদিকে যেমন মধ্যপ্রাচ্যকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করেছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সম্পর্কে তৈরি করেছে নজিরবিহীন টানাপোড়েন।   ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল ইরানকে কোণঠাসা করে তাদের পারমাণবিক ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। এর মাধ্যমে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাববলয় গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল তেল আবিব। এই লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর প্রবল চেষ্টা করেন নেতানিয়াহু। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে আঞ্চলিক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেন। ফলে হোয়াইট হাউস এবং তেল আবিব কৌশলগতভাবে দুই মেরুতে অবস্থান নেয়, যা ইসরায়েলের মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।   সংঘাত যখন চরম পর্যায়ে, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসে পাকিস্তান। কাতার ও ওমানকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামাবাদ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাত এড়াতে এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে অস্বাভাবিক মাত্রায় যোগাযোগ বজায় রাখেন, যা খোদ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও স্বীকার করেছেন। ওয়াশিংটন, রিয়াদ, দোহা এবং তেহরানের মধ্যে সফল যোগাযোগের এই সেতুবন্ধন ইসরায়েলের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেননা, ইরান যদি আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন না থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত জিইয়ে রাখার ইসরায়েলি কৌশল কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে।   ইসরায়েলের উদ্বেগের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে গত ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত রিয়াদ-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই চুক্তির ফলে বিশ্বের একমাত্র মুসলিম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় চলে এসেছে সৌদি আরব। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সৌদি আরবের সুরক্ষায় পাকিস্তান তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যবহারেও পিছপা হবে না। ইরান-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর পাকিস্তানের এই শক্তিশালী অন্তর্ভুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে এমন এক নতুন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করেছে, যা ইসরায়েলের চিরস্থায়ী সংঘাতের রাজনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।   পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও সামরিক প্রভাব নিয়ে ইসরায়েলের গোয়েন্দা মহলে আগে থেকেই গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের লুসার্নে অনুষ্ঠিত এক কূটনৈতিক বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি গোপন হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসে। যদিও ইসলামাবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের বর্তমান শক্তিশালী কূটনৈতিক ভূমিকার কারণে এই ঘটনা ব্যাপক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে, সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক টেবিলে শান্তির পথ সুগম করে পাকিস্তান প্রমাণ করেছে যে, ভূরাজনীতির ময়দানে তারা এখন ইসরায়েলের অন্যতম বড় এক কৌশলগত বাধা।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মিসরের সেনাবাহিনীর একটি দল। ছবি: এএফপি
মিসরের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগে ইসরায়েল

মিসরের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা এবং সিনাই উপদ্বীপে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক মহলে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে এ বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্ল্যাটফর্ম নিউজ–১ দেশটির নিরাপত্তা মূল্যায়নের সূত্র উল্লেখ করে দাবি করেছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিসরীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সামরিক উন্নয়ন কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তেল আবিবের নীতিনির্ধারকেরা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের কিছু নিরাপত্তা মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, মিসরের সামরিক ক্রয়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিসর দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণ সীমান্তের প্রচলিত নিরাপত্তা চাহিদার তুলনায় বেশি। ফলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে কায়রোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য কী হতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর পর এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে সিনাই উপদ্বীপে মিসরের সামরিক তৎপরতা আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। বিশেষ করে অঞ্চলটিতে অবকাঠামো উন্নয়ন, লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক স্থাপনা শক্তিশালী করার বিভিন্ন উদ্যোগ তেল আবিবের নজরে রয়েছে।   ইসরায়েলি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজেদের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যেকোনো সামরিক পরিবর্তনকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করে দেশটি। বিশেষ করে সিনাই উপদ্বীপের ক্ষেত্রে এ সংবেদনশীলতা আরও বেশি, কারণ অঞ্চলটি ১৯৭৯ সালের মিসর-ইসরায়েল শান্তিচুক্তির আওতায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত।   তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনাই অঞ্চলে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কায়রো ও তেল আবিবের মধ্যে বিস্তৃত নিরাপত্তা সমন্বয় ও সহযোগিতা বজায় রয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই এই আলোচনা সামনে এসেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য নতুন হুমকির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদারে পদক্ষেপ নিচ্ছে।  

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি সামরিক যান চলাচল। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি
লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের দাবি ইসরায়েলি সেনাদের পরিবারের, ‘সন্তানদের আর বলি দেব না’

লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে এবার প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাদের মা-বাবারা। তারা যুদ্ধ বন্ধ করে দ্রুত সেনাদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন।   মঙ্গলবার ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে সেনাদের পরিবারগুলো অভিযোগ করে বলেছে, লেবাননে দায়িত্ব পালনরত ইসরায়েলি সেনারা কার্যত ‘হাত-পা বাঁধা অবস্থায়’ কাজ করছেন এবং যুদ্ধের লক্ষ্য ও কৌশল নিয়ে স্পষ্টতা নেই।   তারা লিখেছেন, “আমাদের সেনারা এমন একটি পরিস্থিতিতে কাজ করছে যেখানে মনে হচ্ছে বাইরের কোনো শক্তি যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদাসীনতা কিংবা অন্য কোনো স্বার্থের কারণে আমরা আমাদের সন্তানদের জীবন বলি হতে দেব না।”   চিঠিতে যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে সরকারের প্রতি কঠোর সমালোচনাও করা হয়েছে। সেনাদের মা-বাবারা বলেছেন, লেবাননে সামরিক অভিযানের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য এখনো দৃশ্যমান নয় এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে সেনাদের ফেলে রাখা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।   তাদের ভাষ্য, “হয় শত্রুকে পরাজিত করুন, না হয় এখনই যুদ্ধ শেষ করে সব সেনাকে ঘরে ফিরিয়ে আনুন।” এছাড়া যেসব মন্ত্রী বা রাজনৈতিক নেতার সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিরা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেন না, তাদের যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে চিঠিতে।   চিঠিতে বলা হয়, যারা নিজের পরিবারের সদস্যদের সেনাবাহিনীতে পাঠাননি এবং এ নিয়ে গর্ব করেন, তাদের যুদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেনাদের পরিবারের এই অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন লেবানন সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সামরিক অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
মার্কিন দাবি সরাসরি নাকচ, পরমাণু কেন্দ্রে জাতিসংঘের পরিদর্শকদের ঢুকতে দেবে না ইরান

সুইজারল্যান্ডে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রথম দফার শান্তি আলোচনা শেষ হতে না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গত বছর মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের যেসব প্রধান পরমাণু কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেখানে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) কোনো পরিদর্শককে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।   মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়া চরম বিশৃঙ্খলা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলা এই যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্প্রতি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে ৬০ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।   এই চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে বর্তমানে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের শীর্ষ নেতা মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানে সফর করছেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যেও সরাসরি আলোচনার জোর প্রস্তুতি চলছে।   তবে এই জোরালো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাঝেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের করা একটি দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভ্যান্স দাবি করেছিলেন যে, গত বছরের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু সাইটগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পুনরায় আমন্ত্রণ জানাতে সম্মত হয়েছে ইরান।   কিন্তু মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, আইএইএ-এর মহাপরিচালকের সাথে পরিদর্শনের বিষয়ে তাদের কোনো বৈঠকই হয়নি। একই সাথে মার্কিন ও ইহুদিবাদী সামরিক আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আপাতত কোনো অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা তেহরানের নেই বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও | ছবি: সংগৃহীত
ইরান চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন যাচ্ছেন রুবিও

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইন সফর করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সোমবার (২২ জুন) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উচ্চপর্যায়ের সফরের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে জানান, আগামী ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর এই মধ্যপ্রাচ্য সফর অনুষ্ঠিত হবে। সফরকালে তিনি ইরানের সাথে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক, হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিষয়গুলোর ওপর বিশেষভাবে জোর দেবেন।   সফরের অংশ হিসেবে বাহরাইনে অবস্থানকালে রুবিও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) প্রতিনিধিদের সাথে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হবেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট আরও জানান, এই বৈঠকে উপসাগরীয় দেশগুলোর যৌথ আঞ্চলিক অগ্রাধিকার এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে এমন প্রধান প্রধান নিরাপত্তা ইস্যুগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।   বিগত সপ্তাহে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে এটিই হতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি ৬০ দিনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো গত চার মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধটির স্থায়ী অবসান ঘটানো।

তাবাস্সুম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ওমানের মুসান্দাম থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। ১৫ জুন ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
‘হরমুজ প্রণালি আপনার ব্যক্তিগত ক্যাসিনো নয়’: ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানের কঠোর জবাব

হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। সোমবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেন, এটি ইরানের সার্বভৌম জলসীমা এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর।   আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, “আপনি হুমকি দেন; আমরা পদক্ষেপ নেই।” তিনি আরও বলেন, “হরমুজ প্রণালি আপনার ব্যক্তিগত ক্যাসিনো নয়, কিংবা আধুনিক দিনের জলদস্যুদের পেছনের উঠানও নয়; এটি ইরানের সার্বভৌম জলসীমা।”   এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নেবে এবং প্রয়োজনে ওই অঞ্চল দখল করা হবে। তিনি বলেন, ইরান যদি চুক্তিতে না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে টোল আদায় করতেও পিছপা হবে না।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে।   ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর হরমুজ প্রণালিতে কার্যত আরোপিত অবরোধ শিথিল করা হয়েছিল। তবে লেবাননে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইরানের বিপ্লবী গার্ডস আবারও প্রণালিটি বন্ধের ঘোষণা দেয়।   অন্যদিকে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি বলেন, “তোমাদের দেশের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না” এবং প্রয়োজনে প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে।   তিনি আরও মন্তব্য করেন, আলোচনার সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বিষয়ে অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় তিনি কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন।   এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে আলোচনা শুরুর পর্যায়কে দুই পক্ষই জটিল হিসেবে বর্ণনা করেছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করছে ইরান

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী ও ভয়াবহ বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। এই নগ্ন হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তেহরান। এর প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ ও সাধারণ নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ইরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে বড় ধরণের ভূ-রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   আজ শনিবার দেশটির শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড 'খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স' আনুষ্ঠানিকভাবে এই কঠোর ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত সামরিক কমান্ডের এক বিশেষ বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির ভেতর দিয়ে সব ধরনের দেশী-বিদেশী নৌযান চলাচল কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, শত্রুপক্ষের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ এবং অন্যায় আগ্রাসনের জবাবে এটি তাদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র।   ইরানের নীতি নির্ধারকেরা আন্তর্জাতিক মহলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, লেবাননে যদি এই ইসরায়েলি বিমান হামলা ও সামরিক আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। শত্রুপক্ষকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতির বাধ্যবাধকতা মানতে বাধ্য করতে বেইজিং বা অন্য কোনো মধ্যস্থতাকারীর তোয়াক্কা না করে সামনে আরও কঠোর এবং বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি তাদের রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি ও খনিজ তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই রুটটি হঠাৎ বন্ধের ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম যুদ্ধ উত্তেজনা বিরাজ করছে।   ঐতিহাসিকভাবে পারস্য উপসাগরের এই হরমুজ প্রণালীটিকে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম লাইফলাইন বা প্রধান ধমনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের মোট উৎপাদিত খনিজ তেলের একটি বিশাল অংশ প্রতিদিন এই সংকীর্ণ নৌপথ ব্যবহার করেই বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। ফলে ইরানের এই নতুন অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বড় ধরণের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।   বিবৃতিতে খাতাম-আল আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স আরও উল্লেখ করেছে যে, ইরান চুক্তি মেনে চললেও পশ্চিমা জোট ও তাদের মিত্ররা বারবার আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বিনষ্ট করছে। লেবাননের সাধারণ নাগরিকদের ওপর চালানো এই হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান যেকোনো ধরণের চরম সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবে না, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একবারে ভেঙে দিতে পারে।   বিশ্বের প্রধান পরাশক্তিগুলো ইরানের এই হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে এশিয়ার পরাশক্তি চীন, যারা এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়া এবং ওমান সাগরের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর নিবিড় নজর রাখছিল, তারা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করতে পারে। তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যতক্ষণ না ইসরায়েল ও তার পশ্চিমা সহযোগীরা লেবানন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে তাদের আগ্রাসী নীতি থেকে সরে আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই কৌশলগত নৌপথ উন্মুক্ত করার কোনো সম্ভাবনা নেই।   সূত্র: রয়টার্স

তাবাস্সুম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: রয়টার্স
উপসাগরে মার্কিন স্বার্থে হামলার জন্য ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরান

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে।   প্রতিবেদনে ইরাকের আটটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, আগে ব্যবহৃত প্রচলিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক এড়িয়ে এবার ছোট আকারের, আরও গোপনীয় ও নিয়ন্ত্রিত সেল কাঠামো গড়ে তুলেছে আইআরজিসি। এসব সেল সরাসরি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন দিচ্ছে।   সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিন থেকে চারটি সেল গঠন করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছেন প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা। এদের মাধ্যমে গত ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা ও সামাওয়ার মরুভূমি এলাকা থেকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।   অভিযোগ অনুযায়ী, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনা। বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এমন অঞ্চলগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে বলে জানায় ইরাকি সূত্রগুলো।   তিন থেকে চারটি সেল গঠন করা হয়েছে—প্রতিটি সেলে রয়েছে প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা। স্থানীয় নিরাপত্তা ও মিলিশিয়া কমান্ডারদের বরাতে বলা হয়, এসব যোদ্ধার একটি অংশ এসেছে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামের ছাতার সংগঠন থেকে, তবে নতুন সেলগুলো ওই কাঠামোর বাইরে স্বাধীনভাবে ও সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশে কাজ করছে।   রয়টার্সকে তথ্য দেওয়া আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডাররা। তাদের দাবি, নতুন এই কাঠামো ইরানের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বড় মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের পরিবর্তে ছোট ও নিয়ন্ত্রিত ইউনিট ব্যবহার করা হচ্ছে।   ইরাক শিয়াপ্রধান দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানপন্থি একাধিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। এসব গোষ্ঠী ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নেটওয়ার্ক ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।   অন্যদিকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ ব্যানারে বিভিন্ন গোষ্ঠী ইতোমধ্যে ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার পাল্টা জবাবে মার্কিন বাহিনীও বিমান হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   ইরাকি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, এসব নতুন সেল আরও গোপনীয়, ছোট এবং মতাদর্শিকভাবে কঠোর। তাদের মতে, ইরানের সম্পদ সীমিত হয়ে আসা এবং প্রক্সি নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ার কারণে এই কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।   ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি দেশটির সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র ও বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা যায়। তবে এসব গোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও কার্যক্রম এখনো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন আইআরজিসি ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়।   রয়টার্স জানায়, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্পের ইরান চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে নেতানিয়াহুর কারণে: মার্কিন গোয়েন্দাদের সতর্কতা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কিছু সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।   প্রতিবেদনে বলা হয়, গোয়েন্দা বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে—লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া ইরান-সংক্রান্ত সমঝোতার কাঠামোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।   চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনসহ একাধিক তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে অনাগ্রহী। অথচ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং লেবাননে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত করা।   মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে, লেবাননে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতে যা চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগকে ব্যাহত করতে পারে।   হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এর ফলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।   গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় লেবাননে সামরিক অবস্থান কঠোর রাখতে পারেন। এতে তার সরকারকে দেশটির জনগণের সামনে নিরাপত্তা ইস্যুতে শক্ত অবস্থান দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়।   ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, হিজবুল্লাহর আক্রমণ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই তাদের সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের একাংশের গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক লক্ষ্যকে দুর্বল করে দিতে পারে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা চললেও, ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান সেই প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরায়েল পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহারে অনাগ্রহ দেখালে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি থেকে যাবে।   সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিজ বলেন, নেতানিয়াহু বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছেন এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ইসরায়েলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।   তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের কূটনৈতিক উত্তেজনার দিকে যেতে পারে।   এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মন্তব্য করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইসরায়েলের সামরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ওয়াশিংটনের হাতে বিভিন্ন কৌশলগত চাপ প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে, যার মধ্যে সামরিক সহায়তা সীমিত করা বা গোয়েন্দা সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার মতো পদক্ষেপও থাকতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন ধরনের কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করছে, যার প্রভাব ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর পড়তে পারে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প হেরে গেছেন: নিউইয়র্ক টাইমস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে চলা সংঘাত শেষে একটি প্রাথমিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হলেও যুদ্ধের ফলাফলকে কৌশলগতভাবে ওয়াশিংটনের জন্য হতাশাজনক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্যগুলো ঘোষণা করেছিল, তার উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তবায়িত হয়নি।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত চলাকালে সামরিক, কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক তিন ক্ষেত্রেই চাপের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরানকে “শর্তহীন আত্মসমর্পণ” করতে বাধ্য করা হবে এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হবে। একই সঙ্গে ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।   তবে যুদ্ধ শেষে ঘোষিত প্রাথমিক সমঝোতার চিত্র ভিন্ন। সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামো বহাল রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের ধারণা, এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অনুরূপ একটি নতুন সমঝোতার দিকে অগ্রসর হতে পারে।   উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ওই পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি চুক্তিটিকে “ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ চুক্তি” বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনকে প্রায় একই ধরনের একটি সমঝোতার দিকেই এগোতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   যুদ্ধবিরতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এটি মূলত সংঘাত-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সমতুল্য, নতুন কোনো বড় কূটনৈতিক বা কৌশলগত অর্জন নয়।   দীর্ঘদিন ধরেই হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান। যুদ্ধ চলাকালে সেই আশঙ্কা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। সমঝোতার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।   চার মাসের সংঘাতে ইরানও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। দেশটির সামরিক অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সংঘাত শেষে পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক দর-কষাকষির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ চাপ এখনও তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই যুদ্ধ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিপুল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে সীমিত সাফল্য দেশটির বৈশ্বিক প্রভাব ও কৌশলগত কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনকে তার আঞ্চলিক কৌশল এবং মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন পুনর্বিবেচনার দিকে ঠেলে দিতে পারে।   যুদ্ধ শুরুর আগে ইরান আঞ্চলিকভাবে চাপে থাকলেও সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তারা আবারও আলোচনার টেবিলে তুলনামূলক শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। হিজবুল্লাহ ও হামাসের দুর্বলতা, সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট থাকা সত্ত্বেও তেহরান তার কৌশলগত প্রভাব পুরোপুরি হারায়নি।   এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি। প্রণালীটি ঘিরে আবার কোনো সংকট তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে এই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির খোঁজে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদল

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের এই সফরকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে আরও স্থায়ী ও কার্যকর রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কমিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এর আগে লেবাননে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার নির্ধারিত সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেছিলেন। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।   সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ডে পৌঁছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করবেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিরও শনিবার সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   এদিকে ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ইতোমধ্যে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। যদিও তার সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।   মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই সফর কেবল যুদ্ধবিরতি রক্ষার জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরুরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, নৌপথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।   তবে স্টিভ উইটকফের সফর সম্পর্কে হোয়াইট হাউস এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন সময় বিকেল ৪টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যস্থতায় এবং ইরানের সহযোগিতায় এই সমঝোতা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়েছে।   রয়টার্সের কাছে হিজবুল্লাহর দুটি সূত্র এবং ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, হিজবুল্লাহ নতুন করে হামলা না চালালে ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও সামরিক অভিযান চালানো হবে না। তবে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় ইসরায়েলি সেনা অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।   অন্যদিকে লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম ঘণ্টার মধ্যেও কয়েকটি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে বিকেল ৫টার পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে আসে এবং বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে পরিচালিত এক অভিযানে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এটি শুধু লেবানন সংকট নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ইরাকের বসরায় ইরানি কনস্যুলেটের বাইরে তেহরান সরকারের প্রতি সংহতি সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবিতে আগুন দিচ্ছেন ইরাকি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। ছবি: রয়টার্স
উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরাকে গোপন সেল গঠন করেছে আইআরজিসি: রয়টার্স

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন দেশগুলোতে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে এবং ইরাকের পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পাশ কাটিয়ে এসব সেল পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইরাকের আটটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি ইরাকে তিন থেকে চারটি গোপন সেল গঠন করেছে। প্রতিটি সেলে প্রায় ১০ জন করে বাছাই করা ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছেন। তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব সেল ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দক্ষিণ ইরাকের বসরা ও সামাওয়ার কাছাকাছি মরুভূমি এলাকা থেকে কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।   সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব সেলের অনেক সদস্যকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ থেকে নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার যোদ্ধা নিয়ে গঠিত এই জোটটি ইরাকের কট্টরপন্থী শিয়া গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম।   তবে নতুন সেলগুলো ওই জোটের প্রচলিত কমান্ড কাঠামোর বাইরে কাজ করছে এবং সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশনা অনুসরণ করছে বলে দাবি করেছে রয়টার্সের সূত্রগুলো। আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন দুইজন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডার।   রয়টার্স বলছে, ইরাকে এই ধরনের গোপন সেল গঠনের বিষয়টি আগে প্রকাশ্যে আসেনি। পাঁচজন মিলিশিয়া কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমে আসা এবং ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে।   শিয়া-অধ্যুষিত ইরাকে বহু সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের অধিকাংশের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গাজা, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরাকজুড়ে বিস্তৃত ইরানের তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এসব গোষ্ঠী।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপের পর ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর ব্যানারে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার বিরুদ্ধে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ বা প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা যায়নি।   গত বছর থেকে ইরাকের কয়েকটি প্রভাবশালী শিয়া গোষ্ঠী ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল যে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে অস্ত্র সমর্পণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কার্যক্রমে বেশি মনোযোগ দিতে প্রস্তুত।   শাসক শিয়া জোটের দুই আইনপ্রণেতা এবং ইরাকি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জসিম আল-বাহাদলি জানিয়েছেন, শিয়া গোষ্ঠীগুলোর এই অবস্থানের কারণেই আইআরজিসি সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নতুন দল গঠনের উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে।   ইরাকে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদ সরকারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এমন অবস্থানের পর চলতি মাসে ‘আসাইব আহল আল-হাক’ এবং ‘ইমাম আলী ব্রিগেডস’ নামে দুটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়।   শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী বিষয়ে গবেষক জসিম আল-বাহাদলি বলেন, আইআরজিসির গড়ে তোলা নতুন দলগুলো আকারে ছোট হলেও মতাদর্শগতভাবে অধিক কঠোর এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নিজেদের সম্পদ ও প্রভাব ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আঞ্চলিক সংকট নিরসনে ইরান–কাতারের শীর্ষ পর্যায়ের ফোনালাপ

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির মধ্যে টেলিফোনে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাতারের গঠনমূলক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।   ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।   অন্যদিকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানান।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কাতারের আমির আরও বলেন, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে দোহার কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।   দুই নেতার আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।   সূত্র: কাতার নিউজ এজেন্সি

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে দুবাইয়ের আবাসন খাতে ধস, বিলাসবহুল বাড়ির দাম কমছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাইয়ের বিলাসবহুল আবাসন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই রিয়েল এস্টেট বাজারে বেচাকেনা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। দুবাই-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যালুস্ট্র্যাট’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে আবাসন বিক্রি প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান লেনদেনের এই হার গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।   ভ্যালুস্ট্র্যাট-এর আবাসন গবেষণা বিভাগের প্রধান হায়দার তুয়াইমা জানান, বৈশ্বিক মহামারির পর থেকে তৈরি করা বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাজারে এত বড় ধরনের বার্ষিক পতন আর দেখা যায়নি। অন্যদিকে দুবাইয়ের আরেকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেইডিন’-এর পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত মে মাসে দুবাইয়ে মাত্র ২২ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহামের (৬.১ বিলিয়ন ডলার) সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মাসের তুলনায় এই বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক।   দুবাইয়ে গত কয়েক বছর ধরে শূন্য আয়কর নীতির কারণে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের আগমনে আবাসন খাতে এক অভাবনীয় জোয়ার এসেছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিশেষ করে মার্চ মাসে দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহ এলাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন শান্তি চুক্তি হলেও বাজার কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।   আবাসন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ধস ঠেকাতে বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাটের বিক্রেতারা এখন কোটি কোটি টাকা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। অত্যন্ত দামি সম্পত্তি কেনাবেচায় নিয়োজিত এক এজেন্ট জানান, বর্তমানে যে দু-একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী মূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম। গত দেড় বছরে দুবাইয়ে বাড়ি কেনা অতি-ধনী ক্রেতাদের প্রায় সবাই ইতিমধ্যে দুবাই ছেড়ে চলে গেছেন। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ক্রেতারা এখন দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনা থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বিরত থাকছেন।   গত ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ লন্ডন, নিউইয়র্ক ও হংকংকে পেছনে ফেলে বিলাসবহুল আবাসনের ক্ষেত্রে দুবাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম শহর। কিন্তু ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুবাইয়ের এই অবস্থান এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিব্রাজক অতি-ধনীরা এখন দুবাই ছেড়ে মিলান, লন্ডন এবং সিঙ্গাপুরের মতো নিরাপদ আন্তর্জাতিক শহরের দিকে ঝুঁকছেন। এই আকস্মিক ধসের কারণে দুবাইয়ে গড়ে ওঠা শত শত ছোট রিয়েল এস্টেট ব্রোকার এজেন্সি এখন ব্যবসা বন্ধ করার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

তাবাস্সুম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ | ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি চুক্তি অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক সাক্ষী হতে সুইজারল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই সফরের স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইতিমধ্যে ইলেকট্রনিক উপায়ে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ও কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে এই চুক্তিটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের পূর্বনির্ধারিত প্রস্তাবিত সুইজারল্যান্ড সফরটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক কয়েক স্তরের প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সমর্থন ও সহযোগিতা সর্বদা অব্যাহত থাকবে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারক অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং এর বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ওই অঞ্চলে আরোপিত তাদের নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেবে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সহযোগীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের প্যালেস অব ভার্সাইয়ে মোমবাতির আলোয় নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। সেই বিশেষ মুহূর্তে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং উপস্থিত অন্যান্য বিশ্বনেতারা তালি দিয়ে এই চুক্তিকে স্বাগত জানান। প্রাসাদ থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘এইমাত্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করলাম।’’   অন্যদিকে এই চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান প্রশাসনও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তির মূল দলিলটি দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান ঘটবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল।   সূত্র: এএফপি এবং ডন

তাবাস্সুম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘নেতানিয়াহু সবাইকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চান’, উপদেষ্টাদের কাছে ট্রাম্পের মন্তব্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছে মন্তব্য করেছেন যে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সামলানো কঠিন। তিনি বলেছেন, নেতানিয়াহু ‘সবাইকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চান’। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের বলেছেন, নেতানিয়াহু তার কাছে ‘চমৎকার’ একজন ব্যক্তি মনে হলেও অনেক সময় তিনি সীমা অতিক্রম করে ফেলেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া বেশির ভাগ ফোনালাপেই নেতানিয়াহু নতুন সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। এসব আলোচনায় ট্রাম্প ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।   ওই কর্মকর্তা বলেন, “বিবি (নেতানিয়াহু) প্রেসিডেন্টকে বোঝান কেন কোনো স্থানে হামলা চালানো প্রয়োজন, কেন ইসরাইলি গোয়েন্দারা তা করতে সক্ষম এবং কখন তা করা উচিত। প্রেসিডেন্ট এসব শোনেন। প্রায় প্রতিটি ফোনালাপ একই ধরনের হয়।”   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও সামরিক অভিযান ও আঞ্চলিক সংঘাত মোকাবিলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।   মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে নেতানিয়াহুর সামরিক কৌশল নিয়ে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির কথাও উঠে এসেছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০