আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে নিজেদের কূটনৈতিক জয়ের হিসাব কষছে চীন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১০:২৩
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর সৃষ্ট মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের বড় ধরণের কূটনৈতিক জয়ের হিসাব কষছে চীন। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু হলে বেইজিং তাদের অন্যতম বন্ধুভাবাপন্ন একটি দেশের সরকার পতনের বাস্তব আশঙ্কা দেখছিল। তবে যুদ্ধের চার মাস পর বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে এবং তেহরানের বর্তমান সরকার বহাল থাকার পাশাপাশি এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতাও বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

 

যুদ্ধকালীন এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের নিজস্ব কূটনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘাত চলাকালীন সময়ে চীন একের পর এক প্রভাবশালী বিশ্বনেতাকে আতিথ্য দিয়েছে এবং নিজেদেরকে শান্তির প্রবক্তা হিসেবে বিশ্বদরবারে অত্যন্ত সফলভাবে তুলে ধরেছে। এমনকি এই সংকটের সময় বেইজিংয়ের সুনিপুণ ও সতর্ক কূটনৈতিক ভূমিকার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে একাধিকবার ভূয়সী প্রশংসাও কুড়িয়েছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন।

 

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের গ্রিন টেকনোলজি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) দ্রুত প্রসার এবং বিপুল পরিমাণ কৌশলগত তেল মজুত থাকার কারণে তারা এই বৈশ্বিক শক্তি সংকট অনেক প্রতিবেশী দেশের চেয়ে বেশ ভালোভাবে মোকাবিলা করেছে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বেইজিং যেকোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

 

ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে এই চুক্তিতে পৌঁছানোর পেছনে চীনের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ অমান্য করার জন্য চীন তাদের নিজস্ব নৌ-শক্তি ব্যবহার না করায় ট্রাম্প কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুরো সংঘাত জুড়ে চীন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে একদিকে যেমন মার্কিন আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে ও ইরান থেকে তেল কেনা সচল রেখেছে, অন্যদিকে উভয় পক্ষের সাথে যোগাযোগের রাস্তাও খোলা রেখেছে।

 

এই যুদ্ধকে চীনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বৈশ্বিক মঞ্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের পতন বা এক প্রকার "সুয়েজ মুহূর্ত" হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। সাংহাইয়ের ফুদান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সুন দেগাংয়ের মতে, এই যুদ্ধে আমেরিকার প্রধান মিত্রদের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক জোটে ফাটল ধরেছে। প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক হু সিজিন মনে করেন, এই সংঘাতের ফলে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, কারণ পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক গোলাবারুদের সীমাবদ্ধতা এখন সবার সামনে নগ্নভাবে উন্মোচিত।

 

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিংই পর্দার আড়াল থেকে ইরানকে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছিল বলে মনে করা হয়। তবে চীনের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষক ও শিংহুয়া ইউনিভার্সিটির ফেলো সুন চেংহাওয়ের মতে, আমেরিকার এই ধাক্কার মানে এই নয় যে চীন একক পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার স্থান দখল করবে। বরং এর মূল অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ওয়াশিংটনকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক খেসারত দিতে হচ্ছে, যা বেইজিংয়ের বহুমেরু বিশ্ব ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের ও স্ত্রী বেগোনা গোমেজ | ছবি: সংগৃহীত
দুর্নীতির মামলায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দ

স্পেনের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির গুরুতর মামলায় প্রকাশ্য আদালতে বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একজন বিচারক। একই সাথে আদালত সানচেজের স্ত্রীর দেশত্যাগের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে তার পাসপোর্ট অবিলম্বে জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছে। আদালতের এই নতুন ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের ফলে স্পেনের বর্তমান বামপন্থী সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ চরম আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরণের হুমকির মুখে ফেলেছে।   দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা গভীর ও নিবিড় তদন্তের পর ৫৫ বছর বয়সী বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রভাব খাটানো, ব্যবসায়িক লেনদেনে ব্যাপক দুর্নীতি এবং তহবিলের অপব্যবহারের মতো একাধিক সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে গোমেজ তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরণের অপরাধ ও অনিয়মের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। স্পেনের সুপরিচিত ডানপন্থী দলগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা 'ম্যানোস লিম্পিয়াস' (ক্লিন হ্যান্ডস) নামের একটি সুসংগঠিত ট্রেড ইউনিয়নের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই মূলত এই তদন্ত শুরু হয়েছিল।   শনিবার প্রকাশিত আদালতের এক বিশেষ আদেশে মামলার প্রধান বিচারক হুয়ান কার্লোস পেইনাডো নির্দেশ দিয়েছেন যে, বেগোনা গোমেজকে অবিলম্বে তার পাসপোর্ট রাষ্ট্রীয় হেফাজতে সমর্পণ করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই তিনি স্পেনের বাইরে যেতে পারবেন না। এর পাশাপাশি তাকে প্রতি মাসে অন্তত দুই বার সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য আইনি বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই একটি নির্দিষ্ট তারিখে জুরির মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ওঠা এই দুর্নীতির মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।   can অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা এই পুরো মামলাটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি কুৎসিত অপপ্রচার হিসেবে বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। ইউরোপের অন্যতম স্পষ্টবাদী এই বামপন্থী নেতা তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিরোধী সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে তার পরিবারকে উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে হেনস্থা করার তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী সানচেজ স্পেনের বিচার বিভাগের কিছু সদস্যের নিরপেক্ষতা ও সততা নিয়েও প্রকাশ্য জনসমক্ষে প্রশ্ন তুলেছেন।   প্রধানমন্ত্রীর দল সোশ্যালিস্ট পার্টি আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছে, বেগোনা গোমেজ গত দুই বছর ধরে চরম বিচার বিভাগীয় ও কুৎসিত রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। আজকের এই আইনি সিদ্ধান্ত মূলত সেই পরিকল্পিত নিপীড়নমূলক প্রক্রিয়ারই আরও একটি নতুন ও নোংরা ধাপ মাত্র। দুর্নীতির এই মামলাটি মূলত সানচেজের রাজনৈতিক জীবনকে জর্জরিত করা ধারাবাহিক তদন্তগুলোর মধ্যে অন্যতম, যিনি ২০১৮ সালে স্পেনের রক্ষণশীল পিপলস পার্টির দুর্নীতি দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন।   বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী সানচেজের নিজের পরিবার এবং তার পূর্ববর্তী শীর্ষ রাজনৈতিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে চলা বেশ কয়েকটি উচ্চ-পর্যায়ের দুর্নীতির তদন্ত এখন স্পেনের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করার জন্য বড় ধরণের হুমকি সৃষ্টি করছে। যদিও সানচেজের নাম সরাসরি কোনো মামলায় আসেনি, তবে তার ভাই ডেভিড সানচেজের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর এবং সাবেক পরিবহন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরকারি চুক্তিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গত মাসে স্পেনের সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী জোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতেরোর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তদন্ত শুরু হওয়ায় সরকার আরও বিপাকে পড়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১২:৪
ছবি: সংগৃহীত

ভূমধ্যসাগরে লিবিয়ার উপকূলে ভেসে এলো নারীসহ ১৫ অভিবাসীর মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত

অবরোধ ও বিক্ষোভে অচল বলিভিয়া, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করছে ইরান

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে নিজেদের কূটনৈতিক জয়ের হিসাব কষছে চীন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর সৃষ্ট মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের বড় ধরণের কূটনৈতিক জয়ের হিসাব কষছে চীন। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরানে বোমাবর্ষণ শুরু হলে বেইজিং তাদের অন্যতম বন্ধুভাবাপন্ন একটি দেশের সরকার পতনের বাস্তব আশঙ্কা দেখছিল। তবে যুদ্ধের চার মাস পর বিশ্ব রাজনীতির দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে এবং তেহরানের বর্তমান সরকার বহাল থাকার পাশাপাশি এই যুদ্ধে মার্কিন সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতাও বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   যুদ্ধকালীন এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের নিজস্ব কূটনৈতিক প্রভাব ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘাত চলাকালীন সময়ে চীন একের পর এক প্রভাবশালী বিশ্বনেতাকে আতিথ্য দিয়েছে এবং নিজেদেরকে শান্তির প্রবক্তা হিসেবে বিশ্বদরবারে অত্যন্ত সফলভাবে তুলে ধরেছে। এমনকি এই সংকটের সময় বেইজিংয়ের সুনিপুণ ও সতর্ক কূটনৈতিক ভূমিকার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে একাধিকবার ভূয়সী প্রশংসাও কুড়িয়েছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন।   বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের গ্রিন টেকনোলজি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) দ্রুত প্রসার এবং বিপুল পরিমাণ কৌশলগত তেল মজুত থাকার কারণে তারা এই বৈশ্বিক শক্তি সংকট অনেক প্রতিবেশী দেশের চেয়ে বেশ ভালোভাবে মোকাবিলা করেছে। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বেইজিং যেকোনো ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।   ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে এই চুক্তিতে পৌঁছানোর পেছনে চীনের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ অমান্য করার জন্য চীন তাদের নিজস্ব নৌ-শক্তি ব্যবহার না করায় ট্রাম্প কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুরো সংঘাত জুড়ে চীন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে একদিকে যেমন মার্কিন আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছে ও ইরান থেকে তেল কেনা সচল রেখেছে, অন্যদিকে উভয় পক্ষের সাথে যোগাযোগের রাস্তাও খোলা রেখেছে।   এই যুদ্ধকে চীনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বৈশ্বিক মঞ্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের পতন বা এক প্রকার "সুয়েজ মুহূর্ত" হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। সাংহাইয়ের ফুদান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সুন দেগাংয়ের মতে, এই যুদ্ধে আমেরিকার প্রধান মিত্রদের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক জোটে ফাটল ধরেছে। প্রখ্যাত রাজনৈতিক বিশ্লেষক হু সিজিন মনে করেন, এই সংঘাতের ফলে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক প্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, কারণ পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক গোলাবারুদের সীমাবদ্ধতা এখন সবার সামনে নগ্নভাবে উন্মোচিত।   মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিংই পর্দার আড়াল থেকে ইরানকে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করেছিল বলে মনে করা হয়। তবে চীনের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষক ও শিংহুয়া ইউনিভার্সিটির ফেলো সুন চেংহাওয়ের মতে, আমেরিকার এই ধাক্কার মানে এই নয় যে চীন একক পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার স্থান দখল করবে। বরং এর মূল অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে ওয়াশিংটনকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক খেসারত দিতে হচ্ছে, যা বেইজিংয়ের বহুমেরু বিশ্ব ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১০:২৩
ছবি: সংগৃহীত

মাউন্ট এভারেস্টের বরফের ফাটলে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেন নেপালি পর্বতারোহী

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইউক্রেনের ড্রোন ভূপাতিত করতে গিয়ে নিজেদের শোধনাগারেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল রাশিয়া

ছবিঃ এ পি

কাতারের দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উন্মোচন করলেন ট্রাম্প

ইরানের পর উত্তর কোরিয়ায় নজর দিতে চান ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পর এবার উত্তর কোরিয়ার দিকে নজর দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি-এর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের পর এবার তার প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার দিকে নজর দিতে চায়। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট লি নিশ্চিত করেন, ট্রাম্প তাকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এবার উত্তর কোরিয়া ইস্যুর দিকে নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার সময় এসে গেছে।   বৈঠকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জানান যে, উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো বর্তমানে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পিয়ংইয়ং ও মস্কোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতা মারাত্মক হারে বেড়ে যাওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা অনেকটাই কমে গেছে বলে মনে করেন লি। তার মতে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা সামান্য সামরিক বা অর্থনৈতিক সহায়তাও বর্তমানে উত্তর কোরিয়ার জন্য বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনছে।   এদিকে, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠকের একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবিটির সঙ্গে ট্রাম্প কোনো মন্তব্য যুক্ত না করলেও, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পোস্ট ঘিরে নতুন জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান ইস্যুতে বড় ধরনের অগ্রগতির পর ট্রাম্প প্রশাসন এখন পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার দিকে তাদের পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক মনোযোগ নিবদ্ধ করতে পারে।   উল্লেখ্য, ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত চলা কোরিয়া যুদ্ধ কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তির বদলে কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে দুই দেশ কেবল একটি সুনির্দিষ্ট অসামরিকীকৃত সীমান্ত অঞ্চলের (ডিএমজেড) মাধ্যমে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৯, ২০২৬ ১৫:২৬
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

চীনের অত্যাধুনিক জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, চরম উদ্বেগে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মাতৃভূমি রক্ষায় শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াইয়ের ঘোষণা হিজবুল্লাহর

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের ভেতরে আফগানিস্তানের আকস্মিক হামলা, চরমে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা

0 Comments