সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার কোনো বিশেষ অধিকার নেই: শাহরিয়ার কবির

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৯:১৩
পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার কোনো বিশেষ অধিকার নেই
পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার কোনো বিশেষ অধিকার নেই

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক বা দেশীয় আইনে কোনো বিশেষ অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ.এস.এম. শাহরিয়ার কবির। সম্প্রতি ভারতে শেখ হাসিনার বর্তমান আইনি অবস্থান এবং সেখানে বসে তার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এই দাবি করেন।

 

এই বিশ্লেষকের মতে, ভারতে বর্তমানে শেখ হাসিনা ঠিক কী পরিচয়ে বা আইনি মর্যাদায় অবস্থান করছেন, তা একেবারেই অস্পষ্ট। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রাজনৈতিক আশ্রয় (পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম) নেননি। এমনকি তিনি কোনো নির্দিষ্ট ভিসার অধীনে সেখানে অবস্থান করছেন কি না বা তিনি ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো রাষ্ট্রীয় অতিথি কি না—সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

 

শাহরিয়ার কবির তার বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করেন, আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক আশ্রয় না নিয়ে কোনো পলাতক ব্যক্তিকে এভাবে অন্য একটি দেশে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াটা প্রচলিত আন্তর্জাতিক রীতি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবে উল্লেখ্য যে, এই বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে ওই রাজনৈতিক বিশ্লেষকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও দাবি। ভারতে শেখ হাসিনার বর্তমান অবস্থান বা আইনি মর্যাদা নিয়ে ভারতের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

আন্তর্জাতিক

View more
স্পেনে সহিংস বিক্ষোভ সংগঠনের অভিযুক্ত পাকিস্তানি তরুণ, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
স্পেনে সহিংস বিক্ষোভ সংগঠনের অভিযুক্ত পাকিস্তানি তরুণ, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় সহিংস বিক্ষোভ, দোকানপাটে সংঘবদ্ধ লুটপাট ও ভাঙচুর সংগঠনের অভিযোগে গ্রেপ্তার পাকিস্তানি তরুণ আয়িজ আফজাল আনোয়ারকে (২০) জামিন ছাড়া বিচারপূর্ব আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির এক বিচারক। তাঁকে স্পেনের ব্লোকুস (Blocus) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের আড়ালে সহিংস কর্মকাণ্ড সংগঠিত করতে টেলিগ্রাম গ্রুপ পরিচালনা করতেন তিনি।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের সিভিল গার্ড ভ্যালেন্সিয়া প্রদেশের পিকানিয়া এলাকা থেকে আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি একাধিক টেলিগ্রাম গ্রুপ তৈরি ও পরিচালনা করেছেন, যেগুলো ব্যবহার করে সহিংস বিক্ষোভের পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধভাবে দোকানপাটে লুটপাট ও ভাঙচুরের সমন্বয় করা হতো। তদন্তসংশ্লিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নামে এসব অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের সংগঠিত করা হতো। বিশেষ করে বিক্ষোভের সময় সহিংসতা এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের মতো কর্মকাণ্ডে এসব গ্রুপের ভূমিকা ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।   গ্রেপ্তারের পর আনোয়ারকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে জামিন ছাড়া বিচারপূর্ব আটক রাখার নির্দেশ দেন বলে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে। তবে বিচারপূর্ব আটক রাখার সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। আদালতে বিচার ও প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁর অপরাধের দায় নির্ধারিত হবে। স্পেনের সিভিল গার্ডের ৩০ অক্টোবরের বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্তকারীরা টেলিগ্রামের একাধিক গ্রুপের সঙ্গে সন্দেহভাজন তরুণের সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করেছেন। কিছু গ্রুপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন গ্রুপ খোলা হয়েছিল। তদন্তে বার্তা মুছে ফেলা এবং যোগাযোগ আরও গোপন রাখার চেষ্টার তথ্যও পাওয়া গেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৪ অক্টোবর বার্সেলোনায় সংঘটিত সহিংসতার সঙ্গে এই তদন্তের যোগসূত্র রয়েছে। ওই ঘটনায় প্রায় ৫০০ জন অংশ নিয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, পরবর্তী সময়ে বার্সেলোনা ও স্পেনের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড সংগঠনের প্রস্তুতি চলছিল। ৩১ অক্টোবর নতুন কর্মসূচির আগেই সন্দেহভাজন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্পেনের সংবাদ সংস্থা ইএফই জানিয়েছে, ৩১ অক্টোবর ভ্যালেন্সিয়ার টরেন্ট এলাকার আদালত অভিযুক্ত তরুণকে জামিন ছাড়া কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কারাগারে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করা যায় এমন কম্পিউটার বা অন্য কোনো ডিভাইসে তাঁর প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   এ ঘটনায় স্পেনের ন্যাশনাল পুলিশ ও সিভিল গার্ডের যৌথ তদন্তে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিও রয়েছে। তদন্তকারীরা অভিযোগ করছেন, অনলাইন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণদের সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছিল।   স্পেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার থাকলেও এর আড়ালে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ বা সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্লোকুস আন্দোলনকে ঘিরে তদন্ত এখনো চলছে।   সূত্র: স্পেনের সিভিল গার্ড, ইএফই, ইউরোপা প্রেস, আরটিভিই এবং লা গাসেতা।        

প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১:৩৯
টেক্সাসে ৩২ বছরের পরাজয়ের ধারা ভেঙে সিনেটে জয়ী ডেমোক্র্যাট টালারিকো

টেক্সাসে ৩২ বছরের পরাজয়ের ধারা ভেঙে সিনেটে জয়ী ডেমোক্র্যাট টালারিকো

শতাব্দীর শেষ নাগাদ চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হবে ভারত: জেফ্রি স্যাক্স

শতাব্দীর শেষ নাগাদ চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হবে ভারত: জেফ্রি স্যাক্স

বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নজর রাখছে ভারত

বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নজর রাখছে ভারত, জানাল নয়াদিল্লি

কানাডার কুইবেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখ টারবান ও মুসলিম নারীদের নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ
কানাডার কুইবেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখ টারবান ও মুসলিম নারীদের নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ

কানাডার কুইবেক প্রদেশে জনসমক্ষে ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার শঙ্কা তৈরি করে এমন একটি নতুন নীতি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। প্রদেশের নতুন সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিখ টারবান এবং মুসলিম নিকাবের মতো দৃশ্যমান ধর্মীয় পোশাক ও প্রতীক নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা মূলত শিখ, মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়কে বিশেষভাবে প্রভাবিত করবে।   অক্টোবর মাসের প্রাদেশিক নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসা বিচ্ছিন্নতাবাদী দল পার্টি কিউবেকোয়া (PQ)—তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে স্কুলছাত্র-ছাত্রীদের ধর্মীয় প্রতীক পরিধান নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। মন্ট্রিল গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, কুইবেকের শিক্ষামন্ত্রী জোয়েল আরসেনো জানিয়েছেন যে তারা এই ভিত্তির ওপরই নির্বাচিত হয়েছেন এবং সেই অনুযায়ীই কাজ চালিয়ে যাবেন। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে কুইবেকের বর্তমান প্রিমিয়ার পল সেন্ট-পিয়েরে প্লামন্ডন এই প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন যে, স্কুলে পাঠানো শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম থাকে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই বিষয়টি বুঝবেন যে ধর্মীয় প্রতীকগুলো খুলে রাখা সম্ভব।   কুইবেক সরকারের পক্ষ থেকে জনপরিসরে ধর্মীয় অভিব্যক্তি নিয়ন্ত্রণের এই প্রচেষ্টা নতুন নয়। এর আগে গত এপ্রিল মাসে বিগত কোয়ালিশন অ্যাভেনির কুইবেক (CAQ) সরকার পাবলিক ইউনিভার্সিটি, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ডে কেয়ার সেন্টারগুলোতে ধর্মীয় অনুশীলনের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এমনকি সড়ক ও জনসমুদ্যানে যৌথ ধর্মীয় কার্যক্রমের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।   উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে সিএকিউ সরকার বিতর্কিত ধর্মনিরপেক্ষতা আইন বা 'বিল ২১' পাস করার মাধ্যমে কুইবেকে ধর্মীয় প্রতীকের ওপর প্রথম বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আনে। সেই আইনে শিক্ষক, পুলিশ কর্মকর্তা ও বিচারকদের মতো সরকারি চাকরিজীবীদের ওপর দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়, যা বর্তমানে কানাডার সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন রয়েছে।   নতুন এই প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করে কানাডিয়ান সিভিল লিবার্টিজ অ্যাসোসিয়েশনের (CCLA) কুইবেকের মৌলিক স্বাধীনতা বিষয়ক পরিচালক ও মুখপাত্র আনাইস বুসিয়ের ম্যাকনিকোল বলেন, কুইবেক সরকার ক্রমান্বয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিধি সংকুচিত করে চলেছে। প্রথমত সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকদের লক্ষ্যবস্তু করার পর এবার সরকার সরাসরি কোমলমতি শিশুদের নিশানা করেছে, যা প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাঝে বর্জন ও একঘরে করার ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১২:৫৫
ঘুমের মধ্যে তাড়া করে বন্ধুর ‘প্রেতাত্মা’, ২০ দিন পর থানায় গিয়ে হ ত্যার স্বীকারোক্তি

ঘুমের মধ্যে তাড়া করে বন্ধুর ‘প্রেতাত্মা’, ২০ দিন পর থানায় গিয়ে হ ত্যার স্বীকারোক্তি

ইরানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে হঠাৎ পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার উপায়সংক্রান্ত বিশেষ নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে হঠাৎ পারমাণবিক হামলা থেকে বাঁচার নির্দেশনা প্রচার টেলিভিশনে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন ভারতীয় বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠি। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের খারাপ দিন আসছে, নির্বাচনের দিনে মার্কিনদের ধন্যবাদ দিয়ে ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির মন্তব্য

ইসরাইলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ক্ষমতা ধরে রাখতে নেতানিয়াহুর নতুন কৌশল, বৈঠকে বিরোধী নেতারা

ইসরাইলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের নেতৃত্বে একটি ‘বৃহত্তর জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে মঙ্গলবার বৈঠকে বসেছেন বিরোধী শিবিরের নেতারা। গত সপ্তাহের নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে।   আইজেনকটের দল ইয়াশার জানিয়েছে, ‘পরিবর্তন ব্লক’-এর নেতারা মঙ্গলবার সকালে হার্জলিয়ায় বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী পদে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার পর এটিই তাদের প্রথম যৌথ বৈঠক। সেখানে জোট গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   নির্বাচনে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ব্লক ৪৮টি আসন পেয়েছে। নেতানিয়াহুর শিবির পেয়েছে ৫৩টি আসন, যার মধ্যে তার লিকুদ পার্টির আসন ২৭টি। অন্যদিকে, ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে আরব-প্রধান দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। ফলে নতুন সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   সোমবার নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বৃহত্তম দল হিসেবে লিকুদ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নেতৃত্বেই পরবর্তী সরকার পরিচালিত হওয়া উচিত। লিকুদ পার্টির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ইহুদি জনগণের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাকে পরবর্তী সরকার পরিচালনার জন্য বেছে নিয়েছে।   নেতানিয়াহু আরও বলেন, তার রাজনৈতিক অংশীদারদের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না, এমন যেকোনো দলের সঙ্গে তিনি বৃহত্তর সরকার গঠন করতে চান। তবে আরব-প্রধান দলগুলোর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নাকচ করে তিনি অভিযোগ করেন, এসব দল সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এবং ইহুদি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব অস্বীকার করে।   বিরোধী শিবিরের মধ্যেও আরব দলগুলোর সমর্থন নেওয়া নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। মোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান আরব দলগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের পক্ষে। অন্যদিকে, ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যান এর বিরোধিতা করছেন। নাফতালি বেনেটের মধ্য-ডানপন্থী টুগেদার পার্টি এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।   ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন। প্রার্থী মনোনয়নের জন্য তার হাতে সাত দিন সময় রয়েছে, অর্থাৎ ১১ নভেম্বর পর্যন্ত। মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এই সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে।   প্রথম প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় প্রার্থীও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের ৬১ জন সদস্য প্রেসিডেন্টকে তৃতীয় কোনো প্রার্থী বেছে নেওয়ার অনুরোধ জানাতে পারবেন। নির্ধারিত ১৪ দিনের মধ্যে এমন অনুরোধ না এলে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হবে এবং নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।   সূত্র: এনডিটিভি

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ৯:২৮
ইসরায়েলকে মার্কিন অর্থসহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের, কার্যকর হবে চলতি বছরের শেষে

ইসরায়েলকে মার্কিন অর্থসহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের, কার্যকর হবে চলতি বছরের শেষে

বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর

সূর্য ও চাঁদ হিন্দুদের, ঈদ পালনে মুসলমানদের অনুমতি নিতে হবে: বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর

ইউরোপের সাত দেশে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা

ইউরোপের সাত দেশে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাইবার হামলা, বিপুল খাদ্যপণ্য নষ্ট

0 Comments