২০২৬ বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ঘরের মাঠ লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে এই দুর্দান্ত জয়ের মূল নায়ক ফোলারিন বালোগান, যার জোড়া গোলে ভর করে বিশ্বমঞ্চে দাপুটে শুরু পেল মার্কিনরা।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে ৯৬ বছরের পুরোনো এক আক্ষেপও ঘুচিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে এই প্যারাগুয়ের বিপক্ষেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ট প্যাটেনোড।
এরপর প্রায় এক শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও বিশ্বকাপে আর কোনো মার্কিন ফুটবলার এক ম্যাচে একাধিক গোল করতে পারেননি, যে খরা অবশেষে কাটালেন ২৪ বছর বয়সী বালোগান।
বালোগানের এই মার্কিন তারকা হয়ে ওঠার গল্প যেকোনো রোমাঞ্চকর সিনেমা বা উপন্যাসকেও হার মানাবে। ২০০১ সালে তার নাইজেরিয়ান মা ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্কে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন।
ফেরার পথে গর্ভাবস্থার একেবারে শেষ পর্যায়ে থাকায় বিমান কর্তৃপক্ষ তাকে ফ্লাইটে উঠতে অস্বীকৃতি জানায়। বাধ্য হয়ে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনেই অবস্থান করতে হয় তাকে এবং সেখানেই জন্ম নেন বালোগান।
জন্মসূত্রে তিনি লাভ করেন মার্কিন নাগরিকত্ব। জন্মের কয়েক মাস পর মা-বাবার সঙ্গে লন্ডনে ফিরে গেলেও, বিমান সংস্থার সেই অনড় সিদ্ধান্ত আর ভাগ্যের আশ্চর্য মোচড়ই তাকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
লন্ডনে বেড়ে ওঠার সময় আর্সেনালের যুব একাডেমিতে ফুটবলের হাতেখড়ি হয় বালোগানের। গানারদের মূল দলে নিয়মিত সুযোগ না পেয়ে ২০২২ সালে ফরাসি ক্লাব রেঁসে ধারে খেলতে যান এবং সেখানেই নিজের প্রতিভার জানান দেন তিনি।
সেই মৌসুমে লিগ ওয়ানে ৩৯ ম্যাচে ২২ গোল করে লিওনেল মেসিকেও ছাড়িয়ে যান এই তরুণ। এরপর ২০২৩ সালে ৩০ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তিতে তাকে দলে ভেড়ায় ফরাসি ক্লাব এএস মোনাকো।
পারিবারিক সূত্রে নাইজেরিয়া, বেড়ে ওঠার সুবাদে ইংল্যান্ড এবং জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্র—এই তিন দেশের হয়েই খেলার সুযোগ ছিল তার। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন ভক্তদের প্রবল উন্মাদনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া মহলের ভিআইপি আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি মার্কিন জার্সি গায়ে জড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে তার সেই সিদ্ধান্ত কতটা সার্থক, তারই প্রমাণ দিয়েছেন বালোগান। তার প্রথম গোলটি আসে এক নজরকাড়া বাঁকানো শটে, আর দ্বিতীয়টিতে ফুটে ওঠে সতীর্থদের সঙ্গে তার চমৎকার বোঝাপড়া।
ভিএআরের কারণে হ্যাটট্রিক বঞ্চিত হলেও ম্যাচটি ছিল সম্পূর্ণ তার। ম্যাচ শেষে এই ফরোয়ার্ড গণমাধ্যমকে জানান, পুরো বিষয়টি তার কাছে এখনো স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে এবং হোটেলে ফিরে বিশ্রাম নেওয়ার পরই হয়তো তিনি এই চমৎকার মুহূর্তটি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবেন। এই জয়ের পর বালোগানের স্বপ্ন এখন আরও বড়।
টুর্নামেন্ট জয়ের লক্ষ্যের পাশাপাশি ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল ও স্পেনের মতো ফেভারিট দলগুলোর বিপক্ষে বিশ্বমঞ্চে অঘটন ঘটাতে মুখিয়ে আছেন ভাগ্যের ফেরে 'আকস্মিক আমেরিকান' হয়ে ওঠা এই ফুটবল বিস্ময়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নেমেই শুরুতে ধাক্কা খায় ব্রাজিল। তবে পিছিয়ে পড়ার সেই প্রাথমিক ধাক্কা দারুণভাবে সামলে নিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক গোলে ১-১ সমতায় থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। দলের অন্যতম সেরা তারকা নেইমারকে ছাড়া খেলতে নামা ব্রাজিল ম্যাচের শুরু থেকেই কিছুটা ছন্নছাড়া ছিল। অন্যদিকে, প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই দারুণ গোছানো ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল করার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল তারা। ডান প্রান্ত থেকে ছোট ছোট পাসের মাধ্যমে আক্রমণে উঠে ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়ে যান তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই। তার নেওয়া শট শেষ মুহূর্তে সেলেসাও ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস আটকে দিলে সে যাত্রায় রক্ষা পায় ব্রাজিল। পরবর্তীতে ব্রাজিলও ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ইগর থিয়াগো দারুণ সুযোগ পেলেও বলের সঙ্গে সঠিক সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হন। ব্রাজিল যখন কেবল গুছিয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই ম্যাচের ২১তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের দারুণ এক পাসে গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে নেন ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি। তবে এই লিড খুব বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি মরক্কো। গোল হজমের মাত্র ১১ মিনিট পরই ব্রাজিলকে জাদুকরী এক গোলে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৩২তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির এক শটে জাল কাঁপান তিনি। দৃষ্টিনন্দন এই গোলের মাধ্যমেই জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের ৫০তম গোলের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন ভিনিসিয়ুস। প্রথমার্ধের এই সমতা দ্বিতীয়ার্ধের লড়াইকে যে আরও বেশি রোমাঞ্চকর করে তুলবে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কোনো সন্দেহ নেই।
টেলিভিশনের পর্দায় সাধারণ দর্শকেরা কেবল ৯০ মিনিটের মাঠের লড়াইটাই দেখতে পান। কখনো কখনো সম্প্রচারকদের সৌজন্যে ম্যাচ শুরুর আগের গা-গরমের দৃশ্যও চোখে পড়ে। কিন্তু ড্রেসিংরুমের সেই রহস্যময় দরজার ওপারে আসলে কী হয় কিংবা ম্যাচের ঠিক আগের মুহূর্তে ফুটবলাররা কেমন থাকেন, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতুহলের শেষ নেই। আজ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সার মিশনে নামছে ব্রাজিল। আর এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শুরুর আগে সেলেসাওদের ড্রেসিংরুমের ভেতরের না-বলা গল্পগুলো সামনে এনেছেন ব্রাজিল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রধান সহকারী পল ক্লেমেন্ট। ‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ আসলে কেমন থাকে। পল ক্লেমেন্টের বর্ণনাতে, ম্যাচ শুরুর ঠিক আগের দৃশ্যটি দেখলে মনে হবে যেন কোনো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের ফুটবল বিজ্ঞাপনের শুটিং চলছে। সেখানে ড্রেসিংরুমের কোথাও কোনো খেলোয়াড় বল শূন্যে ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা বা ‘কিপ-আপ’ করছেন, কেউ কেউ হেডফোন কানে দিয়ে চুপচাপ গান শুনছেন, কেউ স্ট্রেচিং করছেন, কেউবা সারছেন শেষ মুহূর্তের ‘ট্রিটমেন্ট’। আবার কেউ কেউ কেবলই নিজের ভাবনায় মগ্ন থাকেন এবং এই সবকিছুর আবহ তৈরির জন্য ব্যাকগ্রাউন্ডে সবসময় বাজতে থাকে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী কোনো সুর। ক্লেমেন্টের ভাষায়, সবচেয়ে জাদুকরি মুহূর্তটি আসে দল যখন মাঠের উদ্দেশ্যে ড্রেসিংরুম ছাড়ার প্রস্তুতি নেয়। ম্যাচের সময় যতই ঘনিয়ে আসে, ভেতরের চেনা পরিবেশটা পুরোপুরি বদলে যায়। গান বন্ধ হয়ে যায়, কমে আসে কোলাহল এবং পুরো দল তখন প্রার্থনার জন্য একসঙ্গে মিলিত হয়। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো ফুটবলেও ম্যাচ শুরুর আগের এই মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে বড় ভূমিকা রাখে। সহকারী কোচ বলেন, তখন অত্যন্ত ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক একটি পরিবেশ তৈরি হয়। ম্যাচের আগে এবং পরে ফুটবলাররা সবাই মিলে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করেন। সাধারণত এই প্রার্থনার আগে দলের অধিনায়ক, কোনো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, কোচ কিংবা ফেডারেশনের কেউ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এই সুন্দর ঐতিহ্যই খেলোয়াড়দের মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করে এবং এটি দলের মধ্যে একতা ও সৌহার্দ্য তৈরি করে সবাইকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। ব্রাজিল দলের সহকারী কোচের মতে, এবারের সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের অভিজ্ঞ নেতৃত্ব। মার্কিনিওস, আলিসন, কাসেমিরো এবং দানিলোর মতো নামগুলোকে তিনি দলের মূল চালিকাশক্তি এবং মেরুদণ্ড হিসেবে মনে করেন। ক্লেমেন্টের ভাষায়, এই দলের যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে ভালো লাগে, তা হলো সুদৃঢ় নেতৃত্ব। যেসব খেলোয়াড়ের ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে খেলার অনেকদিনের অভিজ্ঞতা আছে, তাঁদের প্রতি দলটিতে অগাধ সম্মান রয়েছে। এই পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের কারণে দলের ভেতরে একটি চমৎকার ‘চেইন অব কমান্ড’ বা শৃঙ্খলা তৈরি হয়, যা বিভিন্ন প্রজন্মের ফুটবলারদের একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে সাহায্য করে। তরুণ খেলোয়াড়রা যাঁরা ব্রাজিলের হয়ে ৮০, ৯০ বা একশর বেশি ম্যাচ খেলেছেন, তাঁদের ভীষণ সমীহ করেন। ক্লেমেন্ট বিশ্বাস করেন, তারকাখচিত ড্রেসিংরুম সামলানোর ক্ষেত্রে প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জন্য একটা বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করবে। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড চেলসি, পিএসজি, বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে বড় বড় সব মহাতারকাদের অবলীলায় সামলেছেন। এবারের ব্রাজিল দলেও অনেক তারকা ফুটবলার আছেন। তবে আনচেলত্তির জন্য তাঁদের সামলানো কঠিন হবে না। ক্লেমেন্টের ভাষায়, কার্লো কখনোই দ্বন্দ্বে জড়াতে চান না, তিনি মানুষের ভেতরের সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করেন। ব্রাজিলের প্রায় আড়াই দশকের দীর্ঘ শিরোপাখরাটা হয়তো এই ইতালিয়ান কোচের হাত ধরেই কাটবে—মেটলাইফের ড্রেসিংরুমে এখন সেই প্রার্থনারই সুর।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ মরক্কো, যারা চার বছর আগে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। এবারও শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি। অন্যদিকে ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। দলের অভিজ্ঞ তারকা Neymarকে ছাড়াই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে হচ্ছে সেলেসাওদের। ফলে আক্রমণভাগে দায়িত্ব আরও বেশি করে এসে পড়েছে Vinícius Júniorর কাঁধে। তবে মরক্কোর অধিনায়ক Achraf Hakimi জানিয়ে দিয়েছেন, ব্রাজিলিয়ান তারকাকে সামলাতে তিনি প্রস্তুত। ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হাকিমি বলেন, ভিনিসিয়ুসের সামর্থ্য সম্পর্কে তাদের কোনো সন্দেহ নেই। তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় এবং ক্লাব ফুটবলে একাধিকবার তার মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। মরক্কো অধিনায়কের ভাষায়, ভিনিসিয়ুস একজন অসাধারণ ফুটবলার, তবে তাকে ঠেকানোর প্রস্তুতি নিয়েই তারা মাঠে নামবেন। হাকিমি বলেন, "ভিনিসিয়ুস কী ধরনের খেলোয়াড়, সেটা আমরা সবাই জানি। তার বিরুদ্ধে আমি বেশ কয়েকবার খেলেছি। সে দুর্দান্ত একজন ফুটবলার। তবে আমি তার জন্য প্রস্তুত আছি। আশা করছি আমরা ভালো পারফরম্যান্স করতে পারব।" বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মতো ঐতিহ্যবাহী দলের বিপক্ষে খেলতে নামলেও নিজেদের আন্ডারডগ হিসেবে দেখতে রাজি নন মরক্কোর অধিনায়ক। ২০২২ বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠার ইতিহাস গড়া মরক্কো এবারও নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখছে। হাকিমির মতে, বিশ্বকাপের মতো আসরে শুধু নাম বা অতীতের সাফল্য কোনো ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে না। মাঠের লড়াইয়ে দুই দলই সমান সুযোগ নিয়ে নামে এবং সেদিনের পারফরম্যান্সই পার্থক্য গড়ে দেয়। তিনি বলেন, "বিশ্বকাপে ফেভারিট বলে কিছু নেই। আমরা দুই দলের সামর্থ্যই জানি। এটি সমানে-সমানে একটি ম্যাচ হবে। আশা করি ভাগ্য আমাদের পক্ষে থাকবে এবং আমরা নিজেদের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারব।" এই ম্যাচের আরেকটি আকর্ষণ হতে যাচ্ছে হাকিমি ও ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত দ্বৈরথ। ক্লাব ফুটবলে তারা বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন। Paris Saint-Germainর হয়ে হাকিমি এবং Real Madridর হয়ে ভিনিসিয়ুস ইউরোপের বড় মঞ্চে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে শুরু করে ক্লাব বিশ্বকাপ, নানা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই দুই তারকার লড়াই দর্শকদের নজর কেড়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ক্লাব নয়, জাতীয় দলের জার্সিতে বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছেন তারা। একদিকে ব্রাজিলের আক্রমণের প্রধান ভরসা ভিনিসিয়ুস, অন্যদিকে মরক্কোর রক্ষণভাগের নেতা হাকিমি। ফলে ম্যাচের ফল নির্ধারণে এই ব্যক্তিগত লড়াইও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নেইমারের অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুসের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে মরক্কোর রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেওয়া হাকিমির জন্যও এটি হতে যাচ্ছে বড় পরীক্ষা। বিশ্বকাপের শুরুতেই তাই দুই তারকার এই দ্বৈরথ নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে।