ইরাকের অন্তত সাতটি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বিমান হামলায় ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়া জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩২ জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (২৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের বাগদাদ, ওয়াসিত, নিনাওয়া, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও দিয়ালা প্রদেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়।
পিএমএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হতাহতদের সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব। ঘটনাস্থলের মূল্যায়ন শেষে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। হামলায় সংগঠনটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক যান এবং অস্ত্র সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও সৌদি বিমান বাহিনী জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ড্রোন হামলার জবাবে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, নিজেদের বাহিনী ও মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে।
পিএমএফ ইরাকের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে স্বীকৃত একটি আধাসামরিক জোট, যেখানে বেশ কয়েকটি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। সংগঠনটির কিছু অংশ ইরানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
এদিকে ইরাক সরকার এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে আলোচনা করতে উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে ইরাকে এই হামলা নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreভারতে দুই বছর কারাভোগ শেষে ৪৭ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৪৩ জন পুরুষ ও চারজন নারী। রাত প্রায় ৮টার দিকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা ব্যক্তিদের বাড়ি নড়াইল, গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকায়। বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে উন্নত কর্মসংস্থানের আশায় মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে ভারতের তামিলনাড়ুতে প্রবেশ করেন। পরে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করার সময় স্থানীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। ভারতের আদালতের দেওয়া দুই বছরের কারাদণ্ড শেষ করার পর তাদের তামিলনাড়ুর আত্তুর, সালেম ও তিরুচিরাপল্লির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগের পর ভারত সরকার তাদের দেশে ফেরার জন্য বিশেষ ট্রাভেল পারমিট দেয়। বাংলাদেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় নেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ উইমেন ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন, রাইটস যশোর এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার তাদের দায়িত্ব নেয় এবং পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও দুই বছর বা তার বেশি সময় ভারতের কারাগারে থাকার পর কয়েক দফায় বাংলাদেশি নাগরিকদের বেনাপোল দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
জীবন বাঁচাতে ডোনারের হার্ড নিয়ে ২০ কিমি পথ ১৬ মিনিটে পাড়ি দিল পুলিশ!
সন্তান জন্মের পর মাকে নিজের কবর খুঁড়তে বাধ্য করে হত্যা! মৃত্যুর আগে করা হয় মাথা ন্যাড়া
কাঠমান্ডুর ঠামেলে সন্দেহজনক কার্যকলাপের অভিযোগে হোটেল থেকে ১০ বাংলাদেশি আটক
জার্মানির বাডেন-ভুর্টেমবার্গের ভিসলখ শহরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে মনোরোগ ক্লিনিক থেকে পালিয়ে ৩০ বছর বয়সী এক নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় সোমালি নাগরিক আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে ওঠা মামলায় আদালত তাকে মানসিক অসুস্থতার কারণে অপরাধের জন্য দায়ী নয় বলে বিবেচনা করেছে। ঘটনার পর তাকে আবারও ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিক চিকিৎসার আওতায় রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখনো ভেইনসবের্গের ক্লিনিকাম আম ভেইসেনহফে চিকিৎসাধীন। ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভিসলখের সাইকিয়াট্রিশেস জেন্ট্রুম নর্ডবাডেনের ফরেনসিক সাইকিয়াট্রি ইউনিট থেকে বের হওয়ার সময় আহমাদ এন. পালিয়ে যান। এর আগে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের মূল্যায়নে তার চিকিৎসায় অগ্রগতি হওয়ায় ধাপে ধাপে কিছুটা ছাড়ের আওতায় তিনি প্রতিষ্ঠানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। পালানোর পর তিনি শহরের একটি TEDi দোকানে যান। সেখানে ৩০ বছর বয়সী লিসা এস.-কে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় তাকে ৩৩ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। আহমাদ এন.-এর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। আদালতের নথি ও জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে যৌন হয়রানি, শারীরিক হামলা, হুমকি এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার মতো অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে হাইডেলবার্গের একটি আদালত মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে অপরাধের জন্য দায়ী না বলে বিবেচনা করে এবং নিরাপত্তামূলক মানসিক চিকিৎসার আওতায় রাখার নির্দেশ দেয়। তার অভিবাসন অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বাডেন-ভুর্টেমবার্গের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সাল থেকেই তার বিরুদ্ধে দেশ ছাড়ার নির্দেশ ছিল। তবে মানসিক চিকিৎসা ও আদালতের নির্দেশে তাকে জার্মানিতে রাখা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে কীভাবে এমন একজন ব্যক্তিকে ক্লিনিকের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং তার পালিয়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব ছিল কি না। চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়েও তখন রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইডেলবার্গের ল্যান্ড কোর্টে হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। প্রসিকিউশন পক্ষের বক্তব্য ছিল, আহমাদ এন. প্যারানয়েড স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত থাকায় ঘটনার সময় নিজের কাজের বেআইনি চরিত্র বুঝতে সক্ষম ছিলেন না। পরে তাকে শাস্তিমূলক কারাদণ্ডের পরিবর্তে মানসিক চিকিৎসা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে জার্মানির অভিবাসন ব্যবস্থা, মানসিকভাবে অসুস্থ অপরাধীদের ব্যবস্থাপনা এবং ফরেনসিক সাইকিয়াট্রিতে ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়ে সমালোচনা করা হয়। তবে রাজনৈতিক ব্যর্থতার অভিযোগগুলো মতামতভিত্তিক; এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায় বা অবহেলা নিয়ে পৃথকভাবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তদন্তের বিষয় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের যৌথ মহড়া শেষ হতেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলায় চীনা স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করেছে ইরান
কাজে এসে কাজ শেষেই ফিরতে হবে দেশে, রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য আসছে নতুন নিয়ম
নরওয়ের রাজপরিবারে নেমে এসেছে আরও এক দফা শোক। দেশটির প্রয়াত রাজা হ্যারাল্ডের বড় বোন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। শুক্রবার তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে নরওয়ের রাজপ্রাসাদ। রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের মাত্র দুই দিন পর রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যু হলো। গত বুধবার অসলোতে অনুষ্ঠিত ভাইয়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়াই ছিল তাঁর শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি। রাজপরিবারের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ জীবনে রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড উষ্ণতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজা হাকন অষ্টম তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং রাজপরিবারের জন্য তাঁর দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করেছেন। রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের ভাই রাজা হ্যারাল্ড গত ২৮ আগস্ট ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। তিন দশকেরও বেশি সময় নরওয়ের সিংহাসনে থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। ৯ সেপ্টেম্বর অসলোতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাজপরিবার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ভাইয়ের শেষকৃত্যে অ্যাস্ট্রিডকে রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা যায়। এরপর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তাঁর নিজের মৃত্যুর খবর আসে। রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড নরওয়ের রাজপরিবারে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনে তিনি রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজপ্রাসাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার সঙ্গে এসব দায়িত্ব পালন করেন তিনি। রাজা হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়ের সিংহাসনে বসেছেন তাঁর ছেলে হাকন অষ্টম। হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের মধ্য দিয়ে দেশটির রাজপরিবারে একটি দীর্ঘ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যু রাজপরিবারে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি করেছে। রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যে অসলো শহরের রাস্তায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তাঁর কফিন রাজপ্রাসাদ থেকে অসলো ক্যাথেড্রালে নেওয়ার সময় হাজারো মানুষ শ্রদ্ধা জানান। পরে তাঁকে আকর্শুস দুর্গের রাজকীয় সমাধিতে সমাহিত করা হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। সূত্র: রয়টার্স
মালদ্বীপে বাংলাদেশি বাবুলকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ ঘোষণা, তথ্য পেতে সহায়তা চায় কর্তৃপক্ষ
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় গিয়ে ২৬ বছর বয়সী যুবকের শরীরে মিলল জরায়ু, আতঙ্কে যুবক