খেলাধুলা

মরক্কো ম্যাচের আগে ব্রাজিল সমর্থকদের দখলে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ১৮:৪৯
সবুজ-হলুদ জার্সিতে নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ার। ছবি: সংগৃহীত
সবুজ-হলুদ জার্সিতে নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ার। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারকে পুরোপুরি নিজেদের রঙে রাঙিয়ে তুলেছেন হাজারো ব্রাজিল সমর্থক।

 

ব্রাজিল ও মরক্কোর মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ‘সি’ গ্রুপের এই ম্যাচটিকে সামনে রেখে সবুজ-হলুদ জার্সি পরা সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাসে পুরো এলাকায় এক অভাবনীয় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

 

বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি নির্বিঘ্ন করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকার কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় স্থানীয় পুলিশ।

 

ম্যাচের আগের দিন থেকেই টাইমস স্কয়ারে জড়ো হতে থাকা এই সমর্থকদের ঢাক-ঢোল, গান আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্রটি। ব্রাজিলের অতীত গৌরবের পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি তুলে ধরে নানা গান ও স্লোগানে মেতে ওঠেন তারা।

 

সেইসঙ্গে সমর্থকদের মেলে ধরা বিশাল আকৃতির জাতীয় পতাকায় পুরো চত্বর যেন সবুজ-হলুদের সমুদ্রে পরিণত হয়। পিছিয়ে ছিলেন না মরক্কোর সমর্থকেরাও; জাতীয় পতাকা হাতে তারাও নিজেদের সরব উপস্থিতি জানান দেন।

 

দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে প্রাণবন্ত স্লোগান বিনিময় ও খুনসুটি চললেও পুরো পরিবেশ ছিল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।

 

গ্রুপ পর্বের হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। তবে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগেই বড় এক দুঃসংবাদ পেয়েছে ব্রাজিল শিবির।

 

পায়ের পেশির চোটের কারণে দলের অন্যতম প্রধান তারকা নেইমারকে এই উদ্বোধনী ম্যাচে পাচ্ছে না সেলেসাওরা। দলটির প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন যে মরক্কোর বিপক্ষে এই ফরোয়ার্ড মাঠে নামতে পারবেন না।

 

অন্যদিকে, আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জয়ী এবং সবশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোও বেশ আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে। ফলে নেইমারবিহীন ব্রাজিলের সঙ্গে মরক্কোর এই লড়াইয়ে শুরু থেকেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা। মাঠের খেলা শুরুর আগেই নিউইয়র্কে সমর্থকদের এই উৎসবমুখর উপস্থিতি প্রমাণ করছে, বিশ্বকাপের উত্তাপ এখন তুঙ্গে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
ছবি: সংগৃহীত
ভিনিসিউসের ঝলকে হার এড়াল ব্রাজিল, মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় কোনোটিই দেখেনি ফুটবলপ্রেমীরা। মরক্কোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিল, তবে ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো দলই ব্যবধান গড়তে না পারায় ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।   ম্যাচের শুরুটা ছিল মরক্কোর দখলে। আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে তারা প্রথম থেকেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে দেখা যায় কিছুটা অগোছালো ছন্দে। প্রথম কয়েক মিনিটে খেলার বেশিরভাগ সময়ই বল ছিল ব্রাজিলের অর্ধে।   ষষ্ঠ মিনিটেই প্রথম সুযোগ তৈরি করে মরক্কো। নাইল এল আইনাউইয়ের শট শেষ মুহূর্তে বাধা দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। ১২তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পান ইগোর থিয়াগো। তবে ভিনিসিউস জুনিয়রের দারুণ ক্রস থেকে পাওয়া হেডটি লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি।   সুযোগ নষ্টের মাশুল গুনতে হয় ব্রাজিলকে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে ব্রাহিম দিয়াসের চমৎকার থ্রু বল ধরে দৌড়ে যান ইসমায়েল সাইবারি। গোলরক্ষক আলিসন ডি-বক্সের বাইরে চলে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত চিপ শটে বল জালে পাঠান পিএসভি আইন্দহোভেনের এই ফরোয়ার্ড।   বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই গোলের দেখা পান ২৫ বছর বয়সী সাইবারি। তার গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও অনেকটা নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মরক্কো। তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি ব্রাজিলকে। ৩২তম মিনিটে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৫০তম ম্যাচ খেলতে নামা ভিনিসিউস জুনিয়র অসাধারণ এক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতায় ফেরান দলকে। ব্রুনো গিমারেসের পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো শটে গোল করেন রেয়াল মাদ্রিদ তারকা।   জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল ভিনিসিউসের দশম গোল এবং বিশ্বকাপ মঞ্চে দ্বিতীয়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাওয়া এই গোল ব্রাজিলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। প্রথমার্ধের শেষদিকে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় ব্রাজিল। লুকাস পাকেতার দুর্দান্ত ভলি শট কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো। প্রথমার্ধে গোলের জন্য নেওয়া শটের সংখ্যায় স্পষ্ট এগিয়ে ছিল মরক্কো। তারা ১২টি শট নেয়, যেখানে ব্রাজিলের শট ছিল ছয়টি। তবে উভয় দলই লক্ষ্যে রাখতে পারে দুটি করে শট।   বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলানোর প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে দুই দলই অনেক বেশি সতর্ক ফুটবল খেলে। ফলে খেলার গতি কমে যায় এবং আক্রমণভাগে ধারও দেখা যায়নি তেমন। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল বেশি আক্রমণ করলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বারবার ভুল পাস ও শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তহীনতায় নষ্ট হয়েছে সম্ভাবনাময় আক্রমণ।   ৭৯তম মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগটি পান রাফিনিয়া। ভিনিসিউসের পাস থেকে ডি-বক্সে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়েও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি বার্সেলোনা তারকা। তার দুর্বল শট সহজেই সামলে নেন বোনো। কিছুক্ষণ পর মরক্কোর ডিফেন্ডার ইসা দিওপের ভুল ব্যাকপাস থেকে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হলেও দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন বোনো।   যোগ করা সময়ের শেষদিকে নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয় ব্রাজিলের বক্সে। প্রতিপক্ষের একটি শট প্রথমে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি আলিসন। ফিরতি বলে শট নেন আইনাউই। তবে দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় আবারও বল আটকে দিয়ে সম্ভাব্য বিপদ থেকে দলকে রক্ষা করেন লিভারপুলের এই গোলরক্ষক। ম্যাচ শেষে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে জয় না পেলেও হার এড়ানোয় কিছুটা স্বস্তি পাবে ব্রাজিল। অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে মরক্কো।   পরিসংখ্যানের একটি দিকও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ম্যাচের দুই গোলদাতা ইসমায়েল সাইবারি ও ভিনিসিউস জুনিয়র জাতীয় দলের হয়ে যেসব ম্যাচে গোল করেছেন, সেসব ম্যাচে তাদের দল কখনও হারেনি। নিউ জার্সির এই ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকল। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী শনিবার হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। একই দিনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে মরক্কো। দুই দলের জন্যই পরের ম্যাচগুলো গ্রুপের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ২০:৪৭
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচের প্রথমার্ধ ১-১ গোলে সমতা

সবুজ-হলুদ জার্সিতে নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ার। ছবি: সংগৃহীত

মরক্কো ম্যাচের আগে ব্রাজিল সমর্থকদের দখলে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার

ছবিঃ এ পি

লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: দীপু মালাকার
ফেসবুকে বিশ্বকাপ উন্মাদনা: ‘মৌসুমি ফ্যান’ বনাম ‘আসল ফ্যান’ বিতর্কে জমজমাট সামাজিক মাধ্যম

ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই সামাজিক মাধ্যম সরব হয়ে ওঠে নতুন এক বিতর্কে—“মৌসুমি ফ্যান বনাম আসল ফ্যান”। দলীয় সমর্থনের চিরন্তন দ্বন্দ্বের বাইরে এই অনলাইন লড়াই এখন চার বছর পরপর ফিরে আসা এক সাংস্কৃতিক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।   বিশ্বকাপ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ফেসবুক, এক্সসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় পোস্ট, স্ট্যাটাস ও মিমের ঝড়। কেউ প্রিয় দল ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি বা ফ্রান্সের জার্সি পরে প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করেন, কেউ আবার শুরু করেন ম্যাচ বিশ্লেষণ। চায়ের আড্ডা থেকে ফেসবুক টাইমলাইন—সব জায়গায় ফুটবলই হয়ে ওঠে প্রধান আলোচ্য বিষয়।   এই সময়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে “আসল ফ্যান” বনাম “মৌসুমি ফ্যান” বিতর্ক। আত্মস্বীকৃত “আসল ফ্যান”দের মতে, তারা সারা বছর ফুটবল অনুসরণ করেন ক্লাব ফুটবল, ট্রান্সফার, ট্যাকটিকস থেকে শুরু করে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যন্ত সবকিছু তাদের নখদর্পণে থাকে। তাদের কাছে ফুটবল কেবল খেলা নয়, বরং বিশ্লেষণের একটি ক্ষেত্র।   অন্যদিকে বিশ্বকাপ এলেই হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে ওঠা “মৌসুমি ফ্যান”দের নিয়ে রয়েছে নানা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ। অভিযোগ করা হয়, তারা বড় টুর্নামেন্ট ছাড়া সাধারণত ফুটবলে আগ্রহ দেখান না, কিন্তু বিশ্বকাপ এলেই প্রিয় দল বেছে নিয়ে আবেগী সমর্থক হয়ে ওঠেন এবং ম্যাচ প্রেডিকশন থেকে শুরু করে তর্ক-বিতর্কে সক্রিয় থাকেন।   এই দুই পক্ষের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে চলে পোস্ট-পাল্টাপোস্ট, মন্তব্য আর মিমের প্রতিযোগিতা। কেউ কেউ ফুটবল বোঝার মানদণ্ড হিসেবে ট্যাকটিকস, ফরমেশন বা অফসাইড রুল নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক আলোচনা করেন, আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন ফুটবল উপভোগ করতে কি সারাবছর খেলা দেখা বাধ্যতামূলক?   ফেসবুকে এ নিয়ে রসিকতা ও ব্যঙ্গও কম নয়। কেউ কেউ “মৌসুমি ফ্যান শনাক্তের কৌশল” বা কাল্পনিক নিয়ম-কানুন তৈরি করে পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়। এসব পোস্টের মাধ্যমে ফুটবল নিয়ে এক ধরনের অনলাইন সাংস্কৃতিক হাস্যরসও তৈরি হয়।   তবে এই বিতর্কের বিপরীতে অনেকেই মনে করেন, “মৌসুমি ফ্যান” হওয়া কোনো নেতিবাচক বিষয় নয়। জীবনের ব্যস্ততা ও আগ্রহ ভিন্ন হওয়ায় সবাই সারাবছর ফুটবল অনুসরণ করতে পারেন না। বড় টুর্নামেন্টের সময় প্রিয় দলকে সমর্থন করাও এক ধরনের আবেগ ও আনন্দের অংশ।   বিশ্বকাপের আসল আকর্ষণ সম্ভবত এখানেই ভিন্ন ভিন্ন আগ্রহের মানুষ একসঙ্গে একই আবেগে যুক্ত হন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হলে যেমন অভিজ্ঞ ফ্যান আবেগে ভেসে যান, তেমনি চার বছর পর খেলা দেখা দর্শকও একইভাবে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ১৬:৩৬
ম্যাচের পর দর্শকের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের | ছবি: এএফপি

ম্যাচ শুরুর আগে ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমে যা ঘটে, রহস্য ফাঁস করলেন সহকারী কোচ

মরক্কো ফুটবল দল | ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলের সাথে খেলার আগেই মরক্কো দলে বড় ধাক্কা, চোটের কারণে ২ খেলোয়াড় বাদ

ছবি: সংগৃহীত

নেইমারকে ছাড়াই মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নামছে ব্রাজিল, নিশ্চিত করলেন আনচেলত্তি

ছবি: সংগৃহীত
আবার ফাইনালে দেখা হলে আর্জেন্টিনাকে হারাব: এমবাপের হুঁশিয়ারি

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালকে আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেও শিরোপার স্বাদ পাননি ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। টাইব্রেকারের নাটকীয়তায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। চার বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপের আসর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে সম্ভাব্য আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনাল।   সেই সম্ভাবনার মধ্যেই আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছেন Kylian Mbappé। ফরাসি অধিনায়ক জানিয়েছেন, আবারও যদি বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে ফ্রান্স জয়ের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামবে। ইতালীয় সাংবাদিক Fabrizio Romanoর এক প্রশ্নের জবাবে এমবাপে বলেন, ফ্রান্স সবসময় জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলে এবং দলটি এখনো সেই একই মানসিকতা ধরে রেখেছে। তার ভাষায়, তারা ক্ষুধার্ত, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। ফরাসি এই তারকা বলেন, "আমরা সবসময় যেমন থাকি, তেমনি জয়ের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও ক্ষুধার্ত থাকব।"   শুধু ভালো ফল নয়, পুরো টুর্নামেন্ট জয়ের লক্ষ্য নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে ফ্রান্স। এমবাপের মতে, তাদের সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং নতুন ইতিহাস লেখা। তিনি বলেন, "আমরা ইতিহাস গড়তে এসেছি। এখনও সেটা করতে পারিনি। আমরা এই বিশ্বকাপ জিততে চাই।"   বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে এবারও টুর্নামেন্ট শুরু করেছে France national football team। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন Argentina national football teamও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। ফলে দুই দলের সম্ভাব্য আরেকটি ফাইনাল নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।   ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে এমবাপের হ্যাটট্রিকও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে শিরোপা এনে দিতে পারেনি। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ৩-৩ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে Lionel Messi এবং এমবাপের পারফরম্যান্স ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দ্বৈরথ হিসেবে বিবেচিত হয়।   আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের বিশ্বকাপ লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্স ৪-৩ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিদায় করেছিল। সেই ম্যাচে তরুণ এমবাপের অসাধারণ পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিল। চার বছর পর কাতারের ফাইনালে সেই পরাজয়ের জবাব দেয় আর্জেন্টিনা।   দুই তারকার মধ্যে বিশ্বকাপের গোলসংখ্যা নিয়েও চলছে আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা। মেসির বিশ্বকাপ গোল বর্তমানে ১৩টি। সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা Miroslav Kloseর ১৬ গোলের রেকর্ড ভাঙতে তার প্রয়োজন আরও চারটি গোল। অন্যদিকে মাত্র দুটি বিশ্বকাপ খেলেই এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২-তে। রেকর্ড স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আরও পাঁচ গোল।   টুর্নামেন্টের নকআউট সূচি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স নিজ নিজ গ্রুপ থেকে পরবর্তী পর্বে উঠতে পারলে তারা ভিন্ন অংশে অবস্থান করবে। ফলে শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ নেই। দুই দলের দেখা হতে পারে শুধুমাত্র ফাইনালে।   সেই কারণে ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এখন থেকেই আরেকটি আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনালের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। আর যদি সত্যিই সেই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ২০২২ সালের ঐতিহাসিক ফাইনালের নতুন অধ্যায় দেখার সুযোগ পাবে বিশ্ব ফুটবল।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৪:৪৫
ছবি: সংগৃহীত

ভিনিসিয়ুসকে থামানোর ঘোষণা হাকিমির, ব্রাজিলকে ফেভারিট মানছেন না মরক্কো অধিনায়ক

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইংল্যান্ড শিবিরে অস্বস্তি, চুরি হলো ট্রেনিং সরঞ্জাম

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা, নজর কাড়লেন সঞ্জয় দেব

0 Comments