আইফোন ও ম্যাক আর কিনতে হবে না, ভাড়ার সুবিধা আনছে অ্যাপল
প্রযুক্তি পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় গ্রাহকদের জন্য নতুন ধরনের লিজ বা দীর্ঘমেয়াদি ভাড়ার সুবিধা চালু করেছে অ্যাপল। নতুন এই কর্মসূচির আওতায় গ্রাহকেরা এককালীন বড় অর্থ খরচ না করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আইফোন, ম্যাকসহ অ্যাপলের বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি মঙ্গলবার ‘অ্যাপল আপগ্রেড’ নামে নতুন এই সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ক্লার্নার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে চালু হওয়া এই সুবিধা শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল স্টোর, অনলাইন স্টোর এবং অ্যাপল স্টোর অ্যাপে পাওয়া যাবে।
নতুন পরিকল্পনায় আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ ১২ অথবা ২৪ মাসের জন্য লিজ নেওয়া যাবে। অন্যদিকে ম্যাক ও আইপ্যাডের ক্ষেত্রে লিজের মেয়াদ হবে ২৪ থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, আইফোন লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম মাসিক কিস্তি শুরু হবে ১৭ দশমিক ৯৯ ডলার থেকে।
এই কর্মসূচিতে আইফোন ১৭ সিরিজ, আইফোন এয়ার, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১১, অ্যাপল ওয়াচ আলট্রা ৩, ম্যাকবুক এয়ার, ম্যাকবুক প্রো, আইম্যাক, ম্যাক স্টুডিও, আইপ্যাড এয়ার, আইপ্যাড প্রো এবং আইপ্যাড মিনি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে তুলনামূলক কম দামের কিছু পণ্য যেমন আইফোন ১৬, ম্যাকবুক নিও, বেস আইপ্যাড এবং অ্যাপল ওয়াচ এসই এই লিজ সুবিধার আওতায় থাকছে না।
অ্যাপলের নতুন এই পরিকল্পনা আগের ‘আইফোন আপগ্রেড প্রোগ্রাম’-এর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অ্যাপল পণ্যকে এককালীন বড় কেনাকাটার পরিবর্তে নিয়মিত সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়তে পারে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশনের বিশ্লেষক ফ্রান্সিসকো জেরোনিমো বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা গ্রাহকদের জন্য প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহারের ধরন পরিবর্তন করতে পারে। অনেক ব্যবহারকারী এখন আগের তুলনায় বেশি সময় একই ফোন ব্যবহার করছেন। ফলে প্রতি বছর নতুন ডিভাইস কেনার প্রবণতা কমেছে।
অন্যদিকে, প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ায় মেমোরি চিপের বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব ভবিষ্যতের আইফোনের দামের ওপর পড়তে পারে।
টেক ইনসাইটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক হাওয়ার্ডের মতে, ভবিষ্যতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ ডলারের পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ ডলারের স্মার্টফোনের বাজার তৈরি হতে পারে।
সেপ্টেম্বরে নতুন আইফোন উন্মোচনের আগে অ্যাপলের এই লিজ কর্মসূচি চালুর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বাজারে গুঞ্জন রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা আগের মডেলগুলোর তুলনায় আরও ব্যয়বহুল হতে পারে।
দাম বাড়লে অনেক গ্রাহক নতুন ডিভাইস কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন। তাই গ্রাহকদের নিয়মিত নতুন পণ্য ব্যবহারের সুযোগ ধরে রাখতে অ্যাপলের লিজ পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অভাবনীয় প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে এবার সংঘবদ্ধ অপরাধীদের নজর পড়েছে এর মূল্যবান সরঞ্জামের ওপর। অভিনব ডিজিটাল প্রতারণা ও হলিউড অ্যাকশন সিনেমার মতো দুঃসাহসিক কায়দায় ডেটা সেন্টার নির্মাণের মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট করছে চোরেরা। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত ১০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের এআই সরঞ্জাম চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া এসব মূল্যবান পণ্যের মধ্যে রয়েছে দামি সেমিকন্ডাক্টর চিপ, ফাইবার অপটিক ক্যাবল, সার্ভার, তামার তার এবং বিটকয়েন মাইনিং মেশিন। এআই প্রযুক্তির পেছনে বিভিন্ন কোম্পানি যখন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দ্রুত ডেটা সেন্টার নির্মাণের কাজ করছে, ঠিক তখনই এমন চুরির হিড়িক পড়েছে। কার্গো চুরি ঝুঁকি মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক কার্গোনেটের প্রধান কিথ লুইস এই পরিস্থিতিকে 'খাঁটি সোনার বার চুরির' সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, ব্যাংক ডাকাতির চেয়ে এসব যন্ত্রাংশ চুরি করা অপরাধীদের কাছে এখন অনেক সহজ। ২০২৫ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস এবং উটাহর মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে অন্তত দুই ডজন কার্গো চুরির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। চুরির কৌশল হিসেবে অপরাধীরা ফ্রেইট ব্রোকারদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করছে এবং ম্যালওয়্যার লিংকের মাধ্যমে বৈধ শিপিং কোম্পানিগুলোর সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। এরপর ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পরিচয়ে নিজেদের লোকদের নিয়োগ দিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে পণ্য গায়েব করে দিচ্ছে। নজরদারি এড়াতে জিপিএস লোকেশন বা ট্র্যাকিং স্থানাঙ্ক পরিবর্তন করে দেওয়ার মতো অত্যাধুনিক সাইবার কৌশলও ব্যবহার করছে তারা। ইলিনয়েসের কুক কাউন্টিতে এভাবেই প্রায় তিন লাখ ডলারের তামার তার এবং ১০ লাখ ডলারের ডেটা সেন্টার সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে চুরির ধরন শুধু সাইবার জগতেই সীমাবদ্ধ নেই, পথে পাহারারত নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর সরাসরি হামলার ঘটনাও ঘটছে। জর্জিয়ার একটি বিশাল ডেটা সেন্টারের জন্য নিয়ে যাওয়া ১৩ মিলিয়ন (১ কোটি ৩০ লাখ) ডলারের সার্ভার সরঞ্জাম পাহারায় থাকা দুই পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িতে একটি নম্বরপ্লেটবিহীন গাড়ি দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা মারে অপরাধীরা। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির সাবেক শেরিফ ডেপুটি ও বর্তমান প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর জেরার্ডো পাচুকা নিশ্চিত করেছেন যে, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না; বরং কার্গো ছিনতাইয়ের জন্যই পরিকল্পিতভাবে ওই হামলা চালানো হয়। একইভাবে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসগামী প্রায় ১ কোটি ডলার মূল্যের সার্ভার র্যাক বহনকারী একটি কনভয়ের নিরাপত্তা গাড়িতেও ধাক্কা দিয়ে মালামাল লুট করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুরি করা এসব বিশাল যন্ত্রাংশ পরবর্তীতে খুলে 'গ্রে মার্কেট' বা অবৈধ বাজারে সস্তায় বিভিন্ন টেক কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এসব মূল্যবান মার্কিন প্রযুক্তির একটি বড় অংশ পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে, বিশেষ করে চীনে। ক্রমবর্ধমান এই চুরি ঠেকাতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বিশেষ টাস্কফোর্স নড়েচড়ে বসেছে এবং সাপ্লাই চেইনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চালকদের পটভূমি যাচাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে।
মেক্সিকো উপকূলে নৌকাডুবি, উত্তাল সাগরে একাই ১৬ জনের প্রাণ বাঁচালেন মার্কিন কোস্টগার্ড সাঁতারু
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনতে চান? জানুন পিটিশন, যোগ্যতা ও আবেদনের ধাপ
যুক্তরাষ্ট্রে মিলি মুন ডায়াপার নিয়ে শত শত অভিযোগ, শিশুদের ত্বকে র্যাশ ও র ক্তপাতের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবৈধভাবে চেক ক্যাশিং বা চেক ভাঙানোর সেবা প্রদানের অভিযোগে সুয়ে ফাং চেং (৫৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৩ অক্টোবর ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার পর আজ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই নারী তাঁর ব্যবসার আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ বেআইনি অর্থ স্থানান্তরের চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, সুয়ে ফাং চেং নিউইয়র্কে একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরের মালিক। তিনি তাঁর এই স্টোরের মাধ্যমে কমপক্ষে তিন ব্যক্তিকে লাইসেন্সবিহীন চেক ক্যাশিং সুবিধা দিতেন, যাঁদের মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্কদের ডে-কেয়ার সেন্টারের মালিক এবং অপরজন ছদ্মবেশী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী এজেন্ট ছিলেন। চেং বিভিন্ন কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চেক জমা করার নির্দেশ দিতেন এবং এর বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ শতাংশ ফি রেখে নগদ অর্থ সরবরাহ করতেন। তিনি টেক্সট ও অডিও বার্তার মাধ্যমে এসব বেআইনি লেনদেনের হিসাব রাখতেন। এমনকি ছদ্মবেশী ওই এজেন্টকে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন যে কাজটি 'অত্যন্ত বিপজ্জনক', তবে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদে এটি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা উচিত। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত চেং তাঁর গ্রাহকদের প্রায় ১১ লাখ ডলারের বেশি নগদ অর্থ সরবরাহ করেছেন। এই অভিযানের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রায় ৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলার বাজেয়াপ্ত করেছে। লাইসেন্সবিহীন অর্থ স্থানান্তরের ব্যবসা পরিচালনার ষড়যন্ত্রের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে এই নারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। মার্কিন বিচার বিভাগের ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন, এইচএইচএস-ওআইজি, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) নিউইয়র্ক এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। উল্লেখ্য, ফেডারেল সুবিধাগুলোতে জালিয়াতি ও অপব্যবহার রোধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্সের নেতৃত্বে গঠিত 'টাস্কফোর্স টু এলিমিনেট ফ্রড'-এর দেশব্যাপী জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ফ্লোরিডায় ৩ বছরের শিশুর গোলের পর গোল, প্রতিভা সহ্য করতে না পেরে পুলিশ ডাকলেন লিগ কর্মকর্তারা
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে সুপ্রিম কোর্টের সমর্থন, ক্ষমতা হারালেন অভিবাসন বিচারকেরা
নিউইয়র্কে আইসিইর তল্লাশি নিয়ে স্প্যানিশ ভাষায় ভিডিও, মামদানির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ রিপাবলিকানরা
নিউইয়র্কে বসবাসের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ভাড়াটিয়া ও বাড়ি কেনার স্বপ্ন দেখা পরিবারগুলো। শহরটিতে বাসাভাড়া নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, একটি মধ্যম দামের বাড়ি কিনতে মাসে যে অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা ভাড়া থাকার খরচের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। ফলে কর্মজীবী মানুষ, নতুন অভিবাসী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য আবাসন ব্যয় বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত Realtor.com-এর ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে বিজ্ঞাপিত বাসাভাড়ার মধ্যম মূল্য মাসে ৩ হাজার ৭৮৫ ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভাড়া বেড়েছে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এই ভাড়া ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ, কয়েক বছর আগের তুলনায় একই ধরনের বাসায় থাকার জন্য এখন পরিবারগুলোকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরটিতে মধ্যম দামের একটি বাড়ি কেনার আনুমানিক মাসিক ব্যয় ১০ হাজার ৭৩৭ ডলার। ভাড়া থাকার মধ্যম ব্যয়ের তুলনায় এটি মাসে ৬ হাজার ৯৫২ ডলার বেশি। বাড়ি কেনার এই হিসাবের মধ্যে বন্ধকী ঋণের কিস্তি, সম্পত্তির কর, বিমা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হিসাবটি করা হয়েছে বাড়ির দামের ১০ শতাংশ অগ্রিম পরিশোধ এবং ৩০ বছরের ঋণের অনুমান ধরে। প্রকৃত ব্যয় বাড়ির ধরন, ঋণের সুদের হার ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়ার পরিমাণেও বড় পার্থক্য রয়েছে। ম্যানহাটনে মাসিক মধ্যম ভাড়া ৫ হাজার ৩৭৫ ডলার, ব্রুকলিনে ৪ হাজার ১৯৭ ডলার, কুইন্সে ৩ হাজার ৭৪৪ ডলার এবং ব্রঙ্কসে ৩ হাজার ২৩৩ ডলার। ম্যানহাটনে আগের বছরের তুলনায় ভাড়া বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এসব পরিসংখ্যান দেখায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসের ব্যয় নির্ধারণে অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভাড়ার এই চাপের প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশি প্রবাসী পরিবারগুলোর ওপরও। অনেক পরিবারকে বাসাভাড়ার পাশাপাশি খাবার, যাতায়াত, শিশুদের দেখাশোনা, স্বাস্থ্যবিমা এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলাতে হয়। মাসিক আয়ের বড় অংশ বাসাভাড়ায় চলে গেলে সঞ্চয় করা, দেশে স্বজনদের কাছে অর্থ পাঠানো কিংবা ভবিষ্যতে বাড়ি কেনার জন্য অর্থ জমা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী ও একক আয়ের পরিবারগুলোকে বাসা নির্বাচনের সময় আয়, কর্মস্থলের দূরত্ব এবং যাতায়াত ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়। তুলনামূলক কম ভাড়ার এলাকায় বাসা পাওয়া গেলেও কর্মস্থলে যাতায়াতের খরচ ও সময় বেড়ে যেতে পারে। আবার কর্মস্থল বা সন্তানের বিদ্যালয়ের কাছাকাছি থাকতে চাইলে বেশি ভাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। প্রতিবেদনে নিউইয়র্কে বাড়ির বিজ্ঞাপিত মধ্যম দাম প্রায় ১৪ লাখ ৯ হাজার ৭৯২ ডলার বলা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কম। তবে বাড়ির দাম কিছুটা কমলেও ঋণের সুদ, কর ও বিমার ব্যয়ের কারণে বাড়ির মালিক হওয়া সহজ হয়ে যায়নি। ঋণের সুদের হার ৭ শতাংশের ওপরে গেলে একই বাড়ির আনুমানিক মাসিক ব্যয় প্রায় ১১ হাজার ৮ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবাসন ব্যয় সামলাতে সম্ভাব্য ভাড়াটিয়াদের জন্য চুক্তির আগে মাসিক ভাড়া, জামানত, বিদ্যুৎ-গ্যাসের খরচ এবং যাতায়াত ব্যয় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ি কেনার পরিকল্পনা থাকলে অগ্রিম অর্থের পাশাপাশি ঋণের কিস্তি, সম্পত্তির কর, বিমা এবং জরুরি মেরামতের খরচও হিসাব করা প্রয়োজন।
নিউইয়র্কে বাসযাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরালের পর স্থগিত ভাড়া পরিদর্শকদের কার্যক্রম
রোবট নিয়োগ দাও, মানুষকে চাকরি থেকে বাদ দাও, তারপর আর পেছনে তাকানোর প্রয়োজন নেই: বিল গেটস