সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ড্রোন

তীব্র ঠান্ডায় জমে যাওয়া পা কেটে ৪৯১ দিন যু দ্ধক্ষেত্রে লড়াই, অবশেষে ড্রোনে উদ্ধার ইউক্রেনীয় সেনা
তীব্র ঠান্ডায় জমে যাওয়া পা কেটে ৪৯১ দিন যু দ্ধক্ষেত্রে লড়াই, অবশেষে ড্রোনে উদ্ধার ইউক্রেনীয় সেনা

ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে বেঁচে থাকার অদম্য এক অবিশ্বাস্য গল্পের জন্ম দিয়েছেন ৪৯ বছর বয়সী ইউক্রেনীয় সেনা কনস্টান্টিন ভ্লাসেনকো। খারকিভ অঞ্চলের কুপিয়ানস্ক ফ্রন্টলাইনে রুশ বাহিনীর তীব্র হামলার মুখে টানা ৪৯১ দিন অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি। এই দীর্ঘ সময়ে তীব্র ঠান্ডায় ফ্রস্টবাইটে তার বাঁ পা পচে খসে যায় এবং ডান পা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিজেই একটি সাধারণ ছুরি দিয়ে সেটি কেটে ফেলতে বাধ্য হন এই লড়াকু সেনা।   ভ্লাসেনকো ইউক্রেনের ৩০তম সেপারেট মেকানাইজড ব্রিগেডে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের জুনে ‘বাস্কি’ নামের আরেক সহযোদ্ধাকে নিয়ে একটি পরিত্যক্ত স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১৬ ফেব্রুয়ারি এক রুশ ড্রোন হামলায় বাস্কি তার ৫০তম জন্মদিনে নিহত হন এবং ভ্লাসেনকোর পা মারাত্মক জখম হয়।   এরপর থেকে রুশ ড্রোন হামলা থেকে বাঁচতে তিনি একটি পুরোনো ঢালাই লোহার চুল্লির ভেতরে টানা আট মাস একাকী লুকিয়ে ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে ইউক্রেনীয় ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে ফেলা খাবার, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী দিয়ে তিনি বেঁচে ছিলেন। এমনকি ড্রোনের মাধ্যমে তার স্ত্রী সারভাইভাল প্যাকেজের সঙ্গে স্টিফেন কিংয়ের একটি উপন্যাসও পাঠিয়েছিলেন।   রুশ বাহিনী স্পিকারের মাধ্যমে তাকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দিলেও তিনি তা বীরদর্পে প্রত্যাখ্যান করেন। অবশেষে গত ৪ অক্টোবর একটি পরিবর্তিত ভারী হেক্সাকপ্টার ড্রোনের সাহায্যে তাকে উদ্ধার করা হয়। ড্রোনটি তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে ১১ মাইল (১৮ কিলোমিটার) দূরে উড়িয়ে নিয়ে যায়। গ্যাংগ্রিন ও ফ্রস্টবাইটে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও ভ্লাসেনকো সফলভাবে নিজেকে ড্রোনের সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি খারকিভের একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার কৃত্রিম পা সংযোজনের প্রস্তুতি চলছে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮১ সামরিক বিমান ধ্বংস, ক্ষয়ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলারের বেশি

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-১৫ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং বিপুলসংখ্যক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   গত সোমবার (৫ অক্টোবর) হালনাগাদ করা এই প্রতিবেদনের তথ্য বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো বিমান ও ড্রোনের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।   সিআরএস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড, প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন বহরে। ইরানের সঙ্গে সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহৃত এই ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি।   গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অন্তত ৪৫টি রিপার ড্রোন হারানোর তথ্য সামনে আসে। নতুন কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে সেই সংখ্যাই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   শুধু রিপার ড্রোন নয়, ইরানের সামরিক অভিযানে আরও তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন হারানোর তথ্যও রয়েছে। এর মধ্যে এমকিউ-৪সি ট্রাইটন দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মানবচালিত যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কথা জানিয়েছে সিআরএস।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আটটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবারও ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে।   গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের মিত্রবাহিনীর ভুলবশত গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এ ধরনের ঘটনাকে সামরিক পরিভাষায় ফ্রেন্ডলি ফায়ার বলা হয়।   এরপর ৫ এপ্রিল ইরানের আকাশে আরও একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয় বলে জানিয়েছিল ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড।   অন্যদিকে গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফফাক সালটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেগুলো মেরামত করে আবারও সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।   মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমানও ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে। গত ১৯ মার্চ ইরানের আকাশে ভূমি থেকে চালানো হামলায় একটি এফ-৩৫এ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।   এফ-৩৫ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতার কারণে এই যুদ্ধবিমান মার্কিন সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।   এছাড়া দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ৬ এপ্রিল শত্রুপক্ষের হামলায় একটি এ-১০ বিধ্বস্ত হয় বলে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছিলেন। অন্যটি সেপ্টেম্বরে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।   আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার বিমানগুলোরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে।   কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে সাতটি কেসি-১৩৫ বিমানের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য রয়েছে। গত ১২ মার্চ ইরাকে দুটি কেসি-১৩৫ বিমান একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি বিধ্বস্ত হয়ে ছয় মার্কিন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়। অন্য বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।   এর দুই দিন পর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চের শেষ দিকে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় বিমানটি ক্ষতির মুখে পড়ে। পরবর্তী প্রতিবেদনে বিমানটিতে সরাসরি আঘাত লাগার তথ্যও উঠে আসে।   সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   সিআরএসের হিসাবে, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টার, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, একটি এমএইচ-৬০ সি হক এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   এছাড়া বিশেষ সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু বিমানও ধ্বংস হওয়ার তথ্য রয়েছে। এপ্রিল মাসে ইরানে ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুদের উদ্ধারের অভিযানের সময় বিমান দুটি ধ্বংস করা হয়েছিল।   তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ৮১টি বিমান ও ড্রোনের সবই ইরানের সরাসরি হামলায় ধ্বংস হয়নি। এর মধ্যে কিছু বিমান শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু বিধ্বস্ত হয়েছে দুর্ঘটনায়, আবার কিছু মিত্রবাহিনীর ভুলবশত হামলার শিকার হয়েছে। কয়েকটি বিমান উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সময় মার্কিন বাহিনী নিজেরাই ধ্বংস করেছে।   একইভাবে ৮১টি বিমানই স্থায়ীভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে, এমন তথ্যও প্রতিবেদনে বলা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বিমান ইতোমধ্যে মেরামত করে সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের নাম দেয় অপারেশন এপিক ফিউরি।   মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মধ্য দিয়ে সংঘাত বিস্তৃত হয়। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির পর সামরিক তৎপরতা কিছুটা কমলেও পরবর্তী সময়ে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে।   এই দীর্ঘ সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রতিস্থাপন ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবে, ১ আগস্ট পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির পরিমাণ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে।   তবে এই হিসাব শুধু বিমান ও ড্রোনের ক্ষতির জন্য নয়। এতে যুদ্ধের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ৮১টি বিমানের ক্ষতির আর্থিক মূল্য এককভাবে ৩৩০ কোটি ডলার বলে ধরে নেওয়া যাবে না।   কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস সতর্ক করেছে, যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু সামরিক তথ্য গোপনীয় হওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণও কঠিন।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে মার্কিন কংগ্রেসকে সামরিক বাজেট, নতুন বিমান কেনা, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম মেরামত এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে হতে পারে।   বিশেষ করে ই-৩ সেন্ট্রির মতো পুরোনো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঞ্চলের সামরিক প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।   একই সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত নতুন বিমান ও ড্রোন সরবরাহ করতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। উৎপাদন সক্ষমতা, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক চাহিদার কারণে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।   মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শুধু কতগুলো বিমান ধ্বংস হয়েছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সামরিক গুরুত্ব, প্রতিস্থাপন ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ অভিযানের সক্ষমতার ওপর এর প্রভাবও বিবেচনা করতে হয়।   সর্বশেষ কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ড্রোন বহর উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির কতটা স্থায়ী এবং ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে কত ব্যয় হবে, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রয়োজন।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
ইউক্রেনে যু দ্ধ পরিচালনা নিয়ে পুতিনের নতুন নির্দেশের দাবি, বাড়ছে উদ্বেগ
রুশ সেনাদের যু দ্ধ পরিচালনায় কোনো নিয়মকানুন না মানার নির্দেশ পুতিনের

ইউক্রেনে যু দ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে আগের নিয়মকানুন না মানার নির্দেশ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার দাবি, ইউক্রেনে আরও ভূখণ্ড দ খ লের লক্ষ্যেই রুশ সামরিক কর্মকর্তাদের এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   এদিকে বেলারুশ থেকে একটি সন্দেহজনক ড্রোন লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশের আশঙ্কায় দেশটির ভিলনিয়াস বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ন্যা টোর যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠানো হয়েছে।   লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার বেলারুশের দিক থেকে একটি সন্দেহজনক ড্রোন দেশটির দিকে উড়ে আসার খবর পাওয়ার পর ভিলনিয়াস বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়। একই সময়ে ভিলনিয়াস অঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন হলে আ শ্র য় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।   এই ঘটনা ইউক্রেন-রাশিয়া যু দ্ধকে ঘিরে ইউরোপের পূর্বাঞ্চলে বাড়তে থাকা উদ্বেগের নতুন উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ড্রোনের অনুপ্রবেশ নিয়ে ন্যা টো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সতর্কতা বেড়েছে।   জেলেনস্কি বলেছেন, গত মাসে পুতিন তার জেনারেলদের ইউক্রেনে যু দ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে আগের নিয়মকানুন না মানার নির্দেশ দেন। এই দাবির পক্ষে তিনি ক্রেমলিন কর্মকর্তাদের কথোপকথন থেকে পাওয়া গো য়ে ন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করেছেন।   জেলেনস্কির দাবি, ওই নির্দেশের পর ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর রাশিয়ার আ কা শ হা ম লা আরও বেড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আ কা শ হা ম লার লক্ষ্য হিসেবে তথ্যকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো, রেলপথ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, স্কুল ও হাসপাতালের মতো স্থাপনার কথাও উঠে এসেছে।   তবে রাশিয়া বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হা ম লা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। মস্কোর বক্তব্য, তাদের আ কা শ হা ম লার লক্ষ্য সামরিক বা সামরিক-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও অবকাঠামো।   এদিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতেও ধারাবাহিক ড্রোন আ ক্র ম ণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্যস্ত সময়ে একটি ড্রোন সেতুটিতে আ ঘা ত হা নে। এতে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক যানজট তৈরি হয় এবং যান চলাচলে দীর্ঘ সময় বি ঘ্ন ঘটে।   ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, রাশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে জে টচা লি ত ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে। তুলনামূলক দ্রুতগতির এসব ড্রোন শনাক্ত ও প্রতিহত করা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যা লে ঞ্জ তৈরি করছে।   জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর রুশ হা ম লা আরও বাড়তে পারে। তবে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপ, ইউক্রেনের প্রতিরোধ এবং ন্যা টোসহ পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপর।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড

পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় জলযান বা ড্রোন পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। কোনো ধরনের মানবিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষুদ্র এসব জলযান পানির নিচে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে এই অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত ২৯ আগস্ট গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই রোমাঞ্চকর প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় জলযানের চলাচল’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বরেকর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।   নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং শি’আন তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ গবেষক দল এই যুগান্তকারী রেকর্ডটি গড়েছে। পরীক্ষামূলক এই প্রদর্শনীতে TH-৬১৮ মডেলের ১১৬টি আন্ডারওয়াটার অটোনমাস ভেহিকল পানিতে নামানোর পর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে। প্রায় ৩৪ মিনিট স্থিতিশীলভাবে চলার পর ড্রোনগুলো ৫০০ মিটারেরও বেশি পূর্বনির্ধারিত পথ সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। পানিতে নামানোর পর পরই যানগুলোর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে চলে যায়। রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়াল পারসেপশন প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিটি ড্রোন নিজস্ব অবস্থান ও চারপাশের পরিবেশ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট বিন্যাস বজায় রাখে। এমনকি কোনো ড্রোন সাময়িকভাবে পথচ্যুত হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে আসার দারুণ সক্ষমতা প্রদর্শন করে।   পানির নিচে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় যান পরিচালনা করা প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। কারণ সেখানে সাধারণ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বা স্যাটেলাইট নেভিগেশন কার্যকর হয় না। পানির উচ্চ চাপ, কম দৃশ্যমানতা এবং সীমিত পরিবেশগত তথ্যের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই দীর্ঘ সময় যানগুলো পরিচালনা করাকে আন্ডারওয়াটার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এক বিশাল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রেকর্ড গড়া এই জলযানগুলোর প্রতিটির ওজন মাত্র ৫ দশমিক ১৪ কেজি, যা একজন মানুষ সহজেই পানিতে নামাতে পারেন। এগুলো সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার পরিসরে একটানা আট ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে সক্ষম।   নেভিগেশনের জন্য এসব যানে অত্যাধুনিক ক্যামেরাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্রোতের ধাক্কায় পথচ্যুত হলেও পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান সংশোধন করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহারিক ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত ও সম্ভাবনাময়। সমুদ্রের তলদেশ জরিপ থেকে শুরু করে পানির নিচের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আগামীতে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় জলযানের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেতে পারে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ড্রোন ঠেকাতে লেজার অ স্ত্রের ব্যবহার বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী
মি সাইল নয়, এবার লেজার! ড্রোন ও ক্রুজ মি সাইল ঠেকাতে নতুন অ স্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের

ড্রোন ও ক্রুজ মি সাইলের মতো আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় লেজার অ স্ত্র ব্যবহারে বড় অগ্রগতি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোন ধ্বং স ও অকার্যকর করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। প্রচলিত মি সাইলের তুলনায় এই প্রযুক্তিতে প্রতিটি লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলার খরচ কম হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।   প্রায় ৫০ বছর ধরে লেজার অ স্ত্র তৈরির প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে গবেষণাগারের পরীক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে এসব অ স্ত্র বাস্তব পরিবেশে ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। মার্কিন সেনাবাহিনী যুদ্ধের উপযোগী লেজার অ স্ত্র তৈরিতে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের একটি চুক্তিও করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   লেজার অ স্ত্র মূলত জেনারেটর বা ব্যাটারি থেকে পাওয়া শক্তিকে আলোক কণায় বা ফোটনে রূপান্তর করে। এরপর সেই শক্তিকে একটি নির্দিষ্ট রশ্মিতে কেন্দ্রীভূত করে লক্ষ্যবস্তুর ওপর কয়েক সেকেন্ড ধরে প্রয়োগ করা হয়। এতে লক্ষ্যবস্তুর নির্দিষ্ট অংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে ক্ষতি গ্রস্ত বা ধ্বং স হতে পারে।   বিশেষজ্ঞ মার্ক নাইসের মতে, লেজার দিয়ে নির্দিষ্টভাবে ড্রোন শনাক্ত করে তার সেন্সর অকার্যকর করা বা পুরো ড্রোন ধ্বং স করা সম্ভব। তবে লক্ষ্যবস্তুতে রশ্মি কয়েক সেকেন্ড ধরে স্থির রাখতে হয়, যাকে ‘ডুয়েল টাইম’ বলা হচ্ছে।   এই প্রযুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। সামরিক বাহিনীর কিছু লেজার অ স্ত্র পরিচালনায় সাধারণ গেম কনসোলের মতো এক্সবক্স কন্ট্রোলার ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, গেমিং শিল্পের উন্নত কন্ট্রোলার প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আলাদা জটিল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজন কমানো সম্ভব হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তেও লেজার প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। মেক্সিকো থেকে মাদক পাচারকারীদের পাঠানো ড্রোন ঠেকাতে জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স সাউদার্ন বর্ডার এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ১১টি ড্রোন লেজার ব্যবহার করে নামানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ সীমান্তে ব্যবহৃত এসব লেজার এখন পর্যন্ত মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে এগুলোর প্রধান ব্যবহার ড্রোনসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায়।   মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিওস বা হাই-এনার্জি লেজার উইথ ইন্টিগ্রেটেড অপটিক্যাল ড্যাজলার অ্যান্ড সার্ভেইলেন্স সিস্টেমের মতো প্রযুক্তি ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হেলিওস ব্যবস্থায় ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতার উচ্চশক্তির লেজার ব্যবহার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে লেজার অ স্ত্রের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। পরিষ্কার আকাশ না থাকলে এগুলোর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে একসঙ্গে অনেক ড্রোনের ঝাঁক মোকাবিলা করাও কঠিন হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত বড় লেজার সিস্টেমগুলো ভারী হওয়ায় এগুলো যুদ্ধজাহাজের মতো বড় প্ল্যাটফর্মে স্থাপন করতে হয়।  মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও এই প্রযুক্তির পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ডস মি সাইল রেঞ্জে লেজার অ স্ত্রের একটি প্রদর্শনীতে অংশ নেন এবং প্রশিক্ষণের পর কন্ট্রোলার ব্যবহার করে একটি ড্রোন ধ্বং স করেন।   লেজার প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহার পৃথিবীর বাইরেও হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতায়ও এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে লেজার অ স্ত্র এখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে এবং এর কার্যকারিতা আবহাওয়া, দূরত্ব ও লক্ষ্যবস্তুর ধরনের ওপর নির্ভর করে।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তান-ভারত ড্রোন উত্তেজনা ও মার্কিন প্রতিরক্ষা সমীকরণ
ভারতের পর পাকিস্তান—দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশেই একই অ্যান্টি-ড্রোন চুক্তি ট্রাম্প কোম্পানির

পাকিস্তান এমন একটি মার্কিন ড্রোন কোম্পানির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছে, যার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প। একই কোম্পানি এর আগে ভারতের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশটিতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি তৈরি ও বিক্রির চুক্তি করেছে। বিষয়টি পাকিস্তান-ভারতের প্রতিরক্ষা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   ১৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে পাওয়ারাসের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পরদিন কোম্পানিটি জানায়, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের কাছ থেকে মনুষ্যবিহীন আকাশযান বা ড্রোন-সংক্রান্ত একটি সীমিত ক্রয়াদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ সই হয়েছে। তবে চুক্তির আর্থিক মূল্য এবং কোন ধরনের ড্রোন সরবরাহ করা হবে, তা প্রকাশ করা হয়নি।   পাওয়ারাস জানিয়েছে, এমওইউটি কোনো চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি নয় এবং এর মাধ্যমে কোনো বাধ্যতামূলক ক্রয়ের প্রতিশ্রুতিও তৈরি হয়নি। চুক্তির পরবর্তী কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সরকারি অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রযুক্তি উৎপাদন বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনাও তারা বিবেচনা করছে।   এই চুক্তির সঙ্গে ভারতের সংযোগটিই বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত ৩০ জুন ভারতের স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া নথিতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান পারাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস টেকনোলজিস জানায়, পাওয়ারাস তাদের গার্ডিয়ান-১ ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি ভারতে উৎপাদন ও বিক্রির একচেটিয়া লাইসেন্স দিয়েছে। অর্থাৎ একই মার্কিন কোম্পানি পাকিস্তানে ড্রোন-সংক্রান্ত সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতে অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাওয়ারাস একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ড্রোন কোম্পানি এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের এমওইউতে প্রাথমিক ড্রোন-সংক্রান্ত অর্ডারও রয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য স্থানীয় উৎপাদন ও যৌথ উদ্যোগ নিয়েও চুক্তিতে কাঠামো রাখা হয়েছে।   পাওয়ারাস ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ফ্লোরিডাভিত্তিক কোম্পানি। কোম্পানিটি নাসডাক-তালিকাভুক্ত অরিয়াস গ্রিনওয়ে হোল্ডিংসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিভিন্ন মার্কিন নিয়ন্ত্রক নথির বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্পের দুই ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্প আমেরিকান ভেঞ্চারস নামের একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাওয়ারাসে বিনিয়োগ করেছেন। তবে ট্রাম্প জুনিয়রের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তিনি একজন নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারী এবং কোম্পানির পরিচালনা বা চুক্তিতে তার কোনো ভূমিকা নেই।   পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। পাকিস্তানের হাতে ইতোমধ্যে তুরস্ক ও চীনের তৈরি বিভিন্ন ড্রোন এবং নিজস্বভাবে তৈরি ড্রোন রয়েছে। আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলা একাধিক বিশ্লেষক বলেছেন, পাওয়ারাসের প্রযুক্তি পাকিস্তানের জন্য বিশেষ করে কম খরচে ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতা বাড়াতে কাজে লাগতে পারে। তবে চুক্তির প্রকৃত গুরুত্ব বোঝার জন্য ভবিষ্যতে সরবরাহ, স্থানীয় উৎপাদন এবং পরবর্তী ক্রয়চুক্তি কীভাবে এগোয়, তা দেখার প্রয়োজন রয়েছে।   একই উৎসের প্রযুক্তি পাকিস্তান ও ভারতের মতো দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের কাছে যাওয়ায় অপারেশনাল নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা বলেছেন, একই সরবরাহকারীর কাছ থেকে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিটির জন্য দুই পক্ষের চাহিদা ও তথ্যের নিরাপত্তা আলাদাভাবে পরিচালনা করা গুরুত্বপূর্ণ। সোর্স- আল জাজিরা, রয়টার্স, ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে, ইকোনমিক টাইমস

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
চীনের মালান বিমানঘাঁটিতে দেখা যাওয়া রহস্যময় লেজবিহীন ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত
চীনের ‘এরিয়া ৫১’ ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক ড্রোনের পরীক্ষা, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গোপন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন ধরনের বিশাল উড়োজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদার গোপন পরীক্ষাকেন্দ্র ‘এরিয়া ৫১’-এর সঙ্গে তুলনা করা মালান বিমানঘাঁটিতে দেখা যাওয়া এই উড়োজাহাজটি চীনের পরবর্তী প্রজন্মের নজরদারি ও গোপনীয় সামরিক প্রযুক্তি পরীক্ষার অংশ হতে পারে বলে ধারণা করছেন সামরিক ও বিমান বিশেষজ্ঞরা।   চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং অঞ্চলে অবস্থিত মালান বিমানঘাঁটিতে সম্প্রতি রহস্যময় নতুন একটি উড়োজাহাজের ছবি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে বাণিজ্যিক উপগ্রহচিত্রেও একই ধরনের একটি বিশাল উড়োজাহাজকে ঘাঁটিটির কাছে দেখা গিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে সেটিকে আকাশে উড়তে দেখা গেছে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান জেনস উড়োজাহাজটির সম্ভাব্য নাম ডব্লিউজেড-এক্স বলে উল্লেখ করেছে।   ছবিতে দেখা উড়োজাহাজটির নকশা অনেকটা লেজবিহীন উড়ন্ত ডানার মতো। জেনসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর ডানার বিস্তার প্রায় ৫২ থেকে ৫৩ মিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ মিটার। আকার ও নকশা বিবেচনায় এটি দীর্ঘ সময় ও অনেক উচ্চতায় উড়তে সক্ষম গোয়েন্দা, নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহকারী ড্রোন হিসেবে তৈরি করা হতে পারে। তবে এটি আক্রমণাত্মক কাজে ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।   বিমান বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেয়াস রুপপ্রেখটের বরাতে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, মালান ঘাঁটি চীনের বিভিন্ন ধরনের ড্রোন পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণকারী বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ নতুন উড়োজাহাজটিকে ডব্লিউজেড-এক্স হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে এর প্রকৃত সক্ষমতা, ব্যবহার এবং চীনের সামরিক বাহিনীতে সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে এখনো প্রকাশ্য তথ্য সীমিত।   মালান বিমানঘাঁটির গুরুত্ব অবশ্য নতুন নয়। শিনজিয়াংয়ের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত এই ঘাঁটি ঐতিহাসিকভাবে চীনের সামরিক ও পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিল। কাছাকাছি লপ নুর এলাকায় ১৯৬৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত চীন প্রায় ৪৫টি পরমাণু পরীক্ষা চালায়। পরবর্তী সময়ে মালান ঘাঁটি পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ ও ড্রোন উন্নয়নের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘাঁটিটিতে উন্নত সামরিক উড়োজাহাজ পরীক্ষার কার্যক্রম আরও দৃশ্যমান হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মালানে জে-১১সহ বিভিন্ন ধরনের চীনা গোপনীয় ড্রোনের উপস্থিতি উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ে। বড় আকারের লেজবিহীন উড়ন্ত ডানার নকশার একাধিক ড্রোনও সেখানে দেখা গেছে।   চীনের আরেকটি গোপন পরীক্ষাকেন্দ্র লপ নুর বিমানঘাঁটিতেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে প্রকাশিত স্যাটেলাইটচিত্র বিশ্লেষণে সেখানে নতুন হ্যাঙ্গার, ট্যাক্সিওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে। দ্য ওয়ার জোনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ঘাঁটিটি এখন উন্নত সামরিক উড়োজাহাজের পরীক্ষার জন্য আগের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম হয়ে উঠছে।   লপ নুর ঘাঁটিতে এর আগে চীনের নতুন প্রজন্মের জে-৩৬ ও জে-এক্সডিএস যুদ্ধবিমানের উপস্থিতিও উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়ে। এসব উড়োজাহাজকে সাধারণত ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ কারণেই চীনের প্রত্যন্ত সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সামরিক বিশ্লেষকদের আগ্রহ বাড়ছে।   তবে বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসা আশঙ্কাগুলোকে সরাসরি নিশ্চিত সামরিক সক্ষমতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নতুন উড়োজাহাজটির উদ্দেশ্য, পাল্লা, অস্ত্র বহনের সক্ষমতা এবং চূড়ান্ত ব্যবহার সম্পর্কে চীনা কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রকাশ্যে আসা ছবি ও উপগ্রহচিত্রের ভিত্তিতেই এসব বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।   মালান বিমানঘাঁটির নতুন উড়োজাহাজের উপস্থিতি তাই চীনের উন্নত ড্রোন ও গোপনীয় বিমান প্রযুক্তি কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় উচ্চ আকাশে অবস্থান করতে সক্ষম বড় আকারের গোয়েন্দা ড্রোন তৈরি হলে তা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে চীনের সক্ষমতা বাড়াতে পারে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে প্রকল্পটির প্রকৃত সামরিক প্রভাব নির্ধারণের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও পরীক্ষার ফল প্রকাশের অপেক্ষা করতে হবে।   সূত্র: ডেইলি মেইল, জেনস, দ্য ওয়ার জোন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে: সৌদি আরব

সৌদি আরবের মক্কা নগরীর আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে বলে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে।    সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি মক্কার দক্ষিণে শনাক্ত করা হয়। সেটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তা ভূপাতিত করে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শহরের দক্ষিণে পড়ে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।    আল-মালিকি এই ঘটনাকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও ওমরাহ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তাকে সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।    তবে হুতি গোষ্ঠী মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে সৌদি দাবিকে মিথ্যা প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।    ঘটনার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। মক্কার পাশাপাশি জেদ্দা, তাইফসহ কয়েকটি এলাকাও সতর্কতার আওতায় ছিল। এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। সৌদি জোটের দাবি, খামিস মুশাইত, আভা ও তাইফ এলাকায় সাম্প্রতিক হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান। তাই নগরীর আকাশসীমার কাছাকাছি এমন কোনো সামরিক ঘটনা সৌদি আরবের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করে। একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাবের আশপাশে হুতিদের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশের বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত আবার তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলা এবং ইয়েমেনে পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘটনা বেড়েছে।    মক্কার কাছে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসিও নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু দুই পক্ষের সামরিক লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পবিত্র নগরী ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও প্রভাব ফেলছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন
মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন, আকাশেই ধ্বংস করল সৌদি প্রতিরক্ষা

সৌদি আরবের মক্কা নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি রয়্যাল এয়ার ডিফেন্স বাহিনী ধ্বংস করে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন বিষয়ক জোট জানিয়েছে। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের হামলা ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।    জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি বাধা দেওয়া হয়। এটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি জানান।    সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের এমন প্রচেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ার অভিযোগও করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সেই ঘটনার পর এটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আল-মালিকি।    মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি সেখানে যান। সৌদি জোটের মুখপাত্র বলেছেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।    তবে হুতিদের পক্ষ থেকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হুতি মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ সৌদি দাবিকে প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, মক্কা বা অন্য কোনো ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করার দাবি সত্য নয়। ফলে ড্রোনটির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।    ঘটনার আগে মঙ্গলবার সৌদি আরবের মক্কা ও জেদ্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ইরানঘনিষ্ঠ যোদ্ধাদের একাধিক হামলার পর সৌদি আরবে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এর মধ্যে হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে কয়েকটি হামলার দাবি করেছে, যার মধ্যে একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিও রয়েছে।    সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাব সৌদি আরবের বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও পড়ছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই নৌপথ বিশ্ব বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ রয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
বন্যা থেকে বাঁচতে ড্রেন কাটতে গিয়ে মাটির নিচে মিলল প্রাচীন বাণিজ্যিক নৌকা!
বন্যা থেকে বাঁচতে ড্রেন কাটতে গিয়ে মাটির নিচে মিলল প্রাচীন বাণিজ্যিক নৌকা!

ফিলিপাইনের বুটুয়ান শহরের লিবার্টাদ এলাকায় জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেন কাটার কাজ থেকেই একসময় বেরিয়ে এসেছিল প্রাচীন বালাঙ্গাই নৌকার সন্ধান। ১৯৭৬ সালে শুরু হওয়া সেই আবিষ্কারের ৫০ বছর পর, ২০২৬ সালে একই এলাকায় নতুন করে খনন চালিয়ে আরও কাঠের অংশ পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের প্রাথমিক ধারণা, এগুলো প্রাচীন আরেকটি বুটুয়ান নৌকার অংশ হতে পারে।   লিবার্টাদ এলাকার মাটির নিচে পাওয়া এসব নৌকা শুধু কয়েকটি পুরোনো কাঠের টুকরা নয়। এগুলো এমন এক সময়ের সাক্ষ্য বহন করে, যখন বর্তমান ফিলিপাইন রাষ্ট্রের জন্মের বহু শতাব্দী আগেই বুটুয়ান ছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্র। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় বালাঙ্গাই নৌকাগুলোকে প্রাক-ঔপনিবেশিক ফিলিপাইনের উন্নত নৌনির্মাণ ও সমুদ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   বুটুয়ানের বালাঙ্গাই আবিষ্কারের বড় অধ্যায় শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। লিবার্টাদের একটি পুরোনো নদীখাত এলাকায় খননের সময় কাঠের তৈরি নৌকার কাঠামো পাওয়া যায়। পরবর্তী কয়েক বছরে একই এলাকায় একাধিক নৌকার সন্ধান মেলে। ফিলিপাইনের ন্যাশনাল মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় ১১টি বালাঙ্গাইয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে।   নৌকাগুলোর বয়স নির্ধারণে রেডিওকার্বন পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, এগুলোর কয়েকটি খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত। কিছু নৌকার বয়স আরও পুরোনো হওয়ার তথ্যও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। এগুলো তৈরি হয়েছিল কাঠের বড় বড় প্ল্যাঙ্ক জোড়া দিয়ে। কাঠের অংশগুলোকে পেগ বা ডাওয়েল দিয়ে সংযুক্ত করা ছিল নির্মাণপ্রযুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।   প্রাচীন বুটুয়ানের সঙ্গে সামুদ্রিক বাণিজ্যের সম্পর্কও এসব নৌকার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়। ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব দ্য ফিলিপাইনের তথ্য অনুযায়ী, খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে বুটুয়ান ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। স্থানীয়রা সমুদ্র ও বন থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন পণ্য বিদেশি পণ্যের সঙ্গে বিনিময় করত। ফলে এসব নৌকা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম ছিল না, বরং তখনকার আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের অংশ ছিল।   এই ইতিহাসের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে ২০২৬ সালে। প্রথম বালাঙ্গাই আবিষ্কারের ৫০ বছর পূর্তিতে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব দ্য ফিলিপাইনস আবারও লিবার্টাদ এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক খননে তিনটি কাঠের প্ল্যাঙ্ক পাওয়া গেছে। এর একটি অংশে এমন কাঠের উঁচু অংশ বা লাগ রয়েছে, যা বুটুয়ান নৌকার নির্মাণপ্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।   তবে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলেননি যে এগুলো নতুন কোনো বালাঙ্গাই। ন্যাশনাল মিউজিয়ামের গবেষকদের মতে, কাঠের অংশগুলো আগে নথিভুক্ত কোনো নৌকার অংশ হতে পারে, আবার এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো প্রাচীন নৌকারও অংশ হতে পারে। আরও গবেষণা ও খননের পর বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।   প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে যে মাটির নিচ থেকে প্রাচীন বুটুয়ানের অস্তিত্ব সামনে এসেছিল, সেই একই এলাকায় আজও খনন চলছে। নদীর গতিপথ বদলেছে, শত শত বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে থেকেছে কাঠের নৌকাগুলো, আর তার ওপর গড়ে উঠেছে নতুন জনপদ। কিন্তু মাটির স্তর সরালেই বেরিয়ে আসছে এমন এক সময়ের চিহ্ন, যখন সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও যোগাযোগের মাধ্যমে বুটুয়ান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত ছিল।   বালাঙ্গাই এখন শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, ফিলিপাইনের সামুদ্রিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ২০২৬ সালে ফিলিপাইনের আসিয়ান চেয়ারশিপের লোগোতেও বালাঙ্গাইকে স্থান দেওয়া হয়েছে। আর বুটুয়ানের লিবার্টাদে নতুন কাঠের সন্ধান ইঙ্গিত দিচ্ছে, শহরটির মাটির নিচে প্রাচীন সেই সামুদ্রিক ইতিহাসের আরও অনেক অধ্যায় এখনো অপ্রকাশিত থাকতে পারে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ব্রিটেনকে আবারও হুমকি পুতিনের
ব্রিটেনকে আবারও হুমকি পুতিনের, বেপরোয়া পদক্ষেপের আশঙ্কা

ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার অভিযোগের পর যুক্তরাজ্যকে আবারও ‘পরিণতি’ ভোগ করার হুমকি দিয়েছে মস্কো। এ নিয়ে রাশিয়া–ব্রিটেন উত্তেজনার মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, চাপের মুখে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন।    সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার গভীরে চালানো হামলায় ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। এর পরই লন্ডনে রুশ দূতাবাস অভিযোগ করে, যুক্তরাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তাদের হুঁশিয়ারি—সংঘাতে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, দেশটির জন্য ‘মূল্য’ও তত বেশি হবে।    ব্রিটিশ তৈরি ড্রোনের মাধ্যমে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোনসহ সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার সামরিক শিল্প, জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে।    তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাশিয়ার হুমকির জবাবে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের পাশে ‘১০০ শতাংশ’ রয়েছে এবং রাশিয়ার হুমকির কারণে কিয়েভকে সমর্থন থেকে সরে আসবে না। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।    রাশিয়ার হুমকি অবশ্য নতুন নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ব্রিটেনের সামরিক সহায়তার প্রতিটি বড় ধাপের পর মস্কো বিভিন্ন ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন—রাশিয়া যদি নিজেকে আরও কোণঠাসা ও মরিয়া মনে করে, তাহলে বেপরোয়া পদক্ষেপের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।    বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেন সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলা, নাশকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাতের মতো হাইব্রিড হুমকির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটির বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও গ্যাস সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর একটি অংশ সমুদ্রের নিচের কেবলের ওপর নির্ভরশীল, যা নাশকতার লক্ষ্য হতে পারে।    এদিকে রাশিয়া ও ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনও দায়িত্ব শেষে দেশ ছেড়েছেন এবং এখনো তার স্থলাভিষিক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, পুতিনের হুমকির অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা কমাতে চাপ দেওয়া। সরাসরি ব্রিটেনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, রাশিয়ার সাইবার হামলা, নাশকতা ও অন্যান্য গোপন তৎপরতার ঝুঁকি যে বাস্তব—এ বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।   ফলে ইউক্রেনকে ব্রিটিশ সামরিক সহায়তা এবং রাশিয়ার পাল্টা হুমকিকে ঘিরে লন্ডন-মস্কো উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও এই পরিস্থিতি ইউরোপের নিরাপত্তা ও রাশিয়া-ন্যাটো সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও
প্যাকেজ দিতে এসে সোজা সুইমিং পুলে! অ্যামাজনের ড্রোনের কাণ্ডে ভাইরাল ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রোন এক গ্রাহকের প্যাকেজ বাড়ির সুইমিং পুলে ফেলে দিয়েছে। ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রিচমন্ডের বাসিন্দা লিন্ডসে অস্টেন জানান, ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেজ আসার নোটিফিকেশন পাওয়ার পর তিনি বাইরে গিয়ে পুরো ঘটনাটি নিজের চোখে দেখেন।   অস্টেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির পেছনে ড্রোনের শব্দ শুনে তিনি বাইরে আসেন। এরপর ড্রোনটি সুইমিং পুলের ওপর অবস্থান নিয়ে নিচের দিকে প্যাকেজটি ছেড়ে দেয়। প্যাকেজটি সরাসরি পানিতে পড়ে যাওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে যান।   ঘটনার ভিডিওতেও দেখা যায়, ড্রোনটি প্যাকেজ নিয়ে বাড়ির পেছনের এলাকায় আসে। এরপর সুইমিং পুলের ওপর থেকে প্যাকেজটি ছেড়ে দিলে সেটি সোজা পানিতে গিয়ে পড়ে।   অস্টেন বলেন, প্যাকেজটি পানিতে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তিনি একেবারেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এমন অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যতে আবার ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেজ নিতে তিনি আগ্রহী নন বলেও জানান।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন অ্যামাজন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সেবা আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৫০০টি মার্কিন শহরে এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।   অ্যামাজনের এই ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো ছোট আকারের পণ্য দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ড্রোনগুলো সর্বোচ্চ প্রায় ৫ পাউন্ড বা ২ দশমিক ৩ কেজি ওজনের প্যাকেজ বহন করতে পারে। নির্দিষ্ট এলাকায় অর্ডার দেওয়ার পর প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই সেবা পরিচালনা করা হয়।   অ্যামাজনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে বিরল একটি ত্রুটি হিসেবে দেখা হয়েছে। কোম্পানির মুখপাত্র অ্যালি পেইন জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থা আরও উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।   ড্রোন ডেলিভারি মূলত এমন শহরতলি ও আবাসিক এলাকায় পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ঘনবসতি, উঁচু ভবন কিংবা বড় বিমানবন্দরের মতো জটিলতা তুলনামূলক কম। তবে ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, নিরাপত্তা বিধি এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্তও মানতে হয়।   ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও সঠিক জায়গায় প্যাকেজ নামানো এবং পণ্য অক্ষত রাখার বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। টেক্সাসের এই ঘটনাটি সেই প্রযুক্তির বাস্তব ব্যবহারে নির্ভুলতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে।   অ্যামাজনের ড্রোন ডেলিভারি সেবা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই গ্রাহকের বাড়িতে নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে প্যাকেজ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নজর বাড়ছে। সুইমিং পুলে প্যাকেজ পড়ে যাওয়ার এই ঘটনাও সেই চ্যালেঞ্জেরই একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র, শীর্ষ কমান্ডারের স্বীকারোক্তি
ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র, শীর্ষ কমান্ডারের স্বীকারোক্তি

আকাশ প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক পরাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে অবাক করা বিষয় হলো, সেই পরাক্রমশালী আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোই এখন ইরানের ছোট ছোট ড্রোনের সামনে চরম অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।   সম্প্রতি খোদ মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের এক শীর্ষ কমান্ডারের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিতে এই তথ্য সামনে এসেছে। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোনের ঝাঁক শনাক্ত করার মতো অত্যাধুনিক সেন্সর নেই, এমনকি সেগুলো প্রতিহত করার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষাব্যবস্থাও অনুপস্থিত। ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার পর মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার এই দুর্বলতা ওয়াশিংটনকে নতুন করে গভীর ভাবনায় ফেলেছে।   মার্কিন নর্দার্ন কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ জারার্ড স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন যে, ছোট ড্রোনের বড় ধরনের ঝাঁক বা সোয়ার্ম ড্রোন হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তাঁর মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গাটি হলো   এই ড্রোনগুলোর প্রাথমিক শনাক্তকরণ। শত্রুপক্ষের কোনো ড্রোন যখন ঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসে, সেটি যদি সঠিক সময়ে রাডারে ধরা না পড়ে, তবে তাকে আকাশেই ধ্বংস করার সুযোগ প্রায় থাকে না বললেই চলে। আর একটি বা দুটি ড্রোনের বদলে যখন একসঙ্গে অসংখ্য ড্রোন ধেয়ে আসে, তখন পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।   আধুনিক সামরিক যুদ্ধের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অসম খরচের এই লড়াই। প্রতিটি সস্তা ড্রোনকে আকাশেই ধ্বংস করতে কোটি ডলার মূল্যের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করা দীর্ঘমেয়াদে কোনোভাবেই কার্যকর বা টেকসই কৌশল হতে পারে না।   এই আর্থিক এবং কৌশলগত ঘাটতি মেটাতে যুক্তরাষ্ট্র এখন রেডিও-ফ্রিকোয়েন্সি সিস্টেম, জ্যামিং প্রযুক্তি, মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন লেজার প্রযুক্তির উন্নয়নে দ্রুতগতিতে কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে পেন্টাগন ড্রোন এবং কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তির সার্বিক উন্নয়নের জন্য ২১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজেটের প্রস্তাব করেছে বলেও জানা গেছে।   নতুন এসব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পুরোপুরি মাঠে নামানোর আগেই যদি বড় ধরনের কোনো সোয়ার্ম ড্রোন হামলা হয়, তবে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটিই এখন পেন্টাগনের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই শঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তাদের মিত্রদের ব্যবহৃত ড্রোনগুলো এরই মধ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং আঞ্চলিক অবকাঠামোর জন্য এক নতুন ধরনের মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে। কোটি ডলারের যুদ্ধবিমান বা বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে অত্যন্ত কম খরচের এসব ড্রোনের ঝাঁক ভবিষ্যৎ যুদ্ধের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে পারে। শত্রুপক্ষ নয়, বরং খোদ মার্কিন শীর্ষ কমান্ডারের এই সতর্কবার্তা প্রমাণ করে যে, ড্রোনের ঝাঁক আকাশে ওঠার আগেই শনাক্ত করা সম্ভব না হলে বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটিও যেকোনো সময় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানে ড্রোন প্রযুক্তি পাচারের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত ম্যাসাচুসেটসের প্রকৌশলী
ইরানে ড্রোন প্রযুক্তি পাচারের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত ম্যাসাচুসেটসের প্রকৌশলী

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সামরিক ড্রোনে ব্যবহৃত হতে পারে এমন প্রযুক্তি ইরানে পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের এক ইরানি-জন্ম প্রকৌশলীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরি।   সোমবার বোস্টনের ফেডারেল আদালতে ৪৩ বছর বয়সী মাহদি সাদেগিকে তিনটি অভিযোগে দোষী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরানে প্রযুক্তি রপ্তানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।   মার্কিন জেলা বিচারক ইন্দিরা তলওয়ানি আগামী ১৩ অক্টোবর সাদেগির সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তারের আগে সাদেগি ম্যাসাচুসেটসভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানালগ ডিভাইসেসে কর্মরত ছিলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, তিনি প্রতিষ্ঠানটির সেন্সরসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ইরানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সানআত দানেশ রাহপোইয়ান আফলাক কোম্পানি (এসডিআরএ)-এর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি ইরানের সামরিক ড্রোনে ব্যবহৃত ন্যাভিগেশন সিস্টেম তৈরি করত বলে অভিযোগ রয়েছে।   সরকারি কৌঁসুলিরা আরও দাবি করেন, সাদেগির পরামর্শে অ্যানালগ ডিভাইসেস একটি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলে। ওই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন ইরানি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবেদিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি গোপনে ইরানে পাঠানো হতো।   অন্যদিকে, সাদেগির আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন যে সব ব্যবসায়িক লেনদেন বৈধ ও স্বচ্ছ ছিল। তাদের দাবি, সুইস কোম্পানিটি প্রকৃত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ছিল, প্রসিকিউটরদের দাবি অনুযায়ী এটি কোনো ছদ্মবেশী প্রতিষ্ঠান নয়। তারা আরও বলেন, সাদেগির নিজের গড়ে তোলা কর্মজীবন ও যুক্তরাষ্ট্রের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে আইন ভাঙার কোনো কারণ ছিল না।   এই মামলায় সহঅভিযুক্ত আবেদিনিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ইতালিতে গ্রেপ্তার করা হলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। একই সময়ে ইরানে আটক এক ইতালীয় সাংবাদিকও মুক্তি পান। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।   প্রসঙ্গত, আবেদিনির প্রতিষ্ঠানের তৈরি ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা ইরানের সামরিক ড্রোনে ব্যবহৃত হতো বলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ। তবে সাদেগির বিরুদ্ধে চলা মামলাটি সরাসরি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। বিচারক জুরিদের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় ওই হামলার তথ্য বিচার চলাকালে উপস্থাপনের অনুমতি দেননি।   মামলাটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, সংবেদনশীল প্রযুক্তি রপ্তানি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১৩, ২০২৬ ১৪:০
যুদ্ধের মধ্যেই তিনগুণ বেড়েছে ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা
ইরানের দাবি, যুদ্ধের মধ্যেই তিনগুণ বেড়েছে ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা: ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের সময় উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ফলে ইরান তাদের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিনগুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈয়দ মাজিদ ইবনে রেজা।   শনিবার পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান। পরে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা তার বক্তব্য প্রকাশ করে।   রেজার দাবি, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগই সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান অত্যন্ত উন্নত সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ প্রযুক্তির মুখোমুখি হয়েছিল।   ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ১৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি সহায়তা দিয়েছিল। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পেরেছে বলে তিনি দাবি করেন।   তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হামলা মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।   তবে রেজার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের সক্ষমতা বৃদ্ধির এই দাবি অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
যুদ্ধকালীন সময়ে ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ বাড়ানোর দাবি করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধের কঠিন সংকটেও সক্ষমতার প্রমাণ, ড্রোন উৎপাদন ৩ গুণ বাড়ালো ইরান

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি, বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, “সাম্প্রতিক যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে ইরানের মেধাবী জনশক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।”   তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি। বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।” ইরানের দাবি, যুদ্ধকালীন সময়ে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে বিনিয়োগ এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এই উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। দেশটি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তারই ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ও হামলায় সক্ষম ড্রোন তৈরির দাবি করে আসছে তেহরান। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররা ইরানের ড্রোন কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।   অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এ ধরনের দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের আকাশে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি আইআরজিসির
ইরানের আকাশে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি আইআরজিসির

ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন গুলি করে নামানোর দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার (৮ জুলাই) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।   আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মহবি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানান, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে ড্রোনটিকে শনাক্ত করা হয়। পরে আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটের নিখুঁত আঘাতে সেটি ভূপাতিত করা হয়। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ধারাবাহিক আকাশ তৎপরতার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   মহবি যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের উড্ডয়নকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে দাবি করেন, ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে। তার ভাষ্য, “মার্কিন বাহিনীর আকাশ আগ্রাসনের কারণেই ড্রোনটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং সফলভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের আকাশসীমা সুরক্ষায় ইরানি বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।   উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে নজরদারি ও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে প্রায়ই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে। এর আগেও ইরান একাধিকবার মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে, যদিও এসব ঘটনার সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন থেকে গেছে।   সর্বশেষ এই ঘটনাটি দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে এ বিষয়ে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
বেলুচিস্তান সীমান্তে ৪ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের
বেলুচিস্তান সীমান্তে ৪ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের

আফগানিস্তান সীমান্ত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আফগান ভূখণ্ড থেকে পাঠানো চারটি ড্রোন বেলুচিস্তান সীমান্ত এলাকায় ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা Inter-Services Public Relations (আইএসপিআর) এ ঘটনাকে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ‘ব্যর্থ উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, আফগান তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে চারটি সাধারণ ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। তাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভেতরে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহায়তায় এসব ড্রোন পাঠানো হয়েছিল।   বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত ড্রোনগুলো শনাক্ত করে এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করে। এতে সম্ভাব্য হামলার চেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   এ ঘটনায় আফগান তালেবান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে ইসলামাবাদ। আইএসপিআর বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা নিজেদের জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান আফগান কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ করা এবং এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি মেনে চলারও কথা বলা হয়েছে।   পাকিস্তান সেনাবাহিনী সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো উসকানির জবাব ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’-এর আওতায় দ্রুত ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যেকোনো হুমকি প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে Russia। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সংযম প্রদর্শন এবং দ্বিপাক্ষিক বিরোধ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।   রাশিয়ার পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক পাকিস্তানি বিমান হামলাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান তালেবান—উভয় পক্ষই নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে।   মস্কো বলছে, ইসলামাবাদ ও কাবুলের উচিত সশস্ত্র সংঘাত থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সংবাদমাধ্যম সামা টিভি অনলাইনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
পাঁচ লাখ সেনাকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ বানাতে বড় পরিকল্পনায় দক্ষিণ কোরিয়া
পাঁচ লাখ সেনাকে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ বানাতে বড় পরিকল্পনায় দক্ষিণ কোরিয়া

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রচলিত ট্যাংক, কামান বা যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ও নির্ধারক অস্ত্র হিসেবে উঠে এসেছে ড্রোন। এই বাস্তবতায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও আধুনিক করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি পরিকল্পনা করেছে, তাদের প্রায় পাঁচ লাখ সেনাসদস্যকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলা হবে।   শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এক ঘোষণায় জানান, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তারা ব্যক্তিগত অস্ত্রের মতোই সহজভাবে ড্রোন ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বিতভাবে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ।   আন গিউ-ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে—ড্রোন এখন শুধু সহায়ক প্রযুক্তি নয়, বরং যুদ্ধের ফলাফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রধান অস্ত্র। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের কৌশল যুদ্ধের প্রচলিত ধারণাকেই পাল্টে দিচ্ছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার এই পরিকল্পনার পেছনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে।   নতুন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। পরবর্তী সময়ে, ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে।   শুধু ড্রোন ব্যবহার নয়, দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত ড্রোন তৈরির দিকেও জোর দিচ্ছে সিউল। এর অংশ হিসেবে ‘কে-লুকাস’ নামের দূরপাল্লার আক্রমণাত্মক ড্রোন দ্রুত উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তির ধারণা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন মডেল থেকে, যার নকশা আবার ইরানের বহুল আলোচিত আত্মঘাতী ড্রোনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধে এ ধরনের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে।   ড্রোনের পাশাপাশি প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়া। লেজার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে শত্রুপক্ষের ড্রোন দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা যায়।   উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে একটি রাজধানী সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সংরক্ষিত এলাকাতেও ঢুকে পড়ে। ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণ হেলিকপ্টার মোতায়েন করে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে, কিন্তু কোনো ড্রোন ভূপাতিত করতে পারেনি। ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।   বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের ফলে উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল থেকে তারা সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে, যা সাধারণ অবস্থায় অর্জন করতে দীর্ঘ সময় লাগত।   এদিকে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, তাদের নেতা কিম জং-উন সম্প্রতি কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষানিরীক্ষা তদারক করেছেন। সব মিলিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার এই ড্রোন-কেন্দ্রিক পরিকল্পনাকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

নীলুফা নিশাত জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের আর্লিংটনে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়াম | ছবি: কেরা নিউজ
বিশ্বকাপ ভেন্যুতে অবৈধ ড্রোন ওড়ানো বন্ধে কড়া অবস্থানে এফবিআই

চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম এবং ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকার আকাশে অবৈধ ড্রোন ওড়ানো বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)। ডালাস এফবিআই ইতিমধ্যে ডজন ডজন অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছে এবং এ বিষয়ে পাইলট ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। খেলা চলাকালীন এবং এর আগে-পরে স্টেডিয়ামের আশপাশের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় যেকোনো ধরণের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।   ডালাস এফবিআইয়ের বিশেষ কর্মকর্তা আর. জোসেফ রথ্রক জানিয়েছেন, গত ১১ জুন থেকে ডালাস স্টেডিয়াম এবং ফেয়ার পার্কের ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তারা এ পর্যন্ত ৫৪টি অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছেন। তিনি জানান, বেশিরভাগ ড্রোন চালকই জানেন না যে খেলা উপলক্ষে সাময়িক উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা (TFR) জারি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ শুরুর ৩ ঘণ্টা আগে থেকে ম্যাচ শেষ হওয়ার ৩ ঘণ্টা পর পর্যন্ত ডালাস স্টেডিয়ামের চারপাশের ৩ নটিক্যাল মাইল এবং মাটি থেকে ৩ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকায় এই উচ্চতা সর্বোচ্চ ৪০০ ফুট।   এফবিআই জানিয়েছে, আকাশে কোনো ড্রোন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে সেটিকে প্রাথমিকভাবে একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইতিমধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অপরাধে লুইস মাউরিসিও ফ্লোরেস অর্ডনিজ নামের ৩৩ বছর বয়সী এক হন্ডুরান নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি গত ১৪ জুন জাপান বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের ঠিক আগে ডালাস স্টেডিয়ামের प्रतिबंधित আকাশসীমায় একটি অবনিবন্ধিত ড্রোন ওড়াচ্ছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হলে ফেডারেল আইনে তার সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।   স্থানীয় পেশাদার ড্রোন চালক এবং 'দ্য ডালাস ড্রোন গাই' নামে পরিচিত ৪২ বছর বয়সী সেথ ব্রুকস অন্য চালকদের এই নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, শখের বশে বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ড্রোন ওড়াতে হলেও মার্কিন বিমান প্রশাসন (FAA)-এর লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। ড্রোন ওড়ানো লুকিয়ে করা অসম্ভব, কারণ ড্রোন চালু করলেই তার উচ্চতা, ব্যাটারির তথ্য এবং রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও ইমেল আকাশে ডিজিটাল সংকেত হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, যা সহজেই ট্র্যাক করা যায়।   গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ড্রোন ওড়ালে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বড় অঙ্কের জরিমানা ও ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন সরকার বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ ড্রোন-প্রতিরোধী প্রশিক্ষণ দিয়েছে। স্টেডিয়ামের আশেপাশে কোনো অবৈধ ড্রোন ওড়াতে দেখলে অবিলম্বে তা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য সাধারণ ফুটবল ভক্তদের প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছে এফবিআই।

তাবাস্সুম জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
দক্ষিণ লেবাননে ভূগর্ভস্থ ড্রোন কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি ইসরায়েলের
দক্ষিণ লেবাননে ভূগর্ভস্থ ড্রোন কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি ইসরায়েলের

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েল সীমান্তের কাছে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ অস্ত্র কারখানার সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। সংস্থাটির অভিযোগ, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এই স্থাপনাটি ব্যবহার করে উন্নত ড্রোন তৈরি ও পরিচালনা করত, যার পেছনে ইরান-এর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছিল।   ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েল সোমবার (২২ জুন) এক প্রতিবেদনে জানায়, দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জৌন গ্রামে একটি সুড়ঙ্গপথের সন্ধান পায় আইডিএফ। ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে প্রবেশ করে সেনারা পাহাড়ের নিচে নির্মিত একটি বড় ভূগর্ভস্থ স্থাপনা খুঁজে পায়।   আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকশ মিটার দীর্ঘ এই সুড়ঙ্গের গভীরে, প্রায় ২৯ মিটার নিচে অবস্থিত অস্ত্রভান্ডারটি বিস্ফোরণরোধী বিশেষ ইস্পাতের দরজায় সুরক্ষিত ছিল। ভেতরে ড্রোন তৈরির উপযোগী একাধিক কক্ষ, সংরক্ষণাগার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গত এক দশকে ইরানের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই স্থাপনাটি গড়ে তোলা হয়। চোরাইপথে আনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে সেখানে ড্রোন তৈরি করা হতো এবং সেগুলো দিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ছিল।   অভিযান চালিয়ে ওই স্থান থেকে প্রায় ৫০টি ড্রোন এবং প্রায় আট টন বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। পাশাপাশি পাহাড়ের দক্ষিণাংশে ড্রোন উৎক্ষেপণের জন্য ব্যবহৃত একটি বিশেষ লঞ্চিং পয়েন্টও শনাক্ত করা হয়েছে।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার করা ড্রোনগুলো দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি ছিল। এই অভিযানের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সেই সক্ষমতা অনেকটাই নষ্ট করা গেছে।   সম্প্রতি আইডিএফ ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনার কিছু ছবি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের সেখানে নিয়ে গিয়ে পুরো এলাকা পরিদর্শনের সুযোগও দেওয়া হয়।   তবে এ বিষয়ে এখনো হিজবুল্লাহ বা ইরান-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিতে পারে, বিশেষ করে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুন ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০