আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আতঙ্কের আরেক নাম ‘ইরানি ড্রোন’। কয়েক দশক ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা একটি দেশ কীভাবে ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তা এখন সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছে এক বিস্ময়। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি—সবখানেই এখন ইরানের তৈরি ড্রোনের জয়জয়কার। খেলনা থেকে মারণাস্ত্র: এক সংগ্রামের ইতিহাস: ইরানের এই সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে। তৎকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ইরানের বিমানবাহিনী খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছিল। অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থী মিলে প্রথম ড্রোনের পরিকল্পনা করেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, তাদের প্রথম তৈরি ড্রোনটির জ্বালানি ট্যাংক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল মেডিকেল আইভি ব্যাগ (IV Bag), আর পাখা ছিল হাতে তৈরি। যুদ্ধের ব্যাকরণ পরিবর্তন: ইরানি সামরিক কৌশলের মূল ভিত্তি হলো—কম খরচে শত্রুর দামী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কুপোকাত করা। যেখানে একটি অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইলের দাম ২০ লাখ ডলার, সেখানে একটি ইরানি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার ডলার। কিন্তু যখন ঝাঁকে ঝাঁকে ১০০টি ড্রোন পাঠানো হয়, তখন সেগুলোকে ধ্বংস করতে প্রতিপক্ষকে ব্যয় করতে হয় কয়েকশ কোটি ডলার। এই অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপই ইরানকে ড্রোন যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। বৈশ্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ: ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হাতে ইরানি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের উপস্থিতি বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয়। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা ড্রোনের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে, যেখানে অত্যাধুনিক মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ব্যর্থ হয়েছিল। আজ ইরান এমন সব ড্রোন তৈরি করছে যা হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দীর্ঘ চার দশকের ধৈর্য আর উদ্ভাবনী চিন্তার ফসল হিসেবে ইরান আজ ড্রোন প্রযুক্তিতে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করেছে।
বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও বাস্তবে এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চীনের বিজ্ঞানীরা, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার এবং সক্ষমতাকে আমূল বদলে দিতে পারে। সমুদ্রের বিশাল রণতরী বা ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ নয়, বরং এবার তারা তৈরি করেছে ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ বা স্থলচর যুদ্ধজাহাজ। এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো—এই যানটি উড়ন্ত ড্রোনকে কোনো তার ছাড়াই মাঝ-আকাশে চার্জ করতে সক্ষম! সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা বিজ্ঞানীরা এমন এক শক্তিশালী ‘মাইক্রোওয়েভ বিম’ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করেছেন, যা দিয়ে মাটিতে থাকা যান থেকে আকাশে উড়তে থাকা ড্রোনে বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে। ফলে ড্রোনগুলোকে চার্জ দেওয়ার জন্য আর নিচে নামতে হবে না। তারা দীর্ঘ সময় বা প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকাল ধরে আকাশে উড়তে পারবে। কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? সাধারণত ড্রোনগুলোর ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে সেগুলোকে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু চীনের এই নতুন সিস্টেমে স্থলভাগের বিশেষ ট্রাক বা বাহন থেকে উচ্চশক্তির মাইক্রোওয়েভ রশ্মি ড্রোনের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। ড্রোনে থাকা বিশেষ রিসিভার সেই রশ্মিকে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর করে ব্যাটারি চার্জ করে নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ড্রোনের স্থায়িত্বই বাড়াবে না, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদী হামলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর আগে ড্রোনের পাল্লা সীমিত থাকলেও, এই প্রযুক্তির ফলে ড্রোনগুলো শত শত মাইল দূরে থেকেও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারবে। চীনের এই উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে সামরিক বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বর্তমান যুগের ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ বা ড্রোন যুদ্ধের কৌশল এই এক উদ্ভাবনের ফলে পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন মার্কিন কূটনৈতিক ও লজিস্টিক সেন্টারে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ ভোরে এই হামলা চালানো হয় বলে ইরাকি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি নিশ্চিত করেছে। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরের যে এলাকায় এই ড্রোন হামলা হয়েছে সেখানে ইরাকি সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সেন্টার ও কূটনৈতিক দফতর অবস্থিত। হামলার পরপরই পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই ধরণের ড্রোন হামলা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে বাগদাদ বিমানবন্দরের মতো একটি সুরক্ষিত এলাকায় এই হামলা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা বাহিনীর গুলি করে নামানো একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে একজন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি মানববিহীন উড়োজাহন (ড্রোন) সনাক্ত করে তা ভূপাতিত করেছে। তবে ধ্বংসাবশেষ এল-রিফা’আ এলাকার একটি খামারে পড়ে ঘটনাস্থলে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জরুরি সেবা দল ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা মাইন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে ‘আন্ডারওয়াটার ড্রোন’ মোতায়েন করছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী (রয়্যাল নেভি) জানিয়েছে, ইরান ও পশ্চিমের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই কৌশলগত জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে যে, রণকৌশল হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন পয়েন্টে মাইন পেতেছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের মোতায়েন করা এই বিশেষ ড্রোনগুলো পানির নিচে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মাইন শনাক্ত করতে সক্ষম। এগুলো সরাসরি যুদ্ধজাহাজ থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে এবং মাইন পাওয়া গেলে তা নিরাপদে বিস্ফোরণ বা অপসারণ করবে। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়, তাই এই পথটি মাইনমুক্ত রাখা বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। তেহরানের পক্ষ থেকে জলপথে টোল আদায়ের ঘোষণার পর এই মাইন পাতার বিষয়টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপ ইরানের নৌ-আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে। যদিও তেহরান দাবি করেছে যে তারা কেবল নিজেদের জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা একে ‘নৌ-সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করেছে। হরমুজ প্রণালিতে বর্তমানে ব্রিটিশ ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই আন্ডারওয়াটার ড্রোন মোতায়েন করার ফলে ওই অঞ্চলে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেল বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।
কুয়েতের শুয়াইখ ও মুবারক আল-কাবির—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুয়েতের সরকারি সূত্র জানায়, বুবিয়ান দ্বীপে অবস্থিত মুবারক আল-কাবির বন্দরে ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। এতে বন্দরের কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে একই দিনের সকালে কুয়েত সিটির নিকটবর্তী শুয়াইখ বন্দরে আলাদা আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানেও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কুয়েতের এই দুই বন্দরে হামলার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ।
কৃষ্ণ সাগরে রাশিয়ার বন্দর থেকে ছেড়ে আসা একটি তুর্কি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইস্তাম্বুলের বসফরাস প্রণালীর অদূরে সংঘটিত এই বিস্ফোরণে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন এতে থাকা ২৭ জন নাবিক। তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে সিয়েরা লিওনের পতাকাবাহী ‘আলতুরা’ নামক জাহাজটি যখন বসফরাস প্রণালী থেকে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরে ছিল, তখনই এই হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর থেকে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে আসা এই জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করেই মূলত হামলাটি চালানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্ফোরণের পরপরই তুর্কি কোস্টগার্ড দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, জাহাজটি প্রায় পূর্ণ বোঝাই ছিল এবং এর উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে রাশিয়ার তেল সরবরাহ করা। তুরস্কের জলসীমার ঠিক বাইরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ওই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক সহায়তা কেন্দ্রে শক্তিশালী ড্রোন হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানপন্থী একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী। প্রায় এক মিনিট দীর্ঘ ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে আসা একটি ড্রোন সরাসরি মার্কিন রাডার সিস্টেমে আঘাত হানছে এবং সাথে সাথে সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে। সিএনএন-এর ভৌগোলিক বিশ্লেষণে ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রেও হামলার শিকার ওই নির্দিষ্ট স্থানে রাডার সিস্টেমের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ভিডিওর পরবর্তী অংশে দেখা যায়, আরেকটি ড্রোন একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে, তবে সেটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে কি না তা স্পষ্ট হওয়ার আগেই ভিডিওটি শেষ হয়ে যায়। ভিডিওটিতে গত ২৩ মার্চের তারিখ উল্লেখ থাকলেও এর সঠিক সময় সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরান থেকে ছোড়া বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে বাহরাইন। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৪২টি ড্রোন ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে বাহরাইনের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, রকেট বা ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং সন্দেহজনক বস্তু থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক অভিযান বা হামলার স্থানের ভিডিও ধারণ না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনের এই দাবি পরিস্থিতির গুরুত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা তুলে ধরছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।