ভবিষ্যতে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এবার কানাডা ও মেক্সিকোকে সহ-আয়োজক হিসেবে রাখতে চান না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। শুক্রবার নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবারও বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারে, তবে সেটি এককভাবে করার সুযোগ দেওয়া উচিত। ট্রাম্প বলেন, “আমাদের আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়া উচিত। এবার মেক্সিকো ও কানাডাকে বাদ দিয়ে।” তিনি আরও বলেন, এরপরের বিশ্বকাপ অন্য কোনো দেশে আয়োজন করা যেতে পারে, যাতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে ভারসাম্য থাকে। ফিফা সভাপতির সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প আরেকটি ধারণার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে পারে। এতে খেলোয়াড়দের যাতায়াত সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। ট্রাম্প ২০২৬ সালের আয়োজনকে “ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রীড়া আয়োজন” হিসেবে উল্লেখ করেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও টুর্নামেন্টের সাফল্যের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বকাপ বিভিন্ন দেশের মানুষকে একত্রিত করেছে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আসরের ম্যাচগুলোতে রেকর্ডসংখ্যক দর্শক উপস্থিত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। প্রায় ৬৭ লাখ দর্শক মাঠে বসে খেলা দেখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ হতে পারে। আগামী বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগের জন্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। ২০৩৪ সালের আসর আয়োজন করবে সৌদি আরব। এরপর ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইসরায়েলকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এবার ইউরোপের ভেতরেই কূটনৈতিক ও ক্রীড়া পর্যায়ে চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নরওয়ে। রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) ইউরোপীয় ফুটবল মহলে এ বিষয়ে সমর্থন গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনএফএফ সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস। তিনি একজন আইনজীবী, নরওয়ে নারী জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় এবং বর্তমানে উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার মতে, কোনো দেশকে একতরফাভাবে বয়কট করার পরিবর্তে ফিফা ও উয়েফার আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। গত বছর অসলোতে নরওয়ে ও ইসরায়েলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে ক্লাভেনেস প্রকাশ্যে বলেন, নরওয়ে বিশ্বাস করে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা উচিত। তার ভাষায়, বিষয়টি মূলত ফুটবলের নিয়ম ও নীতিমালা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের প্রশ্ন। তবে নরওয়ে সেই ম্যাচ বয়কট করেনি। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, ম্যাচে অংশ না নিলে ইসরায়েল ওয়াকওভার পেয়ে যেত, যা তাদের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিত। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ম্যাচটি ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে জিতে নেয়। নরওয়ের অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি হলো ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের পর ফিফা ও উয়েফার নেওয়া সিদ্ধান্ত। সে সময় রাশিয়ার জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। ক্লাভেনেস এবং তার সমর্থকদের দাবি, এই দুই ঘটনার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ ফুটবলের নীতিমালা ও মানবাধিকারবিষয়ক মানদণ্ড সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন জানায়। তাদের অভিযোগের মধ্যে ছিল গাজায় সামরিক অভিযান, ফিলিস্তিনি ও আরব ক্রীড়াবিদদের প্রতি বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিতে অবস্থিত ক্লাবগুলোর ইসরায়েলি লিগে অংশগ্রহণ। মানবাধিকারবিষয়ক কয়েকজন আইনজীবীও দাবি করেছেন, বৈষম্যবিরোধী নীতি, মানবাধিকারবিষয়ক মানদণ্ড এবং অধিকৃত অঞ্চলে ক্লাব পরিচালনা সংক্রান্ত ফিফার বিভিন্ন বিধিমালা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন লঙ্ঘন করেছে। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরওয়ের সক্রিয় ভূমিকার ফলে বিষয়টি এখন আর শুধু আরব বা এশিয়ার ফুটবল সংস্থাগুলোর আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এদিকে অসলোতে নরওয়ে-ইসরায়েল ম্যাচকে ঘিরেও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির বিভিন্ন কর্মসূচি দেখা যায়। নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ম্যাচের টিকিট বিক্রির অর্থ গাজার চিকিৎসা সহায়তার জন্য দান করে। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে বহু দর্শক ফিলিস্তিনের পতাকা ও কেফিয়েহ প্রদর্শন করেন। স্টেডিয়ামে "শিশুদের বাঁচতে দাও" লেখা একটি ব্যানারও টানানো হয়। একই সময়ে স্টেডিয়ামের বাইরে শত শত বিক্ষোভকারী ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সমাবেশ করেন। চলতি বছরের মার্চে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ক্লাবগুলোর ইস্যুতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন নাকচ করে ফিফা। তবে বৈষম্য ও আপত্তিকর আচরণসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে সংস্থাটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়। এর পাশাপাশি ফিফা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বাধ্যতামূলক বৈষম্য প্রতিরোধ পরিকল্পনা গ্রহণ, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষা কার্যক্রম চালু, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার এবং ম্যাচে বৈষম্যবিরোধী বার্তা প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়। ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকজন ফুটবল কর্মকর্তা এ বিষয়ে ফিফা ও উয়েফার আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ফিফা বা উয়েফা।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় বালোগুনকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে রোববার ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি জানায়, ওই লাল কার্ডের কার্যকারিতা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারবেন এই মার্কিন ফরোয়ার্ড। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফোনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও ফোনালাপ সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো পক্ষই বিস্তারিত জানায়নি। এদিকে দ্য গার্ডিয়ান এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-ও পৃথক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বালোগুনের লাল কার্ড পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে হোয়াইট হাউস ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তবে ওই প্রতিবেদনে ট্রাম্প নিজে ফোন করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ফিফার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি লেখেন, "সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ। একটি বড় অন্যায়ের অবসান হয়েছে।" তবে ওই পোস্টে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কোনো ফোনালাপের উল্লেখ করেননি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সংস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে ফিফার নবপ্রবর্তিত 'ফিফা পিস প্রাইজ' প্রদান করেন, যা দুই পক্ষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একটি আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়দের শাস্তি ও শৃঙ্খলাবিষয়ক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তবে ট্রাম্পের কথিত ফোনালাপ ফিফার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলেছিল কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চললেও ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে ক্রীড়াঙ্গন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রায় ৫০ জন সদস্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভূমিকা এবং পুরস্কার প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি অত্যন্ত অস্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করেন। ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ চলাকালে সোমবার (২৯ জুন) ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য ফিফার নেতৃত্ব এবং সংস্থাটির তথাকথিত স্বাধীন নীতিশাস্ত্র কমিটির কাছে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন আয়ারল্যান্ডের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, নেদারল্যান্ডসের লারা ওলটার্স এবং ডেনমার্কের নিলস ফুগলসাং। ফরাসি দৈনিক ল্য মোঁদ-এর দেখা ওই চিঠিতে আইনপ্রণেতারা ফিফার নীতিশাস্ত্র কমিটিকে ইনফান্তিনোর ভূমিকা এবং পুরস্কার প্রদানের "অত্যন্ত অস্পষ্ট পরিস্থিতি" সর্বোচ্চ দ্রুততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করার আহ্বান জানান। ল্য মোঁদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ফিফার ১০ জনেরও কম কর্মী যুক্ত ছিলেন, যদিও এর অর্থায়ন করেছিল সংস্থাটি নিজেই।প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবানিজ-ইতালীয়-সুইস বংশোদ্ভূত ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নির্দেশ দিয়েছিলেন, পুরো উদ্যোগটি যেন সংস্থার অভ্যন্তরে গোপন রাখা হয়। এরপর থেকে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদর দপ্তরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ল্য মোঁদের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠানে আয়োজিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে বা পরে ইনফান্তিনো ফিফা কাউন্সিলের কোনো সদস্যকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেননি। চিঠিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা জানান, তারা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার ফিফার নীতিশাস্ত্র কমিটির কাছে যে অভিযোগ দায়ের করেছিল, তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। পরে ২০২৬ সালের ২ জুন নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনও ওই অভিযোগের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায়। আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেয়ারস্কয়ার অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষে ইনফান্তিনোর প্রকাশ্য অবস্থানের মাধ্যমে তিনি ফিফার নীতিশাস্ত্র বিধির ১৫ নম্বর ধারায় উল্লেখিত রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার দায়িত্ব চারবার লঙ্ঘন করেছেন।এ ছাড়া, একাধিক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ফিফা কাউন্সিলকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পুরস্কার প্রদানের চূড়ান্ত প্রক্রিয়াও এখনো স্পষ্ট নয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই টিকিটের উচ্চ মূল্য এবং ভিসা-সংক্রান্ত নানা সমস্যার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদের মতে, এসবের মধ্যেও সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান। চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বকাপ চলাকালে যখন বিশ্বের দৃষ্টি ফিফার দিকে, তখন সংস্থাটির উচিত ফেয়ারস্কয়ারের নীতিশাস্ত্রবিষয়ক অভিযোগ নিষ্পত্তি করে ন্যায্যতা, সমতা ও মানব মর্যাদার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার প্রমাণ করা। আইনপ্রণেতাদের মতে, এই তদন্ত ফিফার জন্য রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ব্যারি অ্যান্ড্রুজ ল্য মোঁদকে বলেন, বিশ্বকাপ বিশ্বের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন এবং এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষকে একত্রিত করা। তিনি বলেন, "ফিফার সভাপতি যখন একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে অন্যজনের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেন, তখন তা ফিফা এবং পুরো বিশ্বকাপের সুনাম ক্ষুণ্ন করে।" অ্যান্ড্রুজ জানান, তাদের একমাত্র দাবি হলো প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ ট্রাম্পকে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া যেন নীতিশাস্ত্র কমিটি পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে। ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্বেগ এই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বহু ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা ২০৩৪ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে সৌদি আরবকে নির্বাচনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ফিফা সভাপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির কোনো জবাব ফিফা দেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বরং অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ফিফা সৌদি আরবের জাতীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে একটি বড় পৃষ্ঠপোষকতা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ল্য মোঁদের পর্যালোচনা করা একটি চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে ফিফা লন্ডনভিত্তিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেন টোজ মিডিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি করে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত সেবা প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৩০ লাখ ইউরো পরিশোধ করবে ফিফা। এর আওতায় ফিফা এবং সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগ কার্যক্রম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার দায়িত্বও রয়েছে। এ বিষয়ে ল্য মোঁদকে পাঠানো এক ই-মেইলে ফিফা জানায়, কোনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কেবল একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব পরিচালনা করে এমন দাবি "মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর"। সংস্থাটি আরও জানায়, ব্যক্তিগত চুক্তির তথ্য প্রকাশ করা হলে প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ফিফা সংরক্ষণ করে। ফিফার ভাষ্য, বিশ্বের অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক সংস্থার মতো ব্যস্ত সময়ে, বিশেষ করে বিশ্বকাপ চলাকালে, জনবল ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যক্রমে নমনীয়তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হয়। তবে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ কিংবা ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের পাঠানো চিঠি সম্পর্কে ল্য মোঁদের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি ফিফা।
চলতি বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচেই বড় ধরনের ধাক্কা খেল দক্ষিণ আফ্রিকা দল। মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেই তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন দলের অভিজ্ঞ ফুটবলার থেম্বা জোয়ানে। তার এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল দল। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটিতে শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। ম্যাচটিতে রেফারির দায়িত্বে ছিলেন ব্রাজিলের উইলটন সাম্পাই। পুরো ম্যাচ জুড়ে রেফারি কঠোর অবস্থানে ছিলেন এবং ম্যাচটিতে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখান। এর মধ্যে মেক্সিকোর একজন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার দুইজন খেলোয়াড় লাল কার্ডের মুখে পড়েন। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে হিংসাত্মক আক্রমণের (ভায়োলেন্ট কন্ডাক্ট) দায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার থেম্বা জোয়ানেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ম্যাচ শেষে ফিফার ডিসিপ্লিনারি বা শৃঙ্খলা কমিটি ঘটনাটি পর্যালোচনা করে তাকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়। ফিফা তাদের এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিফার শৃঙ্খলাজনিত কমিটি মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখা ফুটবলার থেম্বা জোয়ানেকে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কোডের ১৪ নং অনুচ্ছেদের ১(ই) প্যারাগ্রাফ অনুযায়ী তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফার আপিল কমিটিতে আপিল করার সুযোগ পাবেন এই ফুটবলার।’ এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে গ্রুপ পর্বের বাকি দুটি ম্যাচ এবং দল যদি নক-আউট পর্ব বা 'রাউন্ড অব ৩২'-তে উঠতে পারে, তবে সেই ম্যাচটিতেও মাঠে নামতে পারবেন না জোয়ানে। গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের পরবর্তী ম্যাচটি খেলবে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে এবং শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দক্ষিণ কোরিয়ার। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচগুলোর আগে জোয়ানের মতো খেলোয়াড়কে হারানো দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অনেক বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উত্তর আমেরিকায় ফুটবলে প্রথম লাথি পড়ার আগেই সারা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের চোখ নিবদ্ধ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিকে। গতকাল বৃহস্পতিবার, ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠেছে ফুটবলের এই বিশ্ব আসরের। যারা একইসাথে ফুটবল এবং পপ কালচার ভালোবাসেন, তাদের কাছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটির মতোই কাঙ্ক্ষিত এই আয়োজনের পারফরম্যান্সগুলো। এবারের বিশ্বকাপ বেশ কয়েকটি কারণে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। ফিফার ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি আয়োজক দেশ—মেক্সিকো, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আলাদাভাবে উদ্বোধনী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই তিন দেশে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও সংগীতের মেলবন্ধন ঘটাতে একমঞ্চে জড়ো হচ্ছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতনামা সব তারকারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে নিঃসন্দেহে সবার নজর থাকছে পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরার দিকে। ফিফা বিশ্বকাপে তার এই প্রত্যাবর্তন বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তের মনে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস তারকা বার্না বয়কে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং "দাই দাই" পরিবেশন করবেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, শাকিরার এই পারফরম্যান্স এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম সেরা ও আইকনিক একটি মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি কে-পপ ভক্তদের জন্য দারুণ এক চমক নিয়ে আসছেন বিখ্যাত গ্রুপ ব্ল্যাকপিংক-এর তারকা লিসা। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন তিনি, যা ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তার ভক্তদের মাঝে বিপুল উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে। লিসার পাশাপাশি একই মঞ্চে পারফর্ম করার কথা রয়েছে জনপ্রিয় মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরিরও। কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী আয়োজনটিও বাংলাদেশিদের জন্য বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, কানাডার লাইনআপে জনপ্রিয় তারকা নোরা ফাতেহির পাশাপাশি পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রডিউসার ও ডিজে সঞ্জয়। এমন একটি বিশাল বৈশ্বিক মঞ্চে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত কাউকে পারফর্ম করতে দেখাটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এবারের উদ্বোধনী উৎসবকে সবচেয়ে বেশি স্পেশাল করে তুলেছে এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। কেউ ল্যাটিন পপ, আফ্রোবিটস, ওয়েস্টার্ন পপ কিংবা কে-পপ—যে ঘরানার গান শুনেই বড় হোক না কেন, এই তারকাবহুল লাইনআপে সবার জন্যই পরিচিত কোনো না কোনো সুর থাকছে। বিশ্বকাপের এই রোমাঞ্চ প্রমাণ করে যে, এই টুর্নামেন্ট মানে কেবল গোল আর ম্যাচের হিসাব-নিকাশ নয়; বরং এটি সীমানা পেরিয়ে আইকনিক পারফরম্যান্স ও বিশ্ববাসীর একতাবদ্ধ হওয়ার এক অভাবনীয় উদযাপন।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তুমুল সমালোচনা চললেও মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক একেবারে বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে তারা নিজেদের ঐতিহাসিক অধিকার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটির আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে এই বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। এই ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৬০-এর দশকে আজটেকা স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ ৬০০টি বক্স ও প্রায় ৮ হাজার গ্যালারি আসন আগাম বিক্রি করে। তখন ক্রেতাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে আয়োজিত যেকোনো ইভেন্ট তারা অতিরিক্ত কোনো টিকিট ছাড়াই দেখতে পারবেন। বর্তমানে এই সুবিধাভোগীদের মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই আসনগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও ফিফা ও স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আসনগুলো নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনার চেষ্টা করলে আসন মালিকদের সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত আসন মালিকদের পক্ষেই রায় দেয় এবং এই আসনগুলো বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে। আসন মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা আদালতের এই স্বীকৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে না পৌঁছানোয় তিনি সতর্ক করে বলেছেন, স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলে তারা আবারও বলপ্রয়োগের আইনি ব্যবস্থা চাইবেন। সমস্ত নাটকীয়তার মধ্যেও ১৪ হাজার আসনের মালিকরা ফ্রিতে এই বিশ্বমঞ্চের উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখছেন।
২০২৬ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা এখনই চরমে। তবে ফুটবল প্রেমীদের জন্য এবার এক চমকে দেওয়ার মতো খবর সামনে এসেছে। বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম হাঁকানো হচ্ছে অবিশ্বাস্য ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ কোটি টাকারও বেশি! সম্প্রতি টিকিট পুনঃবিক্রয়কারী একটি প্ল্যাটফর্মে এই চড়া দাম লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত ফিফা কর্তৃক নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি দামে টিকিট রিসেল বা পুনঃবিক্রয় করার ঘটনা নতুন নয়, তবে ২০ লাখ ডলারের এই অঙ্ক সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। যদিও ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ জনগণের জন্য টিকিটের মূল্য তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে রিসেলারদের এমন কর্মকাণ্ডে ফুটবল ভক্তদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় টিকিটের সংখ্যা কম হওয়ায় কালোবাজারি এবং বিভিন্ন থার্ড পার্টি ওয়েবসাইটগুলো এই সুযোগ নিচ্ছে। ফিফা বরাবরই দর্শকদের সতর্ক করে আসছে যেন তারা কেবল অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকেই টিকিট সংগ্রহ করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে, ফলে ম্যাচ এবং টিকিটের সংখ্যা বাড়লেও ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের টিকিটের জন্য দর্শকদের বড় অঙ্কের অর্থই গুণতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে সরিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার এক বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি। ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনোর কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ফুটবলের ঐতিহ্যের খাতিরেই ইতালির বিশ্বকাপে থাকা জরুরি। উল্লেখ্য, বাছাইপর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ইতালি এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবটি মূলত ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল। পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের করা কিছু মন্তব্যে ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ক্ষুব্ধ হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ফিফার অভ্যন্তরে এই প্রস্তাব নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ একে ‘নগ্ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। ইরান এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, তারা মাঠের লড়াইয়ে যোগ্যতা অর্জন করেই বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচ মেক্সিকোতে আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে। ফিফার ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির এমন চেষ্টার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোও। ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য এই প্রস্তাবে সায় দেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান বাছাইপর্ব পেরিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে এবং কোনো দেশের রাজনৈতিক চাপের মুখে তাদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন প্রস্তাব ফুটবল বিশ্বে অস্থিরতা ও চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর প্রহর যত ঘনিয়ে আসছে, দর্শকদের মাঝে টিকিটের চাহিদাও আকাশচুম্বী হচ্ছে। এই উন্মাদনার মাঝেই ফুটবল ভক্তদের জন্য নতুন খবর জানাল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের জন্য নতুন করে আরও কিছু টিকিট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এবার টিকিটের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নতুন এবং আগের চেয়ে বেশ ব্যয়বহুল কিছু ক্যাটাগরি। নতুন ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ এবং দামের ঊর্ধ্বগতি ফিফা জানিয়েছে, বুধবার থেকে তাদের অফিশিয়াল পোর্টালে ১, ২ এবং ৩ নম্বর ক্যাটাগরির পাশাপাশি নতুন একটি ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’র টিকিট পাওয়া যাবে। মূলত স্টেডিয়ামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলো থেকে খেলা দেখার সুযোগ দিতেই এই প্রিমিয়াম স্তরটি চালু করা হয়েছে। তবে এই নতুন স্তরের টিকিটের দাম সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের পকেটে বেশ চাপ ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টিকিটের এই নতুন মূল্যতালিকা এবং বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক ভক্ত অভিযোগ করেছেন, তারা আগে যখন টিকিট কিনেছিলেন, তখন সেরা সিটগুলো হয়তো সাধারণ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়নি। এখন সেই ভালো সিটগুলোকেই ‘ফ্রন্ট ক্যাটাগরি’ বা দামি ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে বেশি মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত ডিসেম্বরে যখন প্রথম দফায় টিকিট বিক্রি শুরু হয়, তখন সর্বনিম্ন ক্যাটাগরি-৩ এর টিকিটের দাম ছিল ১৪০ ডলার। আর ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ধরা হয়েছিল ৮,৬৮০ ডলার। তবে এপ্রিলের শুরুতে টিকিট পোর্টাল পুনরায় চালু হলে দেখা যায় কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দাম ১০,৯৯০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো—এই তিন দেশে যৌথভাবে আয়োজিত হতে যাওয়া ইতিহাসে সর্ববৃহৎ (৪৮ দলের) এই বিশ্বকাপকে ঘিরে টিকিটের চাহিদা যেমন তুঙ্গে, তেমনি যাতায়াত এবং সিটের উচ্চমূল্য সাধারণ সমর্থকদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক এলাকায় জনপরিবহন বা যাতায়াত খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির ঘোষণায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ যাত্রী ও ফুটবল প্রেমীদের ওপর এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন শীর্ষ রাজনীতিবিদরা। তবে এই ঘটনায় উল্টো ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশন থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট ভাড়া ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। স্বাভাবিক সময়ে এই রুটের ভাড়া মাত্র ১২.৯০ ডলার। অর্থাৎ যাতায়াত খরচ বাড়ছে প্রায় ১০ গুণ! একইভাবে বোস্টন থেকে ফক্সবরো পর্যন্ত বাস ভাড়া ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "ফিফা এই বিশ্বকাপ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করবে, অথচ নিউ জার্সির সাধারণ মানুষকে যাতায়াতের জন্য কোটি কোটি ডলারের বোঝা বইতে হবে—এটা হতে দেওয়া যায় না। ফিফাকেই এই খরচ বহন করতে হবে।" সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারও সুর মিলিয়েছেন। তিনি বলেন, "ফিফাকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে এবং আয়োজক শহরগুলোর পরিবহন খরচ ভর্তুকি দিতে হবে। সাধারণ মানুষকে এভাবে শোষিত হতে দেওয়া যাবে না।" এই সমালোচনার জবাবে ফিফা জানিয়েছে, তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন আচরণে অত্যন্ত বিস্মিত। ফিফার একজন মুখপাত্র জানান, ২০১৮ সালের প্রাথমিক চুক্তিতে ভক্তদের জন্য যাতায়াত ফ্রি রাখার কথা থাকলেও ২০২৩ সালে আয়োজক শহরগুলোর আর্থিক চাপের কথা বিবেচনা করে ফিফা নিয়মে পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দর্শকদের 'মূল্য পরিশোধ' করেই যাতায়াত করতে হবে। ফিফার দাবি, তারা এর আগে ফেডারেল ফান্ডিংয়ের জন্য লবিং করে আয়োজকদের সহায়তা করেছে। এছাড়া আগে নিউ জার্সিতে হওয়া কোনো কনসার্ট বা ক্রীড়া ইভেন্টে আয়োজকদের পরিবহন খরচ দেওয়ার নজির নেই বলেও তারা দাবি করে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুন-জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ। নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক এলাকায় ফাইনালসহ মোট ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু যাতায়াত খরচের এই বিতর্ক বিশ্বকাপের আনন্দকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিচ্ছে সাধারণ দর্শকদের কাছে।এখন দেখার বিষয়, ফুটবল প্রেমীদের কথা বিবেচনা করে ফিফা শেষ পর্যন্ত কোনো ছাড় দেয় কি না।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর প্রহর যখন ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মোড় নিতে পারে বিশ্বমঞ্চের সমীকরণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আর এই সুযোগে কপাল খুলতে পারে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির। টানা দুইবার বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া আজ্জুরিদের জন্য এটি হতে পারে এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে ফিফার ওপর চাপ বাড়ছে ইরানকে এই আসর থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তারা ইরানকে খেলায় দেখতে চান, তবুও পর্দার আড়ালে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে গুঞ্জন থামছে না। ইতালীয় ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি বিষয়টিকে 'খুবই ক্ষীণ সম্ভাবনা' বলে অভিহিত করলেও ফুটবল বিশ্বে গুঞ্জন রয়েছে যে, ইরান বাদ পড়লে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা ইতালিকেই মূল আসরে জায়গা দেওয়া হতে পারে। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরান বাদ পড়লে সেই জায়গায় এশিয়ার অন্য কোনো দল—যেমন ইরাক বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুযোগ পাওয়ার কথা। ইতালির সমর্থকরা যেখানে টানা ১২ বছর বিশ্বকাপের স্বাদ না পেয়ে হতাশায় ডুবে আছে, সেখানে এই খবরটি তাদের মনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ফিফা কি নিয়মের বেড়াজালে এশিয়ার কোনো দেশকেই বেছে নেবে, নাকি বানিজ্যিক ও ফুটবলীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ইতালিকে ফেরানো হবে বিশ্বমঞ্চে—তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ঘিরে ইরান জাতীয় দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নিজেদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। ইরান ফুটবল ফেডারেশন (আইএফএফ) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। রোববার তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি বলেন, ফিফা যদি এই অনুরোধ গ্রহণ না করে, তাহলে বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। তিনি আরও জানান, দলকে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলার বিষয়ে সরকারের অবস্থান কঠোর। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া গেলে তবেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফিফার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। ইরানের প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ২২ জুন একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে তারা। আর ২৬ জুন সিয়াটলে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলবে দলটি। ফিফার সিদ্ধান্ত এখন ইরানের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনায় পানি ঢেলে দিল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম ১১ হাজার ডলার স্পর্শ করায় বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সাধারণ দর্শকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া এই মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ফিফার ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। টিকিট বিক্রির চূড়ান্ত পর্বে দেখা গেছে, ফাইনালের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম বর্তমানে ১০,৯৯০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সর্বোচ্চ মূল্যের টিকিটের (১,৬০৪ ডলার) তুলনায় এবারের দাম প্রায় সাত গুণ বেশি। কেবল এক নম্বর ক্যাটাগরিই নয়, ক্যাটাগরি-২ এবং ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত। টিকিট বিক্রির এই 'লাস্ট-মিনিট সেল' প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক দর্শক টিকিট কাটার সময় গোলযোগের মুখে পড়েছেন, যা তাদের অসন্তোষকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে এই সমালোচনাকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার মতে, টিকিটের এই আকাশছোঁয়া দাম মূলত 'বিপুল চাহিদার' প্রতিফলন। উল্লেখ্য, আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ফুটবল মহাযজ্ঞের প্রায় ৭০ লক্ষ টিকিটের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি বিক্রি হয়ে গেছে।
বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনার পারদ চড়তে শুরু করেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে। আর এই উন্মাদনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করতে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক সুখবর নিয়ে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং মার্কিন প্রশাসন। যারা গ্যালারিতে বসে সরাসরি খেলা দেখার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল করতে চালু করা হয়েছে বিশেষ পদ্ধতি ‘ফিফা পাস’। ‘ফিফা পাস’ বা ‘ফিফা প্রায়োরিটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলিং সিস্টেম’ হলো এমন এক বিশেষ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপের টিকিটধারীরা মার্কিন দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের তুলনায় দ্রুত ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকারের সময় পাবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো যেসব দেশে বর্তমানে মার্কিন ভিসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সেই সব দেশের সমর্থকদের জন্য এটি একটি গেম-চেঞ্জার হতে যাচ্ছে। প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও সুশৃঙ্খল। টিকিটধারীরা ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (FIFA.com) থেকে তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করে ‘FIFA PASS’ অপশনটি বেছে নিতে পারবেন। এরপর মার্কিন ভিসার আবেদনপত্র (DS-160 ফর্ম) পূরণ করার সময় নিজেকে ‘ফিফা টিকিট হোল্ডার’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। তথ্য যাচাই সম্পন্ন হলেই আবেদনকারীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাক্ষাৎকারের তারিখ প্রদান করা হবে। সুবিধা পাবেন যারা: সরাসরি ফিফা থেকে বিশ্বকাপের বৈধ টিকিট ক্রয়কারীগণ। টিকিটধারীর সাথে থাকা স্বামী/স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরাও এই অগ্রাধিকার সুবিধার আওতায় থাকবেন। আবেদনকারীর তথ্যের সাথে টিকিট ক্রয়ের তথ্যের শতভাগ মিল থাকতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘ফিফা পাস’ কেবল ইন্টারভিউয়ের দীর্ঘ লাইন এড়িয়ে দ্রুত সময়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। এটি কোনোভাবেই ভিসা পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা নয়। সাধারণ আবেদনকারীদের মতো টিকিটধারীদেরও কঠোর নিরাপত্তা যাচাই এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই ভিসা অর্জন করতে হবে। উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের এই বিশাল আসরের অধিকাংশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। বিপুল সংখ্যক দর্শকের চাপ সামলাতে এবং ভিসা প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখতে মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ কনস্যুলার অফিসার নিয়োগ দিয়েছে। ভিড় এড়াতে কর্তৃপক্ষ এখনই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে।
ফিফা র্যাংকিংয়ে আবারও পেছাল বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত ফিফার মার্চ উইন্ডোর আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসায় এক ধাপ অবনতি হয়েছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। আজ প্রকাশিত ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৮০ থেকে ১৮১তম অবস্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপ বাছাই ও প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচে টানা দুই পরাজয়ে বড় মাসুল দিতে হলো জামাল ভূঁইয়াদের। গত ২৬ মার্চ নিজেদের চেয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের পর, গতকাল সিঙ্গাপুরের কাছেও ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। এই দুই হারের ফলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট কমেছে ৯.১৮। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করে আজ বুধবার বিকেলে ঢাকায় ফিরেছে জাতীয় ফুটবল দল। ফুটবলাররা এখন ঘরোয়া লিগের খেলায় মনোযোগ দেবেন। এদিকে, সিঙ্গাপুর থেকেই সরাসরি ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন হামজা চৌধুরী। এছাড়া সামিত, তারিক কাজী ও জায়ান আহমেদ যথাক্রমে কানাডা, ফিনল্যান্ড ও দুবাইয়ের পথে ঢাকা ছেড়েছেন। দলের স্প্যানিশ প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা ঢাকায় ফিরলেও তার ভবিষ্যৎ এবং পুনরায় স্পেনে ফিরে যাওয়া নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটালেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। উদ্ভূত রাজনৈতিক জটিলতা এবং নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা উড়িয়ে দিয়ে ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়েছেন—ইরান বিশ্বকাপে খেলবে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই খেলবে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা প্রধান বলেন, “ইরান বিশ্বকাপে থাকছে। আমাদের কাছে অন্য কোনো ‘প্ল্যান বি’ নেই।” গ্রুপ পর্বে ইরানের অধিকাংশ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা থাকলেও দুই দেশের উত্তপ্ত রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে তেহরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস থেকে ইরানের প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার ব্যাপারে ব্যক্তিগত নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য, এই মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা ও জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে দেশটিকে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর পরপরই ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত দেশগুলোতে জাতীয় দলের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যা বিশ্বকাপের আসরে ইরানের উপস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে। ফিফার এই অনড় অবস্থানের পর এখন দেখার বিষয়, তেহরান তাদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তুরস্কে অনুষ্ঠিত ইরান ও কোস্টারিকার প্রীতি ম্যাচ চলাকালে তিনি এই ঘোষণা দেন। এর আগে নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বকাপ থেকে ইরানের নাম প্রত্যাহারের গুঞ্জন উঠলেও ইনফান্তিনো যাবতীয় শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে জানান, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে। ফিফা প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে তিনি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন এবং হোয়াইট হাউস থেকে ইরানি খেলোয়াড় ও প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা ও অবাধ প্রবেশের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইরান তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তা নাকচ করে দিয়েছিল। ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, এই বিষয়ে ফিফার কাছে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ নেই। কয়েকদিন আগে রাজনৈতিক ইস্যুতে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও ফিফা প্রেসিডেন্টের সরাসরি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ইনফান্তিনো জানান, ফুটবলের শক্তির মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক বাধাগুলো অতিক্রম করতে চান। ফিফা প্রেসিডেন্ট এবং ইরানি দলের খেলোয়াড় ও কোচের মধ্যে আলোচনার পর এখন টুর্নামেন্টে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে সব অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। সূত্র: আলজাজিরা
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে ইরান, বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ড ইরানের মুখোমুখি হবে। নিউজিল্যান্ডের ফুটবলাররা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ইরানের বিপক্ষে ম্যাচ খেললেও তাদের কোনো আপত্তি নেই। মধ্যপ্রাচ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। ইরান ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই ফিফার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ম্যাচ সরানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু করার কথা জানিয়েছিল। তবে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব বিবেচনা করবে না বলে জানিয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহদী তাজ স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা আমেরিকাকে বয়কট করব, কিন্তু বিশ্বকাপকে নয়।” তুরস্কে অনুশীলন ক্যাম্পের মাধ্যমে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে ইরান। দুইটি প্রীতি ম্যাচও তারা খেলবে। নিউজিল্যান্ডের মিডফিল্ডার রায়ান টমাস বলেন, “আমাদের যদি মেক্সিকো বা কানাডায় গিয়ে ইরানের বিপক্ষে খেলতে হয়, আমরা সেখানেই খেলব। এটি আমাদের জন্য বড় কোনো সমস্যা নয়।” ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। নিউজিল্যান্ডের মূল বেস ক্যাম্প দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো শহরে হবে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম জানিয়েছেন, দেশটি ইরানের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। তবে চূড়ান্ত ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ফিফার ওপর নির্ভর করছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।