খেলাধুলা

ক্যাবরেরার অদক্ষতায় ফিফা র‍্যাংকিংয়ে বড় ধাক্কা, ইংল্যান্ডে ফিরলেন হামজা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ১, ২০২৬ ১:৩৩
হামজা চৌধুরী।
হামজা চৌধুরী।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে আবারও পেছাল বাংলাদেশ। সদ্য সমাপ্ত ফিফার মার্চ উইন্ডোর আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না আসায় এক ধাপ অবনতি হয়েছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। আজ প্রকাশিত ফিফা র‍্যাংকিংয়ে ১৮০ থেকে ১৮১তম অবস্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ।


এশিয়ান কাপ বাছাই ও প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচে টানা দুই পরাজয়ে বড় মাসুল দিতে হলো জামাল ভূঁইয়াদের। গত ২৬ মার্চ নিজেদের চেয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের পর, গতকাল সিঙ্গাপুরের কাছেও ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। এই দুই হারের ফলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট কমেছে ৯.১৮।


সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করে আজ বুধবার বিকেলে ঢাকায় ফিরেছে জাতীয় ফুটবল দল। ফুটবলাররা এখন ঘরোয়া লিগের খেলায় মনোযোগ দেবেন। এদিকে, সিঙ্গাপুর থেকেই সরাসরি ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন হামজা চৌধুরী। 


এছাড়া সামিত, তারিক কাজী ও জায়ান আহমেদ যথাক্রমে কানাডা, ফিনল্যান্ড ও দুবাইয়ের পথে ঢাকা ছেড়েছেন। দলের স্প্যানিশ প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা ঢাকায় ফিরলেও তার ভবিষ্যৎ এবং পুনরায় স্পেনে ফিরে যাওয়া নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

খেলাধুলা

View more
ছবি: সংগৃহীত
আবার ফাইনালে দেখা হলে আর্জেন্টিনাকে হারাব: এমবাপের হুঁশিয়ারি

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালকে আধুনিক ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেও শিরোপার স্বাদ পাননি ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। টাইব্রেকারের নাটকীয়তায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতে নেয় আর্জেন্টিনা। চার বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপের আসর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে সম্ভাব্য আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনাল।   সেই সম্ভাবনার মধ্যেই আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছেন Kylian Mbappé। ফরাসি অধিনায়ক জানিয়েছেন, আবারও যদি বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে ফ্রান্স জয়ের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামবে। ইতালীয় সাংবাদিক Fabrizio Romanoর এক প্রশ্নের জবাবে এমবাপে বলেন, ফ্রান্স সবসময় জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলে এবং দলটি এখনো সেই একই মানসিকতা ধরে রেখেছে। তার ভাষায়, তারা ক্ষুধার্ত, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। ফরাসি এই তারকা বলেন, "আমরা সবসময় যেমন থাকি, তেমনি জয়ের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও ক্ষুধার্ত থাকব।"   শুধু ভালো ফল নয়, পুরো টুর্নামেন্ট জয়ের লক্ষ্য নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে ফ্রান্স। এমবাপের মতে, তাদের সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং নতুন ইতিহাস লেখা। তিনি বলেন, "আমরা ইতিহাস গড়তে এসেছি। এখনও সেটা করতে পারিনি। আমরা এই বিশ্বকাপ জিততে চাই।"   বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে এবারও টুর্নামেন্ট শুরু করেছে France national football team। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন Argentina national football teamও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। ফলে দুই দলের সম্ভাব্য আরেকটি ফাইনাল নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।   ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে এমবাপের হ্যাটট্রিকও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে শিরোপা এনে দিতে পারেনি। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ৩-৩ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে Lionel Messi এবং এমবাপের পারফরম্যান্স ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দ্বৈরথ হিসেবে বিবেচিত হয়।   আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের বিশ্বকাপ লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্স ৪-৩ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিদায় করেছিল। সেই ম্যাচে তরুণ এমবাপের অসাধারণ পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছিল। চার বছর পর কাতারের ফাইনালে সেই পরাজয়ের জবাব দেয় আর্জেন্টিনা।   দুই তারকার মধ্যে বিশ্বকাপের গোলসংখ্যা নিয়েও চলছে আকর্ষণীয় প্রতিযোগিতা। মেসির বিশ্বকাপ গোল বর্তমানে ১৩টি। সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা Miroslav Kloseর ১৬ গোলের রেকর্ড ভাঙতে তার প্রয়োজন আরও চারটি গোল। অন্যদিকে মাত্র দুটি বিশ্বকাপ খেলেই এমবাপের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২-তে। রেকর্ড স্পর্শ করতে তার প্রয়োজন আরও পাঁচ গোল।   টুর্নামেন্টের নকআউট সূচি অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স নিজ নিজ গ্রুপ থেকে পরবর্তী পর্বে উঠতে পারলে তারা ভিন্ন অংশে অবস্থান করবে। ফলে শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা সেমিফাইনালে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ নেই। দুই দলের দেখা হতে পারে শুধুমাত্র ফাইনালে।   সেই কারণে ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এখন থেকেই আরেকটি আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ফাইনালের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। আর যদি সত্যিই সেই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ২০২২ সালের ঐতিহাসিক ফাইনালের নতুন অধ্যায় দেখার সুযোগ পাবে বিশ্ব ফুটবল।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৪:৪৫
ছবি: সংগৃহীত

ভিনিসিয়ুসকে থামানোর ঘোষণা হাকিমির, ব্রাজিলকে ফেভারিট মানছেন না মরক্কো অধিনায়ক

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ইংল্যান্ড শিবিরে অস্বস্তি, চুরি হলো ট্রেনিং সরঞ্জাম

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা, নজর কাড়লেন সঞ্জয় দেব

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে দারুণ সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের, প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন বালোগুন

লস অ্যাঞ্জেলেস: ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল দুর্দান্ত এক জয়ে। ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের জোড়া গোলে ভর করে প্যারাগুয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়ে জয় তুলে নেয় মরিসিও পোচেত্তিনোর দল।   এই জয়ের মাধ্যমে শুধু তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও একটি বিশেষ রেকর্ডের অংশ হয়ে গেছে দলটি। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ে ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর এটিই বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি।   ম্যাচের নায়ক ছিলেন ২৪ বছর বয়সী ফোলারিন বালোগুন। জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপের এক ম্যাচে একাধিক গোল করা মাত্র দ্বিতীয় মার্কিন ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। এর আগে ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষেই বার্ট প্যাটেনডিউড এক ম্যাচে তিন গোল করেছিলেন।   প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে জমজমাট পরিবেশে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর প্রথম গোল পেতে যুক্তরাষ্ট্রকে অপেক্ষা করতে হয় মাত্র সাত মিনিট। আক্রমণের সূচনা করেন দলের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ। দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে তিনি বল বাড়িয়ে দেন ওয়েস্টন ম্যাককেনির কাছে। ম্যাককেনির কাটব্যাক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া। আত্মঘাতী সেই গোলেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।   প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি আক্রমণ চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ২৮ মিনিটে বালোগুনের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও মাত্র তিন মিনিট পর আর ভুল করেননি তিনি। পুলিসিচের নিখুঁত পাস থেকে শক্তিশালী শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোনাকো তারকা।   এরপর ৪১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন বালোগুন। মালিক টিলম্যানের বাড়ানো বল ধরে ডিফেন্ডার ওমার আলদেরেতেকে পেছনে ফেলে গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে পরাস্ত করে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান তিনি।   প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। তবে ম্যাচের ধারার বিপরীতে ৬৫ মিনিটে একটি গোল শোধ দেয় প্যারাগুয়ে। সাবেক ব্রাইটন ফরোয়ার্ড হুলিও এনসিসোর পাস থেকে ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার মাউরিসিও গোল করে ব্যবধান কমান।   তবে প্যারাগুয়ের সেই প্রত্যাবর্তনের আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় জিওভানি রেইনা অসাধারণ এক গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের জয়কে আরও উজ্জ্বল করে তোলেন। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে ডান পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে নেওয়া তার বাঁকানো শট সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। ম্যাচের শেষ কিকেই আসে দর্শনীয় এই গোল।   বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পী ক্যাটি পেরিসহ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকা অংশ নেন। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম ও হলিউড তারকা টম ক্রুজও।   তবে মাঠের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বালোগুন। নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে ইংল্যান্ডে চলে যান এবং আর্সেনালের একাডেমিতে বেড়ে ওঠেন। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেললেও ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।   আর্সেনালে সুযোগ সীমিত থাকায় মিডলসব্রো ও পরে ফ্রান্সের রেইমসে ধারে খেলতে যান বালোগুন। রেইমসের হয়ে ২০২২-২৩ মৌসুমে ২১ গোল করে আলোচনায় আসেন এবং পরে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ফরাসি ক্লাব মোনাকোতে যোগ দেন।   সাম্প্রতিক মৌসুমেও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। ২০২৫-২৬ মৌসুমে মোনাকোর হয়ে ১৩ লিগ ম্যাচে ৯ গোল করেছেন। সেই ধারাবাহিকতাই বিশ্বকাপের মঞ্চেও ধরে রাখলেন এই ফরোয়ার্ড।   ম্যাচ শেষে ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, বালোগুনের নেতৃত্বে আক্রমণভাগ যদি একই ছন্দে খেলতে পারে, তাহলে এবারের বিশ্বকাপে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে যুক্তরাষ্ট্র।   বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে এমন আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স স্বাগতিকদের জন্য বড় প্রাপ্তি। ১৯৯৪ সালের পর আবারও নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র। আয়োজক দেশ হিসেবে ভালো ফল করার চাপ থাকলেও প্রথম পরীক্ষায় সফলভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছে পোচেত্তিনোর দল।   এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী ১৯ জুন গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে একই দিনে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে মাঠে নামবে প্যারাগুয়ে।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ০:৫৮
ছবি:সংগৃহীত

ওয়ার্ল্ড কাপ টিকিট কিনতে গিয়ে বিপত্তি: ছেলের জন্য টিকিট নিতে গিয়ে ৮ হাজার ডলারের পার্কিং পাস কিনে ফেললেন মা

ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে মেক্সিকোর তিন শহরে বিতরণ হচ্ছে ৭০ লাখ কনডম

ছবি: সংগৃহীত

শাকিরার রেকর্ড ছাপিয়ে কানাডায় পারফর্ম করতে যাচ্ছেন নোরা ফাতেহি

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই গ্যালারিতে হাজারো আসন ফাঁকা, টিকিটের দাম নিয়ে ফিফার নীতি প্রশ্নের মুখে

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচেই গ্যালারিতে হাজার হাজার আসন ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে, যা টুর্নামেন্টের টিকিটের দাম নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।   মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ২–১ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারায়। তবে এস্তাদিও আকরন স্টেডিয়ামে ম্যাচ চলাকালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লাল আসন ফাঁকা দেখা যায়, যা দর্শক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।   ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টুর্নামেন্ট শুরুর আগে টিকিটের “ডায়নামিক প্রাইসিং” বা পরিবর্তনশীল মূল্যনীতির পক্ষে অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। তবে মাঠে দর্শক উপস্থিতির এই চিত্র সেই নীতিকে ঘিরে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে কয়েকটির টিকিটের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় ফিফা। একই সময়ে ফিফার অফিশিয়াল রিসেল পোর্টালে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টিকিট অবিক্রীত ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ফিফা দাবি করেছিল, টিকিটের জন্য ৫০০ মিলিয়নেরও বেশি বুকিং অনুরোধ এসেছে। তবে বাস্তবে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক দর্শক মাঠে গিয়ে খেলা দেখা থেকে বিরত থাকছেন বলে অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে ফাইনালসহ কিছু ম্যাচের টিকিটের দাম কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছেছে, যা সাধারণ দর্শকদের জন্য নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে সমালোচকদের দাবি।   এই প্রাইসিং নীতি নিয়ে অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের সময় দীর্ঘ অপেক্ষা, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং চূড়ান্ত দামের অস্পষ্টতা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির রাজনীতিকরা আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু করেছেন।   তবে খালি আসন থাকা সত্ত্বেও ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের সমর্থকদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে স্টেডিয়ামের পরিবেশ প্রাণবন্ত ছিল। ম্যাচে লাদিস্লাভ ক্রেজসি চেক প্রজাতন্ত্রকে এগিয়ে নিলেও হোয়াং ইন-বমের সমতা ফেরানো গোল এবং ওহ হিয়ন-গিউয়ের জয়সূচক গোলে দক্ষিণ কোরিয়া জয় নিশ্চিত করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১২, ২০২৬ ৬:৩০
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে টিকিটের আকাশচুম্বী দামের কারণে বিশ্বকাপে কোরিয়া-চেক ম্যাচে গ্যালারি ফাঁকা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের তিন দিন আগে ছিটকে গিয়ে অবসরে জাপানের অধিনায়ক এন্দো

ছবি: সংগৃহীত

আড়াই বছরের গোলখরা কাটিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে দক্ষিণ কোরিয়াকে জেতালেন হোয়াং

0 Comments