খেলাধুলা

১১ হাজার ডলার, বিশ্বকাপের টিকিটের দাম নিয়ে তীব্র সমালোচনা মুখে ফিফা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১:৪
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনায় পানি ঢেলে দিল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম ১১ হাজার ডলার স্পর্শ করায় বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। 


সাধারণ দর্শকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া এই মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে ফিফার ওপর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা।


টিকিট বিক্রির চূড়ান্ত পর্বে দেখা গেছে, ফাইনালের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম বর্তমানে ১০,৯৯০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের সর্বোচ্চ মূল্যের টিকিটের (১,৬০৪ ডলার) তুলনায় এবারের দাম প্রায় সাত গুণ বেশি। কেবল এক নম্বর ক্যাটাগরিই নয়, ক্যাটাগরি-২ এবং ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ পর্যন্ত।


টিকিট বিক্রির এই 'লাস্ট-মিনিট সেল' প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক দর্শক টিকিট কাটার সময় গোলযোগের মুখে পড়েছেন, যা তাদের অসন্তোষকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে এই সমালোচনাকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার মতে, টিকিটের এই আকাশছোঁয়া দাম মূলত 'বিপুল চাহিদার' প্রতিফলন।


উল্লেখ্য, আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশ অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ফুটবল মহাযজ্ঞের প্রায় ৭০ লক্ষ টিকিটের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০ লক্ষেরও বেশি বিক্রি হয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

খেলাধুলা

View more
প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর কোনো বিশাল আয়োজন ছাড়াই নিজেদের বাড়িতে খুব সীমিত পরিসরে বিয়ে করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। ছবি: সংগৃহীত
শুধু সন্তানরাই ছিলেন অতিথি, একান্ত সাদামাটা আয়োজনে বিয়ে সারলেন রোনালদো-জর্জিনা

চাইলেই বিশ্বের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়েগুলোর একটি আয়োজন করতে পারতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। অর্থ, খ্যাতি কিংবা অতিথির তালিকায় তারকার অভাব ছিল না। কিন্তু প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর বিয়ের দিনটিতে তারা বেছে নিলেন ঠিক উল্টোটা। কোনো বিশাল আয়োজন বা রেড কার্পেট নয়, নিজেদের বাড়িতে খুব সীমিত পরিসরে বিয়ে করেছেন এই তারকা জুটি।    গত ১১ আগস্ট পর্তুগালের কাসকাইসে নিজেদের বাড়িতে বিয়ে করেন রোনালদো ও জর্জিনা। দিনটির আরেকটি বিশেষ তাৎপর্য ছিল, ঠিক এক বছর আগে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নিজেদের বাগদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। একই সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে তাদের প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে এই সময়ের সঙ্গে।    প্রকাশিত বিয়ের নথি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিভিল আনুষ্ঠানিকতায় চারজন সাক্ষী ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জর্জিনার বোন ইভানা রদ্রিগেজ এবং রোনালদোর দীর্ঘদিনের বন্ধু মিগেল পাইশাও। তবে পুরো আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তাদের পাঁচ সন্তান। বড় কোনো অতিথি তালিকার পরিবর্তে সন্তানদের নিয়েই ব্যক্তিগত মুহূর্তটি কাটাতে চেয়েছিলেন তারা।    সিভিল বিয়ের পর রোনালদো, জর্জিনা ও তাদের সন্তানরা যান পর্তুগালের বিখ্যাত ফাতিমা ধর্মীয় তীর্থস্থানে। সেখানে একটি ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তাদের বিবাহিত জীবনের জন্য আশীর্বাদ নেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রচলিত অর্থে বড় কোনো চার্চ ওয়েডিংয়ের পরিবর্তে ধর্মীয় অংশটিও রাখা হয়েছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত।    বিয়ের ছবি ও বিস্তারিত প্রকাশের বিশেষ সুযোগ পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভোগ। সেখানে জর্জিনা জানিয়েছেন, তাদের জীবনে বাড়ি, গাড়ি, ভ্রমণ কিংবা বিলাসবহুল জিনিস পাওয়াটা কঠিন নয়। বরং এত পরিচিত জীবনে সত্যিকারের ব্যক্তিগত একটি মুহূর্ত পাওয়াই তাদের কাছে অনেক বেশি বিরল ও মূল্যবান হয়ে উঠেছে।    বিয়ের পোশাকেও ছিল তাদের সম্পর্কের শুরুর গল্পের ছোঁয়া। যে গুচি স্টোরে দুজনের প্রথম পরিচয় হয়েছিল, বিয়ের দিন দুজনেই সেই ফ্যাশন হাউসের তৈরি পোশাক পরেন। জর্জিনা প্রচলিত ভারী ওয়েডিং গাউনের পরিবর্তে সাদা সিল্কের পোশাক বেছে নেন, আর রোনালদো পরেছিলেন কাস্টম তৈরি হালকা রঙের স্যুট।    তবে অনুষ্ঠান ছোট হলেও জর্জিনার গয়নায় বিলাসিতার কমতি ছিল না। বিয়েতে তিনি শোপার্ডের অত্যন্ত মূল্যবান ডায়মন্ড জুয়েলারি পরেছিলেন। ফলে আয়োজন ছিল ব্যক্তিগত, কিন্তু তারকাজুটির নিজস্ব স্টাইলও ছিল স্পষ্ট।    রোনালদো ও জর্জিনার সম্পর্ক শুরু হয় ২০১৬ সালে। পরের বছর তারা প্রকাশ্যে একসঙ্গে আসেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তারা পরিবার গড়ে তুলেছেন, সন্তানদের বড় করেছেন এবং ব্যক্তিগত জীবনের সুখ-দুঃখ একসঙ্গে পার করেছেন। ২০২২ সালে যমজ সন্তানের জন্মের সময় তাদের নবজাতক ছেলে মারা যাওয়ার কঠিন অভিজ্ঞতাও একসঙ্গে সামলেছেন তারা।    দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বিয়ে নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। অবশেষে সেই বিয়েটা হলো এমনভাবে, যা তাদের তারকাখ্যাতির সঙ্গে যেন একেবারেই বিপরীত। বিশাল হলরুম, শত শত অতিথি কিংবা ক্যামেরার ভিড়ের বদলে নিজেদের বাড়ি, সন্তান এবং অল্প কয়েকজন কাছের মানুষকেই বেছে নিয়েছেন তারা।   বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ক্রীড়া তারকাদের একজনের কাছে বিলাসিতা হয়তো প্রতিদিনের জীবনের অংশ। কিন্তু রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের আয়োজন দেখাল, তাদের কাছে সেই দিনের সবচেয়ে দামি বিষয়টি ছিল এমন কিছু, যা অর্থ দিয়ে সহজে কেনা যায় না - ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের মুহূর্তটুকু উপভোগ করার সুযোগ।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১১:২১
আন্তর্জাতিক মোটরস্পোর্টে ফর্মুলা ৪ বা এফ৪ রেসে প্রথম বাংলাদেশি ড্রাইভার হিসেবে জয় পেয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন আরহাম রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ফর্মুলা ৪ রেস জিতে ইতিহাস গড়লেন আরহাম

ফিফা বিশ্বকাপের মানবপাচারবিরোধী অভিযানে নর্থ টেক্সাসে গ্রেপ্তার ৫০ জনের বেশি

ফিফা বিশ্বকাপের মানবপাচারবিরোধী অভিযানে নর্থ টেক্সাসে গ্রেপ্তার ৫০ জনের বেশি

দুই স্ত্রীর হাতাহাতি ও পারিবারিক সংঘাতের জেরে জ্ঞান হারিয়ে আলোচনায় এসেছেন মিশর জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হোসাম হাসান। ছবি: সংগৃহীত

দুই স্ত্রীর হাতাহাতি, উত্তেজনায় জ্ঞান হারালেন মিশরের কোচ, প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স

বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পরিবারসহ রোজারিওতে পৌঁছেছেন লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি

বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি। শেষ পর্যন্ত শনিবার আর্জেন্টিনার রোজারিওতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে পরিবারসহ নিজ শহরে পৌঁছেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। একই সময়ে লিগস কাপে ইন্টার মায়ামির হয়ে গোল করে সেই গোল মেসিকে উৎসর্গ করেছেন তার সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু রদ্রিগো ডি পল।   স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে, রাত ২টার দিকে ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসির মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে পরিবারঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।   বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল থেকে উড়ে এসে শনিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রোজারিও বিমানবন্দরে পৌঁছান লিওনেল মেসি। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিন সন্তান। বিমানবন্দর থেকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তারা রোজারিওর পাশের শহর পেরেজে যান, যেখানে হোর্হে মেসিকে সমাহিত করা হবে।   আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, শেষকৃত্যের অনুষ্ঠানটি পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনদের উপস্থিতিতে একান্ত ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে কবরস্থানের বাইরে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। তারা মেসি ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং এই কঠিন সময়ে মানসিক সমর্থন জানাতেই সেখানে উপস্থিত হন।   লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হোর্হে মেসি ছিলেন তার অন্যতম বড় সমর্থক ও অভিভাবক। অনেক সময় তিনি ছেলের প্রতিনিধি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফুটবলজীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও হোর্হের সক্রিয় উপস্থিতি ছিল।   বাবার মৃত্যুর কারণে লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে মন্টেরির বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ম্যাচ থেকে মেসিকে অব্যাহতি দেয় ক্লাব। শেষকৃত্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানা গেছে।   ম্যাচ শুরুর আগে হোর্হে মেসির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকেরা 'ফোর্সা, লিও' অর্থাৎ 'শক্ত থাকো, লিও' লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে মেসির প্রতি সমর্থন জানান।   ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রথম গোলটি করেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত শট জালে জড়ালে গোল উদযাপনের সময় তিনি জার্সি খুলে ভেতরে পরা মেসির ১০ নম্বর জার্সি প্রদর্শন করেন। এই আবেগঘন মুহূর্তে তিনি গোলটি শোকাহত বন্ধু ও জাতীয় দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে উৎসর্গ করেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ইন্টার মায়ামি।   হোর্হে মেসির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাব, খেলোয়াড় ও সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে। বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, রোজারিও সেন্ট্রাল এবং নিউয়েলস ওল্ড বয়েজসহ বিভিন্ন ক্লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসি ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

খেলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৮, ২০২৬ ২৩:৫৭
জনপ্রিয় ফুটবলার মেসি ও তারা বাবা। ছবি:সংগৃহীত

মারা গেলেন লিওনেল মেসির বাবা জর্জ মেসি

আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ফুটবল তারকা মেসি। ছবি:সংগৃহীত

বিশ্বকাপে মেসিকে ‘বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি, ফাঁস হলো এফবিআইয়ের গোপন নিরাপত্তা নথি

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মেক্সিকো ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন। ছবি: সংগৃহীত

ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে সমর্থন দিল মেক্সিকো-আর্জেন্টিনা

রুপার পদক বিক্রি করে হৃদরোগে আক্রান্ত অচেনা শিশুর জীবন বাঁচিয়েছিলেন পোলিশ অলিম্পিয়ান
রুপার পদক বিক্রি করে হৃদরোগে আক্রান্ত অচেনা শিশুর জীবন বাঁচিয়েছিলেন পোলিশ অলিম্পিয়ান

পোল্যান্ডের অলিম্পিক জ্যাভেলিন থ্রোয়ার মারিয়া আন্দ্রেইচিক নিজের টোকিও অলিম্পিকের রুপার পদক নিলামে তুলে এক অচেনা শিশুর জীবন রক্ষায় সহায়তা করেছিলেন। গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত আট মাস বয়সী মিওশেক মালিশার অস্ত্রোপচারের জন্য অর্থ সংগ্রহে এই পদক্ষেপ নেন তিনি। ২০২১ সালে ঘটে যাওয়া এই মানবিক উদ্যোগটি আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।    টোকিও অলিম্পিকে নারীদের জ্যাভেলিন থ্রো ইভেন্টে রুপার পদক জয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই মারিয়া জানতে পারেন, পোল্যান্ডের এক শিশু বিরল হৃদরোগে ভুগছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে অস্ত্রোপচারের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এরপর তিনি নিজের জীবনের প্রথম অলিম্পিক পদক নিলামে তোলার ঘোষণা দেন।    নিলামে পোল্যান্ডের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ঝাবকা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলারে পদকটি কিনে নেয়। তবে মানবিক এই উদ্যোগকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি অর্থ পরিশোধের পর পদকটি আবার মারিয়া আন্দ্রেইচিকের কাছেই ফিরিয়ে দেয়। ফলে শিশুটির চিকিৎসার অর্থও জোগাড় হয়, আবার অলিম্পিক পদকটিও নিজের কাছেই রাখতে পারেন এই অ্যাথলেট।    মারিয়া আন্দ্রেইচিক নিজেও জীবনের কঠিন সময় অতিক্রম করেছেন। তিনি হাড়ের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়ে আবার আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ফিরে আসেন। পরে তিনি বলেন, একটি পদক আলমারিতে পড়ে থাকার চেয়ে যদি কারও জীবন বাঁচাতে পারে, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন।    মারিয়ার এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পায়। অনেকের মতে, অলিম্পিক পদক একজন ক্রীড়াবিদের বহু বছরের পরিশ্রমের প্রতীক হলেও, অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য সেই পদক ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত মানবিকতার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১:৫০
পেশাদার রেসলিং ও সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলা থেকে অবসর নিলেন ব্রক লেসনার। ছবি: সংগৃহীত

রেসলিংকে বিদায় বললেন ১০বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রক লেসনার

নারী ফুটবলার ফাতেন বেন ওমর আল আজিজি। ছবি:সংগৃহীত

সাঁতরে স্পেন যাওয়ার পথে মরক্কোর নারী ফুটবলারের মৃত্যু

বিশ্বখ্যাত পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং তাঁর সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেস।ছবি:সংগৃহীত

অবশেষে বিয়ে করছেন রোনালদো! চূড়ান্ত বিয়ের দিনক্ষণ

0 Comments