ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: সামরিক বাস্তবতার বদল ও বৈশ্বিক শক্তির নতুন সমীকরণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়—বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, সামরিক কৌশল এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, বিশ্ব একটি নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে, যেখানে প্রচলিত শক্তির আধিপত্য আর নিশ্চিত নয়।   ইসরায়েলের বহুস্তর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। এটি দেখিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কেবল প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা যথেষ্ট নয়; বরং বহুমাত্রিক ও অভিযোজিত কৌশলই হয়ে উঠছে নতুন বাস্তবতা।   যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সংকট বর্তমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত একক অবস্থানে রয়েছে। ন্যাটো কিংবা আঞ্চলিক মিত্রদের সরাসরি সমর্থনের অভাব মার্কিন নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকটকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো মনে করছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলার ঝুঁকি বেড়েছে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির কারণে।   এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের প্রভাব প্রশ্নের মুখে পড়ছে।   ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও নতুন কৌশল ইরান দীর্ঘদিন ধরে একটি বিকেন্দ্রীভূত ও প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, যা ‘মোজাইক ডকট্রিন’ নামে পরিচিত। ছোট ইউনিট, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমন্বিত হামলার মাধ্যমে এই কৌশল প্রচলিত যুদ্ধনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন ঘাঁটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ইরান বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।   সংঘাতের বিস্তার ও বৈশ্বিক প্রভাব হিজবুল্লাহ, হুতি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের সম্পৃক্ততায় সংঘাত আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক মাত্রা পাচ্ছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালি বা সাবমেরিন কেবল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।   দিয়েগো গার্সিয়া: নিরাপত্তার নতুন প্রশ্ন ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে হামলার প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের এই ঘাঁটিকে নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপসহ বিস্তৃত অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে।   ‘এসকালেশন ট্র্যাপ’-এ যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি জটিল কৌশলগত ফাঁদে পড়েছে। পিছু হটলে কৌশলগত পরাজয়ের আশঙ্কা, আর এগোলে বৃহত্তর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি। এই বাস্তবতা আঞ্চলিক যুদ্ধকে বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।   কূটনৈতিক পথ ও পাকিস্তানের উদ্যোগ এই সংকটে পাকিস্তানের উদ্যোগকে একটি প্রাথমিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ইরানের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের সক্ষমতা সংলাপের একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন বহুপাক্ষিক উদ্যোগ। বিষয়টি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তোলা হলে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা একক শক্তির ওপর নির্ভরতা কমাবে।   অনিশ্চয়তার নতুন বিশ্ব ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এখন আর শুধু একটি আঞ্চলিক ইস্যু নয়; এটি বৈশ্বিক শক্তির পুনর্বিন্যাসের সূচনা। সামরিক কৌশলের পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার উত্থান—সব মিলিয়ে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ঐক্য ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অন্যথায় বিশ্ব আরও গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইরানের তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের সংঘাতের চলাকালীন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন । ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে ভাবনায় ইরান: শর্ত পূরণে মিলতে পারে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। তবে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে এখনো অনাগ্রহ দেখিয়েছে তেহরান।   বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, শর্ত পূরণ হলে যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী হতে পারে ইরান। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা নয়।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা ইতোমধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে।   আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান যে কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করার শর্ত দিয়েছে।   এদিকে ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আলোচনায় আগ্রহী হলেও তা প্রকাশ্যে বলতে ভয় পাচ্ছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরানের উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম মজুদ অপসারণ, সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করার মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   তবে হোয়াইট হাউস এ প্রস্তাবের বিস্তারিত প্রকাশ না করে উল্টো হামলা জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইসরায়েলও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরান এসব শর্তে রাজি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে আগাম হামলার সুযোগ বজায় রাখতে চায় ইসরায়েল।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে ১০ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   তবে পরিস্থিতি এখনো শান্ত হয়নি। ইরানের ওপর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং পাল্টা হিসেবে ইরানও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে।   বুধবার ইসরায়েল নতুন করে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় হামলার খবর দিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।   সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের খবর প্রকাশের পর বিশ্ব শেয়ারবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং তেলের দাম কমেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিকল্প খোলা রাখতে নতুন করে হাজারো সেনা পাঠানো হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং যেকোনো সময় সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
আলী খামেনি।
মার্কিন হামলায় ভয়ঙ্কর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও মাত্রার হামলার জবাবে ‘ভয়ঙ্কর’ প্রতিক্রিয়া জানাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত হামলার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করছেন বলে জানানোর পর সোমবার এই অবস্থান স্পষ্ট করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, সীমিত হামলাসহ যেকোনও আঘাতই স্পষ্টভাবে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে। আত্মরক্ষার স্বাভাবিক অধিকারের অংশ হিসেবেই ইরান ভয়ঙ্করভাবে এর জবাব দেবে।   এদিকে, ওমানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে। ইরান ও ওমান বৃহস্পতিবার পরবর্তী দফার আলোচনা হবে বলে নিশ্চিত করলেও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে পারমাণবিক আলোচনায় ইরানকে চুক্তিতে আনতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জোরদার করে যুক্তরাষ্ট্র। আলোচনায় সমঝোতা না হলে সীমিত হামলার কথাও জানান ট্রাম্প।   ইরান জোর দিয়ে বলেছে, আলোচনায় কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই কথা হবে। পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, যদিও তেহরান বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।   অন্যদিকে, উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, অঞ্চলে নতুন করে আরেকটি যুদ্ধের প্রয়োজন নেই। এই সময়কে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো উচিত।   ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে ইরানে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সুইডেন, সার্বিয়া, পোল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার পর ভারতও নিজ নাগরিকদের ইরান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে।   সূত্র: এএফপি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন (বিমানবাহী রণতরী) ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ। ফাইল ছবি
ইরানে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই। তবে এই সময়সীমা পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানানো হয়।   গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিয়ে একটি ‘বিশাল নৌবহর’ পাঠানোর ঘোষণা দেন। তারই অংশ হিসেবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং তার সহায়ক যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই নৌবহরটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে।   মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এবং যুদ্ধজাহাজ পৌঁছানোর পর থেকেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ উদ্বেগের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের গালফ অঞ্চলের কর্মকর্তাদের বরাতে দিয়ে গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলায় দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করা হতে পারে।    যদিও বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য আছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমটি। এছাড়া এই সময়সীমা পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানানো হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কার মাঝে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় রক্ষায় ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন তিনি।   ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সতর্ক করে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূমি, আকাশ বা জলসীমা ব্যবহার হলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইরানের জলসীমায় ঢুকলে তা লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই বাহিনী।   একইসঙ্গে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হলে নীরব না থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকিকে হিজবুল্লাহ নিজেদের বিরুদ্ধেই হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।    অন্যদিকে ইরানে যদি সরকার পতন হয়ে যায় তাহলে নিজেদের সীমান্তে বাফার জোন তৈরির পরিকল্পনা করছে তুরস্ক। মিডেল ইস্ট আই-এর আরেক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে 'যেকোনো কিছু' হতে পারে এমন আশঙ্কা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে আঙ্কারা। বৈঠকে থাকা এক সাংসদ বলেছেন, 'ইরানে সরকার পতন হলে সেখান থেকে কোনো শরণার্থী যেন তুরস্কে প্রবেশ করতে না পারে।'

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0