বিশ্ব

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক শুক্রবার, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে শুরু হচ্ছে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তেহরানে সমবেত হয়ে মানুষ পতাকা নাড়াচ্ছে, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ [মাজিদ আসগারিপুর/ওয়ানা, রয়টার্সের মাধ্যমে]
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তেহরানে সমবেত হয়ে মানুষ পতাকা নাড়াচ্ছে, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ [মাজিদ আসগারিপুর/ওয়ানা, রয়টার্সের মাধ্যমে]

দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার এই আলোচনা শুরু হবে, যেখানে তেহরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনাকেই ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে।

 

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরান নিশ্চিত করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তারা সম্মত হয়েছে। তবে এ সংলাপে অংশ নিলেও ওয়াশিংটনের প্রতি তাদের ‘পূর্ণ অবিশ্বাস’ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

 

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থেকে সরে এসে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে হলে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও অবিলম্বে’ খুলে দিতে হবে।

 

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির আংশিক অবরোধের কারণে ইতিমধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে। তেল সরবরাহে বিঘ্ন এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।

 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ থাকলে ইরানও তাদের প্রতিরক্ষামূলক সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

 

ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চাওয়াও এই প্রস্তাবের অংশ।

 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুদ্ধরত পক্ষগুলো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালীতে ইরান-চীন জোট: মার্কিন ডলারের একাধিপত্যে বড় আঘাত

বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য বা ‘হেজেমনি’ মোকাবিলায় নতুন রণকৌশল নিয়েছে ইরান ও চীন। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ ব্যবহার করে এবার ডলারের পরিবর্তে চীনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এর প্রচলন শুরু করেছে দেশ দুটি। আল-জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন টালমাটাল, ঠিক তখনই তেহরান ও বেইজিং এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে ট্রানজিট ফি হিসেবে ডলারের পরিবর্তে ইউয়ান গ্রহণ করছে ইরান। অন্তত দুটি বড় জাহাজ ইতোমধ্যে ইউয়ানে তাদের ফি পরিশোধ করেছে বলে লয়েড’স লিস্ট (Lloyd’s List) নিশ্চিত করেছে। কেন এই পদক্ষেপ? বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও চীন উভয়েই দীর্ঘকাল ধরে ওয়াশিংটনের ‘ডলার ডিপ্লোমেসি’ বা ডলারের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার রাজনীতির শিকার। বিশ্ব তেলের বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ লেনদেন ডলারে হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র খুব সহজেই যেকোনো দেশের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই আধিপত্য খর্ব করতেই তেহরান ও বেইজিং এখন ‘পেট্রো-ইউয়ান’ (Petroyuan) ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ কেনেথ রোগফ আল-জাজিরাকে বলেন, "ইরান একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের চোখে আঙুল দিয়ে নিজেদের শক্তি দেখাচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইউয়ানকে বেছে নিয়েছে। চীনও চাইছে তাদের মুদ্রাকে বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সিতে রূপান্তর করতে।" সুবিধা ভোগ করছে দুই পক্ষই চীনের জন্য এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটি ইরানের তেলের ৮০ শতাংশেরই ক্রেতা। ইউয়ানে লেনদেন করলে উভয় দেশই মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সহজে ও কম খরচে বাণিজ্য করতে পারছে। ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদী কৌশলগত অংশীদারিত্বের আওতায় এই সহযোগিতা আরও জোরালো হয়েছে। ডলারের ভবিষ্যৎ কী? যদিও ইউয়ান দ্রুত প্রভাব বিস্তার করছে, তবে মার্কিন ডলারের জায়গা দখল করা এখনো বেশ কঠিন। বর্তমানে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৫৭ শতাংশই ডলারে রাখা হয়, যেখানে ইউয়ানের অবস্থান মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি। এছাড়া চীনের কঠোর মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ইউয়ান এখনো ডলারের মতো অবাধে বিনিময়যোগ্য নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একদিনে সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে ডলারের ভিত দুর্বল করে দিচ্ছে। কিলে ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বুলেন্ট গোকায় বলেন, বেইজিং একটি 'মাল্টিপোলার' বা বহুমুখী আর্থিক বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে এগোচ্ছে, যেখানে একক কোনো মুদ্রার খবরদারি থাকবে না। ইরান বুধবার ঘোষণা করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় তারা হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতের গ্যারান্টি দেবে। তবে এই সময়ের মধ্যেও ইউয়ানে লেনদেন অব্যাহত থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন ডলারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব

যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানালেন জাতিসংঘ মহাসচিব

দক্ষিণ লেবাননে সেনা উপস্থিতি বাড়ালো ইসরাইল

দক্ষিণ লেবাননে সেনা উপস্থিতি বাড়ালো ইসরাইল

যুদ্ধবিরতি শেষ নয়, লড়াই চলবে

যুদ্ধবিরতি শেষ নয়, লড়াই চলবে: ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বার্তা

খামেনির চল্লিশা ঘিরে ইরানে লাখো মানুষের সমাবেশের প্রস্তুতি
খামেনির চল্লিশা ঘিরে ইরানে লাখো মানুষের সমাবেশের প্রস্তুতি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর মৃত্যুর ৪০তম দিন আজ বুধবার পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে তার সমর্থকদের ব্যাপকভাবে রাজপথে নামার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়। একই দিন থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে এই দুই দেশ।   ইরানের ধর্মীয় সংস্কৃতিতে মৃত্যুর ৪০তম দিন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যা ‘চেহলাম’ বা ‘চল্লিশা’ নামে পরিচিত। এই দিনে সাধারণত নিহত ব্যক্তিকে স্মরণ করে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়।   খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতাবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি এখনো জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।   এদিকে, খামেনির চল্লিশার দিনেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছে। ইরান আগে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছিল, এবং সেই প্রস্তাবগুলোকে আলোচনার ভিত্তি ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন বলে ইরানি সূত্র জানিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ইরানের তেহরানে চলমান যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সমবেত জনগণ স্লোগান দিচ্ছে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ঘিরে ভিন্ন বার্তা, বিশ্বজুড়ে স্বস্তি

তেহরানের এনকেলাব স্কোয়ারে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে ইরানিরা মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকা পুড়িয়েছে । ছবি: এএফপি

যুদ্ধবিরতি ‘ইরানের বিজয়’: জনগণের ধৈর্য ও প্রতিরোধের প্রশংসা তেহরানের

ফাইল ছবি

যুদ্ধবিরতি বার্তায় বড় ভুল, নেটদুনিয়ায় সমালোচনার ঝড়

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তেহরানে সমবেত হয়ে মানুষ পতাকা নাড়াচ্ছে, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ [মাজিদ আসগারিপুর/ওয়ানা, রয়টার্সের মাধ্যমে]
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক শুক্রবার, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে শুরু হচ্ছে আলোচনা

দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক সংলাপ শুরু হতে যাচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার এই আলোচনা শুরু হবে, যেখানে তেহরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনাকেই ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে।   বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরান নিশ্চিত করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তারা সম্মত হয়েছে। তবে এ সংলাপে অংশ নিলেও ওয়াশিংটনের প্রতি তাদের ‘পূর্ণ অবিশ্বাস’ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থেকে সরে এসে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে হলে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ, নিরাপদ ও অবিলম্বে’ খুলে দিতে হবে।   বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির আংশিক অবরোধের কারণে ইতিমধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে। তেল সরবরাহে বিঘ্ন এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ থাকলে ইরানও তাদের প্রতিরক্ষামূলক সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।   ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ এবং সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার মতো শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়া এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চাওয়াও এই প্রস্তাবের অংশ।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুদ্ধরত পক্ষগুলো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকের মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
হরমুজে টোল ফি নিচ্ছে ইরান । ছবি: এআই

হরমুজ প্রণালির ট্রানজিট ফি দিয়ে দেশ পুনর্গঠন করবে ইরান

হরমুজ প্রণালি

যুদ্ধবিরতি চলাকালে হরমুজে জাহাজ চলাচলে ট্রানজিট ফি নেবে ইরান-ওমান

ছবি: সংগৃহীত

যে ১০ শর্তে যুদ্ধবিরতির পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments