নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে ৩০ মিলিয়ন ডলারের গ্রোসারি স্টোর করবেন মামদানি
নিউইয়র্কে ৩০ মিলিয়ন ডলারের গ্রোসারি স্টোর করবেন মামদানি, প্রকল্পের জায়গাজুড়ে এখনো আবর্জনার স্তূপ

নিউইয়র্কের ইস্ট হারলেমে মেয়র জোহরান মামদানির পরিকল্পিত ৩০ মিলিয়ন ডলারের সরকারি গ্রোসারি স্টোরের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করেছেন সম্ভাব্য ভেন্ডর বা দরদাতারা। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মেট্রো-নর্থ ভায়াডাক্টের নিচে লা মার্কেটার পাশের যে স্থানটি তারা পরিদর্শন করেছেন, তা মূলত একটি আবর্জনাপূর্ণ খালি প্লট।   বুধবার নগরীর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (ইডিসি) নেতৃত্বে আয়োজিত এই সফরে অংশ নেওয়া ভেন্ডররা মাথায় হার্ডহ্যাট পরে থাকলেও সেখানে এখনো নির্মাণের কোনো কাজই শুরু হয়নি। এই সফর শেষে অনেক দরদাতাই গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে রাজি হননি। এমনকি তাদের প্রতিষ্ঠান আদৌ কোনো দরপত্র জমা দেবে কি না, তা নিয়েও অনেকে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন।   ব্যবসায়িক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফিলিপ গ্রান্ট অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের প্রতিষ্ঠাতা ফিলিপ গ্রান্ট এই প্রকল্পকে একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে জানান, খাদ্য সংকট থাকা এলাকাগুলোতে এই উদ্যোগটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর জন্য একটি স্বচ্ছ অংশীদারিত্ব ও নমনীয় মডেল তৈরি করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।   নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেয়র মামদানি নিউইয়র্কের প্রতিটি বরোতে একটি করে মোট পাঁচটি সরকারি সুপারমার্কেট খোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৭০ মিলিয়ন ডলারের এই বিশাল প্রকল্পে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাধারণ বাজারের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রির কথা বলা হয়েছে। ব্রঙ্কসে আগামী বছর প্রথম স্টোরটি চালু হওয়ার কথা থাকলেও লা মার্কেটার এই স্টোরটি ২০২৯ সালে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।   অন্যদিকে, সরকারি এই বিশাল উদ্যোগ স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। প্রস্তাবিত স্থানটির পাশেই অবস্থিত আমেরিকান ডেলি মিনি মার্টের ৩৩ বছর বয়সী মালিক এলভিস আরিয়াস জানান, চড়া করের বোঝায় এমনিতেই তারা জর্জরিত; তার ওপর সরকারের এই সরাসরি প্রতিযোগিতা তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।   তবে মেয়রের স্টোরে অ্যালকোহল বিক্রি না হওয়ার বিষয়টি তাকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে, কারণ এর মাধ্যমে তিনি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার আশা দেখছেন। এদিকে, ইডিসি এই পুরো প্রকল্পটি পরিচালনার জন্য কেবল একজন একক অপারেটর খুঁজছে, যা অনেক সরবরাহকারীর জন্যই বেশ চ্যালেঞ্জিং। এতসব বিতর্কের পরও ইডিসির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েভারলি নীর এই সফরকে ফলপ্রসূ বলে দাবি করে জানিয়েছেন, এই সুযোগ নিয়ে স্থানীয়রা বেশ রোমাঞ্চিত।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত
নিউইয়র্কে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত, সতর্কতা স্বাস্থ্য বিভাগের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে চলতি বছর প্রথমবারের মতো এক বাসিন্দার শরীরে বিপজ্জনক ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। বুধবার নগরীর স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আক্রান্ত ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি নিউইয়র্ক শহর এবং এর বাইরের বেশ কিছু স্থানে বাড়ির বাইরে সময় কাটানোর পরই মশাবাহিত এই ভাইরাসে সংক্রমিত হন।   স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি সারা দেশে এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত ২২ বিবেচিত ২২ জন রোগী শনাক্ত করেছে, যাদের বেশিরভাগই অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং টেক্সাসের বাসিন্দা।   গত জুন মাস থেকেই নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতেই ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস বহনকারী মশার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, গত গ্রীষ্মের তুলনায় এবার ভাইরাসবাহী মশার নমুনার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। নগরীর স্বাস্থ্য কমিশনার আলিস্টার মার্টিন এক বিবৃতিতে বলেন, সুসংবাদ হলো এই রোগটি প্রতিরোধযোগ্য।   বর্তমানে মশার প্রজনন মৌসুম চলায় নগরবাসীকে মশার কামড় থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ভোর ও সন্ধ্যায় শরীর ঢেকে রাখা, ইনসেক্ট রিপেলেন্ট বা পোকামাকড় নিরোধক ব্যবহার করা এবং বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করার মতো সহজ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   নিউইয়র্ক শহরে ১৯৯৯ সালে প্রথম ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস শনাক্ত হয় এবং এরপর থেকে প্রতি বছরই বেশ কিছু মানুষ এতে সংক্রমিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী, গত বছর নগরীতে এই ভাইরাসে ১৮ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে কর্মকর্তাদের মতে, নিউইয়র্ক শহরে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩১ জন মানুষ ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের কারণে অসুস্থ হন। এই ভাইরাসে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের শরীরেই প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।   তবে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে জ্বর, র‍্যাশ, মাথাব্যথা, শরীরে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং বমির মতো মৃদু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এছাড়া, প্রতি ১৫০ জনের মধ্যে একজনের ক্ষেত্রে এটি নিউরোইনভেসিভ ডিজিজ বা গুরুতর হয়ে মস্তিষ্কে সংক্রমণ এবং স্পাইনাল কর্ডের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ভালোবাসার মানুষ ডনেলের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন নিউইয়র্কের চিকিৎসক রিচার্ড বাতিস্তা। ছবি: সংগৃহীত
স্ত্রীকে বাঁচাতে দিয়েছিলেন কিডনি, ডিভোর্স চাইতেই ফেরত কিডনি চাইলেন স্বামী

ভালোবাসার মানুষটির জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন নিউইয়র্কের চিকিৎসক রিচার্ড বাতিস্তা। কিন্তু চার বছর পর স্ত্রী ডনেল বাতিস্তা ডিভোর্সের আবেদন করলে তাদের বিচ্ছেদের মামলা নেয় এক অস্বাভাবিক মোড়। স্ত্রীকে দেওয়া কিডনি ফেরত চাওয়া, তা সম্ভব না হলে এর জন্য ১৫ লাখ ডলার দাবি করেন রিচার্ড।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের। রিচার্ড ও ডনেল ১৯৯০ সালে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন ডনেল এবং এর আগে তার দুটি কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সফল হয়নি।   এরপর পরীক্ষা করে দেখা যায়, স্ত্রীর জন্য উপযুক্ত কিডনি ডোনার হতে পারেন রিচার্ড। ২০০১ সালের ১৮ জুন ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা মেডিকেল সেন্টারে নিজের একটি কিডনি স্ত্রীকে দান করেন তিনি।   সে সময় রিচার্ড জানিয়েছিলেন, তার প্রথম লক্ষ্য ছিল স্ত্রীর জীবন বাঁচানো। একই সঙ্গে তিনি আশা করেছিলেন, এই ঘটনা তাদের দাম্পত্য সম্পর্কেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।   কিন্তু কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের চার বছর পর, ২০০৫ সালের জুলাইয়ে ডিভোর্সের আবেদন করেন ডনেল। এরপর দীর্ঘ হতে থাকা ডিভোর্স প্রক্রিয়ার মধ্যে ২০০৯ সালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। রিচার্ড দাবি করেন, স্ত্রীকে দেওয়া কিডনি তাকে ফেরত দিতে হবে। সেটি সম্ভব না হলে কিডনিটির মূল্য হিসেবে ১৫ লাখ ডলার দেওয়ার দাবি তোলেন তিনি।   রিচার্ডের এই দাবি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। প্রশ্ন ওঠে, একজন ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজের অঙ্গ অন্য কাউকে দান করার পর সম্পর্ক ভেঙে গেলে সেই অঙ্গের ওপর কোনো মালিকানা দাবি করতে পারেন কি না।   শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট রিচার্ডের দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া সিদ্ধান্তে আদালত জানায়, মানুষের অঙ্গ বা টিস্যুকে ডিভোর্সের সময় ভাগ করে নেওয়ার মতো বৈবাহিক সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   কিডনিটির আর্থিক মূল্য নির্ধারণের দাবিও আইনি বাধার মুখে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের অঙ্গ কেনাবেচা আইনত নিষিদ্ধ। ফলে স্বেচ্ছায় দান করা কিডনিকে পরবর্তী সময়ে সম্পত্তির মতো মূল্য নির্ধারণ করে অর্থ দাবি করার সুযোগ নেই।   চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরাও কিডনি ফেরত নেওয়ার ধারণাটি বাস্তবসম্মত নয় বলে জানিয়েছিলেন। একজন সুস্থ মানুষের শরীরে কার্যকরভাবে প্রতিস্থাপিত কিডনি শুধু দাতার ব্যক্তিগত দাবির কারণে অস্ত্রোপচার করে বের করে নেওয়া রোগীর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   রিচার্ডের বক্তব্য ছিল, স্ত্রী ডিভোর্সের আবেদন করলেও কিডনি দানের সিদ্ধান্ত নিয়ে তার অনুশোচনা নেই। তবে বিচ্ছেদের সময় সেই কিডনির মূল্য বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।   প্রায় দুই দশক পরও ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত ডিভোর্স বিরোধগুলোর একটি হিসেবে ফিরে আসে। ভালোবাসার সম্পর্ক শেষ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু কাউকে স্বেচ্ছায় দান করা একটি অঙ্গকে পরে সাধারণ সম্পত্তির মতো ফেরত চাওয়া বা তার দাম আদায় করা যায় না - বাতিস্তা দম্পতির আলোচিত মামলাটি সেই আইনি সীমারই একটি বিরল উদাহরণ।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
বর কনে বিমান থেকে লাফ। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ১৪ হাজার ফুট ওপরে বিয়ের শুরু, আকাশ থেকে লাফ দিয়ে নতুন জীবনে বর-কনে

বিয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের এক যুগল বেছে নিয়েছেন একেবারেই ভিন্ন পথ। প্রচলিতভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু না করে স্কাইডাইভার মাইকেল মিসরুন ও মেগান ওয়ালশ আকাশে উড়ে যান এবং প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে লাফ দিয়ে শুরু করেন তাদের বিশেষ দিনের আয়োজন।   নিউইয়র্কের ফিঙ্গার লেকস অঞ্চলের স্কাইডাইভ সেনেকা লেকের সঙ্গে যুক্ত মাইক ও মেগান দুজনই অভিজ্ঞ স্কাইডাইভার। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে তাদের অভিনব বিয়ের আয়োজনের কথা উঠে এসেছে।   সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল, শুধু বর-কনেই নন, তাদের বিয়ের কয়েকজন অতিথিও এই আকাশযাত্রায় অংশ নেন। বিমান থেকে লাফ দেওয়ার পর ঘণ্টায় প্রায় ১২০ মাইল গতিতে ফ্রি ফল করেন তারা। পরে প্যারাসুট খুলে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসেন।   বিশেষ এই দিনের জন্য মেগানের বিয়ের পোশাকও ছিল আলাদা। স্কাইডাইভিংয়ের সময় নিরাপদে ব্যবহার করা যায় এমনভাবে পরিবর্তন করা একটি সাদা বিয়ের পোশাক পরেছিলেন তিনি। আকাশ থেকে লাফ দেওয়ার সময় তার হাতে ছিল ফুলের তোড়াও।   অন্যদিকে মাইক লাফ দেন স্যুট পরে। কয়েক হাজার ফুট ওপরে বিমান থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দেওয়ার পর দুজনই নিরাপদে নির্ধারিত স্থানে অবতরণ করেন।মাটিতে নামার পরও ছিল আরেক চমক। প্যারাসুটের আড়ালে মেগান স্কাইডাইভিংয়ের জন্য তৈরি পোশাক বদলে মূল বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আরেকটি বিয়ের পোশাক পরে নেন। এরপর পরিবার ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে চলে তাদের বিয়ের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা।   স্কাইডাইভিংয়ের সঙ্গে মাইক ও মেগানের সম্পর্ক অবশ্য শুধু পেশাগত নয়। তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তও জড়িয়ে আছে আকাশের সঙ্গে। মাইক মেগানকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন স্কাইডাইভিংয়ের সময় আকাশে থাকা অবস্থায়।   তাই বিয়ের দিনেও সেই গল্পের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তারা। যে আকাশে তাদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় শুরু হয়েছিল, সেখান থেকেই লাফ দিয়ে এবার শুরু করলেন দাম্পত্য জীবন।   মাইকেল মিসরুন ও মেগান ওয়ালশের স্কাইডাইভিং অভিজ্ঞতার বিষয়টি অন্য নথিতেও পাওয়া যায়। ইয়েটস কাউন্টির সরকারি নথিতে দুজনকে স্কাইডাইভ সেনেকা লেকের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিউইয়র্কের ফিঙ্গার লেকস অঞ্চলে ১১ হাজার থেকে ১৪ হাজার ফুট পর্যন্ত উচ্চতা থেকে স্কাইডাইভিংয়ের সুযোগ দিয়ে থাকে।   তাদের বিয়ের ভিডিও ও ছবি প্রকাশের পর অভিনব আয়োজনটি নজর কেড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। সাধারণত যেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কনের প্রবেশ নিয়েই থাকে বিশেষ আয়োজন, সেখানে মাইক ও মেগান নিজেদের নতুন জীবনের শুরুটাই করলেন হাজার হাজার ফুট ওপর থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দিয়ে।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
বিমানে অবস্থারত ব্যক্তি ছবি:সংগৃহীত।
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প

মাত্র সাত বছর বয়সে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাকে হারানো। এর তিন মাস পর দাদা-দাদির হাত ধরে পাড়ি যুক্তরাষ্ট্রে। ইংরেজি না জানা এক বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে নতুন জীবন শুরু। সেই শিশুই পরে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে, আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেন এবং উচ্চশিক্ষার পথ ধরে মেডিকেল স্কুলে প্রবেশ করেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আহমেদ মনজুর নিজের জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রার কথা তুলে ধরেছেন এক ব্যক্তিগত লেখায়।   নাটশেল টুডেতে ১৮ আগস্ট প্রকাশিত ‘দ্য মেকিং অব অ্যান আমেরিকান’ শিরোনামের লেখায় নিজের শৈশব, অভিবাসী জীবন, সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন এবং ২৫ বছর পর বাংলাদেশে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সাবেক মার্কিন মেরিন আহমেদ মনজুর।   তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০০১ সালের ১২ জানুয়ারি। আহমেদ মনজুরের বর্ণনা অনুযায়ী, ঢাকায় রিকশায় যাওয়ার সময় একটি বাসের ধাক্কায় হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনায় তার মা নিহত হন। তখন তার বয়স মাত্র সাত বছর।   মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে থানায় গিয়ে মায়ের মরদেহ শনাক্ত করার সেই স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে। শৈশবের ওই অভিজ্ঞতাকেই নিজের জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়া ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।   ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে দ্রুত বাংলাদেশে আসেন তার দাদা-দাদি। পরিবারের সিদ্ধান্তে আহমেদকে তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ভিসা আবেদনের পর তার ভিসা অনুমোদন হয়। জানুয়ারিতে মাকে হারানোর মাত্র কয়েক মাস পর, ২০০১ সালের এপ্রিলেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে ওঠেন।   সেই যাত্রার সময় কেউ জানতেন না, বাংলাদেশে আবার পা রাখতে তার লেগে যাবে প্রায় ২৫ বছর।নিউইয়র্কে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। প্রায় ষাটের কাছাকাছি বয়সী দাদা-দাদিকে সাত বছরের নাতিকে নিয়ে নতুন করে জীবন গড়তে হয়। আহমেদ বড় হয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে। প্রথমে জ্যামাইকা এবং পরে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম পরিচিত এলাকা জ্যাকসন হাইটসে ছিল তার বসবাস।   যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময় ইংরেজি প্রায় জানতেন না বলে জানিয়েছেন আহমেদ। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, স্কুলে নিজের জায়গা তৈরি করা এবং চারপাশের সংস্কৃতি বোঝা তার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। স্কুলজীবনে গ্যাং, সহিংসতা এবং মারামারির অভিজ্ঞতার কথাও লিখেছেন তিনি।   এর মধ্যেই আসে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা এবং এর পরবর্তী পরিস্থিতি। মুসলিম পরিবারের সন্তান হিসেবে ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদী মন্তব্যের মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও তার লেখায় উঠে এসেছে।   তবে কুইন্সের বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ তার জীবনকে অন্যভাবেও সমৃদ্ধ করে। জ্যাকসন হাইটসের রাস্তায় বাংলা, স্প্যানিশ, হিন্দি, ম্যান্ডারিন, নেপালিসহ বিভিন্ন ভাষা শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব তাকে আমেরিকার বৈচিত্র্যময় সমাজকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ দেয়।   পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। কিন্তু এর সঙ্গে তৈরি হয় পরিচয়ের আরেক প্রশ্ন। ঘরের ভেতরে বাঙালি সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ, আর বাইরে আমেরিকান সমাজ। এই দুই পরিচয়ের মধ্যে নিজের অবস্থান কোথায়, তা নিয়েও একসময় দ্বিধায় ছিলেন আহমেদ।   জীবনের পরবর্তী বড় অধ্যায় শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে। মেরিনদের পোশাক প্রথমে তাকে আকৃষ্ট করলেও পরে বাহিনীর মূল্যবোধই তাকে সেখানে ধরে রাখে বলে জানিয়েছেন তিনি।   বুটক্যাম্প এবং পরবর্তী সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করে তিনি একজন ইনফ্যান্ট্রি মেরিন হিসেবে সেকেন্ড ব্যাটালিয়ন, এইটথ মেরিন রেজিমেন্টে যোগ দেন।   ২০১৩ সালে সাত মাসের কমব্যাট ডিপ্লয়মেন্টে আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশের গারমসির জেলায় যান আহমেদ। অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডমের অংশ হিসেবে তার ইউনিট সেখানে কাউন্টারইনসার্জেন্সি অপারেশনে অংশ নেয় বলে নিজের লেখায় জানিয়েছেন তিনি।   দুই বছর পর ২০১৫ সালে আবারও বিদেশে দায়িত্ব পালন করেন। এবার পূর্ব ইউরোপে ন্যাটো মিত্রদের প্রশিক্ষণের কাজে বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন তিনি।   মেরিন কোরে আহমেদ ছিলেন তার ইউনিটের একমাত্র বাঙালি আমেরিকান বলে জানিয়েছেন। সহকর্মীদের কাছে বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ থাকলেও সে সময় নিজের জন্মভূমির সঙ্গে তার যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।সহকর্মীদের কিছু বাংলা শব্দ শেখানো বা বাঙালি খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ছাড়া বাংলাদেশ সম্পর্কে খুব বেশি কিছু বলতে পারতেন না বলে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি।   মেরিন কোর থেকে সম্মানজনকভাবে অবসর নেওয়ার পর উচ্চশিক্ষায় মন দেন আহমেদ। ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রির সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করলেও বাংলাদেশে ফেরা হয়নি।   পরবর্তী সময়ে মেডিকেল স্কুলে ডক্টরেট পর্যায়ের পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার পর আবার বাংলাদেশে ফেরার কথা ভাবতে শুরু করেন তিনি। সামনে দীর্ঘ মেডিকেল শিক্ষা ও সার্জিক্যাল রেসিডেন্সির ব্যস্ততা থাকবে বুঝতে পেরে জন্মভূমিকে নতুন করে জানার সিদ্ধান্ত নেন।   অবশেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, প্রায় ২৫ বছর পর ঢাকায় ফিরে আসেন আহমেদ মনজুর। প্রায় এক মাস বাংলাদেশে অবস্থান করেন তিনি।   এবারের বাংলাদেশ সফর তার কাছে শুধু একটি দেশ ঘুরে দেখা ছিল না। এত বছর ধরে যে পরিচয় থেকে নিজেকে অনেকটা দূরে রেখেছিলেন, সেই বাঙালি পরিচয়কেও নতুন করে আবিষ্কার করেন তিনি।   আহমেদ লিখেছেন, দীর্ঘদিন তার ধারণা ছিল পুরোপুরি আমেরিকান হয়ে ওঠার জন্য বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে আসতে হবে। দুটি পরিচয় যেন একে অপরের বিপরীত। কিন্তু বাংলাদেশে ফিরে তার সেই ধারণা বদলে যায়।   মাকে হারিয়ে সাত বছর বয়সে যে শিশুটি ঢাকা ছেড়েছিল, প্রায় আড়াই দশক পর সেই শহরেই ফিরে আসে একজন মার্কিন নাগরিক, সাবেক মেরিন এবং চিকিৎসাশিক্ষার পথে থাকা শিক্ষার্থী হিসেবে। আহমেদ মনজুরের কাছে এখন তার বাংলাদেশি ও আমেরিকান পরিচয় পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। বরং জীবনের একই গল্পের দুটি অংশ।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ৭ বছরের শিশুপুত্রের সামনে মাকে কু পিয়ে হ ত্যা
নিউইয়র্কে ৭ বছরের শিশুপুত্রের সামনে মাকে কু পিয়ে হ ত্যা, পলাতক হাম লাকারী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে সামান্য কথা-কাটাকাটির জেরে এক ৩০ বছর বয়সী নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ক্রাউন হাইটস এলাকার লিংকন টেরেস পার্কে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, নিহত ওই নারী তাঁর মাত্র ৭ বছর বয়সী শিশুপুত্রের সামনেই এই নৃশংস হামলার শিকার হন।   নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ইস্টার্ন পার্কওয়ে এবং রচেস্টার অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি লিংকন টেরেস পার্কের ভেতর থেকে ওই নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। মুমূর্ষু অবস্থায় দ্রুত তাঁকে ব্রুকডেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।   নিহতের বন্ধু ফেটি জানান, গভীর রাতে পার্কে একটি বারবিকিউ পার্টি চলাকালীন এক ব্যক্তির সাথে ওই নারীর সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়। হামলাকারী ওই ব্যক্তির সাথে নিহত নারীর আগে থেকেই কিছুটা জানাশোনা ছিল। ফেটি আক্ষেপ করে বলেন, "অযৌক্তিক ওই ছোট্ট তর্কটি সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু ছেলেটির চোখের সামনেই তার মাকে খুন করা হলো; ও শুধু কাঁদছে আর খুঁজছে ওর মা কোথায়!"   নিহতের আরেক বন্ধু আলাশা স্টিভেনসনের মতে, সামান্য তর্কের জেরে একজন নারীর সাথে তাঁর সন্তানের সামনে এমন পাশবিক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ জানিয়েছে, পুরুষ সন্দেহভাজন ওই হামলাকারী ঘটনার পরপরই খালি গায়ে এবং ধূসর রঙের সোয়েটপ্যান্ট পরা অবস্থায় রচেস্টার অ্যাভিনিউয়ের দিকে পালিয়ে যায়। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জোর পুলিশি অভিযান চলছে।   উল্লেখ্য, ব্রুকলিনের ক্রাউন হাইটস এলাকায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় খুনের ঘটনা। এর আগে গত রোববার ভোরে একটি ক্লাবের বাইরে পাঁচ সন্তানের জননী আরেক নারীকে একইভাবে হত্যা করা হয়েছিল। একের পর এক এমন হত্যাকাণ্ডের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি
নিউইয়র্কে ৯৯২ ডলারেই অ্যাপার্টমেন্ট! ব্রুকলিনে শুরু ৬৩ ইউনিটের হাউজিং লটারি

নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাসা পাওয়ার নতুন সুযোগ এসেছে। জনপ্রিয় পার্ক স্লোপ এলাকার ৭৪ সেন্ট মার্কস প্লেসে নির্মিত ‘সোলেস’ নামের নতুন আবাসিক ভবনের ৬৩টি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবাসন লটারি চালু হয়েছে। এক কক্ষের ছোট বাসা, এক শোবার ঘর ও দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে এই প্রকল্পে। মাসিক ভাড়া শুরু ৯৯২ ডলার থেকে। আবেদনের শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।   নিউইয়র্ক সিটির আবাসন লটারির নিয়ম অনুযায়ী, শুধু কম আয়ের পরিবার নয়, মধ্যম এবং তুলনামূলক বেশি আয়ের পরিবারও এই প্রকল্পের বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করতে পারবেন। পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং মোট বার্ষিক আয়ের ওপর নির্ভর করবে কে কোন বাসার জন্য যোগ্য হবেন। এই প্রকল্পে বছরে ৩৮ হাজার ৯৪৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার পর্যন্ত আয়কারীদের জন্য বিভিন্ন বাসা রাখা হয়েছে।   ১২ তলা সোলেস ভবনটির নকশা করেছে আইএনসি আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইন এবং এটি নির্মাণ করেছে অ্যাভডু অ্যান্ড পার্টনার্স। নিউইয়র্ক সিটির আবাসন সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে লটারিতে বাসাগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের আয় সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যম আয়ের ৪০ শতাংশ থেকে ১৩০ শতাংশের মধ্যে হতে হবে।   ৪০ শতাংশ মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে সবচেয়ে কম ভাড়ার বাসাগুলো রাখা হয়েছে। এখানে সাতটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৯৯২ ডলার। এসব বাসার জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ৩৮ হাজার ৯৪৯ ডলার থেকে ৫৪ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।   একই শ্রেণিতে রয়েছে ১৮টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্ট। এসব বাসার মাসিক ভাড়া ১ হাজার ২৩৮ ডলার। আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ৪৯ হাজার ৯৮৯ ডলার থেকে ৭৩ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে থাকতে হবে।   ৬০ শতাংশ মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে তিনটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এগুলোর মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৫৫৯ ডলার। যোগ্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় হতে হবে ৫৮ হাজার ৩৮৯ ডলার থেকে ৮১ হাজার ৪২০ ডলারের মধ্যে।   এই শ্রেণিতে সবচেয়ে বেশি বাসা রাখা হয়েছে দুই শোবার ঘরের। মোট ২২টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৯৬৭ ডলার। এসব বাসার জন্য বার্ষিক আয় ৭৪ হাজার ৯৮৩ ডলার থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯২০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।   তুলনামূলক বেশি আয়ের পরিবারগুলোর জন্যও লটারিতে বাসা রাখা হয়েছে। এলাকার মধ্যম আয়ের ১৩০ শতাংশ শ্রেণিতে পাঁচটি ছোট এক কক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৫৪৩ ডলার। আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৪১২ ডলার থেকে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৪১০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।   একই শ্রেণিতে দুটি এক শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ৭৮৪ ডলার। এসব বাসার জন্য বার্ষিক আয় হতে হবে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬০ ডলার থেকে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫১০ ডলারের মধ্যে।   এ ছাড়া ছয়টি দুই শোবার ঘরের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৫১৮ ডলার। এসব বাসার জন্য আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৪৬ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলারের মধ্যে হতে হবে।   তবে নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কোন ধরনের বাসার জন্য আবেদন করা হচ্ছে এবং সেই বাসার নির্ধারিত আয়ের সীমাসহ নিউইয়র্ক সিটির অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে। আবেদন গ্রহণের পর লটারির মাধ্যমে সম্ভাব্য আবেদনকারী নির্বাচন করা হয় এবং পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আয়ের তথ্য যাচাই করা হয়।   ব্রুকলিনের এই আবাসন প্রকল্পে আবেদন করতে আগ্রহীদের সময়সীমার বিষয়টি বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সোলেস ভবনের ৬৩টি অ্যাপার্টমেন্টের আবাসন লটারিতে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলিয়ান
নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে ম্যাকডোনাল্ডসে খাবার খাওয়ার সময় কিশোরকে একাধিক ছুরিকাঘাত

নিউইয়র্কে বেড়াতে এসে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলিয়ান তরুণ। ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার ও পেন স্টেশনের কাছের একটি ম্যাকডোনাল্ডসে বসে খাবার খাওয়ার সময় তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।   ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত প্রায় ২টার দিকে ম্যানহাটনের এইটথ অ্যাভিনিউয়ের একটি ম্যাকডোনাল্ডসে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ওই তরুণের পাঁজরের অংশ ও পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়।   প্রত্যক্ষদর্শীরা দ্রুত ৯১১-এ ফোন করলে জরুরি সেবা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত তরুণকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   ঘটনার পরপরই পুলিশ সন্দেহভাজন একজনকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে ফ্লোরিডার পোর্ট শার্লটের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী হুয়ান মার্সিডিজ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড ডিগ্রি অ্যাসল্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে দুজনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথাবার্তা হয়েছিল। তবে কেন ওই তরুণের ওপর হামলা চালানো হলো, তার স্পষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে এনওয়াইপিডি।   যে ম্যাকডোনাল্ডসে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি ম্যানহাটনের ৪৯০ এইটথ অ্যাভিনিউয়ে। পেন স্টেশন ও টাইমস স্কয়ারের মাঝামাঝি ব্যস্ত এলাকায় থাকা রেস্তোরাঁটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটক এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন।   তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিশেষ করে গভীর রাতে ওই ম্যাকডোনাল্ডস ও আশপাশের এলাকায় ঝগড়া ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা নতুন নয়। নিয়মিত একজন গ্রাহক জানান, রাতে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে তিনি ওই এলাকায় বেশিক্ষণ অবস্থান করেন না।   ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন নিউইয়র্কে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটন এলাকা টাইমস স্কয়ার ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে পর্যটকদের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে। এনওয়াইপিডির মিডটাউন সাউথ প্রিসিঙ্কট এলাকায় চলতি বছর সামগ্রিক বড় ধরনের অপরাধ কমলেও বিচ্ছিন্ন সহিংস ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।   অস্ট্রেলিয়ান তরুণটির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ এখন হামলার আগের পরিস্থিতি, দুই ব্যক্তির মধ্যে কোনো পূর্বপরিচয় ছিল কি না এবং ঠিক কী কারণে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
হ্যাম্পটনের মেডো লেনে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে জুলিয়া কোচের। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে জমি কিনে সন্তানদের জন্য বাড়ি বানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ নিউইয়র্কের হ্যাম্পটনে সন্তানদের জন্য একটি বড় পারিবারিক আবাসন গড়ে তুলছেন। এ উদ্দেশ্যে সাউদাম্পটনের অভিজাত মেডো লেনে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে নতুন একটি জমি কিনেছেন তিনি। পাশাপাশি আগে কেনা বাড়িগুলোতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সংস্কারকাজও চলছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্স।   জুলিয়া কোচ প্রয়াত শিল্পপতি ডেভিড কোচের স্ত্রী। ২০১৯ সালের আগস্টে ৭৯ বছর বয়সে ডেভিড কোচ মারা যাওয়ার পর তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে জুলিয়া কোচ পরিবারের বিপুল সম্পদের অন্যতম উত্তরাধিকারী হন। ফোর্বসের হিসাবে, ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত জুলিয়া কোচ ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮১.২ বিলিয়ন ডলার।   হ্যাম্পটনের মেডো লেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। সাউদাম্পটনের সমুদ্রতীরবর্তী এই সড়কটি বিপুল সম্পদের মালিকদের আবাসস্থল হওয়ায় অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘বিলিয়নিয়ার লেন’ নামেও পরিচিত। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় এক ডজন সম্পত্তি হাতবদল হয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য ২২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।   জুলিয়া কোচের এই এলাকায় আগে থেকেই একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেনা ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারের জমিটি তার বিদ্যমান সম্পত্তিগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে সন্তানদের জন্য একটি পারিবারিক কম্পাউন্ড তৈরির পরিকল্পনার অংশ বলে পেজ সিক্স জানিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে মেডো লেনে একটি বড় বাড়ি কিনেছিলেন জুলিয়া কোচ। বাড়িটির তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল ৭৫ মিলিয়ন ডলার। প্রায় ২২ হাজার বর্গফুটের এই টিউডর-ধাঁচের বাড়িতে ১৫টি শয়নকক্ষ রয়েছে। সম্পত্তিটির সঙ্গে প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতও রয়েছে।   বাড়িটি কেনার সময় সেটি বেশ কিছুটা জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন বাড়িটিকে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে পেজ সিক্স জানিয়েছে, এই সংস্কারে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। মেডো লেনে জুলিয়া কোচের আরেকটি বাড়িও রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার। এই সড়কে আরও বেশ কয়েকজন ধনী ও পরিচিত ব্যক্তির সম্পত্তি রয়েছে। ফলে নতুন জমি কেনার মাধ্যমে ওই এলাকায় কোচ পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়ল।   বিলাসবহুল সম্পত্তি সংস্কারের ক্ষেত্রে জুলিয়া কোচের আগ্রহ নতুন নয়। এর আগে নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডে তার ৪০ মিলিয়ন ডলারের টাউনহাউস সংস্কারের কাজে খ্যাতিমান নকশাবিদ পিটার মারিনোকে নিয়োগ করেছিলেন তিনি। পাম বিচের একটি ঐতিহাসিক সম্পত্তি সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজের জন্য ২০০৮ সালে তিনি ব্যালিঞ্জার অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন।   ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত বেশ গোপনীয় জুলিয়া কোচ। সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাকে খুব বেশি দেখা যায় না। পেজ সিক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তাকে হ্যাম্পটনে ওয়াশিংটন পোস্টের উত্তরাধিকারী ল্যালি ওয়েমাউথের চতুর্থ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে দেখা যায়। পরদিন নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটের একটি অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। তার আগে ২০১৯ সালে স্বামী ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় তাকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি।   ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর জুলিয়া কোচ ও তাদের তিন সন্তান কোচ পরিবারের ব্যবসায় বড় অংশীদারিত্বের মালিক হন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তারা কোচ ইনকরপোরেটেডের ৪২ শতাংশ অংশীদারিত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। কোচ পরিবারের এই ব্যবসায়িক সম্পদই জুলিয়া কোচের বিপুল সম্পদের মূল উৎস।   হ্যাম্পটনে সাম্প্রতিক এই বিনিয়োগ তাই শুধু একটি নতুন জমি কেনার ঘটনা নয়। একাধিক বাড়ি ও জমি একত্র করে সন্তানদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পারিবারিক আবাসন গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পেজ সিক্স। একই সঙ্গে পুরোনো সম্পত্তিতে বড় অঙ্কের সংস্কারকাজ চালিয়ে সেগুলোকে আরও আধুনিক করে তোলা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৪:০
সন্তানদের সাথে থাকার পরও নিউইয়র্কে কিছু প্রবীণ বাংলাদেশি বাবা-মার একাকী ও বিষণ্ণ জীবন কাটানোর বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে বৃদ্ধ বাবা-মাকে দিনে ঘরে থাকতে না দেওয়ার অভিযোগ, পার্কে মানুষের কাছে চান খাবারের টাকা

সন্তানের কাছে ভালো থাকবেন, শেষ বয়সটা কাটবে নিশ্চিন্তে - এমন আশা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা। কিন্তু নিউইয়র্কে তাদের কারও কারও জীবনের বাস্তবতা নাকি একেবারেই ভিন্ন। সন্তানদের কাছে থাকার পরও দিনের বেলা ঘরের বাইরে কাটানো, পার্কে বসে কান্না করা, এমনকি পরিচিত মানুষের কাছে চা-খাবারের জন্য এক থেকে দশ ডলার চাওয়ার মতো ঘটনা দেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি লাকি খানম।   নিউইয়র্কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাকি খানম বলেন, রাস্তাঘাট ও পার্কে চলাফেরার সময় এমন একাধিক বয়স্ক বাংলাদেশির সঙ্গে তার দেখা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ সরাসরি তার কাছে সাহায্য চেয়েছেন।   লাকি খানম বলেন, “আমাদের কাছেই হাত পাতে। বলে, দশটা টাকা দেবেন, চা খাব। একটা টাকা দেবেন - এমন কথাও শুনতে পাই।”   তার দাবি, এসব বৃদ্ধের অনেককেই ছেলে-মেয়েরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এসেছেন। তাদের দেখাশোনার জন্য হোম কেয়ার সুবিধাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো পরিবারে বৃদ্ধ বাবা-মা সেই সুবিধার সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।   নিজের দেখা একটি ঘটনার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন লাকি খানম। নিউইয়র্কের একটি পার্কের পাশে এক বৃদ্ধের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বসে কথা বলেছিলেন তিনি।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই ব্যক্তি শিক্ষিত ও ভালো অবস্থানে ছিলেন। মেয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর নিজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় কেঁদেছিলেন।   আরেকটি ঘটনার বর্ণনায় লাকি খানম দাবি করেন, এক বৃদ্ধ তাকে জানিয়েছেন, মেয়ে বন্ধুদের নিয়ে বাসায় খাওয়াদাওয়া করার পর চলে যান। পরে তাকেই থালা-বাসন পরিষ্কার করতে হয়।   তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বৃদ্ধ বা তাদের পরিবারের বক্তব্য নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে নিউইয়র্কের সব বাংলাদেশি পরিবারের চিত্র হিসেবে দেখারও সুযোগ নেই।   লাকি খানম বিশেষভাবে পরিষ্কার করেছেন, তার অভিযোগ হোম কেয়ার ব্যবস্থা কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে নয়।   তিনি বলেন, হোম কেয়ার কর্মীরা পরিশ্রম করেন এবং বয়স্কদের সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থাকে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন। তার অভিযোগ সেইসব সন্তানের বিরুদ্ধে, যারা বাবা-মায়ের জন্য পাওয়া সুবিধা ব্যবহার করলেও তাদের যথাযথ যত্ন নেন না।   লাকি খানম বলেন, “এজেন্সিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ না। অভিযোগ হচ্ছে ছেলেমেয়েদের বিরুদ্ধে। টাকা দিচ্ছে, কিন্তু এরা পায় না।”   নিউইয়র্কের আইনে বিষয়টি গুরুতর। বয়স্ক ব্যক্তির অর্থ বা সম্পদ অন্য কেউ অনুপযুক্তভাবে ব্যবহার করা কিংবা তাকে নিজের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করাও আর্থিক শোষণের আওতায় পড়তে পারে। একইভাবে খাবার, আশ্রয় বা প্রয়োজনীয় পরিচর্যা থেকে বঞ্চিত করা অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   সাম্প্রতিক সরকারি তথ্যও দেখাচ্ছে, বয়স্কদের নির্যাতন ও অবহেলা নিউইয়র্কে বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়। নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর দ্য এজিংয়ের হিসাবে, রাজ্যটিতে প্রতিবছর আনুমানিক তিন লাখ ষাটোর্ধ্ব মানুষ কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে আর্থিক শোষণ এবং পরিচর্যাকারীর অবহেলাও রয়েছে।   লাকি খানম নিজেও আগে হোম কেয়ারে কাজ করেছেন। তার বক্তব্য, সন্তানদের কর্মব্যস্ততা বাস্তব সমস্যা। কিন্তু বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সময় দেওয়া, যত্ন নেওয়া এবং সম্মানের সঙ্গে রাখার সামর্থ্য আছে কি না - সেটিও ভাবা প্রয়োজন।   এ কারণেই বাংলাদেশে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উদ্দেশে কঠিন একটি পরামর্শ দিয়েছেন তিনি - শুধু আমেরিকায় আসার সুযোগ আছে বলেই চলে আসবেন না, আগে ভাবুন এখানে এসে জীবনটা কেমন হবে।   তার মতে, বাংলাদেশে হয়তো অর্থনৈতিক সুযোগ কম, কিন্তু পরিচিত পরিবেশে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে দিনের বড় অংশ একাকী কাটাতে হলে শেষ বয়সে সেই প্রবাসজীবন অনেকের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।   তবে কোনো বৃদ্ধ ব্যক্তিকে অবহেলা করা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় খাবার-আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না কিংবা আর্থিকভাবে শোষণ করা হচ্ছে বলে সন্দেহ হলে নিউইয়র্ক সিটির অ্যাডাল্ট প্রোটেকটিভ সার্ভিসেসে অভিযোগ করার ব্যবস্থা রয়েছে। সংস্থাটি নির্যাতন, অবহেলা ও আর্থিক শোষণের ঝুঁকিতে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের অভিযোগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে।   শেষ পর্যন্ত লাকি খানমের সাক্ষাৎকার নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সামনে একটি কঠিন প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে -   বাবা-মাকে আমেরিকায় নিয়ে আসাই কি সন্তানের দায়িত্বের শেষ কথা? নাকি শেষ বয়সে তাদের হাতে প্রয়োজনীয় অর্থ, মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ, একটু সময় এবং সম্মানের জীবন নিশ্চিত করাটাই আসল দায়িত্ব?   এই নিউজটি একজন অনলাইনভিত্তিক ব্লগারের সাক্ষাৎকারের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আমেরিকা বাংলা সরাসরি এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ পায়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো তথ্য বা আপডেট পাওয়া গেলে তা পাঠকদের জানানো হবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বিনা বেতনে কাজ করিয়ে ১০ লাখ ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা
নিউইয়র্কে বিনা বেতনে কাজ করিয়ে ১০ লাখ ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মামলা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনভিত্তিক একটি স্টার্টআপ কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীদের গ্রীষ্মকালীন চাকরিতে নিয়োগ দিয়ে প্রায় ১০ লাখ (এক মিলিয়ন) মার্কিন ডলার মজুরি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 'নালানে গ্রিন সলিউশনস' নামক ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মাথাটা "মো" এমপেলার বিরুদ্ধে এ নিয়ে একটি ফেডারেল ক্লাস-অ্যাকশন মামলা দায়ের করা হয়েছে।   পরিবেশ রক্ষার মহান উদ্দেশ্যের কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাজে লাগিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে তাদের চরমভাবে শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়।   মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, এমপেলা তার 'গ্রিন অ্যাপ্রেন্টিস প্রোগ্রাম'-এর জন্য সিটি ইউনিভার্সিটি অফ নিউইয়র্ক (CUNY) এবং হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির ২০ জনেরও বেশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ইস্ট নিউইয়র্কের ট্রানজিট টেক হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বা গ্রিন টেক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য তাদের ঘণ্টায় ২২ থেকে ৪০ ডলার বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।   সম্প্রদায়ের উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার এই উদ্যোগে কাজ করতে অনেক শিক্ষার্থী দেশের অন্য প্রান্ত থেকে নিউইয়র্কে ছুটে আসেন এবং অন্যান্য লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় কাজ করার পরও তাদের কাউকেই এক সেন্টও পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।   হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটির মেধাবী শিক্ষার্থী জিওভান্নি লুটি জানান, এই প্রকল্পে কাজ করার জন্য তিনি 'কলিন্স অ্যারোস্পেস'-এর একটি বড় চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে টেক্সাস থেকে ব্রঙ্কসের একটি ইঁদুর উপদ্রুত অ্যাপার্টমেন্টে চলে এসেছিলেন। তাকে দিয়ে একটি হাই স্কুলের বেসমেন্টে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চার্জার তৈরির অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা লেখানো হয়েছিল।   সিইউএনওয়াই-এর স্নাতক শিক্ষার্থী জুলি লিউ জানান, মানুষের সেবা করার প্রতি তাদের যে অকৃত্রিম আগ্রহ ছিল, এমপেলা সেটাকে স্রেফ নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। আরেক শিক্ষার্থী আলানা মার্শিয়াল জানান, তিনি ৬৩৬ ঘণ্টা কাজ করেও কোনো বেতন পাননি। নিজেকে চরম শোষিত দাবি করে ক্ষুব্ধ এই শিক্ষার্থী বলেন, "এই প্রতারণা আর চলতে দেওয়া যায় না, এর শেষ এখানেই হতে হবে।"   এদিকে অভিযুক্ত এমপেলা মজুরি না দেওয়ার পেছনে নিউইয়র্ক স্টেটের অনুদান পেতে দেরি হওয়াকে দায়ী করেছেন। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি দাবি করেন যে, শিক্ষার্থীদের কাছে তার দেনার পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ নয়, বরং মাত্র ৫৩ হাজার ডলার। তবে বাদীদের আইনজীবীরা তার এই দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন।   এদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর সিইউএনওয়াই কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে নালানে গ্রিন সলিউশনসকে তাদের নিয়োগ ব্যবস্থা থেকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করেছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, গত এপ্রিলে প্রথমবার মামলা হওয়ার পরও এমপেলা চলতি গ্রীষ্মে হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে নতুন করে আবারও শিক্ষার্থী নিয়োগ দিয়ে এই প্রতারণা চালিয়ে গেছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে মশাল হাতে শপথ, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরবেন প্রায় হাজার নেতাকর্মী
নিউইয়র্কে মশাল হাতে শপথ, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরবেন প্রায় হাজার নেতাকর্মী

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মশাল হাতে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দলের নেতারা। তারা দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় এক হাজার নেতাকর্মী ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা সভা শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাতে মশাল তুলে দেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।   এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা। আলোচনা সভায় অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন দলটির সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, সাবেক মন্ত্রী এনামুল হক শামীমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও এতে বক্তব্য দেন।   সভায় সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নেতাকর্মীদের বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি। দলটির নেতারা দাবি করেন, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন এবং তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও বাংলাদেশে যাবেন।   এক নেতা তার বক্তব্যে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেছিলেন; আগামী ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন এবং পৃথিবীর যে যেখানে আছেন, সবাই তার সঙ্গে দেশে যাবেন। আরেক নেতা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, তারা সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়ন দেখতে চান না এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও দেশ পরিচালনার প্রত্যাশা করেন। তবে ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার তথ্য অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়নি।   এদিকে, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে রক্তদান, জায়নামাজ ও খাবার বিতরণের মতো আলাদা কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী। শাকিল মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নিউইয়র্কের সিটি বাসে যাতায়াতকারী মানুষের মধ্যে প্রায় এক হাজার জায়নামাজ বিতরণ করা হয় বলে জানান আয়োজকেরা।   মূলত, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত দলটির নেতাকর্মীদের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে মশাল হাতে শপথ গ্রহণ ও ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার এই ঘোষণাকে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি দুর্ঘটনায় ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যুতে ১০৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি
নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি দুর্ঘটনায় ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যুতে ১০৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণের সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত হন রোমাঞ্চ মহাজন নামের ১৮ বছর বয়সী এক ভারতীয় পর্যটক। এই মৃত্যুর ঘটনায় নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ১০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে নিহতের পরিবার।   তাদের দাবি, রাস্তায় থাকা ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ থেকে নির্গত বৈদ্যুতিক শকে (স্ট্রে ভোল্টেজ) ঘোড়াটি হঠাৎ ভয় পেয়ে দৌড় দিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'কন এডিসন'-সহ বেশ কয়েকটি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলার এই প্রাথমিক নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে।   জানা যায়, স্বপ্নের ছুটি কাটাতে মাত্র তিন দিন আগে ভারত থেকে মা-বাবা এবং ১১ বছরের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে নিউইয়র্কে এসেছিলেন রোমাঞ্চ। গত ১৭ জুন তারা সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ঘুরতে যান। চালক যখন গাড়ি থামিয়ে পরিবারটির ছবি তুলছিলেন, ঠিক তখনই ঘোড়াটি ভয় পেয়ে ছুটতে শুরু করে।   এ সময় চলন্ত গাড়ি থেকে রোমাঞ্চের মা ছিটকে পড়লে তাকে ধরতে গিয়ে রোমাঞ্চও নিচে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তার মৃত্যু হয়। যদিও তার মা এই দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চালক ঘোড়ার গাড়িটির পিছু নিয়ে থামানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও সেটি শেষপর্যন্ত ফুটপাতে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়।   নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং সিটি কর্মকর্তারা আগে থেকেই ওই এলাকায় অবাঞ্ছিত বিদ্যুতায়নের সমস্যার কথা জানতেন, কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। তবে কন এডিসনের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা গত ১৬ ও ২৩ জুলাই ওই এলাকায় খুবই কম মাত্রার ভোল্টেজের উপস্থিতি পেয়েছিলেন, যা তাদের কোনো সরঞ্জাম থেকে আসেনি। অন্যদিকে সিটি ল ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে যে তারা নথিটি পর্যালোচনা করছে।   এদিকে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ির রাইড চিরতরে বন্ধ করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। প্রাণী অধিকারকর্মীদের পাশাপাশি সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিনও জননিরাপত্তা ও প্রাণীকল্যাণ নিশ্চিতে বিকল্প সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন।   তবে কুইন্সের ডেমোক্রেটিক কাউন্সিলম্যান জেমস জেনারো এই ঘটনাকে 'মানবিক ভুল' আখ্যা দিয়ে রাইডগুলো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার বদলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। যার মধ্যে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়া বাঁধার নির্দিষ্ট পোস্ট স্থাপন এবং চালকদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে রাস্তায় গোলাগুলি, লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বাথরুমে থাকা নিরীহ নারীর মৃ ত্যু
নিউইয়র্কে রাস্তায় গোলাগুলি, লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বাথরুমে থাকা নিরীহ নারীর মৃ ত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনে দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষের সময় লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে বিদ্ধ হয়ে সোফ্রোনি হার্টজোগ নামের ৩৩ বছর বয়সী এক নিরীহ নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, রোববার ভোরে ক্রাউন হাইটস এলাকার বারগেন স্ট্রিট এবং হাওয়ার্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে অবস্থিত 'ওহ লা লা লাউঞ্জ'-এর বাইরে প্রায় ১০০ মানুষের একটি দলের মধ্যে এই বিশাল সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত ওই নারী এই সংঘাতের কোনো পক্ষেরই অংশ ছিলেন না।   ভোর আনুমানিক ২টা ২৩ মিনিটে শুরু হওয়া এই গোলাগুলির সময় একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি সোফ্রোনি হার্টজোগের পিঠে আঘাত করে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি দ্রুত দৌড়ে ওই পানশালার (বার) ভেতরে প্রবেশ করেন এবং বাথরুমের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকর্মীরা তাকে দ্রুত ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ওয়ান ব্রুকডেল হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান।   কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। এই একই ঘটনায় ৩৪ বছর বয়সী আরও এক ব্যক্তি পেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যিনিও এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না। তাকে এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস/কিংস কাউন্টি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।   ঠিক কী কারণে এত মানুষের মধ্যে এই মারাত্মক সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে দুজনের বিবরণ অনুযায়ী তাদের আটক করা হয়েছিল। তবে পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে পুলিশের তল্লাশি ও জোরালো তদন্ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ৫ মাসে জানালা থেকে পড়েছে ৪ শিশু, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে মেয়র মামদানি
নিউইয়র্কে ৫ মাসে জানালা থেকে পড়েছে ৪ শিশু, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে মেয়র মামদানি

নিউইয়র্ক সিটিতে গত পাঁচ মাসে জানালা থেকে চারজন শিশুর পড়ে যাওয়ার মতো ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির পর কিছু রাজনীতিক নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে 'অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক নাটক' বাদ দিয়ে শহরের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের মৌলিক সমস্যাগুলোর দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই চার শিশুই ওপর থেকে পড়ে যাওয়ার পরও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছে।   সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার দ্য ব্রঙ্কস এলাকার বুচানান প্লেসে। পুলিশ জানিয়েছে, জুলাই মাসে ৫ বছরে পা দেওয়া ডিলান মোকুয়েটে নামের এক শিশু তার অ্যাপার্টমেন্টের পাঁচতলার জানালা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার এক দিন আগে ওই শিশুর মা ডমিনিকান রিপাবলিকের উদ্দেশে রওনা হন এবং ২২ বছর বয়সী বোনের তত্ত্বাবধানে শিশুটি ছিল। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বোন যখন রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন, তখন ডিলান বিছানা থেকে উঠে জানালা দিয়ে বাইরে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে ৫০ ফুট নিচে ফুটপাতে পড়ে যায়।   বর্তমানে সে নিউইয়র্ক-প্রেসবিটারিয়ান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পারিবারিক এক বন্ধুর ভাষ্যমতে, শিশুটির শরীরের বেশ কিছু হাড় ভেঙে গেলেও সৌভাগ্যবশত কোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং নিচে আবর্জনার স্তূপ থাকায় সেটি কিছুটা কুশনের মতো কাজ করেছে, যার ফলে সে এখন বিপদমুক্ত। তবে জানালায় গার্ড বা প্রতিরক্ষামূলক গ্রিল সঠিকভাবে লাগানো না থাকার কারণেই শিশুটি বাইরে চলে আসতে পেরেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।   স্বাস্থ্য বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই অ্যাপার্টমেন্টের কোনো জানালাই শহরের ৫০ বছর পুরোনো আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। আইন অনুযায়ী, যেসব অ্যাপার্টমেন্টে ১০ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে এবং জানালাগুলো জরুরি নির্গমনের পথ নয়, সেগুলোতে অবশ্যই উইন্ডো গার্ড থাকতে হবে।   কিন্তু ডিলানদের ওই জানালাগুলোতে গার্ডের ফাঁকা অংশ ৪.৫ ইঞ্চির বেশি থাকায় তা আইনসম্মত ছিল না। এ ছাড়া গত ৬ এপ্রিল মরিসানিয়ায় অটিজমে আক্রান্ত ৫ বছরের এক শিশু তিনতলার জানালা থেকে পড়ে যায়। ২৭ মে কুইন্সের গ্লেনডেলে ৩ বছরের একটি মেয়ে দোতলার জানালা থেকে পড়ে যায় এবং ১৭ জুলাই মট হ্যাভেনে ১ বছরের এক ছেলে শিশু পাঁচতলার জানালা থেকে নিচে পড়ে যায়।   এই ঘটনাগুলোর পর শহরের ‘হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (HPD)’ গত ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরে—যার মধ্যে মেয়র মামদানির প্রশাসনের প্রথম ছয় মাসও অন্তর্ভুক্ত—উইন্ডো-গার্ডের নিয়ম লঙ্ঘনের অন্তত ৫,৮৬৮টি নোটিশ জারি করেছে। যদিও আগের অর্থবছরে এই নিয়ম ভঙ্গের সংখ্যা ছিল ৭,০৪৫টি।   কুইন্সের ডেমোক্র্যাট দলীয় সিটি কাউন্সিলম্যান ফিল ওং এই পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে চারটি শিশুর জানালা থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি অবিলম্বে বিদ্যমান উইন্ডো-সেফটি আইনগুলোর সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন।   সেই সঙ্গে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে মেতে না থেকে প্রশাসনকে শহরের প্রাত্যহিক সমস্যাগুলো সমাধানে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যদিকে কুইন্সের রিপাবলিকান কাউন্সিলওম্যান জোয়ান আরিওলা মনে করিয়ে দেন যে, মেয়র মামদানি ভাড়াটেদের জীবনমান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন।   কিন্তু গত আট মাস ধরে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে নিয়ে কথা বলা এবং আগের প্রশাসনের কাজের কৃতিত্ব নিতেই ব্যস্ত ছিলেন। তবে সিটি হেলথ ডিপার্টমেন্টের দাবি, গত পাঁচ বছরের তুলনায় এ বছর জানালা থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়েনি এবং গত অর্ধশতক ধরে শহরের উইন্ডো গার্ড আইন অগণিত মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি! চাপে মামদানির প্রতিশ্রুতি
নিউইয়র্কে অর্ধেক যাত্রী দিচ্ছেন না বাসভাড়া, মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি! চাপে মামদানির প্রতিশ্রুতি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসে শহরের বাস থেকে ভাড়া আদায় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ মিলিয়ন ডলার কমেছে। একই সময়ে বাসে ভাড়া না দিয়ে যাতায়াতের হারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় অর্ধেক বাসযাত্রী নির্ধারিত ৩ ডলার ভাড়া পরিশোধ করছেন না।   ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গথামিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে বাসে ভাড়া পরিশোধ করা যাত্রীর সংখ্যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে সাবওয়ে ও কমিউটার রেলে ভাড়া থেকে আয়ের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল।   এই পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মামদানির বহুল আলোচিত বাসভাড়া ফ্রি করার পরিকল্পনা। ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে নিউইয়র্ক সিটির বাসে ভাড়া তুলে দেওয়াকে নিজের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি করেছিলেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত নিউইয়র্কের বাস ফ্রি করা হয়নি এবং যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধের নিয়ম বহাল রয়েছে।   নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমটিএ সিটি সরকারের অধীন নয়। এটি নিউইয়র্ক স্টেটের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পাবলিক অথরিটি। ফলে মেয়র একক সিদ্ধান্তে বাসের ভাড়া বাতিল করতে পারেন না। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে স্টেট পর্যায়ে অনুমোদন ও অর্থায়নের ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে।   এমটিএ চেয়ারম্যান ও সিইও জানো লিবারের বক্তব্যে মামদানির ফ্রি বাসের রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে ভাড়া না দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। তার যুক্তি, বাস ফ্রি করার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে আলোচনা চলতে থাকায় কিছু যাত্রীর মধ্যে ভাড়া না দেওয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে।   ট্রানজিট কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সেবাকে ভবিষ্যতে ফ্রি করার কথা বারবার বলা হলে কিছু মানুষের মধ্যে সেটির জন্য এখনই অর্থ না দেওয়ার মনোভাব তৈরি হতে পারে।   তবে বাসে ফেয়ার ইভেশন বা ভাড়া ফাঁকি দেওয়ার সমস্যার জন্য শুধু মামদানির ক্যাম্পেইনকে দায়ী করার মতো প্রমাণ নেই। নিউইয়র্কে বাসভাড়া ফাঁকি দেওয়ার হার মামদানি মেয়র হওয়ার অনেক আগে থেকেই অত্যন্ত বেশি ছিল। নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালে বাসে ফেয়ার ইভেশনের গড় হার ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে তা কিছুটা কমে ৪৪ শতাংশে নেমেছিল।   কোভিড মহামারির সময়ও নিউইয়র্ক সিটির বাসে সাময়িকভাবে ভাড়া নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে আবার ভাড়া চালু হলেও বাসে ফেয়ার ইভেশন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে থেকে যায়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে মামদানির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে এমটিএ কর্মকর্তা ও মেয়র প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।   এর আগে নিউইয়র্কে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি বাস রুটে ফ্রি সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়নি। কর্মসূচিটি ২০২৪ সালে শেষ হয়।   মামদানি বরাবরই যুক্তি দিয়ে আসছেন, বাসভাড়া তুলে দিলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের নিউইয়র্কবাসীর দৈনন্দিন খরচ কমবে এবং গণপরিবহন আরও সহজলভ্য হবে। তার প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ফ্রি বাস পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান বহাল রাখা হয়েছে।   অন্যদিকে এমটিএর সামনে বড় প্রশ্ন অর্থায়ন। বাস থেকে ভাড়া আদায় কমে গেলে সেই ঘাটতি কোথা থেকে পূরণ হবে, তা নিয়েই মূল বিতর্ক। কারণ বাস পরিচালনা, কর্মীদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুরো ট্রানজিট ব্যবস্থার আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ভাড়া থেকে পাওয়া রাজস্ব সরাসরি যুক্ত।   ফলে নিউইয়র্কে বিতর্ক এখন শুধু বাস ফ্রি হবে কি না, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বাস এখনো ফ্রি না হলেও কেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ভাড়া দিচ্ছেন না এবং বছরে শত শত মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য রাজস্ব হারানোর চাপ কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটিই এমটিএ ও মামদানি প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে ৩৫০ বছরের পুরোনো জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০ লাখ ডলারে
নিউইয়র্কে ৩৫০ বছরের পুরোনো জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০ লাখ ডলারে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সমৃদ্ধ ইতিহাসের এক অনন্য নিদর্শন এবার বিক্রির জন্য বাজারে এসেছে। 'গ্লেন স্যান্ডার্স ম্যানশন' নামের এই বিলাসবহুল ঐতিহাসিক বাড়িটির দাম হাঁকানো হয়েছে আট মিলিয়ন বা ৮০ লাখ ডলার। স্কোটিয়া এলাকায় মোহক নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাসাদটি নিউইয়র্কের টিকে থাকা তৃতীয় প্রাচীন বসতবাড়ি হিসেবে পরিচিত।   ১৬৫৮ সালে আলেকজান্ডার লিন্ডসে গ্লেন নামের এক স্কটিশ ব্যবসায়ী নদীর তীরে পাথরের তৈরি এই বসতবাড়িটি নির্মাণ করেন এবং নিজের জন্মভূমির নামানুসারে এলাকাটির নাম রাখেন 'স্কোটিয়া'। সেই আদি এক কামরার ঘরটি আজও টিকে আছে এবং পুরো ম্যানশনটি তাকে ঘিরেই বিস্তৃত। গ্লেন পরিবার প্রায় ২৬৬ বছর ধরে এই সম্পত্তির মালিকানা ধরে রেখেছিল, যা পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বর্তমান মালিকের ছেলে এবং এই প্রপার্টির লিস্টিং এজেন্ট অ্যাঞ্জেলো মাইকেল ম্যাজোন জুনিয়রও বাড়িটির এই প্রাচীনত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী এই বাড়িটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক রোমাঞ্চকর ঘটনা। পারিবারিক লোককথা অনুযায়ী, ফরাসি বন্দীদের প্রতি গ্লেন পরিবারের সহমর্মিতার কারণে ১৬৯০ সালের ভয়াবহ 'স্কেনেকট্যাডি গণহত্যা' থেকে এই বাড়িটি রক্ষা পেয়েছিল। এমনকি ফরাসি কর্মকর্তারা পরদিন সকালে নদী পার হয়ে এই বাড়িতে প্রাতরাশ সেরেছিলেন বলেও শোনা যায়।   বর্তমানে যে প্রাসাদটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, তা ১৭১৩ সালে ক্যাপ্টেন জোহানেস 'জন' গ্লেন নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, ১৬৫৮ সালের আদি ঘরের পাথর, কাঠ ও দরজা ব্যবহার করেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী অ্যাঞ্জেলো ম্যাজোন সিনিয়র ১৯৮৮ সালে এই সম্পত্তিটি কিনে নেন এবং পরের বছর একে 'ম্যাজোন হসপিটালিটি'-এর ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে চালু করেন।   তবে ৭৫ বছর বয়সী ম্যাজোন এখন বয়সের ভারে এই সুবিশাল সম্পত্তিটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ হিসেবে তিনি জানান, দীর্ঘ চার-পাঁচ দশক ধরে কঠোর পরিশ্রম করে তিনি এই ব্যবসাকে ৭ কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত করলেও, তার পরিবারে এই ব্যবসার হাল ধরার মতো কেউ নেই। তার ছেলে ম্যাজোন জুনিয়র পেশায় একজন অপেরা গায়ক ও রিয়েল এস্টেট এজেন্ট।   এই ম্যানশনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অতিথিদের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য তালিকা। ১৭৭৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিদর্শনের সময় এখানে যাত্রাবিরতি করেছিলেন এবং একটি চা-চক্রে অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।   এছাড়া ১৭৯০-এর দশকের শেষদিকে ফরাসি বিপ্লবের পর নির্বাসিত জীবনে ভবিষ্যৎ ফরাসি রাজা লুইস ফিলিপও এই প্রাসাদে অবস্থান করেছিলেন, যার নামে আজও সেখানে একটি বেডরুম সংরক্ষিত রয়েছে। ঐতিহাসিক এই বাড়িটিতে এখনও এর আদি জানালা, মেঝে, কড়িকাঠ এবং ১৭১৩ সালের মূল দরজাগুলো অক্ষত রয়েছে।   শুধু ইতিহাসই নয়, এই বাড়িটিকে ঘিরে রয়েছে অলৌকিক সব গল্পও। প্রাসাদের কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের দাবি, এখানে প্রায়ই লাল পোশাক পরিহিত এক নারীর রহস্যময় উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, যাকে অনেকেই আলেকজান্ডার গ্লেনের নাতনি ডেবোরা গ্লেন বলে মনে করেন। এছাড়া হঠাৎ করে পুরো বাড়ির আলো জ্বলে ওঠা বা নিজে থেকে পর্দা নড়ে ওঠার মতো অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনেকে।   তবে বাড়ির লিস্টিং এজেন্টদের মতে, এখানকার ভূতগুলো বেশ 'বান্ধব' এবং তারা কারও কোনো ক্ষতি করে না বলে এই বিষয়ে খুব বেশি আলোচনা করা হয় না।   প্রায় তিন একর জমির ওপর অবস্থিত এই সম্পত্তির মধ্যে ঐতিহাসিক মূল বাড়িটির আয়তন প্রায় দুই হাজার ৮০০ বর্গফুট, যেখানে একটি ২২ কক্ষের সরাইখানাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিক্রি হওয়া এই প্যাকেজের সঙ্গে একটি বাড়তি আকর্ষণও রয়েছে। এর ক্রেতা চাইলে নিচতলায় রেস্তোরাঁসহ একটি ৯৫ ইউনিটের অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স নির্মাণের পূর্বানুমোদিত সুবিধাও পাবেন।   যদিও আইনিভাবে এই বাড়িটি ভেঙে ফেলার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই, তবে ম্যাজোন সিনিয়রের একান্ত চাওয়া, নতুন ক্রেতা যেন এই ঐতিহাসিক ভবনটি তাদের মতোই সযত্নে সংরক্ষণ করেন। কারণ, আজও এই প্রাসাদের প্রতিটি ঘর যেন আক্ষরিক অর্থেই আঠারো শতকের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, দুই বেডরুমের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৫৭ হাজার ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া, দুই বেডরুমের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৫৭ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র আবাসন সংকটের কারণে আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া সাধারণ মানুষের আয়ের বড় একটি অংশ গিলে খাচ্ছে। আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠান জিলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে দুই বেডরুমের একটি বাসার গড় ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৭৫০ ডলার, যা বছরে দাঁড়ায় ৫৭ হাজার ডলারে।   ২০২৩ সালের মার্কিন শুমারি ব্যুরোর তথ্যমতে, এটি ওই শহরের পরিবারগুলোর গড় আয়ের দুই-তৃতীয়াংশের চেয়েও বেশি। শুধু নিউইয়র্ক নয়, পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই মানুষের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে বাসস্থানের পেছনে। জিলোর দেওয়া তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশটিতে গড় বার্ষিক বাড়িভাড়া ২১ হাজার ৪৮০ ডলার।   জিলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক ভাড়াটেই 'কস্ট-বার্ডেনড' বা আবাসন ব্যয়ভারের চাপে পিষ্ট, যার অর্থ হলো তাদের আয়ের ৩০ শতাংশেরও বেশি কেবল আবাসন খাতেই ব্যয় হয়। ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকা পরিবারগুলোর মধ্যে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৫৪ শতাংশ।   জিলো ও স্ট্রিটইজি-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কেনি লি জানান, যদিও ভাড়া বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে, তবুও আয়ের তুলনায় ভাড়ার পরিমাণ এখনো অনেক উঁচুতে অবস্থান করছে। করোনা মহামারির পর থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ ভাড়াটে এই অতিরিক্ত খরচের চাপে রয়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।   হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির জয়েন্ট সেন্টার ফর হাউজিং স্টাডিজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে ৩০ হাজার ডলারের কম আয় করা প্রতি ১০ জন ভাড়াটের মধ্যে ৮ জনেরও বেশি মানুষ ২০২৪ সালে মারাত্মক ব্যয়ভারের চাপে ছিলেন।   বাড়িভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো তীব্র আবাসন সংকট। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে দীর্ঘ দুই দশক ধরে নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে বর্তমানে মার্কিন আবাসন বাজারে ৪৭ লাখ বাড়ির বিশাল ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে অনেক মানুষ বাড়ি কেনার বদলে বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা আবাসন সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলছে।   অর্থনীতিবিদ লি জানান, উন্নয়নের জন্য জমি থাকা সত্ত্বেও জোনিং বা আঞ্চলিক বিধিনিষেধ এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নির্মাণকাজ থমকে আছে। উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন ভাড়ার বাজারগুলোতে তাই আবাসন প্রকল্পগুলো আটকে রয়েছে। এই বাধাগুলো পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ কোনোভাবেই চাহিদার সমকক্ষ হতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।   চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি দ্বিদলীয় বিল আইনে পরিণত হয়েছে। হোয়াইট হাউস এটিকে দেশের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসন আইন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই আইনটি আবাসন সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করলেও, তাৎক্ষণিকভাবে এটি বাড়িভাড়ার আকাশচুম্বী মূল্যের লাগাম টেনে ধরতে পারবে না।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে আইনশৃঙ্খলা ও সহিংস অপরাধ কমার বিষয় তুলে ধরছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প; পাশে পুলিশ কর্মকর্তারা। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কে অপরাধ কমার তথ্য সামনে আনছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নাসাউ কাউন্টি পুলিশ একাডেমি সফর করছেন। সফরে তিনি দেশজুড়ে সহিংস অপরাধ কমার তথ্য তুলে ধরবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেবেন।   হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের সফরের সময় ২০২৫ সালের নতুন এফবিআই অপরাধ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হবে। ওই পরিসংখ্যানে হত্যা, ধর্ষণ, ছিনতাই ও গুরুতর হামলাসহ বিভিন্ন সহিংস অপরাধ কমার তথ্য রয়েছে।   ট্রাম্পের সঙ্গে সফরে থাকবেন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চে এবং এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। অপরাধ ও জননিরাপত্তার বিষয়টি নিউইয়র্কের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।   নাসাউ কাউন্টিতে ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী ব্রুস ব্লেকম্যান নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে ট্রাম্পের এই সফরকে আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।   তবে অপরাধ কমার পেছনে প্রশাসনের নীতির কতটা ভূমিকা রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরাও এক বছরের পরিসংখ্যানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিবেচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করছেন।

সিদ্দিকুর রহমান আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান।ছবি: ঠিকানা নিউজের ভিডিও থেকে
‘খেলা নয়, এবার যুদ্ধ হবে’: শামীম ওসমান

দীর্ঘদিন প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান। নিউইয়র্কে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় শেষে তিনি বলেছেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তির’ সঙ্গে এবার আর খেলা নয়, প্রয়োজনে সরাসরি ‘যুদ্ধ’ হবে।   ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় জনসম্মুখের বাইরে ছিলেন শামীম ওসমান। তবে গত জুলাইয়ে নিউইয়র্কে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ার খবর আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও তার নিউইয়র্কে অবস্থান ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।    নিউইয়র্কের কুইন্সের একটি রেস্তোরাঁয় যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর ঠিকানা নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শামীম ওসমান দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি বাস্তবায়িত হবে। নেত্রী দেশে ফিরলে নেতাকর্মীরাও তার সঙ্গে ফিরবেন বলে জানান তিনি।   শামীম ওসমান বলেন, শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নেন, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। নিজের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নেত্রী ফিরলে অনুসারীরাও দেশে ফিরবেন।   এরপর বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের বহুল আলোচিত ‘খেলা হবে’ স্লোগানকেও নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন সাবেক এই সংসদ সদস্য।   তার ভাষায়, “খেলা হয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে।” বর্তমান পরিস্থিতিতে যাদের তিনি ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করছেন, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ‘খেলা’ নয়, ‘যুদ্ধ’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বিএনপিকে পুরোপুরি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বলতে রাজি নন বলেও জানান শামীম ওসমান। দলটির মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বিএনপি বর্তমানে ভুল রাজনৈতিক পথে এগোচ্ছে।   সাক্ষাৎকারে আরও গুরুতর একটি অভিযোগ করেন শামীম ওসমান। তার দাবি, নারায়ণগঞ্জের চারটি স্থানে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ চলছে এবং এর মধ্যে দুটি মহিলা মাদ্রাসাও রয়েছে। কারা সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং কী উদ্দেশ্যে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।   বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আঞ্চলিক শক্তিগুলো বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ভারতসহ উপমহাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ দাবিগুলোর পক্ষে সাক্ষাৎকারে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দেননি তিনি।   দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। এখন নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট পাবে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এই দাবির পক্ষে সাম্প্রতিক কোনো নির্ভরযোগ্য জাতীয় জনমত জরিপের তথ্য তিনি উল্লেখ করেননি।   শামীম ওসমানের এই প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে আবুল হাসান স্বজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় শেখ হাসিনা, শামীম ওসমানসহ কয়েক ডজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছিল।    চলতি বছরের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং অভিযোগ থাকা মানেই কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।    একসময় ‘খেলা হবে’ স্লোগানের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনায় আসা শামীম ওসমান এবার সেই স্লোগান থেকেই সরে এসে ‘যুদ্ধের’ ভাষা ব্যবহার করলেন। নিউইয়র্ক থেকে দেওয়া তার বক্তব্য একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করার বার্তা এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার কঠোর অবস্থানের প্রকাশ হিসেবেই সামনে এসেছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী মহুয়া
নিউইয়র্কে সংগ্রাম থেকে সাফল্য, ৯টি আয়ের উৎসে বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণীর

নিউইয়র্ক সিটির প্রচণ্ড প্রতিযোগিতামূলক জীবনব্যবস্থা আর নিজের কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই সফল উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন মহুয়া খান। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই তরুণীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কের কুইন্সে। ৯টি ভিন্ন মাধ্যম থেকে উপার্জন করে তিনি ২০২৫ সালে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছেন, যার মধ্যে কর ও অন্যান্য খরচ বাদে তাঁর নিট আয় ছিল প্রায় ৭০ হাজার ডলার।   বর্তমানে তিনি অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় ৩ হাজার ডলার ভাড়ার একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন এবং সেখান থেকেই নিজের সব কাজ পরিচালনা করছেন। নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মহুয়া জানান, এখানকার জীবন এক ধরনের দ্বিধারি তলোয়ারের মতো; চারপাশে সবাইকে একাধিক চাকরি আর প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে দেখলে এটিকেই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম বলে মনে হয়।   অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছেন মহুয়া। তাঁর বাবা সপ্তাহে সাত দিন, দিনে ১৬ ঘণ্টা নিউইয়র্কের রাস্তায় ট্যাক্সি চালিয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর মা সব সময় বলতেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। মূলত এই অভাববোধ ও মানসিকতা থেকেই মাত্র ১৫ বছর বয়সে কাজ শুরু করেন তিনি। স্নাতকোত্তর পড়ার সময় নিজের বেতনের জমানো টাকা ও ঋণ দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। এর পাশাপাশি বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে আফটার-স্কুল কাউন্সেলর হিসেবেও পার্ট-টাইম কাজ করেছেন এই অদম্য তরুণী।   মহামারির সময় ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকে নিজের আঁকাআঁকির ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ধীরে ধীরে দর্শক বাড়তে থাকলে তিনি ইউটিউব ও স্কিলশেয়ার থেকে ক্লাস করে নিজের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে নেন। এরপর কনটেন্ট তৈরিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি 'ল্যাবিরিন্থঅ্যাভ' (Labyrinthave) নামে একটি নিজস্ব পোশাকের ব্র্যান্ড চালু করেন, যেখানে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ও বাংলাদেশী ঐতিহ্যের ছাপ রয়েছে। তবে শুরুর দিকের সেই দিনগুলোর কথা মনে করে মহুয়া জানান, তখন তিনি এক ধরনের মোহের মধ্যে ছিলেন এবং কারও সাহায্য ছাড়াই একা সব করতে চাইতেন। কাজের চাপে তাঁর নিজের ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু ছিল না, যা তাঁকে চরম ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তাই কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা জমানো টাকা ছাড়া হঠাৎ চাকরি ছেড়ে নিজের প্যাশন নিয়ে কাজ শুরু করাটা কতটা ভীতিকর হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি অন্যদের সতর্ক করেছেন।   বর্তমানে পাঁচ বছর পর এসে মহুয়া আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ঋণমুক্ত। তিনি তাঁর আয়ের একটি অংশ দিয়ে বাবা-মায়ের বাড়ির মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণ পরিশোধে সাহায্য করছেন। এছাড়া নিজের ও পরিবারের ফোন বিল, অ্যাপার্টমেন্টের ইউটিলিটি বিল এবং মাসিক বাজারের খরচও তিনি সুচারুভাবে বহন করছেন। নিজের একটি গাড়ি থাকলেও তা মায়ের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাবা-মায়ের বাড়িতে রেখে এসেছেন এবং নিজে সাবওয়েতেই যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এখন তিনি কাজ ও ব্যক্তিজীবনের মাঝে একটি চমৎকার ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে নিজেকে প্রমাণের জন্য আর আগের মতো অমানবিক পরিশ্রম করতে হয় না। জীবনযাত্রা এতটা ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও নিউইয়র্ক শহর ছেড়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই মহুয়ার, বরং এই শহরেই নিজের ভবিষ্যৎ পরিবার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

নুরুল্লাহ সাইদ আগস্ট ১৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে নজরদারির জন্য এফবিআইয়ের নিয়োগ করা গোপন ইনফরম্যান্ট ক্রেইগ মন্টেইল ছদ্মবেশে। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম সেজে মসজিদে এফবিআইয়ের গুপ্তচর, তাকেই ‘উগ্রবাদী’ ভেবে এফবিআইকে জানিয়েছিলেন মুসল্লিরা

তাবাস্সুম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০