নিউইয়র্ক শহরের প্রতিটি বরোতে একটি করে সরকারি সুপারমার্কেট চালুর যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেয়র মামদানি, তা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। আগামী বছর ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্টে শহরের প্রথম সরকারি মুদি দোকানটি চালু হতে যাচ্ছে বলে সোমবার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০ হাজার বর্গফুট আয়তনের বিশাল এই দোকানটি তৈরি হবে 'দ্য পেনিনসুলা' নামের একটি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পে। জায়গাটি একসময় স্পফোর্ড জুভেনাইল ডিটেনশন ফ্যাসিলিটি বা কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকালে আয়োজিত এক সমাবেশে মেয়র মামদানি বলেন, এই দোকান এবং সামগ্রিকভাবে দ্য পেনিনসুলা প্রকল্প মানুষের সামনে এই প্রমাণ তুলে ধরবে যে, সরকার চাইলেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। সরকার যে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, এটি তারই বাস্তব প্রমাণ। নতুন এই সরকারি দোকানে ডিম ও সতেজ শাকসবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো সাধারণ বাজারের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র। তবে এর বাইরের অন্যান্য পণ্যগুলো বাজারের সাধারণ দামেই কেনা যাবে। ব্রঙ্কসের এই এলাকাটিকে বেছে নেওয়ার একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। মেয়রের তথ্যমতে, এলাকাটির মাত্র সিকি মাইলের মধ্যে কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারমার্কেট রয়েছে। অথচ এর খুব কাছেই অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র হান্টস পয়েন্ট কোঅপারেটিভ মার্কেট। সমাবেশে পয়েন্ট কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট মারিয়া তোরেস বলেন, আমরা জানি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এই ধরনের পরীক্ষামূলক প্রকল্পগুলো আমাদের এলাকার পরিবারগুলোকে খাদ্যের উচ্চমূল্য থেকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প তৈরি করবে, যা এই এলাকায় গত কয়েক দশক ধরে ছিল না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতেই এমন সরকারি দোকান নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মামদানি। এর আগে তিনি ম্যানহাটনের ইস্ট হারলেমের লা মার্কেটা এলাকায় এমন একটি দোকান নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ব্রঙ্কসের দোকানটির মতো সেটি আগে থেকে থাকা কোনো ভবনে হচ্ছে না, বরং একদম শূন্য থেকে সেটি নির্মাণ করা হবে। ম্যানহাটনের ওই স্টোরটি ২০২৯ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে এই মুদি দোকানগুলোর জন্য ৭ কোটি ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন মেয়র মামদানি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে সিটি কাউন্সিলের সঙ্গে মেয়র কার্যালয়ের আলোচনা চলছে। তবে মেয়রের এই পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় মুদি দোকান ও বোদেগা বা ছোট দোকানগুলোর মালিকরা কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, সরকারি এই উদ্যোগ তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করতে পারে। এর জবাবে মামদানি জানিয়েছেন, তার প্রশাসন এসব স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছে। তিনি বলেন, সরকারি দোকানগুলো চালুর পরও এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে। পুরো ব্যবসায়ী সমাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে টিকে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এদিকে ব্রুকলিন, কুইন্স এবং স্টেটেন আইল্যান্ডে এমন দোকান নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গার সন্ধান করছে নগর কর্তৃপক্ষ। এসব এলাকায় স্টোর নির্মাণের জন্য জমির মালিকদের কাছে প্রস্তাবও চাওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে হাউজিং ভাউচার তহবিল সংকট ঘিরে বড় ধরনের আবাসন সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে প্রায় ১২ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়তে পারেন। তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন কমে যাওয়ায় শহরের প্রায় ৫ হাজার ২০০ পরিবার হাউজিং ভাউচার সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে শিশু ও পরিবারের সদস্যসহ মোট ১২ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন। আবাসন অধিকারকর্মীরা জানান, সংকটটি নিউইয়র্কের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিন এলাকায় এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। নিউইয়র্ক হাউজিং কনফারেন্সের প্রতিনিধি ব্রেন্ডন চেনি বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। যারা সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে, তারা এই সহায়তার ওপরই নির্ভরশীল। তিনি আরও জানান, ভাউচার কর্মসূচিটি বহু নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জীবনরেখার মতো কাজ করছে। এটি বন্ধ হয়ে গেলে অনেক পরিবার বাসস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ফেডারেল পর্যায়ের চাপ থাকা সত্ত্বেও বাসিন্দাদের সহায়তা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি হাউজিং ভাউচার কর্মসূচির ফেডারেল অর্থায়ন ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এর ফলে অংশগ্রহণকারীদের পাবলিক হাউজিং অপেক্ষমাণ তালিকায় আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে সেখানে ইতোমধ্যে দীর্ঘ অপেক্ষমাণ তালিকা রয়েছে। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রুকলিনের বাসিন্দা লাশোন স্মিথ বলেন, এটি মানসিকভাবে অত্যন্ত কষ্টকর। বাসস্থান হারালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সরকারি অনুদানের মাধ্যমে বাসা-বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনিং (এসি) স্থাপনের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্যবসায়ী ও মূলধারার রাজনীতিক তোফায়েল চৌধুরী-এর মালিকানাধীন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘গ্রি মেকানিক্যাল ইয়ংকার্স’। ইয়ংকার্সে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েক বছরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং মূলধারার মার্কিন সমাজে সেবা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছে। তোফায়েল চৌধুরী জানান, সরকারি অনুদানে বাসা-বাড়িতে এসি স্থাপনের এই সুবিধা শিগগিরই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি এ বছরের শেষে এই কর্মসূচি বন্ধ হওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাই আগ্রহীদের দ্রুত বুকিং নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রতি পরিবারকে ৮ থেকে ১০ হাজার ডলারের রিবেট দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একই সুবিধা প্রযোজ্য। তার ভাষায়, এটি একটি সময়সীমাবদ্ধ সুযোগ, যা “আগে আসলে আগে পাবেন” ভিত্তিতে প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব হিটিং ও কুলিং সিস্টেম স্থাপন করে থাকে বলে জানান তিনি। এতে পুরোনো বয়লার সিস্টেম থেকে মুক্তি পাওয়া এবং বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে। তোফায়েল চৌধুরী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য নিউইয়র্ক সিটির গ্রিন সিটি পরিকল্পনায় অবদান রাখা। পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা।” তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের আওতায় ১০ বছরের গ্যারান্টি ও ওয়্যারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবাও প্রদান করা হচ্ছে। তার দাবি অনুযায়ী, গ্রাহকের সিদ্ধান্তের পর সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন ও অর্থায়নের প্রক্রিয়াও প্রতিষ্ঠানটি সমন্বয় করে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি দ্রুত যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুযোগটি সীমিত সময়ের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
খোদ অপরাধ দমন ও প্রসিকিউশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা এক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই এবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি (ডিএ) অফিসের সিনিয়র ইনভেস্টিগেটিভ অ্যানালিস্ট তৌহিদ দেওয়ানকে (২৮) সাবওয়ে ট্রেনে এক নারীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে কুইন্সের জংশন বুলেভার্ড স্টেশনে ৭ নম্বর ট্রেন থেকে নামার সময় ৪০ বছর বয়সী এক নারীকে অশালীনভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ ওঠে তৌহিদ দেওয়ানের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরপরই এনওয়াইপিডি ট্রানজিট ব্যুরো তাকে হেফাজতে নেয়। তৌহিদ দেওয়ানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্পর্শ করা, তৃতীয় ডিগ্রির যৌন নির্যাতন এবং দ্বিতীয় ডিগ্রির হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো শিশুর ক্ষতি করতে পারে এমন আচরণেরও (acting in a manner injurious to a child) অভিযোগ আনা হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে ঘটনার সময় আশেপাশে কোনো শিশু উপস্থিত ছিল। ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগের অফিসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর তৌহিদ দেওয়ানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, তৌহিদ ২০২২ সাল থেকে ডিএ অফিসে কর্মরত ছিলেন এবং অপরাধ দমন কৌশল ইউনিটের অংশ হিসেবে বড় বড় অপরাধীদের বিচারিক কাজে সহায়তা করে আসছিলেন। গত বছর একটি বড় ধরনের অস্ত্র পাচার মামলার তদন্তেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। গত বুধবার কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে তাকে হাজির করা হয়। ডিএ অফিসের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা হয়ে নিজেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় নিউইয়র্কের প্রবাসী কমিউনিটি ও প্রশাসনের ভেতরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজকের নিউইয়র্ক সিটি—উঁচু দালান, ব্যস্ত ওয়াল স্ট্রিট আর আলোকোজ্জ্বল টাইমস স্কয়ার—আধুনিকতার এক প্রতীক। কিন্তু এই ঝলমলে শহরের পেছনে লুকিয়ে আছে বহু শতকের ইতিহাস। কখনও কি ভেবেছেন, ‘নিউইয়র্ক’ নামটি এলো কোথা থেকে? আর এর আগের পরিচয়টাই বা কী ছিল? চলুন, সময়ের স্রোতে ভেসে ফিরে যাই সেই অতীতের দ্বীপে। আদিবাসীদের ‘মানাহাট্টা’ ইউরোপীয়দের আগমনের বহু আগে এই অঞ্চল ছিল লেনাপে জনগোষ্ঠীর বসতি। তারা এই দ্বীপের নাম দিয়েছিল ‘মানাহাট্টা’। এর অর্থ নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও সাধারণভাবে ধরা হয়—“পাহাড়ঘেরা দ্বীপ”। তখনকার দৃশ্য আজকের মতো ছিল না—না ছিল কংক্রিটের শহর, না ছিল বাণিজ্যের কোলাহল। চারপাশজুড়ে ছিল সবুজ বন, নদী আর প্রাকৃতিক জীবন। লেনাপে জনগোষ্ঠী শিকার, মাছ ধরা ও কৃষির মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে জীবন কাটাত। ডাচদের আগমন ও ‘নিউ আমস্টারডাম’ ১৭শ শতকে ইউরোপীয় বণিকদের নজর পড়ে এই অঞ্চলে। ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এখানে একটি বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করে এবং নেদারল্যান্ডসের রাজধানীর নামানুসারে এর নাম দেয় ‘নিউ আমস্টারডাম’। ১৬২৬ সালে ডাচ গভর্নর পিটার মিনুইট স্থানীয়দের কাছ থেকে ম্যানহাটন দ্বীপটি খুব অল্প মূল্যে অধিগ্রহণ করেন বলে প্রচলিত আছে। যদিও ইতিহাসবিদদের মতে, জমির মালিকানা নিয়ে ইউরোপীয় ও আদিবাসীদের ধারণা এক ছিল না। ইংরেজ শাসন ও ‘নিউইয়র্ক’ নামের জন্ম ১৬৬৪ সালে ইংরেজরা প্রায় বিনা প্রতিরোধেই এই অঞ্চল দখল করে নেয়। ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস তাঁর ভাই দ্বিতীয় জেমসের সম্মানে শহরটির নাম রাখা হয় ‘নিউইয়র্ক’। ‘ইয়র্ক’ নামটি এসেছে ইংল্যান্ডের ইয়র্ক শহর থেকে। অর্থাৎ ‘নিউইয়র্ক’ মানে—পুরনো ইয়র্কের নতুন সংস্করণ। অতীতের ছাপ আজও রয়ে গেছে আজকের আধুনিক শহরে দাঁড়িয়ে ‘মানাহাট্টা’ বা ‘নিউ আমস্টারডাম’-এর চিহ্ন খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবুও শহরের পতাকায় ডাচদের রঙ, কিছু পুরনো স্থাপত্য, আর বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন সেই অতীতের গল্প মনে করিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে, নিউইয়র্ক সিটি শুধু একটি শহর নয়—এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি আর পরিবর্তনের এক জীবন্ত দলিল।
যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি মোকাবিলায় নতুন করে কার্যক্রম জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন। এসটিআই সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপদ যৌনতা প্রচারে তারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাঁচ বছরের অংশীদারত্ব নবায়ন করেছে। এর আওতায় ২০৩১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সারা শহরে বিনামূল্যে কনডম ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সংগঠন ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিরাপদ যৌনতার উপকরণ সহজলভ্য করা হবে। এতে বিভিন্ন ধরনের কনডম অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন। শহরের স্বাস্থ্য কমিশনার ড. অ্যালিস্টার মার্টিন বলেন, নিউইয়র্কবাসীর জন্য এইচআইভি ও এসটিআই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের হার কমলেও বর্ণ, জাতিগত পরিচয় ও এলাকার ভিত্তিতে বৈষম্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সিফিলিসের হার ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্রাথমিক ল্যাটেন্ট সিফিলিস ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ক্ল্যামিডিয়ার হার সামগ্রিকভাবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমলেও নারীদের ক্ষেত্রে এই হ্রাস খুবই সীমিত। অন্যদিকে জন্মগত সিফিলিসের হার ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক। এ ছাড়া উচ্চ দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে ক্ল্যামিডিয়া ও গনোরিয়ার সংক্রমণ হার নিম্ন আয়ের এলাকার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে সিফিলিসের হার শ্বেতাঙ্গ নারীদের তুলনায় নয়গুণ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে ক্ল্যামিডিয়ার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈষম্যের পেছনে স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার, আর্থিক প্রতিবন্ধকতা এবং সচেতনতার অভাব বড় কারণ। তাই বিনামূল্যে নিরাপদ যৌনতার উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ রয়ে গেছে। টানা কয়েক বছর ধরে নতুন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে বা স্থিতিশীল রয়েছে, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালে এমপক্স সংক্রমণও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, কেবল উপকরণ সরবরাহ নয়—সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক কলঙ্ক দূর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
প্রবাসের ব্যস্ত নগরজীবন ছাপিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপনে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক। শহরের প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কয়ার ও জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ উৎসব, যেখানে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সংগীত, নৃত্য ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে ফুটে ওঠে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। উৎসবের প্রথম দিন টাইমস স্কয়ারে দিনব্যাপী আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ তৈরি হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন প্রবাসী বাঙালি শিল্পীরা। সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও লোকজ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলা সংস্কৃতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। আয়োজনে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণও ছিল লক্ষণীয়, যা নববর্ষকে এক বৈশ্বিক মিলনমেলায় পরিণত করে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। রঙিন মুখোশ, আলপনা ও ঐতিহ্যবাহী সাজে শোভাযাত্রাটি টাইমস স্কয়ারে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। পরদিন জ্যাকসন হাইটসেও দিনব্যাপী বর্ষবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে অনুষ্ঠিত মঙ্গল শোভাযাত্রা স্থানীয়দের পাশাপাশি ভিনদেশি দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করে। সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও অন্যান্য আয়োজন উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। একই সময়ে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথকভাবে বর্ষবরণ আয়োজন করে। এসব আয়োজনে পান্তা-ইলিশসহ ঐতিহ্যবাহী খাবার, পিঠা উৎসব এবং শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ও পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আয়োজকরা জানান, প্রবাসে এ ধরনের উৎসব শুধু বিনোদনের জন্য নয়; বরং এটি বাঙালির শেকড়, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। হাজারো মাইল দূরে থেকেও বাংলা নববর্ষ উদযাপনের মাধ্যমে প্রবাসীরা নিজেদের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন অস্ত্র সহায়তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এবং সিনেটর কিরস্টেন গিলিব্র্যান্ডের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলের কাছে বোমা বিক্রি বন্ধের দাবি জানান। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে অবস্থান কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা বাহিনী বাধা দিলে তারা বাইরে রাস্তায় নেমে যান চলাচল বন্ধ করে স্লোগান দিতে থাকেন—‘মানুষের জন্য অর্থ, বোমার জন্য নয়’। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ থেকে প্রায় ৯০ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সাবেক তথ্য ফাঁসকারী চেলসি ম্যানিং, অভিনেত্রী হ্যারি নেফ এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য আলেক্সা আভিলেস। বিক্ষোভকারীরা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের একটি প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান, যেখানে ইসরায়েলের কাছে নতুন করে শত শত মিলিয়ন ডলারের বোমা বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। আয়োজক সংগঠন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এই দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সিনেটর চাক শুমার ও কিরস্টেন গিলিব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউইয়র্ক শহরে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম কমাতে নগর পরিচালিত মুদি দোকান চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন শহরের মেয়র জোহারান মামদানি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার কুইন্সে এক সমাবেশে মেয়র জানান, তাঁর প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শহরের পাঁচটি প্রশাসনিক অঞ্চলে পাঁচটি নগর-মালিকানাধীন দোকান চালু করা হবে। এর মধ্যে প্রথমটির জন্য ইস্ট হারলেমের লা মারকেতা এলাকাকে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে নগর কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন। মেয়র বলেন, এসব দোকানে ডিম, রুটি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাবে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য দৈনন্দিন কেনাকাটা আরও সহজ হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম দোকানটি ২০২৭ সালের মধ্যে চালু হতে পারে। তবে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে সব দোকান চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জানা গেছে, এসব দোকান পরিচালনার জন্য তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রথম দোকান নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে আনুমানিক ৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। এ ছাড়া মেয়র শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন খাতেও নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় নতুন বিন ব্যবস্থা চালু এবং বাসসেবাকে আরও দ্রুত ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
নিউইয়র্ক শহরে কুলিং টাওয়ার থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী জীবাণুর প্রাদুর্ভাবের পর কঠোর নতুন বিধিমালা জারি করতে যাচ্ছে নগর প্রশাসন। আগামী ৮ মে থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মে শহরের সব কুলিং টাওয়ারে আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নগর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী কুলিং টাওয়ার সচল থাকা সময় বিশেষ করে গরমের মাসগুলোতে প্রতি মাসে অন্তত একবার জীবাণু পরীক্ষা করতে হবে। আগে এই পরীক্ষা ৯০ দিন অন্তর করা হতো। নতুন নিয়মে পরীক্ষাগুলো অবশ্যই দক্ষ পেশাজীবীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করতে হবে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত গ্রীষ্মে হারলেম এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ জীবাণুজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। ওই ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয় এবং শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দূষিত কুলিং টাওয়ার থেকেই এই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল, যার মধ্যে একটি হাসপাতালের টাওয়ারও ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছে, এই জীবাণু বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র পানিকণার মাধ্যমে ছড়ায় এবং তা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক নিউমোনিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। এটি সরাসরি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। হারলেম ও ব্রঙ্কস এলাকায় এই রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। কারণ হিসেবে সেখানে উঁচু ভবনের ঘনত্ব, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নগর প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে শহরে প্রায় ছয় হাজার কুলিং টাওয়ার রয়েছে। এসব টাওয়ারের তদারকি জোরদার করতে অতিরিক্ত পরিদর্শক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ততম পরিবহন কেন্দ্র গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে দা হাতে এক ব্যক্তির হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ সদস্যদের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হন। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাকারী একটি দা হাতে প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত হয়ে আচরণে অস্বাভাবিকতা প্রদর্শন করছিলেন এবং নিজেকে ‘লুসিফার’ বলে দাবি করছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অন্তত ২০ বার অস্ত্র ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা অমান্য করে দা উঁচিয়ে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে আসেন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত্যু হয়। ঘটনায় আহত তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষ (বয়স ৮৪ ও ৬৫ বছর) এবং একজন নারী (৭০ বছর)। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে, আর একজনের কাঁধে আঘাত লেগেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। অতীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনাতেও তিনি জড়িত ছিলেন। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনাকে ‘অর্থহীন সহিংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শহরের মেয়রও পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউইয়র্কের পাতালরেলে একাধিক সহিংস ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সামগ্রিক অপরাধের হার আগের তুলনায় কমেছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সমাবেশ করে নিজের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। একই সঙ্গে তিনি তার ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, রোববার কুইন্সে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সমাবেশে ৩৪ বছর বয়সী এই মেয়র বলেন, সমাজতান্ত্রিক শব্দটিকে অনেকেই নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কল্যাণে সরকারকে কাজে লাগাতে তিনি লজ্জাবোধ করেন না। মামদানি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শহরের সড়কে এক লাখের বেশি গর্ত মেরামত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করতে না পারলে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য হয় না। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ৮৪ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা বার্নি স্যান্ডার্স। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে মামদানি বলেন, সিটি পরিচালিত মুদি দোকান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার প্রথমটি আগামী বছর চালু হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে যত্নসেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভাড়া বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে বিনামূল্যে বাসযাত্রা চালুর বিষয়টি এখনো অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। মেয়রের জনপ্রিয়তা নিয়ে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কবাসীর মধ্যে তার অনুমোদন হার ৪৮ শতাংশ এবং ভোটারদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, তার শিশু যত্ন উদ্যোগে ৫৪ শতাংশ ভোটার সমর্থন দিয়েছেন এবং আবাসন ব্যয় নিয়ে নেওয়া পদক্ষেপে ৪৯ শতাংশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে একই জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করেন, শহরটি সঠিক পথে এগোচ্ছে না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক কিছুটা সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে দু’বার হোয়াইট হাউস সফর করেছেন। অন্য এক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের ৫৯ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে মামদানি সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মিডটাউন ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে সাবওয়ে প্ল্যাটফর্মে এক ব্যক্তি বড় আকৃতির ছুরি (ম্যাশেটি) নিয়ে হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করেছেন। পরবর্তীতে পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হন। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ব্যক্তি প্রথমে একটি সাবওয়ে ট্রেনের ভেতর অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। এরপর তিনি ট্রেন থেকে নেমে প্ল্যাটফর্মে আসেন এবং হাতে থাকা বড় ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীকে অস্ত্র নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ওই ব্যক্তি নির্দেশ অমান্য করে পুলিশের দিকে তেড়ে এলে কর্মকর্তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হামলায় তিনজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৪ ও ৬৫ বছর বয়সী দুই পুরুষ এবং ৭০ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘বিবেচনাহীন সহিংসতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হামলাকারীকে প্রতিহত করার জন্য সাহসী পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত হামলাকারীর বিরুদ্ধে আগেও বেশ কিছু অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এর আগেও তাকে বিভিন্ন সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সাথে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই স্টেশনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি আবাসন দখলের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত তিন বছরে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটির মালিকানাধীন অন্তত ৫৪৮টি খালি বাসা অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টিগেশনের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়মিত পরিদর্শনের ঘাটতির কারণে খালি পড়ে থাকা আবাসনগুলো সহজেই দখল করে নিচ্ছে অসাধু চক্র। ডিওআই জানায়, অনেক ক্ষেত্রে এসব আবাসন দীর্ঘদিন খালি থাকলেও তা পর্যবেক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে দখলদাররা সুযোগ পেয়ে সেখানে বসবাস শুরু করে। হাউজিং কর্মকর্তাদের মতে, দখলের বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটেছে সম্প্রতি খালি হওয়া বা সংস্কারের আওতায় থাকা অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে। বিশেষ করে যেখানে সীসাযুক্ত রং বা অ্যাসবেস্টস অপসারণের কাজ চলছিল, সেসব জায়গাই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ' কিছু ক্ষেত্রে এসব দখলকৃত বাসায় অপরাধ চক্রের সম্পৃক্ততারও প্রমাণ মিলেছে। ব্রঙ্কসের মিচেল হাউসেসে একটি খালি অ্যাপার্টমেন্টে একজন নারীকে বসবাস করতে দেখা যায়। ব্রুকলিনের সার্ফসাইড গার্ডেনসে অভিযানে দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। আর কাসল হিল হাউসেসে একটি খালি ফ্ল্যাট থেকে এক গ্যাং সদস্যের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সুপারিশ করেছে ডিওআই। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং আইন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্দেহভাজন ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে সিটি কাউন্সিলর অ্যালেক্সা অ্যাভিলেস বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি আবাসন সংকটে থাকা পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটিতে সরকারি আবাসনের জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় বর্তমানে ১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেক পরিবার এক দশকের বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছেন।
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র: প্রবাস জীবনে নিজের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন জানা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন এটর্নী মঈন চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের উডসাইডে অবস্থিত কুইন প্লেস এ সামাজিক সংগঠন শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েটস ইউএসএ-এর বার্ষিক পুনর্মিলনী ২০২৬ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, “আমেরিকায় বসবাস করতে হলে আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অপরিহার্য। এতে করে ব্যক্তি যেমন সুরক্ষিত থাকে, তেমনি সমাজও হয় আরও সচেতন ও শক্তিশালী।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ইন্সপেক্টর কারাম চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটি-এর প্রেসিডেন্ট আতাউর রহমান সেলিম ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলী, ইমিগ্রান্টস ইন্টারন্যাশনাল-এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর তারিকুল ইসলাম মিঠু, পুলিশ অফিসার ফেরদৌস নোবেলসহ কমিউনিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা এবং প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য সুদৃঢ় করাই এই পুনর্মিলনীর মূল লক্ষ্য। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন কামরুজ্জামান বকুল, রন্টি দাস, আফতাব জনি ও সেলিম ইব্রাহীম। নৃত্য পরিবেশন করেন উর্মী মন্ডল। মনোজ্ঞ পরিবেশনায় অতিথিরা মুগ্ধ হন এবং পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আন্তরিকতা, সৌহার্দ্য ও উৎসবের আবহ। সংগঠনের সভাপতি শাহজাহান আলী এবং সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজ আগত অতিথি, শুভানুধ্যায়ী ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, প্রবাসে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার এলাকায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি, যা স্থানীয়দের কাছে এখন ‘লিটল বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত। ইউনিয়নপোর্ট রোড ও স্টারলিং অ্যাভিনিউকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই এলাকায় বাংলাদেশি সংস্কৃতি, খাবার, ধর্মীয় কার্যক্রম ও ছোট-বড় ব্যবসার এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই এখানে দেখা যায় বাংলা ভাষাভাষী মানুষের ভিড়। স্থানীয় ব্যবসায়ী মোস্তাক রফিক আহমেদ জানান, তাঁর পরিচালিত একটি রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাঙালি গ্রাহক আসেন। তাঁর ভাষায়, এখানে এলে মনে হয় যেন ছোট্ট একটি বাংলাদেশে আছি। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কমিউনিটির সদস্য সুমাইয়া মীম। তিনি বলেন, এখানে নিজের মানুষ, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সবকিছুই পাওয়া যায়, যা প্রবাস জীবনে এক ধরনের স্বস্তি দেয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রঙ্কসের কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট ৯ এলাকায় ১২ হাজারের বেশি পরিবারে বাংলা ভাষা ব্যবহৃত হয়, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। সাউন্ডভিউ এলাকাও এর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশি অভিবাসীদের এই এলাকায় বসতি গড়ার শুরু ১৯৯০-এর দশকে। মূলত বৈচিত্র্যভিত্তিক ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে এখানে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের আগমনে এই কমিউনিটি আরও বিস্তৃত হয়। কমিউনিটির দীর্ঘদিনের সদস্য মোহাম্মদ মুজুমদার বলেন, শুরুতে অল্প কয়েকজন থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও পরিচিতদের আগমনে এই কমিউনিটি বড় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক বাংলাদেশি কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো কমিউনিটি শোকাহত হয় এবং স্থানীয় মসজিদে বিপুল মানুষের উপস্থিতি কমিউনিটির ঐক্যকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। স্থানীয়দের মতে, একই ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে পার্কচেস্টার এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। অনেক পরিবারই তাদের সন্তানদের বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতে এখানে বসবাসকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আজ বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে পুনরায় হাজির হচ্ছেন। গত জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক ঝটিকা অভিযানে আটক হওয়ার পর এটি তাদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আদালত হাজিরা। তবে এবারের শুনানির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বিশেষ আইনি বিতর্ক— মাদুরোর আইনজীবীদের ফি কে প্রদান করবে? ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি কারাকাসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মার্কিন কমান্ডোদের এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে সস্ত্রীক আটক হন নিকোলাস মাদুরো। এরপর তাদের নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস (Narco-terrorism), যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছে মার্কিন প্রশাসন। তবে শুরু থেকেই মাদুরো নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন এবং নিজেকে একজন ‘যুদ্ধবন্দি’ (Prisoner of War) হিসেবে অভিহিত করেছেন। মাদুরোর প্রধান আইনজীবী ব্যারি পোলাক আদালতকে জানিয়েছেন, মার্কিন সরকার মাদুরোর আইনি লড়াইকে বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে অর্থের জোগান বন্ধ করে দিচ্ছে। ভেনেজুয়েলা সরকার মাদুরোর আইনি খরচ মেটাতে চাইলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই অর্থ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পোলাক অভিযোগ করেন যে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ (OFAC) প্রথমে এই অর্থ গ্রহণের অনুমতি দিলেও মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে তা বাতিল করে দেয়। আইনজীবীদের দাবি, এর ফলে মাদুরোর সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা সরকারকে ফি দেওয়ার অনুমতি না দেওয়া হয়, তবে ব্যারি পোলাক এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন আইনজীবীরা আদালতে দাখিল করা নথিতে জানিয়েছেন, মাদুরোর ব্যক্তিগত তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ভেনেজুয়েলা সরকারের কোনো রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে এই ফি নেওয়া আইনের পরিপন্থী। তাদের মতে, মাদুরো এখন আর ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধান নন, তাই তিনি এই বিশেষ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আজকের শুনানিতে বিচারপতি আলভিন হেলারস্টাইন মাদুরোর আইনজীবীদের এই আবেদন নিয়ে শুনানি করবেন। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি মাদুরো ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবীদের ফি দিতে ব্যর্থ হন, তবে মার্কিন আইন অনুযায়ী তাকে আদালত থেকে সরকারি আইনজীবী (Public Defender) নিয়োগ করে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ব্রুকলিনের একটি কারাগারে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটছে একসময়ের প্রতাপশালী এই নেতার। মাদুরো এবং তার স্ত্রী দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সারা বিশ্বের নজর এখন নিউ ইয়র্কের এই আদালতের দিকে, কারণ আধুনিক ইতিহাসে কোনো দেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে আটক করে অন্য দেশে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনা বিরল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।