যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ইস্ট রিভারে আটজন আরোহী নিয়ে একটি সীপ্লেন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। রোববার দুপুরে নদীর উত্তাল পানিতে অবতরণ করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে সৌভাগ্যবশত প্লেনে থাকা আট আরোহীর সবাই অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন। ঘটনার পরপরই জরুরি বিভাগের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। নিউইয়র্ক পোস্ট ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোববার দুপুর ১২টার কিছু পর ইস্ট রিভারের choppy বা উত্তাল জলরাশিতে অবতরণের সময় সীপ্লেনটি তীব্র ঝাঁকুনি খায় এবং আংশিকভাবে উল্টে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত প্লেনটি নদীর পানিতে ভাসছে এবং এর একটি ডানা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঘটনার পরপরই নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই) দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে প্লেনে থাকা আট আরোহীকেই নিরাপদে পানি থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুজনের সামান্য আঘাত থাকায় জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলেই তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ম্যানহাটন ফেরি এবং টুয়েন্টি থার্ড স্ট্রিট ও এফডিআর ড্রাইভের পাশে অবস্থিত স্কাইপোর্ট টার্মিনালের কাছাকাছি এলাকায়। আরোহীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পর, উদ্ধারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজটিকে পানিতে সোজা করেন এবং টেনে ডক বা জেটিতে নিয়ে আসেন। এই উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত পাঁচটি জাহাজ অংশ নেয় এবং সে সময় কাছাকাছি আরেকটি সীপ্লেনকেও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য অবস্থান করতে দেখা যায়। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, সীপ্লেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নিউইয়র্কের ইস্ট রিভারে এটি দ্বিতীয় সীপ্লেন দুর্ঘটনার ঘটনা। এর আগে থ্রগস নেক ব্রিজের কাছে উড্ডয়নের সময় তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে আরেকটি সীপ্লেন গভীর সংকটে পড়েছিল, যেটিকে পরবর্তীতে নদী থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক তিব্বতি বিক্ষোভকারী। তিব্বতের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদ জানাতে তিনি এ পদক্ষেপ নেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের ফার্স্ট অ্যাভিনিউ ও ৪২তম স্ট্রিটে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, তিব্বতি পতাকা হাতে ওই ব্যক্তি ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কিছু লিফলেট ছড়িয়ে দেন। এরপর তিনি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। পুরো ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম লোবগা রাংজেন। তার বয়স ৪২ বছর। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন এবং উবারচালক হিসেবে কাজ করতেন। এক বন্ধুর মাধ্যমে তার পরিচয় জানা গেলেও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি। আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে থাকা উদ্ধারকর্মীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভান। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিউ জার্সির এক বাসিন্দা জানান, তিনি প্রথমে ধোঁয়া দেখতে পান। পরে বড় আগুনের শিখা দেখতে পান এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তাকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। নিহতের বন্ধু লবসাং পালজর জানান, রাংজেন সব সময় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সমর্থক ছিলেন। তিনি তিব্বতের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিতেন এবং চীনের শাসনের বিরোধিতা করতেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি লিফলেট উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে একটি পোস্টারে "China Out of Tibet" লেখা ছিল, যা তিব্বতের স্বাধীনতাকামী আন্দোলনের বহুল ব্যবহৃত একটি স্লোগান। মানবাধিকার সংগঠন ফ্রি টিবেট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে তিব্বত ও আশপাশের অঞ্চলে ১৫০ জনের বেশি মানুষ চীনের নীতির প্রতিবাদে একই ধরনের আত্মাহুতি দিয়েছেন। এসব ঘটনার মাধ্যমে তারা তিব্বতে মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ইতিহাসে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে কম খুনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) নতুন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর পুরো শহরজুড়ে বড় ধরনের অপরাধের হারে নজিরবিহীন পতন ঘটেছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জুন মাসের শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কের পাঁচটি বরো বা প্রশাসনিক অঞ্চলে মোট ১২২টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত বছর একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১৬২, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খুনের ঘটনা কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। এর মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালে রেকর্ড হওয়া ১৩৬টি খুনের পূর্ববর্তী সর্বনিম্ন রেকর্ডটিও এবার ভেঙে গেছে। শহরজুড়ে গোলাগুলি, ট্রানজিট অপরাধ এবং ছিনতাইয়ের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সার্বিকভাবে বড় অপরাধ কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, যেকোনো সাধারণ বছরেই এমন পরিসংখ্যান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু এ বছরের প্রেক্ষাপটটি আরও বেশি স্পেশাল। কারণ, নিকস-এর এনবিএ শিরোপা জয় ও বিজয় মিছিল, ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ এবং আমেরিকা২৫০ উদযাপনের মতো বিশাল সব ইভেন্টের কারণে নিউইয়র্ক শহর বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম ব্যস্ত সময় পার করছে। এত মানুষের ভিড় এবং জটিল পরিস্থিতি সামলেও অপরাধ দমনে পুলিশের এই বিশাল সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। পরিসংখ্যানের বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পুলিশ ৩২২টি গোলাগুলির ঘটনা রেকর্ড করেছে, যা ২০১৮ ও ২০২৫ সালের ৩৩৭টি ঘটনার আগের সর্বনিম্ন রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া গোলাগুলিতে আহত হয়েছেন ৩৮১ জন, যা ২০২৫ সালের সর্বনিম্ন ৩৮৭ জনের চেয়েও কম। কোভিড মহামারির সময়ের তুলনায় বর্তমানে গোলাগুলির ঘটনা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। অন্যান্য বড় অপরাধের মধ্যে গত বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় এ বছর চুরির ঘটনা ১৬ শতাংশ এবং ডাকাতি বা ছিনতাই ১২ শতাংশ কমেছে। পাবলিক হাউজিংগুলোতেও অপরাধের হার ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং পাতালপথে ট্রানজিট অপরাধ নেমে এসেছে ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্নে। অপরাধ দমনে এবার সবচেয়ে বেশি চমক দেখিয়েছে ব্রঙ্কস অঞ্চল, যেখানে সার্বিক অপরাধ ১২ শতাংশ কমেছে। কমিশনার টিশের বিশেষ উদ্যোগে এই অঞ্চলে টহল কমান্ডকে ঢেলে সাজানো এবং অতিরিক্ত ২০০ পুলিশ মোতায়েনের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। তবে সব খবরের মধ্যে নিউইয়র্ক প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধর্ষণ এবং বিদ্বেষমূলক বা হেট ক্রাইমের ক্রমবর্ধমান ঘটনা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৬৬টি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। পুলিশ কমিশনার টিশ অবশ্য জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রাজ্য আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞার পরিধি বাড়ানোর কারণেই খাতায়-কলমে এই সংখ্যাটি বেশি দেখাচ্ছে, যদিও বাস্তবে এখনও অনেক ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেন না। অন্যদিকে, পুলিশের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শহরটিতে বিদ্বেষমূলক অপরাধ বা হেট ক্রাইম গত বছরের ২৯৯টি থেকে বেড়ে এ বছর ৩২২টিতে দাঁড়িয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি হলো ইহুদিবিদ্বেষী বা অ্যান্টিসেমিটিক ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সাউথ উইন্ডসরের একটি কস্টকো শাখায় জাল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পণ্য কেনার চেষ্টার অভিযোগে নিউইয়র্কের দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে তাদের গাড়ি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ২৮টি চুরি করা আর্থিক নথি এবং অন্য একটি কস্টকো শাখা থেকে চুরি করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা পণ্যও উদ্ধার করা হয়েছে। সাউথ উইন্ডসর পুলিশ বিভাগ (এসডব্লিউপিডি) জানায়, রোববার বিকেল প্রায় ৩টার দিকে ১২২০ ট্যামারাক অ্যাভিনিউতে অবস্থিত কস্টকো শাখা থেকে জরুরি ফোন আসে। অভিযোগ ছিল, দুই ব্যক্তি দোকান থেকে পণ্য নিয়ে স্বয়ংক্রিয় বিলিং কাউন্টারে জাল ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধের চেষ্টা করছেন। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ৩৫ বছর বয়সী ব্রিটানি এ. হাওয়ার্ড এবং ব্রুকলিনের ৩৪ বছর বয়সী কাশিম এম. উইলিয়ামস। পুলিশের ভাষ্য, তারা কস্টকোর একাধিক শাখায় একই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি চক্রের সদস্য হতে পারেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, ঘটনার আগে দোকান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল যে, একই দুই ব্যক্তি প্রায় ৩০ মিনিট দূরে অবস্থিত কানেকটিকাটের এনফিল্ড এলাকার একটি কস্টকো শাখায়ও একই কৌশলে প্রতারণার চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে। পরে তাদের ব্যবহৃত গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ২৮টি চুরি করা আর্থিক নথি উদ্ধার করা হয়। এসব নথি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ইস্যু করা ছিল। একই সঙ্গে এনফিল্ডের কস্টকো শাখা থেকে চুরি করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা বিভিন্ন পণ্যও উদ্ধার করা হয়। তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনের বিরুদ্ধেই অন্য অঙ্গরাজ্যে পূর্বের পরোয়ানা ছিল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কাশিম এম. উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাফোক কাউন্টিতে ডাকাতি, শ্বাসরোধ করে হামলা এবং মারধরসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল, যা কার্যকরযোগ্য। অন্যদিকে ব্রিটানি এ. হাওয়ার্ডের বিরুদ্ধে নিউ জার্সির হাডসন কাউন্টিতে ক্রেডিট কার্ড চুরির মামলায় পরোয়ানা ছিল। সর্বশেষ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে ২৮টি পেমেন্ট কার্ড চুরি, চুরি, পরিচয় চুরি এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানায়, আদালতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত দুজনকেই ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের জামিনে আটক রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে তাদের ম্যানচেস্টার সুপিরিয়র কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। তদন্তকারীরা এখন উদ্ধার হওয়া আর্থিক নথিগুলোর প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করার পাশাপাশি, এই দুই ব্যক্তি আরও কোনো অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না ভোটারদের অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ভোটের দিন বাংলাদেশি ভোটারদের একটি বড় অংশ কেন্দ্রে না যাওয়ায় বিভিন্ন নির্বাচনে বাংলাদেশি প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ আসনে পিছিয়ে পড়ছেন। ফলে সম্প্রদায়টির রাজনৈতিক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেই শক্তি বাস্তবে রূপ পাচ্ছে না। গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক প্রাইমারির ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যেখানে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটার উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। একই সঙ্গে শহরজুড়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক প্রাইমারি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র প্রায় ১৭ শতাংশ, যা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বিগ্ন করেছে। নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর দ্রুত বিস্তার ঘটেছে। বাংলা ভাষায় ব্যালট, ভোটার গাইড এবং নির্বাচনী সহায়তা চালু হওয়াও এই সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক গুরুত্বের স্বীকৃতি। তবুও নির্বাচনের দিন বহু নিবন্ধিত ভোটার কেন্দ্রে যান না। কমিউনিটির রাজনৈতিক কর্মীরা বলছেন, অনেকেই মনে করেন, ‘আমার একটি ভোটে কিছু আসে-যায় না।’ আবার অনেকে নির্বাচনের তারিখ, আগাম ভোট বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সম্পর্কেও অবগত নন। ফলে নিবন্ধিত ভোটারদের বড় একটি অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন না। গত কয়েক বছরে নিউইয়র্কে সিটি কাউন্সিল, ডিস্ট্রিক্ট লিডার, জুডিশিয়াল ডেলিগেট, পার্টি কমিটি এবং বিভিন্ন পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে তাদের অনেকেই জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও পরাজিত হয়েছেন। সর্বশেষ ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট-৩০ আসনের প্রার্থী শামসুল হক মাত্র ১১ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছেন। অথচ তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিক্টের বাংলাদেশি ভোটাররা কেন্দ্রে গেলে তিনি দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে পারতেন। শামসুল হক বলেন, “অনেকের সঙ্গে দেখা হলে তারা ফলাফল শুনে আফসোস করছেন। তারা বলছেন, এত কম ব্যবধান জানলে অবশ্যই ভোট দিতে যেতাম। এই ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার অনীহাই বাংলাদেশি প্রার্থীদের জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি জানান, নির্বাচনের আগে তিন দফায় ১০ হাজার বাড়ির দরজায় প্রায় ৩০ হাজার বার কড়া নাড়া হয়েছে। সবাই ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোটের দিন উপস্থিতি ছিল মাত্র ৩৯ শতাংশ। তার ভাষায়, “জ্যাকসন হাইটসের সিংহ মার্কাসহ ৮ থেকে ১০টি ভবনে শত শত বাংলাদেশি বসবাস করেন। প্রতিদিন তারা সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যান। অথচ ভোটের দিন তাদের বড় একটি অংশ ঘর থেকে বের হননি।” তিনি মনে করেন, ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তবে এটি কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সমষ্টিগত উদ্যোগ। কমিউনিটির ভূমিকা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেন শামসুল হক। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অনেক নেতা আছেন। তারা মাঠে নামলে ফল ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু অনেককেই নির্বাচনী প্রচারে পাশে পাইনি। অনেকেই মূলধারার রাজনীতির দাবি করলেও বাস্তবে তাদের অংশগ্রহণ দেখা যায়নি।” তিনি জানান, ফলাফল যাই হোক, তিনি থেমে থাকবেন না। ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন এবং ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করবেন। এদিকে ১১ ভোটে পিছিয়ে থাকলেও এখনও জয়ের বিষয়ে আশাবাদী শামসুল হক। তিনি বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে ৬ হাজার ২০৩টি ব্যালট পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার আবেদন করা হয়েছে। এতে আমার ভোট বাড়তেও পারে, কমতেও পারে।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশি ভোটারদের উপস্থিতি আরও বেশি হলে অনেক নির্বাচনের ফল ভিন্ন হতে পারত। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবধান ছিল কয়েকশ ভোটেরও কম, অথচ সংশ্লিষ্ট এলাকায় হাজার হাজার বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধিত রয়েছেন। কমিউনিটির প্রবীণ নেতাদের মতে, বাংলাদেশিরা নির্বাচন এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান, কিন্তু ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি এখনও শক্তিশালী হয়নি। অন্যদিকে ইহুদি, চীনা, ভারতীয়, কোরিয়ান ও লাতিনো সম্প্রদায় বছরের পর বছর ধরে ভোটার নিবন্ধন, আগাম ভোট এবং নির্বাচনের দিন ভোটার পরিবহনের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের প্রভাবও অনেক বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ আগের তুলনায় বাড়লেও সেই আগ্রহ এখনও ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত পুরোপুরি পৌঁছায়নি। সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতা বাড়লেও বাস্তবে ভোটদানের হার আশানুরূপ নয়। সাম্প্রতিক নিউইয়র্কের বিভিন্ন নির্বাচনে স্বল্প ভোটার উপস্থিতির মধ্যেই অনেক প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সুসংগঠিত ভোটার উপস্থিতিই অনেক সময় নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দেয়। কমিউনিটির নেতাদের মতে, এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের সময়। তাদের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সারা বছরব্যাপী ভোটার নিবন্ধন কর্মসূচি পরিচালনা, নতুন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে সহায়তা, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরা, তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো এবং নির্বাচনের দিন স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ভোটার পরিবহনের ব্যবস্থা করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী। ব্যবসা, চিকিৎসা, প্রকৌশল, শিক্ষা ও গণমাধ্যমসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন। এখন সেই সামাজিক শক্তিকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ভোটাধিকার প্রয়োগ। কমিউনিটির প্রবীণদের ভাষায়, “প্রার্থী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভোট দিতে যাওয়া।” কারণ একটি নির্বাচনে কয়েকটি ভোটই একজন বাংলাদেশি প্রার্থীর জয় কিংবা পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে। আর সেই বাস্তবতাই আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতির ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিজের মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর আত্মঘাতী হয়েছেন অ্যামি জে. স্টিডম্যান নামের ৬৪ বছর বয়সী এক নারী। এমন নৃশংস ও মর্মান্তিক ঘটনার পর খুনির প্রতি চরম ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করেছে তার বেঁচে থাকা পরিবারের সদস্যরা। মৃত্যুর পর অ্যামির কোনো ছবি ছাড়াই চরম অবজ্ঞাপূর্ণ মাত্র দুই লাইনের একটি সংক্ষিপ্ত শোকবার্তা প্রকাশ করেছে তারা। আলবেনিভিত্তিক একটি ফিউনারেল হোমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই শোকবার্তায় কেবল লেখা হয়েছে, "অ্যামি জে. স্টিডম্যান, ৬৪, গত ২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার মারা গেছেন। পরিবারের অনুরোধে তার শেষকৃত্য পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।" নিউইয়র্কের মেকানিকভিল এলাকায় স্টিডম্যানের বাড়ি থেকে পুলিশ তাকেসহ তার ৪৪ বছর বয়সী মেয়ে সারাহ মেয়ার্স এবং চার নাতি-নাতনি—১৩ বছরের হার্পার হারমন, ১১ বছরের হাডসন হারমন এবং ১০ বছর বয়সী গ্যাভিন ও গ্রেসলিন হারমনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। মেকানিকভিলের পুলিশ প্রধান বিল র্যাবিট জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা চিরকুট থেকে এটি স্পষ্ট যে, স্টিডম্যান ওই পাঁচজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ খাইয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর পরিমাণে প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের উপস্থিতি পাওয়া গেছে যা ইচ্ছাকৃত বিষপ্রয়োগের আলামত বহন করে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় একটি শিশুকে ছুরিকাঘাতও করা হয়েছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ধরন সম্পূর্ণ নিশ্চিত করতে টক্সিকোলজি পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি শিশুদের বাবা ব্র্যাডি হারমন আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সন্তানদের নিজের হেফাজতে নেওয়ার অধিকার পেয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই ক্ষোভ থেকেই দাদি এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। ব্র্যাডি হারমন ও সারাহ মেয়ার্সের বিয়ে হয়েছিল ২০১৫ সালে এবং চার বছর পর তাদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকেই দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর ধরে সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন ব্র্যাডি। গ্রীষ্মের ছুটিতে তিনি সন্তানদের নিজের কাছে উটাহতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন। কিন্তু গত ১০ জুন সারাহর সাথে শেষবার কথা হলে তিনি দাবি করেছিলেন যে শিশুরা অসুস্থ। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সন্তানদের ফিরে পাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এমন মর্মান্তিক খবরে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন শিশুদের বাবা। তিনি এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে আইনি ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতাকে দায়ী করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রঙ্কসে এক অপরিচিত যুবকের আকস্মিক ও নির্মম হামলায় গুরুতর আহত হওয়া ৬২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মিং ঝাং হি নামের ওই ব্যক্তি হামলার শিকার হওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত মঙ্গলবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, গত ১২ জুন রাত আনুমানিক ৮টা ২৫ মিনিটে ব্রঙ্কসের কনকোর্স এলাকার ইস্ট মাউন্ট ইডেন অ্যাভিনিউয়ের কাছে ওয়ালটন অ্যাভিনিউয়ের একটি ভবনের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে ২৭ বছর বয়সী কার্লোস ভ্যালেন্টিন নামের এক যুবকের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন কুইন্সের বাসিন্দা মিং ঝাং হি। এ সময় কার্লোস তাকে সজোরে ঘুষি মারেন, যার ফলে ওই বৃদ্ধের মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। হামলাকারী ওই যুবক ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত ছিলেন না বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় মিং ঝাং হিকে দ্রুত লিংকন মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সংকটাপন্ন অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ ধরে তার চিকিৎসা চলছিল। অন্যদিকে, অভিযুক্ত কার্লোস ভ্যালেন্টিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে ভুক্তভোগী বৃদ্ধ মারা যাওয়ায় নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি) এবং ব্রঙ্কসের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি (ডিএ) মিলে কার্লোসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পরিবর্তন করে আরও কঠোর শাস্তির ধারা যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দুর্ঘটনাবশত প্রিয় বন্ধুকে গুলি করে হত্যার পর অপরাধবোধে নিজেই আত্মঘাতী হয়েছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। নিউইয়র্কের সিরাকিউস শহরের লিংকন অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়িতে গত বুধবার রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও ওননডাগা কাউন্টির প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, ১৬ বছর বয়সী ড্যামারিওন জোনস ভুলবশত তার ১৩ বছরের বন্ধু জোনাহ ট্যানারকে গুলি করে বসে। এই অনিচ্ছাকৃত ঘটনার পর তীব্র অনুশোচনা ও মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে ওই একই ৯ মিলিমিটার হ্যান্ডগান দিয়ে জোনস নিজের প্রাণও কেড়ে নেয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর জোনস নিজের করা আঘাতেই মারা যায়। অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ট্যানারকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরবর্তীতে চিকিৎসকরা তাকে 'ব্রেইন ডেড' ঘোষণা করেন। ওননডাগা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি উইলিয়াম ফিটজপ্যাট্রিক জানান, ট্যানারকে গুলি করার পর জোনস সম্ভবত এতটাই অপরাধবোধে ভুগছিল যে সে নিজেকেও গুলি করতে বাধ্য হয়। তবে ওই দুই কিশোর কীভাবে আগ্নেয়াস্ত্রটি পেয়েছিল বা ঠিক কী পরিস্থিতিতে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। এই ঘটনায় দুই পরিবারেই নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া। পরিবার ও স্বজনদের কাছে ওই দুই বন্ধু ছিল আক্ষরিক অর্থেই 'অবিচ্ছেদ্য'। ট্যানারের শেষকৃত্যের জন্য চালু করা একটি তহবিল সংগ্রহের পেজে তাদের বন্ধুত্বকে অত্যন্ত বিশেষ উল্লেখ করে বলা হয়, একই রাতে দুই ছেলেকে হারানোটা তাদের জন্য এক অসহনীয় যন্ত্রণা। এদিকে, জোনসের মা কিশা ব্রাউন জোনসও এক আবেগঘন বিবৃতিতে জানান, তার একমাত্র ছেলেটি ছিল অত্যন্ত দয়ালু ও স্নেহশীল। তারা দুজন সবসময় ভাইয়ের মতো একসাথেই থাকত, আর তাই তাদের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে দুই বন্ধুকে একসাথেই সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। গত রোববার তাদের স্মরণে আয়োজিত এক শোকসভায় জোনসের মা অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, মারা যাওয়ার আগে ছেলের বলা শেষ কথা ‘আই লাভ ইউ’ এখন তার জীবনের একমাত্র সম্বল হয়ে থাকবে।
নিউইয়র্ক সিটিতে সার্বজনীন শিশু যত্নসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। নতুন আইনের আওতায় শহরে স্থায়ীভাবে অফিস অব চাইল্ড কেয়ার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা শিশু পরিচর্যা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, তদারকি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে। ৩০ জুন জানানো হয়, বিলটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন কাউন্সিল সদস্য জেনিফার গুতিয়েরেজ এবং কেভিন সি. রাইলি। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্ক সিটির শিশু পরিচর্যা সেবা বিভিন্ন সংস্থা ও কর্মসূচির মধ্যে ছড়িয়ে থাকায় পরিবার এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উভয়কেই নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নতুন অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিভিন্ন সিটি সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি শিশু পরিচর্যা সংক্রান্ত তথ্য ও সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, যেসব এলাকায় শিশু পরিচর্যা সেবার ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করা, বাড়িভিত্তিক ও কেন্দ্রভিত্তিক শিশু পরিচর্যা প্রদানকারীদের সহায়তা দেওয়া এবং শিশুদের প্রাথমিক বিকাশের পুরো সময়জুড়ে ধারাবাহিক পরিচর্যা নিশ্চিত করার কাজ করবে নতুন দপ্তর। শৈশবকালীন শিক্ষা বিষয়ক উপকমিটির চেয়ার জেনিফার গুতিয়েরেজ বলেন, সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আইনি জবাবদিহিতাও প্রয়োজন। এই আইন নতুন অফিসটিকে স্থায়ী ভিত্তি দেবে এবং ভবিষ্যতে প্রশাসন পরিবর্তন হলেও এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, একজন অভিভাবক এবং শিক্ষা বিষয়ক উপকমিটির চেয়ার হিসেবে সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কাউন্সিল সদস্য কেভিন সি. রাইলি বলেন, প্রতিটি শিশুর শেখা, বেড়ে ওঠা এবং বিকাশের সমান সুযোগ থাকা উচিত। কোনো পরিবারের আয় কিংবা বসবাসের এলাকার ভিত্তিতে সেই সুযোগ নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, স্থায়ী অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহর এমন একটি শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে, যা নিউইয়র্কের সব পরিবারের জন্য কার্যকর হবে। সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, নিউইয়র্কের বহু পরিবার এখনও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত শিশু পরিচর্যা সেবা পেতে সংগ্রাম করছে। স্থায়ী অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমন্বয়, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং সার্বজনীন শিশু পরিচর্যার লক্ষ্য অর্জন আরও সহজ হবে। শিক্ষা কমিটির চেয়ার এরিক ডিনোভিটজ বলেন, একজন সাবেক শিক্ষক হিসেবে তিনি জানেন, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যার সুযোগ একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এই আইন শহরকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। মেয়রের কার্যালয়ের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, মেয়রের শিশু পরিচর্যা ও প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা বিষয়ক অফিসের নির্বাহী পরিচালক এমি লিস বলেছেন, সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি নেতা এবং অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই বিল পাস হওয়াকে প্রশাসন ও সিটি কাউন্সিলের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। নিউ ইয়র্কার্স ইউনাইটেড ফর চাইল্ড কেয়ারের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা বেইলিন বলেন, বর্তমানে নিউইয়র্কে একজন অভিভাবককে প্রতিটি সন্তানের জন্য বছরে গড়ে ২৩ হাজার ডলারেরও বেশি শিশু পরিচর্যা ব্যয় বহন করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে বাড়িভাড়ার সমান। তাঁর মতে, বিনামূল্যের সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা এখন পরিবারের জন্য অপরিহার্য প্রয়োজন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি ও অঙ্গরাজ্য যখন প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা ও শিশু পরিচর্যায় ঐতিহাসিক বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, তখন এই আইন সিটি চার্টারে অফিস অব চাইল্ড কেয়ার-কে অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যতেও সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে, প্রশাসন পরিবর্তন হলেও।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বা অস্থায়ী ভিসাধারী অভিবাসী বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশ বাতিল করার পর এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি। ৩০ জুন দেওয়া এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে দেড় শতাব্দীরও বেশি আগে অন্তর্ভুক্ত একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, আমেরিকার মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেই মার্কিন নাগরিক। একজন মানুষের ত্বকের রঙ, বাবা-মায়ের জন্মস্থান, ধর্মীয় পরিচয় বা বাড়িতে কোন ভাষায় কথা বলা হয়, নাগরিকত্ব নির্ধারণে এসব বিষয়ের কোনো প্রভাব নেই। মেয়র বলেন, এই বিষয়টি কখনোই বিতর্কের হওয়ার কথা ছিল না। তার ভাষায়, ফেডারেল প্রশাসন সংবিধানের অন্যতম স্পষ্ট নিশ্চয়তাকে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল, যাতে তারা নির্ধারণ করতে পারে কে এই দেশের অন্তর্ভুক্ত এবং কে নয়। আদালত সেই প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্ক সিটি জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের শক্তির একটি জীবন্ত উদাহরণ। অভিবাসী পরিবারের সন্তানরাই আজ শহরের শিক্ষক, নার্স, নির্মাণ শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শিল্পী, সরকারি কর্মচারী এবং সাধারণ প্রতিবেশী হিসেবে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নিউইয়র্কে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর উদ্দেশে মেয়র বলেন, পাঁচটি বরোজুড়ে বসবাসকারী প্রতিটি অভিবাসী পরিবারকে তিনি স্পষ্টভাবে জানাতে চান, তারা এই শহরেরই অংশ এবং তাদের সন্তানরাও এখানকারই অংশ। তিনি বলেন, কোনো আদালত তাদের মানবিক মর্যাদা কেড়ে নিতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডাও এই সত্য পরিবর্তন করতে পারবে না যে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যই দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি। বিবৃতির শেষাংশে মেয়র মামদানি অঙ্গীকার করেন, যতদিন তিনি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন শহর অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা করবে, তাদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবে এবং আরও উন্নত আমেরিকা গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় তাদের পাশে থাকবে।
নিউইয়র্ক সিটিতে সম্ভাব্য তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ উপলক্ষে নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ট্রাফিকসংক্রান্ত একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি। তাঁর নিয়মিত ভিডিও বার্তা ‘দ্য মর্নিং পিচ’-এ তিনি নাগরিকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া এবং ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে অত্যন্ত বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে। তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের শেষভাগ থেকে ১০০ ডিগ্রিরও বেশি হতে পারে। আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি হবে এবং শুক্রবার পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর হতে পারে। গত ৩০ জুন মেয়রের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল পার্কে ২০১২ সালের ১৮ জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে। সম্ভাব্য তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় শহরের হিট ইমার্জেন্সি প্ল্যান কার্যকর করার ঘোষণা দেন মেয়র। বুধবার থেকে নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে শত শত কুলিং সেন্টার চালু করা হবে। এসব কেন্দ্রের তালিকা ও অবস্থান শহর কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। নিউইয়র্কবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যেন আগেভাগেই নিজেদের তাপপ্রবাহ মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরি করেন। কর্মস্থল ও শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা আগে থেকেই নিশ্চিত করা, কোথায় গিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকা যাবে তা ঠিক করা এবং বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কিংবা যাদের বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই, এমন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মেয়র বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও কর্মীদের জন্য গরমজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ পরিকল্পনা তৈরি করেনি, তাদের এখনই তা করা উচিত। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বিশ্রামের জন্য শীতল স্থান, অতিরিক্ত বিরতি এবং ভারী কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ জীবন রক্ষা করতে পারে। তিনি আরও বলেন, কেউ অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাউকে দেখা গেলে ৩১১ নম্বরে ফোন করতে হবে। আর কারও শরীরে অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক ত্বক, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন, বিভ্রান্তি, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ৯১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য পেতে NOTIFYNYC লিখে ৬৯২-৬৯২ নম্বরে বার্তা পাঠানোর পরামর্শও দেন তিনি। মেয়র জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফ্রান্স ও সুইডেন মুখোমুখি হবে। এ ম্যাচকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দর্শক সমাগম এবং তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, সেদিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকবে এবং সন্ধ্যায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দর্শকদের পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, স্টেডিয়ামে একটি ডিসপোজেবল প্লাস্টিক পানির বোতল নেওয়ার অনুমতি থাকবে। পাশাপাশি ব্যাগ অবশ্যই স্বচ্ছ এবং নির্ধারিত আকারের হতে হবে। স্টেডিয়ামে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানান মেয়র মামদানি। তিনি বলেন, বাস শাটলের টিকিট শেষ হয়ে গেলেও নিউ জার্সি ট্রানজিট ব্যবহার করা যাবে। যাত্রীদের আগেই অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। বিশেষভাবে তিনি নিউইয়র্কবাসীকে ওই দিন মিডটাউনে ব্যক্তিগত গাড়ি না আনার অনুরোধ জানান। কারণ সেখানে তীব্র যানজট এবং দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সাবওয়ে, সাইকেল কিংবা হেঁটে চলাচলের পরামর্শ দেন। এ ছাড়া সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মিডটাউনের বিভিন্ন সড়কে বাস ও শাটল চলাচলের জন্য বিশেষ লেন চালু থাকবে বলেও জানান মেয়র। বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও বারে খেলা উপভোগকারীদের জন্য ৯০০টিরও বেশি রেস্তোরাঁ ও বারে ২৬ ডলারের বিশেষ খাবার ও পানীয় অফার চালু রয়েছে বলে জানান মেয়র। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এনওয়াইসি ট্যুরিজমের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। বক্তব্যের শেষ অংশে ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মেয়র মামদানি। তিনি বলেন, জিদান একজন অসাধারণ ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে প্রতিভা, পরিশ্রম ও নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি জাতির গর্বে পরিণত হয়েছেন। মেয়র বলেন, জিদানের উত্তরাধিকার আজও ফরাসি জাতীয় দলে বিদ্যমান। বর্তমান দলের অনেক খেলোয়াড়ই অভিবাসী বা অভিবাসী পরিবারের সন্তান হলেও তারা সবাই ফ্রান্সের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন জিদানের মতো কিংবদন্তিরা। নিরাপদে বিশ্বকাপ উপভোগ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতিতে সংবর্ধিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। গত ২৭ জুন জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্টে ‘জামাল ভূঁইয়া নিউইয়র্ক কিক অফ’ শীর্ষক এক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। খেলাধুলাবিষয়ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গেমলিফাই ডট এক্সওয়াইজেডের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। জাতীয় দলের অধিনায়কের সঙ্গে সরাসরি দেখা করা, ছবি তোলা এবং ফুটবল নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত ভক্ত-সমর্থকেরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গেমলিফাই ডট এক্সওয়াইজেডের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, ব্র্যান্ড ম্যানেজার মুরাদ হোসেন, সহকারী ব্র্যান্ড ম্যানেজার হাসান তাওফিক, ইউএস-বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজমুল ইসলাম রনি এবং নিউইয়র্কের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন জামাল ভূঁইয়া। তিনি বলেন, দেশের ফুটবলকে এগিয়ে নিতে হলে ক্লাব ফুটবলের উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের ফুটবলেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ অন্তত ১০টি শক্তিশালী ক্লাব গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি ক্লাবের নিজস্ব স্টেডিয়াম, জিমনেসিয়াম ও একাডেমি থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিভাগীয় পর্যায়ে শক্তিশালী দল গঠন এবং তাদের জন্য উন্নত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। জামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, ঢাকা-কেন্দ্রিক ফুটবল কার্যক্রম থেকে বেরিয়ে দেশের সব অঞ্চলে ফুটবল ছড়িয়ে দিতে হবে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, প্রতিভা অন্বেষণ এবং খেলোয়াড় তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের ফুটবলের দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাতে হলে অন্তত ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে প্রতিভাবান ফুটবলাররা উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুযোগ পান। পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্লাবে খেলা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ তৈরি করতে পারলে একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গঠন করা সম্ভব হবে। অনুষ্ঠানে গেমলিফাই ডট এক্সওয়াইজেডের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতেই তাদের এই উদ্যোগ। তিনি জানান, নতুন প্রজন্মকে ফুটবলের প্রতি আগ্রহী করতে প্রতি সপ্তাহে ফুটবলভিত্তিক বিভিন্ন কুইজের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া ফুটবল বিশ্বকাপসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে স্থানীয় শিশুদের নিয়ে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করছে প্রতিষ্ঠানটি। মশিউর রহমান বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ফুটবল সংগঠক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানির প্রায় ১২৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড-ভাঙ্গা উদ্বোধনী বাজেট পাস হতে যাচ্ছে। শহরটির পূর্ববর্তী আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে মেয়রের নিজেরই দেওয়া ভয়াবহ সতর্কবার্তা সত্ত্বেও, গত বছরের তুলনায় এবারের বাজেটে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। বুধবারের নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে সিটি কাউন্সিলে এই বাজেট প্রস্তাবটি ভোটের জন্য ওঠে। তবে শেষ মুহূর্তের নানা চেষ্টা সত্ত্বেও এই ব্যয়ের চুক্তিটি বামপন্থি ও মধ্যপন্থি—উভয় পক্ষের রাজনীতিকদেরই হতাশ করেছে। গত বছরের প্রায় ১১৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এবারের বাজেট প্রায় ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দৃশ্যত বড় ধরনের কোনো ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নেই। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট এই মেয়র বাজেটকে ভারসাম্যপূর্ণ বলে দাবি করলেও, সিটি কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন জানিয়েছেন, মূলত ৬.১ বিলিয়ন ডলারের এককালীন কৌশল এবং স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয় ব্যবহার করেই সাময়িকভাবে এই ভারসাম্য আনা হয়েছে। লেভিনের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে শহরটি আপাতত একটি কঠিন বছর পার করতে পারলেও ভবিষ্যতের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলোর কোনো সমাধান এতে নেই। সিটি কম্পট্রোলার অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বাজেটে শহরটিকে প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতির মুখে পড়তে হবে। ২০২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত এই বাজেটে বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) জন্য ৬.৬ বিলিয়ন, শিক্ষা বিভাগে ৩৮ বিলিয়ন, গৃহহীন সেবা বিভাগে ৪.২ বিলিয়ন এবং স্বাস্থ্য ও মানসিক পরিচ্ছন্নতা বিভাগে ২.৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে সাধারণ রিজার্ভ ফান্ডে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। সিটিজেনস বাজেট কমিশনের সভাপতি অ্যান্ড্রু রেইনের মতে, এই পরিকল্পনা শহরের বিশাল কাঠামোগত বাজেট সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। এর পাশাপাশি হাউজিং ভাউচার প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ এবং এনওয়াইপিডিতে ৫৮০ জন নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগের বিষয়ে মেয়রের আগের অবস্থান থেকে সরে আসার কারণে প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মেয়র মামদানি শহরের আর্থিক সংকটের জন্য তার পূর্বসূরি সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসকে দায়ী করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ১২ বিলিয়ন ডলার ঘাটতির কথা বললেও পরে তা ৫.৪ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনেন। এই ঘাটতি পূরণে ধনীদের ওপর কর আরোপ বা সম্পত্তি কর প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। নতুন কর আরোপে খুব একটা সফল না হলেও বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর আরোপের মাধ্যমে বছরে ৩৪০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসার পথ তৈরি হয়েছে। এছাড়া গভর্নর ক্যাথি হোকুলের কাছ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেলআউট পেতে সফল হয়েছেন মামদানি, যা বড় ধরনের ব্যয়কে আপাতত বিলম্বিত করেছে। তবে এসব দৃশ্যমান সাফল্যও তার প্রগতিশীল মিত্রদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
নিউইয়র্ক সিটির জন্য প্রায় ১২৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল বাজেট পাস করতে অবশেষে মৌখিক চুক্তিতে পৌঁছেছেন মেয়র জোহরান মামদানী এবং সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিন। ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের চূড়ান্ত সময়সীমা ১ জুলাইয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই সমঝোতা সম্পন্ন হয়। তবে দীর্ঘ ও চরম উত্তেজনাপূর্ণ এই আলোচনা শেষে চূড়ান্ত বাজেট চুক্তিতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের জনবল বাড়ানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। আবাসন ভাউচার কর্মসূচির তহবিল সংক্রান্ত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে মেয়রের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় বাজেট আলোচনা এক পর্যায়ে ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে গত সোমবার রাতে উচ্ছেদ ও গৃহহীনতার ঝুঁকিতে থাকা নিউইয়র্কবাসীদের জন্য একটি নতুন ভাড়া সহায়তা কর্মসূচি চালুর বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐচ্ছিক সমঝোতায় পৌঁছায়। এই নতুন আইন পাসের পর সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের সময়কার একটি চলমান আইনি আপিলও প্রত্যাহার করে নিতে রাজি হয়েছে মামদানী প্রশাসন। বাজেটের মূল রূপরেখা গত মে মাসে ঘোষিত ১২৪.৭ বিলিয়ন ডলারের নির্বাহী বাজেটের মতোই থাকছে, যেখানে কাউন্সিল সদস্যদের জন্য কিছু বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। তবে পুলিশ বিভাগের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করার পেছনে কাজ করেছে বামপন্থী আন্দোলনকারীদের তীব্র বিক্ষোভ। মেয়র তার পূর্বের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে পুলিশে ৫৮০ জন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগের প্রস্তাব দিলে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট অব আমেরিকা সহ প্রায় ৫০ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি ও অধিকারকর্মী সিটি হলের সামনে তীব্র প্রতিবাদ জানান। সিটি কাউন্সিলের নেতৃত্ব অবশ্য প্রথম দিকে পুলিশ বাহিনীর আকার বর্তমান ৩৩,৮৬১ থেকে বাড়িয়ে ৩৫,৩৭০ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং মেয়রের নির্বাহী বাজেটে তা অন্তর্ভুক্তও করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রগতিশীল আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে পুলিশ বাহিনী সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত থেকে পুরোপুরি সরে আসেন সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের নতুন মেয়র মামদানী। এই বাজেটে বরাবরের মতোই শিক্ষা বিভাগ সবচেয়ে বড় অংশ বা ৩৭.৯ বিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ পেতে যাচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তরুণ মেয়র মামদানী পূর্বসূরি এরিক অ্যাডামসকে দায়ী করে সিটিতে ১২ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতির সতর্কতা জারি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ৫.৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এই ঘাটতি পূরণে তিনি ধনীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ অথবা সম্পত্তি কর ১০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ৪ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা এবং বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর বিশেষ কর আরোপের পথ সুগম করে দিয়ে এই বাজেট সংকট সামাল দিতে বড় ভূমিকা রাখেন।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কারাগারগুলোতে বন্দীদের ওপর নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৭০টি মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি করেছে রাজ্য সরকার। এসব মামলায় মোট ২৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও কোনো ক্ষেত্রেই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করা হয়নি। তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া নথির ভিত্তিতে দ্যা সিটি রিপোর্টারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই চিত্র। অ্যান্টোয়ান গ্যালোওয়ে এখনও স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেন ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির সেই দিনটির কথা। নিউইয়র্কের ক্লিনটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করার পর সাতজন কারারক্ষী তাকে ঘিরে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে মুখে ঘুষি মারা হয়। এরপর বুকে কিল, স্টিলের বুট দিয়ে লাথি এবং ব্যাটন দিয়ে পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তিনি বারবার জ্ঞান হারাতে থাকেন। বর্তমানে ৪৮ বছর বয়সী ইস্ট ফ্ল্যাটবুশের বাসিন্দা গ্যালোওয়ে দ্যা সিটি রিপোর্টারকে বলেন, "আমি মাথা ঢাকার চেষ্টা করছিলাম। দুইবার জ্ঞান হারিয়েছিলাম। ফিরে আসছিলাম, আবার হারাচ্ছিলাম। ওরা লাথি মারছিল, পা দিয়ে মাড়াচ্ছিল, জাতিবিদ্বেষী গালি দিচ্ছিল।" ঘটনার আট বছর পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য তার মামলা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার দিয়ে নিষ্পত্তি করে। তবে সেই সমঝোতায় কোনো দায় স্বীকার করা হয়নি। দ্যা সিটি রিপোর্টার তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে যে নথি সংগ্রহ করেছে, তাতে দেখা যায় গত পাঁচ বছরে অন্তত ১৭০টি মামলায় নিউইয়র্ক সরকার ২৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। মামলাগুলোর অভিযোগের মধ্যে ছিল কারারক্ষীদের মারধর, নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা এবং এমন ঘটনা, যেখানে চিকিৎসা না পাওয়ায় বন্দীদের কারও কারও অঙ্গ কেটে ফেলতে হয়েছে। এসব মামলার বেশিরভাগই আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও কোনো ক্ষেত্রেই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। গ্যালোওয়ের আইনজীবী ব্রায়ান ড্র্যাচ বলেন, "আমি রাজ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করি। সপ্তাহে দুইবারও করি।" প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি এই ধরনের মামলা পরিচালনা করছেন। তার দাবি, এ ধরনের মামলার সংখ্যা কমেনি, বরং বেড়েছে। পাঁচ মাস চিকিৎসা না পেয়ে ক্যানসারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছান বন্দী দ্যা সিটি রিপোর্টারের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে জর্ডান ওয়ার্নারের ঘটনাও। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি আপস্টেট কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে সাজা ভোগ করছিলেন। একসময় তার গলার পাশে মাংস ফুলে ওঠে, দ্রুত ওজন কমতে থাকে, দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয় এবং রাতে অতিরিক্ত ঘামে ভিজে যেতেন। ওয়ার্নার বলেন, "আমি প্রতিদিন ডাক্তার দেখাতে চাইতাম। পাঁচ মাস ধরে আবেদন করেছি। কারারক্ষীরা বলেছে আমি মিথ্যা বলছি।" তার অভিযোগ, ওষুধ বিতরণকারী নার্সরাও তার সেলের সামনে দিয়ে চলে যেতেন। একদিন করিডরে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অ্যালবেনি মেডিকেল সেন্টারে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফুসফুসের চারপাশে জমে থাকা তরল বের করা হয়। পরে চিকিৎসকেরা শনাক্ত করেন স্টেজ ফোর-বি হজকিন্স লিম্ফোমা, যা ক্যানসারের অত্যন্ত অগ্রসর পর্যায়। মায়ের জন্মদিনে ফোন করে তিনি প্রথম নিজের অসুস্থতার কথা জানান। তার ভাষায়, "মা ভেবেছিলেন আমি জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করেছি। আমি বললাম, আমার স্টেজ ফোর ক্যানসার। একজন আইনজীবী ধর, এখনই।" তার অভিযোগ, এরপরও কারা কর্তৃপক্ষ তিনবার কেমোথেরাপি নিতে অস্বীকৃতি জানানোর মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, "বেঁচে থাকার জন্য কে কেমোথেরাপি নিতে অস্বীকৃতি জানায়?" ২০২১ সালে করা মামলার চার বছর পর নিউইয়র্ক সরকার তাকে ৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়। ওয়ার্নার বলেন, "আমি টাকার চেয়ে চেয়েছিলাম যারা দায়ী, তারা চাকরি হারাক।" ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া ওয়ার্নার বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। সম্প্রতি তিনি ছেলের প্রথম জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন। অনুসন্ধানে আরও কয়েকটি গুরুতর ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে। গ্রিন হেভেন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে এক বন্দীকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেয়াল ও লোহার রডে বারবার মাথা ঠুকেছিলেন এক কারারক্ষী। পরে বডি ক্যামেরার ভিডিওতে প্রমাণ হয়, কর্মকর্তাদের লিখিত প্রতিবেদন সত্যের সঙ্গে মিলছিল না। ঘটনায় এক কর্মকর্তা ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করলেও মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরি করা আরেক কর্মকর্তা এখনও চাকরিতে রয়েছেন। ওই মামলায় ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেয় রাজ্য। ক্লিনটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে রিকো সান্তানা নামের এক বন্দীর চোয়াল দুটি পৃথক হামলায় দুইবার ভেঙে দেওয়া হয়। প্রথম হামলার পর অস্ত্রোপচার এক সপ্তাহ বিলম্বিত হয়। সুস্থ হওয়ার আগেই তাকে সাধারণ কক্ষে ফেরত পাঠানো হলে আবার হামলার শিকার হন। এ মামলায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় ২ লাখ ডলার। ওয়াশিংটন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে আরেক বন্দীর অণ্ডকোষে তীব্র ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিলেও সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে অস্ত্রোপচার করে অণ্ডকোষটি অপসারণ করতে হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় ৯০ হাজার ডলার। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল রাজ্যের ৪৪টি কারাগারে নিরাপত্তা ক্যামেরা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ১১টি কারাগারে ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলো এখনও নকশা বা নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে। কারা প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ডিন উইলিয়ামস, যিনি কলোরাডো ও আলাস্কার কারাব্যবস্থা পরিচালনা করেছেন, দ্যা সিটি রিপোর্টারকে বলেন, একটি সুস্থ কারাব্যবস্থায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়। তার ভাষায়, "একটা ঘটনা, তারপর আরেকটা, তারপর আরেকটা। এটা স্বাভাবিক নয়। কিন্তু অকার্যকর ব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক হয়ে যায়।" নথি অনুযায়ী, এসব মামলা নিষ্পত্তি হতে গড়ে ছয় বছর সময় লাগে। এমন একটি মামলাও রয়েছে, যা নিষ্পত্তি হতে ১৫ বছর লেগেছে। অভিযোগ ছিল একজন বন্দীকে ১২ দিন অতিরিক্ত একাকী কারাবাসে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন মাত্র ৭৪৮ ডলার। বর্তমানে অ্যান্টোয়ান গ্যালোওয়ে ইস্ট ফ্ল্যাটবুশে বসবাস করেন। গৃহহীনদের আশ্রয়কেন্দ্রে কাজ করেন। নিজের এলাকায় শিশুদের জন্য উৎসবের আয়োজন করেন, খাবার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন। তবে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠলেই তিনি পায়ের গোড়ালির ব্যথা অনুভব করেন। গ্যালোওয়ে বলেন, "আমি কখনো সন্তুষ্ট হব না। আমি সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, আর ওরা এখনও চাকরি করছে। আমি জানি, ওরা এখনও অনেকের সঙ্গে একই কাজ করছে। কয়েক হাজার ডলার দিয়ে এটা ঠিক হয় না।" তার কথায়, "আমি ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পেয়েছি। কিন্তু বিচার পাইনি। এই দুইয়ের পার্থক্য অনেক বড়।"
নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগে একটি ড্রোনের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। লাস ভেগাস থেকে আসা জেটব্লু এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমানের পাইলট দাবি করেছেন, অবতরণের সময় একটি ড্রোন বিমানের ককপিটের ওপরের অংশে আঘাত করে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। এফএএর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে জেটব্লু ফ্লাইট ৯৪৮ জেএফকে বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য প্রায় তিন হাজার ফুট উচ্চতায় নামছিল। এ সময় পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান, একটি ড্রোন বিমানের সামনের অংশে আঘাত করেছে বলে তার ধারণা। এরপরও বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং সব যাত্রী স্বাভাবিকভাবে বিমান ত্যাগ করেন। অবতরণের পর বিমানটির বিস্তারিত কারিগরি পরীক্ষা চালানো হয়। তবে প্রাথমিক পরিদর্শনে বিমানের গায়ে দৃশ্যমান কোনো ক্ষতি কিংবা ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষের নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জেটব্লু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানটিকে সাময়িকভাবে সেবা থেকে সরিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং তদন্তে তারা এফএএর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। এফএএ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে রাডার তথ্য, বিমানটির পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে, যাতে সত্যিই কোনো ড্রোনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়। মার্কিন বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী, বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের জরিমানা, ড্রোন নিবন্ধন বাতিল এবং গুরুতর পরিস্থিতিতে ফৌজদারি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমান ওঠানামার সময় ড্রোনের উপস্থিতি যাত্রীবাহী বিমানের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়নের ঘটনা নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগও বেড়েছে। এর কয়েক দিন আগেই নিউয়ার্ক বিমানবন্দরের কাছে একটি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী বিমানের খুব কাছ দিয়ে একটি ড্রোন উড়ে যাওয়ার ঘটনা জানানো হয়েছিল। ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন পরিচালনার নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জোরালো হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ ও চরম গরমের ঝুঁকি থেকে শ্রমিকদের সুরক্ষা দিতে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি একটি ঐতিহাসিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক সিটিতে তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় শ্রমিকদের জন্য ‘সমগ্র-সরকার’ ভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো। সিটি হলে শ্রমিক ইউনিয়ন, কমিউনিটি সংগঠন, বিভিন্ন সিটি এজেন্সির কমিশনার এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই আদেশে স্বাক্ষর করেন মেয়র। প্রশাসনের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চরম গরমে কর্মরত শ্রমিকরা পর্যাপ্ত সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নতুন এই উদ্যোগ সেই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। মেয়র মামদানি বলেন, কোনো শ্রমিককে তার আয় ও স্বাস্থ্যের মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য হওয়া উচিত নয়। যারা আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণ করছেন, প্যাকেজ সরবরাহ করছেন, রাস্তার পাশে খাবার বিক্রি করছেন কিংবা প্রতিদিন শহরকে সচল রাখছেন, তাদের প্রত্যেকেরই নিরাপদে বাড়ি ফেরার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, এতদিন চরম গরমের পুরো বোঝা শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন সেই বাস্তবতা বদলানো হচ্ছে, কারণ প্রতিটি শ্রমিকের জীবন সমান মূল্যবান। নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন, নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এবং ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস যৌথভাবে বহুভাষিক তাপ-নিরাপত্তা নির্দেশিকা তৈরি ও বিতরণ করবে। চলতি বছরের মধ্যেই বাইরে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য এই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের ১ মার্চের মধ্যে ভবনের অভ্যন্তরে কর্মরত শ্রমিকদের জন্যও পৃথক নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করা হবে। আদেশে নিউইয়র্ক সিটির প্রতিটি মেয়রাল এজেন্সিকে তাদের কর্মচারী ও ঠিকাদারদের জন্য বাধ্যতামূলক ‘হিট ইলনেস প্রিভেনশন প্ল্যান’ বা তাপজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগকে চরম গরম এবং শ্রমিক ক্ষতিপূরণ দাবির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা পরিচালনা এবং তাপজনিত অসুস্থতাকে বাধ্যতামূলক রিপোর্টযোগ্য স্বাস্থ্য পরিস্থিতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংসকে নির্মাণস্থলে বিদ্যমান তাপ-নিরাপত্তা নীতিমালা পর্যালোচনা করে আরও কার্যকর সুপারিশ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ২০২৭ সালের ১ মার্চের মধ্যে জমা দিতে হবে। তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে সিটি প্রশাসন। সম্প্রতি মেয়র মামদানি তাপজনিত অসুস্থতার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে একটি জনসচেতনতামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২ হাজার ২০০-এর বেশি লিংকএনওয়াইসি কিয়স্কে নিকটবর্তী ‘কুলিং সেন্টার’-এর অবস্থান এবং সেখানে হেঁটে যাওয়ার দিকনির্দেশনা প্রদর্শন করা হবে। জরুরি তাপ পরিস্থিতিতে কুলিং সেন্টার খোলা বা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হবে। সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ১৪ লাখ শ্রমিক, যা শহরের মোট কর্মশক্তির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, প্রতি গ্রীষ্মে দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন। এদের মধ্যে রয়েছেন নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর, রাস্তার হকার, ডেলিভারি কর্মী, ট্রাকচালক ও গুদাম শ্রমিক। প্রতিবছর নিউইয়র্ক সিটিতে চরম গরমজনিত কারণে প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়, যা এটিকে শহরের অন্যতম প্রাণঘাতী আবহাওয়াজনিত ঝুঁকিতে পরিণত করেছে। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতারা। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, জীবিকা নির্বাহের জন্য কোনো শ্রমিককে নিজের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে হওয়া উচিত নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই শ্রমিকদের জন্য শক্তিশালী তাপ-সুরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিলেন এবং এ পদক্ষেপের জন্য মেয়র মামদানিকে ধন্যবাদ জানান। অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারবিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলি স্যু বলেন, শ্রমিক সুরক্ষা এই প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষায়, তাপপ্রবাহ সবার ওপর প্রভাব ফেললেও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন বাইরে কাজ করা শ্রমিকরা। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক ডেপুটি মেয়র হেলেন আটিএগা জানান, কৃষ্ণাঙ্গ নিউইয়র্কবাসীরা শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় দ্বিগুণ হারে হিট স্ট্রোকে মারা যাচ্ছেন এবং লাতিনো শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। অপারেশনস বিষয়ক ডেপুটি মেয়র জুলিয়া কারসন বলেন, চরম গরম প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। যারা প্রতিদিন শহরকে সচল রাখছেন, তাদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা সিটি প্রশাসনের দায়িত্ব। শ্রমিক প্রতিনিধিরাও এই উদ্যোগকে দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। লাগার্ডিয়া বিমানবন্দরের র্যাম্প এজেন্ট জন মসকুয়েরা বলেন, গরমে কাজ করার অভিজ্ঞতা অনেক সময় ওভেনের ভেতরে থাকার মতো। তিনি নিজেও একাধিকবার অসুস্থ হয়েছেন এবং এতদিন শ্রমিকদের সমস্যার দিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। শ্রমিক সংগঠন ৩২বিজে এসইআইইউ-এর সভাপতি ম্যানি পাস্টরিচ বলেন, অনেক নিয়োগকর্তা নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রমিকরা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। তাঁর মতে, এই নির্বাহী আদেশ শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। সিটি প্রশাসন জানিয়েছে, টেম্প কোয়ালিশন, নিউইয়র্ক কমিটি ফর অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ, ৩২বিজে এসইআইইউসহ কয়েক ডজন শ্রমিক ও কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে এই নির্বাহী আদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম গরমের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় এই পদক্ষেপ নিউইয়র্ক সিটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম আবাসন বাজারগুলোর অন্যতম নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়ি বিক্রি করে গত বছর অনেক মালিকই ভালো মুনাফা করলেও, শহরের সব এলাকায় চিত্র এক ছিল না। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাঁচটি বরোর মধ্যে একমাত্র ম্যানহাটনেই বাড়ি বিক্রি করে গড়ে লোকসান গুনতে হয়েছে মালিকদের। অন্যদিকে ব্রুকলিন, স্ট্যাটেন আইল্যান্ড, কুইন্স ও দ্য ব্রঙ্কসে অধিকাংশ বিক্রেতাই উল্লেখযোগ্য লাভ করেছেন। রিয়েল এস্টেট তথ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রপার্টিশার্ক (PropertyShark)-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, ২০২৫ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ১৫ হাজার আবাসিক সম্পত্তি বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব সম্পত্তির ২০০৫ সাল থেকে ক্রয়মূল্যের সঙ্গে সর্বশেষ বিক্রয়মূল্য তুলনা করে কর ও বিভিন্ন ফি বাদ দিয়ে প্রকৃত লাভ-লোকসানের হিসাব করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্ক সিটিতে গত বছর বাড়ি বিক্রি করা মালিকরা গড়ে ৭০ হাজার ডলার নিট মুনাফা পেলেও ম্যানহাটনের বিক্রেতারা এর সম্পূর্ণ বিপরীত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। সেখানে বাড়ি বিক্রি করে গড়ে ২৪ হাজার ডলার লোকসান হয়েছে। অন্য চার বরোর চিত্র ছিল অনেক বেশি ইতিবাচক। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে বাড়ি বিক্রি করে গড়ে ১ লাখ ৬৪ হাজার ডলার লাভ হয়েছে, যা শহরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর পরেই রয়েছে ব্রুকলিন, যেখানে গড় লাভ ১ লাখ ৫৯ হাজার ডলার। কুইন্সে গড়ে ৯৫ হাজার ডলার এবং দ্য ব্রঙ্কসে ৯৮ হাজার ডলার লাভ করেছেন বিক্রেতারা। প্রপার্টিশার্কের বিশ্লেষক এলিজা থাইসের মতে, ম্যানহাটনের বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ এক দশকেরও বেশি আগে শুরু হওয়া অতিবিলাসবহুল আবাসন নির্মাণের প্রবণতা। তিনি বলেন, ২০১৩ সালের দিকে বিলিয়নিয়ার্স রো এবং লোয়ার ম্যানহাটন এলাকায় একের পর এক বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়াম নির্মিত হয়। সে সময় এসব আবাসনের দাম দ্রুত বেড়ে গেলেও বর্তমানে পুনরায় বিক্রির বাজার সেই মূল্যকে আর সমর্থন করছে না। ফলে যারা সেই সময় উচ্চমূল্যে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, তাদের অনেকেই এখন লোকসানে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ম্যানহাটনে বিক্রি হওয়া কন্ডোমিনিয়ামের ৫৯ শতাংশ এবং কো-অপ অ্যাপার্টমেন্টের ৫৪ শতাংশই লোকসানে বিক্রি হয়েছে। বিশেষ করে ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় গড় লোকসান ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ডলার, আর সেন্ট্রাল পার্ক সাউথে ছিল প্রায় ৯২ হাজার ডলার। তবে ম্যানহাটনের সব ধরনের সম্পত্তির অবস্থা এক রকম নয়। একক পারিবারিক বাড়ি ও দুই থেকে তিন পরিবারের বসবাসযোগ্য বাড়িগুলো এখনো উল্লেখযোগ্য লাভ দিচ্ছে। গত বছর এসব একক বাড়ি বিক্রি করে গড়ে ৭ লাখ ৩৯ হাজার ডলার লাভ হয়েছে। তবে এ ধরনের সম্পত্তির সংখ্যা খুবই কম এবং মোট লেনদেনের তুলনায় এর অংশ সীমিত। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কখন সম্পত্তি কেনা হয়েছে, সেটিও লাভ-লোকসানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যারা ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে, অর্থাৎ বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পরের সময়ে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কিনেছিলেন, তারা ২০২৫ সালে বিক্রি করে গড়ে ২ লাখ ৬ হাজার ডলার লাভ করেছেন। ওই সময় বাজার নিম্নমুখী থাকায় অনেকেই কম দামে সম্পত্তি কিনতে পেরেছিলেন এবং পরবর্তী বছরগুলোতে সুদের হারও ছিল তুলনামূলক কম। অন্যদিকে, করোনা মহামারির সময় অর্থাৎ ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে যারা উচ্চমূল্যে বাড়ি কিনেছিলেন, তারা বিক্রি করে গড়ে মাত্র ৯ হাজার ডলার লাভ করতে পেরেছেন। বিশেষ করে ম্যানহাটনের অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে পরিস্থিতি আরও কঠিন। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে যারা সেখানে অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন, তারা গত বছর বিক্রি করে গড়ে ৭১ হাজার ডলার লোকসান করেছেন। এমনকি মহামারির সময় বাড়ি কেনা ক্রেতাদের তুলনায়ও এই লোকসান বেশি। প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, শহরের ২৫টি এলাকায় যেখানে পুনরায় বিক্রিতে গড় লোকসান হয়েছে, তার মধ্যে ২৩টিই ম্যানহাটনে। বাকি দুটি হলো ব্রুকলিনের ডাম্বো এবং কুইন্সের গ্লেন ওকস, যেখানে কন্ডোমিনিয়াম ও কো-অপ আবাসনের আধিক্য রয়েছে। অন্যদিকে ব্রুকলিনের দুই থেকে তিন পরিবারের জন্য নির্মিত বাড়িগুলো সবচেয়ে বেশি লাভজনক সম্পত্তি হিসেবে উঠে এসেছে। এসব বাড়ি বিক্রি করে গড়ে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ডলার লাভ হয়েছে। শহরের মধ্যে বরো পার্ক এলাকায় গড় লাভ ছিল ৪ লাখ ৯ হাজার ডলার, কুইন্সের ফ্রেশ মেডোজে ৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং ব্রুকলিনের ওশান হিলে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, গত দুই দশকে ব্রুকলিন ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে বার্ষিক গড় মূল্যবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশ ছিল, যা অন্য বরোগুলোর তুলনায় বেশি। এছাড়া স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নতুন বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্প তুলনামূলক কম হওয়ায় সেখানে অতিমূল্যায়নের ঝুঁকিও কম ছিল। ফলে সাম্প্রতিক বছরেও ওই বরোর বাড়ির মালিকরা ভালো মুনাফা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিবেদনটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, নিউইয়র্কের আবাসন বাজার এখনও শক্তিশালী থাকলেও সব এলাকায় সমান সুযোগ নেই। বিশেষ করে ম্যানহাটনের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট খাতে অতীতের উচ্চমূল্যের প্রভাব এখনো বাজারে পড়ছে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পত্তি কেনা বা বিক্রির আগে শুধু বর্তমান বাজারদর নয়, এলাকার দীর্ঘমেয়াদি মূল্যপ্রবণতা এবং সম্পত্তির ধরনও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির লোয়ার ম্যানহাটনের ক্যানাল স্ট্রিট এবং আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের অভিযানে প্রায় ১৫১ মিলিয়ন ডলার মূল্যের নকল পণ্য জব্দ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। একই অভিযানে ট্রেডমার্ক জালিয়াতির অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার পরিচালিত এ অভিযানে ক্যানাল স্ট্রিটের পাশাপাশি হেস্টার স্ট্রিট, মালবেরি স্ট্রিট এবং ওয়েস্ট ২৭তম স্ট্রিটেও একযোগে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এনওয়াইপিডি জানায়, উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলো আসল হলে তাদের বাজারমূল্য প্রায় ১৫১ মিলিয়ন ডলার হতো। অভিযানের সময় প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার নগদ অর্থও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে ছিল নকল রোলেক্স ঘড়ি, নিউইয়র্ক নিকস দলের জার্সি, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সুগন্ধি, সানগ্লাস, হ্যান্ডব্যাগ, খেলনা এবং আরও বিভিন্ন বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের জাল পণ্য। এসব পণ্য দীর্ঘদিন ধরে লোয়ার ম্যানহাটনের ব্যস্ত পর্যটন এলাকায় অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ক্যানাল স্ট্রিটে অবৈধ রাস্তার ব্যবসা, নকল পণ্যের বেচাকেনা এবং পথচারীদের চলাচলে বিঘ্নের অভিযোগ আসছিল। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশের একজন মুখপাত্র বলেন, লোয়ার ম্যানহাটনের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নকল পণ্যের অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা ট্রেডমার্ক আইন লঙ্ঘন করে ব্যবসা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যানাল স্ট্রিট বহু বছর ধরেই নিউইয়র্কে নকল বিলাসবহুল পণ্য বিক্রির অন্যতম পরিচিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। পর্যটকদের ভিড়কে কেন্দ্র করে এখানে বিভিন্ন সময়ে জাল ঘড়ি, ব্যাগ, পোশাক, জুতা ও অন্যান্য ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এর আগে ২০২৩ সালেও একই এলাকায় বড় ধরনের অভিযানে কয়েক কোটি ডলারের নকল পণ্য জব্দ করেছিল এনওয়াইপিডি। এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে জুনের মধ্যে একই এলাকায় পরিচালিত একাধিক অভিযানে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের নকল পণ্য জব্দ করা হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানটি সেই ধারাবাহিক কার্যক্রমেরই অংশ। পুলিশ বলছে, অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে।
শনিবার সকালে নিউইয়র্কের ইস্ট হারলেমের টমাস জেফারসন পুলে এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হলো নগরবাসী। শহরের গ্রীষ্মকালীন পুল মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে গিয়ে রীতিমতো পোশাকের তোয়াক্কা না করে স্যুট-প্যান্ট ও কালো মোজা পরেই পানিতে ঝাঁপ দেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী। তবে মজার ছলে করা মেয়রের এই কাজ সুইমিংপুলের সাধারণ নিয়মনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ, স্বাস্থ্যকর রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পার্কস ডিপার্টমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী পুলে নামার জন্য সাঁতারের নির্দিষ্ট পোশাক বা বাথিং স্যুট পরা বাধ্যতামূলক। মেয়রের এমন কাণ্ডে সেখানে উপস্থিত শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষ বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। ১২ বছর বয়সী মিলা মেডার তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলে, "এটি দারুণ মজার ছিল। আমি ভাবতেই পারিনি তিনি সত্যিই এমন কিছু করবেন! পানিতে নামার পর তিনি আমার এবং আমার ভাইয়ের সঙ্গে হাতও মিলিয়েছেন।" মূলত গত মার্চ মাসে দ্য সিটি রিপোর্টারের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে পড়ে পুল উদ্বোধনে মেয়রের পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পুরোনো ঐতিহ্যটি ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এই সমাজতান্ত্রিক মেয়র। উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের মেয়রদের মধ্যে মাইকেল ব্লুমবার্গ সর্বশেষ এই প্রথা পালন করেছিলেন। এরপর সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিও এবং এরিক অ্যাডামস এই ঐতিহ্য থেকে নিজেদের দূরে রেখেছিলেন। তবে বিজনেস স্যুট পরে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা জোহরান মামদানীর জন্য এবারই প্রথম নয়। গত বছর নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোনি আইল্যান্ডে বার্ষিক 'পোলার বিয়ার ক্লাব প্লাঞ্জ' ইভেন্টেও স্যুট পরে ঢেউয়ের মধ্যে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি। সেসময় তিনি নগরবাসীর বাড়িভাড়া আটকে দেওয়া বা 'রেন্ট ফ্রিজ' করার চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে গত বৃহস্পতিবারই নিউইয়র্ক সিটি রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড তার সেই প্রতিশ্রুতি অনুমোদন করেছে, যার ফলে শহরের প্রায় ১০ লাখ রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড বা নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার ইউনিটের এক ও দুই বছর মেয়াদি চুক্তির ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে।
নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ সংলগ্ন একটি পার্ক একদিনের জন্য যেন রূপ নিয়েছিল প্রাণচঞ্চল বাংলাদেশের এক ঐতিহ্যবাহী মেলায়। দেশীয় খাবারের সুবাস, বাংলা গানের সুর, শিশুদের হাসি-আনন্দ আর প্রবাসীদের মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। গত শুক্রবার (১৯ জুন) নন-প্রফিট সংগঠন ‘ভালো’র উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য মেলা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে পরিণত হয় এক বহুসাংস্কৃতিক উৎসবে। দিনব্যাপী আয়োজনে বাংলাদেশি, আমেরিকান, চাইনিজ, হিস্প্যানিকসহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য, প্রবাসে বসবাসরত বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক সংযোগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও শক্তিশালী করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মেলার উদ্বোধন করেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতাদের স্বাগত জানান ‘ভালো’ সংগঠনের প্রধান নির্বাহী শাহরিয়ার রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যে লেটিশিয়া জেমস বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিউইয়র্কবাসীর সামনে তুলে ধরতে ‘ভালো’ যে কাজ করছে, তা প্রশংসার দাবিদার। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ ধরনের আয়োজন না হলে সেই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হতো না।” একই সঙ্গে তিনি সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। জুমানে উইলিয়ামস বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটি নিউইয়র্কে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড অন্য সম্প্রদায়ের জন্যও অনুসরণীয়। তিনি কমিউনিটির উন্নয়নে ‘ভালো’র ভূমিকার প্রশংসা করেন। মেলা প্রাঙ্গণে ছিল দেশীয় খাবার, পোশাক, হস্তশিল্প, প্রসাধনী ও গৃহসজ্জার সামগ্রীর শতাধিক স্টল। ফুচকা, বিরিয়ানি, ভর্তা, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন এবং আমের জুসসহ দেশীয় পানীয় দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। পুরো আয়োজন যেন তৈরি করেছিল এক টুকরো বাংলাদেশি বাজারের আবহাওয়া। ‘ভালো’র ডিরেক্টর অব পাবলিক রিলেশনস শাহরিয়ার নবী জানান, কমিউনিটির জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই এই মেলার আয়োজন। তিনি বলেন, “আমরা চাই এটি সবার মিলনমেলা হোক। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্যও এটি একটি সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি করুক।” তিনি জানান, মেলায় ৭০টিরও বেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন। দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, এই আয়োজন তাদের শৈশবের দেশের মেলার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। জ্যামাইকার বাসিন্দা সামিনা আমিন বলেন, “এখানে এসে মনে হচ্ছে যেন বাংলাদেশেই আছি। খাবার থেকে পরিবেশ—সবকিছুই অসাধারণ। এমন আয়োজন প্রতিবছর হওয়া উচিত, যাতে নতুন প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে।” শিশুদের জন্য ছিল বিভিন্ন রাইড, গেমস ও বিনোদনের ব্যবস্থা। স্লাইড ও নানা খেলায় শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে বড়দের জন্য আয়োজন করা হয় ফুচকা খাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং র্যাফেল ড্র, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। মেলায় বিভিন্ন সময় উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নানতাশা উইলিয়ামস, কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান, মেয়রের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার, কংগ্রেস প্রার্থী চাক পার্ক, ইলহাম একাডেমির কর্ণধার মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের অফিসের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাদেক, জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারসহ আরও অনেকে। সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন বলেন, ‘ভালো’ দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি ও বাংলাদেশের কল্যাণে নানা ইতিবাচক কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ভবিষ্যতেও সংগঠনটির পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মীর বাশার বলেন, “এটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক মেলা নয়, বরং মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধন গড়ে তোলার একটি সামাজিক উদ্যোগ।” কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণানও একই সুরে বলেন, “‘ভালো’ মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।” মেলার আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল ফুটবল উন্মাদনা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বড় পর্দায় সরাসরি ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করা হয়। খেলা উপভোগ করতে করতে দর্শনার্থীরা একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। দিনভর চলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় শিল্পীদের পাশাপাশি বিউটি দাস ও রাজীব রহমানের ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করেন। বাংলা গান, দেশীয় সুর এবং প্রবাস জীবনের আবেগ মিলেমিশে পুরো মেলা প্রাঙ্গণকে উৎসবের রঙে রাঙিয়ে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।