ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম শাখা খুলছে কানাডার বিখ্যাত এশিয়ান সুপারশপ ‘টিঅ্যান্ডটি’
কানাডার জনপ্রিয় এশিয়ান গ্রোসারি চেইন ‘টিঅ্যান্ডটি সুপারমার্কেট’ ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের প্রথম শাখা খুলতে যাচ্ছে। আগামী ১৮ জুন বে এরিয়ার সান জোসে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগাশপটির উদ্বোধন করা হবে। দ্য সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সান জোসের ১৬০০ সারাটোগা অ্যাভিনিউয়ের ওয়েস্টগেট সেন্টারে নতুন এই সুপারশপটি অবস্থিত। উদ্বোধনী দিন সকাল ৮টায় শুরু হবে উৎসবমুখর আনুষ্ঠানিকতা। এরপর সকাল ৯টায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সুপারশপের দরজা খুলে দেওয়া হবে।
টিঅ্যান্ডটি মূলত তাদের প্রস্তুতকৃত খাবার, বেকারি আইটেম এবং এশিয়ান মুদি পণ্যের বিশাল সংগ্রহের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। সান জোসের এই শাখায় চীন, জাপান, কোরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার পণ্য পাওয়া যাবে।
প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্র্যান্ডের কিছু বিশেষ পণ্য ক্রেতাদের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে পর্ক স্যুপ ডাম্পলিং, গ্রিন অনিয়ন প্যানকেক, কালবি সস এবং তাইওয়ানিজ স্টাইলের সসেজ।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিনা লি এক বিবৃতিতে বলেন, সান জোসের এই শাখাটি নিয়ে মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। তারা শুধু মানসম্পন্ন খাবারই আনছেন না, সেই সাথে কানাডা থেকে এক নতুন জীবনধারার পরিচয় করাচ্ছেন, যা খাদ্যের ঐতিহ্য ও সতেজতাকে ধারণ করে।
টিনা লি আরও জানান, এশিয়ান পরিবারগুলোকে তাদের শেকড়ের খাবারের সঙ্গে যুক্ত রাখা তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে এশিয়ান খাবারের এক নতুন গন্তব্য তৈরি করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় এশিয়ান মুদি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। টিঅ্যান্ডটির এই আগমন ওই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এইচ মার্ট, টোকিও সেন্ট্রাল এবং ওসাকা মার্কেটপ্লেসের মতো বিশেষায়িত শপগুলোও বর্তমানে এই অঞ্চলে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে।
সিলিকন ভ্যালির এই মার্কেটটি ছাড়াও ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও দুটি শাখা খোলার ঘোষণা দিয়েছে টিঅ্যান্ডটি। ২০২৬ সালের শীত মৌসুমে সান ফ্রান্সিসকোর মেসনিক অ্যাভিনিউ সংলগ্ন গিয়ারি বুলেভার্ডের সিটি সেন্টার এবং মিলব্রের ফ্রেন্ডশিপ প্লাজায় নতুন দুটি স্টোর চালু হতে পারে।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে নিজেদের অ্যাপের মাধ্যমে ক্রেতাদের বিনামূল্যে সদস্যপদ পাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে টিঅ্যান্ডটি। এছাড়া আগামী ৬ থেকে ৭ জুন এবং ১৩ থেকে ১৪ জুন স্যান্টানা রো-তে বিশেষ পপ-আপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেখানে ক্রেতাদের জন্য নানা রকম স্ন্যাকস, গেম ও উপহারের ব্যবস্থা থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভ্যাঙ্কুভারে প্রতিষ্ঠিত হয় টিঅ্যান্ডটি সুপারমার্কেট। এর সদর দপ্তর রিচমন্ডে অবস্থিত। গত ২০২৪ সালে ওয়াশিংটনের বেলভ্যুতে স্টোর চালুর মাধ্যমে তারা প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের একাংশকে এককালীন ৯০ ডলারের প্রিমিয়াম রিবেট দেওয়া শুরু হয়েছে। মেডিকেয়ার পার্ট বি-এর প্রিমিয়াম পরিশোধে সহায়তা করতে এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস সেন্টার (সিএমএস) জানিয়েছে, যোগ্য প্রায় ২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ অক্টোবর ২০২৬-এ এই অর্থ পাবেন। সব মিলিয়ে এই কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। তবে মেডিকেয়ারের মোট সুবিধাভোগীদের বড় একটি অংশ এই অর্থ থেকে বাদ পড়ছেন। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মানুষ এই রিবেট পাবেন না। একইভাবে মেডিকেইডের মাধ্যমে প্রিমিয়াম সহায়তা পাওয়া নিম্নআয়ের বয়স্ক মানুষ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও এই অর্থ দেওয়া হবে না। ফলে মেডিকেয়ারের মোট প্রায় ৬৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুবিধাভোগীর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম মানুষ এই এককালীন অর্থ পাওয়ার যোগ্য হচ্ছেন। সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী Original Medicare Part B-এর ২০ দশমিক ৮ মিলিয়ন সুবিধাভোগী এই অর্থ পাবেন, যদি তারা মেডিকেইড থেকে প্রিমিয়াম সহায়তা না পান এবং আয়ভিত্তিক অতিরিক্ত মাসিক প্রিমিয়ামও পরিশোধ না করেন। মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজে থাকা ব্যক্তিরা এই কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। পার্ট বি সাধারণত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, পরীক্ষাগার পরীক্ষা ও অন্যান্য বহির্বিভাগীয় চিকিৎসা ব্যয়ের মতো সেবা কাভার করে। যোগ্য সুবিধাভোগীদের অধিকাংশের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ৯০ ডলার জমা হবে। সিএমএস জানিয়েছে, বেশিরভাগ অর্থ ৮ অক্টোবরের আশপাশে সরাসরি জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। যাদের সরাসরি অর্থ পাওয়ার ব্যবস্থা নেই, তাদের অক্টোবরের পরের দিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মাধ্যমে ডাকযোগে কাগজের চেক পাঠানো হবে। সুবিধাভোগীদের আলাদাভাবে আবেদন বা নিবন্ধন করতে হবে না, অর্থাৎ যোগ্যতা থাকলে অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পাওয়ার কথা। এই অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ২০০৮ সালে কংগ্রেসের মাধ্যমে গঠিত Medicare Improvement Fund। মূলত Original Medicare-এর ফি-ভিত্তিক সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য এই তহবিল তৈরি করা হয়েছিল। সিএমএসের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে বিভিন্ন আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই তহবিল থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। ২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে এই তহবিল থেকে প্রায় ২০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নিয়ে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন বা ওবামাকেয়ার বাস্তবায়নের ব্যয়ে ব্যবহার করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এবারের অর্থ সরাসরি মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছে দিয়ে তাদের স্বাস্থ্যসেবার খরচ কিছুটা কমানোই উদ্দেশ্য। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমেরিকানদের নিজেদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে আরও নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার পাশাপাশি মেডিকেয়ার রোগীদের হাতে সরাসরি অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটিকে মেডিকেয়ারকে আরও সাশ্রয়ী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের মতে, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অর্থ বিতরণকে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। সিনেটের অর্থ কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট ওরেগনের সিনেটর রন ওয়াইডেন এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তার ভাষ্য, এককালীন ৯০ ডলারের অর্থ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় ও প্রশাসনিক সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংকটের সমাধান করবে না। স্বাস্থ্যনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেএফএফও বলছে, এককালীন এই অর্থ অনেক সুবিধাভোগীর জন্য সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয়ের তুলনায় এর প্রভাব সীমিত হতে পারে। কেএফএফের মেডিকেয়ার নীতি বিষয়ক পরিচালক জুলিয়েট কিউবানস্কি উল্লেখ করেছেন, মানুষ যখন খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপ অনুভব করছেন, তখন ৯০ ডলারের এই অর্থ কিছুটা সহায়তা করলেও তা খুব বেশি দূর এগিয়ে নিতে নাও পারে। যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীরা ১-৮০০-MEDICARE বা ১-৮০০-৬৩৩-৪২২৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। আর অর্থ পাঠানো হয়েছে কি না, তা জানতে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের ১-৮০০-৭৭২-১২১৩ নম্বরে ১৫ অক্টোবর থেকে যোগাযোগ করা যাবে বলে জানিয়েছে সিএমএস। এদিকে, এই এককালীন অর্থ বিতরণের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ৩০টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১০ লাখ ওবামাকেয়ার সুবিধাভোগীর জন্য ৫০০ ডলারের রিবেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। ফলে ৯০ ডলারের মেডিকেয়ার রিবেটকে ঘিরে অর্থনৈতিক সহায়তা ও নির্বাচনী রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সার্ভিসেস সেন্টার (সিএমএস), কেএফএফ।
‘মেয়েকে হয়তো ঘরে নিতে পারব না’, শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েননি চার সন্তানের মা
'আপনি কাপুরুষ': নিউইয়র্কের ইউনিয়ন স্কয়ারে মেয়র মামদানিকে দুয়োধ্বনি
পাঁচ আয়া থাকলেও সন্তানদের ঘুম পাড়ানো থেকে স্কুলে নেওয়া, সবই করেন কিম কার্দাশিয়ান
অ্যামাজন প্রাইমের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে করা ২৫০ কোটি ডলারের নিষ্পত্তির আওতায় গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। নতুন করে আরও কয়েক মিলিয়ন গ্রাহক এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন। যোগ্য গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ফেরতের সর্বোচ্চ মোট পরিমাণ ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নতুন দফার অর্থ পাঠানো শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর থেকে এবং এর জন্য গ্রাহকদের আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হচ্ছে না। এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যামাজনের সঙ্গে এই নিষ্পত্তি হয়েছিল। সংস্থাটির অভিযোগ ছিল, অ্যামাজন এমন কিছু নকশা ও প্রক্রিয়া ব্যবহার করেছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকদের অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত করা এবং পরে সেই সদস্যপদ বাতিল করা কঠিন করে তোলা হয়েছিল। অ্যামাজন অবশ্য এসব অভিযোগের দায় স্বীকার করেনি। নিষ্পত্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ানি জরিমানা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য ১৫০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। এফটিসির ভাষায়, অ্যামাজনের ব্যবহৃত কিছু পদ্ধতিকে ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ বলা হয়। অর্থাৎ ওয়েবসাইট বা অ্যাপের এমন নকশা, যা ব্যবহারকারীকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারে। সংস্থাটির মামলায় বলা হয়েছিল, প্রাইমে যুক্ত হওয়ার সময় সদস্যপদ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সহজে চোখে পড়ত না এবং সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়াটিও ছিল দীর্ঘ ও জটিল। এমনকি অ্যামাজনের কর্মীরা বাতিলের প্রক্রিয়াটিকে অভ্যন্তরীণভাবে ‘ইলিয়াড’ নামে অভিহিত করতেন বলে এফটিসির অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল। নতুন সংশোধিত নিষ্পত্তির আওতায় এবার এমন গ্রাহকরাও অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যারা অ্যামাজন প্রাইমের ১১ থেকে ২০টি সুবিধা যেকোনো ১২ মাসের সময়ে ব্যবহার করেছেন। এর আগে অপেক্ষাকৃত কম সুবিধা ব্যবহার করা গ্রাহকদের জন্য ফেরতের ব্যবস্থা ছিল। এফটিসি জানিয়েছে, নতুন যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হচ্ছে এবং তাদের কোনো দাবি দাখিল, নোটিশের জবাব বা অতিরিক্ত ফরম পূরণ করতে হবে না। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট গ্রাহকরাই এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য। এফটিসির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহক হতে হবে এবং ২৩ জুন ২০১৯ থেকে ২৩ জুন ২০২৫-এর মধ্যে এফটিসির চ্যালেঞ্জ করা কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত হয়ে থাকতে হবে। পাশাপাশি সদস্যপদ নেওয়ার পর যেকোনো ১২ মাসের সময়ে সর্বোচ্চ ২০টি প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করা হয়ে থাকতে হবে। প্রাইম সুবিধার মধ্যে অ্যামাজনের বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রাইমের মাধ্যমে পাওয়া দ্রুত পণ্য সরবরাহ, প্রাইম ভিডিও বা প্রাইম মিউজিকের মতো সুবিধার ব্যবহার হিসাবের মধ্যে পড়তে পারে। এফটিসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক এক বছরের মধ্যে এসব সুবিধা যতবার ব্যবহার করেছেন, তা মোট ব্যবহারের সংখ্যা নির্ধারণে বিবেচনা করা হবে। তবে যেসব গ্রাহক নিয়মিতভাবে প্রাইমের বহু সুবিধা ব্যবহার করেছেন, এই ফেরত কর্মসূচি মূলত তাদের জন্য তৈরি হয়নি। প্রথম দফায় যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। সংশোধিত নিষ্পত্তিতে সেই সীমা বাড়িয়ে মোট ২০০ ডলার করা হয়েছে। ফলে কেউ যদি আগের দফায় ৫১ ডলার পেয়ে থাকেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে আরও সর্বোচ্চ ১৪৯ ডলার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এফটিসি জানিয়েছে, গ্রাহকরা মোট কত অর্থ পাবেন তা তাদের প্রাইম সদস্যপদ বাবদ দেওয়া অর্থ এবং নিষ্পত্তির আওতায় তাদের যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না। যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ ইলেকট্রনিক পেমেন্টের মাধ্যমে পেপ্যাল বা ভেনমোতে পাঠানো হবে, অথবা ডাকযোগে চেক পাঠানো হবে। এফটিসি জানিয়েছে, অর্থ পাওয়ার জন্য কাউকে আগে থেকে টাকা দেওয়া, ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করা বা কোনো তৃতীয় পক্ষকে অর্থের বিনিময়ে ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হলে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের যোগাযোগ প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে। এফটিসি আরও জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অ্যামাজন ইতোমধ্যে যোগ্য প্রাইম গ্রাহকদের ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দিয়েছে। নতুন সংশোধিত ব্যবস্থার আওতায় স্বয়ংক্রিয় অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ এখনো যারা অর্থ পাননি, তাদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে পরবর্তী সময়েও অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি আগের দফায় অর্থ পাওয়া কিছু গ্রাহকের জন্য আরও অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এফটিসির সংশোধিত আদেশ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে গ্রাহকদের গ্রহণ করা অর্থ নির্ধারিত সীমায় না পৌঁছালে অতিরিক্ত অর্থ বিতরণ করা হবে। আগের অর্থ গ্রহণ করা যোগ্য গ্রাহকরা সর্বোচ্চ আরও ১৪৯ ডলার পেতে পারেন, যার ফলে তাদের মোট ফেরত ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার দফা ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অর্থ ফেরতের নামে প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করেছে এফটিসি। সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এই অর্থ ফেরতের বিষয়ে গ্রাহকদের ফোন করে অর্থ চাইবে না। অ্যামাজনও ফেরত পাওয়ার জন্য কোনো গ্রাহকের কাছে টাকা চাইবে না। তাই কেউ যদি নিজেকে এফটিসি বা অ্যামাজনের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে অর্থ দাবি করে কিংবা ফেরত নিশ্চিত করার বিনিময়ে ফি চায়, তার সঙ্গে লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সূত্র: ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)
যুক্তরাষ্ট্রে ৫ সেন্টের নিকেল তৈরিতে খরচ ১৩ সেন্ট, পেনির পর এবার নিকেলেও খরচ কমানোর উদ্যোগ
মিনেসোটায় মল অব আমেরিকায় ৩০ থেকে ৬০ জনকে হ ত্যার ছক, এফবিআইয়ের হাতে তরুণ গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দিতে হবে ৭০ হাজার ডলার ফি
যুক্তরাষ্ট্রে অতি সংক্রামক রোগ হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি বছর দেশটির ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গত সোমবার নতুন করে ১০৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হওয়ার পর নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, পেনসিলভেনিয়ায় গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ হামে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর জানালেও, ফেডারেল স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মাত্র দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র পেনসিলভেনিয়ার মৃত্যুর তথ্যকে ‘মনগড়া’ আখ্যা দিয়েছিলেন এবং সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনকে (সিডিসি) মৃত্যু গণনার পদ্ধতি পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা অধিদপ্তরের (এইচএইচএস) অধীনে সিডিসি দেশজুড়ে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে জানিয়েছেন, টেক্সাস, দক্ষিণ ক্যারোলিনা, ভার্জিনিয়া, ক্যানসাস, নিউ মেক্সিকো এবং উইসকনসিনে বিশেষ মহামারি তদন্তকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন সাপেক্ষে নিউইয়র্কেও মহামারি ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। উল্লেখ্য, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে দ্রুত বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এর জীবাণু বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তীব্র জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো প্রাথমিক উপসর্গ থাকা এই রোগটি গুরুতর আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে এমএমআর টিকার দুটি ডোজ গ্রহণের মাধ্যমে এই মারাত্মক রোগ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
জেডি ভ্যান্সের শৈশবের শহরে উজবেক ট্রাকিং কোম্পানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ
নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে নকল চেইন পরিয়ে বৃদ্ধার আসল সোনার চেইন চুরি, গ্রেপ্তার রোমানিয়ান দম্পতি