সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে ‘লিটল বাংলাদেশ’: পার্কচেস্টারে গড়ে উঠছে প্রবাসী বাঙালির কমিউনিটি

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৬:২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার এলাকায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি, যা স্থানীয়দের কাছে এখন ‘লিটল বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত।

 

ইউনিয়নপোর্ট রোড ও স্টারলিং অ্যাভিনিউকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই এলাকায় বাংলাদেশি সংস্কৃতি, খাবার, ধর্মীয় কার্যক্রম ও ছোট-বড় ব্যবসার এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই এখানে দেখা যায় বাংলা ভাষাভাষী মানুষের ভিড়।

 

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোস্তাক রফিক আহমেদ জানান, তাঁর পরিচালিত একটি রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাঙালি গ্রাহক আসেন। তাঁর ভাষায়, এখানে এলে মনে হয় যেন ছোট্ট একটি বাংলাদেশে আছি।

 

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন কমিউনিটির সদস্য সুমাইয়া মীম। তিনি বলেন, এখানে নিজের মানুষ, সংস্কৃতি ও পরিবেশ সবকিছুই পাওয়া যায়, যা প্রবাস জীবনে এক ধরনের স্বস্তি দেয়।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রঙ্কসের কমিউনিটি ডিস্ট্রিক্ট ৯ এলাকায় ১২ হাজারের বেশি পরিবারে বাংলা ভাষা ব্যবহৃত হয়, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। সাউন্ডভিউ এলাকাও এর অন্তর্ভুক্ত।

 

বাংলাদেশি অভিবাসীদের এই এলাকায় বসতি গড়ার শুরু ১৯৯০-এর দশকে। মূলত বৈচিত্র্যভিত্তিক ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে এখানে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের আগমনে এই কমিউনিটি আরও বিস্তৃত হয়।

 

কমিউনিটির দীর্ঘদিনের সদস্য মোহাম্মদ মুজুমদার বলেন, শুরুতে অল্প কয়েকজন থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও পরিচিতদের আগমনে এই কমিউনিটি বড় হয়ে উঠেছে।

 

সম্প্রতি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের এক বাংলাদেশি কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো কমিউনিটি শোকাহত হয় এবং স্থানীয় মসজিদে বিপুল মানুষের উপস্থিতি কমিউনিটির ঐক্যকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে।

 

স্থানীয়দের মতে, একই ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে পার্কচেস্টার এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। অনেক পরিবারই তাদের সন্তানদের বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতে এখানে বসবাসকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম, ফি ও সাক্ষাৎকার নিয়ে যা জানা জরুরি, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে ফি, সাক্ষাৎকারের স্থান এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনকারীদের ভিসার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ অধিকাংশ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি বর্তমানে ১৮৫ ডলার। এই ফি ফেরতযোগ্য নয়। তবে কাজের জন্য H, L, O, P ও R শ্রেণির মতো পিটিশনভিত্তিক কিছু ভিসার আবেদন ফি ২০৫ ডলার। E শ্রেণির ভিসায় ৩১৫ ডলার এবং মার্কিন নাগরিকের বাগদত্তা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য K শ্রেণির ভিসায় ২৬৫ ডলার ফি নির্ধারিত রয়েছে।   ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রেও আলাদা ফি প্রযোজ্য। অনুমোদিত I-130, I-600 বা I-800 পিটিশনের ভিত্তিতে পারিবারিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ৩২৫ ডলার। কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় ফি ৩৪৫ ডলার এবং অন্যান্য কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় ২০৫ ডলার নির্ধারিত রয়েছে।   ভিসা আবেদন করার ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার কোথায় হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের সাধারণত নিজেদের নাগরিকত্বের দেশ বা বসবাসের দেশে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। অন্য দেশে আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।   বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসই ভিসা প্রসেসিংয়ের নির্ধারিত স্থানগুলোর একটি। তবে ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবেদন ও সাক্ষাৎকারের পর কনস্যুলার অফিসার প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।   এদিকে ২০২৬ সালে কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ নিয়েও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পরীক্ষামূলক একটি কর্মসূচিতে নির্বাচিত কিছু পোস্টে যোগ্য B ভিসা আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার ফি দিয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই সুবিধা সব দূতাবাসে চালু নয় এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে।   তাই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসার ধরন, বর্তমান ফি, সাক্ষাৎকারের নিয়ম এবং দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে ফি পরিশোধের পর তা সাধারণত ফেরতযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীদের সতর্কতার সঙ্গে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১০:১
নভেম্বরে ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে

নভেম্বরে ভোট না দিলে ‘জাহান্নামে’ যেতে হবে, সমর্থকদের লক্ষ্য করে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের পথে দুর্ঘটনা, হাসপাতালের বিছানাতেই বিয়ে

গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বাড়ি কেনার সেরা ৫ শহর

গ্র্যাজুয়েশন শেষেই বাড়ি কেনার সুযোগ! যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী ৫ শহরের তালিকা জেনে নিন

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহঋণের সুদহার ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের গৃহঋণের গড় সুদহার ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বৈশ্বিক বন্ডের সুদহার বাড়তে থাকায় দেশটির আবাসন খাতে ঋণের ব্যয়ও বেড়েছে। ফ্রেডি ম্যাকের বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদহারের গৃহঋণের গড় হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ সুদহার ২০২৫ সালের জুনের শেষ সপ্তাহের পর সর্বোচ্চ। এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ৩০ বছরের গৃহঋণের হার ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের দীর্ঘমেয়াদি সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা সাধারণত গৃহঋণের সুদহারে প্রভাব ফেলে। উচ্চ সুদহারের প্রভাব ইতোমধ্যে আবাসন বাজারে দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রি জুলাইয়ের তুলনায় ২ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এক বছরের তুলনায় বিক্রি কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনের পর এটি সবচেয়ে কম বার্ষিক বিক্রির হার। তবে বাড়ির দাম কমেনি। আগস্টে বিদ্যমান বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার ১০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এ নিয়ে টানা ৩৮ মাসে বাড়ির দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। একই সময়ে বিক্রির জন্য বাজারে থাকা বাড়ির সংখ্যা ১৬ লাখ ২০ হাজারে পৌঁছেছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। NAR-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স ইউন বলেন, সাধারণত গৃহঋণের সুদহার ও বাড়ি বিক্রির মধ্যে বিপরীতমুখী সম্পর্ক থাকে। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিদ্যমান বাড়ি বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি রয়েছে। তাঁর মতে, উচ্চ সুদহারের মধ্যেও মজুরি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ায় বাড়ি কেনার চাহিদা কিছুটা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। আগস্টে মজুরি ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে এবং বছরের শুরু থেকে ৬ লাখ ৪৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বাজারে বাড়ির মজুত বাড়ায় ক্রেতাদের দর-কষাকষির সুযোগও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমান বিক্রির গতিতে বাজারে থাকা বাড়ির মজুত শেষ হতে ৪ দশমিক ৯ মাস লাগবে, যা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক বাজারে বন্ডের সুদহার বৃদ্ধি গৃহঋণের সুদহারকে আরও চাপের মধ্যে রেখেছে। সামনে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তও আবাসন বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সুদহার আরও বাড়লে বাড়ি কেনার সক্ষমতা ও চাহিদার ওপর চাপ বাড়তে পারে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৮:১৪
মাকে হত্যার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জমজ দুই বোন

মাকে ৮০ বার ছুরিকাঘাত, ১২ বছর পর ছাড়া পেল কুখ্যাত ‘জমজদের’ একজন

ছবি: সংগৃহীত

বিমানে যাত্রীকে মারধরের অভিযোগ, ডাক্ট টেপে সিটে বেঁধে রাখলেন সহযাত্রীরা

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রায় ২০ শতাংশ শৈশবে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেননি

প্রতি বছর ২০ থেকে ৩০ হাজার আমেরিকান ইসলাম গ্রহণ করেন, গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণের সুদ ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, বাড়ছে ঋণের খরচ
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির ঋণের সুদ ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, ৭ শতাংশের পথে মর্টগেজের হার

যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের বাড়ির ঋণের গড় সুদের হার বেড়ে ১৪ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে বেঞ্চমার্ক ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজের সুদের হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। এর ফলে বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য ঋণের খরচ আরও বেড়েছে। ৩০ বছরের মর্টগেজের এই হার ২০২৫ সালের জুনের শেষ সপ্তাহের পর সর্বোচ্চ, তখন হার ছিল ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সুদের হার ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে এখন ৭ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদের হার ছিল ৬ শতাংশের নিচে। এরপর থেকে হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। গত দুই বছরে একবারই এই হার ৭ শতাংশ ছাড়িয়েছিল—২০২৫ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে, যখন তা ৭ দশমিক ০৪ শতাংশে উঠেছিল। মর্টগেজের সুদের হার বাড়ার অন্যতম কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি বন্ডের সুদ বেড়ে যাওয়া। বিশেষ করে ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার মর্টগেজের হারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ওঠানামা করে। বৃহস্পতিবার ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের সুদ প্রায় ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশে উঠে ২০০৭ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে ১০ বছরের এই বন্ডের সুদ ছিল ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এরপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, মূল্যস্ফীতির স্থায়িত্ব, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তে থাকা জাতীয় ঋণ—সব মিলিয়ে বন্ডের সুদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ৩০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদও বৃহস্পতিবার ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশের বেশি হয়েছে। এটি ২০০২ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বন্ডের সুদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাড়ির ঋণের সুদও সাধারণত বাড়তে থাকে। এদিকে মর্টগেজের সুদ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। আগস্টে আগে থেকে মালিকানাধীন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ ২ শতাংশ কমে বছরে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটের সমপরিমাণে নেমে এসেছে। এটি এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কম পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সময়ে বাজারে বিক্রি না হওয়া বাড়ির মজুত জুলাইয়ের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ ঋণের সুদ বাড়ায় অনেক ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে বিক্রির গতি কমছে এবং বাজারে অবিক্রীত বাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে ১৫ বছরের মর্টগেজের সুদের হারও বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে এই হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ০৯ শতাংশে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। মার্চের প্রথম সপ্তাহে ১৫ বছরের মর্টগেজের হার ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে। সাধারণত যারা বাড়ির ঋণ পুনঃঅর্থায়ন বা রিফাইন্যান্স করতে চান, তাদের অনেকে ১৫ বছরের মর্টগেজ বেছে নেন। এতে ঋণ দ্রুত পরিশোধ করা গেলেও ৩০ বছরের ঋণের তুলনায় মাসিক কিস্তি তুলনামূলক বেশি হয়। ফলে সুদের হার বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাড়ির ক্রেতা ও মালিক—দুই পক্ষের ওপরই আর্থিক চাপ বাড়ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৭:৫
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের এআই পোস্টকে ‘ব্রেইন রট’ বললেন সাবেক সহযোগী

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসির একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি করা হয়

ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র আইসিই এজেন্ট মোতায়েন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

টেক্সাস সিনেট জরিপে রিপাবলিকানদের পেছনে ফেলে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

0 Comments