প্রযুক্তি

ছবি: সংগৃহীত।
নাচ ভুলে স্কুলের মধ্যে শুরু করল মারামারি, কুং-ফু রোবটের তাণ্ডবে তোলপাড় চীনে

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানে ঘটে গেল এক অদ্ভুত ও আতঙ্কিত করার মতো ঘটনা। স্কুলের শিক্ষার্থীদের আনন্দ দিতে আনা একটি হিউম্যানয়েড (মানুষের মতো দেখতে) রোবট হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রোবটটি নির্ধারিত নাচের তাল বাদ দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলেই এলোপাথাড়ি 'কুং-ফু কিক' মারতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রোবটটি প্রথমে সুশৃঙ্খলভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে তাল মিলিয়ে নাচছিল। কিন্তু হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং চারপাশের পারফর্মারদের লক্ষ্য করে লাথি চালাতে থাকে। এসময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাঁচাতে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত টেকনিশিয়ান এবং আয়োজকরা এগিয়ে আসেন। তারা রোবটটিকে জাপটে ধরে সরিয়ে নিয়ে যান। তবে সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী বা দর্শক আহত হননি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রোবটটির সেন্সর সিস্টেমে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা সফটওয়্যারে গোলযোগের কারণে এটি নির্ধারিত প্রোগ্রাম থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবটের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ হাসাহাসি চললেও, জননিরাপত্তায় রোবট ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বেইজিং অটো শোতে এক্সপেং-এর উড়ন্ত গাড়ি আর হিউম্যানয়েড রোবট দেখে তাজ্জব বিশ্ব!

ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল প্রদর্শনীতে (অটো চায়না ২০২৬) চমক দেখালো বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সপেং (XPENG)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের পূর্ণাঙ্গ ‘ফিজিক্যাল এআই’ (Physical AI) ইকোসিস্টেম প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে নতুন এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দিয়েছে। এবারের প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের শক্তিশালী প্রোডাক্ট লাইনআপের মধ্যে নতুন মডেলের ইলেকট্রিক গাড়ি GX, MONA M03, পরবর্তী প্রজন্মের P7 এবং X9 হাইলাইট করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ কেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির অত্যাধুনিক হিউম্যানয়েড রোবট ‘IRON’ এবং উড়ন্ত গাড়ি বা ফ্লাইং কার ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার’। এক্সপেং-এর চেয়ারম্যান ও সিইও হে শিয়াওপেং বলেন, “গত ১২ বছরের যাত্রায় আমরা এখন এক নতুন ধাপে পৌঁছেছি। স্মার্ট ইভি থেকে ফ্লাইং কার, এআই চিপ থেকে হিউম্যানয়েড রোবট—আমরা আমাদের ফিজিক্যাল এআই ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল যাতায়াত সহজ করা নয়, বরং প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনের আরও গভীরে পৌঁছে দেওয়া।” প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের নতুন ‘VLA 2.0’ ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেমের রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, গ্রাহকদের গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে এই এআই প্রযুক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম রোবোট্যাক্সি (Robotaxi) প্রোটোটাইপ 'GX' উন্মোচন করেছে, যা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় বা L4 অটোনোমাস ড্রাইভিং সক্ষম। এতে রয়েছে শক্তিশালী ‘টুরিং’ এআই চিপ, যা ৩০০০ TOPS কম্পিউটিং পাওয়ার প্রদান করে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাজারে এক্সপেং-এর সরবরাহ গত বছরের তুলনায় ৯৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি এআই চালিত স্মার্ট মোবিলিটি বা যাতায়াত ব্যবস্থায় বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ডিপসিক-ভি৪, এআই দুনিয়ায় এবার রাজত্ব করতে যাচ্ছে চীন?

বিশ্বের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাজারে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই এবার আরও তুঙ্গে। ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি এবং গুগলের জেমিনাই-কে সরাসরি টেক্কা দিতে চীনভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ডিপসিক’ বাজারে এনেছে তাদের লেটেস্ট মডেল ‘ডিপসিক-ভি৪’।  শুক্রবার (২৪ এপ্রিল, ২০২৬) এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় কোম্পানিটি এই নতুন মডেলের প্রিভিউ সংস্করণ উন্মোচন করেছে। মার্কিন মডেলের চেয়েও সস্তা:ডিপসিক-ভি৪ এর সবচেয়ে বড় চমক হলো এর অবিশ্বাস্য কম দাম। কোম্পানিটির দাবি, তাদের এই মডেলটি ব্যবহার করতে খরচ হবে ওপেনএআই বা অ্যানথ্রপিকের মডেলগুলোর তুলনায় কয়েক গুণ কম।  যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলো তাদের শক্তিশালী মডেলগুলোর এপিআই (API) ব্যবহারের জন্য উচ্চমূল্য রাখে, সেখানে ডিপসিক অত্যন্ত সস্তায় একই মানের বা তার চেয়েও উন্নত সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কারিগরি সক্ষমতা: ডিপসিকের নতুন এই মডেলে রয়েছে ‘ভি৪-প্রো’ (V4-Pro) এবং ‘ভি৪-ফ্ল্যাশ’ (V4-Flash) নামক দুটি সংস্করণ। এর মধ্যে প্রো সংস্করণটিতে ১.৬ ট্রিলিয়ন প্যারামিটার রয়েছে, যা একে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এআই মডেলে পরিণত করেছে। এটি গণিত এবং কোডিংয়ের ক্ষেত্রে ওপেন-সোর্স মডেলগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে এবং বিশ্বজ্ঞানের ক্ষেত্রে জেমিনাই ৩.১-প্রো-র ঠিক পরেই এর অবস্থান। ১ মিলিয়ন টোকেন উইন্ডো: গবেষকদের মতে, ডিপসিক-ভি৪ এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ১ মিলিয়ন টোকেন সমৃদ্ধ কন্টেক্সট উইন্ডো। এর মানে হলো, এই এআই একবারে কয়েক হাজার পৃষ্ঠার বই বা বিশালাকার কোডবেস বিশ্লেষণ করতে পারবে কোনো তথ্য না হারিয়েই। হুয়াওয়ে চিপের প্রভাব: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এনভিডিয়া (Nvidia) চিপের সংকট থাকলেও, ডিপসিক তাদের এই মডেলটিকে চীনের তৈরি হুয়াওয়ে অ্যাসেন্ড (Huawei Ascend) চিপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চীন এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
শ্রমিক সংকট কাটাতে নামানো হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন চালকবিহীন ট্রাক

বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হংকংয়ের বন্দরে তীব্র শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো বন্দর এলাকায় পণ্য পরিবহনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত চালকবিহীন ট্রাক। হংকংয়ের কুয়াই তসিং টার্মিনালে এই স্বায়ত্তশাসিত ট্রাকগুলো ইতিমধ্যে সফলভাবে কাজ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই চালকবিহীন ট্রাকগুলো প্রায় ৮,০০০-এর বেশি কন্টেইনার মুভমেন্ট সম্পন্ন করেছে। মূলত বন্দরের ট্রেলার চালকদের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ সামাল দিতেই এই আধুনিক প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ছয়টি স্বায়ত্তশাসিত ট্রাক দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। হংকংয়ের লজিস্টিক খাতে এটি একটি বড় মাইলফলক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই ব্যবহার শুধুমাত্র শ্রমিকের অভাবই পূরণ করবে না, বরং বন্দরের সার্বিক দক্ষতা এবং নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আধুনিক এই ট্রাকগুলো সেন্সর এবং এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে মানুষের সাহায্য ছাড়াই ভারী কন্টেইনার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
সুপার পাউডার থেকে সুপার পাওয়ার: প্লাজমা প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে দিচ্ছে চীন

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং সামরিক শক্তিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে এবার ‘সুপার পাউডার’ প্রযুক্তিতে বড় ধরনের সাফল্য দেখালো চীন। সম্প্রতি চীনের গুয়াংডং প্রদেশে বিশ্বের বৃহত্তম 'প্লাজমা মিল' (Plasma Mill) সুবিধা উন্মোচন করা হয়েছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা এবং উন্নত প্রযুক্তি খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, যেমন— রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম স্টিলথ যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে শব্দের চেয়ে দ্রুতগামী হাইপারসনিক মিসাইল তৈরির মূল ভিত্তি হলো মাইক্রন-স্কেলের এই বিশেষ সুপার পাউডার। এতদিন এই পাউডার উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা থাকলেও চীনের নতুন এই প্লাজমা মিলটি আগের পদ্ধতির চেয়ে ১০ গুণ বেশি দক্ষ। দেখতে সাধারণ ড্রামের মতো মনে হলেও এই প্লাজমা মিলগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধাতব অংশকে আণুবীক্ষণিক কণায় রূপান্তর করে। যেমন— স্টিলথ বিমানের গায়ে যে বিশেষ আবরণ (Radar-absorbing coating) থাকে, তা তৈরি হয় ম্যাগনেটিক আয়রন ফ্লেক বা লোহার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা থেকে। এছাড়া জেট ইঞ্জিনের টারবাইন ব্লেড তৈরির জন্য এই উন্নত পাউডার অপরিহার্য, যা উচ্চ তাপে সংকুচিত করে নিখুঁত আকার দেওয়া হয়। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের যে আধিপত্য ছিল, চীনের এই নতুন শিল্প-বিপ্লব তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দেবে। এখন থেকে চীন অনেক বড় পরিসরে এবং অনেক দ্রুত এই জটিল উপকরণগুলো উৎপাদন করতে পারবে। চীনের এই নতুন উদ্ভাবন শুধুমাত্র সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং মহাকাশ গবেষণা এবং উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিক্স খাতেও দেশটিকে বিশ্বসেরা হওয়ার দৌড়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
মহোজের ১০ ড্রোন
যেভাবে ড্রোনের মাধ্যমে যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিল ইরান

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আতঙ্কের আরেক নাম ‘ইরানি ড্রোন’। কয়েক দশক ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা একটি দেশ কীভাবে ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ্বের শীর্ষ শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তা এখন সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছে এক বিস্ময়। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি—সবখানেই এখন ইরানের তৈরি ড্রোনের জয়জয়কার। খেলনা থেকে মারণাস্ত্র: এক সংগ্রামের ইতিহাস: ইরানের এই সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে। তৎকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল ইরানের বিমানবাহিনী খুচরা যন্ত্রাংশের অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছিল। অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ে ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থী মিলে প্রথম ড্রোনের পরিকল্পনা করেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, তাদের প্রথম তৈরি ড্রোনটির জ্বালানি ট্যাংক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল মেডিকেল আইভি ব্যাগ (IV Bag), আর পাখা ছিল হাতে তৈরি। যুদ্ধের ব্যাকরণ পরিবর্তন: ইরানি সামরিক কৌশলের মূল ভিত্তি হলো—কম খরচে শত্রুর দামী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কুপোকাত করা। যেখানে একটি অত্যাধুনিক ক্রুজ মিসাইলের দাম ২০ লাখ ডলার, সেখানে একটি ইরানি ড্রোন তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ২০ হাজার ডলার। কিন্তু যখন ঝাঁকে ঝাঁকে ১০০টি ড্রোন পাঠানো হয়, তখন সেগুলোকে ধ্বংস করতে প্রতিপক্ষকে ব্যয় করতে হয় কয়েকশ কোটি ডলার। এই অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপই ইরানকে ড্রোন যুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। বৈশ্বিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ: ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হাতে ইরানি ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের উপস্থিতি বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয়। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় হামলা ড্রোনের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে, যেখানে অত্যাধুনিক মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ব্যর্থ হয়েছিল। আজ ইরান এমন সব ড্রোন তৈরি করছে যা হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দীর্ঘ চার দশকের ধৈর্য আর উদ্ভাবনী চিন্তার ফসল হিসেবে ইরান আজ ড্রোন প্রযুক্তিতে এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মেটা-আলিবাবাকে টেক্কা দিতে হুয়াওয়ের নতুন চমক এআই স্মার্ট গ্লাস

বিশ্বের প্রযুক্তি বাজারে নিজেদের আধিপত্য আরও সুসংহত করতে হুয়াওয়ে (Huawei) নিয়ে এলো তাদের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) চালিত স্মার্ট চশমা। মেটা (Meta), আলিবাবা (Alibaba) এবং রকিড (Rokid)-এর মতো জায়ান্টদের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতেই হুয়াওয়ের এই নতুন সংযোজন।  সোমবার চীনে আয়োজিত 'পুরা' (Pura) সিরিজ লঞ্চ ইভেন্টে হুয়াওয়ের টার্মিনাল বিজি-এর সিইও হে গ্যাং এই চশমাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন। হুয়াওয়ের এই এআই চশমাটি কেবল ফ্যাশনেবল নয়, এতে রয়েছে আধুনিক সব প্রযুক্তি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে হুয়াওয়ের নিজস্ব তৈরি এআই চিপ, যা অত্যন্ত দ্রুত ভয়েস কমান্ডের উত্তর দিতে সক্ষম। ১. ক্যামেরা ও লাইভ স্ট্রিমিং: এতে রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, যা দিয়ে প্রথম পারসন ভিউ (First-person perspective) থেকে ছবি তোলা এবং সরাসরি লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে। ২. রিয়েল-টাইম অনুবাদ: ভ্রমণের সময় বা মিটিংয়ে তাৎক্ষণিক ভাষা অনুবাদের সুবিধা মিলবে এই চশমায়। ৩. অসাধারণ ব্যাটারি লাইফ: মেটা-র চশমাকে ব্যাটারির দিক থেকে হুয়াওয়ে বেশ পেছনে ফেলেছে। একবার চার্জ দিলে এটি ১২ ঘণ্টা সাধারণ ব্যবহার এবং টানা ৯ ঘণ্টা মিউজিক শোনার সুবিধা দেয়। ৪. ডিজাইন ও ওজন: এভিয়েশন গ্রেড টাইটানিয়াম হিঞ্জ এবং ওজনে মাত্র ৩৫.৫ গ্রাম হওয়ায় এটি দীর্ঘক্ষণ পরতে কোনো অস্বস্তি হবে না। ৫. পেমেন্ট সুবিধা: চশমা পরে কিউআর কোড স্ক্যান করে আলিপে (Alipay)-র মাধ্যমে সরাসরি পেমেন্ট করার ফিচার যুক্ত করা হয়েছে এতে। দাম ও সহজলভ্যতা:চীনে এই চশমাটির দাম শুরু হয়েছে ২,৪৯৯ ইউয়ান (প্রায় ৩৬৭ মার্কিন ডলার) থেকে। এটি তিনটি রঙে—টাইটানিয়াম সিলভার গ্রে, শিমারিং সিলভার এবং মডার্ন ব্ল্যাক কালারে পাওয়া যাবে। ২০শে এপ্রিল থেকে এর প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে এবং ২৫শে এপ্রিল থেকে পুরোদমে বিক্রি শুরু হবে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুদ্ধজাহাজে সস্তা 'কাগজের অ্যান্টেনা': ৫জি প্রযুক্তিতে বড় বিপ্লবের পথে চীন

সমুদ্রসীমায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এক অভিনব এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চীন। চীনা গবেষকরা সাধারণ ফটোগ্রাফিক পেপার বা ছবির কাগজে তৈরি এক বিশেষ ধরনের ৫জি অ্যান্টেনা তৈরি করেছেন, যা দেশটির যুদ্ধজাহাজগুলোতে বড় আকারের নেটওয়ার্ক আপগ্রেডের পথ প্রশস্ত করছে। দক্ষিণ চীন মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। লিয়াওনিং ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক ইয়াং ওয়েনডংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথাগত অ্যান্টেনার তুলনায় এই কাগজের অ্যান্টেনা তৈরিতে খরচ কমবে প্রায় ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে যুদ্ধজাহাজগুলোতে উচ্চগতির ৫জি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং জটিল। কিন্তু এই নতুন 'পেপার অ্যান্টেনা' প্রযুক্তি সেই চিত্র বদলে দিতে পারে। কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? গবেষকরা ০.৩ মিলিমিটারের চেয়েও পাতলা সাধারণ গ্লসি ফটো পেপারকে সাবস্ট্রেট হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এর ওপর তামার কালির (Copper Ink) প্রলেপ দিয়ে একটি কন্ডাক্টিভ লেয়ার বা পরিবাহী স্তর তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যান্টেনাগুলো অত্যন্ত নমনীয় এবং ওজনে হালকা। এটি ৫জি মিলিমিটার-ওয়েভ কমিউনিকেশনের জন্য উপযুক্ত এবং যুদ্ধজাহাজের মতো জটিল পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে সক্ষম। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী: প্রথাগত মাইক্রোওয়েভ সাবস্ট্রেটগুলো যেমন দামী, তেমনি সেগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কিন্তু কাগজের তৈরি এই অ্যান্টেনাগুলো পচনশীল বা বায়োডিগ্রেডেবল। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় 'লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি' বা প্রান্তিক সংযোগ নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের যুদ্ধজাহাজে আধুনিক ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করছে। সেখানে চীনের এই 'লো-কস্ট' বা সস্তা মডেলটি বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সমুদ্রের মাঝখানে যুদ্ধজাহাজ থেকে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ, রিয়েল-টাইম ডেটা ট্রান্সমিশন এবং কমান্ড অপারেশন আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
স্থলপথেই ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ চীনের! ড্রোন চার্জ হবে মহাকাশ থেকে আসা অদৃশ্য রশ্মিতে

বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও বাস্তবে এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চীনের বিজ্ঞানীরা, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার এবং সক্ষমতাকে আমূল বদলে দিতে পারে। সমুদ্রের বিশাল রণতরী বা ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ নয়, বরং এবার তারা তৈরি করেছে ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ বা স্থলচর যুদ্ধজাহাজ। এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো—এই যানটি উড়ন্ত ড্রোনকে কোনো তার ছাড়াই মাঝ-আকাশে চার্জ করতে সক্ষম! সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা বিজ্ঞানীরা এমন এক শক্তিশালী ‘মাইক্রোওয়েভ বিম’ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করেছেন, যা দিয়ে মাটিতে থাকা যান থেকে আকাশে উড়তে থাকা ড্রোনে বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে। ফলে ড্রোনগুলোকে চার্জ দেওয়ার জন্য আর নিচে নামতে হবে না। তারা দীর্ঘ সময় বা প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকাল ধরে আকাশে উড়তে পারবে। কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? সাধারণত ড্রোনগুলোর ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে সেগুলোকে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু চীনের এই নতুন সিস্টেমে স্থলভাগের বিশেষ ট্রাক বা বাহন থেকে উচ্চশক্তির মাইক্রোওয়েভ রশ্মি ড্রোনের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। ড্রোনে থাকা বিশেষ রিসিভার সেই রশ্মিকে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর করে ব্যাটারি চার্জ করে নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ড্রোনের স্থায়িত্বই বাড়াবে না, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদী হামলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর আগে ড্রোনের পাল্লা সীমিত থাকলেও, এই প্রযুক্তির ফলে ড্রোনগুলো শত শত মাইল দূরে থেকেও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারবে। চীনের এই উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে সামরিক বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বর্তমান যুগের ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ বা ড্রোন যুদ্ধের কৌশল এই এক উদ্ভাবনের ফলে পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মানুষকে ছাড়িয়ে গেল যন্ত্রমানব: বেইজিং হাফ-ম্যারাথনে হিউম্যানয়েড রোবটের বিশ্বরেকর্ড

প্রযুক্তির দৌড়ে এবার রক্ত-মাংসের মানুষকে পেছনে ফেলে দিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র। চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক হাফ-ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় বিশ্বরেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়েছে একটি ‘হিউম্যানয়েড’ বা মানবসদৃশ রোবট। মানুষের গড়া বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুততম সময়ে ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে এই চীনা উদ্ভাবন। রোববার বেইজিং ইকোনমিক-টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এরিয়াতে (বেইজিং ই-টাউন) আয়োজিত এই বিশেষ দৌড় প্রতিযোগিতায় চিনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অনার’ (Honor)-এর তৈরি একটি রোবট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২১ কিলোমিটার বা ১৩ মাইলের এই পথ পাড়ি দিতে রোবটটি সময় নিয়েছে মাত্র ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ড। বর্তমানে হাফ-ম্যারাথনে মানুষের দ্রুততম সময়ের বিশ্বরেকর্ডটি উগান্ডার অ্যাথলেট জ্যাকব কিপ্লিমোর দখলে। ২০২১ সালে লিসবনে তিনি ৫৭ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে এই দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন। বেইজিংয়ের এই রোবটটি কিপ্লিমোর চেয়েও প্রায় ৭ মিনিট কম সময়ে দৌড় শেষ করে প্রযুক্তির অভাবনীয় সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজকরা জানান, অংশ নেওয়া রোবটগুলোর মধ্যে ৪০ শতাংশ সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিতভাবে (Autonomously) পথ খুঁজে দৌড়েছে, বাকিগুলো রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। তবে বিজয়ী রোবটটি নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করেই এই সাফল্য পেয়েছে। অবশ্য পুরো প্রতিযোগিতাটি নিখুঁত ছিল না। দৌড় শুরুর লাইনেই একটি রোবট আছড়ে পড়ে এবং অন্য একটি রোবট বেরিয়ারে ধাক্কা খায়। তা সত্ত্বেও গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা। উপস্থিত দর্শক সান ঝিগ্যাং বলেন, "গত বছরের তুলনায় এবার রোবটদের বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। রোবট মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে এটা আগে কখনো কল্পনাও করিনি।" উল্লেখ্য, চীন বর্তমানে রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ২০২৬-২০৩০ সালের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বেইজিং। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অমডিয়া’র মতে, বর্তমানে চীনের এজিবট (AGIBOT) ও ইউনিট্রির (Unitree) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে হাজার হাজার হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করছে, যা এই খাতে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রোবো-ডাইভিং স্যুট, সমুদ্রের গভীরে দীর্ঘক্ষণ থাকার নতুন প্রযুক্তি চীনের

সমুদ্রের তলদেশে গবেষণা বা জটিল উদ্ধারকাজে ডুবুরিদের জন্য সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো অক্সিজেন। সেই সংকট কাটাতে এবার যুগান্তকারী এক রোবোটিক ডাইভিং স্যুট উদ্ভাবন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।  দাবি করা হচ্ছে, এই ‘রোবো-ডাইভিং স্যুট’ ব্যবহার করলে একজন ডুবুরি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম অক্সিজেন খরচ করে দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে অবস্থান করতে পারবেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ স্যুটটিতে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত মানের অ্যালগরিদম যা ডুবুরির প্রতিটি নড়াচড়া বা মুভমেন্টকে নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতে পারে। ফলে ডুবুরিকে সাতার কাটতে বা হাত-পা নাড়াতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয় না, যা তার শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা কমিয়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি শুধু অক্সিজেন সাশ্রয়ই করবে না, বরং গভীর সমুদ্রের প্রতিকূল পরিবেশে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমিয়ে আনবে। পানির নিচে ভারী কোনো যান্ত্রিক কাজ বা উদ্ধার তৎপরতার সময় এই রোবোটিক স্যুট ডুবুরিকে ‘শ্যাডো’ বা ছায়ার মতো সহায়তা করবে। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও ভবিষ্যতে সমুদ্র সম্পদ আহরণ এবং সামরিক ক্ষেত্রে এটি বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
দক্ষিণ আফ্রিকার মিরক্যাট রেডিও টেলিস্কোপ ওই সংকেতটি শনাক্ত করেছে।
৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে এল শক্তিশালী লেজার সংকেত, তাজ্জব বিজ্ঞানীরা!

মহাবিশ্বের অসীম রহস্যের বুক চিরে ভেসে এল এক শক্তিশালী সংকেত। প্রায় ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে আসা এই 'মেগা লেজার' রশ্মি দেখে রীতিমতো বিস্মিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার 'মিরক্যাট' (MeerKAT) রেডিও টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাধারণত মহাকাশে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় যেকোনো সংকেত ক্রমশ দুর্বল হয়ে একসময় মিলিয়ে যায়। কিন্তু এই সংকেতটি তার উজ্জ্বলতা ও তীব্রতা বজায় রেখে পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে, যা প্রচলিত অনেক বৈজ্ঞানিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই শক্তিশালী রশ্মিটি আসলে একটি ‘হাইড্রক্সিল মেগামেসার’। মহাকাশে দুটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে যখন গ্যাস সংকুচিত হয়, তখন হাইড্রক্সিল অণুগুলো উত্তেজিত হয়ে এই ধরণের তীব্র বিকিরণ ঘটায়। তবে এবারের সংকেতটি এতটাই শক্তিশালী যে একে বিজ্ঞানীরা ‘গিগামেসার’ হিসেবে অভিহিত করছেন। কিন্তু ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকেও কেন এই সংকেত ম্লান হলো না? এর উত্তরে বিজ্ঞানীরা ‘মহাকর্ষীয় লেন্সিং’ (Gravitational Lensing)-এর কথা বলছেন। তাদের মতে, সংকেতটি আসার পথে সামনে থাকা কোনো একটি ছায়াপথ ‘আতস কাঁচের’ মতো কাজ করেছে, যা সংকেতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের টেলিস্কোপে ধরা পড়তে সাহায্য করেছে।   এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের আদি গঠন এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মহাকাশে আধিপত্যের লড়াই: ১১.৫৭ বিলিয়ন ডলারে গ্লোবালস্টার কিনছে আমাজন, টক্কর হবে মাস্কের স্টারলিংকের সাথে

মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার বাজারে এক বিশাল ধামাকা নিয়ে এলো ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন 'স্টারলিংক'-কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে ১১.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) বিনিময়ে কৃত্রিম উপগ্রহ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'গ্লোবালস্টার' (Globalstar) অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে আমাজন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চুক্তির ফলে আমাজনের উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট 'কুইপার' (বর্তমানে যা 'Amazon Leo' নামে পরিচিত) এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবালস্টারের শেয়ারহোল্ডাররা তাদের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ৯০ ডলার নগদ অর্থ অথবা আমাজনের ০.৩২১০টি সাধারণ শেয়ার গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এই চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই গ্লোবালস্টারের শেয়ারের দাম প্রাক-বাজার লেনদেনে ৯ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাপলের সাথে সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: গ্লোবালস্টার মূলত আইফোনের ‘ইমার্জেন্সি এসওএস’ ফিচারের কারিগরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। আমাজন জানিয়েছে, অধিগ্রহণের পরেও তারা অ্যাপলের সাথে বিদ্যমান চুক্তি বজায় রাখবে এবং আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচ ব্যবহারকারীদের জন্য স্যাটেলাইট সেবা আরও উন্নত করতে কাজ করবে। বর্তমানে মহাকাশভিত্তিক ইন্টারনেট বাজারে ইলন মাস্কের স্টারলিংক একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করছে। ১০ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে ৯ কোটিরও বেশি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে। অন্যদিকে, আমাজন ২০২৯ সালের মধ্যে ৩,২০০টি স্যাটেলাইট স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার অর্ধেক ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যেই কক্ষপথে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্লোবালস্টারের দুই ডজন সক্রিয় স্যাটেলাইট এবং তাদের অভিজ্ঞ দক্ষ জনবল আমাজনকে দ্রুত এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিয়ে যাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে দুর্গম এলাকাগুলোতে সরাসরি স্মার্টফোনে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বা 'ডিরেক্ট-টু-ডিভাইস' (D2D) সেবা আরও সহজলভ্য হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কন্ডোমের দিন শেষ! পুরুষদের ‘গর্ভনিরোধক’ তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা

এতদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের সিংহভাগ দায়ভার কেবল নারীদের ওপরেই বর্তাতো। তবে আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে সেই ধারায় আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। সম্প্রতি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী পুরুষদের জন্য বিশেষ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে শুক্রাণুর মূল স্টেম সেলগুলোকে কোনো প্রকার ক্ষতি না করেই সাময়িকভাবে সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।  গবেষণার প্রধান অধ্যাপক পলা কোহেনের মতে, এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ পদ্ধতি যেখানে কোনো হরমোনাল জটিলতা নেই। এই প্রক্রিয়ায় অণ্ডকোষে প্রয়োগ করা ইনজেকশন বা পিল শুক্রাণুর গতিপথকে সাময়িকভাবে স্থবির করে দেয়, যা গর্ভধারণ রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, এই পদ্ধতিটি স্থায়ী নয়। কোনো পুরুষ যদি পুনরায় সন্তান নিতে চান, তবে এই চিকিৎসা বন্ধ করার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসবে এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপরও এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সফলভাবে মানুষের ওপর প্রয়োগ করা গেলে এটি পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের আকাশে গতিবিধি শনাক্ত, এআই এর কাছে হার মানছে মার্কিন যুদ্ধবিমানও!

ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী ও গোপন ‘বি-২ স্পিরিট’ স্টিলথ বা অদৃশ্য বোমারু বিমানের গতিবিধি শনাক্ত করার দাবি করেছে একটি চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপ।  ‘জিংআন টেকনোলজি’ নামক হাংঝু-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব এআই সিস্টেম ‘জিংকি’-এর মাধ্যমে তারা কেবল এই বিমানের অবস্থানই নয়, বরং পাইলটদের কণ্ঠস্বর এবং রেডিও যোগাযোগও সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট বা আটকাতে সক্ষম হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বি-২ বোমারু বিমান বিশ্বের অন্যতম উন্নত যুদ্ধবিমান যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে পারদর্শী। কিন্তু চীনা এই কোম্পানিটির দাবি যদি সত্যি হয়, তবে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক গোপনীয়তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা শত কোটি ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে রিয়েল-টাইমে এই ট্র্যাকিং সম্পন্ন করেছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ এই দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তবে এই ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারির নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সাবমেরিন কেবল রক্ষণাবেক্ষণ: তিন দিন ধীর হতে পারে দেশের ইন্টারনেট

দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই-৫ (SEA-ME-WE-5)-এর রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে টানা প্রায় ৮০ ঘণ্টা ইন্টারনেটের গতি ধীর হতে পারে। এ সময় ব্যবহারকারীরা আংশিক সেবা বিঘ্ন বা ধীরগতির সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   বুধবার (৮ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের উদ্যোগে কুয়াকাটায় অবস্থিত এই কেবলে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম ৯ এপ্রিল রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে ১৩ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত চলবে।   এই সময় ‘ট্রাফিক অ্যাফেক্টিং’ কাজ চলায় সি-মি-উই-৫ কেবলের মাধ্যমে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ—বিশেষ করে সিঙ্গাপুরমুখী ডেটা ট্রান্সমিশন—সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।   তবে বিকল্প হিসেবে কক্সবাজারে স্থাপিত দেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই-৪ (SEA-ME-WE-4) সচল থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে আংশিকভাবে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে।   বিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে দ্রুত স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা হিউম্যানয়েড রোবট বাজারে আনল চীন: পাওয়া যাচ্ছে আলিবাবাতেও!

প্রযুক্তি বিশ্বে রীতিমতো তোলপাড় ফেলে দিয়েছে চীনা রোবোটিক্স স্টার্টআপ 'ইউনিট্রি' (Unitree)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সর্বাধুনিক হিউম্যানয়েড বা মানুষের মতো দেখতে 'জি১' (G1) মডেলের রোবটটি এখন বৈশ্বিক বাজারে উন্মুক্ত করেছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, বিশালাকার এই রোবটটি এখন ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার সাইট থেকেও সরাসরি কেনা যাচ্ছে।  উন্নত প্রযুক্তির এই রোবটটির দাম রাখা হয়েছে মাত্র ১৬,০০০ ডলার (প্রায় ১৯ লাখ টাকা), যা এই ধরনের রোবটের বাজারে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সর্বনিম্ন। ইউনিট্রি জি১ রোবটটি উচ্চতায় প্রায় ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং এটি অত্যন্ত নমনীয়ভাবে চলাফেরা করতে সক্ষম। এটি কেবল হাঁটতে বা দৌড়াতেই পারে না, বরং মানুষের মতো হাত ব্যবহার করে বিভিন্ন সূক্ষ্ম কাজ যেমন—জিনিসপত্র ধরা, রান্নায় সাহায্য করা বা ভারী কিছু বহন করতেও পারদর্শী। এমনকি এটি কোনো বাধা পেলে বা পড়ে গেলে নিজে থেকেই ভারসাম্য রক্ষা করে উঠে দাঁড়াতে পারে।  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত এই রোবটটি মূলত সাধারণ ব্যবহারকারী এবং গবেষকদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে। আলিবাবার মতো প্ল্যাটফর্মে এটি পাওয়া যাওয়ার অর্থ হলো, এখন থেকে উন্নত রোবট প্রযুক্তি কেবল বড় ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যবিত্তের নাগালে টেসলা: আসছে ছোট ও সাশ্রয়ী নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি

ইলেকট্রিক গাড়ির জগতে বিপ্লব ঘটানো ইলন মাস্কের কোম্পানি টেসলা এবার সাধারণ গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন একটি প্রজেক্টে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এই নতুন মডেলটি হবে একটি কমপ্যাক্ট এসইউভি (SUV), যা বর্তমানে বাজারে থাকা টেসলার জনপ্রিয় মডেল ‘মডেল ওয়াই’ (Model Y) এর চেয়ে আকারে ছোট হবে।  ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৪.২৮ মিটার। দীর্ঘদিন ধরে সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ির জন্য টেসলা ভক্তরা অপেক্ষায় থাকলেও মাঝে রোবোট্যাক্সি এবং হিউম্যানয়েড রোবট প্রজেক্টের দিকে বেশি নজর দিয়েছিল কোম্পানিটি। তবে সম্প্রতি আবারও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গাড়ি আনার পরিকল্পনা শুরু করেছে তারা।  এই নতুন মডেলটির উৎপাদন মূলত চীনে শুরু হবে, তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের কারখানাতেও এটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কম্পোনেন্ট এবং যন্ত্রাংশ নিয়ে ইতিমধ্যেই সরবরাহকারীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে টেসলা কর্তৃপক্ষ।  যদিও এর আগে ২৫ হাজার ডলার মূল্যের একটি সাশ্রয়ী মডেলের প্রজেক্ট স্থগিত করা হয়েছিল, তবে বর্তমান বাজারের প্রতিযোগিতা এবং ইলেকট্রিক গাড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনা করে টেসলা এই নতুন পথে হাঁটছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মেটার বড় চমক: বাজারে এল প্রথম সুপারইন্টেলিজেন্স এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা প্ল্যাটফর্মস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দৌড়ে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বহুল আলোচিত ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ টিম কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রথম এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ (Muse Spark) উন্মোচন করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল ও ওপেনএআই-কে টেক্কা দিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই বিশেষ টিম গঠন করেছিলেন মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ। নতুন এই মডেলটি মেটার অভ্যন্তরীণ 'অ্যাভোকাডো' (Avocado) সিরিজের অংশ। শেয়ার বাজারে উল্লম্ফন: এই ঘোষণার পরপরই মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে মেটার বিশাল বিনিয়োগ আদৌ কোনো ফল দেবে কি না—বিনিয়োগকারীদের এমন সংশয় দূর করতেই এই দ্রুত ঘোষণা। কী থাকছে মিউজ স্পার্কে? মেটা জানিয়েছে, মিউজ স্পার্ক মডেলটি আকারে ছোট ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হলেও এটি বিজ্ঞান, গণিত এবং স্বাস্থ্যের মতো জটিল বিষয়ে যুক্তিনির্ভর উত্তর দিতে সক্ষম। ব্যবহারকারী সুবিধা: ব্যবহারকারীরা কোনো খাবারের ছবি তুলে সেটির ক্যালরি নির্ণয় করতে পারবেন। এছাড়া অগমেন্টেড রিয়ালিটির মাধ্যমে কোনো পণ্য (যেমন মগ বা আসবাবপত্র) ঘরের কোথায় কেমন দেখাবে, তাও এই এআই-এর মাধ্যমে দেখা সম্ভব হবে। ইন্টিগ্রেশন: প্রাথমিকভাবে এটি ‘মেটা এআই’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেটার স্মার্ট গ্লাসে থাকা বিদ্যমান ল্লামা (Llama) মডেলের স্থলাভিষিক্ত হবে এই ‘মিউজ স্পার্ক’। ব্যয়বহুল প্রতিভা সংগ্রহ: উল্লেখ্য যে, এই সুপারইন্টেলিজেন্স টিমটি গঠন করতে মেটা গত বছর স্কেল এআই-এর সিইও অ্যালেক্স ওয়াংকে ১৪.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়। এছাড়া নামী প্রকৌশলীদের শত মিলিয়ন ডলারের স্যালারি প্যাকেজ দিয়ে নিজেদের দলে ভিড়িয়েছিল মেটা। জাকারবার্গের বক্তব্য: এ বিষয়ে মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, “এই মডেলটি আমাদের অগ্রগতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি। এটি প্রমাণ করে যে আমরা কত দ্রুত উদ্ভাবনের পথে হাঁটছি। চলতি বছরেই আমরা আরও উন্নত এবং শক্তিশালী মডেল নিয়ে আসব।” প্রযুক্তিবিদদের মতে, ‘মিউজ স্পার্ক’-এর মাধ্যমে মেটা মূলত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যা তাদের ৩.৮ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আমূল বদলে দিতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ হচ্ছে গ্রিসে

কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ডিজিটাল আসক্তি কমাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে গ্রিস। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশটিতে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস এই ঘোষণা দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মিতসোতাকিস ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ, অনিদ্রা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর আসক্তি সৃষ্টিকারী ডিজাইনের কথা উল্লেখ করে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশে সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব এখন আর উপেক্ষা করার মতো নয়। গ্রিস সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আধুনিক বিশ্বে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিষণ্নতা ও একাকীত্ব বাড়ার অন্যতম কারণ হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা। বিশেষ করে প্ল্যাটফর্মগুলোর 'অ্যালগরিদম' শিশুদের দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে আটকে রাখে, যা তাদের স্বাভাবিক সামাজিক জীবন ও শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটায়। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য গ্রিস সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের শুরু থেকে টেক জায়ান্ট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের কঠোর নিয়ম মানতে হবে। ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ যাতে অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর। প্রধানমন্ত্রী মিতসোতাকিস আরও জানান, এটি কেবল একটি আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং একটি সামাজিক সচেতনতার ডাক। তিনি অভিভাবকদের এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত হওয়ার এবং শিশুদের ডিজিটাল বিশ্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানান। এর আগে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা করলেও গ্রিসের এই সিদ্ধান্তকে এখন পর্যন্ত অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই আইনটি বাস্তবায়িত হলে গ্রিস হবে ইউরোপের প্রথম দেশগুলোর একটি, যারা সরাসরি নির্দিষ্ট বয়সসীমার নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মহাকাশ থেকে বিদ্যুৎ ও শক্তিশালী অস্ত্র: চীনের নতুন সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল চীন। বেইজিংয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি নতুন প্রজন্মের স্পেস সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের (SSPP) নকশা প্রকাশ করেছেন। তবে এই প্রকল্প কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর নেপথ্যে থাকা বিশাল সামরিক সক্ষমতা বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। কী এই নতুন প্রযুক্তি? চীনের গবেষকদের দাবি অনুযায়ী, এই বিশালাকার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থান করবে এবং সূর্যের আলো থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তি সংগ্রহ করবে। সংগৃহীত এই শক্তি মাইক্রোওয়েভ বা লেজারের মাধ্যমে সরাসরি পৃথিবীতে অবস্থিত রিসিভার স্টেশনে পাঠানো হবে। মেঘ, বৃষ্টি বা রাত—কোনো কিছুই এই বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাধা হতে পারবে না, ফলে এটি হবে অবিরাম শক্তির উৎস। সামরিক সক্ষমতা ও উদ্বেগের কারণ: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তি কেবল সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ দেবে না, বরং এটি মহাকাশ থেকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তি বা এনার্জি বিম নিক্ষেপ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে শত্রুদেশের রাডার ব্যবস্থা অকেজো করে দেওয়া, স্যাটেলাইট ধ্বংস করা বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করা সম্ভব হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে একটি 'মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র' হিসেবেও কাজ করতে পারে, যা লেজার ওয়েপন বা মাইক্রোওয়েভ পালস ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দিতে সক্ষম। প্রকল্পের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ: যদিও এই বিশাল স্থাপনা মহাকাশে তৈরি করা এবং সেখান থেকে নিরাপদে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ পাঠানো একটি অত্যন্ত জটিল প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ, তবুও চীনের বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাসী। তারা মনে করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে। এই প্রকল্পটি সফল হলে চীন জ্বালানি খাতে যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, তেমনি মহাকাশ যুদ্ধ বা 'স্পেস ওয়ারফেয়ার'-এ অপরাজিত শক্তিতে পরিণত হবে। আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশগুলোও এখন চীনের এই 'মহাকাশ বিদ্যুৎ কেন্দ্র' প্রকল্পের গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে মহাকাশ দখলের এই লড়াই এখন কেবল বিজ্ঞানের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি রণকৌশলের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের এই নতুন পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি
আমেরিকা

বাংলাদেশের সার্টিফিকেট দিয়ে কি যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা যায়? যা জানা জরুরি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0