- প্রচ্ছদ
- Topic
প্রযুক্তি
স্মার্টফোন এখন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। খবর জানা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, কাজের সমন্বয় কিংবা নানা প্রয়োজনীয় কাজ—সবকিছুতেই স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এর পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারের একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে তারা যতটা ঘুম পেতেন, তার চেয়ে কম ঘুম পাচ্ছেন। বিপরীতে মাত্র ৫ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আর ৪৬ শতাংশের মতে, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের ওপর তেমন কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান ট্রেন্ডস প্যানেল-এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের ২৬ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। এতে অংশ নেন ৯ হাজার ৭৫০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক। বয়সভেদে স্মার্টফোনের প্রভাবের পার্থক্য বেশ স্পষ্ট। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৫২ শতাংশ। ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ একই কথা বলেছেন। শুধু ঘুম নয়, স্মার্টফোন কাজের উৎপাদনশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়েছে। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৪৩ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৮ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ১৫ শতাংশ। মানসিক অবস্থার ক্ষেত্রে অবশ্য চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। জরিপে ২২ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিপরীতে ১৮ শতাংশ বলেছেন, এটি তাদের মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় অংশ, ৫১ শতাংশ, বলেছেন স্মার্টফোন তাদের মেজাজে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো প্রভাবই ফেলে না। স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় নিয়েও অনেক মার্কিনের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জরিপে ৫৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, তারা স্মার্টফোনে যতটা সময় কাটান, তা তাদের কাছে অতিরিক্ত মনে হয়। ৩৬ শতাংশ বলেছেন, তারা যে পরিমাণ সময় ফোন ব্যবহার করেন তা মোটামুটি ঠিক আছে। মাত্র ৩ শতাংশ মনে করেন, তারা স্মার্টফোনে খুব কম সময় কাটান। এ ক্ষেত্রেও তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহারের অনুভূতি সবচেয়ে বেশি। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের প্রায় ৭০ শতাংশ মনে করেন, তারা স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছেন। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৬৪ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ। তবে স্মার্টফোনকে মার্কিনরা শুধু নেতিবাচকভাবেই দেখছেন না। বরং এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথাও উঠে এসেছে জরিপে। প্রায় ৭৩ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন ও তথ্যসমৃদ্ধ থাকতে সাহায্য করে। আর ৫১ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে মাত্র ৩ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোনের কারণে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে দূরে থাকেন। ১২ শতাংশ মনে করেন, ফোনের কারণে অন্য মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থাৎ, স্মার্টফোন মানুষের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি কিছু সমস্যাও তৈরি করছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহার, ঘুমের ঘাটতি এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ তুলনামূলক বেশি। জরিপের ফলাফল বলছে, স্মার্টফোনের সুবিধা মানুষ স্বীকার করলেও এর ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ে অনেকেই এখন নতুন করে ভাবছেন।
রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে দিয়ে বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়া এখন খুবই সাধারণ অভ্যাস। বিশেষ করে দ্রুতগতির চার্জিং প্রযুক্তির কারণে অনেক ফোন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরোপুরি চার্জ হয়ে যায়, অথচ ব্যবহারকারী ঘুম থেকে ওঠা পর্যন্ত সেটি বিদ্যুৎ সংযোগে থাকে। এতে ফোনের ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয় কি না, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এর উত্তর আগের তুলনায় কিছুটা বদলেছে। বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ স্মার্টফোনে দীর্ঘ সময় চার্জে থাকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে একটি আধুনিক ফোনকে সাধারণভাবে রাতভর চার্জে রাখা মানেই ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাবে, এমনটা বলা যায় না। উদাহরণ হিসেবে, আইফোন পুরোপুরি চার্জ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিং নিয়ন্ত্রণ করে এবং অপ্টিমাইজড ব্যাটারি চার্জিং চালু থাকলে দীর্ঘ সময় সংযুক্ত থাকার পরিস্থিতিতে প্রায় ৮০ শতাংশের পর চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে স্থগিত করে, পরে ব্যবহারকারীর স্বাভাবিক ব্যবহারের সময়ের কাছাকাছি গিয়ে পূর্ণ চার্জ সম্পন্ন করে। গুগলের পিক্সেল ফোনেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। অ্যাডাপটিভ চার্জিং ব্যবহারকারীর চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বুঝে দীর্ঘ সময় ফোন চার্জে থাকলে ১০০ শতাংশে পৌঁছানোর সময়টি পিছিয়ে দিতে পারে। আবার কিছু পিক্সেল মডেলে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমিত করার সুযোগও রয়েছে। গুগলের মতে, যারা সাধারণত দিনের শেষে ফোনে কিছুটা চার্জ অবশিষ্ট রাখেন, তাদের জন্য এই সীমা ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিতে সহায়ক হতে পারে। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি ফোনেও ব্যাটারি সুরক্ষার জন্য একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। সাম্প্রতিক সফটওয়্যার সংস্করণে ব্যাটারি সুরক্ষা ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ চার্জের সীমা নির্ধারণ করতে পারেন। নতুন কিছু গ্যালাক্সি ফোনে ৮০, ৮৫, ৯০ বা ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সীমা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার ঘুমের সময় চার্জ প্রায় ৮০ শতাংশে থামিয়ে ব্যবহারকারীর জেগে ওঠার আগে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে মডেল ও সফটওয়্যার সংস্করণ অনুযায়ী ফিচারের নাম ও সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। ব্যাটারির আয়ু নিয়ে মূল বিষয়টি হলো লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির স্বাভাবিক রাসায়নিক ক্ষয়। ফোনের ব্যাটারি অসংখ্যবার চার্জ ও ব্যবহারের পর ধীরে ধীরে তার আগের সক্ষমতা হারায়। দীর্ঘ সময় ব্যাটারিকে পুরোপুরি চার্জ অবস্থায় রাখা এবং নিয়মিতভাবে শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আবার পুরো ১০০ শতাংশে চার্জ করার অভ্যাস ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। এ কারণে নির্মাতারা এখন ব্যবহারকারীদের জন্য চার্জ সীমা ও স্মার্ট চার্জিংয়ের মতো বিকল্প দিচ্ছে। তবে রাতে ফোন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাটারির চার্জের পরিমাণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো তাপমাত্রা। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যাপলও জানিয়েছে, অতিরিক্ত গরম পরিবেশে ফোন চার্জ করলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা বেশি হলে ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ ধীর বা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পারে। এই কারণেই রাতে ফোন চার্জে দেওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি এড়িয়ে চলা উচিত, সেটি হলো ফোনকে বালিশ, কম্বল বা বিছানার চাদরের নিচে রেখে দেওয়া। এসব জায়গায় ফোন ও চার্জার থেকে উৎপন্ন তাপ সহজে বের হতে পারে না। অ্যাপলের নিরাপত্তা নির্দেশনাতেও চার্জের সময় ফোন, চার্জার ও ওয়্যারলেস চার্জারকে ভালোভাবে বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং বালিশ বা কম্বলের নিচে রেখে চার্জ না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফোনকে গরম গাড়ির ভেতর বা সরাসরি রোদে রেখেও চার্জ দেওয়া উচিত নয়। অ্যাপলের নির্দেশনা অনুযায়ী, আইফোন সাধারণভাবে ০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরিবেশে ব্যবহারের জন্য তৈরি। অতিরিক্ত গরম পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকলে ব্যাটারির আয়ু স্থায়ীভাবে কমে যেতে পারে। ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে নিরাপত্তার জন্য চার্জিং সাময়িকভাবে বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তাহলে কি প্রতিদিন রাতে ফোন চার্জে রেখে ঘুমানো যাবে? আধুনিক স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে তা করা যায়। বিশেষ করে ফোনে যদি অপ্টিমাইজড বা অ্যাডাপটিভ চার্জিং সুবিধা থাকে, সেটি চালু করে রাখা ভালো। যারা প্রতিদিন ১০০ শতাংশ চার্জের প্রয়োজন অনুভব করেন না, তারা নিজেদের ফোনে চার্জ সীমা নির্ধারণের সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে বা ভ্রমণের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী পুরো চার্জ নেওয়া স্বাভাবিকভাবেই যুক্তিযুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফোন ও চার্জারকে অতিরিক্ত গরম হতে না দেওয়া। চার্জ দেওয়ার সময় ফোনকে বালিশ বা কম্বলের নিচে না রাখা, সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা এবং ভালো বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় চার্জ দেওয়া নিরাপদ অভ্যাস। একই সঙ্গে নিজের ফোনের ব্যাটারি সেটিংসে গিয়ে স্মার্ট চার্জিং বা চার্জ সীমার সুবিধা রয়েছে কি না, সেটিও দেখে নেওয়া যেতে পারে। বর্তমান প্রযুক্তিতে তাই রাতভর ফোন চার্জে রাখার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কের প্রয়োজন নেই। বরং ফোনের নিজস্ব ব্যাটারি সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করা এবং অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলাই দীর্ঘদিন ব্যাটারি ভালো রাখার জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য কনভারসেশন, অ্যাপল, স্যামসাং ও গুগল
নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের বাইরের রং নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন ক্রেতা। তাঁদের দাবি, ফোনের পেছনের ক্যামেরা লেন্সের চারপাশে রং ফিকে হয়ে যাচ্ছে। ফোন ফেরত দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। ১৮ সেপ্টেম্বর বাজারে আসা আইফোন ১৮ প্রোর যুক্তরাষ্ট্রে শুরুর দাম ১ হাজার ১৯৯ ডলার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারগান্ডি রঙের একটি প্রো ম্যাক্সের ছবি দিয়ে এক ক্রেতা জানান, তিনটি ক্যামেরা লেন্সের চারপাশের অংশ মূল রঙের তুলনায় হালকা ও গোলাপি দেখাচ্ছে। সেখানে ময়লা বা আঁচড় নেই এবং পরিষ্কার করার পরও রঙের পার্থক্য দূর হয়নি বলে তাঁর দাবি। আরও কয়েকজন ব্যবহারকারী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কালো রঙের মডেল নিয়েও অভিযোগ এসেছে। তবে ফোনের রং স্থায়ীভাবে বদলে যাচ্ছে, নাকি ক্যামেরার আশপাশের উপরিভাগে অন্য কোনো কারণে রঙের পার্থক্য দেখা দিচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কতটি ফোনে এমন হয়েছে বা নির্দিষ্ট কোনো উৎপাদন ব্যাচে সমস্যা রয়েছে কি না, সে তথ্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে অ্যাপল এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। এর আগে আইফোন ১৭ প্রোর কমলা রঙের কিছু ফোন গোলাপি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় রং বসানোর পর অ্যালুমিনিয়ামের উপরিভাগ সিল করার প্রক্রিয়া নিয়ে সম্ভাব্য প্রশ্ন তুলেছিল প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম অ্যাপলইনসাইডার। কিন্তু নতুন আইফোনের অভিযোগের পেছনেও একই কারণ রয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অ্যাপলের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আইফোন ১৮ প্রোর ক্যামেরার আশপাশের বিশেষ উপরিভাগে অন্য জিনিসের উপাদান লেগে কখনো দাগের মতো দেখাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে তা পরিষ্কার করা যায়। তবে ছবিসহ অভিযোগ করা ক্রেতা জানিয়েছেন, তাঁর ফোনে পরিষ্কার করার পরও পার্থক্য রয়ে গেছে। ফোনটি পরীক্ষা ছাড়া তাঁর অভিযোগের কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি অ্যাপল থেকে কেনা পণ্য হাতে পাওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে নির্ধারিত শর্তে ফেরত বা বদলের সুযোগ রয়েছে। অন্য বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে সেই প্রতিষ্ঠানের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। রং পরিবর্তন ওয়ারেন্টির আওতায় পড়বে কি না, তা নির্ভর করবে অ্যাপলের পরীক্ষায় উৎপাদনগত ত্রুটি পাওয়া যায় কি না তার ওপর।
বিজ্ঞান কল্পকাহিনির দৃশ্য এখন ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বে এরিয়ায় এবার রোবট দিয়ে ঘর পরিষ্কারের সেবা চালু হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিং স্টার্টআপ টাউ রোবোটিকস ঘণ্টায় ৩০ ডলারে এই সেবা দিচ্ছে। এই সেবায় হিউম্যানয়েড রোবট ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ভ্যাকুয়াম করা, জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা, ময়লা পরিষ্কার ও বিভিন্ন জায়গা মুছে দেওয়ার মতো কাজ করে। নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি রোবটগুলো গভীর পরিষ্কারের কাজও করতে পারে। এর মধ্যে বেসবোর্ডের জমে থাকা ধুলো পরিষ্কার, টাইলসের ফাঁকের ময়লা ঘষে তোলা এবং রান্নাঘরের যন্ত্রপাতির নিচে ও পেছনে পরিষ্কার করার মতো কাজ রয়েছে। হাত, পা ও মাথায় রোবোটিক ক্যামেরা থাকা এসব মেশিনকে গ্রাহকের ঘরের পরিবেশ ও পছন্দ অনুযায়ী কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালেক্স কখ জানিয়েছেন, সেবাটি চালুর পর থেকেই মানুষের আগ্রহ বেশ শক্তিশালী। তবে আপাতত এই সেবা শুধু সান ফ্রান্সিসকোর বাড়িগুলোতে দেওয়া হচ্ছে। তাও আবার আমন্ত্রণের ভিত্তিতে। বর্তমানে প্রতিটি ক্লিনিং সেশন সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার জন্য নির্ধারিত। কোম্পানির ভাষ্য, সীমিত সক্ষমতার কারণে চাহিদা ও গ্রাহকের অবস্থান নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপাতত ইনভাইট কোড ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রোবটগুলো এখনো পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। প্রতিটি রোবটকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি দূরে থাকা একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর নিয়ন্ত্রণ করেন। ভ্যাকুয়াম করা, ময়লা ফেলা, ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা কিংবা মেঝের বাইরের কোনো জায়গায় পড়ে থাকা তরল পরিষ্কারের মতো কাজও তারা করতে পারে। টাউ রোবোটিকসের কাছে বর্তমানে মোট আটটি হিউম্যানয়েড রোবট রয়েছে। তবে এর বেশির ভাগই এখনো উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে সান ফ্রান্সিসকোর কয়েকটি রোবট ক্লিনারের আলাদা বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরা হয়েছে। যেমন, ‘চেলসি’ রান্নাঘর ও বাথরুম পরিষ্কারে দক্ষ। ‘ইলন’ নিয়মিতভাবে মিশন ও নোয়ে ভ্যালি এলাকায় সাপ্তাহিক পরিষেবায় যায়। আর ‘টনি’ মূলত গভীর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে এই সেবার সঙ্গে বড় একটি গোপনীয়তার বিষয়ও জড়িত। রোবটগুলোর মাথা ও দুই কবজিতে একাধিক ক্যামেরা রয়েছে। পরিষ্কার করার সময় একজন প্রশিক্ষিত মানব অপারেটর দূর থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করেন এবং সরাসরি ক্যামেরার ভিডিও দেখতে পারেন। কোম্পানি জানিয়েছে, এসব ভিডিও শুধু পরিষ্কার করার কাজের জন্য নয়, ভবিষ্যতে রোবটকে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই কাজ করানোর জন্য এআই মডেল প্রশিক্ষণেও ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ গ্রাহকের ঘরের ভিডিওই তাদের প্রশিক্ষণ ডেটার অংশ। কোম্পানির দাবি, ভিডিওতে থাকা মানুষের মুখও আনব্লার অবস্থায় থাকতে পারে। তবে টাউ রোবোটিকস বলেছে, তারা কখনো এসব ছবি ব্যবহার করে ফেসিয়াল রিকগনিশন করবে না, ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে না এবং বিভিন্ন ভিজিটের মধ্যে মুখ মিলিয়ে দেখার জন্য কোনো ফেস টেমপ্লেট তৈরি করবে না। রোবটগুলোর মাইক্রোফোন বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। ফলে কোনো অডিও রেকর্ড হয় না। রোবটের স্পিকারের মাধ্যমে দূরের অপারেটর গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, তবে অপারেটর গ্রাহকের কথা শুনতে পারেন না। পরিষ্কার করার কাজের ভিডিও ব্যবহার করে কোম্পানি প্রতিটি কাজের রেকর্ডও তৈরি করে। সেখানে কী পরিষ্কার করা হয়েছে, কত সময় লেগেছে এবং কাজের সময় কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না—এসব তথ্য রাখা হয়। এসব সার্ভিস রেকর্ড সাত বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হয়। গোপনীয়তা রক্ষায় কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া রোবট বেডরুম বা বাথরুমে যায় না। চাইলে গ্রাহক ঘরের অন্য কোনো কক্ষ, জায়গা বা নির্দিষ্ট কোনো বস্তুতেও রোবটের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে পারেন। গ্রাহক পরিষ্কার করার পর ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধও করতে পারেন। তবে ভিডিও যদি এরই মধ্যে এআই মডেল প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়ায় চলে যায়, তখন নির্দিষ্ট কোনো ভিজিটের ভিডিও মডেল থেকে আলাদা করে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কোম্পানি। টাউ রোবোটিকস এখনো জানায়নি, কবে আমন্ত্রণভিত্তিক সেবা তুলে দেওয়া হবে। সান ফ্রান্সিসকোর বাসিন্দারা কোম্পানির ওয়েটলিস্টে ই-মেইল ও নিজেদের এলাকার তথ্য দিয়ে নাম নিবন্ধন করতে পারেন। ভবিষ্যতে শুধু ঘর পরিষ্কার নয়, বাড়ির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজেও এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বছর বে এরিয়ার আরও এলাকায় সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতেও এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণের পর কূটনৈতিক যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এআই’ শব্দের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের পাঠানো এক ইমেইলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা ওই ইমেইলে ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাইকেল ড্রেগার কর্মকর্তাদের সরকারি ডকুমেন্ট, অবস্থানপত্র ও প্রেস স্টেটমেন্টে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের নির্দেশ দেন। ইমেইলটির বিষয় ছিল—‘এআই থেকে এসআই নাম পরিবর্তন’। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত মার্কিন কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগে এখন থেকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি নিয়ে আপত্তি জানান। তার বক্তব্য ছিল, ‘আর্টিফিশিয়াল’ শব্দটি বুদ্ধিমত্তাকে কৃত্রিম বা নকল কিছু হিসেবে উপস্থাপন করে। এ কারণে তিনি ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামটি ব্যবহারের কথা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, অন্যরাও এই শব্দ ব্যবহার করবে। পরদিন ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে একটি বৈঠকেও মার্কিন প্রতিনিধিরা ‘এসআই’ শব্দ ব্যবহার করেন বলে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এই নির্দেশ পুরো মার্কিন সরকার বা পররাষ্ট্র দপ্তারের সব শাখার জন্য প্রযোজ্য কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশটি মূলত পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সংস্থাবিষয়ক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নীতিমালা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা যখন বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগে শব্দ পরিবর্তনের এই নির্দেশ সামনে এলো। তবে ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘এসআই’ ব্যবহারের বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের নামকরণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
নির্দিষ্ট কিছু আইফোন মডেলের মালিকদের জন্য সুখবর। অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট তহবিল থেকে অর্থ পেতে যোগ্য গ্রাহকরা এখন আবেদন জমা দিতে পারবেন। অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা একটি শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই অর্থ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেটেলমেন্টের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, যোগ্য আইফোন মালিকরা প্রতি ডিভাইসের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫ ডলার পেতে পারেন। তবে মোট কতজন আবেদন করেন এবং অন্যান্য কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে প্রতি ডিভাইসে অর্থের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই সেটেলমেন্টের আওতায় রয়েছে আইফোন ১৬-এর সব সংস্করণ। এর পাশাপাশি আইফোন ১৫ প্রো এবং আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্সও তালিকায় রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ফোনগুলো ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে বিক্রি করা হয়ে থাকতে হবে। তবে শুধু তালিকাভুক্ত মডেলের আইফোন থাকলেই অর্থ পাওয়া যাবে না। আবেদনকারীকে ফোনটির মূল মালিক হতে হবে এবং ডিভাইসটি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কেনা হয়ে থাকতে হবে। অর্থাৎ ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কেনা ফোন এই সেটেলমেন্টের আওতায় পড়বে না। যোগ্য আইফোন মালিকরা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন জমা দিতে পারছেন। আবেদন করার শেষ সময় ২১ ডিসেম্বর। একই সময়ের মধ্যে কেউ চাইলে শ্রেণি-অ্যাকশন মামলার অংশ না হওয়ার সিদ্ধান্তও জানাতে পারবেন। অ্যাপলের বিরুদ্ধে করা মামলাটির সূত্রপাত মূলত সিরির কিছু উন্নত ফিচার নিয়ে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, অ্যাপল এমন কিছু ফিচার নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছিল, যেগুলো তখনও ব্যবহারকারীদের জন্য চালু হয়নি। এতে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মামলার নথিতে দাবি করা হয়—ক্রেতারা যদি জানতেন যে উন্নত সিরির ফিচারগুলো ডিভাইসে পাওয়া যাবে না, তাহলে তারা সংশ্লিষ্ট আইফোন কিনতেন না অথবা এর জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম দাম দিতেন। তবে অ্যাপল কোনো ভুল স্বীকার না করেই মামলাটি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুটি অতিরিক্ত ফিচারের প্রাপ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের সমাধান করতেই তারা এই নিষ্পত্তিতে গেছে। একই সঙ্গে অ্যাপল জানিয়েছে, তারা নতুন পণ্য ও সেবা তৈরিতে মনোযোগ ধরে রাখতে চায়। সব আবেদন জমা পড়ার পর আদালতে এই সেটেলমেন্ট নিয়ে শুনানি হবে। সেটেলমেন্টটি ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত ও যথাযথ কি না, তা আদালত পর্যালোচনা করবে। বর্তমানে ওই শুনানি ২০২৭ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা রয়েছে।
মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্মার্ট চশমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে গোপনীয়তা-সংক্রান্ত আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৭০ জনের বেশি ব্যবহারকারী, ক্রেতা ও চশমার ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে করা একটি প্রস্তাবিত গণমামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এসব চশমায় ধারণ করা কিছু ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ছবি-ভিডিও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা ঠিকাদারি কর্মীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় দায়ের করা সংশোধিত মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মেটার স্মার্ট চশমার মাধ্যমে পোশাক পরিবর্তন, গোসল, শৌচাগার ব্যবহার, ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত এবং পাসওয়ার্ড প্রবেশের মতো দৃশ্য ধারণ হয়েছে। মামলাকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, চশমাটি তখন ভিডিও ধারণ করছে, তা তারা জানতেন না। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মেটা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আইনি লড়াই চালানোর কথা জানিয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার এক মামলাকারী, যাকে পিএল১৮ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, দাবি করেছেন তিনি স্মার্ট চশমা একটি বাথরুমের কাউন্টারে রেখে যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের গোসল ও বাথরুম ব্যবহারের ছবি পরবর্তী সময়ে নিজের গ্যালারিতে দেখতে পান। তাঁর দাবি, পরিবারের কেউ এসব ছবি ধারণ করার উদ্দেশ্যে চশমাটি ব্যবহার করেননি। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা ‘হে মেটা’ বলে এআই সহকারী সক্রিয় করলে চশমার ক্যামেরা ও অডিও ব্যবস্থা চালু হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চশমা অনিচ্ছাকৃতভাবেও সক্রিয় হয়েছে বলে মামলাকারীরা দাবি করেছেন। এরপর ধারণ করা তথ্য মেটার সার্ভারে পাঠানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল উন্নত করার কাজে ব্যবহারের জন্য মানব কর্মীদের কাছে পর্যালোচনার জন্য পৌঁছেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় কেনিয়ার ঠিকাদারি কর্মীদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণ ও তথ্য শ্রেণিবিন্যাসের কাজে যুক্ত কিছু কর্মী এসব চশমায় ধারণ করা ছবি ও ভিডিও পর্যালোচনা করেছেন। সুইডেনের সংবাদপত্র সুয়েনস্কা ডাগব্লাডেট ও গ্যোটেবর্গস-পোস্টেনের ফেব্রুয়ারির এক অনুসন্ধানেও কেনিয়ায় মেটার এক ঠিকাদারের কর্মীদের ব্যক্তিগত ফুটেজ পর্যালোচনার বিষয়টি উঠে এসেছিল। মামলাকারীদের আইনজীবী টিনা উলফসন বলেছেন, যারা চশমাটি কিনেছেন তারা এটিকে সাধারণ প্রযুক্তিপণ্য হিসেবেই ব্যবহার করেছেন এবং এআই সুবিধা চালু করলে ধারণ করা ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণের কাজে যেতে পারে, এমন বিষয় সম্পর্কে তারা যথেষ্ট অবগত ছিলেন না। তাঁর মতে, মামলাটি শুধু চশমা ব্যবহারকারীদের নয়, এমন ব্যক্তিদের গোপনীয়তার বিষয়ও সামনে আনছে যারা নিজেরা চশমা ব্যবহার না করেও এর ক্যামেরায় ধারণ হয়েছেন। মেটা অবশ্য বলেছে, এআই ব্যবহারের সময় কিছু তথ্য পণ্য ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার জন্য পর্যালোচনা করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পরিচয় শনাক্ত করতে পারে এমন তথ্য ফিল্টার করার চেষ্টা করা হয়। মেটার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারী নিজে মেটার সঙ্গে কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করলে সেই গণমাধ্যম সাধারণত ব্যবহারকারীর ডিভাইসেই থাকে। মামলাটির নথিতে মেটার স্মার্ট চশমার গোপনীয়তা-সংক্রান্ত প্রচারণার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, চশমাগুলোকে ব্যবহারকারীর তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও গোপনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বাজারজাত করা হলেও এআই ব্যবহারের সময় ধারণ করা তথ্য মানব কর্মীদের মাধ্যমে পর্যালোচনার বিষয়টি ক্রেতাদের কাছে যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল না। এই আইনি বিরোধের পাশাপাশি মেটার স্মার্ট চশমার সম্ভাব্য মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ ‘নেমট্যাগ’ নামে একটি সম্ভাব্য সুবিধার কথা বলেছেন, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা পরিচিত ব্যক্তিদের নাম মনে রাখার ক্ষেত্রে সহায়তা পেতে পারেন। তবে গোপনীয়তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এমন প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ নিয়ে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যেও মেটার বিরুদ্ধে আরেকটি প্রস্তাবিত গণমামলা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ্যে থাকা মানুষের ছবি ব্যবহার করে মেটা এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মুখ শনাক্তকরণ সুবিধায় ব্যবহার করা হতে পারে। মেটা বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য কীভাবে তাদের এআই পণ্য উন্নয়নে ব্যবহৃত হয় সে বিষয়ে তারা স্বচ্ছ থাকার চেষ্টা করে এবং ‘নেমট্যাগ’ সুবিধাটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। মামলাগুলো এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন মেটা নতুন প্রজন্মের পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২৩ সেপ্টেম্বর মেনলো পার্কে প্রতিষ্ঠানটির ডেভেলপার সম্মেলনে নতুন পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি উন্মোচনের কথা রয়েছে। একই সময়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মেটা ক্যামেরাবিহীন নতুন স্মার্ট চশমা তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা গোপনীয়তা নিয়ে চলমান উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট
বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী ও ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির অধ্যাপক সায়ীফ সালাহউদ্দিনের সহপ্রতিষ্ঠিত ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি স্টার্টআপ সোনেরা ম্যাগনেটিকস অধিগ্রহণ করেছে অ্যাপল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিগ্রহণসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে এই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে অ্যাপল বা সোনেরা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির ঘোষণা দেয়নি। সোনেরা এমন একটি নন-ইনভেসিভ সেন্সর প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা শরীরে কোনো যন্ত্র বসানো বা ত্বকে ইলেকট্রোড লাগানো ছাড়াই মস্তিষ্ক, স্নায়ু ও পেশির তৈরি অত্যন্ত ক্ষুদ্র চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে পারে। প্রচলিত বৈদ্যুতিক সংকেতভিত্তিক প্রযুক্তির তুলনায় এই পদ্ধতিতে খুলির মধ্য দিয়ে সংকেত দুর্বল হয়ে যাওয়ার সমস্যা কম হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট গবেষণায় দেখানো হয়েছে। সোনেরা ২০১৮ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষণার পরিবেশ থেকে যাত্রা শুরু করে। এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নিশিতা ডেকা, ডমিনিক লাবানোস্কি ও সায়ীফ সালাহউদ্দিন। ২০২৩ সালে কোম্পানিটি প্রকাশ্যে আসার সময় প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থায়নের কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্কের কার্যকলাপ শনাক্তের প্রযুক্তিকে আরও ছোট, বহনযোগ্য ও সহজলভ্য করা। সোনেরার প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এস১ চিপ। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এটি পেশির কার্যকলাপ থেকে তৈরি চৌম্বকীয় সংকেত শনাক্ত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারের মধ্যে কৃত্রিম অঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, নিউরোমাসকুলার রোগ পর্যবেক্ষণ এবং শরীরে পরিধানযোগ্য স্মার্ট ডিভাইসে নতুন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা যুক্ত করার বিষয় রয়েছে। অ্যাপলের জন্য এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে স্বাস্থ্য ও অ্যাক্সেসিবিলিটি সুবিধার ক্ষেত্রে। প্রযুক্তিটি আরও উন্নত হলে ভবিষ্যতের অ্যাপল ওয়াচ বা অন্য পরিধানযোগ্য ডিভাইসে শরীরের স্নায়ু ও পেশির কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের নতুন সুবিধা যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে শরীরে কোনো ইমপ্ল্যান্ট বসানো ছাড়াই মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। তবে সোনেরা অধিগ্রহণের পর অ্যাপল ঠিক কোন পণ্যে বা কীভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বাংলাদেশি-আমেরিকান গবেষক সায়ীফ সালাহউদ্দিনের ক্যারিয়ারও উল্লেখযোগ্য। তিনি ২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। পরে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্সেস বিভাগে অধ্যাপনায় যুক্ত হন। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্রের মধ্যে চৌম্বকীয় সেন্সর, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ম্যাটেরিয়ালস ও সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি রয়েছে। সায়ীফ সালাহউদ্দিনের গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁকে প্রেসিডেনশিয়াল আর্লি ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড ফর সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স সম্মাননা দেন। প্রাথমিক ক্যারিয়ারের বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের জন্য এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়। অ্যাপলের এই অধিগ্রহণের আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি। ইউরোপীয় কমিশনের নথি অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় সোনেরার নির্দিষ্ট সম্পদ অধিগ্রহণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মীকে চাকরির প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ও ছিল। অধিগ্রহণের পর সোনেরার ওয়েবসাইটও বন্ধ হয়ে যায়। সোনেরার প্রযুক্তি এখনো ব্যাপক ভোক্তা ব্যবহারের পণ্য হিসেবে বাজারে আসেনি। তবে মস্তিষ্ক ও শরীরের চৌম্বকীয় সংকেত ছোট আকারের সেন্সরের মাধ্যমে শনাক্ত করার সক্ষমতা অ্যাপলের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য, অ্যাক্সেসিবিলিটি ও মানব-কম্পিউটার ইন্টারফেস প্রযুক্তিতে কীভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটিই এখন প্রযুক্তি খাতের আগ্রহের বিষয়।
মৃত প্রিয়জনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতির তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তাদের মতো কথা বলা ‘গ্রিফবট’ তৈরি করছেন কিছু মানুষ। শোক সামলানোর এই নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি কারও কাছে সাময়িক সান্ত্বনার মাধ্যম হলেও, এটি মানুষকে বাস্তব সামাজিক ও পারিবারিক সহায়তা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী ও শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এআইয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের একটি ডিজিটাল উপস্থিতি ধরে রাখার এই নতুন প্রবণতা। গ্রিফবট তৈরি করতে ব্যবহারকারীরা মৃত স্বজনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত স্মৃতি, স্বভাব ও মূল্যবোধের তথ্য এআই সিস্টেমে দেন। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয় একটি ডিজিটাল চরিত্র, যার সঙ্গে ব্যবহারকারী কথোপকথন করতে পারেন। সিয়াঁস, রিমেমোরি ও ভারসোনার মতো কিছু সেবা ইতোমধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এমনকি সাধারণ লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করেও মৃত স্বজনের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করার চেষ্টা করা সম্ভব। এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাও একরকম নয়। ভারসোনার প্রতিষ্ঠাতা জাস্টিন হ্যারিসন তাঁর মায়ের অসুস্থতার সময় এআই প্রতিরূপ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর মা জীবিত থাকতেই সেটি দেখেছিলেন এবং এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পরও তিনি মাঝে মাঝে ওই বটের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মতে, এটি ব্যক্তিগত সান্ত্বনা ও স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়। তবে সব ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির সম্মতি নেওয়া সম্ভব হয় না। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বোল্ডারের গবেষক জ্যাক ম্যানিং ডিজিটাল শোক ও এআইভিত্তিক ‘জেনারেটিভ ঘোস্ট’ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর নিজের বোন কিশোর বয়সে মারা যান। ম্যানিং বলেন, বোনের স্পষ্ট সম্মতি না থাকায় তিনি নিজে কোনো জেনারেটিভ ঘোস্ট ব্যবহার করেননি। তাঁর আশঙ্কা, প্রযুক্তি এমন কিছু বলতে পারে যা মৃত ব্যক্তির প্রকৃত ব্যক্তিত্ব বা স্মৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এদিকে মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে এআই তৈরি করা ছবি, ভিডিও ও গানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই ধরনের কনটেন্টকে ‘ডেথস্লপ’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রয়াত গায়িকা ডলি পার্টনকে ঘিরেও এআই দিয়ে তৈরি গান ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের ‘ফেক এআই’ কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। মৃত ব্যক্তিদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি এসব কনটেন্ট পরিবারগুলোর জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রযুক্তিটির আইনগত ও নৈতিক দিক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জীবিত অবস্থায় কেউ নিজের এআই অবতার মৃত্যুর পর ব্যবহারের অনুমতি দেবেন কি না, সেটি এখনো সাধারণ কোনো প্রক্রিয়ার অংশ নয়। ফলে কারও মৃত্যুর পর তাঁর কণ্ঠ, ছবি বা ব্যক্তিত্ব ব্যবহার করে এআই চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে সম্মতি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং পরিবারের অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি হতে পারে। তবে এআই দিয়ে শোক সামলানোর ব্যবহার এখনো সীমিত। জুনে প্রকাশিত এমপ্যাথির এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার ৬ হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ জানিয়েছেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তারা মেমোরিয়াল অ্যাপ বা গ্রিফবটের মতো ডিজিটাল টুলের ওপর নির্ভর করেছেন। তবে যারা এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, তাদের ৮৮ শতাংশ এটিকে সহায়ক বলে জানিয়েছেন। শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অবশ্য সতর্কতার কথাই বেশি শোনা যাচ্ছে। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড্যান উলফসন মনে করেন, শোকের সময় মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রশ্ন, এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ মানুষকে প্রয়োজনীয় সময়ে বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে কি না। ফলে গ্রিফবট নিয়ে বিতর্ক শুধু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ঘিরে নয়। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর স্মৃতি ধরে রাখার অধিকার, মৃত ব্যক্তির সম্মতি এবং শোকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এআই যখন মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সম্পর্কের আরও গভীরে প্রবেশ করছে, তখন এই প্রযুক্তি সান্ত্বনার মাধ্যম হবে, নাকি বাস্তব মানুষের সঙ্গে সংযোগ আরও দুর্বল করবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান।
ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় অ্যাপলের চালু করা অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিই এবার বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের অ্যাপ নির্মাতাদের পক্ষ থেকে অ্যাপলের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কোটি পাউন্ড বা ২৭০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ, অ্যাপলের অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি ব্যবস্থা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের ওপর কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দিয়েছে, অথচ নিজেদের বিজ্ঞাপনসেবার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে। মামলাটি ৩ সেপ্টেম্বর লন্ডনের কম্পিটিশন আপিল ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হয়। যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা অ্যান পোপের নেতৃত্বে অ্যাটিটি কালেক্টিভ অ্যাকশন লিমিটেড এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনজীবী প্রতিষ্ঠান হাউসফেল্ড মামলাটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। অ্যাপল ২০২১ সালে অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সি বা এটিটি ব্যবস্থা চালু করে। এর মাধ্যমে কোনো অ্যাপ ব্যবহারকারীর কার্যক্রম অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে অনুসরণ করে বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে তথ্য ব্যবহার করতে চাইলে ব্যবহারকারীর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। আইফোন বা আইপ্যাডে কোনো নতুন অ্যাপ খোলার সময় অনেক ব্যবহারকারী যে অনুমতির বার্তা দেখতে পান, এটিই সেই ব্যবস্থা। সেখানে ব্যবহারকারীকে জানতে চাওয়া হয়, অ্যাপটি অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে তাঁর কার্যক্রম অনুসরণ করতে পারবে কি না। ব্যবহারকারী অনুমতি না দিলে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপনের কাজে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। মামলাকারী অ্যাপ নির্মাতাদের অভিযোগ, এই নীতি চালুর ফলে বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসা করা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাঁদের দাবি, নতুন নিয়ম কার্যকর করার আগে ব্যবসার ধরন পরিবর্তন ও সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অ্যাপল তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের ওপর যে ধরনের অনুমতির শর্ত আরোপ করেছে, নিজেদের সেবার ক্ষেত্রে একই মাত্রার বিধিনিষেধ প্রয়োগ করেনি। এর ফলে অ্যাপলের নিজস্ব বিজ্ঞাপন ব্যবসা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেয়েছে বলে দাবি করেছেন মামলাকারীরা। মামলার নেতৃত্ব দেওয়া অ্যান পোপ বলেন, অ্যাপলের নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর নির্ভরশীল ব্রিটিশ ব্যবসাগুলো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাঁর মতে, এই আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্রিটিশ ব্যবসাগুলোর অধিকার রক্ষা এবং অ্যাপলের প্রয়োগ করা নিয়ম সবার জন্য সমান কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টিও মামলার অন্যতম লক্ষ্য। অ্যাপল অবশ্য অভিযোগ মেনে নেয়নি। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য, অ্যাপ ট্র্যাকিং ট্রান্সপারেন্সির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীদের নিজেদের তথ্যের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেওয়া। অ্যাপলের দাবি, অন্য প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে তাঁদের কার্যক্রম অনুসরণ করার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ব্যবহারকারীর হাতেই থাকা উচিত। অ্যাপল আরও বলেছে, এটিটি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তারা অন্যান্য অ্যাপ নির্মাতাদের মতো একই নিয়মের অধীন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ব্যবহারকারীরা এই গোপনীয়তা ব্যবস্থাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং গোপনীয়তা রক্ষায় কাজ করা বিভিন্ন পক্ষও এর প্রশংসা করেছে। যুক্তরাজ্যের এই মামলা অ্যাপলের অ্যাপ ট্র্যাকিং নীতিকে ঘিরে ইউরোপে চলমান নিয়ন্ত্রক নজরদারিরও অংশ। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডে একই নীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্ত বা নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হয়েছে। ফ্রান্সে ২০২৫ সালে অ্যাপলকে ১৫ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয় এবং ইতালিতেও প্রায় ১০ কোটি ইউরোর জরিমানার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বর্তমান মামলায় ২৭০ কোটি ডলারের অঙ্কটি আদালতের দেওয়া জরিমানা নয়। এটি মামলাকারীদের দাবি করা সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ। মামলা কীভাবে এগোবে এবং শেষ পর্যন্ত অ্যাপলকে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হবে কি না, তা আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। অ্যাপলের জন্য মামলাটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একদিকে প্রতিষ্ঠানটি আইফোন ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর নীতিকে নিজেদের পণ্য ও গোপনীয়তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছে। অন্যদিকে অ্যাপ নির্মাতারা বলছেন, একই নীতি তাদের বিজ্ঞাপনভিত্তিক ব্যবসার ওপর অসম প্রভাব ফেলছে। মামলাটি এখন প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে। ফলে ক্ষতিপূরণের দাবি, অ্যাপলের নীতির প্রকৃত প্রভাব এবং তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ নির্মাতাদের সঙ্গে অ্যাপলের নিজস্ব সেবার ক্ষেত্রে নিয়মের পার্থক্য নিয়ে আদালতে আরও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: এএফপি, রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ সপ্তম মাসে পা দিতেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক অস্বস্তিকর সত্য প্রকাশ্যে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর এবার ইরানের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্রের মজুত মারাত্মকভাবে কমে গেছে। পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘাটতির কথা অস্বীকার করলেও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অস্ত্র উৎপাদন শিল্পকে জরুরি ভিত্তিতে 'যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে' কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের তথ্যমতে, গত ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মার্কিন যৌথ বাহিনী ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যা মজুত তলানিতে নামার অন্যতম প্রধান কারণ। অস্ত্রগুলোর আকাশছোঁয়া নির্মাণ ব্যয় ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। লকহিড মার্টিনের তৈরি প্রতিটি 'প্যাট্রিয়ট' ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার। বর্তমানে তারা বছরে ৭৫০টি প্যাট্রিয়ট তৈরি করলেও, ইরানের সাথে যুদ্ধে ইতোমধ্যেই প্রায় ১,৫০০টি প্যাট্রিয়ট ব্যবহার করা হয়েছে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ফুরিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লকহিড মার্টিন ৫৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় বছরে ২,০০০টি প্যাট্রিয়ট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে ৫শ’ থেকে ১ হাজার সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরশীলতা এবং এল৩হ্যারিস (L3Harris)-এর মতো কোম্পানির রকেট মোটর তৈরির ধীরগতির কারণে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে পেন্টাগন এখন বিকল্প কৌশল হাতে নিয়েছে। ব্যয়বহুল অস্ত্রের বদলে কোঅ্যাসপায়ার (CoAspire)-এর মতো স্টার্টআপ থেকে তারা ১০ হাজার স্বল্প মূল্যের ক্রুজ মিসাইল কেনার পরিকল্পনা করছে, যার প্রতিটির দাম মাত্র কয়েক লাখ ডলার। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর মার্ক ক্যানসিয়ান সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় অস্ত্রের মজুত ফিরিয়ে নিতে এক থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তাঁর মতে, ইরানের সাথে বর্তমান যুদ্ধ চালিয়ে নেওয়ার মতো অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলেও, চীনের মতো পরাশক্তির সাথে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের সাবেক এআই গবেষক জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, এআই তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। কক্সন, যিনি নতুন এআই মডেল প্রশিক্ষণের কাজে বিশেষজ্ঞ এবং এর আগে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ে কাজ করেছেন, দাবি করেন—এআই খাতের অনেকেই বিশ্বাস করেন, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এ প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার এই মন্তব্যকে সমর্থন করেন এআই সেফটি ইঞ্জিনিয়ার ইভান হুবিঙ্গার। তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে সব মানুষের বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি হতে পারে। এআই নিয়ে কাজ করা আরও কয়েকজন বিশেষজ্ঞও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নোবেলজয়ী কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও ‘এআইয়ের গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনও বলেছেন, আগামী কয়েক বছরে এআই মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার সম্ভাবনা ঠিক কতটা, তা জানা নেই। তবে ১০ শতাংশ সম্ভাবনাকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন না। এমন পরিস্থিতিতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানতে চেয়েছে, এআই নিজেই তার সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে কী বলে। এ জন্য তারা নোয়া প্রেডিক্ট নামের একটি এআই সিস্টেমের সহায়তা নেয়। এই সিস্টেম লাখ লাখ সংবাদ ও তথ্যের ওপর বিশ্লেষণ চালিয়ে বিভিন্ন ঝুঁকি ও সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেয়। মানবজাতির বিলুপ্তির সঙ্গে এআইয়ের সম্ভাব্য সম্পর্ক যাচাই করতে সিস্টেমটি ৪১টি আলাদা অনুসন্ধান এবং ১০৮টি গবেষণাভিত্তিক যাচাই চালায়। এতে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ তথ্যের পয়েন্ট ব্যবহার করা হয়। ফলাফল অবশ্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক। এআই পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির সম্ভাবনা ১০ শতাংশ নয়, মাত্র ০.৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ হিসাব অনুযায়ী, এমন ঘটনার সম্ভাবনা প্রায় ১১৮টির মধ্যে ১টি। সম্ভাবনা ১ শতাংশের কম হলেও এটিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করার মতো নয়। কারণ এ ধরনের ঝুঁকি বাস্তবে ঘটলে এর পরিণতি হতে পারে অপরিবর্তনীয়। এআই বিশ্লেষণে মানবজাতির জন্য তিনটি বড় ধরনের ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম ঝুঁকি হলো, কোনো মানুষ এআইকে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহার করতে পারে। এআই নিজে থেকে মানবজাতির ক্ষতি করার সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারে, কিন্তু কোনো অসৎ ব্যক্তি এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক কাজ আরও দ্রুত, সহজ বা কার্যকরভাবে করতে পারে। সাইবার হামলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আক্রমণ কিংবা জীবাণু অস্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। দ্বিতীয় ঝুঁকি হলো, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে যে কোনো বড় ধরনের সফটওয়্যার সমস্যা, সাইবার হামলা বা ভুল সিদ্ধান্ত একসঙ্গে বহু গুরুত্বপূর্ণ খাতে ছড়িয়ে পড়বে। এআইয়ের কারণে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলেও সেগুলো সরাসরি মানবজাতির বিলুপ্তির পর্যায়ের হুমকি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিজেদের বিকল্প ব্যবস্থাপনা হারিয়ে ফেলে, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। তৃতীয় এবং সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঝুঁকি হলো মানুষের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে যাওয়া। এমন কোনো এআই সিস্টেম তৈরি হতে পারে, যা নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য পূরণকে এত বেশি গুরুত্ব দেবে যে মানুষের হস্তক্ষেপকেই বাধা হিসেবে বিবেচনা করবে। তখন সেটিকে থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে এআই বিশ্লেষণ এটাও বলেছে, কোনো পরীক্ষাগারে একটি সিস্টেমের অপ্রত্যাশিত আচরণ দেখা গেলেই তা বাস্তব পৃথিবীতে স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করছে, তার কী ধরনের প্রবেশাধিকার রয়েছে এবং প্রয়োজনে মানুষ সেটিকে বন্ধ করতে পারছে কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থাগুলোকে মানুষের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এআইয়ের ক্ষমতা ও প্রবেশাধিকার সীমিত করা, স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সিস্টেম বন্ধ ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এআই উন্নয়নের গতি নিয়েও এরই মধ্যে সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইসহ কয়েকজন মনে করেন, এআইয়ের সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, নিরাপত্তাব্যবস্থাকেও তত দ্রুত শক্তিশালী করতে হবে। সব মিলিয়ে, এআই আগামী এক দশকে মানবজাতিকে বিলুপ্ত করে দেবে—এমন কোনো নিশ্চিত পূর্বাভাস নেই। তবে এআইয়ের নিজের বিশ্লেষণেও ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়। তাই প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর অপব্যবহার এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ‘আইফোন ডুও’র ডিসপ্লে সরবরাহে স্যামসাংয়ের সঙ্গে তিন বছরের বিশেষ চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। চুক্তির আওতায় প্রতিটি ডিসপ্লে প্যানেলের জন্য অ্যাপলকে প্রায় ২৫০ ডলার দিতে হতে পারে। ফলে ফোনটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল উপাদানগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এই ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাকরিউমার্স শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্যামসাং ডিসপ্লে আইফোন ডুও এবং ভবিষ্যতের কয়েকটি ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহ করবে। চীনা প্রযুক্তি তথ্যদাতা ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অ্যাপল বা স্যামসাং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি প্যানেলের ২৫০ ডলারের দাম নিশ্চিত করেনি। অ্যাপল ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ডুও উন্মোচন করে। এটি কোম্পানির প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন। খোলা অবস্থায় ফোনটিতে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে থাকে, আর ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরের ডিসপ্লের আকার ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। অ্যাপলের দাবি, খোলা অবস্থায় এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পাতলা আইফোন। আইফোন ডুওর ভাঁজযোগ্য পর্দায় স্যামসাংয়ের নতুন এম১৬ ওএলইডি উপাদান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে ম্যাকরিউমার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে আগের প্রজন্মের ওএলইডি পর্দার তুলনায় উজ্জ্বলতা, রঙের মান, স্থায়িত্ব এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতায় উন্নতি হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আইফোন ডুওর অভ্যন্তরীণ পর্দার কাঠামোও বেশ জটিল। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লেটিতে মোট ১০টি অতি পাতলা স্তর রয়েছে। পর্দার বাইরের অংশে বিশেষ ন্যানো-টেক্সচারযুক্ত আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলো প্রতিফলন কমানোর পাশাপাশি ভাঁজের দাগ বা রেখা কম দৃশ্যমান করতে সহায়তা করে। ডিসপ্লের স্তরগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ফোন ভাঁজ ও খোলার সময় সেগুলো পরস্পরের ওপর সামান্য সরে যেতে পারে। অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভাঁজের জায়গায় চাপ কম পড়ে এবং পর্দার স্থায়িত্ব বাড়ে। আইফোন ডুওর দুই ডিসপ্লেতেই প্রোমোশন প্রযুক্তি, অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার নিট পর্যন্ত উজ্জ্বলতার সুবিধা রয়েছে। খোলা অবস্থায় বড় পর্দাটি একসঙ্গে একাধিক কাজ, ভিডিও দেখা, গেম খেলা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। স্যামসাংয়ের সঙ্গে অ্যাপলের ডিসপ্লে সরবরাহ চুক্তির বিষয়টি অবশ্য পুরোপুরি নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেই ম্যাকরিউমার্স জানিয়েছিল, ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য আগামী তিন বছর স্যামসাং থেকেই ওএলইডি প্যানেল নেওয়ার বিষয়ে অ্যাপলের চুক্তি হয়েছে। সে সময়ও স্যামসাংকে একমাত্র সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতি প্যানেলের সম্ভাব্য ২৫০ ডলারের খরচ আইফোন ডুওর উচ্চ মূল্যের একটি কারণও ব্যাখ্যা করতে পারে। ফোনটির প্রাথমিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। এটি অ্যাপলের সবচেয়ে দামি আইফোনগুলোর একটি এবং ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে কোম্পানিটির প্রথম বড় প্রবেশ। অ্যাপলের এই পদক্ষেপ স্যামসাংয়ের জন্যও কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে স্যামসাং ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে অ্যাপলের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী, অন্যদিকে অ্যাপলের নতুন ফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে স্যামসাং ডিসপ্লে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের বাজারে প্রবেশের পর স্যামসাং নিজেদের ভাঁজযোগ্য ফোনের অবস্থান আরও জোরালো করতে প্রচারণা বাড়িয়েছে। তবে ২৫০ ডলার মূল্যের তথ্যটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ম্যাকরিউমার্সও জানিয়েছে, এই তথ্য চীনা তথ্যদাতা ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের কাছ থেকে এসেছে। তাই চূড়ান্ত সরবরাহমূল্য চুক্তির প্রকৃত শর্তের সঙ্গে ভিন্ন হতে পারে। আইফোন ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বাজারে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর। অ্যাপলের এই নতুন ফোন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: ম্যাকরিউমার্স, অ্যাপল
মৃত্যুর পর একদিন আবার জীবিত হয়ে ফিরবেন, এই আশায় অস্ট্রেলিয়ার একটি ক্রায়োনিক্স কেন্দ্রে ২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি খরচ করে নিজেদের মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন কয়েকজন। নিউ সাউথ ওয়েলসের হলব্রুকের একটি শেডে বর্তমানে সাতজনের মরদেহ অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষিত রয়েছে। ক্রায়োনিক্স পদ্ধতিতে মৃত্যুর পর শরীর দ্রুত ঠান্ডা করে বিশেষ রাসায়নিকের মাধ্যমে কোষে বরফ জমে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হয়। এরপর মরদেহগুলো তরল নাইট্রোজেনভর্তি বিশেষ ধাতব পাত্রে প্রায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়। হলব্রুকে এই সেবা পরিচালনা করছে সাউদার্ন ক্রায়োনিক্স। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পিটার সলাকিডেস জানিয়েছেন, একজনকে দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করতে প্রাথমিক প্রক্রিয়া ও পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ মিলিয়ে ২ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি খরচ হতে পারে। সংরক্ষণ চালু রাখতে নিয়মিত তরল নাইট্রোজেন সরবরাহ করাও প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক ফিলিপ রোডস নিজেও মৃত্যুর পর সেখানে সংরক্ষিত হতে চান। তাঁর বিশ্বাস, ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে বর্তমানে অসম্ভব মনে হওয়া কাজ সম্ভব হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক সংশয় রয়েছে। বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞান মৃত মানুষের পুরো শরীরকে এমনভাবে সংরক্ষণ করে পরে জীবিত করে তোলার প্রযুক্তি এখনো তৈরি করতে পারেনি। কোষ, টিস্যু বা কিছু জৈব উপাদান সংরক্ষণে ক্রায়োপ্রিজারভেশন ব্যবহৃত হলেও পুরো মানবদেহ পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি জটিল। মেলবোর্নের আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রায়োপ্রিজারভেশন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পুরো শরীরে সংরক্ষণকারী রাসায়নিক সমানভাবে পৌঁছানো এবং পরবর্তী সময়ে কোষ ও অঙ্গের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা বড় বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ। মৃত্যুর কারণ দূর করার পাশাপাশি মস্তিষ্কের গঠন ও ব্যক্তির স্মৃতি বা চেতনা অক্ষত রাখা যাবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ক্রায়োনিক্সের সমর্থকেরা অবশ্য মনে করেন, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি আজকের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারে। কিন্তু কখনো কোনো ক্রায়োনিক্স রোগীকে পুরোপুরি পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়েছে, এমন প্রমাণ এখনো নেই। হলব্রুকের কেন্দ্রটি ২০২৩ সালে চালু হওয়ার পর সেখানে ধীরে ধীরে সংরক্ষিত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে সাতজনের মরদেহ সেখানে রাখা হয়েছে। তাঁদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন প্রযুক্তির ওপর, যা এখনো পরীক্ষামূলক ধারণার পর্যায়েই রয়েছে। মৃত্যুর পর শরীর সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে জীবনে ফেরার এই ধারণা তাই একদিকে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সম্ভাবনা নিয়ে মানুষের কৌতূহল তৈরি করছে, অন্যদিকে এর বাস্তবতা ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্নও রয়ে গেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতিতে আগামী বছরগুলোতে চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। ২০২৫ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সফটওয়্যার প্রোগ্রামিং, জৈববিজ্ঞান এবং জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞদের কাজ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রও এআইয়ের প্রভাবের বাইরে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা তিনি দেননি। গেটসের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক পেশার মানুষের কাজ দ্রুত ও দক্ষভাবে করতে পারবে। চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো ক্ষেত্রেও এআইয়ের সক্ষমতা বাড়বে। তবে জটিল সমস্যা সমাধান, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি তৈরি এবং বাস্তব জগতের জটিল সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা কিছু সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তিনি মনে করেন। তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে সফটওয়্যার প্রোগ্রামিংকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এআই ইতোমধ্যে কোড লেখা, কোড বিশ্লেষণ ও ত্রুটি শনাক্ত করার মতো কাজে সক্ষম হলেও জটিল সফটওয়্যার তৈরি ও পরিচালনায় মানুষের তদারকি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে গেটসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টও এআইয়ের কারণে চাকরির চাহিদা পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জৈববিজ্ঞান বা বায়োসায়েন্সও গেটসের তালিকায় রয়েছে। এআই বিপুল পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ, রোগ শনাক্তকরণ ও ডিএনএ গবেষণায় সহায়তা করতে পারলেও নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে মানুষের সৃজনশীলতা ও গবেষণার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। তৃতীয় ক্ষেত্র জ্বালানি। জ্বালানি উৎপাদন, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মতো জটিল বিষয় থাকায় এ খাত পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা কঠিন বলে গেটসের মত। তবে ২০২৬ সালে গেটসের অবস্থান আরও বিস্তৃত হয়েছে। তার সাম্প্রতিক লেখায় তিনি বলেছেন, এআই আইন, কাস্টমার সার্ভিস, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে কাজের ধরন দ্রুত বদলে দেবে এবং অনেক চাকরি স্থায়ীভাবেও হারিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি কিছু কাজ মানুষের জন্য সংরক্ষণ করার পক্ষেও মত দিয়েছেন। গেটসের মতে, ভবিষ্যতে শুধু কোন চাকরি থাকবে বা থাকবে না, সেই প্রশ্নের চেয়ে এআইয়ের কারণে শ্রমবাজারে যে পরিবর্তন আসবে, সেটি কীভাবে সামলানো হবে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, নীতিগত প্রস্তুতি এবং মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সংরক্ষণে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্যই বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এখনই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগে প্রযুক্তিটির নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় শক্তিশালী নিশ্চয়তা দরকার। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক বিস্তৃত বক্তব্যে টুর্ক এ সতর্কতা জানান। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব শুরুর আগে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি এআই কোম্পানিগুলোকে ঝুঁকি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। টুর্ক বলেন, উন্নত এআই মানবতার জন্য অস্তিত্বগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে প্রযুক্তি খাতের অভ্যন্তরীণ মহলে যে উদ্বেগ রয়েছে, তিনি সেটি ভাগ করে নেন। এআইয়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় কঠোর নিশ্চয়তা তৈরির জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দিলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, বিভিন্ন সেবা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ব্যাহত হতে পারে। টুর্কের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে এআই ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির প্রশ্ন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অল্প কয়েকজন মানুষের হাতে এআই প্রযুক্তির ওপর অত্যন্ত বড় ধরনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে এর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বাধীন যাচাই এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা একই গতিতে এগোচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় টুর্ক এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে জড়িত দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে এআই তৈরি ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কিছু স্পষ্ট সীমারেখা বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ঐকমত্য তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা স্বাধীনভাবে যাচাই এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও বলেন। এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে টুর্কের উদ্বেগের পেছনে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাও রয়েছে। তিনি জুলাইয়ে আলোচিত তথাকথিত ‘হাগিং ফেস’ ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। ওই ঘটনায় এআই এজেন্টের একটি দল একটি উন্মুক্ত সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের সার্ভারে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। টুর্কের দপ্তরের মতে, এ ধরনের ঘটনা উন্নত এআইয়ের সক্ষমতা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে ব্যবধান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান শুধু প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নয়, এআইয়ের সামাজিক ও মানবাধিকারগত প্রভাব নিয়েও সতর্ক করেছেন। কর্মসংস্থান, গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি এবং পরিবেশের ওপর এআইয়ের প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এআইয়ের উন্নয়ন যেন মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার কারণ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। টুর্ক আগামী দিনগুলোতে এআই কোম্পানিগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা ঝুঁকিগুলো কমাতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন বলেও জানান। এআই নিয়ে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণের দাবি অবশ্য নতুন নয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা উন্নত এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির ওপর জোর দিয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও উচ্চঝুঁকির এআই ব্যবস্থার জন্য কঠোর নিয়ম চালু করেছে। ভলকার টুর্কের এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন এআই প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কাজ সম্পাদনের সক্ষমতা বাড়ছে। ফলে প্রযুক্তির সম্ভাব্য সুফলের পাশাপাশি এর অপব্যবহার, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগও বাড়ছে। এদিকে মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া একই বক্তব্যে টুর্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন হেফাজতে চলতি বছর প্রায় ২৩ জনের মৃত্যুর বিষয়েও জবাবদিহির আহ্বান জানান। ইউক্রেনে রাশিয়ার কথিত স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহারের প্রতিবেদন নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মানুষের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছাড়া প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে দ্রুত নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান। এসব প্রতিবেদনের কিছু বিষয়ে রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে ১ লাখ ডলারের বেশি বার্ষিক বেতন পাওয়া যায় এমন বেশ কয়েকটি পেশায় কর্মসংস্থান দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির শ্রম বিভাগ। তালিকায় স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও বিজ্ঞানভিত্তিক একাধিক পেশা রয়েছে। শ্রম বিভাগের সর্বশেষ কর্মসংস্থান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মোট কর্মসংস্থান বাড়বে প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর বিপরীতে, তালিকার সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা পেশা নার্স প্র্যাকটিশনারদের চাকরি বাড়তে পারে ৪১ শতাংশ। ২০২৫ সালে নার্স প্র্যাকটিশনারদের গড় বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ ডলার। এই পেশায় আগামী ১০ বছরে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮০০ নতুন চাকরি তৈরি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেটা সায়েন্টিস্ট। ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান বাড়তে পারে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে এ পেশার মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ২৩০ ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মেডিকেল অ্যান্ড হেলথ সার্ভিসেস ম্যানেজারদের চাকরি বাড়তে পারে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ। এ পেশায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ১০০টি নতুন চাকরি তৈরির পূর্বাভাস রয়েছে এবং ২০২৫ সালে মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৬০ ডলার। তালিকায় কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের চাকরি বাড়ার হার ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। এ পেশায় ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ৩০০ ডলার। ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্টদের চাকরি বাড়তে পারে ২১ দশমিক ১ শতাংশ। এ পেশায় মধ্যম বার্ষিক বেতন প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৮০ ডলার। একই সময়ে ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যানালিস্টদের চাকরি বাড়ার পূর্বাভাস ২১ শতাংশ এবং তাদের মধ্যম বার্ষিক বেতন প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৮০ ডলার। এ ছাড়া পোস্টসেকেন্ডারি হেলথ স্পেশালটি শিক্ষকদের চাকরি ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ, কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ম্যানেজারদের ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অকুপেশনাল থেরাপিস্টদের ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। তালিকার বাকি পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল সায়েন্টিস্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার, বায়োকেমিস্ট ও বায়োফিজিসিস্ট এবং ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট। এসব পেশার ক্ষেত্রেও ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শ্রম বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় হেলথ কেয়ার ও সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স খাতে কর্মীর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত এই খাতে প্রায় ২২ লাখ নতুন চাকরি যোগ হতে পারে, যা দেশটিতে তৈরি হতে যাওয়া মোট নতুন চাকরির প্রায় ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারও চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তন আনছে। ডেটা সায়েন্টিস্ট এবং কম্পিউটার ও তথ্য গবেষণা বিজ্ঞানীদের মতো প্রযুক্তিনির্ভর পেশাগুলো উচ্চ বেতনের পাশাপাশি দ্রুত বর্ধনশীল চাকরির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের এই নতুন পূর্বাভাসে ৮০০টির বেশি পেশা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের হিসাব ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে এবং বেতনের সর্বশেষ তথ্য নেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত।
দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে কাজ, সন্তান, সংসার ও নানা দায়িত্বের চাপে অনেক দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এক দম্পতির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর কাজ ও সন্তান পালনের ব্যস্ততায় তাদের দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এআই-নির্ভর একটি অন্তরঙ্গতা সহায়ক সেবা ব্যবহার করে তারা নিজেদের সম্পর্কের নতুন দিক আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীকে প্রতিবেদনে ‘জুনিপার’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গোপনীয়তার কারণে তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর স্বামী জেফের সঙ্গে তাদের যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। দুজনই শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তাদের রয়েছে আরও নানা দায়িত্ব। স্কুলে সন্তানদের নিয়ে যাওয়া, খেলাধুলার অনুষ্ঠান, রাতে পড়াশোনায় সহায়তা এবং বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনার পাশাপাশি দুজনেরই কাজের চাপ রয়েছে। জুনিপারের ভাষায়, দিনের পর দিন এই ব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য সময় ও শক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। কয়েক বছর ধরে মাসে এক বা দুইবারের বেশি তাদের অন্তরঙ্গ সময় কাটানোও সম্ভব হতো না। তিনি চেয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ হতে, তবে কীভাবে সেই পরিবর্তন শুরু করবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি বদলাতে তারা প্রথমে দাম্পত্য পরামর্শকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে ‘আরিয়া’ নামের একটি সেবা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি দম্পতিদের সম্পর্ক ও অন্তরঙ্গতা নিয়ে কথা বলা, নতুন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে সহায়তা করার জন্য এআই ও মানব বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাজ করে। আরিয়ার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এর এআই ব্যবস্থা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর ও পরামর্শ দিতে পারে, আর জটিল বা সংবেদনশীল বিষয় সামনে এলে মানব বিশেষজ্ঞ যুক্ত হন। সেবাটি ব্যবহারের শুরুতে জুনিপার ও জেফকে তাদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে ২০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এসব উত্তরের ভিত্তিতে সিস্টেম তাদের একটি নির্দিষ্ট ‘এরোটিক পারসোনা’ বা অন্তরঙ্গতার ধরন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। দম্পতির দুজনকেই ‘অ্যাডভেঞ্চারার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ নতুনত্ব ও বৈচিত্র্যের প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি বলে সিস্টেমটি ধরে নেয়। আরিয়ার সেবায় ‘সিন’ নামে পরিচিত বিভিন্ন পরিকল্পিত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কথোপকথনের বিষয়, পরিবেশ তৈরির পরামর্শ, নির্দেশনামূলক লেখা, ভিডিও এবং অন্যান্য উপকরণ থাকে। উদ্দেশ্য হলো দম্পতিদের নিজেদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি করা এবং দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি ভাঙতে সাহায্য করা। জুনিপার জানান, এই ব্যবস্থার একটি বড় সুবিধা ছিল, এটি তাদের সরাসরি কথোপকথন শুরু করার সুযোগ করে দেয়। কখনো একজন অন্যজনকে কোনো কনটেন্ট পাঠিয়ে জানতে চাইতেন, সেটি একসঙ্গে চেষ্টা করতে আগ্রহী কি না। ফলে আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা কঠিন মনে হতো, সেগুলো নিয়েও আলোচনা সহজ হয়ে যায়। দম্পতিটি তাদের ফোনও এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করতেন। তারা একসঙ্গে বসে আরিয়ার দেওয়া নির্দেশনা পড়তেন এবং নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করতেন। তবে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তারা এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করতেন না। বরং ফোনটি ব্যবহার করতেন আগে থেকে দেওয়া নির্দেশনা ও পরিকল্পনা দেখার জন্য। আরিয়ার সেবার সঙ্গে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যও সরবরাহ করা হয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো তাদের পরিকল্পিত ‘সিন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করা হয় এবং গোপনীয় প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। গত এক বছরে নিজেদের সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়ে সন্তুষ্ট জুনিপার বলেন, আগে তিনি জানতেন যে তাদের দাম্পত্য জীবনে আরও কিছু করা সম্ভব, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন সেটিই বুঝতেন না। নতুন এই পদ্ধতি তাকে নিজের পছন্দ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আরও খোলামেলা হতে সাহায্য করেছে বলে তাঁর দাবি। জেফও জানান, এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি সম্পর্কের অন্তরঙ্গ দিকটিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন। তার মতে, নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াও বেড়েছে। দম্পতির জন্য সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তারা এমন কিছু পছন্দ ও আগ্রহ আবিষ্কার করেন যেগুলো সম্পর্কে আগে একে অপরের ধারণা ছিল না। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রিত ভূমিকা ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। জেফের ভাষায়, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আগে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। এই নতুন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাদের সম্পর্কের যোগাযোগও উন্নত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। জেফ বলেন, নতুন কিছু চেষ্টা করার আগে নিজেদের সীমা, পছন্দ ও সম্মতি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হয়েছে। সেই অভ্যাস শোবার ঘরের বাইরেও তাদের পারস্পরিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আরিয়ার সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান নিকোলাস ভেলোটা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা ভালোবাসার অভাব নয়, বরং অন্তরঙ্গতা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে না পারা। তাঁর মতে, অনেক দম্পতির মধ্যে নিজেদের কৌতূহল বা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্বস্তি থাকে। এ ধরনের প্রযুক্তি সেই কথোপকথনের শুরুটা সহজ করতে পারে। তবে আরিয়ার ভূমিকা শুধু এআইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোম্পানির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এআই সাধারণ নির্দেশনা ও ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি শনাক্ত করার জন্য তৈরি, যেখানে একজন বাস্তব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মানব বিশেষজ্ঞ কথোপকথনে যুক্ত হন। এদিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাম্পত্য সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর এই প্রবণতা নিয়ে গবেষণাও শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস ভেলোটার একটি গবেষণায় আরিয়ার প্রথম ‘সিন’ ব্যবহারকারী ১৮০ জন সম্পর্কের অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের এবং এর ফলাফলকে সাধারণ সব দম্পতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলা যায় না। তবে এতে ডিজিটালভাবে পরিচালিত অন্তরঙ্গতা সহায়তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আরিয়ার ওয়েবসাইটে বর্তমানে বার্ষিক সদস্যতার ক্ষেত্রে মাসিক খরচ ২৯ দশমিক ৯৫ ডলার থেকে শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদের সদস্যতায় দুই অংশীদারের অ্যাকাউন্ট, নির্দেশনামূলক কনটেন্ট, ‘সিন’, পরামর্শ সহায়তা এবং নির্বাচিত পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে এই দম্পতির অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য একই ফল দেবে এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাদের ঘটনা মূলত একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত তথ্য কোনো প্রযুক্তি সেবায় দেওয়ার আগে গোপনীয়তা, তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতিও বিবেচনা করা জরুরি। জুনিপার ও জেফের ক্ষেত্রে অবশ্য পরিবর্তনটি তাদের কাছে স্পষ্ট। তাদের দাবি, এখন তারা সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার একে অপরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটান। কখনো কখনো টানা কয়েক দিনও তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর এআই তাদের সম্পর্কের জায়গায় কোনো মানুষকে প্রতিস্থাপন করেনি। বরং তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি এমন কিছু কথোপকথনের দরজা খুলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা আগে শুরু করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সেই কথোপকথনই তাদের দাম্পত্য জীবনে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর আশঙ্কা, আগামী এক দশকে এআই দ্রুত বিভিন্ন পেশার কাজ দখল করে নেওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি সাইবার হামলা, প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং এমনকি প্রাণঘাতী জীবাণু তৈরির সক্ষমতাও সহজ করে দিতে পারে। ২৬ আগস্ট নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় ৬ হাজার শব্দের এক দীর্ঘ প্রবন্ধে গেটস এআই যুগের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও তা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। একই সময়ে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এআই নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। গেটসের মতে, এআই আগের প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলোর মতো নয়। অতীতে প্রযুক্তি কিছু কাজের ধরন বদলে দিলেও মানুষের চিন্তাশক্তির প্রয়োজন হয় এমন নতুন কাজ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এআই সরাসরি মানুষের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার একটি বড় অংশকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। ফলে চাকরি হারানো মানুষের জন্য নতুন কাজ তৈরির সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কম হতে পারে। তিনি লিখেছেন, আইন, গ্রাহকসেবা, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদন খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই দ্রুত কাজের অংশ হয়ে উঠবে। এই পরিবর্তন কয়েক প্রজন্ম ধরে নয়, মাত্র এক দশকের মধ্যেই বড় আকারে ঘটতে পারে। নতুন কিছু চাকরি তৈরি হলেও যথাযথ নীতি না থাকলে বর্তমানে যত চাকরি রয়েছে, তার তুলনায় নতুন চাকরির সংখ্যা অনেক কম হতে পারে। বিশেষ করে প্রবেশ পর্যায়ের ও মধ্যম পর্যায়ের চাকরি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন গেটস। তাঁর মতে, তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন, কারণ কর্মজীবন শুরু করার সময় তাদের জন্য আগের তুলনায় কম সুযোগ থাকতে পারে। সফটওয়্যার প্রকৌশল, বিক্রয় ও গ্রাহকসেবা, আইনি সহায়তা, ঋণের আবেদন যাচাই, তথ্য বিশ্লেষণ এবং রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়ের মূল্যায়নের মতো কাজেও এআই ক্রমেই ভূমিকা নিতে পারে। শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, শারীরিক শ্রমের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন গেটস। তাঁর ধারণা, দশকের শেষ নাগাদ উন্নত রোবট নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু কাজে মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে। একটি প্রতিষ্ঠান রোবট ও এআই ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে পণ্যের দাম কমালে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একই পথে যেতে বাধ্য হবে। এতে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি আরও বাড়তে পারে। গেটসের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো, এআই যখন প্রায় ভুলহীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং মানুষের তদারকির প্রয়োজনও কমে যাবে। তখন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আরও বেশি কাজ যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকবে। এর ফলে কর্মসংস্থান, আয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রচলিত ধারণাই বদলে যেতে পারে। তিনি ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার কথাও উল্লেখ করেছেন। ১৯৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। তবে গেটস বলেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব সেই পর্যায়ে পৌঁছাবে এমন পূর্বাভাস তিনি দিচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য হলো, এআইয়ের প্রভাব যদি ব্যাপক হয়, তা শুধু অর্থনৈতিক চক্রের পরিবর্তনের সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে না। বরং অর্থনীতির কাঠামোর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। এআইয়ের অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেছেন গেটস। তাঁর মতে, অনলাইনে আগে থেকেই সাইবার হামলা, প্রতারণা, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও জৈব অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এআই এসব তথ্য ব্যবহার করা এবং বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতা আরও সহজ করে দিতে পারে। দক্ষতা কম থাকা ব্যক্তিরাও বড় পরিসরে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ক্ষমতা পেতে পারেন। হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং সরকারি সেবার ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এআই-সহায়িত সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। জীবাণু অস্ত্রের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। গেটসের মতে, এআই যেমন নতুন ওষুধ ও টিকা তৈরির কাজ দ্রুত করতে পারে, তেমনি ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে নতুন প্রাণঘাতী রোগজীবাণু তৈরির কাজও সহজ করে দিতে পারে। এ কারণেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন এআই ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন। তবে গেটস শুধু এআইয়ের বিপদ তুলে ধরেননি। তাঁর মতে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এই প্রযুক্তি চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে নতুন ওষুধ ও টিকা আবিষ্কার, স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এআইয়ের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাবও দিয়েছেন গেটস। এর মধ্যে অন্যতম হলো কিছু নির্দিষ্ট কাজকে মানুষের জন্য সংরক্ষিত রাখা। তিনি এই ধারণার নাম দিয়েছেন ‘হিউম্যান রিজার্ভড’। বিশেষ করে এমন কাজ, যেখানে মানুষের সহানুভূতি, সম্পর্ক বোঝার ক্ষমতা ও মানবিক উপস্থিতি অপরিহার্য, সেসব ক্ষেত্রে মানুষকে সরিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া এআই ও রোবটের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন গেটস। তাঁর যুক্তি, বর্তমানে একজন কর্মী নিয়োগ করলে প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের শ্রম কর দিতে হয়, কিন্তু রোবট কেনার ক্ষেত্রে অনেক সময় কর সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে করব্যবস্থা পরোক্ষভাবে মানুষকে বাদ দিয়ে যন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহ দিতে পারে। রোবট ও এআই ব্যবহারের ওপর কর আরোপ করলে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি কিছুটা কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অর্থ জোগানো সম্ভব হতে পারে বলে তাঁর মত। গেটস আরও বলেছেন, এআইয়ের প্রভাব সামলাতে শুধু একটি দেশের নীতি যথেষ্ট নয়। জাতীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিষ্ঠান ও নীতিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। এআই যেহেতু কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন, অর্থনীতি ও অবকাঠামোসহ বহু ক্ষেত্রকে একসঙ্গে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এসব বিষয়কে আলাদা আলাদাভাবে দেখলে ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হবে। এআই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কিছু মাত্রায় সমন্বয় দরকার বলে মনে করেন গেটস। তাঁর মতে, প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু অভিন্ন নীতি ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করা উচিত। এআই নিয়ে নিজের অবস্থানকে গেটস একেবারে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। বরং তাঁর বক্তব্য, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় সুফল বয়ে আনতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে চাকরি হারানো, সামাজিক অস্থিরতা এবং জনআস্থার সংকট তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অনেক কঠিন হবে। তাঁর ভাষায়, এআইয়ের সুবিধা যেন শুধু ধনী ও প্রভাবশালী মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষকে এআই নিয়ে আলোচনায় যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গেটসের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং কর্মক্ষেত্রে এর ব্যবহারও বিস্তৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, এখনই নীতি নির্ধারণ ও প্রস্তুতি শুরু করা গেলে এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব। আর তা না হলে প্রযুক্তির অগ্রগতি অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সংবাদসূত্র: গেটস নোটস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট।
৮০০ জনের বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম একটি বিশাল যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের নতুন নকশা নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে চীন। প্রচলিত টিউব আকৃতির ফিউজলাজ ও আলাদা ডানা ব্যবস্থার বদলে প্রস্তাবিত উড়োজাহাজটিতে পুরো কাঠামোকেই ডানার মতো করে তৈরি করার ধারণা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। চীনের চায়না অ্যারোডায়নামিক্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার বা সিএআরডিসির গবেষকেরা এই নকশা নিয়ে কাজ করছেন। প্রস্তাবিত উড়োজাহাজটির ডানার বিস্তার প্রায় ৮৫ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ৪৩ মিটার। এর সম্ভাব্য ক্রুজিং গতি ধরা হয়েছে ম্যাক ০.৮। ডানার বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্পিরিটের তুলনায় প্রায় ১.৬ গুণ। এই ধরনের নকশাকে সাধারণভাবে ফ্লাইং উইং বা ব্লেন্ডেড উইং বডি বলা হয়। প্রচলিত যাত্রীবাহী বিমানে ফিউজলাজ, ডানা ও লেজ আলাদা কাঠামো হিসেবে থাকে। কিন্তু ফ্লাইং উইং নকশায় এগুলোকে অনেকটাই একীভূত করে একটি বড় লিফটিং কাঠামো তৈরি করা হয়। গবেষকদের লক্ষ্য হলো এর মাধ্যমে বায়ুরোধ কমিয়ে উড়োজাহাজের অ্যারোডায়নামিক দক্ষতা বাড়ানো এবং জ্বালানি ও শক্তির ব্যবহার কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। প্রকল্পটির পরীক্ষা অবশ্য পূর্ণ আকারের উড়োজাহাজে নয়। সিএআরডিসি ১:৫২ স্কেলে স্টেইনলেস স্টিলের একটি মডেল তৈরি করেছে। মডেলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার এবং ডানার বিস্তার ১.৬ মিটার। এটি সিএআরডিসির ২.৪ মিটার ট্রান্সসনিক উইন্ড টানেলে ম্যাক ০.৪ থেকে ০.৮ গতিতে পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় বায়ুপ্রবাহ, অ্যারোডায়নামিক কর্মক্ষমতা, স্থিতিশীলতা এবং কাঠামোগত বিকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাক ০.৭-এর নিচে মডেলটির লিফট-টু-ড্র্যাগ অনুপাত প্রায় ২০ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। ম্যাক ০.৮ গতিতে এই অনুপাত ছিল প্রায় ১৭.৬। তবে এই প্রকল্পকে এখনই ভবিষ্যতের কোনো যাত্রীবাহী বিমানের ঘোষণা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পূর্ণ আকারের বিমান এখনো তৈরি হয়নি এবং কবে এটি বাস্তবে যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা নেই। আপাতত উইন্ড টানেল পরীক্ষা ও অ্যারোডায়নামিক গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে প্রকল্পটি।
নিজের ছেলের জন্য ৩ডি প্রিন্টারে কৃত্রিম হাত বানিয়ে আলোচনায় আসা এক বাবা এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা আরেক শিশুর গল্পে সাড়া দিয়ে তার জন্যও একই ধরনের হাত তৈরি করেছেন। ছয় বছর বয়সী কিয়েরা ক্যাম্পবেল জন্ম থেকেই বাঁ হাতের নিচের অংশ ছাড়া জন্মেছিল। চিকিৎসকেরা তখন জানিয়েছিলেন, বয়স কম হওয়ায় এখনই তার জন্য কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার উপযুক্ত সময় হয়নি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প জানার পর সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেন ক্যালাম মিলার। কারণ তার নিজের ছেলে জেমিও জন্ম থেকেই একটি হাত ছাড়াই বেড়ে উঠছিল। ছেলের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শের বাইরে গিয়ে ৩ডি প্রিন্টার কিনে নিজেই একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে গেজেট লাইভ জানিয়েছিল, মিলার এবার কিয়েরার জন্যও একই ধরনের কৃত্রিম হাত তৈরি করেছেন। কিয়েরার মা নিকি জানান, নতুন হাতটি পাওয়ার পর মেয়ের দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যে জিনিসগুলো ঠিকভাবে ধরতে পারত না, এখন সেগুলো ধরতে পারছে। এতে তার আত্মনির্ভরশীলতাও বাড়ছে। নিকির ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়েরা প্রতিদিন একটু একটু করে কৃত্রিম হাতটি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। এমনকি এখন সে নিজেই সেটি পরতে পারে। একবার মিল্কশেক পান করার সময়ও সে নতুন হাতটি ব্যবহার করেছে। মেয়ের এই পরিবর্তনে উচ্ছ্বসিত নিকি বলেন, কিয়েরাকে এতটা আনন্দিত আগে খুব কমই দেখেছেন। নতুন হাত পাওয়ার পর স্কুলে ফিরে যাওয়ার জন্যও সে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। শুধু দৈনন্দিন কাজ নয়, কিয়েরা এখন নিজের খেলনা ও পুতুল নিয়েও আগের চেয়ে সহজে খেলতে পারছে। একটি শিশুর জন্য হাতের স্বাভাবিক ব্যবহার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, নিজের মতো করে বিভিন্ন কাজ করতে পারার সুযোগও তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে কিয়েরার পরিবারের অভিজ্ঞতায় সেটিই ফুটে উঠেছে। মিলারের নিজের ছেলে জেমির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগের শুরু। চিকিৎসকেরা অপেক্ষা করার পরামর্শ দিলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে কৃত্রিম হাত তৈরি করার উদ্যোগ নেন তিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প দেখে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তার জন্যও একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেন মিলার। এর ফলে একই ধরনের শারীরিক পার্থক্য নিয়ে বেড়ে ওঠা দুই শিশুর জীবনে প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যায়। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে কম খরচে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম অঙ্গের নকশা তৈরি ও পরিবর্তন করা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরের আকার ও প্রয়োজন বদলে যায়। প্রচলিত কৃত্রিম অঙ্গের তুলনায় সহজে পরিবর্তনযোগ্য নকশা অনেক পরিবারের জন্য বিকল্প তৈরি করতে পারে। তবে ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি এ ধরনের কৃত্রিম হাত সবসময় চিকিৎসাগতভাবে তৈরি বায়োনিক অঙ্গের সমতুল্য নয়। এগুলোর কার্যকারিতা নকশা, উপকরণ ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। তারপরও দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ কাজ করতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এগুলো শিশুদের জন্য কার্যকর হতে পারে। কিয়েরার ক্ষেত্রে এর প্রভাব শুধু কোনো জিনিস ধরতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নিজের হাতে পুতুল নিয়ে খেলা, পানীয় ধরা কিংবা নিজে কৃত্রিম হাতটি পরতে পারার মতো ছোট ছোট কাজও তার আত্মবিশ্বাসে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছেন তার মা। একই সঙ্গে ঘটনাটি দেখিয়েছে, প্রযুক্তি কীভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কারও জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। নিজের সন্তানের জন্য তৈরি করা একটি সমাধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য একটি পরিবারের কাছে পৌঁছে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আরেক শিশুর জন্যও সহায়ক হয়ে উঠেছে। কিয়েরা ও জেমির অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি ভিডিওতেও তাদের নতুন কৃত্রিম হাতের ব্যবহার এবং এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছিল। দুই শিশুর জন্যই এটি শুধু একটি যন্ত্র নয়; বরং নিজেদের দৈনন্দিন কাজ আরও স্বাধীনভাবে করার একটি নতুন সুযোগ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।