বাণিজ্য

ট্রাম্পের নতুন শুল্কে ক্ষতির মুখে
ট্রাম্পের নতুন শুল্কে ক্ষতির মুখে, ক্যালিফোর্নিয়ার ৪৮৮ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বাণিজ্য

জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের অধিকাংশ পণ্যে নতুন করে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আমদানিনির্ভর ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোক্তাপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা।   যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানিয়েছে, নতুন শুল্কব্যবস্থা দেশটির মোট আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ সরবরাহকারী শীর্ষ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে, তাদের পণ্যে সাধারণভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হচ্ছে। অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।   বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, মেক্সিকো, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট হার ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।   তবে সব পণ্য এ শুল্কের আওতায় পড়বে না। যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদিত হয় না—এমন কিছু কাঁচামাল, অর্থনীতিতে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি করতে পারে এমন পণ্য, তথ্যসামগ্রী, অনুদান ও যাত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাগেজসহ নির্দিষ্ট পণ্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।   নতুন শুল্ক ৩১ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোগের জন্য প্রবেশ করা বা গুদাম থেকে ছাড়া পণ্যের ওপর কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালিফোর্নিয়া চেম্বার অব কমার্সের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে অঙ্গরাজ্যটি বিদেশ থেকে ৪৮৮ দশমিক ২১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর প্রধান উৎস ছিল চীন, তাইওয়ান, মেক্সিকো, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়া।   এত বড় আমদানি বাজার হওয়ায় শুল্কের বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ভোক্তাদের ওপর চাপানো হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ইলেকট্রনিকস, পোশাক, যন্ত্রাংশ, গৃহস্থালি পণ্য এবং বিভিন্ন উৎপাদন উপকরণের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমদানিনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর মুনাফাও কমে যেতে পারে।   তবে শুল্ক আরোপের পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন বলছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কার্যকরভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করলে ভবিষ্যতে শুল্ক পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করা হতে পারে।   বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের জন্য আলাদা শুল্কমুক্ত কোটা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে সেই ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন শুল্কের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে আমদানিকারকেরা কতটা অতিরিক্ত ব্যয় নিজেরা বহন করেন এবং কতটা পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করেন তার ওপর। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার বিপুল আমদানি নির্ভরতা বিবেচনায় এখানকার ভোক্তা ও ব্যবসার ওপর এর প্রভাব অন্য অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি হতে পারে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে সামনে রেখে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জার্মানি। জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বলেছেন, বাংলাদেশকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে জার্মানি ও ইউরোপ অত্যন্ত আগ্রহী।   মঙ্গলবার জার্মান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান এবং এফএফওর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তারা সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।   হার্টম্যান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এর মাধ্যমে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জার্মানি ও ইউরোপ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়।   জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে প্রতিনিধি দলটি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।   সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আগ্রহও তুলে ধরে।   বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সমর্থন অব্যাহত রাখতে জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।   জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।   সফরকালে প্রতিনিধি দলটি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও বৈঠক করে। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।   ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।   সফরের অংশ হিসেবে জার্মান কর্মকর্তারা কাশিমপুরে ডিবিএল গ্রুপের টেক্সটাইল উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত হন।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
লোহিত সাগর ও উপসাগরীয় বাণিজ্য পথ বন্ধের হুমকি ইরানের

মার্কিন নৌ-অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগর বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান বলেন, "ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে কোনো প্রকার আমদানি বা রপ্তানি কার্যক্রম চলতে দেবে না।" বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত সংকল্পবদ্ধ এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবে না।  মূলত মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে কড়াকড়ি এবং অবরোধ আরোপের প্রতিক্রিয়ায় এই চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই ঘোষণা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ এবং পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও চাহিদায় গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে
হরমুজ থেকে মালাক্কা: যে ৫ সরু জলপথের ওপর জিম্মি বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি বাজার

বিশ্ব অর্থনীতির রক্তসঞ্চালন সচল রাখে যে সমুদ্রপথগুলো, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় সেগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় টালমাটাল বিশ্ববাজার। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে লাফিয়ে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তবে কেবল হরমুজ নয়, বিশ্বের মোট বাণিজ্যের একটি বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র পাঁচটি সরু জলপথ বা 'বটলনেক', যার একটি বন্ধ হওয়া মানেই বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট। ১. হরমুজ প্রণালি: বিশ্বের জ্বালানি নাভি পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরকে সংযুক্তকারী এই পথটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ। সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ৩৯ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৯ শতাংশ এখান দিয়েই যায়। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় বর্তমানে এই পথটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আইইএ-র মতে, এটি তেলের বাজারে ইতিহাসের বড় সরবরাহ বিপর্যয় ঘটাতে পারে। ২. সুয়েজ খাল ও বাবে আল মানদাব: ইউরোপ-এশিয়ার সেতুবন্ধন বিশ্ব বাণিজ্যের ১০ শতাংশ এবং কন্টেইনার পরিবহনের ২২ শতাংশ হয় সুয়েজ খাল দিয়ে। কিন্তু লোহিত সাগরের প্রবেশপথে হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলা এই রুটকে অনিরাপদ করে তুলেছে। ফলে ২০২৪ সালে এই পথে জাহাজ চলাচল অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ৩. মালাক্কা প্রণালি: চীনের 'মালাক্কা ডিলেমা' সিঙ্গাপুরের পাশ দিয়ে যাওয়া এই রুটটি বিশ্বের ব্যস্ততম সমুদ্রপথ। চীনের ৮০ শতাংশ তেল আমদানি হয় এই পথ দিয়ে। পাইরেসি বা জলদস্যুতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মূল কেন্দ্রে রয়েছে এই সরু জলপথটি। ৪. পানামা খাল: খরা ও আধিপত্যের লড়াই প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করা এই খালটি জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। তীব্র খরার কারণে পানির স্তর কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল সীমিত করতে হয়েছে। পাশাপাশি এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনপন্থী কোম্পানিগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ৫. তার্কিশ প্রণালি: বিশ্বের শস্য ভাণ্ডার বসফোরাস ও দার্দেনেলিস প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ গম রপ্তানি হয়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে এই পথটি এখন সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই পথে সামান্য বিঘ্ন ঘটলে বিশ্বজুড়ে আটা ও ময়দার দামে আগুন লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্য এই অল্প কয়েকটি বিন্দুর ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে, যেকোনো একটি পথে দুর্ঘটনা বা যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
হাইফা
ইসরায়েলের হাইফায় তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফা-র ‘বাজান’ তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই জ্বালানি শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। এতে স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।   এর আগে গত ১৯ মার্চও একই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। সে সময় ইরান দাবি করে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং Al Jazeera কর্তৃক যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।   তবে সর্বশেষ এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

Unknown মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
পাকিস্তানে চার দেশের বৈঠক, হরমুজ প্রণালি খুলতে তোড়জোড়

এক মাস ধরে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে মধ্যপ্রাচ্যের চার শক্তিধর মুসলিম দেশ একজোট হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ওয়াশিংটন ও তেহরানকে সরাসরি আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালি’কে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ করা।   বৈঠক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি বর্তমান যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সমন্বিত আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চার দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে যাতে করে যুদ্ধের দাবানল পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে। প্রথম দিনের আলোচনা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সংবাদমাধ্যমকে জানান, আঞ্চলিক শক্তিগুলো যুদ্ধের একটি দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের উপায় খুঁজছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।   কূটনৈতিক এই তৎপরতার গুরুত্ব বোঝা যায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যকার নিবিড় যোগাযোগে। বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দুই দেশের শীর্ষ নেতা প্রায় ৯০ মিনিট ফোনালাপ করেন, যা গত পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের দ্বিতীয় দফার কথা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে শুরু হওয়া এই চতুর্পক্ষীয় বৈঠক যদি সফল হয়, তবে তা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা কমাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

Unknown মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: আমেরিকা বাংলা
১০ বছরে বাণিজ্যের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে পাচার ৬৮ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে গত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের তথ্য উঠে এসেছে এক গবেষণায়। ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন (৬ হাজার ৮৩০ কোটি) ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই)।   বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, আমদানি ও রপ্তানিতে পণ্যের মূল্য বা পরিমাণে অসত্য তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে যা ‘ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং’ নামে পরিচিত এই অর্থ পাচার করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কর ফাঁকি, মুনাফা স্থানান্তর এবং বিদেশে পুঁজি সরানোর উদ্দেশ্যে আমদানিতে অতিরিক্ত মূল্য দেখানো (ওভার ইনভয়েসিং) এবং রপ্তানিতে কম মূল্য দেখানোর (আন্ডার ইনভয়েসিং) মাধ্যমে এই কারসাজি করা হয়।   জিএফআই-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য মূল্যের গরমিলের দিক থেকে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।   বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, পাচার হওয়া অর্থের বড় একটি অংশ উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের সময় ঘটেছে। মোট অর্থের মধ্যে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে গরমিলের মাধ্যমে সরানো হয়েছে।   প্রতিবেদনটি বলছে, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প ও আমদানিনির্ভর খাতগুলোতে এ ধরনের অনিয়ম বেশি দেখা যায়। ফলে এই প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে তুলনা করলে দেখা যায়, একই সময়ে ভারত থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১ দশমিক ০৬ ট্রিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা অঞ্চলের মধ্যে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের গরমিল ধরা পড়েছে।   পুরো এশিয়া অঞ্চলের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ২০২২ সালেই উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ১৬৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।   গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, এই প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে চলমান এবং তা কমানোর সুস্পষ্ট কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে কার্যকর নীতি ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এই আর্থিক অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
পশ্চিমাদের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ইরানের আইআরজিসির
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘টোল বুথ’: বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এবার ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কারকে এখন থেকে ইরানকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি বা শুল্ক প্রদান করতে হবে। ইরানের পার্লামেন্ট ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করেছে। দেশটির দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইরান পালন করছে, তাই এই করিডোর ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে অর্থ প্রদান করা যুক্তিসঙ্গত।   ইরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে তেহরান এই নৌপথটিকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি স্মার্টফোন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সার ও ওষুধের বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।   ইতিমধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এই টোল ব্যবস্থা তদারকি শুরু করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার জাহাজ আটকা পড়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অনেক দেশ এখন এই পথ দিয়ে তাদের জাহাজ নিরাপদে পার করার জন্য ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি এই টোল আইন চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়, তবে এটি কেবল তেলের বাজার নয় বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী মন্দার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Unknown মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।
হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ বাংলাদেশের জাহাজ: বিশেষ নিরাপত্তা দেবে ইরান

বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।  তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট ৬টি বন্ধুপ্রতিম দেশের জাহাজে কোনো প্রকার হামলা করা হবে না। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই স্বস্তির খবর নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়, বরং সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরাকের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় থাকবে।  আরাগচি বলেন, “ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই ছয়টি দেশের জাহাজে কোনো হামলা চালানো হবে না। যুদ্ধের এই কঠিন সময়েও দেশগুলো সেখানে ‘নিরাপদ প্যাসেজ’ বা চলাচলের বিশেষ সুবিধা পাবে।” উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান এই কৌশলগত জলপথে অবরোধ জারি করে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং দাম বৃদ্ধিতে অনেক দেশ সংকটে পড়ে। তবে ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, এই কঠোরতা শুধু ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশগুলোর জন্য। এদিকে, মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান কিছু নিয়ম জারি করেছে। প্রধান শর্ত হলো— হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে অবশ্যই ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হবে।  পাশাপাশি ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, এই জলপথ ব্যবহারের জন্য সব বিদেশি জাহাজকে নির্দিষ্ট হারে ‘টোল’ প্রদানের একটি আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে দেশটির পার্লামেন্ট।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।
ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করল অস্ট্রেলিয়া ও ইইউ

আট বছরের দীর্ঘ আলোচনা আর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।  সোমবার অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাতে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন ইইউ প্রধান উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও চীনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের বাণিজ্যের পরিধি প্রসারে নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার সাথে এই চুক্তি সেই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই একটি বড় অংশ। সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কেবল বাণিজ্যের কথা বলেননি, বরং একটি শক্তিশালী সামরিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের ঘোষণাও দিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন বলেন, "ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও আমাদের বিশ্বদর্শন অভিন্ন। এই বাণিজ্য ও সামরিক চুক্তির মাধ্যমে আমরা একে অপরের আরও কাছে আসব।" রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য এবং নিরাপত্তার এক নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০