বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী জার্মানি
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তরণ এবং নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগকে সামনে রেখে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জার্মানি। জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বলেছেন, বাংলাদেশকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী করতে জার্মানি ও ইউরোপ অত্যন্ত আগ্রহী।
মঙ্গলবার জার্মান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান এবং এফএফওর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তারা সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
হার্টম্যান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এর মাধ্যমে দেশটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জার্মানি ও ইউরোপ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায়।
জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে প্রতিনিধি দলটি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহযোগিতা সম্প্রসারণে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আগ্রহও তুলে ধরে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সমর্থন অব্যাহত রাখতে জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
সফরকালে প্রতিনিধি দলটি বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও বৈঠক করে। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের আগে অর্থনৈতিক সংস্কারের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
সফরের অংশ হিসেবে জার্মান কর্মকর্তারা কাশিমপুরে ডিবিএল গ্রুপের টেক্সটাইল উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেন। সেখানে তারা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত হন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreপ্রেমের সম্পর্কে ব্যর্থ হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন নাজমুল ইসলাম বাপ্পি। এরপর ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিজের বাড়িতেই ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। গাজীপুরের টঙ্গীতে সেই গোপন কারখানার সন্ধান পেয়ে ৩২ বছর বয়সী বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে টঙ্গীর পাগার আলেক টেক এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বাপ্পি ওই এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগে প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সেই সম্পর্কে আঘাত পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। এরপর নিজেই ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা করেন। বাপ্পির ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক তৈরির বিষয়ে তাঁর আগে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছিল না। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ইয়াবা তৈরির উদ্যোগ নেন। তবে প্রেমের সম্পর্কে ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে তাঁর মাদক তৈরির পরিকল্পনার সম্পর্কটি তাঁর নিজের দাবি। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েক দিন ধরে বাপ্পির বাড়ির ওপর নজরদারি করছিল পুলিশ। সেখানে মাদক তৈরির কার্যক্রম চলার তথ্য পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বাড়িটির ভেতরে একটি গোপন কক্ষ ও পরীক্ষাগারের সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, কক্ষটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে সহজে সেখানে প্রবেশ করা না যায়। সেখানে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ও মাদক তৈরির সরঞ্জাম মজুত ছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। ইয়াবা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণও সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে উদ্ধার করা সরঞ্জাম ব্যবহার করে কত পরিমাণ ইয়াবা তৈরি করা হয়েছিল কিংবা ইতিমধ্যে কোনো মাদক বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাপ্পি কয়েক বছর আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। এরপর তাঁর জীবনযাপনে পরিবর্তন আসে এবং তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে স্থানীয়দের দাবি। এদিকে টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুল রহমান শনিবার সকালে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক তৈরির সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের এই অভিযানের পর আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে গোপনে মাদক তৈরির উদ্যোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এমন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। ঘটনায় বাপ্পির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গ্রেপ্তারের পর বাপ্পির দেওয়া বক্তব্যে প্রেমে ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে এলেও পুলিশের তদন্তের মূল বিষয় হচ্ছে মাদক তৈরির উদ্দেশ্যে সরঞ্জাম সংগ্রহ, গোপন কারখানা স্থাপন এবং সম্ভাব্য উৎপাদন কার্যক্রম। তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার করা রাসায়নিক উপাদানের প্রকৃতি, মাদক তৈরির কার্যক্রম কত দূর এগিয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেসব বিষয় পরিষ্কার হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: আর টিভি
যুক্তরাষ্ট্রে এআই দিয়ে বানানো কার্টুন মিম বিক্রি করে কোটি টাকার ব্যবসা বাংলাদেশের দুই ভাইয়ের
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ গ্রেপ্তার
পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ রাব্বির, স্বপ্ন বিজ্ঞানী হওয়ার
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ডিএমপি নিউজ’-এ হঠাৎ রাজনৈতিক বার্তা ও সহিংসতার ছবি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করলে নিয়মিত সংবাদ ও তথ্যের পরিবর্তে পুলিশের ছবি, সহিংসতার দৃশ্য এবং ৫ আগস্টের ঘটনা উল্লেখ করে লেখা একটি রাজনৈতিক বার্তা দেখা যায়। একই সঙ্গে ওয়েবসাইটের ব্যাকগ্রাউন্ডে গান বাজতে শোনা যায়। এ ঘটনায় ওয়েবসাইটটি সাইবার হামলা বা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ডিএমপি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। রোববার (১ নভেম্বর) রাত ২টা ৩৩ মিনিটে প্রকাশিত ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার গভীর রাতে ডিএমপি নিউজের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অস্বাভাবিক এসব দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে পুলিশের একটি ছবির পাশাপাশি সহিংসতার দৃশ্য প্রদর্শিত হচ্ছিল। একটি ছবিতে লেখা ছিল, ‘পুলিশ-তুমি যতই মারো, ৫ আগস্ট কি ভুলতে পার?’ এর সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিকও যুক্ত ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়েবসাইটটির নিয়মিত সংবাদ কনটেন্টের পরিবর্তে এসব বার্তা ও ছবি প্রদর্শিত হচ্ছিল। সাধারণত ডিএমপি নিউজে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যক্রম, অপরাধসংক্রান্ত সংবাদ, জনসচেতনতামূলক তথ্য এবং পুলিশের বিভিন্ন উদ্যোগের খবর প্রকাশ করা হয়। কিন্তু শনিবার রাতে স্বাভাবিক সংবাদ পরিবেশনের পরিবর্তে রাজনৈতিক বার্তা দেখা যাওয়ায় ওয়েবসাইটটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, ঘটনার পর একপর্যায়ে ওয়েবসাইটটিতে আর প্রবেশ করা যাচ্ছিল না। তবে ওয়েবসাইটটি হ্যাক করা হয়েছিল, নাকি অন্য কোনো কারিগরি সমস্যার কারণে অননুমোদিত কনটেন্ট প্রদর্শিত হয়েছিল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে ফোন ও মেসেজে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে একই ঘটনার বিষয়ে রোববার রাত ৩টা ১ মিনিটে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কালবেলা। সংবাদমাধ্যমটিও জানিয়েছে, ডিএমপি নিউজের ওয়েবসাইটে রাজনৈতিক বার্তা ও সহিংসতার ছবি দেখা গেছে। তবে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে কনটেন্ট পরিবর্তনের ঘটনাকে সাইবার নিরাপত্তার ভাষায় ওয়েবসাইট ডিফেসমেন্ট বলা হয়। এ ধরনের ঘটনায় অনুপ্রবেশকারী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ওয়েবসাইটের স্বাভাবিক তথ্য সরিয়ে নিজেদের বার্তা, ছবি কিংবা অন্য কনটেন্ট প্রদর্শন করতে পারে। তবে শুধু অস্বাভাবিক বার্তা দেখা যাওয়ার ভিত্তিতে ওয়েবসাইটের সার্ভার, তথ্যভান্ডার কিংবা ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এ জন্য কারিগরি তদন্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ে এর আগেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা এবং কনটেন্ট পরিবর্তনের অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনার ক্ষেত্রে হামলার উৎস, ব্যবহৃত পদ্ধতি এবং প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ। ডিএমপি নিউজের ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে ওয়েবসাইটে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শিত হলো এবং কোনো তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে পরবর্তী যাচাইয়ে ওয়েবসাইটটির স্বাভাবিক সংবাদ কনটেন্ট পাওয়া গেছে। তবে ওয়েবসাইট সচল থাকাই সম্ভাব্য সাইবার হামলার অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রমাণ নয়। ঘটনাটি নিয়ে ডিএমপি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও কারিগরি অনুসন্ধানের ফল প্রকাশিত হলে ওয়েবসাইটে অস্বাভাবিক কনটেন্ট প্রদর্শনের প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে। আপাতত সংবাদমাধ্যমগুলোর পর্যবেক্ষণে রাজনৈতিক বার্তা ও সহিংসতার ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি উঠে এলেও হ্যাকিংয়ের ঘটনা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সূত্র: ঢাকা পোস্ট, কালবেলা,ডিএমপি নিউজের ওয়েবসাইট।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ঢাকায় আসছেন প্রবাসী উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা, ১ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন
লংমার্চ থেকে ফেরার পথে জামায়াতের বাসের চা পায় নিহত পথচারী, খাদে পড়ে আ হ ত ৩০
দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যাত্রা শুরু, জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন মাইলফলক
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মজিদবাড়িয়া কলেজ থেকে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী। মানবিক বিভাগের ওই পরীক্ষার্থীও একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে আটজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও শিক্ষার্থীসংখ্যা কমে যাওয়ায় কলেজটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও মজিদবাড়িয়া কলেজ এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি সরকারি বেতন সহায়তার আওতায় আসেনি। দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যেও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কলেজটি। নিজস্ব পাকা ভবন না থাকায় জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছে। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটি থেকে একজন শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসংকটকে নতুন করে সামনে এনেছে। সাধারণত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পাসের হার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে মজিদবাড়িয়া কলেজের ক্ষেত্রে মাত্র একজন পরীক্ষার্থী থাকায় তাঁর ফলাফলের ওপরই নির্ভর করেছে পুরো প্রতিষ্ঠানের পাসের হার। ওই শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে ফেল করায় কলেজের ফলাফলে কোনো উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নেই। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকা এবং দীর্ঘদিন এমপিওভুক্ত না হওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটি নানা সমস্যার মুখে রয়েছে। বিশেষ করে জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে পাঠদান চলায় শিক্ষার্থী ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রতিবছর শিক্ষার্থীসংখ্যা কমছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ পরিস্থিতিতে কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা এবং নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে একমাত্র পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হলেও তাঁর সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়া ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী প্রস্তাবিত পুনঃপরীক্ষার সুযোগের আওতায় আসতে পারেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় বিধিমালা চূড়ান্ত হওয়ার পর পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি জানানো হবে। মজিদবাড়িয়া কলেজের একমাত্র পরীক্ষার্থী রাজু আহমেদও এ সুযোগ পেতে পারেন। তিনি পুনঃপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তাঁর ফলাফল পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকবে। তবে পুনঃপরীক্ষার চূড়ান্ত নিয়ম ও সময়সূচি এখনো প্রকাশিত হয়নি। অন্যদিকে কলেজটির শিক্ষার্থীসংকট, অবকাঠামোগত দুরবস্থা এবং এমপিওভুক্ত না হওয়ার সমস্যা রয়ে গেছে। সূত্র: মাছরাঙা টিভি
এইচএসসিতে পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার শিক্ষার্থী
একটি রেডিও কিনতে ৫ বিঘা জমি বিক্রি করেন! ব্যাটারি কিনতে খরচ হয় দেলোয়ার হোসেনের আরও ১ বিঘা