মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প
৪০ বছর পর লেবাননে সরাসরি ফ্লাইট চালুর নির্দেশ ট্রাম্পের

প্রায় ৪০ বছর পর লেবাননের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বাণিজ্যিক বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন–এর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন, যেন দেশের সব দেশীয় এয়ারলাইনকে লেবাননে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়।   এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ১৯৮৫ সালের পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি লেবাননে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু হবে।   যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮৫ সালে লেবাননের উদ্দেশে সব বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত করেছিল। ওই বছর গ্রিসের এথেন্স থেকে ইতালির রোমগামী টিডব্লিউএ ফ্লাইট ৮৪৭ ছিনতাই করে বৈরুতে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৭ দিন ধরে চলা সেই জিম্মি সংকটে একজন মার্কিন নৌবাহিনীর ডুবুরি নিহত হন। এরপর থেকেই লেবাননে সরাসরি মার্কিন ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়।   তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পরও তাৎক্ষণিকভাবে ফ্লাইট চালু হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) জানিয়েছে, বৈরুত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার পরই কোনো মার্কিন এয়ারলাইন এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।   এফএএ আরও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়নে তারা সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিমান পরিবহন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করবে, যাতে নিরাপদভাবে লেবাননে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা যায়।   তবে বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো লেবাননের জন্য ‘ডু নট ট্রাভেল’ বা ভ্রমণ না করার সতর্কতা বহাল রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরও নিরাপত্তাজনিত কারণে অপ্রয়োজনীয় মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের লেবানন ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।   অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই মার্কিন তিনটি বড় এয়ারলাইন—আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এবং ডেল্টা এয়ার লাইন্স—এখনো ইসরায়েলের তেলআবিবে ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে।   এর আগে চলতি বছরই ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। প্রায় সাত বছর পর মায়ামি থেকে কারাকাসে আবারও মার্কিন বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হয়। লেবাননের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যদিও নিরাপত্তা মূল্যায়নের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে সরাসরি ফ্লাইট কবে থেকে শুরু হবে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
টিকটকে ‘এক নম্বর’ দাবি ট্রাম্পের
টিকটকে ‘এক নম্বর’ দাবি ট্রাম্পের, পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি। তবে প্রকাশিত তথ্য ও পরিসংখ্যান তার এই বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না।   হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, নতুন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি টিকটকে ‘এক নম্বর’ অবস্থানে রয়েছেন। বক্তব্যের সময় তিনি মজা করে টিকটককে ‘টিক ট্যাক’ বলেও উল্লেখ করেন, যা উপস্থিতদের মধ্যে কিছুটা হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি করে।   তবে এর আগের দিন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প যে তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছিলেন, তাতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ওই তথ্যচিত্রে তাকে টিকটকের ‘সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা এবং সবচেয়ে বেশি দেখা বিশ্বনেতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ এই হিসাবটি কেবল বিশ্বনেতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, সব ব্যবহারকারী বা বিনোদন জগতের তারকাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়নি।   ফলে পপ তারকা টেইলর সুইফটের মতো ব্যক্তিত্ব ওই তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। একই সঙ্গে তাকে ১১তম অবস্থানে থাকার কোনো উল্লেখও ওই তথ্যচিত্রে পাওয়া যায়নি।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের পক্ষে দেখানো ৪২৫ বিলিয়ন ভিউ আসলে #ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভিডিওর মোট দর্শকসংখ্যা। এতে তার নিজের অ্যাকাউন্টের ভিডিও ছাড়াও সাধারণ ব্যবহারকারীদের তৈরি সমর্থনমূলক, সমালোচনামূলক বা নিরপেক্ষ—সব ধরনের কনটেন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে এই ভিউ সংখ্যা সরাসরি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার নির্ভরযোগ্য সূচক হিসেবে ধরা যায় না।   অনুসারীর সংখ্যার দিক থেকেও ট্রাম্প উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে আছেন। বর্তমানে টিকটকে তার অনুসারী প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ, যেখানে টেইলর সুইফটের অনুসারী সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৩৫ লাখ। অর্থাৎ অনুসারীর সংখ্যায় সুইফট ট্রাম্পের প্রায় দ্বিগুণ এগিয়ে।   অন্যদিকে, টিকটকে সবচেয়ে বেশি অনুসারী থাকা নির্মাতাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ইতালিয়ান কনটেন্ট নির্মাতা খাবি লেইম, যার অনুসারী সংখ্যা ১৬ কোটিরও বেশি। তার পরেই অবস্থান করছেন চার্লি ডি’অ্যামিলিও এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার মি.বিস্ট।   সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প টিকটকের চীনা মালিকানা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়েও কথা বলেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, তিনি বিশ্বনেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে থাকতে পারেন, কিন্তু টিকটকের সব ব্যবহারকারী বা সেলিব্রিটিদের মধ্যে ‘এক নম্বর’—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: সামা টিভি

নীলুফা নিশাত জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নেতাদের হত্যার চেষ্টা করেছে ইরান -দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন নেতাদের হত্যার চেষ্টা করেছে ইরান -দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।   একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের, এমনকি তাকেও লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছে। তবে এ বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেননি।   ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।   এছাড়া ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, “ওরা অসুস্থ মানসিকতার মানুষ। আমি তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।”   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যও সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই এসেছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ওয়ালমার্টের মূল্যছাড় ঘোষণা, কৃতিত্ব নিলেন ট্রাম্প
ওয়ালমার্টের মূল্যছাড় ঘোষণা, কৃতিত্ব নিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্ট গরুর মাংসসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। গ্রীষ্মকালীন মৌসুমকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই এর কৃতিত্ব নিজের প্রশাসনের বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওয়ালমার্ট জানায়, ক্রেতাদের সুবিধা ও মৌসুমি চাহিদা বিবেচনায় বিভিন্ন পণ্যে মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে ওই ঘোষণায় ট্রাম্প বা তার প্রশাসনের কোনো উল্লেখ ছিল না।   এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন ওয়ালমার্ট তার প্রশাসনের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে ব্যাপকভাবে পণ্যের দাম কমাচ্ছে। তার এই মন্তব্য ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।   তবে তথ্য অনুযায়ী, ওয়ালমার্টের মূল্যছাড় সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ট্রাম্পের পোস্ট দেওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ওয়ালমার্ট ইউএস-এর প্রধান মার্চেন্ট জুলি বারবার জানান, গ্রীষ্মকালকে সামনে রেখে ক্রেতাদের সাশ্রয়ের সুযোগ বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তিনি বলেন, ফলমূল, পানীয়, সুইমিং পুল সামগ্রী, খেলনা, বারবিকিউ গ্রিল এবং গ্রীষ্মকালীন পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যে দাম কমানো হবে। “ক্রেতারা বাড়িতে বারবিকিউর প্রস্তুতি নিন, ছুটিতে যান বা সাপ্তাহিক বাজার করুন—সব ক্ষেত্রেই আমরা তাদের আরও সাশ্রয়ের সুযোগ দিতে চাই,”—যোগ করেন তিনি।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বড় খুচরা বিক্রেতারা ক্রেতা ধরে রাখতে বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করছে। এর অংশ হিসেবেই মৌসুমি ছাড় ও বিশেষ অফার বাড়ানো হচ্ছে।   এদিকে ওয়ালমার্টের পাশাপাশি অন্যান্য সুপারমার্কেট চেইনও একই পথে হাঁটছে। গত জুনে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ক্রোগারের কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের জানান, নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে পরীক্ষামূলকভাবে মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে, যাতে ক্রেতাদের কেনাকাটায় আগ্রহ বাড়ে।   সব মিলিয়ে, বাজার প্রতিযোগিতা ও ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে মূল্যছাড়ের প্রবণতা আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৬, ২০২৬ ১৪:০
তুরস্ককে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রির উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের
তুরস্ককে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের জেট ইঞ্জিন বিক্রির উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের, কংগ্রেসে আপত্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তুরস্কের কাছে ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের কয়েক ডজন জেট ইঞ্জিন বিক্রির পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতোমধ্যে কংগ্রেসের ভেতরে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করছেন।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানা যায়, ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং কংগ্রেসের পূর্ববর্তী আপত্তি সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তি এগিয়ে নিতে চাইছে।   বুধবার রাতে কংগ্রেসে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাজনৈতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, মানবাধিকার এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেই এই রপ্তানি লাইসেন্স অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ ও মিত্র দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।   আগামী মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো সম্মেলনের আগে এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি ওয়াশিংটনের সদিচ্ছার বার্তা হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই তুরস্ককে ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।   তবে কংগ্রেস চাইলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে যৌথ প্রস্তাব এনে এই বিক্রয় চুক্তি আটকে দিতে পারে। যদিও এমন প্রস্তাব কার্যকর করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই তা অনুমোদন পেতে হবে। এরপরও প্রেসিডেন্টের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।   প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই চুক্তির কড়া সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, তুরস্কের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসন পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।   মিকস বলেন, “এই ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে কয়েক বছর সময় লাগে। অথচ প্রশাসন আমাদের নীতিগত গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগগুলোর সন্তোষজনক জবাব দিতে পারছে না।”   এদিকে ট্রাম্প নিজেও বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, তুরস্ককে খুশি করবে—এমন কিছু সিদ্ধান্ত তিনি নিতে যাচ্ছেন, যা এই চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিক (জিই)-এর তৈরি এসব ইঞ্জিন তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মাণাধীন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘কান’ (KAAN)-এ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।   তবে তুর্কি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, তাদের বিমানবাহিনীর প্রধান শক্তি হিসেবে থাকা মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।   প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে রাশিয়ার এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর জেরে ওয়াশিংটন আঙ্কারার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয়। একই সঙ্গে কংগ্রেস আইন পাস করে, যাতে এস-৪০০ ব্যবস্থা বহাল থাকা পর্যন্ত তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি নিষিদ্ধ থাকে।   এ অবস্থায় নতুন করে জেট ইঞ্জিন বিক্রির উদ্যোগকে অনেকেই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন পরীক্ষার মুখ হিসেবে দেখছেন। বৃহস্পতিবার আরও কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন।   প্রতিনিধি ক্রিস পাপাস বলেন, “মার্কিন আইন লঙ্ঘনের পরও এরদোয়ান সরকারকে কোনোভাবেই পুরস্কৃত করা উচিত নয়।” তিনি তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান না দেওয়ার আহ্বানও জানান।   অন্যদিকে প্রতিনিধি ডিনা টাইটাস সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন যদি এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়, তবে তিনি কংগ্রেসে প্রস্তাব এনে জেট ইঞ্জিন বিক্রি ঠেকানোর উদ্যোগ নেবেন।   সব মিলিয়ে, তুরস্ককে জেট ইঞ্জিন বিক্রির এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যার প্রভাব ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নীলুফা নিশাত জুন ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপছে ভেনেজুয়েলা, ‘নতুন বন্ধু’ নিয়ে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ভূমিকম্প দুটিকে “অত্যন্ত শক্তিশালী” হিসেবে বর্ণনা করে বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার (২৪ জুন) এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে দেশটিতে। ভূমিকম্পের পর থেকে অন্তত ২০টির বেশি পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলীয় অঞ্চল। লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো এবং ফালকোন রাজ্যে ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব এলাকায় ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।   বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।   ইউএসজিএস-এর প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির হিসেবে, ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রায় ৪৪ শতাংশ এবং ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ।   এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।” দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।   একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তথ্য খুব আশাব্যঞ্জক নয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।   উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় একটি সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে কারাবন্দি রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক ইতোমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ শুধু মানবিক সংকটই নয়, আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। উদ্ধার তৎপরতা, আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং সরকারের কার্যকর পদক্ষেপই এখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।  

নীলুফা নিশাত জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়া মেলোনি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনায় মেলোনি, বাতিল ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ফোরাম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনায় বিশ্বনেতারা সাধারণত সংযত থাকলেও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আক্রমণ ও বক্তব্যের জবাবে তিনি প্রকাশ্যেই কড়া সমালোচনা করেছেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। এর সরাসরি প্রভাবে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বাণিজ্য ফোরাম বাতিল করা হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এত দিন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও রক্ষণশীল মিত্র হিসেবে পরিচিত মেলোনির এই অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেওয়া বক্তব্যে মেলোনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প নিয়মিত ভ্রান্ত তথ্য ছড়ান, মিত্রদের অবমূল্যায়ন করেন এবং প্রতিপক্ষের প্রতি নমনীয় আচরণ দেখান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার দিকেও ইঙ্গিত করেন তিনি।   এর আগে ইরান ইস্যুতে পোপ লিও চতুর্দশকে ঘিরে মন্তব্য নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মেলোনির মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক জি-৭ বৈঠকের পর সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অন্য নেতারা কৌশলগত কারণে সংযত থাকলেও মেলোনি তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।   এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেষ মুহূর্তে মায়ামিতে নির্ধারিত যৌথ বাণিজ্য ফোরাম বাতিলের ঘোষণা দেয়। সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে মার্কিন নেতৃত্বাধীন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অংশীদারত্ব উদ্যোগ ‘প্যাক্স সিলিকা’তে ইতালির যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।   ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ববিষয়ক দূত পাওলো জাম্পোলি ইতালীয় দৈনিক ‘লা রিপাবলিকা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ পরিস্থিতিকে দুই দেশের সম্পর্কে ‘গুরুতর ফাটল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক কূটনৈতিক শৈলীর মুখে ইউরোপীয় নেতারা সাধারণত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কিংবা জার্মানির ফ্রেডরিখ মার্জ—সবার মধ্যেই সম্পর্ক রক্ষায় কৌশলী অবস্থান দেখা গেছে। তবে মেলোনি এবার সেই ধারার বাইরে গিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখালেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রোমের লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লরেঞ্জো কাস্তেলানি মনে করেন, মেলোনি নিজেকে ‘কারও অনুসারী’ নয়, বরং স্বাধীন নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। এই অবস্থান দেশের ভোটারদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনায় একই ধাঁচ, ক্লান্ত ট্রাম্প

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ন্ত্রণ করা বা সামলানো অত্যন্ত কঠিন—এমন মন্তব্য নাকি ব্যক্তিগত আলোচনায় করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি নেতানিয়াহু পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত কঠোর সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে থাকেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাছে নেতানিয়াহুর আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প জানান, ব্যক্তি হিসেবে তিনি নেতানিয়াহুকে “চমৎকার” মনে করেন, যদিও মাঝে মাঝে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আবেগপ্রবণ হয়ে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দূর এগিয়ে যান।   মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই নেতার মধ্যে হওয়া টেলিফোন আলাপগুলো প্রায়ই ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন সামরিক অভিযানের প্রস্তাব বা চাপকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো। এতে করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একই ধরনের অনুরোধ শুনতে শুনতে কিছুটা ক্লান্তি অনুভব করতে শুরু করেন ট্রাম্প।   হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে ওই কর্মকর্তা বলেন, “নেতানিয়াহু সাধারণত প্রেসিডেন্টকে বোঝানোর চেষ্টা করেন কেন কোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা প্রয়োজন এবং ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কেন এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট মনোযোগ দিয়ে এসব শোনেন, কিন্তু কথোপকথনের ধরণ প্রায় একই থাকে।”   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে কৌশলগত মতপার্থক্যের ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে সামরিক পদক্ষেপের মাত্রা ও সময় নির্ধারণ নিয়ে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের নীতিগত অবস্থান ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নীলুফা নিশাত জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ রয়টার্স
ফ্রান্সের জি৭ সম্মেলনে নিজেকে ‘বস’ বললেন ট্রাম্প, নরম সুরে ইউরোপ

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রধানদের উপস্থিতিতে নিজেকে ‘বস’ বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা বিষয়ক একটি অধিবেশনে সাংবাদিক ও বিশ্বনেতাদের সামনে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে ঠিক কী প্রেক্ষাপটে তিনি এমন দাবি করেছেন, তা খোলসা করেননি। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিসহ কোনো রাষ্ট্রনেতাই ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কোনো প্রতিবাদ জানাননি।   বরং, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ও ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে এতদিন ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে আসা ইউরোপীয় নেতারাও এবার বেশ নমনীয় অবস্থান দেখিয়েছেন।   গত ১৫ জুন থেকে ফ্রান্সে শুরু হওয়া জি৭ সম্মেলন চলবে ১৭ জুন বুধবার পর্যন্ত। ইতোমধ্যে ট্রাম্প অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করেছে। বুধবারের অধিবেশনে মূলত দুষ্প্রাপ্য খনিজ সম্পদ, বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আর এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেকে ‘বস‌’ হিসেবে উল্লেখ করেন।   সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতাদের এমন সুর বদলের পেছনে রয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের এক বড় ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীর এক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। ইরান প্রতিশোধ হিসেবে বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে পণ্য পরিবহণেও বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী নীতির তখন তীব্র সমালোচনা করেছিল ইউরোপের একাধিক দেশ।   হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার বিষয়ে ট্রাম্প ইউরোপের সাহায্য চাইলেও বেশির ভাগ শক্তিধর দেশ সে সময় পিছিয়ে যায়, যা নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বারবার ক্ষোভও প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এবারের জি৭ বৈঠকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র দেখা গেছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎজ গত মঙ্গলবার ট্রাম্পকে ৪৭ নম্বর লেখা একটি ফুটবল জার্সিও উপহার দেন, যা বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের এই বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই নাটকীয় সুর বদলের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ইরান চুক্তি। গত রোববার ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যা আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই চুক্তিটিকে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী, ট্রাম্পের মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান ঘটিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে, যেখানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। এক মাস আগেও, অর্থাৎ এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।   এই তথ্য প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি এটা ভালোবাসি। সংখ্যাগুলো দুর্দান্ত।” আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, “আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি।” তার এমন মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বক্তব্যকে অনেকেই অসংবেদনশীল বলে মনে করেন।   তবে পরবর্তীতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বাড়েনি। তার ভাষায়, “আমি এই সংখ্যাগুলো পছন্দ করি কারণ এতে আমার পূর্বাভাসই প্রতিফলিত হয়েছে। যুদ্ধ শেষ হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমে আসবে।”   অর্থনীতিবিদদের মতে, ইরান-সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সামগ্রিক জ্বালানির দাম আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন নিয়মিত পেট্রোলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৫ ডলার, যা গত ফেব্রুয়ারির শেষে ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার।   শুধু জ্বালানিই নয়, বিমান ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত সেবা, বিনোদন এবং যোগাযোগ খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিএলএস। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও চাপের মুখে পড়ছে।   উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-এর আমলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছিল। বর্তমান হার সেই তুলনায় কম হলেও, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগতে পারে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ তাৎক্ষণিকভাবে কমার সম্ভাবনা সীমিত।   বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসা এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে সরাসরি অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে এবং তার প্রতিফলন সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়ছে।  

নীলুফা নিশাত জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০
পোপ লিওকে উদ্দেশ্য করে নতুন বার্তা ট্রাম্পের
পোপ লিওকে উদ্দেশ্য করে নতুন বার্তা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরান ইস্যুতে কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। ভ্যাটিকানের প্রধান পোপ লিওকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া উচিত নয়।   বুধবার (১৫ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, গত দুই মাসে ইরানে হাজারো নিরস্ত্র বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। তিনি পোপকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, এ বিষয়টি যেন গুরুত্বসহকারে দেখা হয় এবং ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। পোস্টের শেষে তিনি ‘আমেরিকা ফিরে এসেছে’ বলেও মন্তব্য করেন।   এর আগে, কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প পোপ লিওর সমালোচনা করে তাকে অপরাধ দমন ও পররাষ্ট্রনীতিতে দুর্বল বলে উল্লেখ করেছিলেন। জবাবে পোপ জানান, তিনি কোনো চাপ বা ভয়কে গুরুত্ব দেন না এবং যুদ্ধবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসবেন না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী পদক্ষেপের সমালোচনা করেন তিনি।   তবে ট্রাম্পের দেওয়া হতাহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার দাবি অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি হলেও ইরান সরকার জানিয়েছে, জানুয়ারির বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা তিন হাজারের কিছু বেশি। দেশের বাইরে থাকা বিভিন্ন সংগঠন এই সংখ্যা সাত হাজারের মতো বলে উল্লেখ করেছে।   অন্যদিকে, জাতিসংঘের একজন বিশেষ প্রতিবেদকের মতে, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে বিশ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।   এদিকে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ তাদের কাছে নেই।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি - সংগৃহিত
মার্কিন অবরোধের ফলে চীনে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি পূরণ করবে রাশিয়া

ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধের কারণে চীনে যে জ্বালানি ও সম্পদের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে মস্কো প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ল্যাভরভ এই আশ্বাস দেন।    তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া নিঃসন্দেহে চীনের সম্পদের এই ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম এবং যারা রাশিয়ার সঙ্গে ন্যায্য ও পারস্পরিক লাভজনক উপায়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের সবার জন্যই মস্কোর সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। মূলত ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে চীন বর্তমানে মার্কিন অবরোধের কারণে ব্যাপক সংকটে পড়েছে, আর এই সুযোগেই রাশিয়া তাদের জ্বালানি অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার প্রস্তাব দিল।     সের্গেই ল্যাভরভ তার বক্তব্যে রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সব ধরনের প্রতিকূলতার মুখেও এই দুই দেশের সম্পর্ক অটল রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যকার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বিশ্বজুড়ে চলমান নানা অস্থিরতা মোকাবিলায় দুই দেশকে উচ্চমাত্রার সহনশীলতা ও শক্তি জোগাচ্ছে।  ল্যাভরভের মতে, পশ্চিমের চাপ বা কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা বেইজিং ও মস্কোর মধ্যকার কৌশলগত মৈত্রী ভাঙতে পারবে না, বরং এই ধরনের সংকটময় পরিস্থিতি দেশ দুটিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে।   উল্লেখ্য যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনী কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এই অবরোধ চলাকালীন বেইজিং কোনোভাবেই ইরান থেকে তেল কিনতে পারবে না।   চীন তাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশের জন্য তেহরানের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা দেশটির শিল্প ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাবটি চীনের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে এবং এটি বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে।   বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় উত্তেজনার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি যে ধরনের ধাক্কা খাচ্ছে, তা মোকাবিলায় রাশিয়া ও চীন একে অপরের প্রধান সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ল্যাভরভের বেইজিং সফর এবং পুতিন-শি জিনপিংয়ের মধ্যকার সমন্বিত অবস্থান মূলত পশ্চিমা শক্তিগুলোকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া যদি সফলভাবে চীনের জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে পারে, তবে বিশ্ববাজারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি এশিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং রাশিয়ার এই নতুন সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চীন কতটা নির্ভর করে।

Unknown এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের তেল সম্পদে নজর ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বিবেচনা করতে পারে। তিনি বিষয়টিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের অর্থনৈতিক লাভ হিসেবে তুলে ধরেছেন।   এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, সুযোগ থাকলে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতেও পারেন, কারণ ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই তিনি বিষয়টি দেখেন। তার মতে, অতীতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য সুবিধা এনে দিয়েছে।   ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সেখানে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষায়, অতীতের মার্কিন নীতির তুলনায় এটি ভিন্ন ধরনের কৌশল, যেখানে বিজয়ী পক্ষ বেশি সুবিধা পায়।   তিনি আরও বলেন, তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া গেলে যুদ্ধের ব্যয় সহজেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব, এমনকি তা থেকে অতিরিক্ত লাভও হতে পারে।   এদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। তার দাবি, দেশটির নৌ, বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তেমন শক্তিশালী নয়।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, অন্য একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এমন ধারণা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের দৃষ্টিতে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের কারাজে হামলায় বিধ্বস্ত বি ওয়ান সেতু । ছবি: রয়টার্স
মার্কিন হামলায় ধ্বংস হলো ইরানের সবচেয়ে উঁচু সেতু, ট্রাম্প জানান ‘আরও হামলা আসছে’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন, কারাজে হামলায় ইরানের সবচেয়ে উঁচু সেতু বি ওয়ান ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার পর ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি পাঁচ সপ্তাহের এই সংঘাত বন্ধ করতে আলোচনায় না আসে, তবে আরও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেতুটির অবস্থান আলবোরজ প্রদেশের কারাজে। আলবোরজ প্রদেশের উপগভর্নর গোদরাতুল্লাহ সাইফ জানান, হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন।   হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, কারণ সংবাদমাধ্যমের ওপর নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা আরোপ করা হয়েছে।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি ধসে পড়েছে, যা আর কখনো ব্যবহারযোগ্য হবে না। সামনে আরও অনেক কিছু ঘটবে। ইরানের জন্য দেরি হয়ে যাওয়ার আগে চুক্তিতে আসার সময় এসেছে।”   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, “অসমাপ্ত সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলার মধ্য দিয়ে ইরানিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। বরং এটি শত্রুর বিশৃঙ্খল অবস্থা ও নৈতিক পতনের ইঙ্গিত দেয়।”   ফারস নিউজ জানিয়েছে, বি ওয়ান সেতুটি নির্মাণাধীন ছিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু সেতু হিসেবে পরিচিত। এর একটি স্তম্ভের উচ্চতা ৪৪৭ ফুট (১৩৬ মিটার)।   এর আগে ট্রাম্প গত বুধবার এক ভাষণে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রায় শেষের পথে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, ইরান শর্ত মানা পর্যন্ত দেশটির ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলা চালানো হবে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান ইস্যুতে ইউরোপের অনীহা—যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে মিলছে না প্রত্যাশিত সাড়া

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর কাছে একাধিক সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা চেয়েছেন।   এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক প্রস্তুতি ও প্রভাব আরও জোরদার করা।   তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই সীমিত। বেশিরভাগ দেশই সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে অংশগ্রহণ বা সমর্থন দিতে অনীহা দেখিয়েছে। তারা সীমিত প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দিতে রাজি থাকলেও, সংঘাত আরও বাড়তে পারে এমন কোনো পদক্ষেপে যুক্ত হতে চায় না। বরং ইউরোপের পক্ষ থেকে বারবার পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই সতর্ক অবস্থানের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে—যা ইউরোপীয় দেশগুলো এড়াতে চায়। পাশাপাশি, অনেক দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমতও সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফলে তারা কৌশলগতভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে।   এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসের কিছু অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্কের নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ এখন অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী এবং সব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত হচ্ছে না। ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর।

নীলুফা নিশাত মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েন তীব্র হচ্ছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং হোয়াইট হাউসের সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন সম্প্রতি এক বিতর্কিত মন্তব্যে বলেছেন, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের তাদের সন্তানদের সরাসরি যুদ্ধের প্রথম সারিতে পাঠানো উচিত।   শনিবার (২৯ মার্চ) তার পডকাস্ট ‘ওয়ার রুম’-এ ব্যানন বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো স্থল অভিযান হলে আরব রাজপরিবারের সদস্যদের প্রথম সারিতে থাকা উচিত। তিনি উপহাসের সুরে প্রশ্ন তুলেছেন, রাজপরিবারের সন্তানরা কি বিশেষ বাহিনীতে প্রশিক্ষিত এবং তারা কতটা সাহসিকতা দেখাতে সক্ষম, তা পরীক্ষার সময় এসেছে। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–এর সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   ব্যানন শুধু আরব দেশগুলোকেই নয়, অন্যান্য মিত্রদের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েলিরা আমাদের সঙ্গে খেলছে, আরবরা খেলছে, এমনকি ইউরোপীয়রাও একই কাজ করছে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের ময়দানে সেনাদের পাঠানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের।”   তিনি এই সংঘাতকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপকের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ২ হাজার ৩০০ বছর আগে আলেকজান্ডারের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, লোহিত সাগর বা খার্গ দ্বীপে কোনো অভিযান হলে প্রথম সারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে রাখা এবং দুবাইয়ের ‘মানি লন্ডারিং’ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।   ব্যাননের মন্তব্যের ঠিক একদিন আগে ফ্লোরিডার সৌদি-সমর্থিত একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে উপহাস করেছেন। ট্রাম্প বলেন, এক বছর আগে সৌদি আরব ছিল ‘মৃত দেশ’, এখন তা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দেশ। তিনি আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, যুবরাজ ভাবেননি তাকে তাকে ট্রাম্পকে তোষামোদ করতে হবে, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং তাকে ট্রাম্পের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হচ্ছে।   যুদ্ধ ও নেতাদের আক্রমণাত্মক বক্তব্য চলাকালীন কূটনৈতিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সংঘাত নিরসনের জন্য অর্থপূর্ণ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। ইসলামাবাদে সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।   এই বৈঠকের লক্ষ্য উত্তেজনা প্রশমন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা পথ বের করা। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ব্যাননের মন্তব্য ও আরব নেতাদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।   তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পুতিনের ভূমিকা কতটা?

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন আলোচনা সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, মস্কো তেহরানকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তা সরাসরি যুদ্ধ অংশগ্রহণ নয়; বরং গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া উন্নত স্যাটেলাইট তথ্যের মাধ্যমে ইরানকে মার্কিন নৌ ও বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণে সহায়তা করছে। এ কাজে রাশিয়ার “লিয়ানা” নামে পরিচিত একটি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবস্থার ব্যবহার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   একই সঙ্গে রাশিয়ার সহায়তায় উৎক্ষেপিত ইরানের “খৈয়াম” স্যাটেলাইটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই স্যাটেলাইট উচ্চমানের ছবি সরবরাহ করতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানকে আরও কার্যকর করে তুলছে।   অন্যদিকে, পেন্টাগন মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার খবর অস্বীকার করেছে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাশিয়ার দেওয়া এই গোয়েন্দা সহায়তা সংঘাতের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।   রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা একমুখী নয়। ২০২২ সাল থেকে ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে আসছে। এখন সেই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ আবার ইরানের কাছেই ফিরে আসছে।   উদাহরণ হিসেবে, সাম্প্রতিক এক হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ড্রোনে রাশিয়ার তৈরি এমন একটি নেভিগেশন প্রযুক্তি পাওয়া গেছে, যা ইলেকট্রনিক বাধা বা জ্যামিং এড়াতে সক্ষম। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশলের মতোই এই প্রযুক্তি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করছে।   তবে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা থাকলেও রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই কারণে মস্কো সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা কম।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ১০ ধাপের সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য যা জানা জরুরি

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০