মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান ইস্যুতে ইউরোপের অনীহা—যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে মিলছে না প্রত্যাশিত সাড়া

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর কাছে একাধিক সামরিক ও কৌশলগত সহায়তা চেয়েছেন।   এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে সহযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক প্রস্তুতি ও প্রভাব আরও জোরদার করা।   তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই সীমিত। বেশিরভাগ দেশই সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে অংশগ্রহণ বা সমর্থন দিতে অনীহা দেখিয়েছে। তারা সীমিত প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দিতে রাজি থাকলেও, সংঘাত আরও বাড়তে পারে এমন কোনো পদক্ষেপে যুক্ত হতে চায় না। বরং ইউরোপের পক্ষ থেকে বারবার পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানানো হচ্ছে এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই সতর্ক অবস্থানের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে—যা ইউরোপীয় দেশগুলো এড়াতে চায়। পাশাপাশি, অনেক দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমতও সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফলে তারা কৌশলগতভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে।   এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসের কিছু অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্কের নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপ এখন অনেক ক্ষেত্রেই স্বাধীন কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী এবং সব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত হচ্ছে না। ভবিষ্যতে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েন তীব্র হচ্ছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং হোয়াইট হাউসের সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন সম্প্রতি এক বিতর্কিত মন্তব্যে বলেছেন, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ক্ষেত্রে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের তাদের সন্তানদের সরাসরি যুদ্ধের প্রথম সারিতে পাঠানো উচিত।   শনিবার (২৯ মার্চ) তার পডকাস্ট ‘ওয়ার রুম’-এ ব্যানন বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো স্থল অভিযান হলে আরব রাজপরিবারের সদস্যদের প্রথম সারিতে থাকা উচিত। তিনি উপহাসের সুরে প্রশ্ন তুলেছেন, রাজপরিবারের সন্তানরা কি বিশেষ বাহিনীতে প্রশিক্ষিত এবং তারা কতটা সাহসিকতা দেখাতে সক্ষম, তা পরীক্ষার সময় এসেছে। এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–এর সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।   ব্যানন শুধু আরব দেশগুলোকেই নয়, অন্যান্য মিত্রদের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েলিরা আমাদের সঙ্গে খেলছে, আরবরা খেলছে, এমনকি ইউরোপীয়রাও একই কাজ করছে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের ময়দানে সেনাদের পাঠানো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের।”   তিনি এই সংঘাতকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপকের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ২ হাজার ৩০০ বছর আগে আলেকজান্ডারের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, লোহিত সাগর বা খার্গ দ্বীপে কোনো অভিযান হলে প্রথম সারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে রাখা এবং দুবাইয়ের ‘মানি লন্ডারিং’ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।   ব্যাননের মন্তব্যের ঠিক একদিন আগে ফ্লোরিডার সৌদি-সমর্থিত একটি বিনিয়োগ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে উপহাস করেছেন। ট্রাম্প বলেন, এক বছর আগে সৌদি আরব ছিল ‘মৃত দেশ’, এখন তা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দেশ। তিনি আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, যুবরাজ ভাবেননি তাকে তাকে ট্রাম্পকে তোষামোদ করতে হবে, কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং তাকে ট্রাম্পের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হচ্ছে।   যুদ্ধ ও নেতাদের আক্রমণাত্মক বক্তব্য চলাকালীন কূটনৈতিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সংঘাত নিরসনের জন্য অর্থপূর্ণ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। ইসলামাবাদে সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।   এই বৈঠকের লক্ষ্য উত্তেজনা প্রশমন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান–এর মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা পথ বের করা। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ব্যাননের মন্তব্য ও আরব নেতাদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।   তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পুতিনের ভূমিকা কতটা?

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন আলোচনা সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, মস্কো তেহরানকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছে।   তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তা সরাসরি যুদ্ধ অংশগ্রহণ নয়; বরং গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া উন্নত স্যাটেলাইট তথ্যের মাধ্যমে ইরানকে মার্কিন নৌ ও বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণে সহায়তা করছে। এ কাজে রাশিয়ার “লিয়ানা” নামে পরিচিত একটি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবস্থার ব্যবহার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   একই সঙ্গে রাশিয়ার সহায়তায় উৎক্ষেপিত ইরানের “খৈয়াম” স্যাটেলাইটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই স্যাটেলাইট উচ্চমানের ছবি সরবরাহ করতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানকে আরও কার্যকর করে তুলছে।   অন্যদিকে, পেন্টাগন মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার খবর অস্বীকার করেছে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাশিয়ার দেওয়া এই গোয়েন্দা সহায়তা সংঘাতের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।   রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা একমুখী নয়। ২০২২ সাল থেকে ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে আসছে। এখন সেই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ আবার ইরানের কাছেই ফিরে আসছে।   উদাহরণ হিসেবে, সাম্প্রতিক এক হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ড্রোনে রাশিয়ার তৈরি এমন একটি নেভিগেশন প্রযুক্তি পাওয়া গেছে, যা ইলেকট্রনিক বাধা বা জ্যামিং এড়াতে সক্ষম। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশলের মতোই এই প্রযুক্তি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করছে।   তবে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা থাকলেও রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই কারণে মস্কো সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা কম।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের ছবি ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ, ট্রাম্পের পিএসি ঘিরে বিতর্ক
ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনাদের ছবি ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ, ট্রাম্পের পিএসি ঘিরে বিতর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি (PAC) পাঠানো একটি তহবিল সংগ্রহের ইমেইল ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই ইমেইলে নিহত ছয় মার্কিন সেনাসদস্যকে সম্মান জানাতে অনুষ্ঠিত ‘ডিগনিফায়েড ট্রান্সফার’ অনুষ্ঠানের ছবি ব্যবহার করে দাতাদের কাছে অর্থ চাওয়া হয় এবং বিনিময়ে প্রেসিডেন্টের “ব্যক্তিগত জাতীয় নিরাপত্তা ব্রিফিং” পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।     প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট “নেভার সারেন্ডার” নামের কমিটি পাঠানো ইমেইলে একটি সদস্যপদ কর্মসূচির প্রচার করা হয়, যেখানে বলা হয় যারা অনুদান দেবেন তারা সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আপডেট পাবেন। ইমেইলে লেখা ছিল, সদস্যরা “আমার ব্যক্তিগত জাতীয় নিরাপত্তা ব্রিফিং পাবেন, যেখানে দেশের হুমকি সম্পর্কে সরাসরি তথ্য থাকবে।”     ইমেইলে ব্যবহৃত ছবিটি ছিল ডেলাওয়্যারের ডোভার বিমানঘাঁটিতে নিহত ছয় সেনাসদস্যের মরদেহ দেশে আনার সময় অনুষ্ঠিত সামরিক সম্মাননা অনুষ্ঠানের, যা যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।     এই ঘটনায় ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদ ও সাবেক সেনাসদস্যদের সংগঠনগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, নিহত সেনাদের স্মৃতিকে ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করা অনৈতিক এবং অসম্মানজনক। কিছু সমালোচক এটিকে “মৃত সেনাদের দিয়ে প্রচারণা চালানো” বলেও মন্তব্য করেছেন।     এদিকে হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্পের দপ্তর থেকে বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প বলেন, তেলের দাম বাড়লেও তা সাময়িক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক হুমকি শেষ হয়ে গেলে তেলের দাম দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তেলের দামে সাময়িক বৃদ্ধি বড় কোনো বিষয় নয়। তার ভাষায়, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য এটি একটি ছোট মূল্য। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে।   ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে তেল ও গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়াই এর প্রধান কারণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল–এর ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৮.৩৫ ডলার বা প্রায় ১৯.৮ শতাংশ বেড়ে ১১১.০৪ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের ফিউচারের দাম ১৫.২৭ ডলার বা ১৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬.১৭ ডলারে ওঠে। সেশনের শুরুতে ডব্লিউটিআইয়ের দাম একসময় ১১১.২৪ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম প্রায় ২৭ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৩৫.৬ শতাংশ বেড়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ মোকাবিলা করতে হতে পারে। একই সঙ্গে কিছু তেল স্থাপনার ক্ষতি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব লোহিত সাগর হয়ে তেলের রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে শিপিং তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে যে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, তার ঘাটতি পূরণে এই উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।   এদিকে এএনজেড ব্যাংক–এর সিনিয়র পণ্য কৌশলবিদ ড্যানিয়েল হাইন্স বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু উৎপাদক দেশে গুদামে তেল জমে যাওয়ায় উৎপাদন কমানো হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অনেক তেলকূপ বন্ধ করে দিতে হতে পারে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সংঘাত শেষ হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে, যার ফলে দীর্ঘ সময় তেলের দাম উচ্চ অবস্থানে থাকতে পারে।   সূত্র: দ্য হিল

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা ক্রিস্টি নোয়েমের কাজে অসন্তোষ ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের বর্তমান সচিব ক্রিস্টি নোয়েম-এর কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।   খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সিনেটের বিচারবিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে নোয়েমের দেওয়া সাক্ষ্য নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হন। শুনানির সময় তার বক্তব্য ও উপস্থাপনা নিয়ে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে হতাশা প্রকাশ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   এই ঘটনার পর থেকেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে রিপাবলিকান সিনেটর মার্কওয়েন মুলিন-কে নতুন করে এই দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের নেতৃত্বে এই সম্ভাব্য পরিবর্তন প্রশাসনের নিরাপত্তা নীতিতে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0