ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য সমালোচনায় মেলোনি, বাতিল ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ফোরাম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনায় বিশ্বনেতারা সাধারণত সংযত থাকলেও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আক্রমণ ও বক্তব্যের জবাবে তিনি প্রকাশ্যেই কড়া সমালোচনা করেছেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। এর সরাসরি প্রভাবে মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বাণিজ্য ফোরাম বাতিল করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত দিন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও রক্ষণশীল মিত্র হিসেবে পরিচিত মেলোনির এই অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেওয়া বক্তব্যে মেলোনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প নিয়মিত ভ্রান্ত তথ্য ছড়ান, মিত্রদের অবমূল্যায়ন করেন এবং প্রতিপক্ষের প্রতি নমনীয় আচরণ দেখান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার দিকেও ইঙ্গিত করেন তিনি।
এর আগে ইরান ইস্যুতে পোপ লিও চতুর্দশকে ঘিরে মন্তব্য নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মেলোনির মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক জি-৭ বৈঠকের পর সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অন্য নেতারা কৌশলগত কারণে সংযত থাকলেও মেলোনি তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।
এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেষ মুহূর্তে মায়ামিতে নির্ধারিত যৌথ বাণিজ্য ফোরাম বাতিলের ঘোষণা দেয়। সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে মার্কিন নেতৃত্বাধীন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অংশীদারত্ব উদ্যোগ ‘প্যাক্স সিলিকা’তে ইতালির যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ববিষয়ক দূত পাওলো জাম্পোলি ইতালীয় দৈনিক ‘লা রিপাবলিকা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ পরিস্থিতিকে দুই দেশের সম্পর্কে ‘গুরুতর ফাটল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক কূটনৈতিক শৈলীর মুখে ইউরোপীয় নেতারা সাধারণত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কিংবা জার্মানির ফ্রেডরিখ মার্জ—সবার মধ্যেই সম্পর্ক রক্ষায় কৌশলী অবস্থান দেখা গেছে। তবে মেলোনি এবার সেই ধারার বাইরে গিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া দেখালেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে ইতালির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রোমের লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লরেঞ্জো কাস্তেলানি মনে করেন, মেলোনি নিজেকে ‘কারও অনুসারী’ নয়, বরং স্বাধীন নেতৃত্ব হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। এই অবস্থান দেশের ভোটারদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বে এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পানিতে ঘরের ভেতর আটকে পড়েছিলেন এক মা ও তাঁর ১১ বছর বয়সী ছেলে। তাঁদের সঙ্গে ছিল তিনটি পোষা কুকুর। চারদিকে পানি বাড়তে থাকায় ঘর থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেন ওই মা। তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসে দুই কিশোর ভাই। নিজেদের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা উদ্ধার করে মা, শিশুসন্তান ও তিনটি কুকুরকে। ঘটনাটি নিয়ে ৩ নভেম্বর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিকঅরল্যান্ডো প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ৫ নভেম্বর ওয়াশিংটন পোস্টেও ঘটনাটি উঠে আসে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার পানিতে আটকে পড়া ওই মায়ের নাম ব্রিটানি গ্র্যান্ট। সোমবার থেকে তাঁর বাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করে। প্রথমে দরজার সামনে বালুর বস্তা দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি ঘরের ভেতর ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি খারাপ হলে তিনি জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। তবে বন্যার কারণে উদ্ধারকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছাতে পারছিলেন না বলে তাঁকে জানানো হয়। পানি বাড়তে থাকায় গ্র্যান্ট তাঁর ১১ বছর বয়সী ছেলে নিকোয়া ও তিনটি কুকুরকে নিয়ে প্রথমে বিছানার ওপর আশ্রয় নেন। পরে পানি আরও ওপরে উঠে গেলে তাঁরা রান্নাঘরের কাউন্টারের ওপর উঠে অপেক্ষা করতে থাকেন। ঘরের চেয়ার ও অন্যান্য জিনিসপত্র পানিতে ভাসতে শুরু করে। প্রিয় কুকুরগুলোকে ফেলে যাওয়ার কথাও ভাবতে পারছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করে সাহায্যের আবেদন জানান গ্র্যান্ট। তাঁর ভিডিওটি অনেক মানুষ ছড়িয়ে দেন। একই এলাকার বাসিন্দা স্টেফানি ফ্যাঙ্গুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখে বুঝতে পারেন, বিপদে পড়া পরিবারটি তাঁর কাছাকাছিই থাকে। তিনি নিজের দুই ছেলে ১৭ বছর বয়সী লুকাস মার্শাল ও ১৫ বছর বয়সী জোনাহ মার্শালকে সাহায্যের জন্য পাঠান। লুকাস একটি প্যাডেলবোর্ড নিয়ে পানির মধ্যে এগিয়ে যান। অন্যদিকে জোনাহ প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি কায়াক বা ছোট নৌকা ধার করে নেন। তাঁদের সঙ্গে আরও একজন প্রতিবেশীও সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। উদ্ধারের সময় প্রথমে শিশুটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান লুকাস। প্রায় ১০০ গজ পানির পথ পাড়ি দিয়ে তাঁকে শুকনো জায়গায় পৌঁছে দেন। এরপর কুকুরগুলোকে উদ্ধারে ফিরে যান তিনি। একটি ছোট কুকুর ও একটি বড় কুকুরকে প্যাডেলবোর্ডে তোলেন। অন্য কুকুরটিকে কায়াকে করে নিয়ে যান জোনাহ। পরে জোনাহ আবার ফিরে গিয়ে গ্র্যান্টকেও উদ্ধার করেন। বন্যার পানিতে ডুবে থাকা গাড়ি ও ডাকবাক্সের পাশ দিয়ে তাঁদের এই উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়। পরে এক প্রতিবেশী গাড়ি নিয়ে এসে গ্র্যান্ট, তাঁর ছেলে ও কুকুরগুলোকে নিরাপদ এলাকায় নিয়ে যান। উদ্ধারের সময় শিশুটিকে ভয়মুক্ত রাখতে লুকাস তাঁর সঙ্গে কথা বলছিলেন। স্কুল কেমন চলছে, নাম কী—এমন সাধারণ প্রশ্ন করে শিশুটির মনোযোগ অন্যদিকে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও একজন শিশুকে স্বাভাবিক রাখার এই প্রচেষ্টা ঘটনাটিকে আরও মানবিক করে তুলেছে। উদ্ধারের পর গ্র্যান্ট বলেন, প্রতিবেশীরা সবাই মিলে তাঁদের জীবন বাঁচিয়েছেন। তাঁদের সহায়তা না পেলে কী হতো, তা তিনি জানেন না। আগে যেসব প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়ও ছিল না, তাঁদের কাছ থেকেই এমন সহায়তা পেয়ে মানুষের প্রতি তাঁর বিশ্বাস আবার ফিরে এসেছে। উদ্ধারের পর গ্র্যান্ট ও তাঁর ছেলে এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে ফিরে তাঁরা দেখতে পান, ঘরটি পুরোপুরি ধসে না পড়লেও অনেক আসবাব ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পরিবারের সবাই নিরাপদে থাকায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন। ঘটনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরও লুকাস নিজের প্যাডেলবোর্ড নিয়ে এলাকায় থেকে যান। অন্য কেউ বিপদে আছে কি না, তা দেখার চেষ্টা করেন। ভবিষ্যতে কলেজে নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করে মানুষের সেবায় কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরিডার মধ্য উপকূলীয় কিছু এলাকায় রোববার থেকে সোমবারের মধ্যে প্রায় ২৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এতে বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারানোর আশঙ্কার মধ্যেও দুই কিশোরের এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বয়স বড় বাধা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা একটি সাহায্যের আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁরা যে সাহসিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি বৃহত্তর পাঠকমহলেও প্রশংসা পাচ্ছে।
১৭ বছর বয়সে থেমে যায় হেইলির জীবন, তার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে নবজাতকদের বই উপহার দিচ্ছে পরিবার
আলাবামায় পাঁচ দিনের অভিবাসন অভিযানে ১৮০ জনের বেশি গ্রেপ্তার, সতর্ক প্রবাসী পরিবার
স্কুলের সামনে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান, আতঙ্কে ক্যালিফোর্নিয়ার শিশু ও অভিভাবকেরা
যুক্তরাষ্ট্রে বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করলেও অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতায় অনেক পরিবারের জীবন মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে। এমনই এক ঘটনার কথা প্রকাশ করেছে এবিসি নিউজ। বাবা-মাকে অভিবাসন কর্মকর্তারা আটক করার পর মাত্র ১৮ বছর বয়সী ওয়েন্ডি ডোমিঙ্গোকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে তাঁর ছোট ভাইবোনদের। ঘটনাটি ঘটে গত ৯ আগস্ট। ওয়েন্ডি তাঁর বাবা-মা ও চার ছোট ভাইবোনকে নিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ছোট ভাইয়ের জন্য জুতা কিনতে যাচ্ছিলেন। কয়েক মাস পর সেদিনই প্রথম পরিবারের সবাই একসঙ্গে গাড়িতে ছিলেন। ওয়েন্ডি ও তাঁর ভাইবোনেরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও তাঁদের বাবা-মায়ের বৈধ অভিবাসন নথি ছিল না। এ কারণে তাঁরা সাধারণত একসঙ্গে বাইরে বের হতে ভয় পেতেন। পথে তাঁদের গাড়ির পেছনে সীমান্ত টহল বাহিনীর একটি গাড়ি দেখতে পান ওয়েন্ডি। এরপর গাড়ি থামানো হয়। কর্মকর্তারা জানান, গাড়ির নম্বরপ্লেট একজন অ-নাগরিকের নামে নিবন্ধিত। পরে প্রয়োজনীয় নাগরিকত্বের নথি দেখাতে না পারায় ওয়েন্ডির বাবা-মা আব্রাহাম ডোমিঙ্গো ও মারিয়া লেইভাকে আটক করা হয়। ওই সময় গাড়িতে থাকা ছোট ভাইবোনেরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। বাবা আটক হওয়ার আগে তাঁকে জড়িয়ে ধরে ওয়েন্ডি বলেন, ‘আমরা বাড়ি থেকে বের হলাম কেন? আমাকে পাঠালেই তো পারতে।’ পরিবারের সেই মুহূর্তের ভিডিও এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। পরে বাবা-মাকে ফ্লোরিডায় একসঙ্গে আটক রাখা হলেও তাঁদের পৃথক আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মা মারিয়া লেইভাকে গুয়াতেমালায় ফেরত পাঠানো হয় এবং বাবা আব্রাহাম দীর্ঘ সময় আটক থাকার আশঙ্কায় নিজেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, বাবা-মা তাঁদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের তত্ত্বাবধানে রেখে দেশে ফিরে গেছেন। এদিকে পরিবারের সবচেয়ে বড় সন্তান ওয়েন্ডির জীবনও বদলে যায়। বাবা-মা চলে যাওয়ার পর ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনা, সংসারের খরচ এবং নিজের কাজ—সবকিছু সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। তিনি এখন একটি হোটেলে কাজ করেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছে ১৬, ১৪ ও ১২ বছর বয়সী তিন ভাইবোন। সবচেয়ে ছোট ভাইবোনকে পরে গুয়াতেমালায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ওয়েন্ডি জানান, কখনো কখনো তাঁকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। তখন ছোট বোনকে অন্য ভাইবোনদের দেখাশোনা করতে হয়। মায়ের কাছ থেকে রান্না শেখার কথা শুনেও আগে গুরুত্ব না দেওয়া সেই বোন এখন পরিবারের প্রয়োজনে রান্না শিখছে। ওয়েন্ডির কথায়, আগে স্কুল বা কাজ শেষে বাড়ি ফিরলে মা ঘরে থাকতেন। এখন বাড়িটি একেবারে নীরব। তাঁর বাবা-মা সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। কিন্তু কয়েক মিনিটের একটি ঘটনায় তাঁদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে বলে মনে করেন ওয়েন্ডি। গুয়াতেমালা-মায়া সেন্টারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাবা-মাকে দেশ থেকে ফেরত পাঠানোর পর অনেক শিশুকে পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে থাকতে হচ্ছে। সংস্থাটি এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিশুদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনে সহায়তা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বলেছে, অভিবাসন কর্মকর্তারা পরিবার বিচ্ছিন্ন করেন না; বরং অভিভাবকদের সন্তানদের নিরাপদ দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ওয়েন্ডির পরিবারের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা সামনে এনেছে। অভিবাসনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু মা-বাবার ওপর নয়, পরিবারের শিশু-কিশোরদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জীবনেও পড়তে পারে।
ছেলেকে শেষবার দেখতে আমেরিকায় আসছেন মা, ১৫ বছরের সন্তানের মৃত্যুতে শোকে পরিবার
মায়ের অপেক্ষায় সাত মাস আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ বছরের শিশু, পুনর্মিলনের স্বপ্ন ভেঙে গেল পরিবারটির
আদালতের নির্দেশে মুক্তির তিন মিনিটেই ফের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার নিকারাগুয়ার অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক এমডি মাসুদুর রহমান। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বেলচোঁ গ্রামের এই কৃতি সন্তান কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর আসনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী জেন জেনিংসকে পরাজিত করে নিজের আসন ধরে রেখেছেন তিনি। বুধবার প্রকাশিত প্রাথমিক নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ২৬ হাজার ৩২৯ ভোট, যা মোট ভোটের প্রায় ৬৫ দশমিক ৯ শতাংশ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জেন জেনিংস পেয়েছেন ১৩ হাজার ৬২১ ভোট বা ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ। প্রায় ১২ হাজার ৭০০ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেছেন তিনি। তবে কানেকটিকাটের সেক্রেটারি অব দ্য স্টেটের আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়নের আগে ফলাফলটি প্রাথমিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাসুদুর রহমানের এই জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি আরও এক মেয়াদের জন্য নিশ্চিত হলো। তাঁর নির্বাচনী এলাকা কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টার, গ্লাস্টনবারি, বোল্টন ও অ্যান্ডোভার এলাকার বিভিন্ন অংশ নিয়ে গঠিত। এর আগে ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হন মাসুদুর রহমান। সেবার রিপাবলিকান প্রার্থী জ্যাকুলিন ক্রেসপানকে পরাজিত করে তিনি ২৩ হাজার ৬৪২ ভোট পান। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী স্টিফেন কিংকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩৩ হাজার ৯৯। এবার তৃতীয়বারের মতো জয়ী হয়ে ধারাবাহিক রাজনৈতিক সাফল্য ধরে রাখলেন তিনি। বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার বেলচোঁ গ্রামে তাঁর পৈতৃক বাড়ি। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মাসুদুর রহমান উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ব্যবসা ও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তাঁর রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্টেট সিনেটররা অঙ্গরাজ্যের আইন প্রণয়ন, বাজেট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্থানীয় উন্নয়নসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটের সদস্যরা দুই বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। ফলে এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে মাসুদুর রহমান আরও দুই বছরের জন্য আইনসভায় প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন। এদিকে মাসুদুর রহমানের বিজয়ের খবর বাংলাদেশের চাঁদপুরসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। হাজীগঞ্জের একটি গ্রাম থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে টানা তিনবার নির্বাচিত হওয়ার এই সাফল্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। একই নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেখ রহমানও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের এমন ধারাবাহিক উপস্থিতি দেশটির স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে বাংলাদেশি আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের প্রতিফলন। নিউজ সূত্র: কানেকটিকাট নির্বাচনী তথ্য, সিবিআইএ, সিটি ইনসাইডার, দ্য ডেইলি অবজারভার।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে হ্যামট্রামিকের মেয়র নির্বাচনে মুহিত মাহমুদের জয়, রবিবার শপথ
বাড়ি কেনার ডাউন পেমেন্টে ঋণ দেবে ক্যালিফোর্নিয়া, প্রস্তাবনা ৩৭ পাস