মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের, এমনকি তাকেও লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করেছে। তবে এ বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেননি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
এছাড়া ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, “ওরা অসুস্থ মানসিকতার মানুষ। আমি তাদের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না।”
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যও সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী (ইন্টারিম) চুক্তি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর তিনি বলেন, এই সমঝোতা আর কার্যকর নেই। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ইরানের সঙ্গে চলমান অন্তর্বর্তী সমঝোতা ভেঙে পড়েছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি এবং প্রয়োজনে আলোচনা আবারও শুরু হতে পারে। এর আগে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এসব ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংঘাত কমাতে নতুন কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
শত শতবার চাকরির আবেদন করেও বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে নিউইয়র্কে পড়াশোনা করা ভারতীয় শিক্ষার্থী দিব্যা বানসাল দেখিয়ে দিয়েছেন, অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য একদিন আসবেই। ৪২০টি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অবশেষে নিউইয়র্কে চাকরি পেয়েছেন তিনি। তবে শুধু চাকরি পাওয়ার গল্প নয়, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি (এনওয়াইইউ) থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা দিব্যা বানসাল সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের কর্মজীবনের প্রথম দিনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটির শুরুতেই লেখা ছিল, "৪২০টি প্রত্যাখ্যানের পর চাকরির প্রথম দিন।" এরপরই তার গল্প হাজারো মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলে। দিব্যা জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়া সহজ নয়। ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা, সীমিত সুযোগ এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরির বাজারের কারণে তিনি প্রায় ৪২০টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র তিনটি সাক্ষাৎকারের সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব আসে এবং স্নাতক শেষ করার এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিউইয়র্কে নতুন চাকরিতে যোগ দেন। ভিডিওতে দিব্যা বলেন, চাকরিটি তার জন্য একটি স্বপ্নপূরণ হলেও তিনি চান না তার পুরো জীবন শুধু কাজকে ঘিরেই আবর্তিত হোক। তার ভাষায়, চাকরি তার জীবনের একটি অংশ, যা তাকে নতুন কিছু শিখতে, নিজেকে গড়ে তুলতে এবং জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করবে। কিন্তু সেটিই তার পুরো পরিচয় নয়। তিনি এমন একটি জীবন গড়তে চান, যেখানে কাজ তার জীবনের অংশ হবে, জীবন কাজের নয়। দিব্যা আরও বলেন, চাকরির পাশাপাশি তিনি নাচ, শরীরচর্চা, নিজের দেশের খাবার রান্না এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো চালিয়ে যেতে চান। তার বিশ্বাস, কেউ যদি নিজের পরিচয়কে শুধু পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলে, তাহলে একসময় সেই কাজের প্রতিও আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, "আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে সীমিত সুযোগ এবং ভিসার অনিশ্চয়তার মধ্যেও ৪২০টি প্রত্যাখ্যানের পর এই চাকরি পেয়েছি। এটি অবশ্যই আমার জন্য বড় অর্জন। কিন্তু এত বড় নয় যে, আমার পুরো জীবন এর চারপাশে ঘুরবে।" দিব্যার এই বার্তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার অধ্যবসায়ের প্রশংসা করেছেন। আবার অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মন্তব্য করে বলেছেন, কঠিন চাকরির বাজারে তার অভিজ্ঞতা তাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। কর্মজীবন নিয়ে দিব্যার এই বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিও প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক সুস্থতা এবং নিজের পছন্দের কাজের জন্য সময় রাখার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা।
বিয়ের দিনটিকে জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে দেখেন অনেকেই। সেই দিনটিতে নিজের সেরা রূপে হাজির হতে সৌন্দর্যচর্চা, শরীরচর্চা ও নানা প্রসাধনী সেবায় মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করাও এখন অনেক কনের কাছে নতুন বাস্তবতা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে এই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ৩০ বছর বয়সী মেকআপ শিল্পী জেড ভয়েট এমনই একজন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে ইতালির টাসকানিতে অনুষ্ঠিতব্য নিজের বিয়ের আগে শুধু সৌন্দর্যচর্চার জন্যই প্রায় ৬২ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করবেন। তবে এসব খরচের বিস্তারিত তিনি তার হবু স্বামী রায়ানকে জানাতে চান না। নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেড বলেন, বাগদান হওয়ার পর তার প্রথম চিন্তা ছিল না বিয়ের ভেন্যু বা সাজসজ্জা নিয়ে। বরং তিনি ঠিক করেন, কীভাবে নিজেকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত বিয়ের জন্য প্রস্তুত করবেন। তিনি বলেন, "এটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলোর একটি। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেই দিনটি কাটাব। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমি আমার সেরা রূপে থাকতে চাই। বিয়ের ছবিগুলো সারাজীবন থাকবে। একদিন আমার সন্তানেরা যেন বলতে পারে, ‘আমার মা দারুণ সুন্দর ছিলেন।’" জেডের সৌন্দর্যচর্চার তালিকায় রয়েছে উন্নতমানের ত্বক পরিচর্যা, বিশেষ ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসা, মাইক্রোনিডলিং, নিয়মিত বোটক্স ও ফিলার, চিকিৎসকদের পরামর্শে ব্যবহৃত ত্বক পরিচর্যার পণ্য এবং নিয়মিত পিলাটিস অনুশীলন। চোখের নিচের কালচে দাগ দূর করতে তিনি প্রতি সেশনে প্রায় এক হাজার ডলার ব্যয়ে প্লেটলেট-সমৃদ্ধ বিশেষ জেল চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া মুখ, গলা ও হাতের ত্বকের জন্য নিয়মিত মাইক্রোনিডলিং করাচ্ছেন। চিকিৎসা-মানের ত্বক পরিচর্যার পণ্য ব্যবহারেও প্রতি রিফিলে তার খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলার। প্রতি তিন থেকে চার মাস পরপর বোটক্স ও ফিলারের জন্য তার ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ডলার। শরীরকে কাঙ্ক্ষিত আকৃতিতে রাখতে প্রতি মাসে ৩০০ ডলার ব্যয়ে পিলাটিস ক্লাসেও অংশ নিচ্ছেন। জেড জানান, একসময় তিনি ২৫ হাজার ডলার ব্যয়ে স্তন অস্ত্রোপচারের কথাও ভেবেছিলেন। তবে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। যদিও এখনো বাহুর চর্বি অপসারণের অস্ত্রোপচার করানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন, যার সম্ভাব্য খরচ প্রায় ১০ হাজার ডলার। তার ভাষায়, এসব খরচ বহন করতে তিনি অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমিয়ে দিয়েছেন। তবে তার হবু স্বামীকে সবকিছু জানাননি। তিনি বলেন, "সব বিষয় জানার দরকার নেই। কিছু সৌন্দর্যের গোপন রহস্য নিজের কাছেই রাখতে চাই।" শুধু জেড নন, যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক কনে বিয়ের আগে সৌন্দর্যচর্চায় উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করছেন। লং আইল্যান্ডের বাসিন্দা এবং সম্প্রতি বিয়ে করা ২৯ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রা মাহল ডিন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবেই তিনি বিয়ের আগে নিজের সৌন্দর্যচর্চায় প্রায় ২৬ হাজার ৮৯০ ডলার ব্যয় করেছেন। তার মোট বিয়ের বাজেট ছিল প্রায় দেড় লাখ ডলার। তিনি চোখ ও মুখের ত্বকের চিকিৎসা, মাইক্রোনিডলিং, বিলাসবহুল ত্বক পরিচর্যার পণ্য, চুলে এক্সটেনশন এবং নিয়মিত পিলাটিসে অর্থ ব্যয় করেন। তবে বিয়ের পর তার উপলব্ধি, পুরো বিষয়টি কিছুটা বাড়াবাড়িও হতে পারে। তিনি বলেন, "বিয়ের দিনের জন্য এত প্রস্তুতি নেওয়া হয়, কিন্তু পরদিন তো আবার নিজের স্বাভাবিক চেহারাতেই ফিরে যেতে হয়।" অন্যদিকে আগস্ট ২০২৬-এ বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া সামি স্কটি তার ত্বকের ব্রণের সমস্যা দূর করতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ডলার ব্যয় করেছেন। উন্নত ত্বক পরিচর্যা, বোটক্স, চুলের পরিচর্যা, নখের যত্ন, স্প্রে ট্যান এবং নিয়মিত শরীরচর্চাসহ তার মোট সৌন্দর্যচর্চার সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩১ হাজার ২৭৬ ডলার। তিনি জানান, তার হবু স্বামী মোটামুটি খরচের ধারণা জানেন এবং তাকে সমর্থনও করেন। তবে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকটকের #BridalGlowUp-এর মতো ট্রেন্ড এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'আগে ও পরে' ধরনের সৌন্দর্য পরিবর্তনের ভিডিও অনেক কনের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করছে। ফলে বিয়ের আগে নিখুঁত দেখানোর আকাঙ্ক্ষায় অনেকেই ব্যক্তিগত বাজেটের বড় অংশ সৌন্দর্যচর্চায় ব্যয় করছেন। তবে মনোবিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিয়ের প্রস্তুতিতে নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সৌন্দর্যচর্চা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হলেও সেটি যেন সামাজিক চাপ বা অবাস্তব প্রত্যাশার কারণে না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।