আমেরিকা

এইচ-১বি ভিসায় ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি অবৈধ ঘোষণা

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ০:৪৭
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি বেআইনি বলে রায় দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।

 

সোমবার (৮ জুন) ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বস্টনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন এই রায় দেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের ফি আরোপ করা যায় না। এটি কার্যত একটি কর, আর এমন কর আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণ করে। এতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগের ব্যয় হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে বিদেশি প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগে এই ভিসার ওপর ব্যাপক নির্ভরতা রয়েছে।

 

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়াসহ ২০টি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, প্রেসিডেন্টের এমন ফি আরোপের আইনি ক্ষমতা নেই এবং এটি সংবিধানের পরিপন্থী।

 

আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, এটি কোনো কর নয়; বরং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী মনে হলে নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করার ক্ষমতার আওতায় একটি বৈধ আর্থিক ব্যবস্থা। তবে বিচারক সোরোকিন সেই যুক্তি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, অর্থের প্রকৃতি বিবেচনায় এটি স্পষ্টতই করের মতো, তাই কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া তা আরোপ করা বৈধ নয়।

 

রায়ের পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় প্রেসিডেন্টের বিদেশিদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে এবং ট্রাম্প সেই ক্ষমতাই প্রয়োগ করেছিলেন।

 

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ৬৫ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত আরও ২০ হাজার ভিসা বরাদ্দ রয়েছে। সাধারণত এসব ভিসার জন্য নিয়োগদাতাদের ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হয়।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এইচ-১বি কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে, ফলে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণেই অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়েছিল।

 

তবে সরকারি তথ্য বলছে, ফি কার্যকর হওয়ার পর খুব কম সংখ্যক প্রতিষ্ঠান এটি পরিশোধ করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৮৫টি আবেদন থেকে এই ফি আদায় করা হয়েছে।

 

ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বন্টা আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এত উচ্চ ফি আন্তর্জাতিক দক্ষ কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত করছিল।

 

সূত্র: রয়টার্স

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
খেলা দেখতে গিয়ে দর্শকদের তুমুল ভুয়ো ধ্বনির মুখে পড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
খেলা দেখতে গিয়ে দর্শকদের তুমুল ভুয়ো ধ্বনির মুখে পড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বাস্কেটবল খেলা দেখতে গিয়ে গ্যালারির দর্শকদের তীব্র হট্টগোল ও ভুয়ো (boo) ধ্বনির মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার রাতে এনবিএ ফাইনালসের (NBA Finals) তৃতীয় ম্যাচের খেলা শুরুর আগে জাতীয় সংগীত চলার সময় এই ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম গথামিস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।   স্টেডিয়ামের ভেতরের ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বড় পর্দায় ট্রাম্পের মুখ ভেসে উঠতেই গ্যালারি জুড়ে দর্শকরা চিৎকার ও ভুয়ো ধ্বনি দিতে শুরু করেন। সেখানে অল্প কিছু সমর্থক ট্রাম্পের পক্ষে আওয়াজ তুললেও পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে ট্রাম্প বিরোধীদের ভুয়ো ধ্বনিই প্রধান হয়ে ওঠে। একই সময়ে ব্রায়ান্ট পার্কে আয়োজিত নিউইয়র্ক নিকসের অফিশিয়াল ওয়াচ পার্টিতেও দর্শকদের কাছ থেকে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ম্যাচ দেখতে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো মিডটাউন ম্যানহাটন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। নিউ ইয়র্ক পুলিশ (NYPD) এবং সিক্রেট সার্ভিস দুপুরের পর থেকেই স্টেডিয়ামের চারপাশের বেশ কয়েকটি ব্লক বন্ধ করে দেয়। এর ফলে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং স্টেডিয়ামের বাইরে পূর্বনির্ধারিত একটি বড় ওয়াচ পার্টিও বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।   খেলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই শত শত মানুষ পশ্চিম ৩৪ নম্বর রাস্তায় ভিড় জমান। ট্রাম্পের গাড়িবহর যাওয়ার সময় অনেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন, আবার কিছু মানুষ ছবি তোলার জন্য ভিড় করেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা পর্যটক তানিয়া ওলসেন জানান, ট্রাম্পের আগমনের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি নিজের পারিবারিক ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রেখে এখানে অবস্থান নিয়েছেন।   ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম নিউইয়র্ক নিকস তাদের ঘরের মাঠে এনবিএ ফাইনালস ম্যাচ খেলছিল। সান আন্তোনিও স্পার্সের বিরুদ্ধে হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচের টিকিট আগেই সব বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পের আগমনে এই বাড়তি নিরাপত্তার কারণে কয়েকদিন ধরেই এলাকার চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীরা চরম যাতায়াত ভোগান্তির অভিযোগ করে আসছিলেন।   সূত্র: গথামিস্ট  

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১:৪৮
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

এইচ-১বি ভিসায় ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি অবৈধ ঘোষণা

আটলান্টায় বেটোপিয়া গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেডএইচবি সলিউশনের উদ্বোধন

আটলান্টায় বেটোপিয়া গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জেডএইচবি সলিউশনের উদ্বোধন, আউটসোর্সিং ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা

ছবি: সংগৃহীত

মায়ামিতে আবাসন সহায়তায় ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, অগ্রাধিকার ভাড়া ও সাশ্রয়ী বাসস্থান

ছবি: সংগৃহীত
২ লাখ ডলারের বাড়িতে ১৭ হাজার ডলারের কর, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের এক বাড়ির মালিক

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের রিভারডেল এলাকার বাসিন্দা তাতিয়ানা স্কোয়ার নিজের পরিবারের জন্য একটি নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। গত বছর তিন শয়নকক্ষ ও দুই বাথরুমের একটি সংস্কারকৃত বাড়ি কিনে তিনি ভেবেছিলেন, অবশেষে সন্তানদের জন্য স্থিতিশীল ও নিরাপদ একটি পরিবেশ নিশ্চিত করতে পেরেছেন। কিন্তু বাড়ি কেনার এক বছরের মধ্যেই সম্পত্তি করের বিশাল বিল সেই স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স শিকাগোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কুক কাউন্টি অ্যাসেসরস অফিস থেকে পাওয়া এক চিঠিতে জানতে পারেন, তার বাড়ির মূল্য পুনর্মূল্যায়নের পর বার্ষিক সম্পত্তি করের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ১৭ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। অথচ বাড়িটি তিনি কিনেছিলেন ২ লাখ ৭ হাজার ডলারে। তাতিয়ানা স্কোয়ার জানান, ফেব্রুয়ারিতে ডাকযোগে চিঠিটি পাওয়ার পর তিনি বিস্মিত হয়ে পড়েন। তার ভাষায়, করের কারণে মাসিক ব্যয় প্রায় ২ হাজার ডলার পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি কি কোনো লেকের ধারের বিলাসবহুল এলাকায় থাকি? নাকি নেপারভিলের মতো কোনো অভিজাত শহরে?” স্কোয়ার বলেন, তার পরিবারের মধ্যে দাদীর পর তিনিই প্রথম বাড়ির মালিক হয়েছেন। সন্তানদের শহরের কোলাহল থেকে দূরে একটি শান্ত পরিবেশে বড় করে তোলার লক্ষ্যেই তিনি রিভারডেলে বাড়ি কিনেছিলেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাকে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার কথাও ভাবতে হচ্ছে। “আমি কঠোর পরিশ্রম করে এই বাড়ি কিনেছি। আমার সন্তানরা এখানে সুখে আছে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে হয়তো আমাদের চলে যেতে হবে,” বলেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্কোয়ারের রিয়েল এস্টেট এজেন্ট রোনাল্ড টুসাঁ। তিনি রিভারডেল এলাকার অন্তত ৪৫টি সম্পত্তির কর সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে দেখেছেন, স্কোয়ারের বাড়ির করই সবচেয়ে বেশি। তার মতে, “রিভারডেলে কেউ বাড়ি কিনে মাসে ৪ হাজার ডলারের সমপরিমাণ মর্টগেজ ও কর পরিশোধের কথা কল্পনাও করে না।” তবে কুক কাউন্টি অ্যাসেসরস অফিস বলছে, এই ঘটনা বৃহত্তর একটি সমস্যার প্রতিফলন। তাদের মতে, উচ্চ করহার এবং দ্রুত বাড়তে থাকা সম্পত্তির মূল্যের কারণে অনেক গৃহমালিক একই ধরনের চাপের মুখে পড়ছেন। অফিসটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২ লাখ ডলারের একটি বাড়ির জন্য ১৩ হাজার থেকে ১৭ হাজার ডলার কর পরিশোধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আইন অনুযায়ী সম্পত্তির ন্যায্য বাজারমূল্য নির্ধারণ করা তাদের বাধ্যবাধকতা। কর্তৃপক্ষ জানায়, সংশ্লিষ্ট বাড়িটি দীর্ঘদিন খালি থাকার পর সংস্কার করা হয় এবং ২০২৪ সালে পুনরায় বিক্রি হয়। মূল্যায়নের সময় আশপাশের একই ধরনের সংস্কারকৃত বাড়ির বিক্রয়মূল্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ওই এলাকায় তুলনামূলক কয়েকটি বাড়ি ২ লাখ ১৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৪৪ হাজার ডলারের মধ্যে বিক্রি হয়েছে। অ্যাসেসরস অফিস আরও জানায়, স্কোয়ারের প্রতিবেশীদের অনেক সম্পত্তি এখনো পুরোনো মূল্যায়নের ভিত্তিতে কর দিচ্ছে। পরবর্তী পুনর্মূল্যায়ন চক্রে তাদের করও বাড়তে পারে। তবে সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করলেও করহার নির্ধারণ করে না অ্যাসেসরস অফিস। করহার নির্ধারণ করে স্থানীয় সরকার ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ করবর্ষে রিভারডেলের কার্যকর সম্পত্তি করহার ছিল প্রায় ২৭ শতাংশ, যা কুক কাউন্টি এবং পুরো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ। তুলনামূলকভাবে শিকাগো শহরে এই হার প্রায় ৬ শতাংশ। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গৃহমালিকদের জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন কর-ছাড় সুবিধা ব্যবহার করলে স্কোয়ারের কর বিল ১৭ হাজার ডলার থেকে কমে প্রায় ১৩ হাজার ডলারে নামতে পারে। তবে এটিও অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক বোঝা বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। রিভারডেলের করের একটি বড় অংশ স্থানীয় সরকারি সেবা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডিস্ট্রিক্ট ১৪৮ এবং থর্নটন টাউনশিপ হাই স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ২০৫। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠ ও গণিত দক্ষতার ফলাফল ইলিনয়ের গড় মানের নিচে রয়েছে। এ কারণে অনেক বাসিন্দার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, অঞ্চলের অন্যতম সর্বোচ্চ সম্পত্তি কর আদায় করা হলেও সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার কোথায় হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি, স্থানীয় সরকারের উচ্চ কর নির্ভরতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বাড়ির মালিকানা ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। রিভারডেলের এই ঘটনা সেই বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ফক্স শিকাগোর প্রতিবেদনে উঠে আসা তাতিয়ানা স্কোয়ারের অভিজ্ঞতা এখন অনেক আমেরিকান পরিবারের উদ্বেগের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলেও ক্রমবর্ধমান করের চাপ সেই স্বপ্নকে কতটা টেকসই রাখবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২২:৫
ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে অভিবাসীদের পক্ষে সরব মামদানি, আইস তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তি খাতে কেনাকাটার চাপ বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ফিরেছে গতি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হতে পারে যেসব কারণে

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস । ফাইল ছবি
২০২৮ সালে আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বে কমলা হ্যারিস!

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। তবে তার কিছু সাবেক সমর্থক, দাতা ও রাজনৈতিক সহযোগী মনে করছেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির সামনে নতুন নেতৃত্ব তুলে ধরার সময় এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন হ্যারিসের সাবেক দাতা, তহবিল সংগ্রাহক, নির্বাচনী প্রচারণা কর্মী, বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমান উপদেষ্টাসহ ১৫ জনের বেশি ব্যক্তি। তাদের মধ্যে কয়েকজন পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে মতামত দেন।   হ্যারিসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি সম্ভাব্য সব রাজনৈতিক বিকল্প নিয়ে ভাবছেন। তবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনও তার টিমের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি।   ২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক মনোনয়ন দৌড়ে হ্যারিসের অন্যতম সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সান ফ্রান্সিসকো মেয়র উইলি ব্রাউন বলেন, বর্তমানে দুই নেতার মধ্যে নিউসমকে বেশি সম্ভাবনাময় মনে হয়, কারণ তিনি সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজিত কোনো প্রার্থী নন।   ব্রাউন বলেন, “মানুষ সাধারণত বিজয়ীকেই সমর্থন করতে চায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিউসমকে একজন বিজয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, হ্যারিস যদি ২০২৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনে অংশ নিতেন, তবে জাতীয় পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়তে পারত। একজন প্রভাবশালী ক্যালিফোর্নিয়া দাতা এবিসি নিউজকে বলেন, “আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি মনে করেন হ্যারিসের আবার প্রার্থী হওয়া ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য ভালো হবে। ভোটারদের সামনে নতুন ও সতেজ নেতৃত্ব আনার প্রয়োজন রয়েছে।”   হ্যারিসের দীর্ঘদিনের সমর্থক ও তহবিল সংগ্রাহক আসিফ মাহমুদ বলেন, হ্যারিস ও নিউসম উভয়েই প্রার্থী হলে ডেমোক্রেটিক দাতাদের অর্থায়ন বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান গভর্নর হিসেবে নিউসম কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন। তবে হ্যারিসের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তিনি যদি নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে অনেক দাতা ও রাজনৈতিক কর্মী অন্য প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকতে পারেন, সেটি তিনি ভালোভাবেই উপলব্ধি করেন।   ২০২৪ সালের নির্বাচনে হ্যারিসের প্রচারণা মাত্র ১৫ সপ্তাহে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছিল। কয়েকজন তহবিল সংগ্রাহকের মতে, এত বিপুল ব্যয়ের পর অনেক দাতাই এখন বড় অঙ্কের অর্থ রাজনৈতিক প্রচারণায় দিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। একজন সাবেক তহবিল সংগ্রাহক বলেন, “ভোটাররা এখন নতুন, তরুণ এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির নেতৃত্ব খুঁজছে। আমার মনে হয় না এই মুহূর্তে কমলা হ্যারিস সেই চাহিদা পূরণ করতে পারবেন।”   আরেকজন দীর্ঘদিনের ডেমোক্রেটিক দাতা বলেন, “আমি এমন কাউকে শুনিনি যিনি হ্যারিসকে আবার প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। বরং বেশিরভাগের মতামত এর বিপরীত।” তবে সবাই যে একই মত পোষণ করেন, তা নয়। সাবেক বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তা টম নিডস বলেন, সাধারণ ডেমোক্রেট ভোটারদের মধ্যে এখনও হ্যারিসের জনপ্রিয়তা রয়েছে এবং তিনি ছোট অঙ্কের অনুদানের মাধ্যমে শক্তিশালী তৃণমূল অর্থায়ন গড়ে তুলতে সক্ষম হতে পারেন। হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তার সম্পর্ক। কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক উপদেষ্টার মতে, বাইডেন প্রশাসনের অংশ হওয়ায় হ্যারিসকে এখনও সেই সময়ের সিদ্ধান্ত ও বিতর্কের মুখোমুখি হতে হতে পারে।   তবে হ্যারিসের সাবেক যোগাযোগ পরিচালক অ্যাশলি এটিয়েনের দাবি, হ্যারিস ইতোমধ্যে নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং ২০২৮ সালে বাইডেন ইস্যু বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর পদে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ কেউ এটিকে হারানো সুযোগ হিসেবে দেখলেও, হ্যারিসের ঘনিষ্ঠদের মতে এটি ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত। বর্তমানে হ্যারিস ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে তহবিল সংগ্রহ, অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম জোরদার এবং ভোটাধিকার-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সক্রিয় রয়েছেন। আগামী আগস্টে তিনি লুইজিয়ানা ডেমোক্র্যাটদের বার্ষিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেবেন বলেও জানা গেছে।   হ্যারিসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, ভবিষ্যতে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন নাকি অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম, যেমন একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তুলে তার রাজনৈতিক ও সামাজিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে ডেমোক্রেটিক রাজনীতির অনেকেই মনে করেন, জাতীয় পরিচিতি, ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং নির্বাচনী প্রচারণার অভিজ্ঞতা হ্যারিসকে এখনও ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রাখছে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১৫:১০
অভিযুক্ত মিয়া জনসন

ফ্লোরিডায় ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে সাবেক স্কুল ক্রীড়া পরিচালককে ১০ বছরের কারাদণ্ড

অভিযুক্ত ফুড ডেলিভারি চালক মনোজ চিট্টার

মদ সরবরাহের অভিযোগে ভারতীয় ফুড ডেলিভারি ড্রাইভার গ্রেপ্তার, আলাবামায় কিশোরীর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতীকী দৃশ্য । গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা করলো যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

0 Comments