যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ট্রাফিক ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে হাজারো চালকের লাখ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধ
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের লংমন্ট শহরের একটি ব্যস্ত মোড়ের ট্রাফিক ক্যামেরায় গত কয়েক মাসে প্রায় ছয় হাজার চালক গতির নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা গুনেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ চালকই পূর্বমুখী লেনে গাড়ি চালানোর সময় ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে স্পিড টিকিট বা জরিমানা পেয়েছেন। স্থানীয় চালক ও বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
কেন প্র্যাট বুলেভার্ড এবং মেইন স্ট্রিটের ওই সংযোগস্থলটিতে প্রতিদিন লাখ লাখ গাড়ি যাতায়াত করলেও শুধু নির্দিষ্ট একটি দিকেই এত বিপুল পরিমাণ জরিমানা হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় চালক গ্রেগ ব্রন নিজেও ৩৫ মাইলের জায়গায় ৪৮ মাইল গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে ৪০ ডলারের জরিমানা পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেন। তাঁর মতে, অল্প দূরত্বের ব্যবধানে রাস্তার গতিসীমা হঠাৎ করে পরিবর্তন হওয়াই এত বেশি চালক ট্রাফিক আইনের শিকার হওয়ার প্রধান কারণ।
মূলত ওই মোড়টি পার হওয়ার ঠিক পূর্ব দিকেই রাস্তার পোস্ট করা গতিসীমা ঘণ্টায় ৩৫ মাইল থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫৫ মাইল করে দেওয়া হয়েছে। চালকদের অভিযোগ, ৫৫ মাইলের সাইনটি কাছেই থাকায় চালকরা অনেক সময় নির্ধারিত সীমার আগেই গতি বাড়িয়ে ফেলেন, যা ক্যামেরার নজরে পড়ে যায়। লংমন্ট শহরের ট্রাফিক ডেটা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ চালকই এই দুই গতির মধ্যবর্তী একটি গতিতে গাড়ি চালানোর সময় ক্যামেরার ফ্ল্যাশে ধরা পড়েছেন।
এই সমস্যার সমাধান নিয়ে কলোরাডো ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন বা সিডিওটি এবং লংমন্ট শহরের কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে কিছুটা মতপার্থক্য দেখা গেছে। সিডিওটি জানিয়েছে যে স্পিড ক্যামেরা ও চালকদের ঝামেলা এড়াতে গতিসীমার সাইনটি আরও প্রায় ৫০০ ফুট পূর্বে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে লংমন্ট শহরের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে এবং এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে লংমন্ট সিটি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা এ বিষয়ে কোনো সাম্প্রতিক আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়নি।
কর্তৃপক্ষের এমন টানাপোড়েনের মাঝেও চলতি বছর লংমন্টের ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে ইতোমধ্যে দুই লাখ ডলারের বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ক্ষুব্ধ চালকরা এই অসংগতি দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সিডিওটি এবং লংমন্ট সিটি জানিয়েছে যে স্থানীয় সড়কে ট্রাফিক নিরাপত্তা আরও উন্নত করতে তারা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করা নিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তারা এক মৌলিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। দেশটির পরিচিত হলুদ স্কুল বাসগুলো শিক্ষার ঐতিহ্যবাহী প্রতীক হলেও বর্তমানে জেলাগুলোর পক্ষে সেগুলো ঠিকমতো পরিচালনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাস চালকের ঘাটতি, বাজেট স্বল্পতা এবং স্কুল চয়েজ মুভমেন্টের বিস্তারের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। চলতি বছর অ্যারিজোনা, কানেকটিকাট, ফ্লোরিডা, ইডাহো, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, ওহাইও, ওরেগন এবং ভার্জিনিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যের স্কুল কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সেবা কমিয়ে দিয়েছেন অথবা কমানোর প্রস্তাব করেছেন। এই পরিবহন সমস্যাগুলো কেবল অভিভাবকদের জীবনকে কঠিন করে তুলছে না, বরং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ফলাফলের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মিশিগান-ফ্লিন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সহকারী অধ্যাপক জেরেমি সিঙ্গার জানিয়েছেন, যাদের যাতায়াতের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলগুলো বাস সেবা কমালে অভিভাবকদের গাড়ি ব্যবহার বাড়াতে হয়, যার ফলে জ্বালানি খরচ, ট্রাফিক ও পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পায়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-এনওআরসি সেন্টারের ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ মার্কিন জেলা বাস চালক সংকটের কারণে এবং ৭৩ শতাংশ জেলা বাজেট সংকটের কারণে প্রভাবিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই সমস্যার সূত্রপাত হিসেবে কোভিড-১৯ মহামারীকেই প্রধানত দায়ী করছেন। মহামারীর সময় দূরশিক্ষণ চালুর ফলে চালকের প্রয়োজন কমে যাওয়ায় অনেকে অন্য পেশায় চলে যান এবং স্কুল খোলার পর আর ফিরে আসেননি। অর্থনৈতিক নীতি ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের আগস্টে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ২৩ হাজারেরও বেশি স্কুল বাস চালক ছিল, ২০২৫ সালের আগস্টে তা ৯.৫ শতাংশ কমে ২ লাখ ২ হাজারে দাঁড়ায়। টেম্পল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক সারাহ কর্ডেস উল্লেখ করেছেন যে উবার বা লিফটের মতো রাইড শেয়ারিংয়ের চেয়ে স্কুল বাস চালক হওয়া অনেক বেশি কঠিন, কারণ এর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এবং শিশুদের পরিপূর্ণ একটি যানবাহন সামলানো সহজ কাজ নয়। এর পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিও পাবলিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে। স্কুল সুপারিনটেনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে অর্ধেকের বেশি স্কুল জেলা প্রধান জানিয়েছেন যে তাদের ডিজেল জ্বালানির খরচ বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। জন্মহার হ্রাস এবং পিতামাতারা সন্তানদের প্রাইভেট স্কুল, চার্টার স্কুল বা হোমস্কুলিংয়ে পাঠানোর কারণে শিক্ষার্থীদের তালিকাভুক্তি কমেছে, যার ফলে জেলাগুলো করের মাধ্যমে কম অর্থ পাচ্ছে। এই সংকট উত্তরণে জেলাগুলো ছোট যানবাহনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ রাইডশেয়ার সেবা চালুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তবে ১৯৭৪ সালের ফেডারেল স্কুল বাস সেফটি অ্যামেন্ডমেন্টস আইনের কঠোর নিয়মের কারণে নতুন ধরনের যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রাখা এবং খরচ সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাস চালকের তীব্র শূন্যতা রয়েছে এবং মাথাপিছু পরিবহন খরচ প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওহাইওর গভর্নর মাইক ডিওয়াইন সম্পত্তি মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তহবিল প্রাপ্তির ওপর নতুন আইন পাস করায় আগামী তিন বছরে স্কুলগুলোর রাজস্ব অন্তত ১.৭ বিলিয়ন ডলার কমে যাবে। ফলে স্কুলগুলো এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা পরিবহন ব্যবস্থার এই বাড়তি খরচ ও সার্বিক সুযোগ বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছেন।
দক্ষিণ ফ্লোরিডায় আইসের সাঁড়াশি অভিযান বৃদ্ধি: গভীর উদ্বেগে কমিউনিটি নেতারা ও অভিবাসী অধিকারকর্মীরা
মিশিগানে সাইক্লোস্পোরাসিস সংক্রমণ ১০ হাজার ছাড়াল, স্বাস্থ্য বিভাগের সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ট্রাফিক ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে হাজারো চালকের লাখ লাখ ডলার জরিমানা পরিশোধ
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়ার কয়েকটি স্কুলে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বিশেষ নিরাপত্তা ড্রোন ব্যবহার শুরু হচ্ছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মিথ্রিল ডিফেন্সের দাবি, জরুরি পরিস্থিতিতে এসব ড্রোন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মোতায়েন করা যাবে এবং সক্রিয় বন্দুকধারীকে দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিহত করার চেষ্টা করবে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, দূর থেকে পরিচালিত এসব ড্রোন স্কুলের করিডোরে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ মাইল গতিতে চলতে পারে। এগুলো সাইরেন, তীব্র ঝলমলে আলো এবং মরিচের জেল ব্যবহার করে হামলাকারীকে বিভ্রান্ত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। শেষ বিকল্প হিসেবে ড্রোনটি ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল গতিতে হামলাকারীকে ধাক্কা দিতেও সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে। মিথ্রিল ডিফেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাস্টিন মার্সটনের ভাষ্য, অধিকাংশ স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তাই দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ব্যবস্থা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পেতে পারে। তার দাবি, ড্রোনগুলো প্রয়োজন হলে পুলিশ সদস্যদের আগে কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। তবে এ উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। শিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্নিং পলিসি ইনস্টিটিউটের গবেষক জেনিফার ডিপাওলির মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক আস্থা এবং ইতিবাচক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জর্জিয়ার পাঁচটি এবং ফ্লোরিডার তিনটি স্কুল জেলায় এই প্রকল্পে অঙ্গরাজ্য সরকার অর্থায়ন করছে। অন্যদিকে কলোরাডোর জন অ্যাডামস একাডেমি নামের একটি পাবলিক চার্টার স্কুল বেসরকারি অর্থায়নে ড্রোনটি পরীক্ষা করছে। তবে সেখানে কিছু অভিভাবক মরিচের জেল ব্যবহারের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং এ ধরনের প্রযুক্তির নৈতিক ও আইনি দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিকে লুইজিয়ানাও স্কুলে নিরাপত্তা ড্রোন ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে। এ লক্ষ্যে চারটি স্কুলে পরীক্ষামূলক কর্মসূচির জন্য একটি আইন পাস হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ড্রোন জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাৎক্ষণিক ভিডিওচিত্র সরবরাহের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেও সহায়ক হতে পারে।
প্রবল ঝড়ে লণ্ডভণ্ড উত্তর জর্জিয়া, বিদ্যুৎহীন হাজারো বাসিন্দা
দিদারুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানি ও এনওয়াইপিডি কমিশনার
স্কুল খোলার আগে জর্জিয়ার ব্যস্ত মোড়ে বদলে যাচ্ছে যান চলাচলের নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ২০২৬ সালে নতুন করে চাপে পড়েছে। সাম্প্রতিক একাধিক জাতীয় জনমত জরিপে দেখা গেছে, তার অনুমোদন কমে নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি এবং ইরান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ বেড়েছে। নিউজউইক এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চলতি বছরে Big Data Poll, Fox News, American Research Group, Economist/YouGov এবং Pew Research Center–এর বিভিন্ন জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং ধারাবাহিকভাবে কমেছে এবং অসন্তুষ্টির হার বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই প্রবণতা রিপাবলিকান পার্টির জন্য ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। পিউ রিসার্চ সেন্টার–এর মে মাসের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং ৩৪ শতাংশে নেমে আসে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার সক্ষমতা নিয়েও জনমনে নেতিবাচক ধারণা বেড়েছে। অন্যদিকে ইপসোস–এর মে ও জুনের জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন রেটিং ৩৫ শতাংশের আশপাশে ঘোরাফেরা করেছে। একই জরিপে অধিকাংশ উত্তরদাতা মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক আরেকটি রয়টার্স জরিপে দেখা গেছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধেও জনসমর্থন কমছে। জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন এবং অধিকাংশেরই অভিযোগ, ট্রাম্প এখনো যুদ্ধের স্পষ্ট লক্ষ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেননি। এদিকে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আবাসন ব্যয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশাসনের দাবি, তার নীতিগুলোর পূর্ণ প্রভাব সামনে আরও স্পষ্ট হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা কমে গেলে তা সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যখন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ অর্থনীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, তখন এমন জনমত পরিবর্তন রিপাবলিকানদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
লিন্ডসে গ্রাহামকে ‘আমেরিকার অনন্য দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিলেন ট্রাম্প
আমেরিকায় গীর্জা কিনে মসজিদ-মাদরাসা বানাচ্ছেন মুসলিমরা