আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্তে নিহত প্রথম পাইলটের পরিচয় প্রকাশ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৮:৪৬
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এডওয়ার্ডস বিমান ঘাঁটিতে ভয়াবহ বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত প্রথম ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি হলেন মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যন্ত দক্ষ ও পদকপ্রাপ্ত টেস্ট পাইলট লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইলস মিডলটন।

 

গত সোমবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে উড্ডয়নের পরপরই বোমারু বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং এতে থাকা আটজন আরোহীর সবাই প্রাণ হারান। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় স্বামী মাইলসকে হারিয়ে তাঁর স্ত্রী প্যাম এবং দুই সন্তান এখন চরম অনিশ্চয়তা ও শোকের মুখে পড়েছেন। পারিবারিক এক বন্ধু জানিয়েছেন, অভাবনীয় এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা প্যাম ও তাঁর ছোট দুই সন্তানের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিডলটন ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ওই ঘাঁটির ৪১৯তম ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই স্কোয়াড্রনটি মূলত সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে শক্তিশালী বিমানগুলোর পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের কাজ অত্যন্ত সফলতার সাথে তদারকি করে থাকে।

 

স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে প্যাম এখন একাই পুরো পরিবারের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে একটি তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ওই তহবিলে ৪৫ হাজার ডলার লক্ষ্যের বিপরীতে ২৫ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ জমা পড়েছে।

 

আয়োজকরা জানিয়েছেন, সংগৃহীত এই অর্থ মিডলটন পরিবারের তাৎক্ষণিক ও দৈনন্দিন খরচ মেটানোর পাশাপাশি তাঁর দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কলেজে পড়ার ব্যয় নির্বাহে সহায়তা করবে।

 

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে যখন পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম বোয়িং নির্মিত বি-৫২ বোমারু বিমানটি একটি রুটিন পরীক্ষামূলক ফ্লাইটের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে অবস্থিত এডওয়ার্ডস ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। আকাশে ওঠার প্রায় সাথে সাথেই এটি মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড বিস্ফোরণে চারদিক কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়।

 

সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কারো বেঁচে থাকার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। বিমান ঘাঁটির কর্নেল জেমস হেইস সাংবাদিকদের জানান, নিহত আটজনের মধ্যে সামরিক কর্মকর্তা, বেসামরিক সরকারি কর্মচারী এবং ঠিকাদাররা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে এর মূল কারণ জানতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

 

এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং মার্কিন প্রতিনিধি জে ওবারনোল্টে গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবার ও উদ্ধারকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে হীরার গহনার লোভে ছোটবেলার বন্ধুকে মায়ের সামনেই গুলি করে হত্যা করল দুই যুবক

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে হীরার গহনা ও দামি ঘড়ির লোভে এক যুবককে জিপিএস দিয়ে ট্র্যাক করে তারই সাবেক দুই বন্ধু গুলি করে হত্যা করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে খোদ নিহতের মায়ের চোখের সামনেই। গত ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে ২৪ বছর বয়সী জেরেমি ওর্তেগাকে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার ২৫ বছর বয়সী ওয়েলফি এস্পিনাল এবং ২৭ বছর বয়সী লেনিন তোরিবিওর বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ম্যানহাটনের ইউএস অ্যাটর্নি জে ক্লেটন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অভিযুক্ত এস্পিনালকে নিউ জার্সি থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও অপর অভিযুক্ত তোরিবিও এখনো পলাতক রয়েছে।   নিহত জেরেমির মা ইয়োকাস্টা ওর্তেগা চোখের সামনে ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে এখনো স্তব্ধ। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দিন ভোর পৌনে ৫টার দিকে ছেলে চাবি ফেলে যাওয়ায় তিনি নিজে গিয়ে দরজা খুলে দেন এবং ছেলের জন্য দোতলায় অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু অনেকক্ষণ পরও ছেলে ওপরে না আসায় তিনি বাইরে উঁকি দিয়ে দেখেন জেরেমি প্রাণভয়ে দৌড়াচ্ছে। তিনি দ্রুত নিচে নেমে দেখেন, জেরেমির ছোটবেলার বন্ধু ওয়েলফি তাকে পেছন থেকে বুকে পরপর দুটি গুলি করে।   রক্তাক্ত ছেলেকে বাঁচাতে মা আকুতি করে বলছিলেন, "দয়া করে আমার ছেলেকে মেরো না!" কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। দ্রুত জেরেমিকে জ্যাকোবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর সে মারা যায়। ক্ষোভে ও শোকে পাথর হয়ে যাওয়া মা ইয়োকাস্টা প্রশ্ন রাখেন, "যে ছেলেটার সাথে তুমি বড় হয়েছো, তাকে এভাবে কেন মারলে? কিসের এত ঈর্ষা ও ঘৃণা ছিল?"   তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। অভিযুক্ত তোরিবিও গত ২৮ মার্চ, ২০২৫ তারিখে একটি জিপিএস ট্র্যাকার চালু করে, যা কয়েকদিন পর এস্পিনাল গোপনে জেরেমির গাড়ির নিচে লাগিয়ে দেয়। এই ট্র্যাকারের সাহায্যেই তারা জেরেমিকে আপার ম্যানহাটনের একটি নাইটক্লাবে অনুসরণ করে এবং সেখানে তাকে হীরা খচিত গহনা পরা অবস্থায় দেখতে পায়।   ১২ এপ্রিল তারা জেরেমিকে অনুসরণ করে মিডটাউনের একটি রেস্তোরাঁয় যায় এবং পরে থ্রগস নেক এলাকায় জেরেমির বাড়ির আশপাশে রেকি করে। সেদিন রাতে জেরেমি বাড়ি ফেরার আগেই তারা গাড়ি পরিবর্তন করে ও চুরি করা লাইসেন্স প্লেট লাগিয়ে ওই এলাকায় ওত পেতে ছিল। জেরেমি আসামাত্রই তারা তাকে ধাওয়া করে গুলি চালায় এবং তার কাছে থাকা লুই ভিটন ব্র্যান্ডের একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ব্যাগটিতে জেরেমির শখের হীরার ঘড়ি এবং কার্টিয়ার ব্র্যান্ডের একটি ব্রেসলেট ছিল।   তবে খুনিরা জেরেমির গাড়ির নিচ থেকে জিপিএস ট্র্যাকারটি সরাতে ভুলে যায়। আর এই ট্র্যাকারের সূত্র ধরেই পুলিশ খুনিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়, কারণ ডিভাইসটি তোরিবিওর নিজের নামে ও ইমেইলে নিবন্ধিত ছিল।   জেরেমির বোন ব্রায়ান্না ওর্তেগা জানান, অভিযুক্ত এস্পিনাল তার ভাইয়ের হাইস্কুল জীবনের বন্ধু ছিল এবং প্রায়ই তাদের বাড়িতে আসত। তারা একসাথে বাস্কেটবল খেলত এবং ঘুরে বেড়াত। জেরেমির পরিবার ধারণা করছে, একটি রিসাইক্লিং কোম্পানিতে সুপারভাইজার পদে কর্মরত জেরেমির প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও চরম ঈর্ষা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা। এর আগেও এস্পিনালের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।   অন্যদিকে, সিঙ্গেল মাদারের সংসারে বেড়ে ওঠা জেরেমি তার ছোট ভাইবোনদের কাছে একজন বাবার মতোই ছিলেন। ২০১৯ সালে জেমস মনরো হাইস্কুল থেকে পাস করা জেরেমির কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না।   এর আগে একবার বন্দুকের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ায় সে সবসময় সতর্ক হয়ে চলত। জেরেমির ভাই জেইডেন জানান, তার ভাইয়ের মৃত্যুতে তাদের বাড়িটি এখন পুরোপুরি শূন্য হয়ে পড়েছে। সব সময় হাসি-খুশি ও প্রাণবন্ত জেরেমিকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন চরম শোক ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৯:২৫
মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-৭ থেকে স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী সীমা আহমেদ।

মিশিগানের স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সীমা আহমেদ

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ক্যালিফোর্নিয়ায় বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্তে নিহত প্রথম পাইলটের পরিচয় প্রকাশ

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ক্যালিফোর্নিয়ায় উড্ডয়নের পরই বিধ্বস্ত বি-৫২ বোমারু বিমান, নিহত ৮

ছবিঃ কপ অব দ্য মান্থ বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ
বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ পেলেন মর্যাদাপূর্ণ ‘মাসসেরা পুলিশ’ সম্মাননা

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মদক্ষতা ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘কপ অব দ্য মান্থ’ (মাসসেরা পুলিশ কর্মকর্তা) নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ। জুন ২০২৬ মাসের জন্য তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।   বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বিএপিএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য জানায়। সংগঠনটি জানায়, সাব্বির আহমেদ নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ট্রানজিট ডিস্ট্রিক্ট-৩০ (টিডি-৩০)-এ দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কমিউনিটির একজন গর্বিত সদস্য।   বিএপিএর পক্ষ থেকে প্রকাশিত অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়, সম্প্রদায়ের প্রতি তার নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড তাকে এই স্বীকৃতির জন্য যোগ্য করে তুলেছে। সংগঠনটি তার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তার অবদানকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করে।   নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তাদের মধ্যে সাব্বির আহমেদের এই অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কমিউনিটির সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার পেশাগত জীবনের আরও সাফল্য কামনা করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটি ও মূলধারার সমাজের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে কমিউনিটি নেতারা মনে করেন।   বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের মতে, সাব্বির আহমেদের এ স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশি-আমেরিকানদের পেশাগত উৎকর্ষতা, নিষ্ঠা এবং জনসেবার প্রতি অঙ্গীকারেরও একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৮:১৮
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

২০২৬ সালের বিশ্বসেরা এয়ারলাইন্স তালিকায় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইন্স

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

হোয়াইট হাউস–সংলগ্ন ইউএফসি ইভেন্টে ড্রোন হামলার পরিকল্পনায় এফবিআইয়ের অভিযানে ৫ জন গ্রেপ্তার

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

লাখো আমেরিকান চিকিৎসা নিতে পারে না, অথচ কেউ ট্রিলিয়নিয়ার’—ওয়ারেনের সমালোচনা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সমুদ্র সৈকতে ঘুমন্ত অবস্থায় ঢেউয়ের টানে দুই ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা ক্রুজ কাউন্টির একটি বিপজ্জনক সৈকতে শক্তিশালী ঢেউয়ের টানে ভেসে গিয়ে দুই বান্ধবীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন হর্ষিতা নায়ার (২১) এবং মাহিয়াল স্রান (২০)। তারা দুজনেই ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেমন্টের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় শেরিফ-করোনার কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, বনি দুন বিচে (Bonny Doon Beach) এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।   নিহতদের মধ্যে হর্ষিতা নায়ার ইউসি বার্কলে-তে আইনি শিক্ষা (Legal Studies) বিষয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং মাহিয়াল স্রান সান জোসে স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক হেলথ বা জনস্বাস্থ্য বিষয়ে পড়তেন। ২০২৭ সালে তাদের উভয়েরই স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার কথা ছিল।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, দুই বান্ধবী সৈকতের একটি বিশেষ পাথুরে প্রবেশপথ বা ‘কিহোল’ এলাকার কাছে ঘুমাচ্ছিলেন। ওই সময় ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে আছড়ে পড়া একটি বিশাল ও আকস্মিক ঢেউ তাদের টেনে গভীর সমুদ্রে নিয়ে যায়। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল দিলে সান্তা ক্রুজ কাউন্টির একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত উদ্ধারকাজে নামে।   সেচ্ছাসেবী ফায়ার ক্যাপ্টেন কাইল ব্রেটন জানিয়েছেন, অত্যন্ত প্রতিকূল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় আটজন দক্ষ উদ্ধারকারী সাঁতারু পানিতে নেমে তাদের উদ্ধার করেন। এই সৈকতটি মূলত খাড়া ঢাল, তীব্র স্রোত এবং আচমকা ধেয়ে আসা বিশালাকার ‘রোগ ওয়েভ’ বা আকস্মিক ঢেউয়ের কারণে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত।   উদ্ধারের পর হর্ষিতাকে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত মাহিয়ালকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে হর্ষিতার বাবা অশোক নায়ার বলেন, "আমি এখনো স্তব্ধ।   ঠিক কী ঘটেছিল সে সম্পর্কে আমার কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই।" পড়াশোনার পাশাপাশি হর্ষিতা ইউসি বার্কলে স্টুডেন্ট ইউনিয়নের একজন ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করতেন এবং মাহিয়াল কলেজে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক একটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও একটি নামী আউটলেটে খণ্ডকালীন ক্যাশিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা একটি শক্তিশালী দূরবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় ঢেউয়ের কারণে ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে এমন উত্তাল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বনি দুন বিচ ও ইয়েলো ব্যাংক বিচের মধ্যকার মাত্র এক মাইলের এই উপকূলীয় এলাকায় গত এক মাসে এটি ছিল পঞ্চম উদ্ধার অভিযান।   জোয়ারের কারণে অনেক সময় পর্যটকরা এই এলাকায় আটকা পড়েন এবং আকস্মিক ঢেউয়ের কবলে পড়েন। এই ঘটনার ঠিক একদিন আগে লগুনা বিচের কাছে শক্তিশালী ঢেউয়ের টানে ভেসে গিয়ে আমাদা মিয়া ব্রাউন নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুরও করুণ মৃত্যু হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সান্তা ক্রুজ কাউন্টির শেরিফ কার্যালয় সমুদ্র সৈকতে যাতায়াতকারীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১৫:৪
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

হোয়াইট হাউসে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা ব্যর্থ, এফবিআইয়ের অভিযানে গ্রেপ্তার একাধিক সন্দেহভাজন

ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় ৫৮ মিলিয়ন ডলারের স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি, সাজা শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসে কুস্তি খেলায় ড্রোন ও বন্দুক হামলার বড় ষড়যন্ত্র বানচাল

0 Comments