নিউইয়র্কে হীরার গহনার লোভে ছোটবেলার বন্ধুকে মায়ের সামনেই গুলি করে হত্যা করল দুই যুবক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে হীরার গহনা ও দামি ঘড়ির লোভে এক যুবককে জিপিএস দিয়ে ট্র্যাক করে তারই সাবেক দুই বন্ধু গুলি করে হত্যা করেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে খোদ নিহতের মায়ের চোখের সামনেই। গত ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে ২৪ বছর বয়সী জেরেমি ওর্তেগাকে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার ২৫ বছর বয়সী ওয়েলফি এস্পিনাল এবং ২৭ বছর বয়সী লেনিন তোরিবিওর বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ম্যানহাটনের ইউএস অ্যাটর্নি জে ক্লেটন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অভিযুক্ত এস্পিনালকে নিউ জার্সি থেকে গ্রেপ্তার করা হলেও অপর অভিযুক্ত তোরিবিও এখনো পলাতক রয়েছে।
নিহত জেরেমির মা ইয়োকাস্টা ওর্তেগা চোখের সামনে ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু দেখে এখনো স্তব্ধ। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার দিন ভোর পৌনে ৫টার দিকে ছেলে চাবি ফেলে যাওয়ায় তিনি নিজে গিয়ে দরজা খুলে দেন এবং ছেলের জন্য দোতলায় অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু অনেকক্ষণ পরও ছেলে ওপরে না আসায় তিনি বাইরে উঁকি দিয়ে দেখেন জেরেমি প্রাণভয়ে দৌড়াচ্ছে। তিনি দ্রুত নিচে নেমে দেখেন, জেরেমির ছোটবেলার বন্ধু ওয়েলফি তাকে পেছন থেকে বুকে পরপর দুটি গুলি করে।
রক্তাক্ত ছেলেকে বাঁচাতে মা আকুতি করে বলছিলেন, "দয়া করে আমার ছেলেকে মেরো না!" কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। দ্রুত জেরেমিকে জ্যাকোবি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও প্রায় এক ঘণ্টা পর সে মারা যায়। ক্ষোভে ও শোকে পাথর হয়ে যাওয়া মা ইয়োকাস্টা প্রশ্ন রাখেন, "যে ছেলেটার সাথে তুমি বড় হয়েছো, তাকে এভাবে কেন মারলে? কিসের এত ঈর্ষা ও ঘৃণা ছিল?"
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকেই। অভিযুক্ত তোরিবিও গত ২৮ মার্চ, ২০২৫ তারিখে একটি জিপিএস ট্র্যাকার চালু করে, যা কয়েকদিন পর এস্পিনাল গোপনে জেরেমির গাড়ির নিচে লাগিয়ে দেয়। এই ট্র্যাকারের সাহায্যেই তারা জেরেমিকে আপার ম্যানহাটনের একটি নাইটক্লাবে অনুসরণ করে এবং সেখানে তাকে হীরা খচিত গহনা পরা অবস্থায় দেখতে পায়।
১২ এপ্রিল তারা জেরেমিকে অনুসরণ করে মিডটাউনের একটি রেস্তোরাঁয় যায় এবং পরে থ্রগস নেক এলাকায় জেরেমির বাড়ির আশপাশে রেকি করে। সেদিন রাতে জেরেমি বাড়ি ফেরার আগেই তারা গাড়ি পরিবর্তন করে ও চুরি করা লাইসেন্স প্লেট লাগিয়ে ওই এলাকায় ওত পেতে ছিল। জেরেমি আসামাত্রই তারা তাকে ধাওয়া করে গুলি চালায় এবং তার কাছে থাকা লুই ভিটন ব্র্যান্ডের একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ব্যাগটিতে জেরেমির শখের হীরার ঘড়ি এবং কার্টিয়ার ব্র্যান্ডের একটি ব্রেসলেট ছিল।
তবে খুনিরা জেরেমির গাড়ির নিচ থেকে জিপিএস ট্র্যাকারটি সরাতে ভুলে যায়। আর এই ট্র্যাকারের সূত্র ধরেই পুলিশ খুনিদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়, কারণ ডিভাইসটি তোরিবিওর নিজের নামে ও ইমেইলে নিবন্ধিত ছিল।
জেরেমির বোন ব্রায়ান্না ওর্তেগা জানান, অভিযুক্ত এস্পিনাল তার ভাইয়ের হাইস্কুল জীবনের বন্ধু ছিল এবং প্রায়ই তাদের বাড়িতে আসত। তারা একসাথে বাস্কেটবল খেলত এবং ঘুরে বেড়াত। জেরেমির পরিবার ধারণা করছে, একটি রিসাইক্লিং কোম্পানিতে সুপারভাইজার পদে কর্মরত জেরেমির প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও চরম ঈর্ষা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা। এর আগেও এস্পিনালের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।
অন্যদিকে, সিঙ্গেল মাদারের সংসারে বেড়ে ওঠা জেরেমি তার ছোট ভাইবোনদের কাছে একজন বাবার মতোই ছিলেন। ২০১৯ সালে জেমস মনরো হাইস্কুল থেকে পাস করা জেরেমির কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না।
এর আগে একবার বন্দুকের মুখে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ায় সে সবসময় সতর্ক হয়ে চলত। জেরেমির ভাই জেইডেন জানান, তার ভাইয়ের মৃত্যুতে তাদের বাড়িটি এখন পুরোপুরি শূন্য হয়ে পড়েছে। সব সময় হাসি-খুশি ও প্রাণবন্ত জেরেমিকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন চরম শোক ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ভিসায় আবেদন করতে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি দম্পতির কাছে একটি প্রশ্ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, শুরুতেই কি স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আবেদন করা উচিত, নাকি আগে একজন একা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে নির্ভরশীল ভিসায় নিয়ে আসাই ভালো? সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী ভিসা যাচাই আরও কঠোর হওয়ায় এ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিও বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভিবাসন বিধিমালা বলছে, দুটি পথই বৈধ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের সত্যতা এবং নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ শিক্ষার্থী ভিসাধারীর স্বামী বা স্ত্রী ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। চাইলে মূল আবেদনকারীর সঙ্গে একই সময়ে আবেদন করা যায়, আবার শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পড়াশোনা শুরু করার পরও ডিপেন্ডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থীদের ভিসা যাচাই আগের তুলনায় আরও কঠোর হয়েছে। আবেদনকারীর শিক্ষার উদ্দেশ্য, আর্থিক সক্ষমতা, নথিপত্রের সত্যতা, ভিসার শর্ত মেনে চলার সক্ষমতা এবং সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন কনস্যুলার কর্মকর্তারা। তবে এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রীকে ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে নিয়ে যাওয়ার মৌলিক নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, অনেক আবেদনকারী মনে করেন বিবাহিত হওয়ার তথ্য গোপন করে একা আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। কিন্তু এই ধারণার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো নীতিগত ভিত্তি নেই। বরং ভিসা আবেদনপত্রে বৈবাহিক অবস্থা গোপন করা বা ভুল তথ্য দেওয়া ভবিষ্যতে গুরুতর আইনি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। অভিবাসন আইনের ভাষায় এটি ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা পরবর্তী ভিসা বা অভিবাসন সুবিধার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাস্তবে এমন ঘটনাও ঘটে, যেখানে মূল শিক্ষার্থীর ভিসা অনুমোদিত হলেও তার স্বামী বা স্ত্রীর ডিপেন্ডেন্ট ভিসা অনুমোদন পায় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে দুজনই একসঙ্গে ভিসা পান। প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা। শুধু বিবাহিত হওয়া বা একসঙ্গে আবেদন করাই ভিসা অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের একমাত্র কারণ নয়। যারা প্রথমে একা যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের জন্যও আইনি পথ খোলা রয়েছে। শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থী দপ্তরের মাধ্যমে স্বামী বা স্ত্রীর জন্য নতুন অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। এরপর সেই নথির ভিত্তিতে নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে নির্ভরশীল ভিসার আবেদন করা যায়। তবে ডিপেন্ডেন্ট ভিসাধারীদের জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করার অনুমতি নেই। এছাড়া ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে অবস্থানের বৈধতা মূল শিক্ষার্থীর বৈধ অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ শিক্ষার্থীর বৈধ অবস্থান শেষ হলে নির্ভরশীলের অবস্থানও একইভাবে প্রভাবিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবীরাও দীর্ঘদিন ধরে আবেদনকারীদের একটি বিষয়েই গুরুত্ব দিতে বলে আসছেন, সব তথ্য সত্য ও নির্ভুলভাবে প্রকাশ করা। তারা মনে করেন, শুরুতেই স্বামী বা স্ত্রীকে সঙ্গে আবেদন করবেন, নাকি পরে নিয়ে আসবেন, সেটি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও আর্থিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু বৈবাহিক তথ্য গোপন করা বা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই নিরাপদ কৌশল নয়। অভিবাসন নিয়ে কাজ করেন তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন গুজবের ওপর নির্ভর না করে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নির্দেশনা এবং নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষার্থী দপ্তরের পরামর্শ অনুসরণ করা। কারণ প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং সঠিক তথ্য ও শক্তিশালী নথিপত্রই ভিসা প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
জনস হপকিন্সের গবেষককে বিমানবন্দরে আটক করল আইস, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ
দুই বছর পর্যন্ত অপেক্ষা! নিউইয়র্কের সরকারি আবাসন লটারি দ্রুত করতে বড় সংস্কারের উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেবিদেশি ক্রেতার আগ্রহে বড় ধাক্কা, বিনিয়োগ কমল ৩৫ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে শৈশবে এসে বেড়ে ওঠা এবং ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস কর্মসূচির সুরক্ষায় বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি থাকা টেক্সাসের এক মা এবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, বৈধ সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও তাকে অবৈধভাবে মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে, আর পরে সেই বহিষ্কারকেই অজুহাত দেখিয়ে তার ডিএসিএ মর্যাদা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩৪ বছর বয়সী জেসিকা ত্রেভিনো টেক্সাসে সাত বছর বয়সে আসেন এবং পরে ডিএসিএ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। তার বর্তমান ডিএসিএ অনুমোদনের মেয়াদ ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বৈধ ছিল। তবে গত মার্চে তাকে এবং তার স্বামীকে মেক্সিকোতে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তারা মেক্সিকোর মাতামোরোসে অবস্থান করছেন, আর তাদের তিন সন্তান, যারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, টেক্সাসে স্বজনদের কাছে রয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা পরে তাকে একটি নোটিশ পাঠিয়ে জানায়, তিনি "অননুমোদিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন", এই কারণ দেখিয়ে তার ডিএসিএ সুবিধা বাতিল করা হবে। ত্রেভিনোর আইনজীবীর ভাষ্য, সরকারই যখন তাকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করেছে, তখন সেই ঘটনাকেই আবার ডিএসিএ বাতিলের কারণ হিসেবে দেখানো আইনি ও যৌক্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, ত্রেভিনো স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে সম্মতি দিয়েছিলেন এবং আপিলের অধিকার ত্যাগ করেছিলেন। তবে ত্রেভিনো এই দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কখনোই স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তে রাজি হননি এবং কোনো নথিতে স্বাক্ষরও করেননি। ফেডারেল আদালতে দায়ের করা মামলায় ত্রেভিনো তার ডিএসিএ মর্যাদা পুনর্বহাল, বহিষ্কারকে অবৈধ ঘোষণা এবং তাকে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ চেয়েছেন। মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে ডিএসিএ সুবিধাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের অধিকার ও আইনি সুরক্ষা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ডিএসিএ কর্মসূচি ২০১২ সালে চালু হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অবস্থায় আসা এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী অভিবাসীদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার থেকে সুরক্ষা এবং কাজের অনুমতি দেয়। তবে এই কর্মসূচি স্থায়ী নাগরিকত্ব বা বৈধ অভিবাসন মর্যাদা প্রদান করে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে।
ডাকে পাঠানো লটারির বিজয়ী টিকিট চুরি! মার্কিন ডাক বিভাগের কর্মী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মেয়াদি মর্টগেজ সুদ এক বছরে সর্বোচ্চ, বাড়ি কেনা আরও কঠিন
দুই কক্ষের ফ্ল্যাট ভাড়ায় নিউইয়র্ককে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এখন সান ফ্রান্সিসকো
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে সিএনএনের সাম্প্রতিক একটি জরিপ। জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-ঘেঁষা ভোটারদের কাছে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তার পরেই রয়েছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি)। সিএনএনের জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-সমর্থক ভোটারদের মধ্যে মামদানির নেট অনুকূল মতামত (নেট ফেভারেবিলিটি) দাঁড়িয়েছে +৫৪ শতাংশ। এওসির ক্ষেত্রে এই হার +৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে, হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিজের নেট অনুকূল মতামত প্রায় +২২ শতাংশ এবং সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমারের ক্ষেত্রে তা মাত্র +১ শতাংশ। জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, দলের সমর্থকদের একটি বড় অংশ বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের তুলনায় নতুন প্রজন্মের প্রগ্রেসিভ নেতাদের প্রতি বেশি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক বৈষম্যের মতো ইস্যুতে সরব অবস্থান নেওয়ায় মামদানি ও এওসি তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু দাবির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। অনেক পোস্টে বলা হচ্ছে, “জোহরান মামদানি আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় ডেমোক্র্যাট।” কিন্তু সিএনএনের এই জরিপে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জনমত পরিমাপ করা হয়নি। এটি পরিচালিত হয়েছে শুধুমাত্র ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-ঘেঁষা ভোটারদের মধ্যে। ফলে এই ফলাফলকে দেশের সব ভোটারের মতামতের প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একইভাবে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত “ডেমোক্র্যাট ভোটাররা নিজেদের দলের চেয়েও মামদানিকে বেশি বিশ্বাস করেন” এমন দাবিও জরিপের সরাসরি ফল নয়। কারণ জরিপে ভোটারদের ‘বিশ্বাস’ নয়, বরং বিভিন্ন নেতার প্রতি তাদের ‘অনুকূল বা প্রতিকূল মতামত’ পরিমাপ করা হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জরিপ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দলের তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে নতুন নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন বাড়ছে কি না, সে প্রশ্নে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে এই ফলাফল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে দ্রুত পরিচিতি পাওয়া জোহরান মামদানির জনপ্রিয়তা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় থেরাপিস্টের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলার পর নিখোঁজ কিশোর, ছেলেকে খুঁজছেন মা
হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ঘাড়ের ছবি নিয়ে শুরু ঠাট্টা-বিদ্রূপ