আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় থেরাপিস্টের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলার পর নিখোঁজ কিশোর, ছেলেকে খুঁজছেন মা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ২৩:৬
যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক থেরাপিস্ট সোফিয়া ড্রটস। ছবি: সংগৃহীত
যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক থেরাপিস্ট সোফিয়া ড্রটস। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় এক কিশোরকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত এক থেরাপিস্টের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে গেছে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোর। তার মা আশঙ্কা করছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ছেলেটি হয়তো আবার অভিযুক্ত থেরাপিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

 

দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর ২৬ বছর বয়সী সোফিয়া ড্রটস কনট্রা কস্টা কাউন্টির একটি কিশোর সংশোধনাগারে কর্মরত অবস্থায় ওই কিশোরের থেরাপিস্ট ছিলেন। গত দুই সপ্তাহ আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

 

সোমবার তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্ক, যৌন নির্যাতন, অশ্লীল উপকরণ পাঠানো এবং শিশু পর্নোগ্রাফি সংরক্ষণের অভিযোগ। তবে আদালতে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালে কিশোরটির বয়স যখন ১৪ বা ১৫ বছর ছিল, তখন থেকেই সোফিয়া ড্রটস তার থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পেশাগত সম্পর্কের অপব্যবহার করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে কিশোরটির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি।

 

তদন্তে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও ড্রটস থেরাপিস্ট হিসেবে তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন এবং পরে তাদের মধ্যে অবৈধ যৌন সম্পর্ক তৈরি হয়।

 

কিশোরটির মা, যিনি ছেলের পরিচয় গোপন রাখতে নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন, তার ছেলে থেরাপিস্টের গ্রেপ্তারের দিন থেকেই নিখোঁজ। তার ভাষায়, 'সে শুধু চলে গেছে। কোথায় আছে জানি না। আমি শুধু আশা করছি, সে যেন ওই নারীর সঙ্গে না থাকে।'

 

মায়ের দাবি, সংশোধনাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে তার ছেলে নিয়মিত সোফিয়া ড্রটসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। এমনকি পুলিশ যখন ড্রটসকে গ্রেপ্তার করে, তখনও তারা ভিডিও কলে কথা বলছিল বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রথমদিকে তিনি ড্রটসকে অত্যন্ত যত্নশীল ও দায়িত্বশীল থেরাপিস্ট বলেই মনে করেছিলেন। কখনো কল্পনাও করেননি যে তার ছেলে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে পারে।

 

তবে তদন্ত সামনে আসার পর ছেলের সঙ্গে কথা বললে সে মাকে জানায়, তাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মতিতেই হয়েছিল। এরপরই সে বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।

 

মায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার পর একবার সে বাড়িতে ফিরে গোসল করে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরা গোড়ালির ইলেকট্রনিক নজরদারি যন্ত্র খুলে রেখে আবার চলে যায়। পরে সে প্রবেশন-সংক্রান্ত আদালতের নির্ধারিত শুনানিতেও উপস্থিত হয়নি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে।

 

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাউন্টির কয়েকজন কর্মকর্তা ও তত্ত্বাবধায়ক সময়মতো সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। ফলে অভিযুক্ত থেরাপিস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুযায়ী অনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।

 

কিশোরটির পরিবারের পক্ষে দেওয়ানি মামলার আইনজীবী জন বারিস বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তার আশা, এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে কিশোরটি বুঝতে পারবে যে এটি কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না, বরং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ।

 

সোফিয়া ড্রটস ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে তিনি ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ক্যালিফোর্নিয়ায় আসেন বলে বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলছে। আগামী আগস্টে সোফিয়া ড্রটসকে আবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
সিএনএনের জরিপে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে সবচেয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন পেয়েছেন জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
সিএনএন জরিপে বড় চমক, জনপ্রিয়তায় শীর্ষে উঠে এলেন জোহরান মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে সিএনএনের সাম্প্রতিক একটি জরিপ। জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-ঘেঁষা ভোটারদের কাছে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তার পরেই রয়েছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি)।   সিএনএনের জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-সমর্থক ভোটারদের মধ্যে মামদানির নেট অনুকূল মতামত (নেট ফেভারেবিলিটি) দাঁড়িয়েছে +৫৪ শতাংশ। এওসির ক্ষেত্রে এই হার +৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে, হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিজের নেট অনুকূল মতামত প্রায় +২২ শতাংশ এবং সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমারের ক্ষেত্রে তা মাত্র +১ শতাংশ।   জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, দলের সমর্থকদের একটি বড় অংশ বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের তুলনায় নতুন প্রজন্মের প্রগ্রেসিভ নেতাদের প্রতি বেশি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক বৈষম্যের মতো ইস্যুতে সরব অবস্থান নেওয়ায় মামদানি ও এওসি তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন অর্জন করেছেন।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু দাবির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। অনেক পোস্টে বলা হচ্ছে, “জোহরান মামদানি আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় ডেমোক্র্যাট।” কিন্তু সিএনএনের এই জরিপে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের জনমত পরিমাপ করা হয়নি। এটি পরিচালিত হয়েছে শুধুমাত্র ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাট-ঘেঁষা ভোটারদের মধ্যে। ফলে এই ফলাফলকে দেশের সব ভোটারের মতামতের প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   একইভাবে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত “ডেমোক্র্যাট ভোটাররা নিজেদের দলের চেয়েও মামদানিকে বেশি বিশ্বাস করেন” এমন দাবিও জরিপের সরাসরি ফল নয়। কারণ জরিপে ভোটারদের ‘বিশ্বাস’ নয়, বরং বিভিন্ন নেতার প্রতি তাদের ‘অনুকূল বা প্রতিকূল মতামত’ পরিমাপ করা হয়েছে।   রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জরিপ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দলের তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে নতুন নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন বাড়ছে কি না, সে প্রশ্নে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে এই ফলাফল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে দ্রুত পরিচিতি পাওয়া জোহরান মামদানির জনপ্রিয়তা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ২৩:৩৪
যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক থেরাপিস্ট সোফিয়া ড্রটস। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় থেরাপিস্টের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলার পর নিখোঁজ কিশোর, ছেলেকে খুঁজছেন মা

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ঘাড়ের ছবি নিয়ে শুরু ঠাট্টা-বিদ্রূপ

এফ-৩৫বি স্টেলথ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ চলাকালে বিধ্বস্ত

ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান, শেষ মুহূর্তে প্রাণে বাঁচলেন পাইলট

ছয় মাসের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত মা তাতিয়ানা নরম্যান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মরতে থাকা ৬ মাসের সন্তানের পাশে বসে পর্ন আর টিকটক দেখছিলেন মা

ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড শহরে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তার মা তাতিয়ানা নরম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, শিশুটি দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার আঘাত পাওয়ার পরও তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি। বরং মোবাইল ফোনে শিশুর শারীরিক অবস্থার লক্ষণ খুঁজে দেখেন এবং দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতনের মামলা করা হয়েছে।   লেকল্যান্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ জুন রাত প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে অচেতন এক শিশুর খবর পেয়ে পুলিশ তাতিয়ানা নরম্যানের বাড়িতে যায়। পরে ছয় মাস বয়সী জেরেমাইয়া পিটার্সকে হাসপাতালে নেওয়া হলে এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশপ্রধান স্যামি টেলর জুনিয়র এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশকে নরম্যান প্রথমে বলেন, শিশুকে বিছানায় রেখে তিনি দুধের বোতল প্রস্তুত করতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন, সে বিছানা থেকে মেঝেতে পড়ে গেছে।   তবে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্য পরিবর্তিত হয়। তখন তিনি দাবি করেন, একই বিছানায় ঘুমানোর সময় হয়তো তিনি বা তার এক বছর বয়সী আরেক সন্তান অসাবধানতাবশত শিশুটির ওপর গড়িয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু ময়নাতদন্তের ফলাফলে তদন্তকারীরা ভিন্ন তথ্য পান। পুলিশ জানায়, শিশুর শরীরে এমন ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা শুধু বিছানা থেকে একবার পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাম উরুতে পাওয়া দাগ সম্পর্কেও নরম্যানের দেওয়া ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হয়নি।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ময়নাতদন্তের ফল সামনে আনার পর নরম্যান স্বীকার করেন, ওই দিন শিশুটি অন্তত তিনবার পড়ে যায়। এর মধ্যে একটি ঘটনায় তিনি ক্ষোভের মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থান থেকে শিশুটিকে একটি প্লেপেনের ভেতরে ছুড়ে দেন। তদন্তকারীদের ধারণা, এ সময়ই শিশুটি সবচেয়ে গুরুতর আঘাত পায়। প্লেপেনটির তলায় কোনো নরম গদি না থাকায় শিশুর মাথা ও পিঠে মারাত্মক আঘাত লাগে।   তদন্তে আরও জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে রিমোট কন্ট্রোল তুলতে গিয়ে শিশুটি তার হাত থেকে মেঝেতে পড়ে যায়। এরপরও তিনি হাসপাতালে না নিয়ে মোবাইল ফোনে সম্ভাব্য আঘাতের লক্ষণ সম্পর্কে খোঁজ করতে থাকেন এবং বাড়িতেই শিশুকে পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিছু সময় পরে এক বছর বয়সী আরেক সন্তান দোলনা আকৃতির শিশুশয্যায় উঠে পড়লে সেটি উল্টে যায় এবং জেরেমাইয়া আবার মেঝেতে পড়ে যায় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও নরম্যান জরুরি চিকিৎসা না নিয়ে মোবাইলে বিভিন্ন বিষয় খুঁজে দেখেন। তদন্তে তার ফোন থেকে ‘শিশুর শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে’, ‘শিশুর মস্তিষ্কে আঘাত’, ‘মস্তিষ্কে আঘাত জরুরি অবস্থা কি না’ ইত্যাদি বিষয়ে অনুসন্ধানের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এর পরও তিনি দীর্ঘ সময় টিকটকসহ বিভিন্ন অনলাইন সেবা ব্যবহার করেন। পুলিশপ্রধান স্যামি টেলরের ধারণা, জরুরি সহায়তা চাওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে নরম্যান নিজের মানসিক সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিষণ্নতা, আত্মহত্যার চিন্তা, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) এবং সীমান্তরেখাজনিত ব্যক্তিত্ব সমস্যায় ভুগছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি দাবি করেন, সংসারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়া, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং হতাশা থেকেই তিনি শিশুটির প্রতি রাগান্বিত আচরণ করেছিলেন।   তবে পুলিশ বলছে, এসব দাবি তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হলেও শিশুর প্রতি সহিংস আচরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগের গুরুত্ব কমে না।   বর্তমানে তাতিয়ানা নরম্যানের বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় অভিযোগ আরও পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে লেকল্যান্ড পুলিশ।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ২১:৫৩
ডাক্ট টেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে রাখা অবস্থায় একটি জীবিত ইগুয়ানা

মিসৌরিতে গাছে ডাক্ট টেপ দিয়ে বেঁধে ফেলে রাখা ইগুয়ানা উদ্ধার, পানিশূন্যতা ও প্রচণ্ড মানসিক চাপে প্রাণীটি

নতুন সর্বনিম্ন মজুরি ঘোষণা দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘণ্টাপ্রতি সর্বনিম্ন মজুরি হবে ১৭.৪০ ডলার: গভর্নর গ্যাভিন নিউজম

২০ বছর বয়সী মালিহা অ্যালেন

নর্থ ক্যারোলিনায় বাবাকে কুপিয়ে হ ত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২০ বছরের তরুণী, সামনে এলো ভয়ংকর ফেসবুক স্ট্যাটাস

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১২ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা, আদালতে পরিবারের মুখোমুখি হতেও ভয় ঘাতকের
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১২ বছরের শিশুকে গুলি করে হত্যা, আদালতে পরিবারের মুখোমুখি হতেও ভয় ঘাতকের

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার ১২ বছর বয়সী নিরপরাধ ছেলেকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক দাগি অপরাধী আদালতে নিহতের পরিবারের মুখোমুখি হতে কাপুরুষোচিত অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। গত শুক্রবার ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টে এই মামলার নিয়মিত শুনানির দিন ধার্য ছিল। নিহত জ্যাকব ফ্রেয়টেসের বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘাতকের মুখোমুখি হওয়ার জন্য এজলাসে উপস্থিত থাকলেও ৪৫ বছর বয়সী অভিযুক্ত উইলিয়াম ফেরার আদালতে হাজির হননি। ডিপার্টমেন্ট অফ কারেকশন্স তাকে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে এলেও শেষ মুহূর্তে তার আইনজীবী রেমন্ড গাজারের মাধ্যমে তিনি বিচারকের সামনে উপস্থিত হওয়া থেকে অব্যাহতি নেন।   গত শনিবার ব্রঙ্কসের মাউন্ট ইডেন এলাকার ওয়ান্ডা ডেলি গ্রোসারি নামক একটি দোকানের বাইরে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। অবসরপ্রাপ্ত এনওয়াইপিডি (NYPD) ডিটেকটিভ সার্জেন্ট জেসুস ফ্রেয়টেসের ছেলে জ্যাকব সাইকেল চালিয়ে ওই দোকানে একটি বল কিনতে গিয়েছিল।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, সে সময় দুই পক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে জ্যাকবের বুকে গুলি লাগে এবং পরবর্তীতে ব্রঙ্কসের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দোকানটির বাইরে মারামারি চলার সময় এক ব্যক্তি হঠাৎ বন্দুক বের করে গুলি ছুড়তে শুরু করে এবং গুলিবিদ্ধ জ্যাকব বুকে হাত চেপে ধরে দৌড়ে দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় আরও দুজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রমতে, উইলিয়াম ফেরার মূলত তার ভাইয়ের একটি বিরোধ মেটাতে গিয়ে এই গোলাগুলির সূত্রপাত করেন।   ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন জ্যাকবের মা মিগডালিয়া মার্টিনেজ। সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি শহরের ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "বর্তমান ব্যবস্থা ভুক্তভোগীদের চেয়ে অপরাধীদের পক্ষেই বেশি কাজ করছে। শহরটি এখন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে, কারণ আইন আর আগের মতো কঠোর নেই।" এদিকে, শুক্রবার আদালতে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন যে, তারা হত্যাসহ অন্যান্য গুরুতর অভিযোগে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট বা ইনডাইক্টমেন্ট পেতে গ্র্যান্ড জুরির কাছে মামলাটি উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।   ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টের বিচারক জোসেফ সোরেন্টিনো অভিযুক্ত ফেরারকে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত রাইকার্স আইল্যান্ড কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে অন্তত ছয়বার গ্রেপ্তার হওয়া এই দাগি অপরাধীর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নরহত্যা, হামলা এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৯:২১
মার্কিন প্রবীণদের জন্য সুখবর, মাসে ৭৭ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা

মার্কিন প্রবীণদের জন্য সুখবর, মাসে ৭৭ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা

ভাইকে কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচানো সেই অভিবাসী আবারও আইসিই-এর হেফাজতে

ভাইকে কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচানো অভিবাসী আবারও আইসিইর হেফাজতে

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ১০ ফুটের বিশাল ট্রফি I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে ১০ ফুটের বিশাল ট্রফি

0 Comments