বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ পেলেন মর্যাদাপূর্ণ ‘মাসসেরা পুলিশ’ সম্মাননা
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মদক্ষতা ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘কপ অব দ্য মান্থ’ (মাসসেরা পুলিশ কর্মকর্তা) নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ। জুন ২০২৬ মাসের জন্য তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বিএপিএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় এ তথ্য জানায়। সংগঠনটি জানায়, সাব্বির আহমেদ নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) ট্রানজিট ডিস্ট্রিক্ট-৩০ (টিডি-৩০)-এ দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কমিউনিটির একজন গর্বিত সদস্য।
বিএপিএর পক্ষ থেকে প্রকাশিত অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়, সম্প্রদায়ের প্রতি তার নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড তাকে এই স্বীকৃতির জন্য যোগ্য করে তুলেছে। সংগঠনটি তার ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তার অবদানকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করে।
নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তাদের মধ্যে সাব্বির আহমেদের এই অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কমিউনিটির সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তার পেশাগত জীবনের আরও সাফল্য কামনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তারা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটি ও মূলধারার সমাজের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে কমিউনিটি নেতারা মনে করেন।
বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের মতে, সাব্বির আহমেদের এ স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশি-আমেরিকানদের পেশাগত উৎকর্ষতা, নিষ্ঠা এবং জনসেবার প্রতি অঙ্গীকারেরও একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreনিউইয়র্ক সিটিতে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনের চাহিদা বাড়লেও সরকারি আবাসন লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউইয়র্ক হাউজিং কনফারেন্সের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে একটি নতুন আবাসন প্রকল্পে ভাড়াটিয়া নির্বাচন ও বসবাস শুরু করতে প্রায় দুই বছর বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এই জটিলতা কমাতে আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। গবেষণায় ব্রঙ্কসের একটি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ১৮০টি অ্যাপার্টমেন্টে ভাড়াটিয়া নির্বাচন ও স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ২৭ মাস সময় লাগে। ফলে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও বহু ইউনিট দীর্ঘ সময় খালি ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রকল্পে প্রায় ৭০ হাজার আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে ৫ হাজারের বেশি আবেদন যাচাইয়ের জন্য বাছাই করা হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩৫টি পরিবার অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে সক্ষম হয়। অনেক আবেদনকারী নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি, কেউ আবার আয়ের সীমা বা অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হন। একই সঙ্গে একাধিক ধাপে নথি যাচাই, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়াও বিলম্বের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই দীর্ঘ অপেক্ষার অভিজ্ঞতা শুধু গবেষণার পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি আবাসন লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া আবেদনকারীদের অভিজ্ঞতাও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে। আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রুকলিনের গ্রিনপয়েন্ট এলাকায় সরকারি আবাসন লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া জশ আয়ালা বলেন, আবেদন করার পর ভবন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রথমবার যোগাযোগ পেতে তার প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস সময় লেগেছিল। তার ভাষায়, “এই পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক দীর্ঘ হতে পারে।” একই প্রতিবেদনে আরেক সফল আবেদনকারী অ্যালেক্স কার্পিও জানান, তিনি ২০২২ সালে আবেদন করেছিলেন এবং ২০২৩ সালে অ্যাপার্টমেন্টে উঠতে সক্ষম হন। তার মতে, “এটি অনেকটাই ভাগ্যের বিষয়। কখন কর্তৃপক্ষ আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করবে, তা আগে থেকে জানার কোনো উপায় নেই।” তিনি বলেন, যোগাযোগ পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়, যা অনেক আবেদনকারীর জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি আবাসন লটারির বর্তমান ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে আবেদন যাচাইয়ের ধাপ কমানো, একই নথি বারবার জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা হ্রাস, অনলাইন যাচাই ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা, আবেদনকারীদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং খালি থাকা অ্যাপার্টমেন্ট দ্রুত যোগ্য আবেদনকারীদের কাছে বরাদ্দ দেওয়া। এদিকে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনও সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। শহর কর্তৃপক্ষের ‘স্পিড’ উদ্যোগের আওতায় আবেদন, যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং নতুন আবাসন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, আবেদনকারীদের অপেক্ষার সময় কমিয়ে দ্রুত খালি ইউনিটে বাসিন্দা স্থানান্তর নিশ্চিত করা। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি আবাসন লটারি এমন একটি অনলাইন ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বাসিন্দারা সাশ্রয়ী মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট এবং সীমিত সংখ্যক বাড়ির মালিকানা কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারেন। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নিলেও তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সুযোগ পান তুলনামূলকভাবে অল্পসংখ্যক আবেদনকারী। নিউইয়র্কে আবাসন নিয়ে কাজ করেন এমন অনেকে বলছেন, আবেদনকারীদের উচিত অনলাইন হিসাবের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, আয় ও পরিবারের তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা। এতে আবেদন যাচাইয়ের সময় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমতে পারে। তাদের মতে, নিউইয়র্কে নতুন সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণের পাশাপাশি আবেদন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত লিজ স্বাক্ষর পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করা গেলে হাজারো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য আবাসন পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেবিদেশি ক্রেতার আগ্রহে বড় ধাক্কা, বিনিয়োগ কমল ৩৫ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়া স্বত্তেও মেক্সিকোতে ফেরত পাঠানোয়, ট্রাম্প প্রশাসন এর বিরুদ্ধে মামলা
ডাকে পাঠানো লটারির বিজয়ী টিকিট চুরি! মার্কিন ডাক বিভাগের কর্মী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের মেয়াদি স্থির সুদের (ফিক্সড-রেট) গৃহঋণের গড় সুদের হার বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে। টানা চার সপ্তাহের ঊর্ধ্বগতির ফলে বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের ঋণের খরচ আরও বেড়েছে, যা ইতোমধ্যেই ধীরগতির আবাসন বাজারের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। মর্টগেজ ঋণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ সাপ্তাহিক জরিপ অনুযায়ী, আগের সপ্তাহে ৩০ বছরের স্থির সুদের গৃহঋণের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়ে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ১৫ বছরের স্থির সুদের গৃহঋণের গড় হার বেড়ে ৬ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের ট্রেজারি বন্ডের ফলন বেড়েছে। সাধারণত এই ফলনের সঙ্গে গৃহঋণের সুদের হারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ট্রেজারি ফলন বাড়ার প্রভাব সরাসরি মর্টগেজের সুদের হারেও পড়ছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ নীতিগত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। এ কারণে বাজারে দ্রুত সুদের হার কমার সম্ভাবনাও সীমিত বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। উচ্চ সুদের কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহে গৃহঋণের আবেদনও কমেছে। অন্যদিকে, কম সুদের পুরোনো ঋণ ধরে রাখতে অনেক বাড়ির মালিক তাদের সম্পত্তি বিক্রি করতে আগ্রহী নন, ফলে বাজারে বিক্রির জন্য নতুন বাড়ির সরবরাহও সীমিত থাকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার উচ্চ অবস্থানে থাকায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাওয়া ক্রেতারাই সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন। তাদের মাসিক কিস্তি বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি কেনার সামর্থ্য কমে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ না কমলে অদূর ভবিষ্যতে গৃহঋণের সুদের হার দ্রুত কমার সম্ভাবনাও কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুই কক্ষের ফ্ল্যাট ভাড়ায় নিউইয়র্ককে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এখন সান ফ্রান্সিসকো
সিএনএন জরিপে বড় চমক, জনপ্রিয়তায় শীর্ষে উঠে এলেন জোহরান মামদানি
ক্যালিফোর্নিয়ায় থেরাপিস্টের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলার পর নিখোঁজ কিশোর, ছেলেকে খুঁজছেন মা
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোলা কয়েকটি ক্লোজআপ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তার ঘাড়ের সামনের অংশে দেখা যাওয়া ত্বকের ভাঁজ নিয়ে বিভিন্ন ব্যবহারকারী মন্তব্য ও রসিকতা করছেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে তোলা ট্রাম্পের কয়েকটি ছবি সাংবাদিক অ্যারন রুপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করার পর সেগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে ট্রাম্পের ঘাড়ের সামনের অংশে একটি স্পষ্ট ত্বকের ভাঁজ দেখা যায়। এরপর অনেক ব্যবহারকারী ছবিটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও অনুমান করতে শুরু করেন। কিছু ব্যবহারকারী এটিকে বয়সজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন ওজন কমানোর ওষুধ বা স্বাস্থ্যগত কারণের প্রসঙ্গও তুলেছেন। তবে এসব মন্তব্যের পক্ষে কোনো চিকিৎসাগত বা সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ছবিগুলো তোলা হয় হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক নৈশভোজে। ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প উপস্থিত সাংবাদিকদের অধিকাংশের প্রতি সম্মান জানালেও তার দীর্ঘদিনের সমালোচনার পুনরাবৃত্তি করে কিছু সংবাদমাধ্যমকে 'ভুয়া সংবাদ' ছড়ানোর অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি 'ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট সিনড্রোম' মন্তব্যও করেন। এটি প্রথম নয়, চলতি বছরেও ট্রাম্পের শারীরিক অবস্থা নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। গত মার্চে মেডেল অব অনার প্রদান অনুষ্ঠানে তার ঘাড়ের ডান পাশে লালচে দাগ দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠে। পরে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্ট ঘাড়ের ডান পাশে একটি সাধারণ ত্বক সুরক্ষাকারী ক্রিম ব্যবহার করছিলেন। তিনি বলেন, এটি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার অংশ ছিল এবং এর কারণে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লালচে দাগ দেখা যেতে পারে। তবে কী কারণে ওই চিকিৎসা প্রয়োজন হয়েছিল বা কোন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এ ছাড়া সাম্প্রতিক কয়েকটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের ডান হাতে মেকআপ দিয়ে ঢেকে রাখা একটি কালশিটের দাগও আলোচনায় আসে। এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ঘন ঘন মানুষের সঙ্গে করমর্দন, দীর্ঘমেয়াদি শিরার সমস্যা (ক্রনিক ভেনাস ইনসাফিসিয়েন্সি) এবং অ্যাসপিরিন সেবনের কারণে তার হাতে এমন দাগ দেখা দিতে পারে। তবে চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, কেবল ছবি দেখে কারও শারীরিক অবস্থা বা রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। চিকিৎসা পরীক্ষার ফল বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের তথ্য ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন দাবি যাচাই করা যায় না।
ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমান, শেষ মুহূর্তে প্রাণে বাঁচলেন পাইলট
যুক্তরাষ্ট্রে মরতে থাকা ৬ মাসের সন্তানের পাশে বসে পর্ন আর টিকটক দেখছিলেন মা