নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার বাসিন্দা বার্নার্ড বোনাপার্ট মনে করেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের পেছনে রয়েছে প্রিয় বাস্কেটবল দল নিউইয়র্ক নিকসের অনুপ্রেরণা। দলের ধারাবাহিক সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে কেনা একটি লটারির টিকিটই তাঁকে এনে দিয়েছে ৩৪ লাখ ডলারের বিশাল জ্যাকপট।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পিক্স১১-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের লটারির জ্যাকপট জিতেছেন বার্নার্ড বোনাপার্ট। পুরস্কারের চেক গ্রহণ করতে গিয়ে তিনি মজা করেই বলেন, “সবকিছুর কারণ নিকস। নিকস জিতেছে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সত্যিই দারুণ লাগছে।”
সাধারণত বড় ক্রীড়া সাফল্যের পর ভক্তরা বিজয় উদযাপনে রাস্তায় নেমে আসেন। কিন্তু নিকসের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর লক্ষাধিক সমর্থকের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দেওয়ার বদলে বার্নার্ডকে যেতে হয়েছে কানেকটিকাটে, নিজের জ্যাকপট পুরস্কার গ্রহণ করতে।
লটারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১২ জুন অনুষ্ঠিত ড্রতে তাঁর কেনা টিকিটের ছয়টি সংখ্যাই মিলে যায়। মজার বিষয় হলো, এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছিল নিকসের দীর্ঘ ৫৩ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর ঠিক একদিন আগে।
বার্নার্ড জানান, দলের জয়ের ধারাবাহিকতা তাঁকে নতুনভাবে ভাগ্য পরীক্ষা করতে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই ভাবনা থেকেই তিনি কানেকটিকাট লটারির একটি টিকিট কিনেছিলেন।
টিকিটটি তিনি কিনেছিলেন কানেকটিকাটের ওল্ড গ্রিনউইচ এলাকার একটি গালফ গ্যাস স্টেশন থেকে। স্থানীয়ভাবে এই বিক্রয়কেন্দ্রটি লটারিপ্রেমীদের কাছে বেশ পরিচিত। কারণ এর আগেও এখান থেকে একাধিক বড় পুরস্কারজয়ী টিকিট বিক্রি হয়েছে।
লটারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ আগেই একই বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ২৫ হাজার ডলারের একটি বিজয়ী স্ক্র্যাচ টিকিট বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে এখান থেকে ১০ লাখ ডলার এবং ২০২৪ সালে ৪৩ লাখ ডলারের আরেকটি বিজয়ী টিকিট বিক্রি হয়েছিল।
লটারিতে জয়ের পর নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বার্নার্ড। তিনি একটি বাড়ি কিনতে চান এবং তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়ার কোনো এলাকায় বসবাসের কথা ভাবছেন। তবে স্থান পরিবর্তন করলেও নিজের শহর এবং প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
চেক গ্রহণের সময় তিনি বলেন, “আমি নিউইয়র্ককে ভালোবাসি, আর কানেকটিকাট লটারিকেও ভালোবাসি।”
যুক্তরাষ্ট্রে লটারির মাধ্যমে রাতারাতি ভাগ্য বদলে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে ক্রীড়া অনুপ্রেরণা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং ভাগ্যের এমন মিলন খুব কমই দেখা যায়। তাই নিকসের একজন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থকের এই জ্যাকপট জয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনেক ক্রীড়াপ্রেমী মজা করে বলছেন, নিকস শুধু শিরোপাই জেতেনি, একজন সমর্থকের জীবনও বদলে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
টেক্সাসের ক্যাটি শহরে একটি টেসলা গাড়ি আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘরের ভেতরে থাকা এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। শনিবার হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৮টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, মাইকেল বাটলার নামের এক ব্যক্তি তার টেসলা মডেল-৩ গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় গাড়িটিতে একটি স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেরিফের কার্যালয়ের ভাষ্য, গাড়িটি নির্ধারিত লেনে চলতে ব্যর্থ হয় এবং একপর্যায়ে সড়ক ছেড়ে পাশের একটি আবাসিক বাড়ির দিকে চলে যায়। পরে উচ্চগতিতে বাড়িটির দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। দুর্ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন এম. আভিলা নামে এক নারী। গাড়ির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দ্রুত তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে আবাসিক এলাকার সড়ক দিয়ে ছুটে গিয়ে বাড়িটিতে আঘাত হানে। তবে ভিডিওটির সত্যতা ও দুর্ঘটনার সঙ্গে এর সম্পর্ক তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করছেন কর্মকর্তারা। স্থানীয় প্রশাসনের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার ফলে বাড়িটির সামনের অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইটের দেয়াল ভেঙে গাড়িটি ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চালক মাইকেল বাটলারও আহত হয়েছেন। তবে তার মধ্যে মাদক বা অ্যালকোহল সেবনের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে টেসলার স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি দেশটির জাতীয় মহাসড়ক নিরাপত্তা প্রশাসন (এনএইচটিএসএ) টেসলার পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় চালনা ব্যবস্থা নিয়ে পৃথক তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক চালনা সহায়তা প্রযুক্তি সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হলেও এসব ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই প্রযুক্তি সক্রিয় থাকলেও চালকের সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় স্বয়ংক্রিয় চালনা সহায়তা ব্যবস্থা ঠিক কীভাবে কাজ করছিল এবং চালকের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে হ্যারিস কাউন্টি কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া আবাসিক বিদ্যালয়কে ঘিরে নতুন করে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। বিদ্যালয়টির সাবেক এক শিক্ষার্থী আদালতে দায়ের করা মামলায় দাবি করেছেন, সেখানে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হতো। এমনকি কিছু শিক্ষার্থীকে নিজেদের কবর খুঁড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের হ্যানকক গ্রামে অবস্থিত ফ্যামিলি ফাউন্ডেশন স্কুল নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে যায়। বছরে প্রায় ৮০ হাজার ডলার ব্যয়ের এই বিদ্যালয়টি মূলত সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য পরিচালিত হতো। ব্রুকলিন ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ১ কোটি ডলারের দেওয়ানি মামলায় এক সাবেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে তিনি বারবার যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণ ছিল নিয়মিত ঘটনা। মামলার নথি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের কখনও কখনও গালিচার ভেতরে পেঁচিয়ে টেপ দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। তাদের কয়েকদিন ধরে খাবার, পানি কিংবা শৌচাগারের সুযোগ ছাড়াই ছোট কক্ষ বা আলমারিসদৃশ জায়গায় আটকে রাখা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের খুঁড়ে রাখা গর্তে শুয়ে থাকতে বাধ্য করা, কঠোর শাস্তির নামে অপমানজনক আচরণ করা এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে মামলায়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ে নতুন আসা শিক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করা হতো। কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে অনুপযুক্ত ও অস্বস্তিকর দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সাবেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের মালিক মাইকেল ও সিন্ডি আরগিরোসের আর্থিক সুবিধার জন্য শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শ্রমের কাজ করানো হতো। এসব কাজের মধ্যে ছিল পারিবারিক সম্পত্তিতে খোঁড়াখুঁড়ি, তুষার পরিষ্কার, খামারের পশুপাখির আবাসস্থল পরিষ্কার এবং নির্মাণকাজে সহায়তা করা। এ ছাড়া মালিক পরিবারের জন্য রান্না করা এবং গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজও শিক্ষার্থীদের দিয়ে করানো হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাকারী দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ে নির্যাতনের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিভিন্ন সময় অভিযোগ গেলেও সেগুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। তাঁর অভিযোগ, বিদ্যালয়ের মালিক পরিবারের স্থানীয় প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয়েছিল। মামলার নথি অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে ছিলেন। সে সময় তিনি বিদ্যালয়ের সংগীত শিক্ষক পল গিয়ারের অধীনে ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের কোরাস দলের সঙ্গে কানাডার টরন্টো সফরের সময় ওই শিক্ষক তাঁর ওপর যৌন নিপীড়ন চালান। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাঁকেই বিভিন্ন বিধিনিষেধের আওতায় রাখা হয়। পরে পল গিয়ারের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে বিচার অনুষ্ঠিত হয়। আদালত তাঁকে একাধিক শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। গত বছর তাঁকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিদ্যালয়টি অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করে সন্তানদের আইনি অভিভাবকত্ব নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করত। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় যুক্ত অনেকের প্রয়োজনীয় পেশাগত যোগ্যতা, শিক্ষাগত সনদ বা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রশিক্ষণ ছিল না। আরও অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয় থেকে কেউ পালানোর চেষ্টা করলে অনুসন্ধানী কুকুর ব্যবহার করে তাদের ধরে ফিরিয়ে আনা হতো। তবে বিদ্যালয়ের সাবেক মালিক মাইকেল আরগিরোস অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিভিন্ন জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ে নির্যাতনের কোনো অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। অন্যদিকে মামলায় বিবাদী হিসেবে থাকা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিন ধরে আড়ালে থাকা নির্যাতনের অভিযোগগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে এটি হবে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুতর ব্যর্থতার উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুর্বৃত্তের হামলায় মোঃ কবির হোসেন মৃধা নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ফ্লোরিডা স্টেট কমিটির একজন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সক্রিয় সদস্য ছিলেন। মরহুমের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডার পম্পানো বিচ (Pompano Beach) এলাকায় নিজের কর্মস্থলে অবস্থানকালে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন কবির হোসেন মৃধা। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে ঠিক কী কারণে, কখন বা কারা এই প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে। জনাব মৃধার এই অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। প্রবাসের মাটিতে নিজ কর্মস্থলে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।