ক্যালিফোর্নিয়ায় দ্রুত বাড়ছে প্রবীণ গৃহহীন মানুষের সংখ্যা, আবাসন সংকটে উদ্বেগ
ক্যালিফোর্নিয়ায় অন্য যেকোনো বয়সী জনগোষ্ঠীর তুলনায় সবচেয়ে দ্রুত হারে বাড়ছে প্রবীণ গৃহহীন মানুষের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, রাজ্যের বর্তমান আবাসন ব্যবস্থা এমন বহু প্রবীণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না, যারা আশ্রয়কেন্দ্রের চেয়ে বেশি সহায়তা চান, কিন্তু হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে থাকার প্রয়োজন নেই।
সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এজিংয়ের এক শুনানিতে এই সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আবাসন ও প্রবীণ কল্যাণ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, রাজ্যে ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবার খরচ এবং সাশ্রয়ী আবাসনের ঘাটতি হাজারো প্রবীণকে অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
স্যাক্রামেন্টোভিত্তিক সামাজিক সেবা প্রতিষ্ঠান এল হোগার কমিউনিটি সার্ভিসেসের প্রধান নির্বাহী জেনেল কাজারেস বলেন, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষের দীর্ঘমেয়াদি রোগ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। এসব কারণে স্থায়ী আবাসন খুঁজে পেতে তাদের অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়।
তিনি বলেন, অনেক প্রবীণ এমন এক ধরনের সহায়তা চান, যা স্বাধীনভাবে বসবাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মাঝামাঝি অবস্থানে পড়ে। কিন্তু এই ধরনের আবাসন ব্যবস্থারই সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে।
শুনানিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে গৃহহীন একক প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি। তাদের মধ্যে অনেকেই জীবনের প্রথমবারের মতো গৃহহীনতার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
রাজ্যজুড়ে ৫০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ৮৫ হাজার মানুষ বর্তমানে গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন। অন্যদিকে সান ফ্রান্সিসকো উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন কাউন্টিতে গৃহহীন জনগোষ্ঠীর ২৫ থেকে ২৯ শতাংশই প্রবীণ।
ক্যালিফোর্নিয়ার আবাসন নীতিবিষয়ক সংগঠন লিডিংএজ ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী পরিচালক হ্যারিসন লিন্ডার বলেন, এটি একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এবং তাদের জন্য কী ধরনের সমাধান প্রয়োজন, তা নিয়ে এখনই গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণদের গৃহহীন হয়ে পড়ার পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষমতা কমে যায়, আয় সীমিত হয়, চিকিৎসা ব্যয় বাড়ে এবং একই সময়ে আবাসনের খরচও নাগালের বাইরে চলে যায়।
লিন্ডারের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় আরও প্রায় ৩২ লাখ প্রবীণ ব্যক্তি তাদের মোট আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি শুধু বাসস্থানের পেছনে ব্যয় করেন। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এটি আবাসন-সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
চাহিদা বাড়লেও সাশ্রয়ী প্রবীণ আবাসনের সরবরাহ সেই তুলনায় খুবই কম। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, পুরো ক্যালিফোর্নিয়ায় বর্তমানে সাশ্রয়ী প্রবীণ আবাসনের ইউনিট রয়েছে মাত্র ৯০ হাজারের মতো। অথচ নতুন একটি ভর্তুকিপ্রাপ্ত আবাসন ইউনিট নির্মাণে ব্যয় হতে পারে ৭ লাখ ডলারেরও বেশি।
সান্তা ক্লারা কাউন্টির সর্বশেষ গৃহহীনতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শিশু থাকা পরিবারগুলো তুলনামূলকভাবে আশ্রয়কেন্দ্র বা অস্থায়ী বাসস্থানে জায়গা পেয়ে যায়। কিন্তু একা বসবাসকারী প্রবীণরা অনেক ক্ষেত্রেই সেই সুযোগ পান না। ফলে তাদের বড় অংশকে খোলা আকাশের নিচে বা অনিরাপদ পরিবেশে থাকতে হয়।
এই সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন ৬১ বছর বয়সী স্টিভ গ্যাসকিল। তিনি স্যাক্রামেন্টোর একটি প্রবীণ আবাসনে বসবাস করেন। কমিশনের শুনানিতে তিনি জানান, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাবহাবে কাজ করে কোনোমতে ১ হাজার ৩০০ ডলারের ভাড়া পরিশোধ করতেন। কিন্তু ভাড়া বাড়ার পর তিনি আর তা বহন করতে পারেননি।
পরে দীর্ঘ সময় আবেদন করার পর একটি সাশ্রয়ী প্রবীণ আবাসনে জায়গা পান তিনি। গ্যাসকিল বলেন, “আমরা এখনো বেঁচে আছি। শুধু মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য একটু সহায়তা প্রয়োজন।”
তবে সব প্রবীণের ভাগ্যে গ্যাসকিলের মতো সুযোগ জোটে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই আবাসনের অনুমোদন পাওয়ার আগেই রাস্তায় নেমে যেতে বাধ্য হন। আর একবার গৃহহীন হয়ে গেলে তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা দ্রুত অবনতি হতে থাকে।
ক্যালিফোর্নিয়া কমিশন অন এজিংয়ের চেয়ারম্যান এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির স্বাস্থ্য উদ্যোগের দীর্ঘদিনের পরিচালক ডেভিড লিন্ডেম্যান বলেন, রাস্তায় বসবাস করলে বয়সজনিত সমস্যাগুলো আরও দ্রুত ও তীব্র আকার ধারণ করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ, প্রতিকূল আবহাওয়া, অপুষ্টি, চিকিৎসার অভাব এবং অনিরাপদ জীবনযাপনের কারণে গৃহহীন মানুষদের মধ্যে ‘দ্রুত বার্ধক্য’ দেখা দেয়। ফলে ৫০ বছর বয়সী একজন গৃহহীন ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা অনেক সময় ৭০ বছর বয়সী কোনো নিরাপদ বাসস্থানে থাকা মানুষের মতো হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, উপযুক্ত আবাসনের অভাবে বহু প্রবীণকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা অস্থায়ী আবাসনে থাকতে হয়। এতে যেমন তাদের জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি সরকারি ব্যয়ও বেড়ে যায়।
তাদের মতে, ক্যালিফোর্নিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তাসম্পন্ন সাশ্রয়ী আবাসন দ্রুত সম্প্রসারণ করা না হলে আগামী বছরগুলোতে গৃহহীনতার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অ-মার্কিন নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নিজেদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে দাবি করা এবং নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। ডিওজে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার মামলাগুলোর ঘোষণা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিভাগটি অবৈধভাবে মার্কিন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা না করার জন্য সতর্ক করেছে। ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে বসবাসকারী আটজন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া আইডাহো, জর্জিয়া, ম্যাসাচুসেটস, উইসকনসিন, নিউ জার্সি ও মিশিগানেও মামলা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অ-মার্কিন নাগরিক হয়েও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করা এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া। তদন্তে পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি, তার জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে এসেছে। জর্জিয়ায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক ও ডিএসিএ সুবিধাভোগী অ্যানালিয়া মিলিসেন্ট একলেসের বিরুদ্ধে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নয়বার ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া এবং ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। আইডাহোতে বসবাসকারী মেক্সিকোর নাগরিক অ্যাভিলা গোমেজের বিরুদ্ধে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি এবং ২০২২ সালের মে ও ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তার জালিয়াতি, পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও আনা হয়েছে। নিউ জার্সিতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা সান্তানা কৌলিবালির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, ২০১৮ ও ২০২০ সালের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অস্থায়ী ব্যালট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। নাইজেরিয়ার নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা গ্ল্যাডিস আদাইজে ওকাফোরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। ডিওজের অভিযোগ, তিনি ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। ডিওজের ফ্রড বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এ পর্যন্ত ৫০ জন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আরও বড় পরিসরে তদন্ত চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ হাজার ৬২০টির বেশি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং ১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ লাখের বেশি সন্দেহজনক ঘটনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবারের এসব মামলা কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সব আসামিই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে অবৈধ ভোটের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রে প্তার মেক্সিকান নাগরিক
রিয়াদে হামলার পর নতুন শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের
১২ লাখ ডলারে অবসরজীবন, কোনো স্টেটে ৪৪ বছর আবার কোথাও মাত্র ১৩ বছর
যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া আমেরিকান ফুটবলার পরিচয়ে নারীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় নতুন করে আরও ৩৫ নারী সামনে এসেছেন। এ নিয়ে এফবিআইয়ের কাছে সম্ভাব্য ভু ক্ত ভো গীর সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়েছে। শুক্রবার পোর্টল্যান্ড এফবিআইয়ের স্পেশাল এজেন্ট ইনচার্জ ডগ ওলসন জানান, নতুন করে সামনে আসা ৩৫ নারী সত্যিই ডেজন লাভ ও টেলর চ্যানের প্র তা র ণার শিকার হয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ওলসন বলেন, অল্প সময়ে এত বেশি মানুষ ভু ক্ত ভো গী হওয়া এবং পরে আরও অনেকে সামনে আসায় তারা বিস্মিত। একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করে অন্যরাও মানুষকে টা র্গে ট করতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে এফবিআই। এফবিআইয়ের ধারণা, লাভ ও চ্যানের আরও ভু ক্ত ভো গী থাকতে পারেন, যারা এখনো সামনে আসেননি। তাদের তথ্য দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। লজ্জা বা সামাজিক বিড়ম্বনার ভয়ে কেউ যেন বিষয়টি গোপন না করেন, সে আহ্বানও জানিয়েছেন ওলসন। তদন্তে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর লাভ ও চ্যানের বি রু দ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে এফবিআই। অভিযোগের সময়কাল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত। ওই দিন আইডাহোর বোইসি বিমানবন্দর থেকে দুজনকে আ ট ক করা হয়। তাদের বি রু দ্ধে ওয়্যার ফ্রড ও ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফৌজদারি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অন্তত চারটি অঙ্গরাজ্যে ২৬ জন পরিচিত ভু ক্ত ভো গীর কাছ থেকে ১৩ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী লাভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপে বিভিন্ন ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতেন। এর মধ্যে নিজেকে সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টি-নাইনার্সের আমেরিকান ফুটবলার এবং ধনী সুইস রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী চ্যান কখনো লাভের আর্থিক পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি নারীদের বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে, লাভের কাছে দেওয়া অর্থ তিনি বিনিয়োগ করবেন। এফবিআই কর্মকর্তা ওলসন জানান, প্রতিটি নারীর জন্য আলাদা কৌশল তৈরি করা হয়েছিল। সবাইকে আমেরিকান ফুটবলারের পরিচয় দেওয়া হয়নি। তবে লাভ নিজের আর্থিক সামর্থ্য বোঝাতে পেশাদার খেলোয়াড়ের পরিচয়টি প্রায়ই ব্যবহার করতেন। তার পরিচয় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে ভুয়া তথ্যও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে এফবিআই। কেউ তার পরিচয় যাচাই করতে গেলে সার্চের ফলাফলে যেন সেই তথ্যই দেখতে পান, সেভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এফবিআইয়ের ভাষ্য, সাজানো বিনিয়োগ অ্যাকাউন্ট, ভুয়া ভিডিও কল এবং এআই-নির্ভর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে নারীদের বিশ্বাস অর্জন করা হতো। এরপর তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো। এদিকে সান ফ্রান্সিসকো ফোর্টি-নাইনার্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেজন লাভ নামে কাউকে তারা চিনত না। আগস্টে এফবিআই যোগাযোগ করার আগে তার বিষয়ে দলটির কাছে কোনো তথ্যও ছিল না। এফবিআই জানিয়েছে, তদন্তে সহযোগিতা করেছে ফোর্টি-নাইনার্স কর্তৃপক্ষ। যাচাই করে দেখা গেছে, লাভ কখনো ওই দলের খেলোয়াড় বা কর্মী ছিলেন না। এমনকি তিনি কখনো এনএফএলেও খেলেননি। উল্লেখ্য, আমেরিকান ফুটবল বিশ্বে প্রচলিত ফুটবলের চেয়ে আলাদা একটি খেলা। এতে মূলত হাতে বল নিয়ে খেলা হয়, পাশাপাশি পা দিয়েও কিক করা যায়; ডিম্বাকৃতির বল ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয় এবং বল প্রতিপক্ষের শেষ প্রান্তে পৌঁছাতে পারলে পয়েন্ট পাওয়া যায়।
স্মৃতিস্তম্ভের বদলে সামরিক কমপ্লেক্স! ট্রাম্পের আর্চে থাকবে ড্রোন-স্নাইপার
সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্যাক্স বাড়লে বছরে ৩ হাজার ডলার হারাতে পারেন কর্মীরা
ইউক্রেনকে ২.৬৮ বিলিয়ন ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেবে যুক্তরাষ্ট্র
ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কাছের লাফায়েত স্কয়ার এলাকায় শনিবার দুপুরে এক ব্যক্তি গাড়ি ফুটপাথে তুলে দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার দাবি করেন। ১৬তম স্ট্রিট ও এইচ স্ট্রিটের সংযোগস্থলের কাছে নিরাপত্তাবেষ্টনীর পাশে গাড়িটি নেওয়ার ঘটনায় দ্রুত মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করে কাছের একটি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য নেওয়া হয়। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শনিবার দুপুরের দিকে লাফায়েত স্কয়ারের কাছে। ওই ব্যক্তি নিরাপত্তাবেষ্টনীর কাছাকাছি ফুটপাথে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতা তৈরি হয়। আশপাশের সড়কও সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ওই গাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও বিপজ্জনক কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি। আটকের সময় ওই ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার দাবি জানাচ্ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই সময় ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ছিলেন না। তিনি মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে অবস্থান করছিলেন। সিক্রেট সার্ভিসের একজন মুখপাত্র জানান, ব্যক্তিটিকে পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নের জন্য। তবে তার পরিচয় বা তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনার পর সিক্রেট সার্ভিস মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রশংসা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো বিপজ্জনক বস্তু না পাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস ও লাফায়েত স্কয়ারের আশপাশে যানবাহন নিয়ে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের মার্চে ম্যাডিসন প্লেস ও এইচ স্ট্রিট নর্থওয়েস্ট এলাকায় একটি গাড়ি অস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ঢুকে পড়েছিল। চালককে পরে আটক করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি ধূসর রঙের আকিউরা গাড়ির চালক হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করার পর গ্রেপ্তার হন। ওই সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুতর ঘটনার কারণে হোয়াইট হাউসের আশপাশে এমন যেকোনো অস্বাভাবিক যানবাহন চলাচলকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল ওয়াশিংটন হিলটনে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের ডিনারের সময় গুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী কোল অ্যালেনকে অভিযুক্ত করা হয় এবং একজন সিক্রেট সার্ভিস অফিসার গুলিতে আঘাত পেলেও বুলেটপ্রুফ ভেস্টের কারণে গুরুতর আহত হননি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অ্যালেনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টকে হত্যাচেষ্টাসহ ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় ট্রাম্প আহত হন এবং হামলাকারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকসকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি কোনো গাড়ি নিরাপত্তাবেষ্টনীর দিকে চলে গেলে কেন দ্রুত সিক্রেট সার্ভিস ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়, শনিবারের ঘটনাটি তারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে সামনে এসেছে।
জিআরইতে ৩৪০-এ ৩৪০, তানভীরের প্রস্তুতির মূলমন্ত্র ছিল ‘ভলিউম’, জানুন আরো কৌশল
ইরান নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে ট্রাম্প, ‘পুরো দেশ উড়িয়ে দেওয়া’র হুঁশিয়ারি