যুক্তরাষ্ট্রে পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং জনবান্ধব করতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসজুড়ে নিউইয়র্ক সিটির আশপাশে পাঁচটি বিশেষ পাসপোর্ট অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এসব মেলায় প্রথমবারের পাসপোর্ট আবেদনকারীরা আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই নির্ধারিত স্থানে গিয়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন। পাশাপাশি আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তাও পাওয়া যাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজলভ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের দ্রুত সেবা দেওয়া। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাসপোর্ট গ্রহণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত চাপ রয়েছে, সেখানে এই ধরনের অস্থায়ী গ্রহণ মেলা আবেদনকারীদের জন্য কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে পাঁচটি ভিন্ন স্থানে এসব পাসপোর্ট গ্রহণ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জুলাই নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনস হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রথম মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৪ জুলাই নিউ জার্সির উডক্লিফ লেকের টাইস সিনিয়র সেন্টারে দ্বিতীয় মেলা, ১৬ জুলাই ওয়েস্ট হ্যারিসনের ভিলেজ গ্রিনে তৃতীয় মেলা, ১৮ জুলাই আর্ডসলির অ্যান্থনি ভেটেরান পার্কে চতুর্থ মেলা এবং ২১ জুলাই ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টি ক্লার্কের কার্যালয়ে শেষ মেলার আয়োজন করা হবে। প্রতিটি স্থানে নির্ধারিত সময়ে ওয়াক-ইন আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
এই বিশেষ মেলাগুলো মূলত প্রথমবারের মার্কিন পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্য। এছাড়া ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু, যাদের আইন অনুযায়ী সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হয়, তারাও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তবে যেসব নাগরিক কেবল বিদ্যমান পাসপোর্ট নবায়ন করতে চান এবং ডাকযোগে নবায়নের যোগ্য, তাদের জন্য এই মেলাগুলো প্রযোজ্য নয়।
কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের নির্ধারিত নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। আবেদনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র, যেমন জন্মসনদ বা নাগরিকত্বের সনদ, বৈধ সরকারি পরিচয়পত্র, পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পূরণ করা DS-11 আবেদনপত্র, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট-আকারের ছবি এবং প্রযোজ্য আবেদন ফি জমা দিতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিভাবকীয় সম্মতি এবং সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত কাগজপত্রও সঙ্গে আনতে হবে।
পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ মেলাগুলোতে আবেদনকারীরা শুধু নথি জমা দেবেন না, বরং আবেদনপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগও পাবেন। অনেক আবেদনকারী ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ ফরম বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে আবেদন জমা দিতে সমস্যায় পড়েন।
এসব সমস্যা এড়াতে কর্মকর্তারা সরাসরি আবেদনকারীদের সহায়তা করবেন, যাতে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পর্যটন, শিক্ষা, ব্যবসা এবং পারিবারিক ভ্রমণের কারণে পাসপোর্টের আবেদনও আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে অনেক আবেদন কেন্দ্রেই দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট দেখা দিয়েছে। সেই চাপ কমাতেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সময়ে সময়ে বিশেষ পাসপোর্ট গ্রহণ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এসব মেলায় আবেদন গ্রহণ করা হলেও পাসপোর্ট ইস্যুর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকরণের সময় অপরিবর্তিত থাকবে। সাধারণ আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। যাদের জরুরি আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে, তারা অতিরিক্ত ফি দিয়ে দ্রুত সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। দ্রুত সেবার ক্ষেত্রে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও আবেদনসংখ্যা ও অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে।
আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই মেলাস্থলে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ওয়াক-ইন আবেদন গ্রহণ করা হলেও উপস্থিতির সংখ্যা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো আবেদনকারী দ্রুত ও সহজ উপায়ে পাসপোর্ট আবেদন করার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে যাদের কর্মব্যস্ততার কারণে নিয়মিত কর্মদিবসে পাসপোর্ট গ্রহণ কেন্দ্রে যাওয়া কঠিন, তাদের জন্য এই বিশেষ মেলাগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দেবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদনকারীদের ভুয়া ওয়েবসাইট বা অননুমোদিত দালালের মাধ্যমে আবেদন না করে শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ফি সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য সরকারি ওয়েবসাইট থেকেই যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জুলাই মাসজুড়ে আয়োজিত এই পাঁচটি পাসপোর্ট গ্রহণ মেলা নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হলে আবেদনকারীরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক সহায়তাও একসঙ্গে গ্রহণ করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
আমেরিকার বিমানবন্দরগুলোতে যাতায়াত আরও সহজ ও দ্রুত করতে ‘টিএসএ প্রিচেক’ (TSA PreCheck) কর্মসূচির আওতায় নতুন এক বড় সুবিধা নিয়ে এসেছে ফেডারেল সরকার। এখন থেকে নির্দিষ্ট কিছু বিকলাঙ্গ বা যুদ্ধাহত সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন সদস্য বা ভেটেরানরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই বিশেষ নিরাপত্তা ছাড়ের সুবিধা পাবেন। এর ফলে বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি ছাড়াই তারা দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন। সাধারণত আমেরিকার বিমানবন্দরগুলোতে দ্রুত সিকিউরিটি চেকিং পার হওয়ার জন্য ‘টিএসএ প্রিচেক’ বেশ জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। তবে এই সুবিধা পেতে হলে একজন সাধারণ নাগরিককে কঠোর আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং ৫ বছরের মেয়াদের জন্য ৮৫ মার্কিন ডলার ফি প্রদান করতে হয়। নতুন এই ফেডারেল আইনের আওতায় যোগ্য ভেটেরানদের জন্য এই পুরো আবেদন ফিটি সম্পূর্ণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছর পাস হওয়া ভেটস সেফ ট্রাভেল অ্যাক্ট বা বিশেষ সামরিক সুরক্ষা আইনের আওতায় এই বড় সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আমেরিকার ডিপার্টমেন্ট অব ভেটেরান অ্যাফেয়ার্স (ভিএ) জানিয়েছে, এই সুবিধাটি শুধুমাত্র সেইসব প্রাক্তন সামরিক সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য হবে যারা সক্রিয়ভাবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নিবন্ধিত আছেন এবং নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন। এই নিয়মে বিনামূল্যে প্রিচেক সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই স্থায়ী অন্ধত্ব, সম্পূর্ণ বা আংশিক পক্ষাঘাত অথবা অঙ্গহানির শিকার হতে হবে। এছাড়াও কর্তব্যরত অবস্থায় এমন কোনো শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে যার কারণে সরকারি হুইলচেয়ার বা কৃত্রিম অঙ্গ ব্যবহার করতে হয়। এই সব শর্ত পূরণ হলেই কেবল একজন প্রাক্তন সেনাসদস্য ফি মওকুফের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। যোগ্য ভেটেরানদের আলাদাভাবে এই সুবিধার জন্য আবেদন করতে হবে না, কারণ তাদের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি লেটার বা অনুমোদনপত্র তাদের অনলাইন অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে টিএসএ প্রিচেকের সাধারণ আবেদন প্রক্রিয়ার সময় এই নির্দিষ্ট চিঠিটি জমা দিলেই ৮৫ ডলারের ফি মওকুফ হয়ে যাবে। তবে ফি মওকুফ হলেও আবেদনকারীকে অবশ্যই অন্যান্য সাধারণ নিরাপত্তা ও ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষাগুলোয় উত্তীর্ণ হতে হবে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির এই ব্যস্ত সময়ে যখন আমেরিকার বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকে, তখন এই নতুন সুবিধাটি হাজার হাজার প্রাক্তন সেনাসদস্যের সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচাবে। তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো আবেদনকারী যদি অতীতে ফেডারেল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করে থাকেন বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড থাকে, তবে তিনি এই ফি মওকুফ সুবিধার জন্য অযোগ্য বলে গণ্য হতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রে পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং জনবান্ধব করতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসজুড়ে নিউইয়র্ক সিটির আশপাশে পাঁচটি বিশেষ পাসপোর্ট অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এসব মেলায় প্রথমবারের পাসপোর্ট আবেদনকারীরা আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই নির্ধারিত স্থানে গিয়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন। পাশাপাশি আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তাও পাওয়া যাবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজলভ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের দ্রুত সেবা দেওয়া। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাসপোর্ট গ্রহণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত চাপ রয়েছে, সেখানে এই ধরনের অস্থায়ী গ্রহণ মেলা আবেদনকারীদের জন্য কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে পাঁচটি ভিন্ন স্থানে এসব পাসপোর্ট গ্রহণ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জুলাই নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনস হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রথম মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৪ জুলাই নিউ জার্সির উডক্লিফ লেকের টাইস সিনিয়র সেন্টারে দ্বিতীয় মেলা, ১৬ জুলাই ওয়েস্ট হ্যারিসনের ভিলেজ গ্রিনে তৃতীয় মেলা, ১৮ জুলাই আর্ডসলির অ্যান্থনি ভেটেরান পার্কে চতুর্থ মেলা এবং ২১ জুলাই ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টি ক্লার্কের কার্যালয়ে শেষ মেলার আয়োজন করা হবে। প্রতিটি স্থানে নির্ধারিত সময়ে ওয়াক-ইন আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এই বিশেষ মেলাগুলো মূলত প্রথমবারের মার্কিন পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্য। এছাড়া ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু, যাদের আইন অনুযায়ী সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হয়, তারাও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তবে যেসব নাগরিক কেবল বিদ্যমান পাসপোর্ট নবায়ন করতে চান এবং ডাকযোগে নবায়নের যোগ্য, তাদের জন্য এই মেলাগুলো প্রযোজ্য নয়। কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের নির্ধারিত নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। আবেদনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র, যেমন জন্মসনদ বা নাগরিকত্বের সনদ, বৈধ সরকারি পরিচয়পত্র, পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পূরণ করা DS-11 আবেদনপত্র, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট-আকারের ছবি এবং প্রযোজ্য আবেদন ফি জমা দিতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিভাবকীয় সম্মতি এবং সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত কাগজপত্রও সঙ্গে আনতে হবে। পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ মেলাগুলোতে আবেদনকারীরা শুধু নথি জমা দেবেন না, বরং আবেদনপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগও পাবেন। অনেক আবেদনকারী ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ ফরম বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে আবেদন জমা দিতে সমস্যায় পড়েন। এসব সমস্যা এড়াতে কর্মকর্তারা সরাসরি আবেদনকারীদের সহায়তা করবেন, যাতে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পর্যটন, শিক্ষা, ব্যবসা এবং পারিবারিক ভ্রমণের কারণে পাসপোর্টের আবেদনও আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে অনেক আবেদন কেন্দ্রেই দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট দেখা দিয়েছে। সেই চাপ কমাতেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সময়ে সময়ে বিশেষ পাসপোর্ট গ্রহণ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এসব মেলায় আবেদন গ্রহণ করা হলেও পাসপোর্ট ইস্যুর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকরণের সময় অপরিবর্তিত থাকবে। সাধারণ আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। যাদের জরুরি আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে, তারা অতিরিক্ত ফি দিয়ে দ্রুত সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। দ্রুত সেবার ক্ষেত্রে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও আবেদনসংখ্যা ও অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই মেলাস্থলে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ওয়াক-ইন আবেদন গ্রহণ করা হলেও উপস্থিতির সংখ্যা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো আবেদনকারী দ্রুত ও সহজ উপায়ে পাসপোর্ট আবেদন করার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে যাদের কর্মব্যস্ততার কারণে নিয়মিত কর্মদিবসে পাসপোর্ট গ্রহণ কেন্দ্রে যাওয়া কঠিন, তাদের জন্য এই বিশেষ মেলাগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দেবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদনকারীদের ভুয়া ওয়েবসাইট বা অননুমোদিত দালালের মাধ্যমে আবেদন না করে শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ফি সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য সরকারি ওয়েবসাইট থেকেই যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জুলাই মাসজুড়ে আয়োজিত এই পাঁচটি পাসপোর্ট গ্রহণ মেলা নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হলে আবেদনকারীরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক সহায়তাও একসঙ্গে গ্রহণ করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে আনন্দ-উৎসব চললেও সেই উদযাপন ম্লান হয়ে গেছে একের পর এক বন্দুক হামলার ঘটনায়। ছুটির সপ্তাহান্তে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত পৃথক গুলির ঘটনায় অন্তত ৪৩ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে লস অ্যাঞ্জেলেসে। বিশ্বকাপ থেকে মেক্সিকো দলের বিদায়ের পর সমর্থকদের এক সমাবেশে হঠাৎ গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে এক নারী ও এক শিশুসহ চারজন আহত হন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। এছাড়া টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, ক্যালিফোর্নিয়া, মিসিসিপি এবং আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে পৃথক বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার বেশিরভাগই জনসমাগম, পার্টি কিংবা উৎসবস্থলের আশপাশে সংঘটিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বন্দুক সহিংসতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে জনসমাগম বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক এই সহিংসতার পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের দাবি জোরালো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।