অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই পাসপোর্ট আবেদন, নিউইয়র্কের আশপাশে জুলাইজুড়ে পাঁচ বিশেষ গ্রহণ মেলার আয়োজন
যুক্তরাষ্ট্রে পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং জনবান্ধব করতে ২০২৬ সালের জুলাই মাসজুড়ে নিউইয়র্ক সিটির আশপাশে পাঁচটি বিশেষ পাসপোর্ট অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এসব মেলায় প্রথমবারের পাসপোর্ট আবেদনকারীরা আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই নির্ধারিত স্থানে গিয়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন। পাশাপাশি আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি সহায়তাও পাওয়া যাবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজলভ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের দ্রুত সেবা দেওয়া। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাসপোর্ট গ্রহণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত চাপ রয়েছে, সেখানে এই ধরনের অস্থায়ী গ্রহণ মেলা আবেদনকারীদের জন্য কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে পাঁচটি ভিন্ন স্থানে এসব পাসপোর্ট গ্রহণ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জুলাই নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইনস হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রথম মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১৪ জুলাই নিউ জার্সির উডক্লিফ লেকের টাইস সিনিয়র সেন্টারে দ্বিতীয় মেলা, ১৬ জুলাই ওয়েস্ট হ্যারিসনের ভিলেজ গ্রিনে তৃতীয় মেলা, ১৮ জুলাই আর্ডসলির অ্যান্থনি ভেটেরান পার্কে চতুর্থ মেলা এবং ২১ জুলাই ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টি ক্লার্কের কার্যালয়ে শেষ মেলার আয়োজন করা হবে। প্রতিটি স্থানে নির্ধারিত সময়ে ওয়াক-ইন আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
এই বিশেষ মেলাগুলো মূলত প্রথমবারের মার্কিন পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্য। এছাড়া ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু, যাদের আইন অনুযায়ী সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হয়, তারাও এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তবে যেসব নাগরিক কেবল বিদ্যমান পাসপোর্ট নবায়ন করতে চান এবং ডাকযোগে নবায়নের যোগ্য, তাদের জন্য এই মেলাগুলো প্রযোজ্য নয়।
কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের নির্ধারিত নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছেন। আবেদনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র, যেমন জন্মসনদ বা নাগরিকত্বের সনদ, বৈধ সরকারি পরিচয়পত্র, পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পূরণ করা DS-11 আবেদনপত্র, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট-আকারের ছবি এবং প্রযোজ্য আবেদন ফি জমা দিতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিভাবকীয় সম্মতি এবং সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত কাগজপত্রও সঙ্গে আনতে হবে।
পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ মেলাগুলোতে আবেদনকারীরা শুধু নথি জমা দেবেন না, বরং আবেদনপত্রে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগও পাবেন। অনেক আবেদনকারী ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ ফরম বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে আবেদন জমা দিতে সমস্যায় পড়েন।
এসব সমস্যা এড়াতে কর্মকর্তারা সরাসরি আবেদনকারীদের সহায়তা করবেন, যাতে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পর্যটন, শিক্ষা, ব্যবসা এবং পারিবারিক ভ্রমণের কারণে পাসপোর্টের আবেদনও আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে অনেক আবেদন কেন্দ্রেই দীর্ঘ অপেক্ষা এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংকট দেখা দিয়েছে। সেই চাপ কমাতেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সময়ে সময়ে বিশেষ পাসপোর্ট গ্রহণ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এসব মেলায় আবেদন গ্রহণ করা হলেও পাসপোর্ট ইস্যুর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকরণের সময় অপরিবর্তিত থাকবে। সাধারণ আবেদন নিষ্পত্তিতে প্রায় ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। যাদের জরুরি আন্তর্জাতিক ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে, তারা অতিরিক্ত ফি দিয়ে দ্রুত সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। দ্রুত সেবার ক্ষেত্রে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও আবেদনসংখ্যা ও অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে।
আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই মেলাস্থলে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ওয়াক-ইন আবেদন গ্রহণ করা হলেও উপস্থিতির সংখ্যা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে আবেদন জমা দেওয়ার আগে সব কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাজারো আবেদনকারী দ্রুত ও সহজ উপায়ে পাসপোর্ট আবেদন করার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে যাদের কর্মব্যস্ততার কারণে নিয়মিত কর্মদিবসে পাসপোর্ট গ্রহণ কেন্দ্রে যাওয়া কঠিন, তাদের জন্য এই বিশেষ মেলাগুলো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দেবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদনকারীদের ভুয়া ওয়েবসাইট বা অননুমোদিত দালালের মাধ্যমে আবেদন না করে শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। আবেদনপত্র পূরণ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং ফি সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য সরকারি ওয়েবসাইট থেকেই যাচাই করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জুলাই মাসজুড়ে আয়োজিত এই পাঁচটি পাসপোর্ট গ্রহণ মেলা নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হলে আবেদনকারীরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক সহায়তাও একসঙ্গে গ্রহণ করতে পারবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের সুবিধা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে অযৌক্তিক কড়াকড়ি আরোপ করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো। গত ৫ অক্টোবর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর জারিকৃত দুটি বিতর্কিত নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলাটি করা হয়। বাদীদের দাবি, মে ও আগস্ট মাসে ঘোষিত এই নীতিগুলোর কারণে বহু যোগ্য অভিবাসী দেশ না ছেড়ে বৈধ উপায়ে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইউএসসিআইএস-এর নতুন নিয়মে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা দেশে অবস্থান করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়েছে। মে মাসের নির্দেশনায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী নিজ দেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে না গিয়ে কেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন করেছেন, সেটিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করতে। অন্যদিকে, আগস্ট মাসের নীতিমালায় কর্মকর্তাদের এমন এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে যাতে তারা কোনো অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ চাওয়ার সুযোগ না দিয়েই সরাসরি আবেদন খারিজ করে দিতে পারেন। এমনকি অতীতে যারা আবেদন জমা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই কঠোর শর্তগুলো ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। মামলা দায়েরকারী আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস (এএইউপি), হার্ভার্ড ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা এবং সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন (এসইআইইউ)-এর মতো সংগঠনগুলো আদালতকে জানিয়েছে, নতুন এই নিয়মের ফলে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, কর্মসংস্থানে বাধা এবং আন্তর্জাতিক মেধার অপচয়ের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে গ্রিন কার্ড পাওয়া মোট ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশই এই অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছিলেন। ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিমান জানান, আইনসম্মতভাবে বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করা মানুষদের জন্য এটি চরম অবিচার। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলাটিকে ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএস-এর মুখপাত্র জ্যাক কেলার এক বিবৃতিতে বলেন, কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং দেশের অভিবাসন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বাদীরা আদালতকে এই নতুন বিধিনিষেধগুলো অবিলম্বে সাময়িকভাবে স্থগিত এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন। আদালত অবশ্য এখনো এই মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো রুল জারি করেনি।
রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগে যে ৮ বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন - মঞ্জুর আহমেদ
দু’বার প্রাণঘা তী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইককে কি আবার মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়া হবে?
যুক্তরাষ্ট্রে ধনকুবেরদের সম্পদে ৫% কর বসিয়ে ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার আদায়ের পরিকল্পনা
সাম্প্রতিক এক সভার কার্যবিবরণী বা মিনিটস থেকে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের অধিকাংশ কর্মকর্তাই চলতি বছর সুদের হার আরেক দফা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। গত বুধবার প্রকাশিত ওই কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে গত ১৫-১৬ সেপ্টেম্বরের সভায় তারা তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় ৩.৯ শতাংশে উন্নীত করেছিল। সুদের হার বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত কমানোর আহ্বানের ঠিক উল্টো ছিল। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল রিজার্ভের সুদ-নির্ধারণী কমিটির তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাদের ‘অত্যন্ত রাজনীতিকরণ’ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে তার নিজেরই নিয়োগ দেওয়া বর্তমান ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের প্রতি তিনি এখনও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক সাত সপ্তাহ আগে এই সুদের হার বৃদ্ধির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা মুদিপণ্য, জ্বালানি এবং বাসস্থানের উচ্চ ব্যয়ের কারণে ইতিমধ্যেই দিশেহারা। এছাড়া সরকারি ঋণ বৃদ্ধি, ডেটা সেন্টার নির্মাণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল ঋণ গ্রহণ, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সেমিকন্ডাক্টর ও কম্পিউটার সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদহারও গত কয়েক মাসে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের ধারণা, ২৮-২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী সভায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ডিসেম্বরের সভায় তা আবারও বাড়ানো হতে পারে। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, মূল্যস্ফীতির হার দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত বেশি রয়েছে এবং তা দ্রুত নামিয়ে আনতে কমিটি কাজ করছে। যেহেতু মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এখনও আড়াই থেকে তিন শতাংশ বেশি রয়েছে, তাই অর্থনীতিকে কিছুটা শীতল করার জন্য একাধিকবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে ফেডের অনেক নীতিনির্ধারক ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নিউইয়র্কে সম্পর্ক জোড়া লাগাতে এসে প্রেমিকা ও ৫ মাসের শিশুকে ১৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ইউটায় চিকিৎসকের বদলে এআই দেবে প্রেসক্রিপশন, শুরু হচ্ছে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম
যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পরিত্যক্ত গুদামঘর রূপান্তর করে গৃহহীনদের জন্য তৈরি হলো ১০০টি বাড়ি
ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের টাকোমা শহর প্রায় ৪ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। ঘাটতি সামাল দিতে শহর কর্তৃপক্ষ চাকরি কমানো, বিভিন্ন সরকারি সেবা পুনর্বিন্যাস এবং নতুন রাজস্বের পথ খুঁজছে। বিষয়টি স্থানীয় কর্মী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শহরের আর্থিক চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে বাড়তে থাকা সরকারি ব্যয় এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম রাজস্বকে সামনে আনা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি কমাতে কর্মকর্তাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য চাকরি কাটার বিষয়টি সরকারি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। শহরের বিভিন্ন বিভাগে কর্মী সংখ্যা কমানো হলে নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য স্থানীয় পরিষেবায় তার প্রভাব পড়তে পারে। টাকোমার কর্মকর্তারা একই সঙ্গে কর ও অন্যান্য রাজস্ব বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনা করছেন। এর অর্থ ভবিষ্যতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সরকারি কর্মীদের জন্য নয়, সাধারণ পরিবারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি কমলে স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের ব্যয় কমতে পারে। অন্যদিকে কর বাড়লে বাড়ির মালিক, ব্যবসা ও ভাড়াটিয়াদের ওপর জীবনযাত্রার খরচ আরও বাড়তে পারে। টাকোমা সিয়াটল মহানগর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। তাই শহরের বাজেট সংকটের প্রভাব আশপাশের ব্যবসা ও শ্রমবাজারেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা, স্থানীয় পরিষেবা এবং সরকারি চুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরি, স্থানীয় ব্যবসা বা শহরের বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোকে সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হতে পারে। শহর কর্তৃপক্ষের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে ৪ কোটি ডলারের ঘাটতি কমিয়ে নাগরিক সেবা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা যায়। চাকরি কমানো এবং কর বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কোন খাতে ব্যয় কমানো হবে, কোন সেবা অগ্রাধিকার পাবে এবং বাসিন্দাদের ওপর কতটা আর্থিক চাপ পড়বে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে।
আটলান্টাসহ যুক্তরাষ্ট্রে পানির বিল এক দশকে ৬২ শতাংশ বেড়েছে, বাড়ছে পরিবারের খরচের চাপ
মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছরের ছাত্র নিখোঁজ, চার দিনেও মেলেনি সন্ধান