ভাইরাল ‘নিডো’ খেলনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সতর্কতা, গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সেন্সরি খেলনা NeeDoh (নিডো) নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিশুদের চাপমুক্ত রাখা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত নরম জেলভর্তি এই খেলনাটি ভুলভাবে ব্যবহার করার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনার খবর সামনে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, খেলনাটি মাইক্রোওয়েভে গরম করা, অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে রাখা কিংবা জমিয়ে আবার গরম করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের ফলে এটি ফেটে গিয়ে শিশুদের শরীরে গুরুতর দগ্ধের সৃষ্টি করছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দেখা গেছে, খেলনার ভেতরে থাকা জেলজাতীয় পদার্থ অতিরিক্ত তাপে দ্রুত প্রসারিত হয়ে ভেতরে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে। একসময় খেলনার আবরণ ছিঁড়ে গেলে অত্যন্ত গরম ও আঠালো পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে এবং সরাসরি ত্বকে লেগে যায়। এই পদার্থ সহজে ত্বক থেকে আলাদা না হওয়ায় পোড়ার ক্ষত আরও গভীর হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বা তৃতীয় মাত্রার দগ্ধের সৃষ্টি হয়।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক শিশু মুখ, হাত, বুক এবং চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দিতে হয়েছে এবং ক্ষত সারাতে স্কিন গ্রাফটের মতো জটিল অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ত্বক তুলনামূলক পাতলা হওয়ায় গরম জেল তাদের শরীরে দ্রুত গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে।
হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, বেশির ভাগ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর ভিডিও। এসব ভিডিওতে খেলনাটি আরও নরম করার উদ্দেশ্যে মাইক্রোওয়েভে গরম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক শিশু কৌতূহলবশত সেই পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে শিশুরা সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও না দেখলেও বন্ধু বা পরিচিতদের কাছ থেকে একই ধারণা পেয়ে এমন কাজ করেছে।
শুধু মাইক্রোওয়েভ নয়, অতিরিক্ত গরম পরিবেশেও এই খেলনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি ঘটনায় গরম গাড়ির ভেতরে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার পর খেলনাটি বিস্ফোরিত হয়ে এক কিশোরী দগ্ধ হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের খেলনার ভেতরের পদার্থ অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত হতে পারে।
খেলনাটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আগেই ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, খেলনাটি কখনোই মাইক্রোওয়েভে গরম করা, আগুন বা অতিরিক্ত তাপের কাছে রাখা কিংবা ফ্রিজে জমিয়ে পরে গরম করা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব ব্যবহার পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে নির্দেশনার বাইরে এবং এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলনার অপব্যবহার দেখানো ভিডিও অপসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন Consumer Reports যুক্তরাষ্ট্রের Consumer Product Safety Commission (CPSC)-এর কাছে এ ধরনের সেন্সরি খেলনার নিরাপত্তা নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, বিভিন্ন অভিযোগে খেলনার ভেতরের জেল বেরিয়ে এসে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা উঠে এসেছে। তারা শুধু একটি মডেল নয়, একই ধরনের অন্যান্য জেলভর্তি সেন্সরি খেলনার নিরাপত্তাও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পোড়া স্থানে সঙ্গে সঙ্গে অন্তত ২০ মিনিট ঠান্ডা প্রবাহমান পানি দিতে হবে। বরফ, টুথপেস্ট, মাখন বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতাল বা বার্ন ইউনিটে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে মুখ, চোখ বা শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হলে।
অভিভাবকদের প্রতিও সতর্কবার্তা দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাদের মতে, শিশুদের হাতে খেলনা তুলে দেওয়ার আগে ব্যবহারের নিয়ম বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি। অনলাইনে দেখা কোনো ভিডিও বা তথাকথিত ‘চ্যালেঞ্জ’ অনুসরণ করতে শিশুদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি খেলনাগুলো গরম গাড়ির ভেতর, রোদে বা তাপ উৎপন্নকারী যন্ত্রের কাছাকাছি না রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
শিশুদের বিনোদন ও মানসিক স্বস্তির জন্য তৈরি একটি জনপ্রিয় খেলনা ভুল ব্যবহারের কারণে যখন গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে, তখন চিকিৎসকেরা বলছেন—সচেতনতা ও নির্মাতার নির্দেশনা মেনে চলাই এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
অভিভাবকদের সামান্য সতর্কতা একটি শিশুকে আজীবনের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির হার গত দুই বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এখনো এই সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ২০২৫ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বছরে আনুমানিক ২০ হাজার ৪৯২ জন সামরিক সদস্য অনিচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ বা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দুই বছর আগের পরিসংখ্যানের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় সাড়ে আট হাজার কম। মার্কিন কংগ্রেসের নির্দেশনায় পরিচালিত কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা জরিপের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে সামরিক বাহিনীতে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং হয়রানির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় নারী ও পুরুষ—উভয় সদস্যের ক্ষেত্রেই যৌন নিপীড়নের হার দৃশ্যমানভাবে কমেছে। নারী সদস্যদের মধ্যে ২০২৩ সালে যেখানে যৌন নিপীড়নের হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা কমে ৪ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে পুরুষ সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হার ১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশে নেমে এসেছে। শুধু নিপীড়ন নয়, সামরিক বাহিনীতে সার্বিক যৌন হয়রানির ঘটনাও আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। ২০২৩ সালে প্রায় ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ নারী সদস্য হয়রানির শিকার হলেও ২০২৫ সালে তা ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। আশার কথা হলো, নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর তা কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর প্রবণতা সামরিক সদস্যদের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে মাত্র ২৫ শতাংশ ঘটনা সরকারি প্রক্রিয়ায় রিপোর্ট করা হতো, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতে, অভিযোগ জানানোর এই বৃদ্ধি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। এর ফলে ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও পুনর্বাসন সেবা সহজে পাচ্ছেন। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনাও সম্ভব হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের জনবল ও প্রস্তুতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যান্থনি জে. টাটা এই প্রসঙ্গে বলেন, মর্যাদা, সম্মান ও শৃঙ্খলাই হলো সামরিক বাহিনীর মূল ভিত্তি। যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির মতো ঘটনা এসব মূল্যবোধকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে এবং বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রমকে হুমকির মুখে ফেলে। উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২০ হাজার ৪৯২ জনের হিসাবটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়, বরং জরিপের মাধ্যমে উঠে আসা একটি প্রাক্কলন। এই পরিসংখ্যানে এমন অনেক ঘটনার কথাও যুক্ত রয়েছে, যা কখনোই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। হার কমার এই ইতিবাচক খবরের পরও বিপুলসংখ্যক সদস্যের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হওয়ার বিষয়টি মার্কিন সামরিক প্রশাসনের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।
ইমিগ্রেশনে জালিয়াতি ঠেকাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রযুক্তি আনছে ইউএসসিআইএস
ভার্জিনিয়ার মেজবানে যোগ দিতে পথে নকীব খান ও প্রতীক হাসান, এয়ারপোর্টে অপেক্ষার ছবি ফেসবুকে
সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে বাবার মৃত্যুর পর কম খরচে সেখানেই তাঁর শেষকৃত্য করেছিলেন এক ব্যক্তি। কিন্তু চার বছর পর সেই সিদ্ধান্তই তার মনে গভীর অনুশোচনা তৈরি করেছে। এখন তার মনে বারবার প্রশ্ন জাগে, কেন বাবার মরদেহ নিজ দেশ পুয়ের্তো রিকোতে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য করতে পারলেন না। সম্প্রতি নিউজউইকে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার লেখায় ওই ব্যক্তি বাবার মৃত্যু, শেষকৃত্য এবং পরবর্তী সময়ের অনুশোচনার কথা তুলে ধরেছেন। ওই ব্যক্তি জানান, ২০২২ সালের জুনে তার বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুর সময় তিনি পেনসিলভানিয়া থেকে জর্জিয়ার দিকে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগের দিন বাবার নার্সিংহোম থেকে তাকে জানানো হয়েছিল, তার বাবা জীবনের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রেই কম খরচে তাঁর ক্রিমেশন বা দাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ডলারেরও কম। তখন অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় সিদ্ধান্তটি তার কাছে যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাবার শেষকৃত্য নিয়ে তার ভাবনা বদলে যায়। তার বাবা জীবনের বড় একটি সময় পুয়ের্তো রিকোর লোইজা এলাকায় কাটিয়েছেন। সেখানেই ছিল তার শিকড় এবং নিজের একটি বাড়িও ছিল। তাই চার বছর পর এখন ছেলের মনে হচ্ছে, বাবার শেষকৃত্য পুয়ের্তো রিকোতে করা হলে হয়তো তার মনে এই আফসোস থাকত না। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি মূলত দেখাতে চেয়েছেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর শেষকৃত্য শুধু অর্থের হিসাবের বিষয় নয়। পরিবারের শিকড়, সংস্কৃতি, স্মৃতি এবং প্রিয়জনকে শেষবারের মতো নিজের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়ার আকাঙ্ক্ষাও সিদ্ধান্তটির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। বাবার মৃত্যুর সময় নেওয়া সিদ্ধান্তটি তখন হয়তো অর্থনৈতিকভাবে সহজ ছিল। কিন্তু চার বছর পর সেই সিদ্ধান্তের মানসিক মূল্যই তার কাছে বড় হয়ে উঠেছে। বাবাকে দেশে নিয়ে গিয়ে শেষ বিদায় জানাতে না পারার আক্ষেপ এখনো তাকে তাড়া করে। নিউজউইকে প্রকাশিত এই ব্যক্তিগত লেখাটি মূলত একজন সন্তানের শোক, পারিবারিক শিকড় এবং মৃত্যুর পর নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী অনুশোচনার একটি মানবিক গল্প।
৬ মাসে শেখা যায় এমন ১০ দক্ষতা, যা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে কাজে লাগতে পারে
ট্রাম্প প্রশাসন আপিল না করলে শিগগিরই শুরু হতে পারে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেওয়া
ইমিগ্রেশন কড়াকড়ির মধ্যেও মেধাবী তরুণের গ্রিন কার্ড, জানালেন অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসে চাকরি শুরু করতে চাইলে ডিগ্রি বা দীর্ঘ কর্মঅভিজ্ঞতা না থাকলেও কিছু পেশায় প্রবেশের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকা ব্যক্তিরা গুদাম, পরিচ্ছন্নতা, রেস্টুরেন্ট, দোকান, নির্মাণ ও পণ্য সরবরাহের মতো কাজে শুরু করতে পারেন। তবে চাকরি পাওয়া, বেতন, কাজের সময় এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অঙ্গরাজ্য, শহর ও নিয়োগদাতা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ১. গুদামকর্মী গুদামকর্মীর কাজে পণ্য গোছানো, প্যাকেট তৈরি, অর্ডার প্রস্তুত করা, পণ্য স্ক্যান করা এবং মালামাল সরানোর মতো কাজ করতে হয়। এসব পেশায় সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর কাজের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, পণ্য পরিবহন ও গুদামসংশ্লিষ্ট কাজে বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। ২. পণ্য সরবরাহ বা যাত্রী পরিবহন চালক গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে পণ্য সরবরাহ বা যাত্রী পরিবহনের কাজ অনেকের জন্য ভালো একটি শুরু হতে পারে। উবার, লিফটসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজের নিয়ম, গাড়ির শর্ত, ড্রাইভার লাইসেন্স, গাড়ির বীমা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের প্রয়োজনীয়তা কোম্পানি ও এলাকার ওপর নির্ভর করে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ট্যাক্সি চালক, শাটল চালক ও ব্যক্তিগত গাড়িচালক পেশায় সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো উচ্চশিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। ২০২৪ সালে এসব পেশার মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ৩৬ হাজার ৬৬০ ডলার। ৩. নার্সিং সহকারী হেলথ কেয়ার খাতে যেতে চাইলে নার্সিং সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা যেতে পারে। তবে এ কাজকে পুরোপুরি অভিজ্ঞতাহীন বা দ্রুত শুরু করা যায় এমন পেশা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক অঙ্গরাজ্যে অনুমোদিত প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা যাচাই পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নার্সিং সহকারীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৩৯ হাজার ৫৩০ ডলার। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এ পেশায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার ৮০০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ৪. পরিচ্ছন্নতাকর্মী হোটেল, হাসপাতাল, স্কুল, অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ পাওয়া যায়। এ ধরনের কাজে সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না এবং কর্মক্ষেত্রেই কাজ শেখানো হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ভবন ও প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৩৫ হাজার ৯৩০ ডলার। ৫. রেস্টুরেন্ট বা খাবার প্রস্তুতকারী কর্মী রেস্টুরেন্ট, ফাস্ট ফুডের দোকান ও খাবার প্রস্তুতের কাজে নতুনদের প্রবেশের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। খাবার প্রস্তুতকারী কর্মী হিসেবে খাবার তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া, উপকরণ কাটা, রান্নাঘরে সহায়তা করা এবং অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজ করতে হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এ পেশায় সাধারণত আগের কাজের অভিজ্ঞতা বা নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। কয়েক সপ্তাহের কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজ শেখানো হয়। ২০২৪ সালে খাবার প্রস্তুতকারী কর্মীদের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল ১৬ ডলার ৪৫ সেন্ট। ৬. দোকানের বিক্রয়কর্মী ওয়ালমার্ট, টার্গেট, মুদি দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। ক্রেতাদের সহায়তা করা, পণ্য সাজানো, মজুত পণ্য গোছানো এবং ক্যাশ রেজিস্টারে লেনদেন পরিচালনা করা এসব কাজের মধ্যে পড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রয়োজন হয় না এবং চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর কাজ শেখানো হয়। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে খুচরা বিক্রয়কর্মীদের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল ১৬ ডলার ৭০ সেন্ট। তবে অঙ্গরাজ্য ও শহরভেদে বেতন ভিন্ন হতে পারে। ৭. নির্মাণশ্রমিক বা সহকারী শারীরিক পরিশ্রম করতে আগ্রহী হলে নির্মাণশ্রমিক বা নির্মাণকাজের সহকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা যেতে পারে। নির্মাণস্থলে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও উপকরণ সরানো, কাজের জায়গা প্রস্তুত করা এবং দক্ষ কর্মীদের কাজে সহায়তা করা এসব পেশার অন্যতম দায়িত্ব। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এ কাজে সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় এবং কর্মক্ষেত্রেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে নির্মাণশ্রমিক ও সহকারীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৪৬ হাজার ৫০ ডলার। ২০২৪ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এ পেশায় কর্মসংস্থান ৭ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ৮. নিরাপত্তাকর্মী অফিস, দোকান, হাসপাতাল, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে এ পেশায় ঢোকার আগে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণের নিয়ম জানা জরুরি। কিছু চাকরিতে হাইস্কুল ডিপ্লোমা বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতাও প্রয়োজন হতে পারে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যম বার্ষিক বেতন ছিল ৩৮ হাজার ৩৭০ ডলার। অনেক অঙ্গরাজ্যে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতে রাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। ৯. রাঁধুনি বা রান্নাঘরের কর্মী রেস্টুরেন্টে রাঁধুনি, রান্নাঘরের কর্মী বা খাবার প্রস্তুতকারী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা যায়। রান্নার অভিজ্ঞতা থাকলে কিছু পদে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে অনেক রাঁধুনির চাকরিতে কাজের মধ্যেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা শেখার সুযোগ থাকে। ২০২৪ সালে রাঁধুনিদের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল ১৭ ডলার ১৯ সেন্ট। ফাস্ট ফুডের রাঁধুনিদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ১৪ ডলার ৫০ সেন্ট এবং রেস্টুরেন্টের রাঁধুনিদের ক্ষেত্রে ১৭ ডলার ৭১ সেন্ট। ১০. ক্যাশিয়ার মুদি দোকান, গ্যাস স্টেশন, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্যাশিয়ারের কাজ পাওয়া যায়। টাকা গ্রহণ, গ্রাহকের পেমেন্ট প্রক্রিয়া করা এবং লেনদেনের হিসাব রাখা এ কাজের মূল দায়িত্ব। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতে সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন হয় না। স্বল্পমেয়াদি কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কাজ শেখানো হয়। ২০২৪ সালে ক্যাশিয়ারদের মধ্যম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ছিল ১৪ ডলার ৯৯ সেন্ট। কোন চাকরি আপনার জন্য ভালো? শারীরিকভাবে পরিশ্রম করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে গুদাম, নির্মাণ বা পরিচ্ছন্নতার কাজ বিবেচনা করতে পারেন। গাড়ি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে পণ্য সরবরাহ বা যাত্রী পরিবহনের কাজ একটি বিকল্প হতে পারে। মানুষের সঙ্গে বেশি যোগাযোগ করে ইংরেজি চর্চা করতে চাইলে দোকান বা রেস্টুরেন্টের কাজ উপযোগী হতে পারে। আর হেলথ কেয়ার খাতে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে নার্সিং সহকারী হিসেবে শুরু করার কথা ভাবা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করার আগে আপনার বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকতে হবে। কর্মসংস্থানের অনুমতির নথি বা ইএড যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমোদনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে শুধু ইএড থাকলেই প্রতিটি চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় সব যোগ্যতা পূরণ হয়েছে এমন নয়। কিছু পেশায় অঙ্গরাজ্যভিত্তিক লাইসেন্স, প্রশিক্ষণ, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা অন্যান্য শর্ত থাকতে পারে। নতুন অবস্থায় প্রথম চাকরিটিকে শুধু আয়ের উৎস হিসেবে না দেখে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জন, ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানো, পেশাগত যোগাযোগ তৈরি এবং ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার গড়ার একটি ধাপ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। চাকরিতে আবেদন করার আগে বেতন, কাজের সময়, সুযোগ-সুবিধা এবং নিয়োগের শর্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা উচিত।
এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় কামাল, চাঁদাবাজির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
৮০ শতাংশ শরীর পুড়ে ১৫ শতাংশ বাঁচার সম্ভাবনা, তবুও হাল ছাড়েননি মার্কিন সেনা