দুই ছেলের লাশ বাড়িতে, ২১ মাইল দূরে জ্বলন্ত গাড়িতে মিলল বাবার বাবার মরদেহ
কানাডার অটোয়ায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় দুই শিশুসন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে বাবার বাড়ি থেকে ৭ ও ১২ বছর বয়সী ওই দুই ভাইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিন ওই বাড়ি থেকে প্রায় ২১ মাইল দূরে ৪১৬ নম্বর হাইওয়ের পাশে পার্ক করা একটি জ্বলন্ত গাড়ি থেকে তাদের বাবার মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিজের দুই সন্তানকে হত্যার পর ওই ব্যক্তি নিজেও গাড়িতে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি পুরো অটোয়া কমিউনিটিকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শিশুদের বাবা-মায়ের মধ্যে আগেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল এবং শিশু দুটি ওই বাড়িতে তাদের বাবার সঙ্গেই থাকছিল। সোমবার সকাল ১০টার দিকে এক ব্যক্তি ওই বাড়িতে গিয়ে কারও সাড়াশব্দ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশকে খবর দেন। মূলত শিশুদের মায়ের দিক থেকে নয়, বরং ওই দর্শনার্থীর অনুরোধেই পুলিশ ‘ওয়েলফেয়ার চেক’ বা সার্বিক অবস্থার খোঁজ নিতে গিয়ে বাড়ির ভেতরে শিশুদের নিথর দেহের সন্ধান পায়। অটোয়া পুলিশ সার্ভিস এই ঘটনাকে অত্যন্ত জটিল উল্লেখ করে জানিয়েছে, তারা নিহতদের মা, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।
অটোয়া পুলিশ এবং অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল পুলিশ যৌথভাবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করছে। শিশুদের হত্যার পর বাবা কীভাবে মারা গেলেন এবং এর সাথে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরের একটি বাণিজ্যিক ভবনে লাগা অগ্নিকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশ জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে যে, এই ঘটনার পর ওই এলাকায় আর কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত হুমকি নেই। এই পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শিশুরাও বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
অটোয়া পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট জেমি ডানলপ সাংবাদিকদের বলেন, এটি পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং প্রতিবেশীদের জন্য এক অকল্পনীয় ট্র্যাজেডি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এমন মর্মান্তিক ঘটনা মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। এই ঘটনায় স্থানীয় নেতারাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অটোয়ার মেয়র মার্ক সাটক্লিফ এটিকে কমিউনিটির জন্য একটি 'অত্যন্ত কঠিন দিন' হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। রিভারসাইড সাউথ-ফিন্ডলে ক্রিক কাউন্সিলর স্টিভ ডেসরোচেসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই ঘটনাকে একটি হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি আখ্যা দিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা যেকোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ ও বিচ্ছিন্নতা তৈরির ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির আওতায় শুধু সরকার নয়—ইরানকে আর্থিক বা বাণিজ্যিকভাবে সহায়তা করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর ও সরকারি সংস্থাও পড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ট্রাম্পের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যার দিক থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, তারা আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি; তবে আলোচনা আত্মসমর্পণের সমার্থক হতে পারে না। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীনকে নিয়েও বিশেষ নজর রয়েছে, কারণ চীনের সঙ্গে ইরানের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনসহ অন্যান্য দেশের সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি ইরানের ওপর শুধু সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নয়, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানের তেল ও বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার পথও সংকুচিত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘোষণাটির বাস্তব প্রয়োগের নির্দিষ্ট কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি।
যেখানে সেবাই নেই, সেখানেও টিপের দাবি; যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ক্রেতাদের ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন হ্যারি-মেগান, ছয় বছর পর কেন আবার যুক্তরাজ্যে ফিরছেন তারা?
একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি, অন্যদিকে বন্দি ইরানিদের ফেরত, ফাঁস নথিতে ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতি
রাশিয়ায় একটি আদালত কর্তৃক 'চরমপন্থী' বা এক্সট্রিমিস্ট হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর নিজেদের সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অন্যতম শীর্ষ এলজিবিটিকিউ অধিকার গোষ্ঠী 'রাশিয়ান এলজিবিটি নেটওয়ার্ক'। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক বিবৃতির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। এর আগে, গত এপ্রিলে রাশিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি আদালত ওই অধিকার গোষ্ঠীটিকে চরমপন্থী হিসেবে আখ্যা দেয়। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত রাশিয়ান এলজিবিটি নেটওয়ার্ক দীর্ঘ সময় ধরে দেশজুড়ে অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছিল। তবে চরমপন্থী তকমা পাওয়ার পর সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ঝুঁকির বিষয়টি গভীরভাবে মূল্যায়নের পরই তারা কার্যক্রম বন্ধের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চরমপন্থী হিসেবে ঘোষণার পর আগের মতো প্রকাশ্যে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তারা জানায়, বর্তমানে এই সংগঠনের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। দমনমূলক এই পরিবেশে মানুষের নিরাপত্তাকেই তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গত এক দশক ধরেই এলজিবিটিকিউ অধিকারের ওপর ক্রেমলিনের কঠোর দমনপীড়ন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৩ সালে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট 'আন্তর্জাতিক এলজিবিটি আন্দোলন'-কে চরমপন্থী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে 'ইলগা ওয়ার্ল্ড' নামক একটি বৈশ্বিক অধিকার গোষ্ঠীকেও 'অবাঞ্ছিত' ঘোষণা করে মস্কো, যার সঙ্গে যুক্ত থাকলে রাশিয়ায় ছয় বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, রাশিয়ান এলজিবিটি নেটওয়ার্ক হলো এ বছর রাশিয়ায় চরমপন্থী আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করা নয়টি অধিকার গোষ্ঠীর মধ্যে একটি। সবশেষে বিদায়বেলায় সংগঠনটি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রম হয়তো বন্ধ হচ্ছে, কিন্তু মানুষের মর্যাদা, সংহতি এবং নিজস্ব পরিচয়ে বাঁচার অধিকার কখনোই ধ্বংস করা যাবে না।
ক্যানসারকে হারিয়ে জীবন ফিরে পেয়েছেন, এবার মা হতে চান তরুণী, প্রয়োজন ১০ হাজার ডলার
পর্যটকবাহী সাফারি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ মার্কিন নাগরিকসহ নি হত ৭
‘সিনেমা বানিয়ে যুদ্ধের পরাজয় মুছে ফেলা যায় না’, ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে পাকিস্তান
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই খবরের পর তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. ইয়াসির আদ-দোসারি। বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কার্লোসের একটি ছবি শেয়ার করে কাবার এই প্রখ্যাত ইমাম লেখেন, ‘রহমতের ধর্মে তোমাকে স্বাগতম।’ পাশাপাশি তিনি সাবেক এই ফুটবল তারকার হেদায়েত, জীবনে বরকত এবং দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ দোয়াও করেন। কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের এই চাঞ্চল্যকর খবরটি গত মঙ্গলবার প্রথম সামনে আনেন তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল একে পার্টির সংসদ সদস্য আলি শাহিন। সম্প্রতি ব্রাজিল সফরে গিয়ে স্থানীয় মুসলিম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি এই দাবি করেন। আলি শাহিন জানান, ব্রাজিলের প্রখ্যাত ইসলামী স্কলার শায়খ জিহাদ হাম্মাদের মাধ্যমে কার্লোসের ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। জানা গেছে, শায়খ জিহাদের সঙ্গে এই ফুটবল তারকার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় চার সপ্তাহ আগে সাও পাওলোতে তাদের এক বিশেষ বৈঠকেই রবার্তো কার্লোস কালিমা শাহাদাত পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামে প্রবেশ করেন বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলবিষয়ক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম গোল ডটকম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে রবার্তো কার্লোসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা না মিললেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবল ভক্ত থেকে শুরু করে বিশিষ্ট মুসলিম ব্যক্তিত্বরা এই তারকাকে ক্রমাগত অভিনন্দন জানিয়ে চলেছেন। সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক
৭০ বছরের তালেবান কমান্ডারকে বিয়ে না করায় ১৭ বছরের কিশোরী ২১ মাস ধরে কারাগারে
গাজায় শিশু হিন্দ রাজাব হ ত্যার কথা স্বীকার করল ই সরায়েলি সেনাবাহিনী, শুরু হচ্ছে ফৌজদারি তদন্ত