অভিবাসন নীতি নিয়ে সহকর্মী বিচারপতিকে উদ্দেশ করে করা মন্তব্যে বিতর্কের মুখে পড়ার পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোনিয়া সোটোমায়ার। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি সহকর্মী বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানোর একটি রায় নিয়ে সমালোচনা করেন। পরে নিজের মন্তব্যকে ‘অনুপযুক্ত’ স্বীকার করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সহকর্মীর কাছে ক্ষমা চান।
গত সপ্তাহে কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে দেওয়া বক্তব্যে সোটোমায়ার বলেন, ক্যাভানো হয়তো ঘণ্টাভিত্তিক কাজ করা মানুষের বাস্তবতা পুরোপুরি বোঝেন না। তার এই মন্তব্য ঘিরে তাৎক্ষণিকভাবে বিতর্ক শুরু হয়।
এই মন্তব্যটি আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার প্রেক্ষাপটে, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর পদক্ষেপ চালুর অনুমতি দেয়। সমালোচকদের মতে, ওই নীতিতে ‘জাতিগত বৈশিষ্ট্য’ বিবেচনায় নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। মামলায় ক্যাভানো তার পৃথক মতামতে উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তিকে আটকের ক্ষেত্রে ‘দৃষ্টিগোচর জাতিগত পরিচয়’ একটি প্রাসঙ্গিক বিষয় হতে পারে। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের আইন প্রয়োগ অবশ্যই সাময়িক ও যুক্তিসঙ্গত হতে হবে।
অন্যদিকে সোটোমায়ার এ রায়ের বিরুদ্ধে ভিন্নমত পোষণ করেন। তার সঙ্গে একমত হন বিচারপতি এলিনা কাগান ও কেটাঞ্জি ব্রাউন জ্যাকসন। ভিন্নমতে সোটোমায়ার সতর্ক করেন, এই ধরনের নীতি প্রয়োগে শুধুমাত্র চেহারা, ভাষা বা পেশার ভিত্তিতে মানুষকে আটক করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা সাংবিধানিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি।
তার এই ব্যক্তিগত মন্তব্য আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। পরে ক্যাভানোর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি উঠলে বুধবার এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন সোটোমায়ার।
তিনি বলেন, ‘আমি সহকর্মীর সঙ্গে মতবিরোধের প্রসঙ্গ তুলে এমন মন্তব্য করেছি, যা অনুপযুক্ত ছিল। আমি আমার কষ্টদায়ক মন্তব্যের জন্য দুঃখিত এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ এর আগে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিচারকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌজন্য ও শালীনতা বজায় রাখার গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের স্টেট সেনেটের ডিস্ট্রিক্ট-১৮ আসনের সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান আইনজীবী হাসিব ফাতমী। গত সপ্তাহে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ মে নর্থ ক্যারোলাইনা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নীতিনির্ধারকরা হাসিব ফাতমীকে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য এই পদে মনোনয়ন দেন। পরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিনি স্টেট সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার সঙ্গে রয়েছে হাসিব ফাতমীর পারিবারিক শিকড়। তার বাবা মোহাম্মদ বদরুল এহসান ফাতমী এবং মা সাইদা ফাতমী স্নিগ্ধা ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান। এরপর সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তারা। দায়িত্ব গ্রহণের পর এক নির্বাচনি সমাবেশে হাসিব ফাতমী বলেন, সম্প্রতি তিনি ওয়েক ফরেস্ট টাউনের কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং স্থানীয় জনগণের কল্যাণে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভোটাররা তাকে পূর্ণ মেয়াদের জন্যও নির্বাচিত করবেন। ডিস্ট্রিক্ট-১৮ আসনটি শূন্য হয় সাবেক সেনেটর টেরেন্স এভারিটের পদত্যাগের পর। এর আগে থেকেই আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন হাসিব ফাতমী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগেই সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পাবে, যা আসন্ন নির্বাচনে তাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। হাসিব ফাতমীর এই অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির আরেকটি উদাহরণ। বর্তমানে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে শেখ রহমান ও নাবিলা ইসলাম, ভার্জিনিয়ায় সাদ্দাম আজলান সেলিম, কানেকটিকাটে মাসুদুর রহমান এবং নিউ হ্যামশায়ারে আবুল খান আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অংশগ্রহণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ১৯৮৮ সালে নর্থ ক্যারোলাইনার ডারহাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন হাসিব ফাতমী। শিক্ষাজীবনে তিনি ২০০৯ সালে ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা অ্যাট চ্যাপেল হিল থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১২ সালে নিউইয়র্কের ফোর্ডহ্যাম ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পর্যায়ের নাগরিক ও জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তার রাজনৈতিক উত্থানকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের সাফল্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বই বাড়াচ্ছে না, বরং নতুন প্রজন্মকেও জনসেবা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করছে। সেই ধারাবাহিকতায় নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট সেনেটে হাসিব ফাতমীর অন্তর্ভুক্তি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় ছিনতাইকারীদের হাত থেকে নিজের মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে ২২ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের। নিহতের নাম বিলি শ্মিট। তিনি পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির (পেন স্টেট) ডিজিটাল জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং আগামী ডিসেম্বরেই তার স্নাতক সম্পন্ন করার কথা ছিল। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সাউথ ফিলাডেলফিয়ায় নিজের বাড়ির কাছেই এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, বন্ধুদের সঙ্গে এনবিএ ফাইনাল খেলা দেখা শেষে রাতে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন বিলি শ্মিট। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তার পথ রোধ করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিলি শ্মিট তার ফোনটি ফেরত পাওয়ার জন্য ছিনতাইকারীদের পিছু নিয়েছিলেন। এ সময় তাকে 'আমার ফোন ফেরত দাও' বলে আকুতি জানাতে শোনা যায়। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ছিনতাইকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ফোনটি একটি গাড়ির নিচে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পেন প্রেসবাইটেরিয়ান মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সামান্য একটি ফোনের জন্য এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের বাবা বিল শ্মিট সংবাদমাধ্যমের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার ছেলে অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ ছিল এবং কখনো কারো কোনো ক্ষতি বা বিরক্তি তৈরি করেনি। তিনি আরও বলেন, "ফোন চুরি যাওয়ার পর সে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করেছিল ভেবে আমি অবাক হচ্ছি। ধারণা করছি, সে যখন রাস্তার মোড়ে পৌঁছায়, তখন আরেকজন বেরিয়ে এসে তাকে গুলি করে।" এদিকে পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি এক শোকবার্তায় বিলি শ্মিটের অকাল মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। পুলিশ এখনো এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, তবে অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। বিলির প্রতিবেশী এবং পরিবার অবিলম্বে এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন এবং অপরাধীদের শনাক্তে যেকোনো তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সদরদপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ সদস্য পদোন্নতি লাভ করেছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৮ মে এনওয়াইপিডির সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মকর্তার হাতে পদোন্নতির সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের কমিশনার জেসিকা টিশ। পদোন্নতি পাওয়া বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তারা হলেন পুলিশ কর্মকর্তা তান্নি চন্দা, যিনি সার্জেন্ট পদে উন্নীত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা সাফায়েত জামিল এবং পুলিশ কর্মকর্তা আশফাকুর রহমান ডিটেকটিভ পদে পদোন্নতি লাভ করেন। এই পদোন্নতির মাধ্যমে তিনজনই তাদের দায়িত্বের নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এই অর্জনে বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ক্যাপ্টেন একেএম আলম, সহ-সভাপতি সার্জেন্ট ডিটেকটিভ স্কোয়াড এরশাদুর সিদ্দিক এবং সাধারণ সম্পাদক ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার এক যৌথ শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, এটি ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সমগ্র বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। বাপার গণমাধ্যম সমন্বয়কারী সার্জেন্ট জসিম মিয়া বলেন, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পদোন্নতি এসেছে। এই অর্জন আগামী প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকান তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। প্রবাসী কমিউনিটির নেতারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও সাফল্য মূলধারার সমাজে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করছে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও পেশাদার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পরিচিত। সেখানে বহু বাংলাদেশি-আমেরিকান সদস্য কর্মরত রয়েছেন, যারা নিজ নিজ দায়িত্বে দক্ষতা ও সেবার মাধ্যমে নিয়মিতভাবে স্বীকৃতি অর্জন করছেন।