অভিবাসন নীতি

ছবি: সংগৃহীত
অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিলে দ্রুত মিলবে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখ

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক ভিসার সাক্ষাৎকারের দীর্ঘ অপেক্ষা কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। নতুন পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় বি-১/বি-২ ভিসা আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার পরিশোধ করে দ্রুত সাক্ষাৎকারের তারিখ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই অর্থ পরিশোধ করলেও ভিসা অনুমোদনের কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না বলে স্পষ্ট করেছে কর্তৃপক্ষ।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হতে যাওয়া এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মসূচিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। বিশ্বের নির্বাচিত কিছু মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হবে।   নতুন ব্যবস্থার আওতায় অতিরিক্ত ফি প্রদানকারী আবেদনকারীরা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পেতে পারবেন। তবে এই সুবিধা কেবল সাক্ষাৎকারের তারিখ দ্রুত পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সাক্ষাৎকারের পর ভিসা প্রক্রিয়াকরণ দ্রুত হবে না এবং ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনাও বাড়বে না।   অর্থাৎ আবেদনকারীরা দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ কিনতে পারবেন, কিন্তু দ্রুত সিদ্ধান্ত বা নিশ্চিত ভিসা নয়। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দ্রুত সাক্ষাৎকারের এই সুবিধা সব মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে পাওয়া যাবে না। শুধুমাত্র নির্বাচিত কিছু কনস্যুলেটে এটি চালু করা হবে।   প্রতিটি স্থানে কতটি প্রিমিয়াম সাক্ষাৎকারের সময় বরাদ্দ থাকবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় সক্ষমতার ওপর। ফলে দেশভেদে এই সুবিধার প্রাপ্যতা ভিন্ন হতে পারে এবং চাহিদা বেশি হলে সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। নতুন ৭৫০ ডলারের ফি বিদ্যমান ভিসা আবেদন ফি-এর বিকল্প নয়। আবেদনকারীদের প্রচলিত নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ফি পরিশোধের পাশাপাশি অতিরিক্ত এই অর্থ দিতে হবে।   অর্থাৎ দ্রুত সাক্ষাৎকারের সুযোগ পেতে আবেদনকারীদের মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসা সাক্ষাৎকারের দীর্ঘ জট এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।   কর্তৃপক্ষ দেখতে চায়, দ্রুত সাক্ষাৎকারের বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে আবেদনকারী ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরা কতটা আগ্রহী হন এবং এর মাধ্যমে সাক্ষাৎকার ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানো সম্ভব হয় কি না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচিটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চালু থাকবে।   এই সময়ের মধ্যে কতজন আবেদনকারী সুবিধাটি ব্যবহার করেন, এর কার্যকারিতা কতটা এবং ভিসা ব্যবস্থাপনায় কী প্রভাব পড়ে, তা মূল্যায়ন করবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে জনমতও সংগ্রহ করা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে ধারাবাহিকভাবে কঠোরতা আরোপ করছে। নতুন দ্রুত সাক্ষাৎকার কর্মসূচি সেই বৃহত্তর নীতিগত পরিবর্তনের সময়েই চালু হচ্ছে।   সম্প্রতি কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, অতীত ইতিহাস এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময়ও বেড়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রতীকী ছবি
গ্রিন কার্ড অনুমোদনে কঠোর নজরদারি, আবেদনকারীর পুরো অভিবাসন ইতিহাস খতিয়ে দেখছে ইউএসসিআইএস

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন থেকে গ্রিন কার্ডের জন্য ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ (এওএস) আবেদনকারীদের সম্পূর্ণ অভিবাসন ইতিহাস পর্যালোচনা করা হবে এবং শুধু যোগ্যতা অর্জন করলেই আবেদন অনুমোদিত হবে না।   গত ২২ মে ২০২৬ প্রকাশিত নতুন নির্দেশনায় ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আর স্বাভাবিক বা স্বয়ংক্রিয় সুবিধা নয়; বরং এটি প্রশাসনিক বিবেচনার ভিত্তিতে দেওয়া একটি বিশেষ সুযোগ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অনেক অভিবাসীর জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ আগের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।   অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত যোগ্য ব্যক্তিরা দেশ ছাড়াই স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে নতুন নীতির ফলে এই সুবিধা এখন কঠোর পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, নতুন নীতির প্রভাব ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে।   ড্রিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দিমিত্রি লিটভিনভের মতে, ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা এখন আবেদনকারীদের জিজ্ঞাসা করছেন কেন তারা নিজ দেশে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন না করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি আবেদনকারীর অতীতের সব ধরনের ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   তিনি বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতা পূরণ করাই যথেষ্ট ছিল। এখন আবেদনকারীকে আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হচ্ছে কেন তার আবেদন অনুমোদন করা উচিত। তবে কিছু আইনজীবীর মতে, নতুন নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় এবং বিভিন্ন অফিসে এর প্রয়োগের ধরন ভিন্ন হতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নির্দেশনার প্রধান প্রভাব পড়বে নন-ডুয়াল ইনটেন্ট ভিসাধারীদের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে বি-১/বি-২ পর্যটক ভিসা, এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা এবং টিএন ভিসাধারীরা। অন্যদিকে এইচ-১বি ও এল-১ ভিসাধারীরা আপাতত নতুন নীতির মূল লক্ষ্যবস্তু নন। যারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন, যেমন ইবি-৫ বিনিয়োগকারী বা কর্মসংস্থানভিত্তিক কিছু গ্রিন কার্ড আবেদনকারী, তারা তুলনামূলক কম বাধার মুখে পড়তে পারেন।   এলসিআর ক্যাপিটাল পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিলপা মেনন বলেন, এখন পর্যন্ত অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি এবং নতুন নির্দেশনার কারণে কোনো চলমান আবেদন প্রত্যাখ্যানের তথ্যও পাওয়া যায়নি। তবে এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।   ইউএসসিআইএসের নতুন অবস্থান অনুযায়ী, স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার স্বাভাবিক পথ হিসেবে এখন বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   ২০২৩ অর্থবছরে ৬ লাখ ৮ হাজারের বেশি ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেয়েছিলেন। একই সময়ে বিদেশ থেকে অভিবাসী ভিসার মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই এওএস প্রক্রিয়া ব্যবহার করতেন। নতুন নীতির পর সেই ধারণা আর নিশ্চিত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন থেকে কোনো আবেদনকারীকে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস তার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত থাকবে।   গোল্ডেন গেট গ্লোবালের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা অভিনব লোহিয়া বলেন, আবেদনকারীর অভিবাসন ইতিহাস, ভিসার ধরন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময়কার উদ্দেশ্য, বর্তমান অভিবাসন অবস্থা এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তার মতে, প্রতিটি আবেদন এখন পৃথকভাবে মূল্যায়িত হবে এবং আবেদনকারীদের অতীত রেকর্ড আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড: কী, কেন এবং কারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন

যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন আর্থিক শর্ত যুক্ত হয়েছে। মার্কিন সরকারের ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান বা ওভারস্টে কমানো। নতুন এই নীতির ফলে পর্যটন, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও কঠোর হতে পারে।   কী এই ভিসা বন্ড? ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে নেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো ভিসাধারীরা যেন ভিসার শর্ত মেনে চলেন এবং অনুমোদিত সময় শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন।   প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসা অন্যতম। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।   তবে অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার পরও কেউ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তা ‘ভিসা ওভারস্টে’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশটির অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন।   নতুন নিয়মে কী বলা হয়েছে? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি-১ ও বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে একটি বন্ড জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারী বিশ্বের যে দেশ থেকেই আবেদন করুন না কেন, এই নিয়ম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।   ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, চাকরি, আয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন।   বন্ড জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে সম্মতি জানাতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের আই-৩৫২ ফরমও পূরণ করতে হবে।   ভিসাধারী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং ভিসার সব শর্ত মেনে চলেন, তাহলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে।   নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কয়েকটি বিমানবন্দর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও দেশত্যাগ করতে হবে। এসব বিমানবন্দর হলো বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে) এবং ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।   কেন চালু করা হচ্ছে এই নীতি? মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসা ওভারস্টের হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত সময় পার হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভিসা বন্ড চালু হলে ওভারস্টের হার কমবে এবং ভিসা ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আসবে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   কোন দেশগুলো প্রভাবিত হবে? সাম্প্রতিক ঘোষণায় মোট ৩৮টি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল। এছাড়া আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশও তালিকাভুক্ত হয়েছে।   তবে কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন।   ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে কি? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সীমিত কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড মওকুফ করা হতে পারে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরকারি কাজে ভ্রমণ বা জরুরি মানবিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে। তবে সাধারণ পর্যটক বা ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য এ ধরনের ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।   আগে কি এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল? ভিসা বন্ডের ধারণা নতুন নয়। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে এ ব্যবস্থা চালু করেছিল, যদিও পরে তা বাতিল করা হয়। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যও কিছু উচ্চ ঝুঁকির দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর পরিকল্পনা করেছিল, তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।   এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমে যাওয়ায় পরিকল্পনাটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।   বাংলাদেশিদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বাংলাদেশ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা অনেক পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮ লাখ টাকার বেশি হওয়ায় এটি অনেক আবেদনকারীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।   তবে এই অর্থ ফেরতযোগ্য হওয়ায় যারা ভিসার শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন, তারা বন্ডের অর্থ ফেরত পাবেন। ফলে এটিকে স্থায়ী ব্যয় হিসেবে নয়, অস্থায়ী আর্থিক নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা, নীতি অপরিবর্তিত থাকার স্পষ্টীকরণ

ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সাম্প্রতিক ভিসা প্রক্রিয়া সংক্রান্ত একটি আপডেটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রত্যাশীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে দূতাবাসের ওয়েবসাইট ও কনস্যুলার নীতিমালার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ভিসা আবেদন, সাক্ষাৎকার এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলিং আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে চালু আছে। নীতিমালায় কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি।   দূতাবাসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরিবর্তন এসেছে মূলত ভিসা আবেদন-পরবর্তী প্রক্রিয়ায়, যেখানে অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন একটি ধাপ যুক্ত করা হয়েছে। ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদনকারীদের এখন দুইবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে উপস্থিত হতে হবে।   প্রথম দিন থাকবে নথি যাচাই-বাছাই, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি সংগ্রহের প্রক্রিয়া। এ সময় আবেদনকারীদের সব মূল কাগজপত্র ও কপি সঙ্গে রাখতে হবে। একই সঙ্গে পূর্বে নির্দেশিত নিয়ম অনুযায়ী CEAC অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট আপলোড করা থাকতে হবে।   দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হবে কনস্যুলার অফিসারের সঙ্গে ভিসা ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকার। দূতাবাস সূত্রে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় সব নথি সঠিকভাবে জমা থাকলে সাধারণত একই সপ্তাহের মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করা হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী ঘোষণা অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্রান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। বাংলাদেশও ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আবেদনকারীরা এখনো ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন, সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন এবং দূতাবাস অ্যাপয়েন্টমেন্টও নির্ধারণ করবে। তবে এই সময়কালে ভিসা ইস্যু কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।     দূতাবাসের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে, নতুন “two-day processing” ব্যবস্থা পূর্বের ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করেনি। অর্থাৎ আবেদন প্রক্রিয়ার ধাপগুলো চলমান থাকলেও ভিসা ইস্যু সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।   এ অবস্থায় অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য প্রক্রিয়াগত ধাপগুলো অব্যাহত থাকলেও চূড়ান্ত ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত পূর্বের স্থগিত নীতির অধীনেই পরিচালিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন মে ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন দমনে সিনেটে আইসের জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলার ৫০-৪৮ ভোটে পাস

ওয়াশিংটন, ২৩ এপ্রিল:   যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন সিনেট। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কার্যক্রমের জন্য ৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পরিকল্পনা বৃহস্পতিবার সিনেটে ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়েছে।   এই অর্থের মাধ্যমে সীমান্তে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, নতুন জনবল নিয়োগ, আটক কেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে বলে জানা গেছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এটিকে সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   তাদের দাবি, দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ এবং মানব পাচার ঠেকাতে আইস ও বর্ডার প্যাট্রোলের সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।   অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সদস্যদের একাংশ এই বিলের বিরোধিতা করেছেন। তাদের মতে, বিপুল এই অর্থ আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রমে ব্যয় না করে অভিবাসন আদালত, আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া এবং মানবিক সহায়তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো উচিত ছিল।   বিশ্লেষকদের মতে, সিনেটে বিলটি পাস হলেও এটি এখনো চূড়ান্ত আইন নয়। কার্যকর হতে হলে বিলটি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে অনুমোদন পেতে হবে এবং পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।   সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে অন্যতম বড় বিতর্কের বিষয়। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে এই বিল নিয়ে দুই দলের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
সহকর্মীকে নিয়ে মন্তব্যে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোটোমায়ার

অভিবাসন নীতি নিয়ে সহকর্মী বিচারপতিকে উদ্দেশ করে করা মন্তব্যে বিতর্কের মুখে পড়ার পর প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোনিয়া সোটোমায়ার। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি সহকর্মী বিচারপতি ব্রেট ক্যাভানোর একটি রায় নিয়ে সমালোচনা করেন। পরে নিজের মন্তব্যকে ‘অনুপযুক্ত’ স্বীকার করে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সহকর্মীর কাছে ক্ষমা চান।   গত সপ্তাহে কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে দেওয়া বক্তব্যে সোটোমায়ার বলেন, ক্যাভানো হয়তো ঘণ্টাভিত্তিক কাজ করা মানুষের বাস্তবতা পুরোপুরি বোঝেন না। তার এই মন্তব্য ঘিরে তাৎক্ষণিকভাবে বিতর্ক শুরু হয়।   এই মন্তব্যটি আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার প্রেক্ষাপটে, যেখানে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত কঠোর পদক্ষেপ চালুর অনুমতি দেয়। সমালোচকদের মতে, ওই নীতিতে ‘জাতিগত বৈশিষ্ট্য’ বিবেচনায় নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। মামলায় ক্যাভানো তার পৃথক মতামতে উল্লেখ করেন, কোনো ব্যক্তিকে আটকের ক্ষেত্রে ‘দৃষ্টিগোচর জাতিগত পরিচয়’ একটি প্রাসঙ্গিক বিষয় হতে পারে। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের আইন প্রয়োগ অবশ্যই সাময়িক ও যুক্তিসঙ্গত হতে হবে।   অন্যদিকে সোটোমায়ার এ রায়ের বিরুদ্ধে ভিন্নমত পোষণ করেন। তার সঙ্গে একমত হন বিচারপতি এলিনা কাগান ও কেটাঞ্জি ব্রাউন জ্যাকসন। ভিন্নমতে সোটোমায়ার সতর্ক করেন, এই ধরনের নীতি প্রয়োগে শুধুমাত্র চেহারা, ভাষা বা পেশার ভিত্তিতে মানুষকে আটক করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা সাংবিধানিক স্বাধীনতার জন্য হুমকি।   তার এই ব্যক্তিগত মন্তব্য আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। পরে ক্যাভানোর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি উঠলে বুধবার এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন সোটোমায়ার।   তিনি বলেন, ‘আমি সহকর্মীর সঙ্গে মতবিরোধের প্রসঙ্গ তুলে এমন মন্তব্য করেছি, যা অনুপযুক্ত ছিল। আমি আমার কষ্টদায়ক মন্তব্যের জন্য দুঃখিত এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ এর আগে আলাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিচারকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌজন্য ও শালীনতা বজায় রাখার গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান প্রসব ও নাগরিকত্ব: সুযোগ বন্ধ করছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। গর্ভবতী নারীদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তাকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।   রয়টার্সের হাতে আসা একটি অভ্যন্তরীণ বার্তা থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা দেশজুড়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ‘জন্ম পর্যটন’ প্রতিরোধে বিশেষভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বিদেশি নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এনে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে এমন চক্রগুলো শনাক্ত ও ভেঙে দেওয়া।   প্রশাসনের মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নবজাতকের জন্য নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার প্রবণতা বাড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ ধরনের কার্যক্রম করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেই নাগরিকত্ব পাওয়ার যে নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চালু আছে, সেটি সীমিত করার প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। এ লক্ষ্যে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—বাবা-মায়ের কেউ নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।   তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ উঠেছে। একাধিক ফেডারেল বিচারক আদেশটি স্থগিত করে দিয়েছেন এবং বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজেই কোনো অপরাধ নয়। তবে ভিসা জালিয়াতি, প্রতারণা বা তথ্য গোপনের মতো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জন্ম পর্যটনের প্রকৃত সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও অতীতে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর কয়েক হাজার নারী এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেছেন। তবে সামগ্রিক জন্মহারের তুলনায় এই সংখ্যা খুবই সীমিত।   এর আগে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘জন্ম নিবাস’ পরিচালনার অভিযোগে একটি চক্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, যেখানে বিদেশি নারীদের এই সুবিধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। ওই মামলায় কয়েকজন দোষী সাব্যস্তও হন। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে আরও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি নারী ইয়াসমিনের হত্যাকারীকে ‘পশু’ বললেন ট্রাম্প

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি গ্যাস স্টেশনের বাইরে বাংলাদেশি অভিবাসী নারী নিলুফা ইয়াসমিনের হত্যাকারীকে'পশু' বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিবাসন নিয়ে বক্তব্যের ধরনকে ঘিরে এবং গ্রাফিক ও আনসেন্সরড ভিডিও পোস্ট করার কারণে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন তিনি। ২ এপ্রিল ফোর্ট মায়ার্সে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাংলাদেশি অভিবাসী নিলুফা ইয়াসমিন নামে এক দোকানকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সন্দেহভাজন হামলাকারী রোলবার্ট জোয়াচিন, যিনি গৃহহীন এক হাইতিয়ান অভিবাসী। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প তাকে 'অবৈধ অভিবাসী' ও 'পশু' বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, বাইডেন প্রশাসনের সময় হাইতিয়ানদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) দেওয়া হয়েছিল। তিনি ভিডিওটিকে 'আপনি জীবনে দেখবেন এমন সবচেয়ে নৃশংস ঘটনার একটি' বলে উল্লেখ করেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগভিডিওটির একটি ঝাপসা সংস্করণ প্রকাশ করেছিল। দ্য গার্ডিয়ানের মতে, এই পোস্টটি ট্রাম্পের একটি পরিচিত ধারার অংশ তিনি বারবার সহিংস অপরাধের ঘটনাকে অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরেছেন, যা অনেক সময় সঠিক নয়। উদাহরণস্বরূপ, স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি নর্থ ক্যারোলিনায় ইউক্রেনীয় অভিবাসী ইরিনা জারুতস্কার হত্যাকাণ্ডকে 'ওপেন বর্ডার' নীতির ফল হিসেবে বর্ণনা করেন, যদিও ওই মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প একাধিকবার হাইতিয়ানদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, এমনকি ভুলভাবে দাবি করেন যে তারা 'ওহাইওতে পোষা প্রাণী খাচ্ছে।' হাইতিয়ানদের অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টা একটি ফেডারেল বিচারক আটকে দিয়েছেন। তবে ট্রাম্প যুক্তি দেন, ফ্লোরিডার এই হত্যাকাণ্ডই 'র্যাডিক্যাল বিচারকদের' তার অভিবাসন নীতিতে বাধা দেওয়া বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত। সমালোচকরা বলছেন, এই ভিডিও শেয়ার করার উদ্দেশ্য হলো ভয় সৃষ্টি করা এবং অভিবাসীবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া। আমেরিকান অভিবাসন পরিষদ-এর অ্যারন রাইখলিন-মেলনিক বলেন, এটি জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার একটি কৌশল। ৪০ বছর বয়সী জোয়াচিনকে হত্যাকাণ্ডের দিনই গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা, ভাঙচুর ও সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার একদিন আগে তিনি এটিএম থেকে টাকা তুলতে না পেরে দোকানকর্মীর কাছে অর্থ দাবি করেছিলেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিউ ইয়র্কে আইস বিরোধী বিক্ষোভ: প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়ার দায়ে ১৫ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটি-তে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বিরোধী এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে ১৫ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আইউইটনেস নিউজ জানায়, সোমবার বিক্ষোভকারীরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিয়ার টেকনোলজিস-এর ভবনে প্রবেশ করে অবস্থান নেন। আইসের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে তারা এ কর্মসূচি পালন করছিলেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে নির্দেশ দিলে তারা তা অমান্য করেন। পরে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে হাজিরার নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।   এর আগে সন্ধ্যায় জুইশ ফর রেশিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক জাস্টিস-এর উদ্যোগে ইউনিয়ন স্কোয়ার এলাকায় ‘সেডার ইন দ্য স্ট্রিটস’ শিরোনামে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব পাসওভার উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় গান ও বক্তব্যের মাধ্যমে আইসের অভিবাসন নীতির প্রতিবাদ জানান।   গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীরাও ওই সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সমাবেশে বক্তব্য দেন নিউইয়র্কের মেয়র জোরান মামদানি। তিনি বলেন, পাসওভারের শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভয়ের বিরুদ্ধে আশা এবং বিভেদের বিরুদ্ধে সংহতির মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আদালতের স্থগিতাদেশ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টায় বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের আইনি অধিকার বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' বাতিলের যে কঠোর অভিবাসন নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করেছিল, তা বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত এজেন্ডার বিরুদ্ধে একটি বিরল স্থগিতাদেশ জারি করেছে দেশটির আদালত। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, এই প্রথাটি মার্কিন সংবিধানের সঠিক প্রতিফলন নয় এবং এটি 'বার্থ ট্যুরিজম' বা অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। তবে আদালতের এই সাম্প্রতিক রুলিংয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশু নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য, চাই তার বাবা-মায়ের আইনি অবস্থান যাই হোক না কেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে জানান, কয়েক দশকের আইনি নজির এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা কেবল একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার অভিবাসী পরিবার, যারা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তারা আপাতত স্বস্তি পেলেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউস এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে। ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডার অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল এই নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন করা, যা নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি বন্ধ করলে তা সীমান্তে অনুপ্রবেশ কমাতে সহায়ক হবে। কিন্তু মানবাধিকার কর্মী এবং আইনবিদরা শুরু থেকেই একে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করে আসছিলেন। আদালতের এই নতুন আদেশের ফলে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানেও যদি এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকে, তবে তা হবে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা এই খবরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এর ওপর নির্ভর করছে দেশটিতে জন্ম নেওয়া তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি । প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য সংবিধান-প্রদত্ত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা বাতিলের চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে 'ট্রাম্প বনাম বারবারা' মামলার শুনানি ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আমেরিকান নাগরিক স্বাধীনতা ইউনিয়ন তার এই উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলে চ্যালেঞ্জ করেছে। যদি আদালত ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু অভিবাসীদের নয়, বরং সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই পড়বে—যা মারাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ ১৪১৬০ স্বাক্ষর করেন, যার নাম 'আমেরিকান নাগরিকত্বের অর্থ ও মূল্য রক্ষা করা'। এই আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি কর্মভিসা, শিক্ষাভিসাধারী, ডিএসিএ সুবিধাভোগী এবং মানবিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, শুধুমাত্র নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের সন্তানরাই 'যুক্তরাষ্ট্রের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন'; অবৈধ বা অস্থায়ী অভিবাসীদের সন্তানরা নয়। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে সংবিধানের সংশোধনী পরিবর্তন করতে পারেন না।   এই পরিস্থিতির তুলনা করা হচ্ছে চতুর্দশ সংশোধনী পাস হওয়ার আগের সময়ের সঙ্গে। ১৮৫৭ সালের 'ড্রেড স্কট বনাম স্যান্ডফোর্ড' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছিল যে কৃষ্ণাঙ্গরা নাগরিক নয়। পরবর্তীতে ১৮৬৬ সালের সিনেট বিতর্ক এবং ১৮৯৮ সালের 'ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আর্ক' মামলার রায়ে নিশ্চিত করা হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সকল মানুষই নাগরিক। ট্রাম্পের বর্তমান প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে এক ধরনের শ্রেণিভেদ তৈরি হতে পারে, যেখানে নাগরিকত্ব জন্মস্থানের বদলে বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।   ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে 'আপনার কাগজপত্র দেখান' ধরনের পরিস্থিতি এবং জাতিগত প্রোফাইলিং বাড়ার অভিযোগ উঠেছে। মিনেসোটা ও ফ্লোরিডায় বৈধ মার্কিন নাগরিকদের ভুলবশত আটক করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ১ এপ্রিল সেসিলিয়া ওয়াং সুপ্রিম কোর্টে এই মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করবেন। তিনি এবং তার সংগঠন সংবিধান রক্ষার পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার ভোগ করতে পারে যা যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্গঠন যুগের একটি মৌলিক প্রতিশ্রুতি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার দিলে দ্রুত মিলবে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকারের তারিখ

শাহারিয়া নয়ন জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0