- প্রচ্ছদ
- Topic
অভিবাসন নীতি
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৬ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ৫৭ হাজার ৬৯৭টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করেছে। আগের বছরের একই সময়ে অনুমোদনের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অনুমোদন কমেছে প্রায় ৭৬ শতাংশ। একই সময়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টিতে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই পতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নতুন নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ন্যাশনাল পার্টনারশিপ ফর নিউ আমেরিকানস (এনপিএনএ)। সংগঠনটির আশঙ্কা, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা নতুন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার সুযোগ সীমিত করতে পারে। তবে অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়া বা আবেদনজট বাড়ার পরিসংখ্যান থেকে প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটাধিকার সীমিত করছে, এমন অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এনপিএনএর নির্বাহী পরিচালক নিকোল মেলাকু নিউজউইককে বলেন, আবেদনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা এবং সেগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য আবেদনকারীদের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে তাঁদের নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংগঠনটি এ পরিস্থিতির কারণ এবং আবেদন নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইউএসসিআইএসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২০টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। ওই সময় অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪। ২০২৫ সালের একই সময়ে অনুমোদন বেড়ে ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬টিতে পৌঁছায় এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ২৯ হাজার ১৮। কিন্তু ২০২৬ সালের একই সময়ে অনুমোদন ব্যাপকভাবে কমে যায়, অন্যদিকে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেড়ে আগের দুই বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়। আঞ্চলিক পর্যায়েও অনুমোদন কমার বড় ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে কার্যালয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৯ হাজারের বেশি আবেদন অনুমোদিত হলেও ২০২৬ সালের একই সময়ে অনুমোদন নেমে আসে কয়েক শতে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে সান হোসেতে ৯ হাজার ৪১টি থেকে কমে ৩১৭টি অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে, যা প্রায় ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ পতন। ওয়াশিংটনের সিয়াটলেও এক বছরে অনুমোদন কমেছে ৯০ শতাংশের বেশি। টেক্সাসের হিউস্টনেও অনুমোদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো অভিবাসী জনসংখ্যা বেশি এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতেও এই পতন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ভোটারদের ৫৫ শতাংশ এই চার অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। ফলে নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এসব এলাকায় নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা। তবে নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্বের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। সাবেক স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও গ্লোবালআই ডট এআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম ক্লেইন নিউজউইককে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব প্রদান ধীর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তাঁরা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোট দিতে হলে নাগরিক হওয়া আবশ্যক। অভিযোগের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে নাগরিকত্বের আবেদন যথাযথ যাচাই ছাড়াই অনুমোদন দেওয়ার যে নীতি ছিল, তা থেকে সরে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিভাগের এক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের নাগরিকত্ব পরীক্ষার পদ্ধতি পুনর্বহাল, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই জোরদার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য পর্যালোচনা এবং আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের বিষয়গুলো রয়েছে। স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের বক্তব্য, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেই আবেদন অনুমোদন দেওয়া হবে। অন্যদিকে, অভিবাসী অধিকারকর্মী ও সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্য, যাচাই-বাছাই জোরদার করার পাশাপাশি যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করাও জরুরি। নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে প্রশাসনিক নীতি, যাচাই প্রক্রিয়া ও আবেদন নিষ্পত্তির সক্ষমতার কী ভূমিকা রয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থার পরিসংখ্যান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার অভিবাসীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বছরে ১০ লাখ মানুষকে বহিষ্কারের যে লক্ষ্য তাঁর প্রশাসন ঘোষণা করেছিল, তা পূরণ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসননীতি নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের (এমপিআই) নতুন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত সরকারি তথ্য ও বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনুমানিক ৬ লাখ ২০ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৬ অর্থবছরে এ সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই হিসাব বাস্তবায়িত হলে তা সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়কার বার্ষিক গড়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি হবে। তবে বহিষ্কারের সংখ্যা বাড়লেও ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এমপিআইয়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃতদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত এলাকায় আটক বা শনাক্ত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার জনকে সীমান্তে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়। আরও প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার জনকে প্রথমে সীমান্তে আটক করার পর অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার (আইসিই) মাধ্যমে বহিষ্কার করা হয়। বাকি প্রায় ৩ লাখ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে আটক করে বহিষ্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ সীমান্তের পাশাপাশি দেশের ভেতরেও অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে আটক ব্যক্তিদের বহিষ্কারের হারও সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। এমপিআইয়ের হিসাবে, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট বহিষ্কারের ২৮ শতাংশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তর থেকে আটক করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে এই হার বেড়ে ৩৪ শতাংশে দাঁড়ায়। জুলাই মাসে তা আরও বেড়ে ৩৯ শতাংশ হয়। একই সময়ে দেশের ভেতর থেকে আটক ব্যক্তিদের বহিষ্কারের মাসিক গড় প্রথম তিন মাসের প্রায় ৮ হাজার থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের মে থেকে জুলাইয়ে প্রায় ১৯ হাজারে পৌঁছায়। প্রতিবেদনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বহিষ্কৃতদের বড় অংশের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড ছিল না। এমপিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, ১৮ মাসে মোট বহিষ্কারের প্রায় ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার রেকর্ড ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত দুই বছর বসবাসের পর যাঁরা বহিষ্কৃত হয়েছেন, তাঁদের ৭১ শতাংশের কোনো ফৌজদারি দণ্ডের রেকর্ড ছিল না। আর অন্তত ১০ বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করা বহিষ্কৃতদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬১ শতাংশ। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা অনেক অভিবাসীও এই অভিযানের আওতায় পড়েছেন। এমপিআইয়ের বিশ্লেষণটি তৈরি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অভিবাসনবিষয়ক গবেষক মার্ক রোজেনব্লাম। এ জন্য তিনি প্রকাশ্য সরকারি তথ্য, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া নথি এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের তথ্য ব্যবহার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর থেকে অভিবাসনবিষয়ক বিস্তারিত মাসিক পরিসংখ্যান প্রকাশ সীমিত করায় বহিষ্কারের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে গবেষকদের বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে হিসাব করতে হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ৩০ লাখের বেশি অনথিভুক্ত অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। প্রশাসনের হিসাবে, তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ২২ লাখ স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে নিউজউইককে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ মানুষকে বহিষ্কার এবং আরও ১১ লাখের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সরকারের এই হিসাবের সময়সীমা এমপিআইয়ের বিশ্লেষণের চেয়ে দীর্ঘ। স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের দাবির পূর্ণাঙ্গ তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে বিপুল অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে। অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, অভিবাসন আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জটিলতা বড় বাধা হয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের উৎসদেশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কিছু দেশের সঙ্গে প্রত্যাবাসন নিয়ে সমন্বয় করাও কঠিন হচ্ছে। পাশাপাশি আটক ও বহিষ্কারসংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা চলছে। এমপিআইয়ের যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসননীতি কর্মসূচির পরিচালক ডরিস মাইসনার বলেন, অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার বাড়াতে যখন নজিরবিহীন অর্থ ও নীতিগত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তখন অভিবাসন কার্যক্রমের প্রকৃত প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রে এই বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ২০০০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৮ লাখ ৬০ হাজার বহিষ্কারের যে রেকর্ড ছিল, বর্তমান সংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম। সূত্র: মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ, নিউজউইক।
কয়েক বছর ধরে অভিবাসী ও অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর পর কানাডা ভবিষ্যতে আবার জনসংখ্যা ‘নিয়ন্ত্রিতভাবে’ বাড়াতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক সাক্ষাৎকারে এ সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে অভিবাসী গ্রহণের নতুন সংখ্যা বা পরিবর্তনের সময় তিনি ঘোষণা করেননি। গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সাক্ষাৎকারে কার্নি বলেন, আগের তুলনায় অভিবাসনব্যবস্থা এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার পর আবাসন এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, কখন থেকে আবার নিয়ন্ত্রিত হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি শুরু করা যায়। কানাডা সরকার চলতি শরতে ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের নতুন অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে কার্যকর পরিকল্পনায় প্রতিবছর ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে। নতুন অস্থায়ী বাসিন্দা, অর্থাৎ মূলত শিক্ষার্থী ও কর্মীদের আগমনের লক্ষ্য ২০২৬ সালে ৩ লাখ ৮৫ হাজার এবং ২০২৭ ও ২০২৮ সালে প্রতিবছর ৩ লাখ ৭০ হাজার। নতুন পরিকল্পনা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়েছে বলা যাবে না। অভিবাসন নিয়ে নতুন আলোচনার পেছনে রয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া। স্ট্যাটিসটিকস কানাডার হিসাবে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই দেশটির জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ১৮ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা ছিল প্রায় ২৭ লাখ ৮০ হাজার, মোট জনসংখ্যার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। সরকার ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই হার ৫ শতাংশের নিচে নামাতে চায়। তবে সংখ্যা আবার বাড়ানো উচিত কি না, তা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সি ডি হাও ইনস্টিটিউটের অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা কাউন্সিল ২০২৭ সালের পর স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য ধাপে ধাপে কমানোর সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক মিকাল স্কুটেরুড নিউজউইককে বলেছেন, সরকার সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তার বাস্তব প্রভাব ২০২৯ সালের আগে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি তাঁর মূল্যায়ন, সরকারের ঘোষিত সময়সূচি নয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য আপাতত মূল বিষয় হলো, কার্নির বক্তব্যে নতুন ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ ঘোষণা করা হয়নি। কোন শ্রেণিতে কতজনকে নেওয়া হবে, তা জানতে নতুন সরকারি পরিকল্পনার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যবিমার খরচ কমাতে দেওয়া করছাড়ের নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ওবামাকেয়ার নামে পরিচিত স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় করছাড় পাওয়ার যোগ্যতা যাচাইয়ে বাড়তি শর্ত যুক্ত হবে। বিশেষ করে নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের মর্যাদা, পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা এবং অন্য কোনো সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা খতিয়ে দেখা হবে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অভিবাসীদের একটি অংশসহ বর্তমানে করছাড় পাওয়া কিছু পরিবারের সুবিধা কমতে পারে বা তারা এই সুবিধার অযোগ্য হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) ১৪ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রকাশ করে। এর লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম পরিশোধে দেওয়া করছাড় কেবল আইন অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম ঠেকানো। ‘প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট’ নামে পরিচিত এই সুবিধা সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন, যা সাধারণভাবে ‘ওবামাকেয়ার’ নামে পরিচিত, তার আওতায় স্বাস্থ্যবিমা কেনা যোগ্য ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা করে। করছাড়ের অর্থ সরাসরি বিমার মাসিক খরচ কমাতে ব্যবহার করা যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ ট্যাক্স কাটস’ নামে পরিচিত কর ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্যাকেজের অংশ হিসেবে এসব পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। প্রস্তাবিত নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, দেশটির জাতীয় মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং আইন অনুযায়ী যোগ্য কিছু অ-নাগরিক করছাড় পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আগে নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১০০ শতাংশের নিচে থাকলেও, অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে মেডিকেইড সুবিধা না পেলে তারা প্রিমিয়াম করছাড়ের যোগ্য হতে পারতেন। নতুন প্রস্তাবে এই বিশেষ সুযোগ তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে কম আয়ের এমন কিছু পরিবার স্বাস্থ্যবিমার জন্য আগের মতো আর্থিক সহায়তা নাও পেতে পারে। তবে পরিবর্তনটি প্রস্তাবিত বিধিমালার অংশ, তাই চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ ও কার্যকর হওয়ার আগে এর বিস্তারিত শর্ত বিবেচনায় নিতে হবে। একই পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান না করলে কিংবা করছাড় পাওয়ার জন্য নির্ধারিত অভিবাসনগত যোগ্যতা পূরণ না করলে, তাঁর জন্য বরাদ্দ প্রিমিয়ামের অংশটি পরিবারের করছাড়ের হিসাব থেকে বাদ দিতে হবে। অর্থাৎ পরিবারের অন্য সদস্যরা যোগ্য হলেও, অযোগ্য সদস্যের বিমা খরচের অংশের জন্য করছাড় দাবি করা যাবে না। এতে একই বিমা পরিকল্পনার আওতায় থাকা পরিবারের করছাড়ের পরিমাণ বদলে যেতে পারে। নিয়মটির লক্ষ্য হলো, সরকারি অর্থে দেওয়া ভর্তুকি যেন কেবল আইনগতভাবে যোগ্য ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিমার খরচে ব্যবহৃত হয়। ২০২৭ সাল থেকে স্বাস্থ্যবিমার বাজারে নিবন্ধনের সময় যোগ্যতা যাচাই আরও জোরদার করার প্রস্তাবও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাজার কর্তৃপক্ষকে আবেদনকারীর বসবাসের তথ্য, স্বাস্থ্যবিমায় নাম লেখানোর যোগ্যতা, নাগরিকত্ব বা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানের প্রমাণ, পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারী মেডিকেইড বা অন্য কোনো যোগ্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় পড়েন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। প্রশাসনের মতে, এ ধরনের যাচাইয়ের মাধ্যমে ভুল তথ্য, অননুমোদিত নিবন্ধন এবং অযোগ্য ব্যক্তির নামে ভর্তুকি দেওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। করছাড়ের অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু নিম্ন আয়ের করদাতার ক্ষেত্রে আগাম করছাড় হিসেবে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার পরিমাণে সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। নতুন নিয়মে সেই সীমা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে কোনো ব্যক্তি বা পরিবার বছরের শুরুতে যতটা করছাড় পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিল, আয় বা অন্যান্য পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বছরের শেষে প্রকৃত যোগ্যতা কম হলে অতিরিক্ত পাওয়া অর্থের পুরোটা ফেরত দিতে হতে পারে। এতে করদাতাদের জন্য বছরের শেষে কর হিসাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। করছাড়ের যোগ্যতা নিয়ে কঠোর অবস্থানের পক্ষে প্রশাসনের কর্মকর্তারা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি তুলে ধরেছেন। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ফেডারেল আইনে যারা যোগ্য নন, তাদের স্বাস্থ্যসেবার খরচে করদাতাদের অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। আইআরএসের প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক জে. বিসিগনানো বলেছেন, প্রস্তাবিত যাচাইব্যবস্থা অনুপযুক্ত দাবি কমাতে এবং যোগ্য করদাতাদের সুবিধা সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে। মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্রের প্রশাসক মেহমেত ওজও সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে অনিয়ম, অপচয় ও জালিয়াতি ঠেকানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তবে এসব বক্তব্য প্রশাসনের অবস্থান; প্রস্তাবের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত বিধিমালা ও তার প্রয়োগের ওপর। স্বাস্থ্যবিমায় অনিয়মিত নিবন্ধন শনাক্ত করার জন্য প্রশাসন ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার নিবন্ধন বাতিল করা হয়, যার আওতায় ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের নাম ছিল। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এসব বাতিলের ফলে আগাম প্রিমিয়াম করছাড়ের প্রায় ২২০ কোটি ডলার ফেরত আসতে পারে। তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভাষ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া তালিকায় এমন ব্যক্তিও ছিলেন, যাদের অস্তিত্ব বা নিবন্ধন যাচাই করা যায়নি, আবার এমন ব্যক্তিও ছিলেন যারা বাস্তব হলেও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের আওতায় পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা বাজারের পরিকল্পনায় নিবন্ধিত। বিভাগটি ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এই কর্মসূচিতে নজিরবিহীন হারে নিবন্ধন বৃদ্ধির কথাও জানিয়েছে। তাদের দাবি, নতুন নিবন্ধনের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে অনিয়ম, অস্তিত্বহীন ব্যক্তি বা জালিয়াতির আশঙ্কা ছিল। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রশাসন যাচাইব্যবস্থা কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। তবে সন্দেহজনক নিবন্ধনের সংখ্যা এবং নিশ্চিত জালিয়াতির সংখ্যা এক নয়, তাই এ ধরনের তথ্যের ব্যাখ্যায় সতর্কতা জরুরি। প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যক্তি, স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইআরএসের কাছে লিখিত মতামত জমা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে একটি জনশুনানি টেলিফোনের মাধ্যমে ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মতামত পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত নিয়ম নির্ধারণ করবে। ফলে স্বাস্থ্যবিমার করছাড়ে ঠিক কী কী পরিবর্তন আসবে, তা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস), মেডিকেইড ও মেডিকেয়ার পরিষেবা কেন্দ্র (সিএমএস) এবং নিউজউইক।
যুক্তরাষ্ট্রে আয়কর দাখিলের সময় করদাতাদের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমোদনের অবস্থা জানানো বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ২০২৬ সালের আয়কর ফরমের খসড়ায় এ-সংক্রান্ত নতুন প্রশ্ন যুক্ত করেছে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা বা আইআরএস। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে কর দাখিলকারী প্রায় সব কর্মীকেই জানাতে হবে, তারা মার্কিন নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি, নাকি যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতি পাওয়া বিদেশি। আইআরএসের ২০২৬ সালের খসড়া ১০৪০ ফরমে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়েছে, করদাতা এবং যৌথভাবে কর দাখিল করলে তার স্বামী বা স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, মার্কিন নাগরিকত্বধারী ব্যক্তি বা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে কাজের অনুমতিপ্রাপ্ত বিদেশি কি না। ফরমে করদাতা ও তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আলাদা করে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আইআরএসের খসড়া ফরমে বলা হয়েছে, এই তথ্য দেওয়ার বিষয়টি ফরম পূরণের অংশ হিসেবেই থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, নতুন তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এমন অভিবাসীদের ফেরতযোগ্য কর-সুবিধা নেওয়া ঠেকানো যাবে, যারা ফেডারেল আইনের অধীনে এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। ট্রেজারি বিভাগ ও আইআরএস আগস্টে প্রস্তাবিত বিধি প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল আইনের আওতায় ফেরতযোগ্য কর-ক্রেডিটের অর্থকে ফেডারেল সরকারি সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি নাগরিকদের সেসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা সীমিত করা হবে। প্রশাসনের হিসাবে, এতে করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় হতে পারে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মূলত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মী ও পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কর-সুবিধার বিষয় জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে অর্জিত আয় কর-সুবিধা বা ইআইটিসি এবং অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধা। ট্রেজারি ও আইআরএসের প্রস্তাবে শিশু কর-সুবিধা, অর্জিত আয় কর-সুবিধা, দত্তক গ্রহণসংক্রান্ত কর-সুবিধা এবং আমেরিকান অপরচুনিটি কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশের ওপর নতুন যোগ্যতার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কর ও অভিবাসন নীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেন্টার ফর ট্যাক্সপেয়ার রাইটসের নির্বাহী পরিচালক নিনা ওলসনের মতে, আয়কর রিটার্ন প্রক্রিয়া করার জন্য করদাতার নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থা জানা আইআরএসের প্রয়োজন নেই। তার যুক্তি, কর-সুবিধার যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য আইআরএসের কাছে আগে থেকেই সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং ব্যক্তিগত কর শনাক্তকরণ নম্বরের তথ্য রয়েছে। আইআরএসের বর্তমান ব্যবস্থায় অর্জিত আয় কর-সুবিধা দাবি করা ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্যের সঙ্গে যাচাই করা হয়। ফলে নতুন করে নাগরিকত্ব বা কাজের অনুমতির তথ্য চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অভিবাসীদের ব্যক্তিগত তথ্য কর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর তা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কাজে ব্যবহৃত হতে পারে কি না, সে বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তা-সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব শুধু অননুমোদিতভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নতুন কর-সুবিধা সংক্রান্ত বিধির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বোস্টন ইউনিভার্সিটি, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি এবং ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসির গবেষকদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার মানুষ এমন পরিবারে রয়েছেন যারা অর্জিত আয় কর-সুবিধার ফেরতযোগ্য অংশ হারাতে পারেন। এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার শিশু। অতিরিক্ত শিশু কর-সুবিধার ক্ষেত্রে প্রায় ১১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ এবং ৫ লাখ ৭৪ হাজার শিশু প্রভাবিত হতে পারেন। গবেষণাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সম্ভাব্যভাবে সুবিধা হারাতে যাওয়া শিশুদের বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। গবেষকদের হিসাবে, এ ধরনের সুবিধা হারাতে পারে এমন শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই মার্কিন নাগরিক। কারণ তাদের বাবা বা মায়ের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন-অবস্থার কারণে পরিবারটি নতুন যোগ্যতার শর্তের আওতায় পড়তে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এবং কাজের অনুমতি থাকা কিছু অভিবাসীও প্রভাবিত হতে পারেন। গবেষকদের বিশ্লেষণে ডাকা বা ডাকা-সুরক্ষিত অভিবাসী, সাময়িক সুরক্ষিত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট সাময়িক ভিসায় কাজ করা কিছু মানুষকে সম্ভাব্য প্রভাবিত গোষ্ঠীর মধ্যে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন বিধির প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিতভাবে বসবাসরত ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজে আইআরএসের কর-তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েও বিতর্কের মুখে পড়েছিল। ২০২৫ সালে ট্রেজারি বিভাগ ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মধ্যে একটি তথ্য বিনিময় চুক্তি হয়েছিল, যার আওতায় আইআরএসের কাছে থাকা নির্দিষ্ট তথ্য অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা বা আইসের সঙ্গে ভাগ করার বিষয়টি সামনে আসে। পরে ফেডারেল আদালতে এই তথ্য ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে মামলা হয়। একটি ফেডারেল বিচারক পরবর্তী সময়ে আইআরএসের গোপন কর-তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ফেডারেল গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, আইসের পাঠানো প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার নামের মধ্যে আইআরএস প্রায় ৪৭ হাজার ব্যক্তির ঠিকানা যাচাই করে তা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে দিয়েছিল। এ ঘটনাকে ঘিরে করদাতার তথ্যের গোপনীয়তা এবং অভিবাসন আইন প্রয়োগে কর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। নতুন ১০৪০ ফরমের নাগরিকত্ব ও কাজের অনুমতির প্রশ্নটি বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। একইভাবে ফেরতযোগ্য কর-সুবিধার যোগ্যতা পরিবর্তনের বিধিটিও এখনো প্রস্তাবিত। ট্রেজারি ও আইআরএস এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত ও শুনানির সুযোগ রেখেছে। তাই প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর ভাষা বা প্রয়োগের নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, যুক্তরাষ্ট্রের আইআরএস ও ট্রেজারি বিভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদিত প্রায় ৮১০ মিলিয়ন ডলারের অব্যবহৃত সরকারি তহবিল বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার দেওয়া এই নির্দেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, অভিবাসন, জাতিগত সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতের ১১টি তহবিল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাতটি ফেডারেল বিভাগ ও সংস্থার এসব তহবিলের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ, ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিবাসীদের সামাজিক সেবা দেওয়ার জন্য। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করার কথা ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিত প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এই অর্থের আর প্রয়োজন নেই। ট্রাম্পের পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত অর্থ বাতিলের আওতায় রয়েছে বাণিজ্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মসূচির কিছু তহবিলও বাতিল করা হচ্ছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম কাটছাঁটের পরিমাণ ৭০ মিলিয়ন ডলার। এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের জন্য ফেলোশিপ ও অনুদান কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকেরা যেখানে এসব কর্মসূচির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসনও কয়েকটি প্রকল্পকে নীতিগতভাবে আপত্তিকর হিসেবে দেখেছে। আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের একটি কর্মসূচি থেকে আরও ৫৬ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে। এই অর্থ বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে আবাসন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এর একটি অংশ এমন সংগঠনের কার্যক্রমে যাচ্ছিল, যেগুলো জাতিগত ও বৈচিত্র্যভিত্তিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের আরও ২৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান বাতিল করা হচ্ছে। প্রশাসনের ভাষায়, এসব অনুদানের কিছু ছিল অপচয়মূলক, একই ধরনের কর্মসূচির পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে আপত্তিকর ছিল। তবে ঠিক কোন কোন প্রকল্পের অর্থ এই কাটছাঁটের আওতায় পড়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। শিক্ষা বিভাগের অভিবাসী শিক্ষার্থী উদ্যোগ থেকেও ২৫ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির আওতায় এমন কিছু সংগঠন অর্থ পেয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা না করতে উৎসাহিত করার অভিযোগ ছিল। বিচার বিভাগের কমিউনিটি রিলেশনস সার্ভিসেস কর্মসূচি থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিচিতি, স্বাস্থ্যসেবা ও আইনি পরামর্শসংক্রান্ত একটি কর্মসূচি থেকেও ১৫ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হচ্ছে। এ ছাড়া সংখ্যালঘু মালিকানাধীন ব্যবসায়ীদের জন্য অনুদান দেওয়া সংখ্যালঘু ব্যবসা উন্নয়ন সংস্থা থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার, অভিবাসীদের আইনি সহায়তা দেওয়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটির আরেকটি কর্মসূচি থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার এবং স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সংখ্যালঘু স্বাস্থ্য কার্যালয় থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার বাদ দেওয়া হচ্ছে। ট্রেজারি বিভাগের ট্রপিক্যাল ফরেস্ট অ্যান্ড কোরাল রিফ কনজারভেশন অ্যাক্ট কর্মসূচি থেকেও ৯ মিলিয়ন ডলার বাতিল করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কর্মকাণ্ডের বিনিময়ে বিভিন্ন দেশের ঋণ কমানোর ব্যবস্থা ছিল। এই অর্থ বাতিলের প্রক্রিয়াকে ‘পকেট রেসিশন’ বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বাজেট ব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ বাতিলের জন্য বিশেষ বার্তা পাঠাতে পারেন এবং সাধারণ নিয়মে কংগ্রেসের তা বিবেচনার জন্য ৪৫ দিন সময় থাকে। কিন্তু অর্থবছর শেষ হওয়ার ঠিক আগে এমন প্রস্তাব পাঠানো হলে কংগ্রেসের পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং অর্থ অব্যবহৃত অবস্থায় মেয়াদ শেষ করতে পারে। সরকারি অর্থব্যবস্থার এই পদ্ধতির আইনগত বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সরকারি জবাবদিহি দপ্তর বা জিএও ২০২৫ সালে বলেছিল, এ ধরনের ‘পকেট রেসিশন’ আইনসঙ্গত নয়। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক সহায়তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই পদক্ষেপকে ঘিরে আদালতে আইনি লড়াই শুরু হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ ভোটের আদেশে প্রশাসনকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ওই অর্থ আটকে রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে সেই আদেশটি মূলত নিম্ন আদালতের নির্দেশ স্থগিত রাখার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং ‘পকেট রেসিশন’ ব্যবস্থার আইনি প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ করেনি। এবারের উদ্যোগটি এসেছে ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছর শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে। ফলে কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থের ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রেসিডেন্টের ব্যয় কমানোর ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অব্যবহৃত বা প্রশাসনের বর্তমান নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন অর্থ বাতিল করে সরকারি ব্যয় কমানোই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। অন্যদিকে, ‘পকেট রেসিশন’ নিয়ে সমালোচকেরা বলছেন, কংগ্রেস যে অর্থ আইন করে বরাদ্দ করেছে, প্রেসিডেন্টের একতরফাভাবে তা বাতিলের ক্ষমতা থাকা উচিত কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবদিহি দপ্তর (GAO), যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন ঘোষণায় এই বিধিনিষেধ ২০২৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। হোয়াইট হাউস ১৮ সেপ্টেম্বর এ তথ্য জানিয়েছে। এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান ও অন্তত স্নাতক পর্যায়ের যোগ্যতা প্রয়োজন এমন কাজে বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে নিয়োগ দিতে পারে। প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে এই ভিসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন কিছু এইচ-১বি কর্মীর ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত চালু করে। এর আগে এই ভিসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রচলিত ফি ছিল প্রায় ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। প্রশাসনের ভাষ্য, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য ছিল এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখা। নতুন ঘোষণার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের নিয়োগকর্তার পক্ষ থেকে ১ লাখ ডলার পরিশোধের প্রমাণ থাকতে হবে। অর্থ পরিশোধ না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সীমিত করার ব্যবস্থা নিতে পারে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে জাতীয় স্বার্থে কোনো কর্মীকে নিয়োগ প্রয়োজন এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা কল্যাণের জন্য হুমকি নেই বলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব মনে করলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে ১ লাখ ডলারের এই অর্থ পরিশোধের বিধান নিয়ে আইনি লড়াই এখনো চলছে। চলতি বছরের ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ফি অবৈধ ঘোষণা করে তা বাতিলের নির্দেশ দেন। বিচারক লিও সোরোকিন বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া নির্বাহী শাখা এই ধরনের অর্থকে কর হিসেবে আরোপ করার ক্ষমতা রাখে না। সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলস মামলাটি পর্যালোচনা করছে। ২৪ জুলাই আপিল আদালত ফি কার্যকরের ওপর সরকারের স্থগিতাদেশ চাওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে ১ লাখ ডলারের ফি নিয়ে আইনি অবস্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর পাশাপাশি এইচ-১বি ভিসা আবেদনের যাচাই আরও কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা নির্বাহী আদেশে পররাষ্ট্র, শ্রম ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরকে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে আরও বিস্তারিত যাচাই করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান মার্কিন কর্মীদের ছাঁটাই করে একই ধরনের পদে এইচ-১বি কর্মী নিয়োগ করছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মসূচি পরিচালনায় মজুরি, শিল্প পরিস্থিতি এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হবে। প্রশাসনের দাবি, কিছু নিয়োগকর্তা ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান কম মজুরির বিদেশি কর্মী দিয়ে মার্কিন কর্মীদের জায়গা পূরণ করছে। তবে এইচ-১বি কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তি দিয়ে আসছে, বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত চালুর পর বড় তথ্যপ্রযুক্তি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন ৯২ শতাংশ কমেছে। হোয়াইট হাউস বলছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন ২৪ হাজার ৯৪৬টি থেকে কমে ২ হাজার ৫৫টিতে নেমেছে। তবে এই পরিসংখ্যান ও নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণ করা হয়। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। ফলে নতুন ঘোষণার মাধ্যমে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের শর্ত ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলেও এর চূড়ান্ত আইনি বৈধতা এখনো আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সূত্র: হোয়াইট হাউস, রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার এক নারীকে হত্যার ঘটনায় রাজ্যটির অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৩৮ বছর বয়সী শালিনী ঠাকুরকে গত ৮ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর একটি শপিং সেন্টারের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ থাকা ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিত পরে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের সময় নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। মামলাটিতে শালিনীর পরিবারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, রোহিতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ, হয়রানি, তাঁর গাড়িতে হস্তক্ষেপ এবং হুমকির অভিযোগ করেছিলেন শালিনী। মে মাসে তিনি রোহিতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশও নিয়েছিলেন। জুলাইয়ে সেই আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি আবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর হাও অ্যাভিনিউ ও নর্থরপ অ্যাভিনিউ এলাকার একটি শপিং সেন্টারে গুলির ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, শালিনী কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর রোহিত তাঁর কাছে এগিয়ে যান। তিনি পালানোর চেষ্টা করলে রোহিত তাঁকে অনুসরণ করে গুলি করেন। পরে রোহিত গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পুলিশ দ্রুত তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এবং হাইওয়ে ৫০ এলাকায় তাঁর গাড়ি থামায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের পর তিনি নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি করোনার অফিস বৃহস্পতিবার নিহত নারীর পরিচয় শালিনী ঠাকুর হিসেবে নিশ্চিত করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শালিনী ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান এবং তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। এদিকে শুক্রবার মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, রোহিত ভারতের নাগরিক এবং ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। সীমান্তে তাঁকে আটক করেছিল মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। এই তথ্য প্রকাশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার তথাকথিত ‘অভয়ারণ্য আইন’ বা স্যাংচুয়ারি নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা যুক্তি দিচ্ছেন, রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা সীমিত থাকায় অভিবাসন আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার আইন সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব আইন স্থানীয় পুলিশকে অপরাধ তদন্ত বা অপরাধের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা থেকে বিরত রাখে না। ২০১৭ সালে কার্যকর হওয়া সিনেট বিল ৫৪, যা ‘ক্যালিফোর্নিয়া ভ্যালুজ অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, মূলত রাজ্য ও স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহায়তার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। আইনটিতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব বিধান স্থানীয় পুলিশকে অপরাধ তদন্ত, আটক বা গ্রেপ্তার থেকে বিরত রাখে না। তবে অভিবাসন আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত, আটক বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা সীমিত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগও রয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের সমালোচনার একটি বড় অংশ স্থানীয় কারাগার থেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যক্তিকে হস্তান্তর এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার নিয়মকে ঘিরে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, সাধারণভাবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুধু ফেডারেল অভিবাসন অনুরোধের ভিত্তিতে কাউকে অতিরিক্ত সময় আটক রাখা বা হস্তান্তর করা সীমিত। তবে বৈধ বিচারিক পরোয়ানা বা আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত থাকলে ভিন্ন ব্যবস্থা হতে পারে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এই সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় ‘অপারেশন গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৭৬৯টি ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং ৩৬২ জনকে স্থানীয় কারাগার থেকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৪৭ জনের বিরুদ্ধে অপসারণের পর অবৈধভাবে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বা অন্য কোনো ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এই কর্মসূচি বর্তমানে মূলত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সাতটি কাউন্টিতে কার্যকর। ফলে স্যাক্রামেন্টোসহ উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ষেত্রে এর সরাসরি প্রভাব নেই। এই সীমাবদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শালিনী ঠাকুরের ঘটনাটি স্যাক্রামেন্টো কাউন্টিতে ঘটেছে। শালিনী হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে এখনো এমন কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাংচুয়ারি আইন সরাসরি তাঁর হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়েছে। বরং নিশ্চিতভাবে যা জানা যাচ্ছে তা হলো, তিনি রোহিতের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ নিয়েছিলেন এবং জুলাইয়ে সেই আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগও জানিয়েছিলেন। পরে সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখে তিনি গুলিতে নিহত হন। ঘটনাটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব এবং জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে পুরোনো বিতর্ককে সামনে এনেছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও বেশি সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার বলছে, স্থানীয় পুলিশকে মূলত স্থানীয় অপরাধ মোকাবিলায় মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগ ফেডারেল সরকারের দায়িত্ব। শালিনী ঠাকুর হত্যার তদন্ত এবং তাঁর আগে করা অভিযোগগুলো নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসন নীতির কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: কেসিএএআর
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের পাসপোর্ট আবেদনের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত নতুন নির্দেশনায়, সন্তানের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকদের নিজেদের মার্কিন নাগরিকত্ব কিংবা অভিবাসন status-এর প্রমাণ দিতে হতে পারে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়া নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে শিশুদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। তবে বাবা-মা মার্কিন নাগরিক কি না, তা জানাতে আবেদনপত্রে ঘর পূরণ করলেও সাধারণত আলাদা করে নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দিতে হয় না। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বাবা-মাকে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মসনদ দিতে হতে পারে। আর মার্কিন নাগরিক না হলে বৈধ অভিবাসন status-এর প্রমাণ হিসেবে স্থায়ী বসবাসের কার্ড, যেটি গ্রিন কার্ড নামে পরিচিত, কিংবা আই-৯৪-এর মতো নথি জমা দিতে হতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে সরকার নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট শিশু নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য কি না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়ায় বলা হয়েছে, সন্তানের পাসপোর্ট আবেদনের সময় বাবা-মায়ের তথ্য এবং তাদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন status-এর প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হবে, সংশ্লিষ্ট শিশু প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের আওতায় পড়ছে কি না, তা নির্ধারণ করা। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে আরও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বসংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ নিয়েও আদালতে মামলা চলছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর আগে ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করা। সেই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ব্যাপক আইনি চ্যালেঞ্জ হয়। ২০২৬ সালের জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের প্রচেষ্টাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মনে করেন, ওই আদেশ সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ববিষয়ক ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এরপর ৬ আগস্ট ট্রাম্প আরও সীমিত পরিসরে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে বিশেষভাবে তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ‘জন্ম পর্যটন’ বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো নারী যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ করেন এবং সন্তানের জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ট্রাম্পের নতুন আদেশে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমন ক্ষেত্রে, যখন শিশুর বাবা-মায়ের একজন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রতারণা বা বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকে, অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘শত্রু বিদেশি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই নতুন নির্দেশনা নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে। শিশুদের হয়ে মামলা করা আইনজীবীরা দুটি পৃথক ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন, যাতে ট্রাম্পের নতুন আদেশ কার্যকর হওয়া ঠেকানো যায়। এর মধ্যে একটি মামলা মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে মার্কিন জেলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যানের আদালতে রয়েছে। গত ২৮ আগস্ট তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আদেশটি স্থগিত করেননি। তবে এর আইনি ভিত্তি নিয়ে তিনি গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এবং বাদীপক্ষকে তাদের মামলার আবেদন সংশোধনের অনুমতি দিয়েছেন, যাতে নতুন আদেশটি আটকে দেওয়া যায় কি না তা আদালত বিবেচনা করতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, নতুন নির্দেশনার বিরুদ্ধে এখনই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উপযুক্ত হবে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা তখনও প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমান মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবস্থায়ও শিশুদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর মার্কিন জন্মসনদ, আগের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট কিংবা নাগরিকত্বের অন্য গ্রহণযোগ্য নথি দিয়ে তার নাগরিকত্ব প্রমাণ করা যায়। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর পাসপোর্ট আবেদনে সাধারণত বাবা-মা বা অভিভাবকদের উপস্থিতি এবং তাদের পরিচয়পত্রও প্রয়োজন হয়। তবে নতুন প্রস্তাবের পার্থক্য হলো, সন্তানের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পাশাপাশি বাবা-মায়ের নিজেদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন status-এর নথিও চাওয়া হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের অর্থ ও মূল্য রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পাসপোর্ট যাচাই প্রক্রিয়াও সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তা শুধু পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক পরিবর্তন আনবে না, বরং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক বিতর্ককেও আরও তীব্র করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব নির্ধারণে বাবা-মায়ের status কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, সেটিই এখন আদালত ও প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় ঠিক কবে থেকে এবং কোন কোন পরিবারের ক্ষেত্রে নতুন নথি বাধ্যতামূলক হবে, তা নিশ্চিত নয়। আদালতে চলমান মামলাগুলোর সিদ্ধান্তও এই নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও কঠোর হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর বন্ধ থাকার পর নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের চরিত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ে আবারও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার নিয়ম চালু করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। সম্প্রতি সংস্থাটির প্রকাশিত এক নীতিমালায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে এই পদ্ধতিটি পুরোপুরি স্থগিত ছিল। সেই সময় ইউএসসিআইএস, যা আগে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাচারালাইজেশন সার্ভিস নামে পরিচিত ছিল, সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের জন্য মূলত এফবিআই এর অপরাধমূলক ইতিহাস এবং অন্যান্য সংস্থার রেকর্ডের ওপরই নির্ভর করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরল সংস্থাটি। গত ২৫ আগস্ট থেকে এই নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছে। এরপর ২৯ আগস্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউএসসিআইএস জানায়, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আবেদনকারীর বসবাস, উত্তম নৈতিক চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মঙ্গলের প্রতি তার মনোভাব গভীরভাবে যাচাই করা হবে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া একটি বিরল সুযোগ, যা কেবল তাদেরই পাওয়া উচিত যারা জাতির জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবেন। এই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পরিচিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেবেন। এর মধ্যে থাকতে পারেন প্রতিবেশী, বাড়ির মালিক, চাকরিদাতা, সহকর্মী এবং আশপাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। মূলত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে যেসব তথ্য সাধারণত উঠে আসে না, সেসব বিষয়ে ধারণা পেতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে সব আবেদনকারীর জন্য এই তদন্ত বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ জন্য আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র বা চরিত্র সনদ জমা দিতে হবে, যেখানে তার যোগ্যতা, চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সংবিধানের নীতিগুলোর প্রতি তার শ্রদ্ধার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই ধরনের চিঠিপত্র জমা দিলে ইউএসসিআইএস চাইলে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি মওকুফ করতে পারে, যদিও তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়। এই নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ বি এডলো। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, আমেরিকান মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যথাযথভাবে মিশে যাওয়া নিশ্চিত করা এবং নাগরিকত্বের মর্যাদা ও বিশেষ সুবিধা সুরক্ষার জন্য প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদই নয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য আরও কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ইউএসসিআইএস। গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত সিভিকস বা পৌরনীতি পরীক্ষাকে আরও দীর্ঘ ও কঠিন করা হয়েছে। আগে যেখানে ১০০টি প্রশ্নের একটি ব্যাংক থেকে প্রশ্ন করা হতো, তা বাড়িয়ে ১২৮টি করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তারা এখন ১০টির বদলে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করতে পারবেন। পরীক্ষায় পাসের জন্য আগে ৬টি সঠিক উত্তরের প্রয়োজন হলেও এখন তা বাড়িয়ে ১২টি করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি এবং যারা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে গ্রিন কার্ডধারী, তাদের জন্য এই নিয়মে শিথিলতা রয়েছে। তবে পাসের জন্য সব আবেদনকারীকেই আগের মতো কমপক্ষে ৬০ শতাংশ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। সংবাদসূত্র: ইউএসসিআইএস পলিসি অ্যালার্ট
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো এইচ-১বি ভিসাধারীসহ কয়েক ধরনের বিদেশি কর্মীর জন্য বড় পরিবর্তন আসতে পারে। চাকরি চলে যাওয়ার পর নতুন চাকরি খোঁজা বা অভিবাসন অবস্থান পরিবর্তনের জন্য বর্তমানে যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব এগিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত নিয়মটি ৬ আগস্ট হোয়াইট হাউসের তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কার্যালয়ের পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট প্রস্তাবটি সংশোধন সাপেক্ষে পর্যালোচনা শেষ করেছে ওই কার্যালয়। প্রস্তাবটির নিবন্ধন নম্বর আরআইএন ১৬১৫-এডি২২ এবং এর শিরোনাম ‘Eliminating the Discretionary 60-day Grace Period’। তবে এখনই এই নিয়ম কার্যকর হয়নি। এটি এখনও প্রস্তাবিত নিয়মের পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার আগে ডিএইচএসকে প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করতে হবে। এরপর সাধারণত জনগণ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনকে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সেই মতামত পর্যালোচনার পর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করতে পারবে। বর্তমান নিয়মে যোগ্য এইচ-১বি কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পান। তবে তাদের অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ যদি ৬০ দিনের আগেই শেষ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে সেই আগের তারিখই প্রযোজ্য হয়। এই সুবিধা ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। এই সময়টুকু বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি হারানোর পর তারা নতুন কোনো নিয়োগকর্তা খুঁজে নিতে পারেন, নতুন অভিবাসন শ্রেণিতে যাওয়ার আবেদন করতে পারেন অথবা প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারেন। এইচ-১বি কর্মীরা ইচ্ছামতো যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করতে পারেন না। নতুন চাকরির ক্ষেত্রেও সাধারণত নতুন নিয়োগকর্তার প্রয়োজনীয় অভিবাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া দরকার হয়। প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বৈধ অভিবাসন অবস্থান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একইভাবে, ওই কর্মীর ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের অভিবাসন অবস্থানও প্রভাবিত হতে পারে। তবে চাকরি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক কর্মীকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে, এমন নয়। অভিবাসন আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ফ্র্যাগোমেনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা কর্তৃপক্ষ বা ইউএসসিআইএস আলাদা বিবেচনামূলক ক্ষমতা ব্যবহার করে অবস্থান পরিবর্তন বা নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তাই বৈধ অবস্থান হারানোর ঝুঁকি এবং সরাসরি বহিষ্কার প্রক্রিয়া এক বিষয় নয়। প্রস্তাবটি এগিয়ে যাওয়ার খবর এমন সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি কর্মসূচিতে আরও কঠোর পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি, গবেষণা, শিক্ষা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় বিদেশি কর্মীরা কাজ করেন। এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, কিছু প্রতিষ্ঠান বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বলে আসছে, বিশেষায়িত দক্ষতার কর্মীর ঘাটতি পূরণে এইচ-১বি কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে নতুন এইচ-১বি নিয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের একটি ফি প্রস্তাবও সামনে এসেছে। এ নিয়ে আলাদা নিয়ম প্রণয়নের উদ্যোগ চলছে। ফলে এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগের খরচ ও চাকরি হারানোর পর বৈধ অবস্থান বজায় রাখার সুযোগ, দুই দিক থেকেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সরকারি নথিতে অবশ্য ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাবকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো হয়নি। ২৭ আগস্টের পর্যালোচনা শেষ হওয়া মূলত নিয়ম প্রণয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ। এখন নজর থাকবে প্রস্তাবটি কবে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত হয় এবং সেখানে ঠিক কী ধরনের ব্যতিক্রম বা সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এরপর সরকার চূড়ান্ত নিয়ম জারি করলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বর্তমান ৬০ দিনের সুবিধাই কার্যকর রয়েছে। শুধু হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা শেষ হওয়ার কারণে তাদের এখনই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হচ্ছে না এবং এই পর্যালোচনার ফলে নিয়োগকর্তাদের ওপর নতুন কোনো তাৎক্ষণিক বাধ্যবাধকতাও তৈরি হয়নি। সূত্র: নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যারা পর্যটক বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, এমন প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজ ও সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। অভ্যন্তরীণ নথিপত্র এবং দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বড় ধরনের এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বি-১ এবং বি-২ ভিসাগুলো বাতিল করা, যেসব ভিসাধারী পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের প্রার্থনা করেছেন। যদি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একযোগে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভিসা বাতিলের ঘটনা। তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের এই বিশাল পদক্ষেপ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যারা সাময়িক সময়ের দর্শনার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কথা বলে প্রবেশ করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করতে তারা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সঙ্গে সমন্বয় করছেন। এসব অ-অভিবাসী ভিসাগুলো বাতিল করার জন্য কাজ চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঠিক কতজন মানুষ এর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন, তা নির্দিষ্ট করে নিশ্চিত করেননি পিগট। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি জানিয়েছেন, ভিসা বাতিলের এই প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে চলবে এবং মোট সংখ্যাটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল থাকবে। তবে কর্মকর্তারা এপিকে জানিয়েছেন, ভিসা বাতিল হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বা ডিপোর্ট করা হবে। যাদের আশ্রয়ের আবেদনগুলো এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের নতুন করে শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। তবে তারা তাদের ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার বৈধতা পুরোপুরি হারাবেন। সাধারণত বি-১ ভিসা দেওয়া হয় ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য। অন্যদিকে বি-২ ভিসা দেওয়া হয় পর্যটন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং চিকিৎসাসেবা নেওয়ার উদ্দেশ্যে। বর্তমানে এসব ভিসার আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হয় যে, তারা নির্দিষ্ট সময়ের সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখেন। অভিবাসন আইনের অপব্যবহার নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সম্প্রতি আরও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। গত সোমবার মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আশ্রয়ের আবেদনকে কোনোভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের মানুষ ভুয়া আশ্রয়ের আবেদনে বিরক্ত হয়ে গেছে বলে তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় যে কোনো ধরনের অপব্যবহার রোধে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ আগে থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যমতে, এই নীতির অংশ হিসেবে গত ১৮ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে। এবার এই তালিকায় আরও দুই লাখ মানুষের নাম যুক্ত হতে যাচ্ছে, যা অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ ও এপি
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের দেশটিতে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলে আবারও মন্তব্য করেছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার বক্তব্য, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, তাদের দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। অভিবাসন বিষয়ে ফাইনের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর। তার সরকারি কংগ্রেসনাল ওয়েবসাইটে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, ব্যাপক বহিষ্কার এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা বন্ধের পক্ষে তার অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। (Randy Fine) চলতি বছরের এপ্রিলেও ফাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনার সময় সব অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এতে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গাড়ির বীমাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কমতে পারে। (Fox News) তবে এসব দাবির সবগুলো অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সর্বসম্মত নয়। চলতি মাসে ফ্লোরিডার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কথা বলার সময় ফাইন অবৈধ অভিবাসনকে ব্যয়বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও, অন্যান্য বিশ্লেষণে আবাসনের ঘাটতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বীমা ব্যয়, মজুরি ও সুদের হারকেও ফ্লোরিডার ব্যয়সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। (WKMG) ফাইনের অবস্থান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ এবং ব্যাপক বহিষ্কারের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। (Randy Fine) বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বহিষ্কার এবং তাদের জন্য সরকারি সুবিধার প্রশ্ন। র্যান্ডি ফাইনের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্কে তার কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেছে।
অপরাধ, জালিয়াতি, যৌন নির্যাতন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের মতো অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এ তথ্য জানিয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত, তদন্ত এবং তাদের ভিসা বাতিলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানানো কিংবা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো ঘটনায় ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের আইনি উপায় ব্যবহার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া অধিকাংশ ভিসাধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধসংক্রান্ত ঘটনার মাধ্যমে যুক্ত হন। এসব অপরাধের মধ্যে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদক-সম্পর্কিত অপরাধ সবচেয়ে বেশি ছিল। এ ছাড়া জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং অবৈধ ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগেও অনেকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, শিক্ষকতা করতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত একজনের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডকে প্রকাশ্যে উদযাপন করেছিলেন এমন কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় স্টেট ডিপার্টমেন্ট। অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত আরেক বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। সরকার আরও জানায়, সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ চক্রের সঙ্গে জড়িত ১০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে গেছে। ভিসা বাতিলের পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতিতেও একাধিক পরিবর্তন এনেছে। গত মাসের শেষ দিকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচিকে স্থায়ী করে, যার আওতায় মূলত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ ৫০টি দেশের আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু ধরনের মার্কিন ভিসার জন্য জামানত জমা দিতে হবে। সরকারি নোটিশ অনুযায়ী, এই জামানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়, গত এক দশকের বেশি সময়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কয়েক লাখ অ-অভিবাসী দর্শনার্থী তাদের ভিসার শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি আরেকটি নিয়ম চূড়ান্ত করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া চার বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না। এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশের ভেতরে থাকা বিদেশি নাগরিকদের আরও কার্যকরভাবে যাচাই, তদারকি এবং পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। একই ঘোষণায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, গণমাধ্যম ভিসাধারী বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ ২৪০ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। আর চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে একবারে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর আগে এমন নীতির সমালোচনা করে বলেছে, কঠোর বিধিনিষেধ বৈধ আবেদনকারী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা প্রদানকারী অলাভজনক সংস্থাগুলোর বকেয়া প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার (৬৫ মিলিয়ন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের নির্দেশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অর্থ ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক আরাসেলি মার্টিনেজ-ওলগুইন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগকে (Department of Health and Human Services) শুক্রবার দুপুর ১২টা (প্যাসিফিক সময়) এর মধ্যে অর্থ ছাড়ের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আদালতকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় পেরোনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থাগুলো জানায়, সরকার অর্থ ছেড়ে দিয়েছে এবং সোমবার থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে অর্থ পৌঁছানো শুরু হবে। অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা কর্মসূচির প্রধান ঠিকাদার অলাভজনক সংস্থা অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের মুখপাত্র বিলাল আসকারইয়ার বলেন, "আমরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, যাতে অর্থপ্রদান যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়।" যদিও স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, তারা আইনি ও নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতা মেনেই কাজ করছে এবং কোনো শিশুকে আইনি সহায়তা চাওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এটি একই মামলায় দ্বিতীয়বারের মতো আদালতের হস্তক্ষেপ। এর আগে আদালত একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে (প্রিলিমিনারি ইনজাংশন) সরকারকে আইনি সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ৩১ জুলাই এই কর্মসূচির ফেডারেল চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৯০টি অলাভজনক সংস্থা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে এবং ২৪ হাজারের বেশি অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশু আইনি প্রতিনিধিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে। গ্রেটার লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে ১৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে কাজ করা ইমিগ্র্যান্ট ডিফেন্ডার্স ল সেন্টারের প্রধান নির্বাহী লিন্ডসে টোচিলোভস্কি জানান, শুধু তাদের সংস্থার আওতায় থাকা দেড় হাজারের বেশি শিশু এই পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, "এই কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। স্বাধীন ও নৈতিকভাবে এই সেবা চালিয়ে যাওয়া দেশের বিভিন্ন সংস্থার জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।" একই সংস্থার মামলাবিষয়ক পরিচালক আলভারো এম. হুয়ের্তা বলেন, সরকারের অর্থ আটকে রাখার কারণে কতজন শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তার ভাষায়, "সরকার যখন তাদের দায়িত্ব পালন না করে অর্থ আটকে রেখেছিল, তখন অনেক শিশুকে একাই বহিষ্কার কার্যক্রমের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ হয়তো সেই নির্যাতন, নিপীড়ন বা বিপজ্জনক পরিবেশেই ফেরত গেছে, যেখান থেকে তারা পালিয়ে এসেছিল।" তিনি আরও বলেন, শিশুদের অধিকার কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়। তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের আইনগত দায়িত্ব। এদিকে চলতি সপ্তাহে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তার জন্য টেক্সাসের একটি ছোট আইন প্রতিষ্ঠানকে ১৫ কোটি ডলারের নতুন চুক্তি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এতে শিশুদের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে এবং বহিষ্কারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক নাগরিক ও মানবাধিকার সংস্থা জাস্টিস অ্যাকশন সেন্টারের আইনজীবী লরা ফ্লোরেস-পেরিলা বলেন, "যদি শিশুদের আইনজীবী না থাকে, তাহলে তাদের বহিষ্কার করা অনেক সহজ হয়ে যায়। আদালতের সর্বশেষ আদেশে আগের সেবার বিল পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু হাজারো শিশুর ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত।" এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত ২০২৫ সালের মার্চে। সে সময় স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের সঙ্গে করা চুক্তি বাতিল করে। এর প্রতিবাদে সংস্থাটি এবং বিভিন্ন অলাভজনক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে সমষ্টিগত মামলা করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ২০০৮ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়া 'উইলিয়াম উইলবারফোর্স ট্র্যাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশন রিঅথরাইজেশন অ্যাক্ট'-এর পরিপন্থী। এই আইনে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নির্যাতন, শোষণ ও মানবপাচার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এই আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে কংগ্রেস নিয়মিতভাবে এ কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালে ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচি পরিচালনার জন্য প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনকে অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিসের চুক্তি পুনর্বহাল এবং কর্মসূচির অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সফল হয়নি। তবে গত নভেম্বর থেকে প্রশাসন বিভিন্ন বিলের অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখে। সরকারের দাবি ছিল, আইনি সহায়তাদানকারী সংস্থাগুলোকে তাদের মক্কেলদের কিছু তথ্য দিতে হবে। কিন্তু সংস্থাগুলোর মতে, এসব তথ্য প্রকাশ করলে আইনজীবী ও মক্কেলের গোপনীয়তার নীতি লঙ্ঘিত হবে। সর্বশেষ আদেশে বিচারক মার্টিনেজ-ওলগুইন সরকারকে আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন। সেখানে ব্যাখ্যা করতে হবে, কীভাবে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আইনগত দায়িত্ব তারা পালন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি (H-1B) ভিসায় আরোপ করা ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি পুনর্বহালের ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে নিম্ন আদালতের যে আদেশে এই ফি কার্যকর হওয়া স্থগিত করা হয়েছিল, সেটিই আপাতত বহাল থাকছে। বোস্টনভিত্তিক ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস গত ২৪ জুলাই দেওয়া এক আদেশে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন আপিলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি দেখাতে পারেনি। তাই নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত রাখার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না। এর আগে গত ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন রায় দেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে ১ লাখ ডলারের এই ফি আরোপ করা সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। আদালতের মতে, এটি কার্যত একটি কর, যা আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অভিবাসনসংক্রান্ত প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় এই ফি আরোপ করা হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং মার্কিন কর্মীদের কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আপিল আদালত বলেছে, এ পর্যায়ে প্রশাসন সেই যুক্তির পক্ষে যথেষ্ট আইনি ভিত্তি উপস্থাপন করতে পারেনি। এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান ও অন্তত স্নাতক ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ দিতে পারে। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষা খাতে এই ভিসার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর এ কর্মসূচির আওতায় ৬৫ হাজার সাধারণ ভিসা এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য এককালীন ১ লাখ ডলারের ফি নির্ধারণ করে। এর আগে আবেদনকারীর ধরন ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি ফি পরিশোধ করত। নতুন নীতিতে সেই ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। প্রশাসনের দাবি ছিল, কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের প্রতিস্থাপন করছে। এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকানো এবং দেশীয় শ্রমবাজার সুরক্ষার লক্ষ্যেই উচ্চ ফি আরোপ করা হয়। তবে সমালোচকদের মতে, এত বড় অঙ্কের ফি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মী নিয়োগকে কঠিন করে তুলবে। এই নীতির বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়াসহ ২০টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এত বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। পাশাপাশি তারা দাবি করেন, নতুন ফি চালুর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক বিধি প্রণয়নের প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি। সর্বশেষ আপিল আদালতের আদেশের ফলে ১ লাখ ডলারের এই ফি আপাতত কার্যকর করা যাবে না। তবে মামলার মূল আপিলের শুনানি এখনো বাকি রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উচ্চতর আদালতের রায়ের ওপর এই নীতির চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে।
ভেনেজুয়েলায় গত মাসের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ধসে পড়া একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় এক মাস পর উদ্ধার করা হয়েছে মার্কিন নাগরিক অ্যান্ড্রু উইডমের মরদেহ। তার স্ত্রী ইয়েলিৎসা উইডমে, যিনি অভিবাসন মামলার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ভেনেজুয়েলায় ফিরে গিয়েছিলেন, তিনিও একই দুর্ঘটনায় নিহত হন। দম্পতির মৃত্যুর ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্ড্রু উইডমে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটার বাসিন্দা ছিলেন। তার স্ত্রী ইয়েলিৎসা কয়েক বছর আগে আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং কাজের অনুমতিও পেয়েছিলেন। তবে একটি পৃথক আইনি জটিলতার পর আইনজীবীর পরামর্শে তিনি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, যাতে ভবিষ্যতে বৈধভাবে দেশে ফেরার সম্ভাবনা বাড়ে। পরে স্ত্রীকে সঙ্গ দিতে চলতি বছরের ৪ মে অ্যান্ড্রুও ভেনেজুয়েলায় চলে যান। দম্পতি ভেনেজুয়েলায় একটি ছোট খাদ্য ব্যবসা শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ২৪ জুন উত্তর উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে লা গুইরা এলাকার তাদের আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহ দাহ করা হয় এবং অ্যান্ড্রুর মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হাজারো মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং বহু ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধসে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের শনাক্ত করার কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। অ্যান্ড্রু ও ইয়েলিৎসার মৃত্যুর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান আলোচনায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভূমিকম্পে ভবন ধসকেই নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ, অভিবাসী, এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব দুর্বল করতে ট্রাম্প প্রশাসন বিভাজনমূলক নীতি অনুসরণ করছে এমন অভিযোগ তুলেছেন ফ্লোরিডার ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা অ্যাঞ্জি নিক্সন। নিউজউইকে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড দেশজুড়ে অবিশ্বাস, বৈষম্য এবং সহিংসতার পরিবেশকে আরও উসকে দিচ্ছে। তবে লেখাটি কোনো নিরপেক্ষ সংবাদ প্রতিবেদন নয়। নিউজউইক এটিকে স্পষ্টভাবে মতামত হিসেবে প্রকাশ করেছে এবং এতে উত্থাপিত বক্তব্য লেখকের নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন। নিবন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়াও যুক্ত করা হয়নি। নিক্সনের বক্তব্যের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল অভিবাসন নীতি। তার অভিযোগ, অভিবাসন আইন প্রয়োগের নামে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএসের আওতায় থাকা পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। টিপিএস হলো যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য দেওয়া সাময়িক সুরক্ষা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা ব্যক্তিরা এর আওতায় নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কারণে ফ্লোরিডাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বহু পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেন নিক্সন। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিবাসন অভিযান ও মৃত্যুর ঘটনাও মতামত নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন এই আইনপ্রণেতা। তার মতে, এসব ঘটনা শুধু আইন প্রয়োগের প্রশ্ন নয়; বরং অভিবাসী পরিবারের নিরাপত্তা, জীবিকা এবং সমাজে তাদের অবস্থানের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। তবে উল্লিখিত প্রতিটি ঘটনার দায় ও পরিস্থিতি পৃথক তদন্তের বিষয়। অভিবাসনের পাশাপাশি ভোটাধিকার ও নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিক্সন। তার অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধা ধরে রাখতে এমনভাবে নির্বাচনী মানচিত্র তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কৃষ্ণাঙ্গসহ কিছু জনগোষ্ঠীর ভোটের প্রভাব কমে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভোটাররা প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার পরিবর্তে ক্ষমতাসীনরাই কার্যত নিজেদের সুবিধামতো ভোটার বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ট্রাম্পের পাশাপাশি কংগ্রেসের সদস্যদেরও সমালোচনা করেছেন নিক্সন। তার মতে, সম্ভাব্য সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শুধু বক্তব্য, চিঠি কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আরও কার্যকরভাবে নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন। নিক্সনের অভিযোগ, কিছু আইনপ্রণেতা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ আপত্তি জানালেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন না। তার দৃষ্টিতে, এই নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক করে তুলছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার সমর্থকেরা অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানকে আইনশৃঙ্খলা ও সীমান্ত নিরাপত্তার অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছেন। ভোট ও নির্বাচনী ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পক্ষেও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রচলিত আইন অনুসরণের যুক্তি দেওয়া হয়। তবে নিক্সনের মতামত নিবন্ধে এই পাল্টা অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি। নিবন্ধের শেষাংশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি নিজেদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে আরও বেশি জবাবদিহি দাবি করার আহ্বান জানান নিক্সন। তার বক্তব্য, নেতারা যদি সত্যিই মনে করেন নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তাহলে শুধু উদ্বেগ প্রকাশ নয় সেই ক্ষতি ঠেকাতে দৃশ্যমান পদক্ষেপও নিতে হবে।
মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহিত বিদেশি নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়ে আসছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নেওয়া একাধিক কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে সেই সুবিধা এখন অনেকটাই সীমিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী, অধিকারকর্মী এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তাদের দাবি, নতুন নীতির কারণে অনেক পরিবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে, আবেদন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠছে এবং বৈধ অভিবাসনের পথেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের এক প্রতিবেদনে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই বৈধ ও অবৈধ উভয় ধরনের অভিবাসন কমানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর মধ্যে রয়েছে ৭৫টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখা, গ্রিন কার্ড সাক্ষাৎকারে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই, আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের আরও বিস্তৃত তদন্ত এবং যাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তাদের পরিধি বাড়ানো। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, আগে মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীকে সাধারণ অভিবাসীদের তুলনায় আইনি দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। তারা অভিবাসী কোটার আওতায় পড়তেন না এবং অনেক ক্ষেত্রেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কিছু আইনি সুবিধা পেতেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন এই শ্রেণিকেও অন্যান্য অভিবাসীদের মতো একইভাবে বিবেচনা করছে। আমেরিকান ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যাশলি ডি'আজেভেদো বলেন, "যেসব মার্কিন নাগরিক বিদেশে জন্ম নেওয়া কাউকে বিয়ে করেছেন, তাদের জীবন এখন অনেক বেশি কঠিন হয়ে গেছে।" তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৪ লাখ এবং দেশের বাইরে আরও প্রায় ৩ লাখ মানুষ তাদের সহায়তা চাইছেন। তিনি জানান, অনির্দিষ্ট সময় আটক থাকার আশঙ্কায় অনেক পরিবার স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে গেছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি জীবনসঙ্গীকে আটকও করা হয়েছে, যা অতীতে খুব কমই দেখা যেত। অন্যদিকে আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শারভারি দালাল-ধেইনি বলেন, মার্কিন সরকার সব সময়ই বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন যাচাই করত। তবে আগে এই আবেদনকারীরা সাধারণ অভিবাসন অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতেন না। কারণ আইনে তাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ছিল। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ভিন্ন। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এনপিআরকে বলেন, গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের পরিচয়, অতীত এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য কঠোরভাবে যাচাই করা আইনগত বাধ্যবাধকতা। তিনি বলেন, কেবল মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কেউ বহিষ্কার থেকে সুরক্ষা পান না। তার ভাষায়, আই-১৩০ পারিবারিক আবেদন অনুমোদিত হলেও সেটি নিজে থেকে কোনো অভিবাসন মর্যাদা দেয় না। যারা বৈধ অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন বা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর প্রায় ৩ লাখ ৪৩ হাজার মানুষ জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। এটি মোট গ্রিন কার্ড অনুমোদনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। সন্তান ও বাবা-মায়ের মতো নিকট আত্মীয়দের যুক্ত করলে এই সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যায়। অর্থাৎ পারিবারিক অভিবাসন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসনের অন্যতম প্রধান পথ। তথ্য অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদনের গড় নিষ্পত্তি সময় ছিল প্রায় ১৩ মাস এবং বাগদত্তা বা বাগদত্তার ভিসার ক্ষেত্রে প্রায় ৭ মাস। তবে আইনজীবীরা বলছেন, সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের পর অনেক আবেদনেই অতিরিক্ত বিলম্ব হচ্ছে। নতুন নীতির প্রভাব পড়েছে সামরিক পরিবারের ওপরও। এনপিআরের প্রতিবেদনে এমন এক নারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি একজন মার্কিন সেনাসদস্যের স্ত্রী এবং নিজেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন। তিনি এমন একটি দেশের নাগরিক, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করলেও তার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ওই নারীর স্বামীকে জার্মানিতে দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু তার নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় পুরো পরিবার অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বাড়ির কী হবে, তারা একসঙ্গে ভ্রমণ করতে পারবেন কি না এবং দুই মার্কিন নাগরিক সন্তানের ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মিলছে না। অভিবাসন আইনজীবী এরিক ওয়েলশ বলেন, বর্তমানে আবেদনকারীদের শুধু বৈবাহিক সম্পর্কের সত্যতাই নয়, ব্যক্তিগত চরিত্র, অতীত জীবন এবং বিভিন্ন অতিরিক্ত তথ্যও জমা দিতে হচ্ছে। আগে যেসব তথ্য সাধারণত বাধ্যতামূলক ছিল না, এখন সেগুলোও চাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, বিদেশি কাউকে বিয়ে করলেই স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি কখনোই এমন ছিল না। তবে বর্তমান নীতির কারণে আবেদনকারীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, নতুন নীতির ফলে অনেক পরিবার এখন অভিবাসন প্রক্রিয়ায় এগোতেই ভয় পাচ্ছে। কারণ আবেদন করলেই অতিরিক্ত তদন্ত, দীর্ঘসূত্রতা কিংবা আটক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। ফলে বৈধ উপায়ে অভিবাসনের সুযোগ থাকলেও অনেকেই সেই পথ অনুসরণ করতে দ্বিধায় পড়ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ের ফলে দেশটিতে বসবাসরত কয়েক লাখ অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের জন্য দেওয়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিলের ক্ষমতা বহাল রাখার সুযোগ দিয়েছে। এই রায়ের ফলে প্রায়৩ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান এবং ৬ হাজার সিরীয় অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। টিপিএস বাতিল হলে তাদের অনেককেই সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা মানবিক সংকটে থাকা নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা রায়ে বলেন, টিপিএস প্রদান বা বাতিলের সিদ্ধান্ত মূলত নির্বাহী বিভাগের এখতিয়ার। সাংবিধানিক প্রশ্ন ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ সীমিত। ফলে ভবিষ্যতেও প্রশাসন টিপিএস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা পাবে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী হাজারো পরিবার এই কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে জীবন গড়ে তুলেছে। হঠাৎ করে তাদের আইনি সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হারানো শুধু মানবিক সংকটই সৃষ্টি করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। টিপিএস মূলত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চরম অস্থিতিশীলতায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের নাগরিকদের অস্থায়ী নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই কর্মসূচির আওতায় থাকা অনেক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী জীবন গড়ে তুলেছেন। ফলে তাদের সুরক্ষা এক ঝটকায় প্রত্যাহার করা বড় ধরনের সামাজিক ও মানবিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, টিপিএস একটি অস্থায়ী কর্মসূচি এবং এর মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মর্যাদা বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। রায়ের পর এখন বিষয়টি আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পেয়েছে। অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো কংগ্রেসকে দ্রুত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে টিপিএসধারীদের জন্য স্থায়ী আইনি সুরক্ষা বা নাগরিকত্বের পথ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্কও উসকে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রচলিত ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। নতুন নীতির আওতায় শিক্ষার্থীরা আর অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ‘স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস’ ধরে রেখে দেশটিতে থাকতে পারবেন না। পরিবর্তে তাদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের অবস্থানের নিয়ম চালু করা হতে পারে। ব্লুমবার্গ ল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ (ডিওএস) সুবিধা বাতিল করে নির্দিষ্ট মেয়াদভিত্তিক অবস্থানের নিয়ম চালুর প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে হোয়াইট হাউস। বর্তমানে ‘এফ’ ক্যাটাগরির স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা তাদের একাডেমিক প্রোগ্রাম চলমান থাকা এবং ভিসার শর্ত মেনে চলার ভিত্তিতে কোর্স সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন। অর্থাৎ তাদের থাকার সময়সীমা নির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে না। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের অনুমোদন দেওয়া হবে। সেই মেয়াদের মধ্যে পড়াশোনা শেষ না হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অব্যাহত রাখতে তাদের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে। হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রবিধানটির পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে। এটি কোনো নতুন নিয়ম কার্যকরের আগে শেষ দিকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিটি প্রকাশ ও বাস্তবায়নের পথ এখন অনেকটাই পরিষ্কার। নতুন নীতিমালা শুধু এফ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেই নয়, জে এক্সচেঞ্জ ভিজিটর, আই ক্যাটাগরির ভিসাধারী এবং তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের অবস্থানের অনুমতি নির্ধারণ করা হতে পারে। যেসব শিক্ষার্থীর ডিগ্রি বা গবেষণা কার্যক্রম শেষ করতে চার বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হবে, তাদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য পৃথক আবেদন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ২০২৫ সালে প্রথম এই পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। যদিও এর মূল ধারণা প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সামনে আসে, তখন তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। এবার হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় নিয়মটি যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে পারে। এটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।