আমেরিকা

নিউইয়র্কে ভাড়া স্থগিতের দাবিতে চাপ বাড়ছে, উত্তপ্ত রেন্ট বোর্ডের শুনানি

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৬:৯
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে ভাড়া সংকটকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ড- এর সাম্প্রতিক শুনানি। এতে অংশ নিয়ে ভাড়াটিয়া অধিকারকর্মীরা শহরের সব ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত লিজের ওপর অবিলম্বে ভাড়া স্থগিত কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৪ লাখ ভাড়াটিয়া সরাসরি উপকৃত হবেন।

 

শুনানিতে বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট টেন্যান্ট ব্লকের নির্বাহী পরিচালক সুমাথি কুমার, চায়নাটাউন টেন্যান্ট ইউনিয়নের সংগঠক জুলি জু এবং হাউজিং কনজারভেশন কোঅর্ডিনেটরস-এর কমিউনিটি সংগঠক এলিসা মার্টিনেজ। তারা বলেন, বর্তমান সংকট শুধু ভাড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অভিবাসন অভিযানের চাপ, যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় সংকোচন।

 

ভাড়াটিয়া নেতাদের দাবি, এই বহুমাত্রিক সংকট মোকাবিলায় ভাড়া স্থগিতই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে এ দাবির পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। গত বসন্তে প্রায় ২০ হাজার ভাড়াটিয়া এতে স্বাক্ষর করেছেন এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে এক মিলিয়নের বেশি ভোটার ভাড়া স্থগিতের প্রতিশ্রুতিদাতা প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭৮ শতাংশ নিউইয়র্কবাসী এ দাবির পক্ষে।

 

তাদের যুক্তি, বিদ্যমান তথ্য-উপাত্তও এই দাবিকে সমর্থন করে। রেন্ট বোর্ডের নিজস্ব প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর বাড়িওয়ালাদের মুনাফা ৬ শতাংশ বেড়েছে এবং গত তিন বছরে তাদের নিট পরিচালন আয় প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ, অথচ ভাড়াটিয়াদের আয় তেমন বাড়েনি। একটি জরিপ অনুযায়ী, অর্ধেকের বেশি ভাড়াটিয়া দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং দুই-তৃতীয়াংশের কোনো জরুরি সঞ্চয় নেই।

 

শুনানিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ভাড়া বৃদ্ধি বাড়িওয়ালাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণকে উৎসাহিত করছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া ভবনের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় না করে ঋণ পরিশোধ বা নতুন সম্পত্তি কেনায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি শহরের মেরামত সহায়তা কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অনেক বাড়িওয়ালা তাতে আবেদন করেননি যা তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

 

বর্তমানে নিউইয়র্কে ভাড়াটিয়াদের আর্থিক চাপ চরমে পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরের প্রায় ৫১.৬ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি ভাড়ায় ব্যয় করছেন এবং প্রায় ২৮.৮ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের অর্ধেকের বেশি ভাড়ার পেছনে খরচ করছেন। বিশেষ করে ব্রঙ্কস এলাকায় কম আয়ের বিপরীতে ভাড়া দ্রুত বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

এছাড়া ২০২৫ সালে শহরে উচ্ছেদের হার প্রায় ৯.৭ শতাংশ বেড়েছে, যা ভাড়াটিয়াদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন খরচ এখন মূল্যস্ফীতির অন্যতম প্রধান কারণ এবং অধিকাংশ পরিবারের মাসিক ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ।

 

এই প্রেক্ষাপটে ভাড়াটিয়া নেতারা মনে করছেন, ভাড়া স্থগিত কেবল অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নও। তাদের দাবি, রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের উচিত বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, যাতে নিউইয়র্কের লাখো ভাড়াটিয়া কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কে দাগি অবৈধ অভিবাসীদের তালিকা প্রকাশ, গভর্নর ও মেয়রকে দুষছে আইস

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে খুন এবং শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধে যুক্ত অবৈধ অভিবাসীদের পরিচয় প্রকাশ করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)। একইসঙ্গে সংস্থাটি নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট দলীয় গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং মেয়র জোহরান মামদানির ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আশ্রয়দাতা (স্যাংচুয়ারি) নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে। আইস-এর দাবি, জ্যামাইকা, এল সালভাদর, ইকুয়েডর এবং হন্ডুরাস থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা এসব ব্যক্তি হত্যা, ধর্ষণ এবং শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।   আইস নিউইয়র্ক সিটি শাখার ফিল্ড অফিস ডিরেক্টর কেনেথ জেনালো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্যাংচুয়ারি বা আশ্রয়দাতা রাজনীতিকরা আইন মান্যকারী নাগরিকদের চেয়ে অপরাধী অভিবাসীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে আইস কর্মকর্তারা খুনি ও ধর্ষকদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।   মূলত নিউইয়র্কের শীর্ষ এই দুই নেতার সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের পরই আইস এই কড়া প্রতিক্রিয়া দেখাল। সম্প্রতি গভর্নর ক্যাথি হোকুল এমন একটি আইন পাসের উদ্যোগ নিয়েছেন, যার ফলে স্থানীয় পুলিশ এবং ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাধাগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল বা পার্কের মতো সর্বজনীন স্থানে আইস এজেন্টদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।   অন্যদিকে, গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়র জোহরান মামদানি একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি থেকে নিউইয়র্ককে রক্ষায় আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করবে। আইস-এর মতে, এই ধরনের নীতি নিউইয়র্ককে আরও অনিরাপদ করে তুলছে এবং সহিংস অপরাধীদের পুনরায় অপরাধ করার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।   প্রকাশিত তথ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর অপরাধীর নাম ও তাদের অপকর্মের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন জ্যামাইকার নাগরিক মোসিয়াহ রাইট, যিনি এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও মিনেসোটায় হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এছাড়া এল সালভাদরের হোসে ফুয়েন্তেস-সারাভিয়া, ভিসেন্তে মেজিয়া-মার্কেজ, ব্লাস আলবার্তো দিয়াজ এবং বেঞ্জামিন কুইজাদার মতো অপরাধীরা ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও জোরপূর্বক যৌন নিপীড়নের মতো জঘন্য ঘটনায় জড়িত।   ইকুয়েডরের হোসে ইজরায়েল চাপা ফ্লোরেস এবং হন্ডুরাসের ফ্র্যাঙ্কলিন সাউল বানেগাস-সেভালোসও শিশু নির্যাতন এবং মাদক সংক্রান্ত অপরাধে অভিযুক্ত। আইস জানিয়েছে, জঘন্য এই অপরাধীরা বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।   আইস-এর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারির পর থেকে নিউইয়র্কে আইস-এর ডিটেইনার বা আটকের অনুরোধ অগ্রাহ্য করার কারণে প্রায় ৬,৯৪৭ জন অপরাধী অবৈধ অভিবাসীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এই মুক্তিপ্রাপ্তদের অপরাধের তালিকায় ২৯টি হত্যাকাণ্ড, ২,৫০৯টি হামলা, তিন শতাধিক ডাকাতি এবং অসংখ্য মাদক ও যৌন অপরাধের ঘটনা রয়েছে।   এছাড়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নিউইয়র্কের বিভিন্ন কারাগারে থাকা সাত সহস্রাধিক অবৈধ অভিবাসীর বিরুদ্ধে আইস-এর সক্রিয় পরোয়ানা রয়েছে, যারা শতাধিক খুন এবং কয়েকশ ভয়ানক অপরাধে যুক্ত থাকার পরও স্থানীয় আইনের কারণে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১৬:৩৮
ছবিঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

মিনেসোটায় বিলিয়ন ডলারের আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্তের মুখে গভর্নর টিম ওয়ালজ

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থীদের প্রায় সবাই দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ

ছবিঃ সমাজসেবক মোহাম্মদ কাজল

অসহায় সোহেলকে অটোরিকশা উপহার দিলেন সমাজসেবক মোহাম্মদ কাজল

ছবিঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধ কি ডুবাচ্ছে ট্রাম্পকে? জনসমর্থন নেমেছে রেকর্ড সর্বনিম্নের কাছাকাছি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে জনপ্রিয়তার পারদ আবারও রেকর্ড সর্বনিম্নের কাছাকাছি এসে ঠেকেছে। ইরান যুদ্ধের জেরে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কার মধ্যেই সোমবার (৮ জুন) শেষ হওয়া রয়টার্স ও ইপসোস-এর সর্বশেষ এক জনমত জরিপে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, মাত্র ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরিচালিত জরিপের একদম সমান। এই হার ট্রাম্পের চলতি মেয়াদের সর্বনিম্ন রেটিং ৩৪ শতাংশ (গত এপ্রিলের জরিপ) এবং তার প্রথম মেয়াদের সর্বনিম্ন রেটিং ৩৩ শতাংশের (ডিসেম্বর ২০১৭) অত্যন্ত কাছাকাছি।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন মিত্র ইসরায়েলের সাথে যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এর পাল্টা জবাবে ইরানও আক্রমণ চালালে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণকারী একটি সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এপ্রিলের পর থেকে হামলার গতি কিছুটা কমলেও এখনও কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি হয়নি। এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং তীব্র জনঅসন্তোষের মুখে পড়েছেন এই রিপাবলিকান নেতা।   যদিও ইরান সংঘাতের অবসানের আশায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাম্পে জ্বালানির দাম সামান্য কমেছে, তবুও সাধারণ মানুষের মনে শঙ্কা রয়েই গেছে। ছয় দিনব্যাপী পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৯ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন আগামী এক বছরে দেশটির জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। বিপরীতে মাত্র ১৭ শতাংশ মানুষ পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন।   বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ব্যর্থতা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মাত্র ২২ শতাংশ মার্কিনি গৃহস্থালির জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্পের ভূমিকা অনুমোদন করেছেন, যেখানে ৭০ শতাংশ মানুষই তার ওপর সরাসরি অসন্তুষ্ট। জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এখন ট্রাম্পের চেয়ে তার ডেমোক্র্যাট পূর্বসূরি জো বাইডেনের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন।   বাইডেন তার মেয়াদের শেষে এই খাতে ২৯ শতাংশ সমর্থন এবং ৬৩ শতাংশ অসন্তোষ নিয়ে বিদায় নিয়েছিলেন। অথচ ট্রাম্প গত নির্বাচনী প্রচারণায় মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করে ক্ষমতায় এসেছিলেন। লাগামহীন জ্বালানির এই দাম আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরিপ মতে, ইরানের ওপর মার্কিন হামলার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩৬ শতাংশ মার্কিনি এবং মাত্র ২৫ শতাংশ মনে করেন এই হামলার সুফল ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। এই জনমত জরিপ আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি সুবিধাজনক অবস্থানের পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   আজ নির্বাচন হলে নিবন্ধিত ভোটারদের ৪১ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকানদের ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। গত বছর পর্যন্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ভোটাররা রিপাবলিকানদের ওপর বেশি ভরসা রাখলেও, বর্তমানে অর্থনীতি নিয়ে ৩৬ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৭ শতাংশ রিপাবলিকানদের পরিকল্পনাকে সেরা মনে করছেন, যা রিপাবলিকানদের সেই পুরোনো সুবিধাকে অনেকটাই মুছে দিয়েছে। দেশজুড়ে অনলাইনে পরিচালিত এই জরিপে ৪,৫৩১ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক অংশ নেন, যার ত্রুটির মাত্রা (মার্জিন অব এরর) ছিল ২ শতাংশ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১:১৬
ছবি: সিএনএন

নিউইয়র্ক শহরে পেন স্টেশনে ছুরিকাঘাতে আহত ৫, সন্দেহভাজন আটক

ছবি: সংগৃহীত

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচন: জালিয়াতির প্রমাণ দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা ব্রক পিয়ার্সের

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ওয়াশিংটনে পথ বন্ধ হচ্ছে নেতানিয়াহুর? ট্রাম্পের সঙ্গে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও | ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টিরও বেশি নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা

মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শতাধিক বিদেশি নাগরিক ও কর্মকর্তার ওপর নতুন করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ঘোষণা দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে নেওয়া এই জরুরি পদক্ষেপের কথা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে জানানো হয়, নতুন করে জারি করা এই নিষেধাজ্ঞার একটি বড় অংশই নিকারাগুয়ার কর্মকর্তাদের ওপর দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নিকারাগুয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এক আদিবাসী অধিকার কর্মীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করেই মূলত মার্কিন প্রশাসন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, বিভিন্ন দেশের সরকার ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সুশীল সমাজের ওপর দমন-পীড়ন, সেন্সরশিপ ও নানা ধরনের নির্যাতন চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করা এর মূল উদ্দেশ্য।   ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে গণতন্ত্র রক্ষা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে চাপ সৃষ্টির যে নীতি যুক্তরাষ্ট্র অনুসরণ করছে, এই নিষেধাজ্ঞা তারই একটি বড় অংশ বলে জানানো হয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ২২:৪১
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়াতে ফোন ছিনতাই ঠেকাতে গিয়ে গুলিতে নিহত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী

বর্ণাঢ্য পরিবেশে উদযাপিত হয় পহেলা বৈশাখ । ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে এএএনএসইউ ইউএসএ চ্যাপ্টারের বর্ণাঢ্য পহেলা বৈশাখ উদযাপন

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের টিকিট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ইরানের

0 Comments