নিউইয়র্ক সিটির ৯১ শতাংশ উচ্চতম ভবনে ত্রয়োদশ তলা বা ১৩ নম্বর ফ্লোরটি এড়িয়ে যাওয়া হয়। অনলাইন ক্যাসিনো ম্যাকলাকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সংখ্যার কুসংস্কার মানুষের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে এটি তারই একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ। তেরো সংখ্যাটিকে অলুক্ষুণে মনে করায় অনেক ডেভেলপার ভবন তৈরির সময় ১২ তলার পর সরাসরি ১৪ তলা নম্বর ব্যবহার করেন অথবা ফ্লোরটির নাম পরিবর্তন করে '১২এ' রাখেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অ্যাপার্টমেন্টে সরাসরি ১৩ নম্বরটি রয়ে গেছে, সেগুলোর বিক্রি সাধারণত একই ভবনের সমমানের অন্য ইউনিটগুলোর তুলনায় কিছুটা কম হয়। পশ্চিমা সংস্কৃতিতে জেসাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতাকারী জুডাস ইসকারিয়টকে শেষ ভোজের ১৩তম অতিথি হিসেবে গণ্য করার পর থেকেই মূলত এই সংখ্যাটিকে দুর্ভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। মার্কিন ইতিহাসভিত্তিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শুক্রবার ১৩ তারিখে আমেরিকানরা ভ্রমণ বা বড় ধরনের খরচ কমিয়ে দেওয়ায় দেশটির ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতি হয় শত শত কোটি ডলার। কুসংস্কারের এই প্রভাব কেবল আবাসন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; জার্মানির লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের মতো বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাও তাদের ফ্লাইটে ১৩ নম্বর সারিটি সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে থাকে। অন্যদিকে, পূর্ব এশীয় সংস্কৃতিতে 'চার' সংখ্যাটিকে মৃত্যুর সমার্থক মনে করা হয়, কারণ এর উচ্চারণ চীনা ভাষায় মৃত্যুর কাছাকাছি। তাই হাসপাতাল, হোটেল বা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে এই সংখ্যাটি বাদ দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির বেশিরভাগ গাড়ির লাইসিন্স প্লেট থেকেও এটি সরিয়ে ফেলা হয়। এর বিপরীতে 'আট' সংখ্যাটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়, কারণ এর উচ্চারণ সমৃদ্ধির শব্দের সঙ্গে মিলে যায়। চীনের চেংদুতে আবাসন বাজারের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে, আট সংখ্যাযুক্ত বা শেষ হওয়া ফ্লোরের অ্যাপার্টমেন্টগুলো প্রতি বর্গমিটারে বেশি দামে বিক্রি হয় এবং অন্যান্য ফ্লোরের তুলনায় দ্রুত বিক্রি সম্পন্ন হয়। এমনকি সৌভাগ্যের আশায় বিশেষ ফোন নম্বরগুলোও চড়া দামে নিলামে বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং বাড়িভাড়া লাগামহীনভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বড় বড় শহরগুলোতে অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া কিংবা মর্টগেজের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে আয়ের একটা বড় অংশ চলে যায়। এই আর্থিক সংকট ও চড়া মূল্যের হাত থেকে বাঁচতে অনেকে এখন ক্রুজ শিপ বা প্রমোদতরীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করার বিকল্প ট্রেন্ড বেছে নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ধারণা রয়েছে যে, প্রমোদতরীতে বসবাস করা মানেই কেবল অতিবিত্তশালীদের বিলাসিতা। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় অনেক তরুণ ও পেশাজীবী হিসাব কষে দেখছেন যে, ডাঙায় স্থায়ী আবাসন বজায় রাখার চেয়ে ক্রুজ শিপের ভাসমান দুনিয়ায় জীবন কাটানো অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাশ্রয়ী। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও রোমাঞ্চকর সব তথ্য। অনেকেই তাদের প্রচলিত ৯টা-৫টার অফিসের ধরাবাঁধা জীবন ছেড়ে কিংবা রিমোট ওয়ার্কের পূর্ণ স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে পাকাপাকিভাবে প্রমোদতরীতে থিতু হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী তরুণ অস্টিন ওয়েলস ‘এমভি ন্যারেটিভ’ নামের একটি বিশাল মেগা প্রমোদতরীতে দীর্ঘ ১২ বছরের জন্য একটি অ্যাপার্টমেন্ট লিজ নিয়েছেন। মেটা কোম্পানির অগমেন্টেড ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিভাগে কর্মরত এই তরুণ তিন লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে ২৩৭ বর্গফুটের একটি কেবিন কিনেছেন। সান ডিয়েগোতে যেখানে একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়াই আকাশচুম্বী, সেখানে ওয়েলস হিসাব করে দেখেছেন যে এই ভাসমান ঠিকানায় তার মাসিক খরচ মাত্র দুই হাজার ডলারের কাছাকাছি দাঁড়ায়। তিনি রিমোট জবের মাধ্যমে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জাহাজে বসেই বিশ্ব ভ্রমণ করছেন। শুধু অস্টিন একা নন, শারন লেন নামের ৭৪ বছর বয়সী এক মার্কিন নারী ‘ভিলা ভি ওডিসি’ নামের একটি আবাসিক ক্রুজ শিপে ১৫ বছরের জন্য কেবিন নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। তার মতে, ডাঙার জীবনে নিত্যদিনের বাজার করা বা ঘর পরিষ্কার করার কোনো ঝামেলা জাহাজে পোহাতে হয় না। আইটি পেশাজীবী রায়ান গুট্রিজ বছরের প্রায় ৩০০ দিনই ক্রুজ শিপে কাটিয়ে দেন এবং সেখান থেকেই তার ক্লাউড সলিউশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ পরিচালনা করেন। মার্কিন দম্পতি অ্যাঞ্জেলিন ও রিচার্ড বার্কও নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে স্থায়ীভাবে ক্রুজ লাইফে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৮৯ ডলার খরচে তারা থাকা-খাওয়া, যাতায়াত, বিনোদন ও বন্দরের বিভিন্ন ফি মিটিয়ে ফেলছেন। তবে প্রমোদতরীর এই ভাসমান জীবন দেখতে জমকালো মনে হলেও এর কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ বা অন্ধকার দিকও রয়েছে। জাহাজে কেবিনগুলোর আকার তুলনামূলক বেশ ছোট হয় এবং দেওয়াল পাতলা হওয়ায় পাশের রুমের আওয়াজ প্রায়ই বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সমুদ্র যখন উত্তাল থাকে, তখন মোশন সিকনেস বা লাগাতার বমি ভাব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি জাহাজে হঠাৎ কোনো জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে তার খরচ ডাঙার তুলনায় অনেক বেশি চড়া হতে পারে। সব মিলিয়ে, যাদের রিমোট জব করার স্বাধীনতা রয়েছে এবং যারা চার দেওয়ালের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে বিশ্ব ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে ডাঙার উচ্চমূল্যের জীবন ছেড়ে ক্রুজ শিপের ভাসমান জীবন এক দারুণ আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকটের মধ্যে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আবাসিক বাড়ির মালিকানা ও ভাড়ার ব্যবসা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্য “তারা যত খুশি সম্পত্তি কিনতে পারে, কিন্তু আমাদের ঘরবাড়ি ভাড়ায় দিতে পারবে না” এ বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কংগ্রেসে আলোচিত একটি প্রস্তাবে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একক পরিবারের বসবাসযোগ্য বাড়ি দীর্ঘমেয়াদে ভাড়ার জন্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রস্তাবটির সমর্থকদের দাবি, এতে বাজারে আরও বেশি বাড়ি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হবে এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী সাধারণ পরিবারগুলো উপকৃত হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হাজার হাজার বাড়ি কিনে ভাড়ার ব্যবসা গড়ে তুলেছে। এতে অনেক এলাকায় বাড়ির দাম বেড়েছে এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নিজস্ব বাড়ি কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, এ ধরনের কঠোর নিয়ন্ত্রণ নতুন আবাসন নির্মাণে বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে ভাড়ার জন্য নতুন বাড়ি নির্মাণের গতি কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে ভাড়াটিয়ারাই ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ সুদের হার, সীমিত আবাসন সরবরাহ এবং বাড়ির মূল্যবৃদ্ধির কারণে আবাসন সংকট বর্তমানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় করপোরেট মালিকানার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বে শোর আবাসিক এলাকায় একটি মুসলিম ছেলেদের আবাসিক স্কুল চালুর পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১২০ জন কিশোর শিক্ষার্থী নিয়ে গড়ে উঠতে যাওয়া এই আবাসিক স্কুলটি তাদের শান্ত উপশহরের পরিবেশ নষ্ট করবে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুন মাসে ৫ মিলিয়ন ডলারে ১৩ একরের একটি ওয়াটারফ্রন্ট সম্পত্তি কিনে নেয় ‘ইউনাইটেড আমেরিকান মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন’। এর আগে সম্পত্তিটি রোমান ক্যাথলিক মন্টফোর্ট মিশনারিদের অধীনে ছিল এবং একসময় সেখানে একটি ক্যাথলিক সেমিনারি ও পরবর্তীতে প্রিস্টদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে নতুন মালিকরা সেখানে ইসলামিক শিক্ষাকেন্দ্র ও আবাসিক স্কুল চালুর উদ্যোগ নিলে স্থানীয় ‘স্যাক্সন সেজ নো’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে বাসিন্দারা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। গত মঙ্গলবার আইসলিপ টাউন জোন বোর্ডের এক সভায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শত শত ক্ষুব্ধ বাসিন্দা উপস্থিত হয়ে এই প্রস্তাবের তীব্র প্রতিবাদ জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় একটি বড় মাপের আবাসিক স্কুল চালু হলে অতিরিক্ত শব্দদূষণ, যানজট এবং এলাকার নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে। এছাড়া ছোট শিশুদের জন্য একটি ডে কেয়ার সেন্টার চালুর বিষয়েও বাসিন্দাদের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে স্কুলটির আইনজীবী স্যামুয়েল এল. বিফুলকো এবং আয়োজকরা জানিয়েছেন, টাউনের জোন কোড মেনেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে এবং সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে বোর্ডিং স্কুলটি পরিচালনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর কঠোর নিয়মকানুন থাকায় এলাকার শান্ত পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলেও দাবি তাদের। বর্তমানে বিষয়টি আইসলিপ টাউন জোন বোর্ডের পর্যালোচনায় রয়েছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি মহানগর এলাকায় বসবাসের খরচ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার চেয়েও বেশি হয়ে গেছে। একসময় কম কর, উষ্ণ আবহাওয়া ও তুলনামূলক কম খরচের কারণে যেসব মানুষ নিউইয়র্ক ছেড়ে মায়ামিতে চলে যেতেন, সেই সমীকরণ এখন বদলে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ আয়ের মানুষদের জন্য শহরটি এখনও আকর্ষণীয় হলেও মধ্যবিত্ত ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের সর্বশেষ আঞ্চলিক মূল্যসূচক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মায়ামি–ফোর্ট লডারডেল–ওয়েস্ট পাম বিচ মহানগর এলাকার জীবনযাত্রার ব্যয়ের সূচক নিউইয়র্ক মহানগর এলাকার চেয়েও বেশি। বর্তমানে কেবল সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়াই মায়ামির চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির পর নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে বিপুলসংখ্যক উচ্চ আয়ের মানুষ এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দক্ষিণ ফ্লোরিডায় চলে আসে। এতে আবাসন বাজারে চাহিদা দ্রুত বেড়ে যায়। পাশাপাশি বাড়ির মূল্য, ভাড়া, বীমা, ব্যক্তিগত স্কুলের খরচ এবং রেস্তোরাঁয় খাওয়ার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ২০১৯ সালের পর থেকে মায়ামি অঞ্চলে ভোক্তা মূল্য প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় মহানগরগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চাপে পড়েছেন মধ্যম আয়ের চাকরিজীবী, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সেবাখাতের কর্মীরা। তাদের অনেকের আয় বাড়লেও তা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। ফলে শহরের কেন্দ্র থেকে দূরের এলাকায় চলে যাওয়া বা অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তরের প্রবণতাও বাড়ছে। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের পেশাজীবী, আর্থিক খাতের কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে মায়ামির আকর্ষণ এখনো কমেনি। কারণ, ফ্লোরিডায় এখনো কোনো অঙ্গরাজ্য আয়কর নেই। অনেকের মতে, উচ্চ করের অঙ্গরাজ্য থেকে আসা ধনীদের জন্য কর-সুবিধা ব্যয় বৃদ্ধির একটি অংশ পুষিয়ে দেয়। তবে সাধারণ পরিবারের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা কার্যত মিলছে না। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মায়ামির দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ আবাসনের সীমিত সরবরাহ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, উচ্চ বীমা ব্যয় এবং শক্তিশালী রিয়েল এস্টেট বাজার। এসব কারণে শহরটির দীর্ঘদিনের ‘সাশ্রয়ী বিকল্প’ হিসেবে পরিচিতি প্রায় হারিয়ে গেছে। যদিও মায়ামি এখনও উষ্ণ আবহাওয়া, সমুদ্রসৈকত ও কর-সুবিধার কারণে অনেকের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য, তবু জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় শহরটির ভবিষ্যৎ আবাসন বাজার এবং মধ্যবিত্তের টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
দীর্ঘদিন বিক্রেতাদের দাপটের পর যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের আরও নয়টি বড় শহরের আবাসন বাজার দ্রুত ‘ক্রেতাবান্ধব’ বা বায়ার্স মার্কেটের দিকে এগোচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতারা বেশি দর-কষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন। রিয়েলটর ডটকমের ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ‘মার্কেট ক্লক’ প্রতিবেদনে ১০০টি মহানগর এলাকার আবাসন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বর্তমানে ১৯টি মহানগর এলাকা ইতোমধ্যেই বায়ার্স মার্কেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি আরও ৯টি শহর চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের শেষ নাগাদ সেই অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। প্রতিবেদনে যেসব শহরকে দ্রুত ক্রেতাবান্ধব বাজারের দিকে এগোতে দেখা গেছে, সেগুলো হলো—আটলান্টা (জর্জিয়া), বেকার্সফিল্ড (ক্যালিফোর্নিয়া), বার্মিংহাম (আলাবামা), হনোলুলু (হাওয়াই), হিউস্টন (টেক্সাস), মেমফিস (টেনেসি), রিভারসাইড (ক্যালিফোর্নিয়া), সান অ্যান্টোনিও (টেক্সাস) এবং সিরাকিউজ (নিউইয়র্ক)। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এসব শহরে বাড়ির তালিকা বা ইনভেন্টরি বেড়েছে, বিক্রি হতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে এবং অনেক বিক্রেতা মূল্য কমানো, ক্লোজিং কস্টে সহায়তা বা মর্টগেজ সুদের হার কমানোর মতো অতিরিক্ত সুবিধা দিতে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে ক্রেতাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি বিকল্প এবং দর-কষাকষির সুযোগ তৈরি হয়েছে। আটলান্টার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট লিআ্যান ওয়েদার্স বলেন, বাজারে বাড়ির সরবরাহ বেড়েছে এবং উচ্চ মর্টগেজ সুদের কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে বিক্রেতারা এখন মূল্য ও অন্যান্য শর্ত নিয়ে আলোচনায় বেশি নমনীয় হচ্ছেন। হিউস্টনের বাজারেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীদের মতে, একক পরিবারের বাড়ির ইনভেন্টরি প্রায় ৫.২ মাসে পৌঁছেছে। এর ফলে ক্রেতারা তাড়াহুড়া না করে বিভিন্ন বাড়ি তুলনা, পরিদর্শন এবং দর-কষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন। সান অ্যান্টোনিওতে বিশেষ করে নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে নির্মাতারা সুদের হার কমানোর সুবিধা, ক্লোজিং কস্ট বহন এবং অন্যান্য প্রণোদনা দিচ্ছেন। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, মর্টগেজ সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে না গেলে আগামী কয়েক মাসও ক্রেতাদের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। রিয়েলটর ডটকমের এই বিশ্লেষণে আবাসন বাজারের ভারসাম্য নির্ধারণে বাড়ির সরবরাহ, বাজারে থাকার সময়, মূল্য পরিবর্তন এবং তালিকাভুক্ত দামের তুলনায় বিক্রয়মূল্যসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাসন বাজারের চিত্র এখন একরকম নয়; কোথাও বিক্রেতাদের প্রভাব বজায় থাকলেও অনেক শহরে ধীরে ধীরে ক্রেতাদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে।
জার্মানির থুরিঙ্গিয়া অঙ্গরাজ্যের কামসডর্ফ এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের সমপরিমাণ মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে ১৫টি বাড়িসহ পুরো একটি গ্রাম। সম্প্রতি প্রকাশিত ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৪ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সম্পত্তিটির বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ইউরো। বিক্রির জন্য নির্ধারিত এই বিশাল সম্পত্তিতে ১০০ বর্গমিটার আয়তনের ১৫টি একতলা ভবনের পাশাপাশি ৩০০ বর্গমিটারের একটি বড় প্রাক্তন ক্যান্টিন ভবন রয়েছে। সম্পত্তিটির বর্তমান মালিক ফ্রানৎস এবারিশ কেবল জমি বিক্রি করতে চান না, বরং এমন একজন ক্রেতা খুঁজছেন যিনি জায়গাটিকে নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবেন। প্রশাসনিক ও ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তদানীন্তন পূর্ব জার্মানির শিক্ষানবিশদের আবাসন ও পরবর্তীতে অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো এই গ্রামটি। দীর্ঘকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার পর ২০১৪ সালে প্রকৃতির সান্নিধ্যে একটি অনন্য আবাসিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এবারিশ সম্পত্তিটি কিনে নেন। তবে বর্তমানে এই পুরো প্রকল্পটি একটি বড় প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার মুখোমুখি হয়েছে। স্থানীয় জার্মান কর্তৃপক্ষের নিয়মানুসারে, দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত থাকার কারণে জায়গাটির পূর্বের আবাসিক মর্যাদা বাতিল হয়ে গেছে। ফলে সেখানে নতুন করে কোনো স্থায়ী আবাসিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিশেষ অনুমোদন কিংবা সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রয়োজন পড়বে। মূলত অর্থসংকটের কারণে স্বাস্থ্যগ্রাম, ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরির নিজস্ব পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে না পেরে এটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন এবারিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুকচ্ছলে ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ককেও এই প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গত কয়েক বছরের তুলনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। উচ্চ মর্টগেজ সুদ, ক্রেতাদের বাড়তি সতর্কতা এবং বাজারে বাড়ির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন বাড়ি বিক্রি আগের চেয়ে বেশি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির দাবি রাখছে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়ির মালিকদের জন্য হালনাগাদ বিক্রয় নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে রিয়েল এস্টেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শুধু ‘বিক্রির জন্য’ সাইনবোর্ড টানিয়ে বা কয়েকটি ছবি প্রকাশ করলেই এখন আর দ্রুত ক্রেতা পাওয়া যায় না। বাড়ি বিক্রির আগে এর মূল্য নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় মেরামত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পেশাদার মানের ছবি, উপযুক্ত বিপণন এবং অভিজ্ঞ রিয়েল এস্টেট এজেন্টের সহায়তা—সবকিছুই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রিয়েলটর ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল হলেও মর্টগেজ সুদের হার গড়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। একই সময়ে বাড়ির দাম সামগ্রিকভাবে প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে স্থানীয় বাজারভেদে দাম, চাহিদা এবং বিক্রির গতি ভিন্ন হতে পারে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে বাড়ির সংখ্যা বাড়লেও ক্রেতাদের প্রতিযোগিতা কিছুটা কমে যায়। ফলে অনেক বিক্রেতাকে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ এবং দরকষাকষির জন্য প্রস্তুত থাকতে হচ্ছে। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বাড়ি বিক্রির পুরো প্রক্রিয়ায় মূল্য নির্ধারণ, প্রদর্শন, ক্রেতার প্রস্তাব গ্রহণ, পরিদর্শন, মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত হস্তান্তর—প্রতিটি ধাপে যথাযথ প্রস্তুতি থাকলে সফলভাবে বিক্রি সম্পন্ন করার সম্ভাবনা বাড়ে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, বর্তমান বাজারে ক্রেতাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি বিকল্প রয়েছে। তাই বিক্রেতাদেরও বাজারের বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে সম্পত্তি দ্রুত এবং প্রতিযোগিতামূলক দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় আবাস এখনো নিউইয়র্ক। তবে গত কয়েক বছরে বাড়িভাড়া, বাড়ির মূল্য, সম্পত্তি কর, গাড়ির বীমা, ডে-কেয়ার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাংলাদেশি পরিবার নিউইয়র্ক ছেড়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করছেন। বিশেষ করে যারা প্রথম বাড়ি কিনতে চান, সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়াতে চান কিংবা অবসরের পর তুলনামূলক শান্ত ও সাশ্রয়ী জীবন কাটাতে চান, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরো, আবাসন বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের তুলনায় দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সঙ্গে এসব এলাকায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মুসলিম কমিউনিটি এবং বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বসতির মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আমেরিকা বাংলার বিশ্লেষণে আবাসন ব্যয়, মধ্যম পারিবারিক আয়, চাকরির সুযোগ, বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হালাল ব্যবসা, সন্তানের শিক্ষার পরিবেশ এবং নিউইয়র্কের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনা করে বাংলাদেশি পরিবারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ১০টি অঙ্গরাজ্যের চিত্র তুলে ধরা হলো। জর্জিয়া: দক্ষিণের নিউইয়র্ক বাংলাদেশি পরিবারের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি জর্জিয়া। আটলান্টা মেট্রো এলাকার ডুলুথ, লিলবার্ন, ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, টাকার, নরক্রস, আলফারেটা, কামিং ও ডিকেটর গত এক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অঙ্গরাজ্যটিতে মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার এবং একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩৯০ থেকে ৪১০ হাজার ডলারের মধ্যে। নিউইয়র্কে যে দামে একটি ছোট কনডো কেনা যায় না, সেই অর্থে জর্জিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে চার বা পাঁচ বেডরুমের বাড়ি কেনা সম্ভব। বাংলাদেশি ব্যবসার ক্ষেত্রেও জর্জিয়া এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আটলান্টা মেট্রো এলাকায় অসংখ্য বাংলাদেশি গ্রোসারি, হালাল সুপারমার্কেট, মাছ-মাংসের দোকান, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অনেক বাংলাদেশি মার্কেট সপ্তাহের সাত দিন গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে, এমনকি কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টা সেবাও দেওয়া হয়। ধর্মীয় পরিবেশও সমৃদ্ধ। আটলান্টা অঞ্চলে ডজনখানেক বড় মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল, হিফজ প্রোগ্রাম এবং সানডে মাদ্রাসা রয়েছে। ঈদ জামাত, রমজানের ইফতার, ইসলামিক কনফারেন্স এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করা হয়। এ কারণেই অনেক বাংলাদেশি এখন আটলান্টাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে “দক্ষিণের নিউইয়র্ক” বলে উল্লেখ করেন। ফ্লোরিডা: বাংলাদেশের আবহাওয়ার কাছাকাছি, অবসরজীবনের নতুন গন্তব্য নিউইয়র্ক থেকে স্থানান্তরিত হওয়া বাংলাদেশিদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য এখন ফ্লোরিডা। ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো, কিসিমি, জ্যাকসনভিল ও মায়ামিতে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো অঙ্গরাজ্য কর নেই। মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৭৫ হাজার ডলার এবং একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৪২০ হাজার ডলার । বাংলাদেশি পরিবারের কাছে ফ্লোরিডার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর আবহাওয়া। বছরের অধিকাংশ সময় উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু বিরাজ করায় অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। এখানকার প্রকৃতি, সবুজ পরিবেশ এবং দীর্ঘ গ্রীষ্মকাল নতুন অভিবাসীদের সহজে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। ফ্লোরিডায় আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, নারিকেল, লিচুসহ বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় ফলের চাষ হয় এবং স্থানীয় বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এমনকি অনেক বাংলাদেশি পরিবারের ব্যাকয়ার্ডে এসব ফলমূলের বাগান রয়েছে। যারা এই অঙ্গরাজ্যে থাকেন তারা মনে করেন, খাবার ও আবহাওয়ার দিক থেকে ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বাংলাদেশের কাছাকাছি অনুভূতি দেয়। অবসরপ্রাপ্তদের কাছেও ফ্লোরিডা অত্যন্ত জনপ্রিয়। রাজ্য আয়কর না থাকা, উষ্ণ আবহাওয়া এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কারণে অনেক বাংলাদেশি সিনিয়র নাগরিক অবসরের পর এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো ও জ্যাকসনভিলে বর্তমানে একাধিক মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল, উইকএন্ড মাদ্রাসা, হালাল মার্কেট এবং বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। টেক্সাস: চাকরি ও কর সুবিধার বড় কেন্দ্র ডালাস, হিউস্টন, প্লানো, আরভিং, অস্টিন ও সুগার ল্যান্ডে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার। একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩৪০ থেকে ৩৬০ হাজার ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো অঙ্গরাজ্য কর না থাকায় অনেক পরিবার টেক্সাসকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য বেছে নিচ্ছেন। প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ এবং ব্যবসায়িক খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামিক সেন্টার, ইসলামিক একাডেমি, মসজিদ, হালাল সুপারমার্কেট এবং বাংলাদেশি ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিউ জার্সি: নিউইয়র্কের সবচেয়ে কাছের বিকল্প যারা নিউইয়র্কে চাকরি বা ব্যবসা বজায় রাখতে চান কিন্তু বসবাসের জন্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ খুঁজছেন, তাদের জন্য নিউ জার্সি অন্যতম সেরা বিকল্প। জার্সি সিটি, প্যাটারসন, এডিসন, উডব্রিজ ও নর্থ ব্রান্সউইকে শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নিউইয়র্কে যাতায়াত করেন। অসংখ্য মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, বাংলাদেশি গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং কমিউনিটি সংগঠনের কারণে নতুন অভিবাসীদের জন্য এখানকার পরিবেশ বেশ পরিচিত। মেরিল্যান্ড: নিউইয়র্কের কাছাকাছি, চাকরির বড় বাজার বাল্টিমোর, সিলভার স্প্রিং, এলিকট সিটি ও ডিসি মেট্রো এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত বাড়ছে। মধ্যম পারিবারিক আয় এক লাখ ডলারের বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্বাস্থ্যসেবা, বায়োটেক, শিক্ষা, সরকারি সংস্থা এবং ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে। বাল্টিমোর থেকে কয়েক ঘণ্টার ড্রাইভেই নিউইয়র্কে পৌঁছানো যায়। এখানেও বাংলাদেশি গ্রোসারি, হালাল ব্যবসা, ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদের সংখ্যা বাড়ছে। নর্থ ক্যারোলাইনা: প্রযুক্তি খাতের নতুন গন্তব্য র্যালি, ক্যারি, মরিসভিল ও শার্লটে তথ্যপ্রযুক্তি, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের চাকরির কারণে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সংখ্যা বাড়ছে। ভালো পাবলিক স্কুল, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটি এই অঙ্গরাজ্যকে পরিবারগুলোর কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। মিশিগান: পুরোনো বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্ত ঘাঁটি হ্যামট্রাম্যাক, ট্রয়, ক্যান্টন ও ওয়ারেনে বহু বছর ধরেই বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ২৬০ হাজার ডলার, যা তালিকার অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় কম। মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিফজ মাদ্রাসা, হালাল মার্কেট এবং বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট সহজেই পাওয়া যায়। পেনসিলভানিয়া: কম খরচে নিউইয়র্কের কাছাকাছি ফিলাডেলফিয়া, হ্যারিসবার্গ ও পিটসবার্গে বাংলাদেশি কমিউনিটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ৩০০ হাজার ডলারের কাছাকাছি। নিউইয়র্কের তুলনায় আবাসন ব্যয় অনেক কম হওয়ায় অনেক পরিবার এই অঙ্গরাজ্য বেছে নিচ্ছেন। ভার্জিনিয়া: উচ্চ আয় ও উন্নত শিক্ষা ফেয়ারফ্যাক্স, অ্যাশবার্ন, আলেকজান্দ্রিয়া ও উডব্রিজ এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং ফেডারেল সরকারের চাকরির বড় বাজার রয়েছে। মধ্যম পারিবারিক আয় ১ লাখ ডলারের কাছাকাছি। উন্নত পাবলিক স্কুল, ইসলামিক স্কুল এবং শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটির কারণে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় অঙ্গরাজ্য। মিনেসোটা: নিরাপদ পরিবেশ ও ইসলামিক কমিউনিটি মিনিয়াপোলিস, ব্লুমিংটন ও ইডেন প্রেইরিতে শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটি, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে বাংলাদেশি পরিবারের আগ্রহ বাড়ছে। সোমালি, দক্ষিণ এশীয় ও অন্যান্য মুসলিম কমিউনিটির উপস্থিতির কারণে অসংখ্য মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, হালাল ব্যবসা এবং ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার আগে শুধু বাড়ির দাম বা ভাড়া নয়, চাকরির সুযোগ, সন্তানের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, সম্পত্তি কর, গাড়ি ও বাড়ির বীমা, নিকটস্থ মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, বাংলাদেশি গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সাপোর্ট—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের স্বপ্নের ঠিকানা ছিল শুধু নিউইয়র্ক। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া ও মিনেসোটায় দ্রুত গড়ে উঠছে নতুন বাংলাদেশি জনপদ। ফলে অনেক প্রবাসী এখন মনে করছেন, আমেরিকায় ভালো জীবন মানেই শুধু নিউইয়র্ক নয়; বরং যেখানে কম খরচে নিজের বাড়ি, সন্তানের জন্য ভালো স্কুল, শক্তিশালী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ রয়েছে, সেখানেই তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের নতুন প্রবাসী বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ফোরক্লোজারের মুখে পড়া বাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রিয়েল এস্টেট তথ্যপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমের সর্বশেষ মধ্যবর্ষের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৮টি সম্পত্তির বিরুদ্ধে ফোরক্লোজার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। এই সময়ে ফোরক্লোজারের হারে দেশের শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডা। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় প্রতি ১০ হাজার আবাসিক ইউনিটের মধ্যে প্রায় ২৭টি ফোরক্লোজারের আওতায় এসেছে। এই হার যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। তালিকায় এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা, ইন্ডিয়ানা, ডেলাওয়্যার ও ইলিনয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোরক্লোজার কার্যক্রম শুধু সংখ্যায় বাড়েনি, আগের তুলনায় দ্রুতও শেষ হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে একটি সম্পত্তির ফোরক্লোজার প্রক্রিয়া শেষ হতে গড়ে ৫৬৩ দিন লেগেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম এবং ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে কম সময়। অ্যাটমের তথ্য বলছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরকারি সহায়তা কর্মসূচির কারণে ফোরক্লোজারের হার অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে সেই কর্মসূচিগুলো শেষ হওয়ার পর থেকে বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে এবং ফোরক্লোজারের সংখ্যাও বাড়ছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট-পরবর্তী সময়ের তুলনায় অনেক নিচে রয়েছে। সে সময়ের তুলনায় এখনো ফোরক্লোজারের হার কয়েক গুণ কম। অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তুলনায় সবচেয়ে বেশি বার্ষিক বৃদ্ধি দেখা গেছে আইডাহোতে, যেখানে ফোরক্লোজার ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। এরপর রয়েছে কলোরাডো, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও মিসিসিপি। মহানগর এলাকার মধ্যে ফ্লোরিডার পুন্তা গোরদায় ফোরক্লোজারের হার সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড। এছাড়া জ্যাকসনভিল, কেপ কোরাল ও ওকালাও সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে। এদিকে রিয়েলটর ডটকমের পৃথক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফোরক্লোজার শেষে ব্যাংকের মালিকানায় চলে যাওয়া এবং পরে বিক্রির জন্য বাজারে আসা বাড়িগুলো সাধারণ বাড়ির তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এসব বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য সম্ভাব্য বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ২৭ দশমিক ২ শতাংশ কম ছিল। একই সঙ্গে এসব সম্পত্তির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও তুলনামূলক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারিকালীন বাড়ি কেনার তুমুল প্রতিযোগিতা ও তীব্র উন্মাদনা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে এবং বাজারে এখন ক্রেতারা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। আবাসন তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'রেডফিন'-এর সাম্প্রতিক জুন মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির বড় শহরগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশই এখন ক্রেতাদের বাজারে পরিণত হয়েছে। মূলত মায়ামি, হিউস্টন এবং অস্টিনের মতো সান বেল্ট অঞ্চলের জনপ্রিয় শহরগুলোতে অতিরিক্ত আবাসন বা বাড়ির মজুত গড়ে ওঠার কারণে বাজারে এই বড় পরিবর্তন এসেছে, যেখানে মহামারি-পরবর্তী সময়ে বাড়ি কেনার সামগ্রিক চাহিদা অনেকটাই ধীরগতির হয়ে পড়েছে। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য প্রস্তুত থাকা মানুষের চেয়ে বাড়ি বিক্রেতার সংখ্যা ছিল আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৫ লাখ বা ৪৮.৫ শতাংশ বেশি। রেডফিনের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ আসাদ খান জানান, বর্তমানে সাধারণ মানুষের বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়া অতিরিক্ত খরচ। তবে রেকর্ড পরিমাণ বেশি দাম এবং চড়া বন্ধকী সুদের হারের মধ্যেও যাদের এখন বাড়ি কেনার মতো পর্যাপ্ত বাজেট রয়েছে, বাজার নিয়ন্ত্রণের আসল ক্ষমতা ও সুবিধা এখন প্রধানত তাদের হাতেই রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় ক্রেতাদের জন্য বেছে নেওয়ার মতো প্রচুর বাড়ি খোলা রয়েছে। এর ফলে আগে বাড়ি কেনা নিয়ে বাজারে যে কাড়াকাড়ি বা নিলামের তীব্র প্রতিযোগিতা হতো, তা এখন আর নেই বললেই চলে। এখন ক্রেতারা বাড়ির চূড়ান্ত দাম নির্ধারণ, বাড়ি কেনার অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ কমানো এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যয়ের বিষয়ে বিক্রেতাদের সাথে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে দর কষাকষি করার সুযোগ পাচ্ছেন, যা আগে প্রায় অসম্ভব ছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি নির্দিষ্ট বড় বাজারে—বিশেষ করে মায়ামি, ন্যাশভিল এবং টেক্সাসের কিছু অংশে ক্রেতাদের তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিক্রেতা উদ্বৃত্তের হার মায়ামিতে ১৪০ শতাংশ, ন্যাশভিলে ১২৯ শতাংশ, হিউস্টনে ১২৪ শতাংশ, সান আন্তোনিওতে ১১৭ শতাংশ এবং অস্টিনে ১০১ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে মায়ামিতে কন্ডোগুলোর অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ফি বৃদ্ধি, আকাশচুম্বী আবাসন বীমা প্রিমিয়াম এবং অতিরিক্ত দামের কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাই এখন বাড়ি কেনা থেকে সাময়িকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে ২০২০ সালের পর চলতি বছরের জুনেই সবচেয়ে বেশি নতুন বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর বিপরীতে মাত্র সাতটি এলাকা এখনও বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যার মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির নিকটবর্তী নাসাউ কাউন্টি, নেওয়ার্ক, নিউ ব্রান্সউইক এবং সান ফ্রান্সিসকো অন্যতম। নিউইয়র্কের আশেপাশের এলাকাগুলোতে বাড়ির তীব্র সংকটের কারণে বিক্রেতারা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। অন্যদিকে, সান ফ্রান্সিসকোতে নতুন বাড়ি নির্মাণের ঘাটতির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দারুণ জোয়ারের কারণে ধনী প্রযুক্তি ক্রেতারা বড় বেতনের টাকা দিয়ে দ্রুত বাড়ি কিনে নিচ্ছেন।
করোনা মহামারি শুরুর সময়ে মানুষের বয়স কত ছিল, তার ওপর তাদের বাকি জীবনের পথ নির্ধারিত হতে পারে বলে নতুন এক বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মহামারি শুরুর সময়ে ২১ বছর বয়সীদের তুলনায় ২২ বছর বয়সীদের পরিস্থিতি বেশি ভালো ছিল। দেশজুড়ে আবাসন সংকট লাঘবের লক্ষ্যে আজ থেকে একটি ফেডারেল আইন কার্যকর হওয়ার দিনে রিয়েলটর ডটকমে এই বিশ্লেষণটি প্রকাশিত হয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে রেকর্ড সংখ্যক তরুণ-তরুণী তাঁদের মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করছেন। এই সংখ্যা নির্দেশ করে যে, করোনাকালের আবাসন বাজারের দামের ওঠানামার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী এবং মহামারি শুরুর সময় কার বয়স কত ছিল তার ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। আদমশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করে রিয়েলটর ডটকম দেখিয়েছে, ২০২৫ সালে রেকর্ড ২ কোটি ৫০ লাখ তরুণ-তরুণী তাঁদের মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করছিলেন। এই সংখ্যাটি ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী মোট তরুণদের মধ্যে প্রতি ৩ জনের মধ্যে ১ জন। এই হারটি ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির চরম সংকটের সময়ে মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করা তরুণদের হারের চেয়ে সামান্য কম। মহামারির পর এই হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বাড়িঘরের ক্রমাগত উচ্চ মূল্যের চাপে বাধ্য হয়ে অনেকেই আবার নিজেদের মা-বাবার ঘরে ফিরে গেছেন। মা-বাবার সঙ্গে থাকা ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের প্রায় ৭০ শতাংশই বর্তমানে কর্মজীবী এবং তাদের এক-চতুর্থাংশের বেশি তরুণের ব্যাচেলর ডিগ্রি রয়েছে। মহামারি শুরুর সময়ে বয়সটি কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা নিয়ে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমানে যাদের বয়স ২৮ এবং ২৯ বছর, তাঁরা ২০২১ সালের কম মর্টগেজ রেটের সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। এই কারণে তাঁদের পক্ষে বাড়ি কেনা সহজ হয়েছিল। অন্যদিকে মহামারি শুরুর সময়ে যারা কেবল কলেজপড়ুয়া বা আরও কম বয়সী ছিলেন, তাঁরা এই সুবর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমানে আবাসন বাজারে বাড়িঘরের দামের কারণে এই তরুণরা বাড়ি কেনার সুযোগ থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়ছেন।
নিউইয়র্ক সিটিতে তুলনামূলক কম দামে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ এনে দিয়েছে নতুন একটি হাউজিং লটারি। আপার ম্যানহাটনের ইনউড গার্ডেনস (Inwood Gardens) নামে ২৩ তলা মিচেল-লামা (Mitchell-Lama) সমবায় আবাসন প্রকল্পে নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য লটারির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম PIX11 জানিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতায় এক, দুই ও তিন শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট কেনার সুযোগ থাকছে। এক শয়নকক্ষের ইউনিটের ক্রয়মূল্য শুরু হচ্ছে ১ হাজার ৮২০ ডলার থেকে। তবে অ্যাপার্টমেন্ট কেনার পাশাপাশি প্রতি মাসে নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) খরচও পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্পটির অনেক অ্যাপার্টমেন্টে বড় ব্যক্তিগত টেরেস রয়েছে। এছাড়া ভবনে ইনডোর ও আউটডোর পার্কিং, স্থায়ী ব্যবস্থাপনা অফিস, কমিউনিটি রুম এবং লন্ড্রি সুবিধাও রয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ১ হাজার ৮২০ থেকে ২ হাজার ৪৬০ ডলার। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৭১৭ দশমিক ১৫ থেকে ৯৩৯ দশমিক ৭১ ডলার। এই ইউনিটের জন্য পরিবারের সদস্যসংখ্যা হতে হবে ১ থেকে ২ জন এবং বার্ষিক পারিবারিক আয় হতে হবে ২৮ হাজার ৬৮৬ থেকে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ ডলারের মধ্যে। দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য ২ হাজার ৩৮০ থেকে ২ হাজার ৯১০ ডলার। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৯২২ দশমিক ০৪ থেকে ১ হাজার ১২৪ দশমিক ৫২ ডলার। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ২ থেকে ৪ জন এবং বার্ষিক আয় ৩৬ হাজার ৮৮১ দশমিক ৬০ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার হতে হবে। তিন শয়নকক্ষের ইউনিটের মূল্য ৩ হাজার ৩৮০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ ডলার। মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ১ হাজার ১৯২ দশমিক ৫৭ থেকে ১ হাজার ৪৩৫ দশমিক ২৩ ডলার। এসব ইউনিটের জন্য পরিবারের সদস্যসংখ্যা ৪ থেকে ৬ জন এবং বার্ষিক আয় ৪৭ হাজার ৭০২ দশমিক ৮০ থেকে ১ লাখ ৮৮ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। যারা কাগজের আবেদনপত্র চান, তারা নির্ধারিত ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্ক সিটির মতো উচ্চমূল্যের আবাসন বাজারে Mitchell-Lama কর্মসূচি মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসনের সুযোগ তৈরি করে আসছে। তবে আবেদনকারীদের নির্ধারিত আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। লটারিতে নির্বাচিত হওয়ার পরও চূড়ান্ত যোগ্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে আবেদন অনুমোদন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যসহ পুরো দেশজুড়ে আবাসন খাতে কর্পোরেট মালিকানা হ্রাসের লক্ষ্যে সিনেটর রাফায়েল ওয়ারনকের একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেল আইনে পরিণত হয়েছে। গত শনিবার ওয়ারনক ঘোষণা করেন, বৃহৎ প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর একক পরিবারের ব্যবহারের উপযোগী বা 'সিঙ্গেল-ফ্যামিলি' বাড়ি কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞার এই বিধানটি কার্যকর হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ছাড়াই বৃহত্তর দ্বিদলীয় এই আবাসন প্যাকেজটি আইনে পরিণত হয়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসের অধিবেশন চলাকালে কংগ্রেস কর্তৃক পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট নির্ধারিত ১০ দিনের মধ্যে স্বাক্ষর বা ভেটো প্রদান না করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনে পরিণত হয়। নতুন এই আইনটি '২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট'-এর অন্তর্ভুক্ত, যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফেডারেল আবাসন সংস্কার প্যাকেজ বলে মনে করছেন আইনপ্রণেতারা। এই আইনে আবাসনের সরবরাহ বৃদ্ধি, মূল্যায়ন বা অ্যাপ্রাইজাল প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, গ্রামীণ আবাসন কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং আরও বেশি বাড়ি নির্মাণে স্থানীয় সরকারগুলোকে উৎসাহিত করার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এক বিবৃতিতে ওয়ারনক বলেন, সাশ্রয়ী আবাসনের সংকটের সমাধানে জর্জিয়াবাসী দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করে আসছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতির বদলে যখন সাধারণ মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তখনই এ ধরনের ভালো ও জনবান্ধব আইন প্রণয়ন করা সম্ভব। জর্জিয়ার আবাসন বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বাড়তে থাকা উদ্বেগের পটভূমিতেই নতুন এই আইনটি পাস হলো। সিবিএস নিউজ আটলান্টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেট্রো আটলান্টার প্রতি চারটি ভাড়া দেওয়া সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির মধ্যে অন্তত একটির মালিকানা বৃহৎ কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের হাতে। সংখ্যায় যা ৭২ হাজারের বেশি বাড়ি। এর ফলে এই অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানার আধিক্য দেখা যায়। আবাসন অধিকারকর্মীরা দাবি করে আসছিলেন যে, নগদ অর্থের জোরে এসব কোম্পানি সাধারণ পরিবারগুলোকে পেছনে ফেলে বাড়ি কিনে নেয়, যা প্রথমবার ক্রেতাদের জন্য সুযোগ কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাড়ি ও ভাড়ার দাম বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে। এই প্রবণতা তুলে ধরে ওয়ারনক বারবার বলেছেন, কর্পোরেট বিনিয়োগকারীরা বাড়িগুলোকে মানুষের বসবাসের জায়গার বদলে কেবল একটি আর্থিক সম্পদ হিসেবেই বিবেচনা করে আসছেন। প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলোর ভবিষ্যতের বাড়ি ক্রয়ের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি এই আবাসন প্যাকেজে স্থানীয় সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বাড়ি নির্মাণে উৎসাহিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক বাধা কমানো, বাড়ি মেরামত ও আবহাওয়া-উপযোগী করার জন্য অনুদান এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ফেডারেল আবাসন কর্মসূচির সংস্কারের বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই আইনে ওয়ারনকের 'অ্যাপ্রাইজাল মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট'-ও সংযুক্ত করা হয়েছে, যা বাড়ির মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। মেট্রো আটলান্টায় ক্রমবর্ধমান দাম ও আবাসনের অপর্যাপ্ততার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে জর্জিয়ার আবাসন বাজারে দীর্ঘমেয়াদে এই আইনের প্রভাব কী হবে, তা এখনো দেখার বিষয়। তবে দেশজুড়ে সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রভাব মোকাবিলায় এটি বিগত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ একটি ফেডারেল উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক বসতবাড়ি কেনায় বড় করপোরেট বিনিয়োগকারীদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে নির্দিষ্ট সীমার বেশি পারিবারিক বসতবাড়ির মালিক বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আর অতিরিক্ত বাড়ি কিনতে পারবেন না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে আবাসনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম। নতুন বিধানটি ২১ শতক রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট-এর অংশ হিসেবে কার্যকর হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে এক নির্বাহী আদেশে ওয়াল স্ট্রিটভিত্তিক বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে আবাসন বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। নতুন আইন অনুযায়ী, যেসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর মালিকানায় ৩৫০ বা তার বেশি পারিবারিক বসতবাড়ি রয়েছে, তারা নতুন করে আর বাড়ি কিনতে পারবেন না। তবে ইতিমধ্যে তাদের মালিকানায় থাকা বাড়ি বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা নেই। সম্পত্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোটালিটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট পারিবারিক বসতবাড়ির মাত্র ০.৬৬ শতাংশ বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন আইনের প্রভাব সীমিতই থাকবে। উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়েল এস্টেট ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল সাইলার বলেন, এই আইন কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সুযোগ বাড়াতে পারে, তবে উচ্চ সুদের হার, আবাসনের ঘাটতি, নির্মাণ ব্যয় এবং জোনিং-সংক্রান্ত জটিলতার মতো বড় সমস্যাগুলোর সমাধান এটি করতে পারবে না। মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অধিকাংশ ভাড়াবাড়ির মালিকই ছোট আকারের ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী। নতুন আইন তাদের ওপর প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে আটলান্টাসহ সান বেল্ট অঞ্চলের কয়েকটি শহরে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকায় তারা অতীতে নগদ অর্থে বাড়ি কিনে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান নতুন বাড়ি কেনার বদলে বিদ্যমান সম্পত্তি বিক্রির দিকে ঝুঁকেছে। রিয়েল এস্টেট গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিয়েলটর ডটকম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের তুলনায় বড় বিনিয়োগকারীদের বাড়ি কেনার হার ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক বাজেয়াপ্ত বাড়ি কম দামে কিনে ভাড়ার ব্যবসা শুরু করে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। কোভিড-১৯ মহামারির সময় কম সুদের সুযোগে তারা আবারও ব্যাপক হারে বাড়ি কিনতে শুরু করে। সমালোচকদের দাবি, এতে সাধারণ পরিবারের জন্য বাড়ি কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেক এলাকায় আবাসনের দাম ও ভাড়া বেড়ে যায়। তবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, তারা ভাড়াটেদের জন্য বিকল্প আবাসনের সুযোগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, অবৈধ অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশটিতে বাড়ির দাম ও ভাড়া কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সীমান্ত নীতির ফলে তরুণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবাসন আরও সাশ্রয়ী করার পথে অগ্রগতি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি শুরু থেকেই বলে আসছিলেন যে, অবৈধ অভিবাসীদের প্রবেশ বন্ধ করা গেলে আবাসন বাজারের ওপর চাপ কমবে এবং বাড়ির দামও কমতে শুরু করবে। তার ভাষায়, "অবৈধ অভিবাসীদের ঢল থামাতে পারলে বাড়ির দাম কমবে এবং পরিবার গড়তে চাওয়া তরুণ মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবাসন আবারও সাশ্রয়ী হবে।" ভ্যান্স আরও দাবি করেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর প্রভাব আবাসন বাজারেও দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডালাস ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহানগর এলাকায় বাড়ির দামের গড় বৃদ্ধির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং ভাড়া বৃদ্ধির প্রায় ২০ শতাংশের পেছনে অননুমোদিত অভিবাসীদের প্রবেশ ভূমিকা রেখেছে। তবে ওই গবেষণায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আবাসনের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে অভিবাসন একমাত্র কারণ নয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, আবাসনের সীমিত সরবরাহ, স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কারণও বাড়ির দাম ও ভাড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গবেষকরা আরও বলেন, অননুমোদিত অভিবাসীদের আগমনে শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান বেড়েছে এবং সামগ্রিকভাবে মজুরির ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেছেন, গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক খসড়া এবং এটি ফেডারেল রিজার্ভের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। এদিকে গত মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসে পাস হওয়া ২১স্ট সেঞ্চুরি রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট-এ স্বাক্ষরের নির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল করেন। দ্বিদলীয় সমর্থনে পাস হওয়া এই বিলের লক্ষ্য ছিল আবাসনের সরবরাহ বাড়ানো, বাড়ির মূল্য কমাতে সহায়তা করা এবং বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোর একক পরিবারের জন্য নির্মিত বাড়ি ব্যাপকভাবে কেনার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস না হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই বিলে স্বাক্ষর করবেন না। প্রস্তাবিত এই বিলে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ বাধ্যতামূলক করার বিধান রয়েছে। আবাসন ব্যয়, অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসন সংকটের পেছনে অভিবাসনের পাশাপাশি নির্মাণ ব্যয়, সুদের হার, জমির স্বল্পতা এবং সরবরাহ সংকটের মতো একাধিক কারণও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
করোনা মহামারি কালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে আবাসন খাতের যে ব্যাপক উত্থান হয়েছিল, তা এখন পুরোপুরি ফিকে হয়ে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, সেখানকার বহু বাড়ির মালিক আগের কেনা দামের চেয়েও কম মূল্যে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। হাউজিং ডেটা ও অ্যানালিটিক্স ফার্ম পার্সেল ল্যাবের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ফ্লোরিডায় ২ লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই সংখ্যাটি পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রির জন্য থাকা মোট বাড়ির প্রায় ১৪ শতাংশ বা প্রতি ৭টি বাড়ির মধ্যে ১টি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার তালিকাভুক্ত বাড়িগুলোর মধ্যে ১০ শতাংশেরই দাম আগের কেনা মূল্যের চেয়ে কম নির্ধারণ করা হয়েছে। কম দামে বাড়ি বিক্রির এই হারের দিক থেকে আমেরিকার সমস্ত অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ফ্লোরিডার অবস্থান এখন দ্বিতীয়, যা জাতীয় গড়ের চেয়ে প্রায় চার শতাংশ বেশি। কয়েক বছর আগের তুলনায় এটি একটি বড় ধাক্কা, যখন স্বল্প সুদে ঋণ এবং অতিরিক্ত জনস্রোতের কারণে এখানে বাড়ি কেনার ধুম লেগেছিল। আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বন্ধকী ঋণের উচ্চ সুদহার, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাড়ির বীমা খরচ অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা আগ্রহ হারিয়েছেন। পাশাপাশি বিগত বছরগুলোর তুলনায় ফ্লোরিডায় নতুন জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতিও বেশ মন্থর হয়ে এসেছে। এর বিপরীতে বিগত বছরগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ নতুন বাড়ি নির্মাণ হওয়ায় বাজারে এখন বাড়ির যোগান প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি। ফ্লোরিডার পশ্চিমাঞ্চলীয় মেট্রো এলাকা যেমন টাম্পা এবং পুন্তা গোর্দার বিক্রেতারা সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে রয়েছেন। পুন্তা গোর্ডায় গত এক বছরে বাড়ির দাম প্রায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে এবং কেপ কোরালে কমেছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। ফলে বাজারে টিকে থাকতে এই অঞ্চলের প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বাড়ির দাম কমাতে বাধ্য হয়েছেন বিক্রেতারা। তবে মন্দার এই বাজারে ফ্লোরিডায় এখনও ক্যালিফোর্নিয়া বা উত্তর-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের চেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি মিলছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির ঘোষিত ‘ব্লক বাই ব্লক’ আবাসন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, পরিকল্পনাটির আওতায় অবহেলিত ভাড়ার ভবনগুলো ব্যক্তিমালিকদের কাছ থেকে ভাড়াটিয়া সংগঠন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান (নন-প্রফিট) এবং কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্টের হাতে হস্তান্তরের পথ আরও সহজ করা হচ্ছে। তবে মামদানি প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নয়; বরং দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনায় থাকা ভবনগুলো রক্ষা এবং ভাড়াটিয়াদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ। মে মাসে প্রকাশিত ‘ব্লক বাই ব্লক’ পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে আবাসন খাতে ২২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর একটি অংশ অবহেলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভাড়ার ভবন সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নতুন মালিকানা ব্যবস্থায় স্থানান্তরের জন্য ব্যয় করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, এর লক্ষ্য নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণ এবং ভবনের মালিকদের অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে মেয়রের ‘মেয়রস অফিস টু প্রোটেক্ট টেন্যান্টস’-এর পরিচালক সিয়া উইভারের অতীতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে। পুরোনো এক পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত বাড়ির মালিকানাকে ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এসব মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসসহ বিভিন্ন মহল এর সমালোচনা করেন। পরে উইভার বলেন, অতীতের কিছু মন্তব্যের জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং সেগুলো তার বর্তমান অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এদিকে, নিউইয়র্কের আবাসন খাতের বিভিন্ন সংগঠন এবং সম্পত্তি মালিকদের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই পরিকল্পনা ব্যক্তিগত বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং সরকারের হস্তক্ষেপ বাড়াতে পারে। তাদের মতে, করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাড়ার ভবন অন্য ব্যবস্থাপনায় স্থানান্তরের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, মামদানি প্রশাসনের বক্তব্য হলো, যেসব ভবনের মালিক বছরের পর বছর রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং ভাড়াটিয়াদের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে পারছেন না, কেবল সেসব ক্ষেত্রেই বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, নিউইয়র্কে দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে হু হু করে বাড়ি বা ফ্ল্যাটের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে নিজের একটি আবাসন গড়ে তোলা এখন আকাশকুসুম স্বপ্ন। তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মাঝেই মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের নিউ ইয়র্কবাসীদের জন্য মাত্র ১১ হাজার মার্কিন ডলারে সমবায় বা কো-অপ ফ্ল্যাটের মালিক হওয়ার এক বিরল ও অবিশ্বাস্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্রঙ্কসের পেলহাম বে এলাকার ১৭২০ মেফ্লাওয়ার অ্যাভিনিউতে অবস্থিত 'মেফ্লাওয়ার টেরেস' নামের একটি আবাসন প্রকল্পে নতুন করে এই ওয়েটলিস্ট বা অপেক্ষমাণ তালিকা উন্মুক্ত করা হয়েছে। এটি মূলত নিউ ইয়র্ক স্টেট হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়ালের অধীনে পরিচালিত একটি বিশেষ আবাসন কর্মসূচি। এর লক্ষ্য হলো সাধারণ রিয়েল এস্টেট বাজারের আকাশচুম্বী দামের তুলনায় অত্যন্ত কম মূল্যে নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া। এই প্রকল্পে বিভিন্ন আকারের এবং বিভিন্ন বাজেটের ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একক বাসিন্দা থেকে শুরু করে বড় পরিবারের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে অ্যাপার্টমেন্টগুলোর দাম ও মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই সুযোগ পেতে হলে আবাসন কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্যতা এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যার নিয়মাবলী পূরণ করতে হবে। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এখানে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ১১ হাজার ডলার থেকে, যার মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ প্রায় ৬৯০ ডলার। এছাড়া এক বেডরুমের ফ্ল্যাটের দাম ১৩ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৬০০ ডলার এবং দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটের দাম ১৭ হাজার থেকে ২১ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে রাখা হয়েছে। বড় পরিবারের জন্য তিন বেডরুমের ফ্ল্যাটগুলো ২০ হাজার ১০০ থেকে ২৩ হাজার ২০০ ডলারের মধ্যে পাওয়া যাবে। এই সাশ্রয়ী ফ্ল্যাটগুলোর জন্য যোগ্যতার সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। স্টুডিও এবং এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য যথাক্রমে ১ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার এবং ১ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত বার্ষিক আয়সম্পন্ন পরিবারগুলো আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে বড় ফ্ল্যাটগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৬ সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয় ১ লাখ ৮০ হাজার ১০০ ডলার পর্যন্ত শিথিলযোগ্য করা হয়েছে। মধ্যম আয়ের নিউ ইয়র্কবাসীরা যাতে অতিরিক্ত দামের কারণে শহর ছেড়ে চলে না যান, মূলত সেই উদ্দেশ্যেই এই আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লোভনীয় সুযোগের ওয়েটলিস্টে নাম লেখাতে আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া নির্দিষ্ট নম্বরে কল করে কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে কাগজের আবেদনপত্র সংগ্রহ করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সরকারের নেওয়া ৫ শতাংশ ডিপোজিট বা জামানত ব্যবস্থার নতুন নিয়মের কারণে বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন উচ্চ আয়ের ধনী ব্যক্তিরা। দেশটির বর্তমান লেবার সরকার উচ্চ আয়ের মানুষদের জন্য থাকা আগের আয়ের সীমা বা ক্যাপ তুলে নেওয়ার পর থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন এমন সব মানুষও সরকারি সহায়তায় মাত্র ৫ শতাংশ জামানত দিয়ে বাড়ি কিনছেন, যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলার বা তার চেয়েও বেশি। আগের ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন সরকার স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রথম বাড়ি কেনার সুবিধার্থে এই নিয়ম চালু করেছিল। সেই নিয়মে বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সরকার মর্টগেজ বা গৃহঋণের বীমার খরচ নিজে বহন করত। কিন্তু গত বছর বর্তমান লেবার সরকার তাদের প্রাক-নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একক ক্রেতাদের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার এবং যৌথ ক্রেতাদের জন্য ২ লাখ ডলারের আয়ের সীমাটি সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়। হাউজিং অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আয়ের সীমা তুলে নেওয়ার পর গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই স্কিমের অধীনে ৩৯ হাজার ৭০৪টি ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ঋণ পেয়েছেন এমন সব ব্যক্তি, যাদের আয় আগের নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি প্রায় ১ হাজার একক ক্রেতা রয়েছেন যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি এবং ১ হাজার ২৫১টি দম্পতি রয়েছেন যাদের যৌথ আয় ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের ওপরে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ের সীমা তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি সহায়তা এখন সাধারণ মানুষের বদলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচ্ছল ও ধনীদের পকেটে চলে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই নিয়মের কারণে বাজারে ক্রেতাদের সামর্থ্য কৃত্রিমভাবে বেড়ে গেছে, যা শেষ পর্যন্ত আবাসন বাজারে বাড়ির দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যে ব্যক্তিরা সরকারি সাহায্য ছাড়াও বাড়ি কিনতে পারতেন, তারাও এখন এই সুবিধার কারণে বিপুল ঋণ নিয়ে বাজারে নামছেন। পূর্বে যেখানে ২০ শতাংশ জামানতের নিয়মে ৫০ হাজার ডলার সঞ্চয়কারী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ লাখ ডলার ঋণ পেতেন, সেখানে ৫ শতাংশ জামানতের এই নতুন নিয়মে তিনি এখন অনায়াসেই ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। এই অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার পর থেকেই বাজারে বাড়ির দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। লেবার সরকার বাড়ি কেনার সুবিধা বাড়ানোর দাবি করলেও তথ্য বলছে, সাধারণ মানুষের বাড়ি কেনার হার তেমন বাড়েনি, বরং ধনীরাই এই সুযোগের মূল সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যের শার্লট শহরের ইউনিভার্সিটি সিটি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কোনো ম্যানেজমেন্ট বা আবাসন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ না থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন সেখানে বসবাসরত বাসিন্দারা। নর্থ ট্রায়ন স্ট্রিটে অবস্থিত ‘দ্য অলিভার’ নামের ওই অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হুট করে ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিটি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়ারা জানান, গত ১৭ জুন তারা প্রথম এই বিষয়টি জানতে পারেন। সে সময় লিজ অফিসের দরজায় একটি নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল—'আর্কালাইন' (Arqline) কোম্পানি আর এই প্রোপার্টি পরিচালনার দায়িত্বে নেই এবং খুব শিগগিরই একটি নতুন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। কিন্তু তারপর দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও নতুন কোনো কর্তৃপক্ষের দেখা মেলেনি এবং যোগাযোগও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ১ জুলাই মাসের ভাড়া দেওয়ার শেষ সময় থাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে মূল উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সঠিক জায়গায় ভাড়া পরিশোধ করা নিয়ে। লিজ অফিসের দরজায় ঝুলানো দ্বিতীয় একটি নোটিশে বাসিন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন জুলাই মাসের ভাড়া চেকের মাধ্যমে বা মানি অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেন এবং যেকোনো জরুরি মেরামতের অনুরোধের জন্য একটি সাধারণ ‘জিমেইল’ (Gmail) ঠিকানায় মেইল করেন। এদিকে একজন বাসিন্দা ফোনে জানান, প্রোপার্টির মালিকের এক বন্ধু নাকি মালিকের পক্ষে এই জুলাই মাসের ভাড়া সংগ্রহ করছেন। তবে ওই ব্যক্তির কাছে অনলাইনের কোনো পেমেন্ট সিস্টেম বা ভাড়াটিয়াদের তথ্যের কোনো অ্যাক্সেস নেই। এমনকি তিনি জানেনও না কার ভাড়া কত বা কোন ফ্ল্যাটে কে থাকছেন। ফলে ভাড়ার টাকা সঠিক জায়গায় যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে সবাই চরম আতঙ্কে আছেন। শার্লট এলাকায় ৩০টিরও বেশি অ্যাপার্টমেন্ট পরিচালনা করা বড় প্রতিষ্ঠান 'আর্কালাইন' কেন হঠাৎ এই প্রোপার্টির দায়িত্ব ছেড়ে দিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে অনেক বাসিন্দা ধারণা করছেন, প্রোপার্টির মূল মালিকের সঙ্গে ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির আর্থিক বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কাইয়াহ পেন্ডারগ্রাস নামের এক বাসিন্দা এই চরম অব্যবস্থাপনার একটি ভিডিও টিকটকে পোস্ট করার পর তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং এ পর্যন্ত ৬ লাখেরও বেশি মানুষ তা দেখেছেন। বর্তমানে ওই অ্যাপার্টমেন্টের মালিক বা সাবেক ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি কেউই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।