স্থায়ী ও বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো ধরনের সমঝোতায় রাজি নয় বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, তেহরান কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না এবং পুরো অঞ্চলে সংঘাতের স্থায়ী অবসানই তাদের লক্ষ্য। তুরস্কের আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরাম-এর সাইডলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। খাতিবজাদেহ বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি হতে হলে তা লেবানন থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত সব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এটিকে ইরানের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমরা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি গ্রহণ করছি না। এই সংঘাত এখন একবারেই শেষ হওয়া উচিত।” হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এই জলপথ সব দেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। যদিও এটি ইরানের আঞ্চলিক পানিসীমার মধ্যে পড়ে, তবুও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে এখানে অবাধ চলাচল বজায় রাখা হয়েছে। এ অঞ্চলে চলমান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে ইরানের এই কূটনীতিক বলেন, তাদের কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সূত্র: আল জাজিরা
অবশেষে সকল পরীক্ষা নীরিক্ষার ধাপ পেরিয়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) প্রধান শাখা নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে আর কোনো সমস্যা নেই। জ্বালানী লোডিং এর কমিশনিং লাইসেন্স দিয়ে দিছি। এখন সরকার জ্বালানী লোডিং উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করবেন। সে অনুযায়ী জ্বালানী লোডিং শুরু হবে। এতে করে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে গত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য-আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) কে পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। এজন্য এনপিসিবিএল-এর ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্সও প্রদান করার কথা জানান তিনি। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএল-কে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রসংগত: এর আগে লাইসেন্স না পাওয়ায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন করার কথা জানানো হয়েছিল। দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি। জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থা এর তত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে কমিশনিংয়ের কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বাড়াতে সম্মত হয়। প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুর দিকে রূপপুর থেকে প্রথম ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা রয়েছে।
লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ্জ হাসান। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গুরুতর ভুল’ ও ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা একটি গুরুতর পাপ ও গুরুতর ভুল। এটি দেশের কোনো স্বার্থই পূরণ করে না।’ তিনি মনে করেন, এ ধরনের সংলাপ লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সংসদীয় কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লেবানন সরকারের প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অপ্রয়োজনীয় ছাড়’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, বর্তমান নীতি দেশের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না এবং এ অবস্থান থেকে সরে আসা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে লেবানন যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করে। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহসহ অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করতে চায়। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়ায় চলমান যুদ্ধের জন্য এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করছে ক্রেমলিন, যেখানে ড্রোন বাহিনীতে যোগ দিতে তাদের ওপর তৈরি করা হচ্ছে নজিরবিহীন মানসিক চাপ। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো বড় শহরগুলোর নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন যুদ্ধের প্রচারণামূলক পোস্টার এবং ড্রোন পরিচালনার ভিডিও গেমিং বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে পুরো শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষার্থীদের প্রলুব্ধ করতে মাত্র এক বছরের চুক্তি, সম্মুখ সমর থেকে দূরে থাকা এবং উচ্চ বেতনের পাশাপাশি বিশাল অংকের আর্থিক বোনাসের লোভ দেখানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন যে, এই চুক্তিগুলো আসলে এক ধরণের ফাঁদ এবং একবার সই করলে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধে আটকে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। রাশিয়ার বর্তমান আইন অনুযায়ী আংশিক সংহতির ডিক্রি বহাল থাকায় এক বছরের চুক্তির প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হওয়ার কোনো আইনি গ্যারান্টি নেই বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় ঘাটতি রয়েছে বা যারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ঝুঁকিতে আছে, তাদের বহিষ্কারের ভয় দেখিয়ে যুদ্ধে যোগ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও গেমারদের ড্রোন চালক হিসেবে গড়ে তোলার এই কৌশলী প্রচারণা তরুণ প্রজন্মের কাছে যুদ্ধের ভয়াবহতাকে আড়াল করে একটি অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে ক্রেমলিন। অনেক শিক্ষার্থী সরাসরি জানিয়েছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন নিয়মিত সভা করে তাদের যুদ্ধে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন যা সাধারণ শিক্ষার পরিবেশকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেট ইউনিভার্সিটির মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন সরাসরি সামরিক চুক্তি প্রচার করছে যা রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর সরকারের ক্রমবর্ধমান নিয়ন্ত্রণেরই স্পষ্ট প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধান বলছে যে, বিশাল অংকের অর্থের প্রলোভন সত্ত্বেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এই প্রচারণা নিয়ে সন্দিহান এবং তারা একে এক ধরণের মরণফাঁদ হিসেবেই দেখছে। রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, রুশ শিক্ষার্থী নিয়োগ, ড্রোন বাহিনী প্রচারণা, ক্রেমলিন সামরিক নীতি, আন্তর্জাতিক সংবাদ।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের অন্তত ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। একই সঙ্গে হামলায় সহযোগিতার অভিযোগ তুলে পাঁচটি আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণও চেয়েছে দেশটি। রুশ বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমাহ মোহাজেরানি বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে ধাপে ধাপে মূল্যায়ন করা হবে। মোহাজেরানির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে অবকাঠামো ও স্থাপনার ক্ষতি নিরূপণ করা হবে। এরপর বাজেট ঘাটতি, শিল্পকারখানা বন্ধ থাকা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি স্কুলে হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে, ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। অভিযোগ করা হয়েছে, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছে। ফলে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায়ী করা উচিত। সংঘাত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ইরান পাল্টা হামলা চালায় ইসরায়েলসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এরই মধ্যে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টার ওই বৈঠকে মতপার্থক্য কাটেনি, তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে দুই দেশ আবারও আলোচনায় বসতে পারে। যদিও এখনো নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হয়নি, তবুও উভয় পক্ষ আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা উভয় পক্ষকেই আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করছে।
ইরানের বন্দরগুলোতে সম্ভাব্য মার্কিন অবরোধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতেই লেনদেনে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও ৭ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান–সংকট শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। সংঘাতের প্রভাবে তা বিভিন্ন সময়ে ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে পাকিস্তানে সম্ভাব্য সমঝোতা বৈঠকের খবরের পর গত শুক্রবার জুন মাসের সরবরাহের জন্য তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছিল। জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার আবারও অস্থিরতার দিকে ফিরে গেছে। এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, যুদ্ধবিরতির আগের উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় বাজার ফিরে এসেছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান–সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে। এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ কার্যকর করা হতে পারে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুদ্ধবিরতির কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও পেট্রোলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে। একই সঙ্গে ইরান–সংকটকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। এদিকে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপের মধ্যে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব–পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি আলোচনা আজ শনিবার রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। এতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বসহ বহু মানুষ নিহত হন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ, যার মেয়াদ ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। সেই প্রেক্ষাপটেই শুরু হচ্ছে এই আলোচনা। আলোচনার মূল বিষয়গুলো এই বৈঠকে উভয় পক্ষ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অবস্থান তুলে ধরবে। যুক্তরাষ্ট্র চায়— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা অন্যদিকে, ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে— আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি এছাড়া লেবাননে চলমান সংঘাতও আলোচনার অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইরান বলছে, সেখানে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে কার্যকর কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। আলোচনার ধরন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার প্রথম ধাপে দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে বসবে এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা বার্তা আদান-প্রদান করবেন। পরবর্তীতে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ইসলামাবাদে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘রেড জোন’ সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে একটি পাঁচতারকা হোটেলকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ফলাফল কী হতে পারে বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসার সম্ভাবনা কম। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনো বড় বাধা হয়ে আছে। তবে সীমিত পর্যায়ে কিছু অগ্রগতি হতে পারে, যেমন— যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ গ্রহণ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে খুলে দেওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবানন ইস্যু এবং ইসরায়েলের ভূমিকা এই আলোচনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইসরায়েল আলোচনায় সরাসরি অংশ না নেওয়ায় ভবিষ্যতে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। কূটনৈতিক গুরুত্ব এই বৈঠককে একটি ‘সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, চরম উত্তেজনার মধ্যেও দুই পক্ষের আলোচনায় বসা নিজেই একটি বড় অগ্রগতি। পাকিস্তানও এই উদ্যোগকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। দেশটি আশা করছে, এই আলোচনার মাধ্যমে অন্তত একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য বহুল আলোচিত শান্তি বৈঠকের আগে ইতিবাচক তবে সতর্ক বার্তা দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এয়ার ফোর্স টু-তে ওঠার আগে সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, ইরান যদি "সৎ উদ্দেশ্যে" আলোচনায় অংশ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। জেডি ভ্যান্স বলেন, "আমরা এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদী। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাকে আলোচনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।" তবে তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরান যদি আলোচনার টেবিলে "প্রতারণার চেষ্টা" করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাতে মোটেও সাড়া দেবে না। আগামী শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই মেগা বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের সঙ্গে এই বিশেষ প্রতিনিধিদলে আরও থাকছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। এদিকে, ইসলামাবাদে বৈঠকের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও পাকিস্তানি সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, দেশটির সরকার এখনও ইরানি প্রতিনিধিদলের আগমনের প্রতীক্ষায় রয়েছে। এই আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা নিরসন এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ।
মাত্র ৪০ দিনের যুদ্ধেই ইরানজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এতে দেশটির বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের বরাতে আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, এই যুদ্ধে ইরানের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকার সমান। ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড জানিয়েছেন, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ আবাসিক বাড়ি রয়েছে। এছাড়া ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র হামলার শিকার হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি ইরানের সামরিক শক্তির ওপরও বড় আঘাত এসেছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের চারটি প্রধান ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র—খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ এবং শারাউদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে ২৯টি মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং ৫টি জ্বালানি সংরক্ষণাগারেও হামলা চালানো হয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে অনেক ইরানি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন এবং দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও ব্রিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। সূত্র: আল-আরাবিয়া, ওয়াশিংটন পোস্ট
লেবাননে ভয়াবহ মানবিক সংকটের আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির খাদ্য সহায়তা বিভাগ ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গত দুই দিনে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই সময়ের মধ্যে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৮ এপ্রিল) দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩০৩ জন নিহত এবং প্রায় ১,১৫০ জন আহত হয়েছেন। পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। ডব্লিউএফপি-এর লেবানন প্রতিনিধি অ্যালিসন ও’মাহোনি লাউ জানান, সংঘাত শুরুর পর থেকেই তারা মাঠপর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিপুল সংখ্যক মানুষকে খাদ্য ও নগদ সহায়তা দিচ্ছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার মতে, নিরাপদ চলাচলের সুযোগ না থাকলে জরুরি সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে না। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তাহীনতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাই এখন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যা দেশটির ক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুকে দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খামেনির পর জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আলী লারিজানি এবং আলী শামখানি-ও পৃথক হামলায় নিহত হন বলে জানা গেছে। এতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সামরিক নেতৃত্বেও একের পর এক ক্ষতি হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব নেওয়া আব্দোলরাহিম মুসাভি-ও একই পরিণতির শিকার হন। পাশাপাশি খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার গোলামালি রশিদ নিহত হওয়ায় যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতায় বড় ধাক্কা লাগে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-এর নেতৃত্বেও বড় ক্ষতি হয়েছে। বাহিনীর প্রধান হোসেইন সালামি এবং তাঁর উত্তরসূরি মোহাম্মদ পাকপোর নিহত হন। এতে বাহিনীর স্থল, নৌ ও মহাকাশ—তিনটি শাখাই দুর্বল হয়ে পড়ে। মহাকাশ বাহিনীর প্রধান আমির আলী হাজিজাদেহ নিহত হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি বড় ধাক্কা খেয়েছে। নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হওয়ায় পারস্য উপসাগরে ইরানের উপস্থিতিও দুর্বল হয়েছে। গোয়েন্দা কাঠামোতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি নিহত হওয়ায় গোটা গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে সমন্বয় সংকট তৈরি হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ডের পর আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানা গেছে। এতে কর্মসূচির অগ্রগতিতে বড় প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মূল ব্যক্তি কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর কুদস ফোর্সের নেটওয়ার্কেও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হত্যাকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; বরং ইরানের সামরিক কমান্ড, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত করছে—আধুনিক যুদ্ধ এখন কেবল ময়দানে নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ইরানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন নেতৃত্ব তৈরি, নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা।
ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও লেবানন ইস্যুতে নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধের কথা বলা হলেও বাস্তবে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লেবাননে সাম্প্রতিক হামলায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের অভিযান একটি পৃথক সংঘর্ষ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারোলিন লেভিটও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, লেবানন এই চুক্তির অংশ নয়। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন মধ্যস্থতাকারী শাহবাজ শরিফ। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি পুরো অঞ্চলের জন্য কার্যকর, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। এ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়ে পরিষ্কার অবস্থান নিতে হবে তারা যুদ্ধবিরতি চায়, নাকি ইসরায়েলের মাধ্যমে সংঘাত চালিয়ে যেতে চায়। এই ভিন্নমুখী অবস্থানের কারণে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে লেবাননকে চুক্তির আওতায় ধরা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে, যেখানে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যেও আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি রয়ে গেছে।
শান্তি উদ্যোগ এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে আজ পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল। ইসলামাবাদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইসরাইলের ধারাবাহিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে ইরানি জনগণের মধ্যে কিছুটা সন্দেহ থাকলেও, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ-এর আমন্ত্রণে একটি ইরানি প্রতিনিধি দল দেশটির প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। এদিকে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমিত সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহের জন্য এই সমঝোতা হয়। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে পূর্ণাঙ্গ সাফল্য অর্জন করেছে। অন্যদিকে ইরানও নিজেদের পক্ষে এই পরিস্থিতিকে ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে তুলে ধরেছে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
যুদ্ধবিরতির মাত্র একদিন পরই ইরানকে ঘিরে নতুন করে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ইরানের আশেপাশে বজায় থাকবে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দেওয়া ওই বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ, বিমান এবং সামরিক সদস্যদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে মোকাবিলা করতে এবং প্রয়োজনে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে এই প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো কারণে চুক্তি সম্পন্ন না হয়—যদিও তিনি সেটিকে খুব কম সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেছেন—তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অতীতের তুলনায় বড় ও শক্তিশালী সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করা এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এদিকে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখন প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা করছে।
লেবাননে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটানোর পরও থামেনি ইসরাইলি বাহিনী। সাম্প্রতিক আক্রমণের ধারাবাহিকতায় এবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলেও নতুন করে বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননের আল-দুয়াইর (খিয়ারবেত আল-দুয়ের নামেও পরিচিত) এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। এতে সেখানে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এর আগের দিন বুধবার রাতে বড় ধরনের হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে লেবাননের জরুরি উদ্ধার সংস্থাগুলো। এ ঘটনার পর একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজধানী বৈরুতসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। বালবেক, নাবাতিহ, সিডন ও টায়ার এলাকাগুলোতে ব্যাপক হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ চলমান থাকলেও ইসরাইল ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর গত ১৫ মাসে একাধিকবার তা লঙ্ঘন করা হলেও কার্যকরভাবে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিকে তারা মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আপাতত থেমে থাকলেও এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তিনটি বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা। বুধবার (৮ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এই সতর্কবার্তা দেয়। সংস্থাগুলোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলছে। বিশেষ করে তেল, গ্যাস ও সারের মূল্যবৃদ্ধি খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্যপ্রাপ্তি কঠিন করে তুলবে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। খাদ্য, জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সংকট আরও তীব্র হতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে নিম্ন-আয়ের দেশগুলো এবং যেসব দেশ খাদ্যের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এসব দেশের জনগোষ্ঠীই এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যখন দুর্বল হয়ে পড়ছে, তখন পাল্টা প্রস্তাব ও পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ থামাতে Pakistan-এর মধ্যস্থতায় দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে Iran। উল্টো তেহরান ১০ দফা নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ ও তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। তবে এসব প্রস্তাবকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ইরানকে দেওয়া তাঁর সময়সীমাই চূড়ান্ত এবং এই প্রস্তাবগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। এরই মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই হামলার পর থেকে একের পর এক উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দাপ্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েল, যা পরে ইরানও নিশ্চিত করে। এ ছাড়া আইআরজিসির কুদস ফোর্সের একটি আন্ডারকভার ইউনিটের প্রধানকে হত্যার দাবিও করেছে ইসরায়েল, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি তেহরান। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক হামলা ইরানের সামরিক কাঠামোয় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। অন্যদিকে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে ইরান। Israel-এর বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। জেরুজালেম, তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হাইফায় এক আবাসিক ভবনে হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও। ইরান-সমর্থিত হামলায় বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। অন্যদিকে ইরান ও Lebanon-এ ইসরায়েলের পাল্টা বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটছে। এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতির বদলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানকে সমঝোতায় আসতে ১০ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন, যার সময়সীমা প্রায় শেষের দিকে। এই সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু উদ্ধারের অভিযানের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এই অভিযানের আড়ালে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা থাকতে পারে। সোমবার এক বক্তব্যে তিনি জানান, পুরো ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা রয়েছে। তার দাবি, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশে মার্কিন পাইলট আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে বলা হলেও, মার্কিন বাহিনী মধ্য ইরানের আরও দূরবর্তী এলাকায় অবতরণের চেষ্টা করেছে, যা সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে। ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘এই অভিযানটি প্রতারণামূলক হতে পারে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহের প্রচেষ্টা ছিল—এ সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’ গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র-এর একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে ইরান। এতে থাকা দুই পাইলট নিখোঁজ হন। তাদের উদ্ধারে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে ইরানও ক্রুদের খোঁজে তল্লাশি চালায়। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, একটি ‘সাহসী অভিযানের’ মাধ্যমে দ্বিতীয় পাইলটকেও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় এসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর দেশটি আবার সীমিত পরিসরে কিছু আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। নিউজ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত নভেম্বরে এক আফগান অভিবাসীর গুলিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হন এবং তাঁদের মধ্যে একজন পরে মারা যান। এই ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে প্রায় সব অ্যাসাইলাম আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়। ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন শুধুমাত্র যেসব দেশকে “কম ঝুঁকিপূর্ণ” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, সেসব দেশের আবেদনকারীদের মধ্য থেকে সীমিত আকারে আবেদন গ্রহণ করা হবে। তবে প্রতিটি আবেদনকারীকেই কঠোর নিরাপত্তা যাচাই এবং অতীত ইতিহাস (ব্যাকগ্রাউন্ড চেক) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। যদিও কোন কোন দেশ এই “কম ঝুঁকিপূর্ণ” তালিকায় রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। তবে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা অন্যান্য বিধিনিষেধের আওতায় আছে, সেসব দেশের নাগরিকদের আবেদন আপাতত গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) প্রক্রিয়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে স্থগিত রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত মূলত স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্যে যাওয়া আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য—যেমন পারিবারিক বা চাকরিভিত্তিক ভিসা। তবে এটি অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, কারণ আশ্রয় একটি আলাদা আইনি ব্যবস্থা। বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে অ্যাসাইলাম আবেদন বর্তমানে গ্রহণ করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো দেশ যদি নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে, তাহলে সেই দেশের আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তবে বাংলাদেশ এই তালিকায় পড়বে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। উল্লেখ্য, ওই হামলার ঘটনার পর প্রশাসন আগের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে এবং আরও কঠোর অভিবাসন নীতি চালু করে। এর ফলে অ্যাসাইলাম আবেদন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে আরও কিছু দেশকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়। সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা দেশগুলোর আবেদনকারীরা আবার আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর থাকবে এবং অনুমোদন পাওয়া এখনও কঠিন হতে পারে। এছাড়া, নতুন নিয়ম অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীদের আরও বেশি যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকাকালে তাঁদের কাজের সুযোগেও কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি শহরে অভিবাসন আইন প্রয়োগও জোরদার করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ইরান কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি নয়; বরং পুরো যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তিই তাদের লক্ষ্য। আরাঘচি বলেন, “আমরা যুদ্ধবিরতি নয়, সম্পূর্ণ যুদ্ধের অবসান চাই—শুধু ইরানে নয়, গোটা অঞ্চলে।” তিনি আরও বলেন, এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে ইরান কেবল তাৎক্ষণিক শান্তির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে, সেগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব এখনও তেহরান দেয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো পাল্টা প্রস্তাব বা শর্তও তারা উত্থাপন করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের বার্তাকেও তারা আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ হিসেবে গ্রহণ করছে না। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বিষয়ে আরাঘচি বলেন, এই জলপথ পুরোপুরি খোলা রয়েছে, তবে যারা ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তাদের জন্য এটি বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে স্থলযুদ্ধের জন্যও ইরান প্রস্তুত। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তুলনামূলকভাবে নরম সুরে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে সদিচ্ছা রাখে, তবে এর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ জরুরি—বিশেষ করে ভবিষ্যতে যেন এমন সংঘাত আর না ঘটে। তিনি এই অবস্থান ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে ফোনালাপে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইরানের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। ডাও জোন্স সূচক ২.১ শতাংশ বেড়ে ৪৯,১৬৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ এবং নাসডাক সূচক ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বক্তব্য নতুন কিছু না হলেও এটি সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রতিফলন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer জানিয়েছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না এবং ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে না। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, ‘এই যুদ্ধ আমাদের নয়, আমরা এতে জড়াব না।’ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাজ্য সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। তবে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে—বিদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়া। স্টারমার আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক নৌযান চলাচল বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাজ্য কাজ করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া উচিত নয়।মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।