বিশ্ব রাজনীতি

ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ওপর বিশ্বনেতাদের চাপ: যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারে বড় ঘোষণা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ওপর বিশ্বনেতাদের প্রবল চাপ: যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারে বড় ঘোষণা
ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ওপর বিশ্বনেতাদের প্রবল চাপ: যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারে বড় ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ ইরান যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছানোয় এই আহ্বান জানানো হয়েছে।

 

রয়টার্স ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা ওয়াশিংটনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

 

এদিকে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অনড় অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ জনমত এবং তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে তিনি এখন একটি সম্মানজনক প্রস্থান বা যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছেন।

 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সামরিক শক্তির চেয়ে এখন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন জরুরি। তারা মনে করছেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।

 

জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনটা হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হবে, যা এক বিশাল মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

 

অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থান কিছুটা নরম করেছে বলে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা দাবি করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, যদি তাদের ওপর থেকে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়, তবে তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে প্রস্তুত রয়েছে।

 

তবে পেন্টাগনের সামরিক কর্মকর্তারা এখনও যুদ্ধের ময়দানে শক্তি প্রদর্শনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। তারা মনে করেন, লক্ষ্য অর্জন না করে সরে আসলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব ম্লান হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

 

সাধারণ আমেরিকানরা এখন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে বড় বড় শহরগুলোতে জ্বালানি তেলের পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ।

 

আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠক থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হতে পারে।

 

বিশ্ববাসী এখন অধীর আগ্রহে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। যুদ্ধের এই দামামা শান্ত হয়ে পৃথিবীতে আবার স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে কি না, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

 

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Advertisement

বিশ্ব রাজনীতি

View more
ছবি - সংগৃহিত
গাজায় ত্রাণকর্মী নিহত: ইসরায়েলের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চাইল ব্রিটেন

গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাত ত্রাণকর্মী নিহতের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে ইসরায়েলের কাছে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছে ব্রিটেন।   ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই হামলায় প্রাণ হারানো তিন ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবার দীর্ঘ দুই বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় প্রহর গুনছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার বুধবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলকে এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষ করে তা জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানান।   ফ্যালকনার এই হামলাকে ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে, জীবন রক্ষাকারী সেবা দেওয়ার সময় কোনো ত্রাণকর্মীকে হত্যার শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নৈতিক ও আইনি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।   ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল গাজায় খাবার বিতরণের সময় একটি কনভয়ে হামলা চালিয়ে সাতজন ত্রাণকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ব্রিটিশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক এবং একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক ছিলেন।   এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছিল এবং ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের প্রতিষ্ঠাতা জোসে আন্দ্রেস ইসরায়েলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইসরায়েল সে সময় এটিকে একটি ভুল হিসেবে বর্ণনা করলেও ত্রাণ সংস্থাটি একে সুপরিকল্পিত হামলা হিসেবে অভিহিত করে।   ব্রিটিশ মন্ত্রী নিহত সাবেক সেনা জন চ্যাপম্যান, জেমস হেন্ডারসন এবং জেমস কিরবির সাহসিকতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি বলেন যে, এই পরিবারগুলোর জানার অধিকার রয়েছে কেন তাদের প্রিয়জনদের এমন নৃশংস পরিণতির শিকার হতে হয়েছে।   ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় পাঁচ শতাধিক ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরে ফ্যালকনার উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, যুদ্ধবিরতির আগে গাজা ছিল বিশ্বের সবচাইতে বিপজ্জনক স্থানগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে মানবিক সহায়তা দেওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব।   ব্রিটেন সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ে এই বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তারা মনে করে যে, এই ধরনের ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ব্রিটেনের এই দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করে যে, কেবল মৌখিক দুঃখ প্রকাশ নয় বরং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।   সবশেষে ব্রিটিশ মন্ত্রী পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, গাজায় মানবিক বিপর্যয় রোধে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলো যেন সত্য জানতে পারে, সেজন্য ইসরায়েলকে তাদের তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

গাজায় শান্তি ফেরাতে তুরস্কে হামাস ও তুর্কি গোয়েন্দা প্রধানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক!

ছবি - সংগৃহিত

ভয়াবহ সৈন্য সংকটে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী: জরুরি জনবল নিয়োগের আহ্বান

ছবি - সংগৃহিত

হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত হলেই যুদ্ধবিরতির কথা ভাববে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের নতুন শর্ত

ছবি - সংগৃহিত
মিশর থেকে ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের সংকেত

  মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় মিশর থেকে প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে জরুরিভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ মঙ্গলবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মিশরে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন প্রশাসন।   বর্তমানে মিশরে অবস্থানরত প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ চার্টার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। দ্রুততম সময়ে নাগরিকদের দেশটি থেকে উদ্ধার করা হবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি মিশরসহ ১৩টি আরব দেশকে তাদের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই তালিকায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানও রয়েছে।   এর আগে গত কয়েক মাসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের রেশ এখন পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাঠানো বিশেষ বার্তায় মার্কিনিদের বলা হয়েছে, তারা যেন সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত চার্টার ফ্লাইটের সুযোগ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই এলাকা ত্যাগ করেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিশাল সংখ্যক মানুষের গণ-স্থানান্তর প্রক্রিয়া সাধারণত বড় কোনো ভয়াবহ সামরিক অভিযানের পূর্বলক্ষণ হিসেবে কাজ করে। ফলে পুরো অঞ্চলে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।   ইরাক ও জর্ডানের আকাশসীমায় বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই বিশেষ বিমানগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তা ও ভিন্ন রুট ব্যবহার করে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   মিশরের মতো স্থিতিশীল ও পর্যটন নির্ভর দেশে এমন জরুরি প্রস্থান স্থানীয় অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।   হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ইরান ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য হামলা রুখতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।   মিশরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে এখন মার্কিন নাগরিকদের দীর্ঘ লাইন এবং ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ বিমানগুলো দিনরাত এক করে নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে।   অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাও এখন মিশরে অবস্থানরত তাদের বিদেশি কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক অঘোষিত যুদ্ধের আতঙ্কে থমথমে হয়ে আছে।   বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই মার্কিন প্রশাসন তাদের নাগরিকদের কোনো ধরনের জীবনের ঝুঁকির মুখে রাখতে চাচ্ছে না।   দিনশেষে এই বিশাল প্রস্থান প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানে কূটনীতি এখন কার্যকর হচ্ছে না। অস্ত্রের ঝনঝনানি ও যুদ্ধের দামামা এখন সবচাইতে বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এই নির্দেশ পাওয়ার পর থেকে মিশরে অবস্থানরত অনেক পরিবার তাদের ব্যবসা ও বসতবাড়ি ছেড়ে দ্রুততম সময়ে বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত

নেতানিয়াহুর ছেলেকে মায়ামি থেকে বিতাড়িত করে ইরান যুদ্ধে পাঠানোর দাবি স্টিভ ব্যাননের

ছবি - সংগৃহিত

ইরানে আমেরিকার স্থল অভিযানে অংশ নেবে না ইসরায়েল: ওয়াশিংটনে তীব্র ক্ষোভ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান ও চীনের পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান ও চীনের পাঁচ দফা শান্তি প্রস্তাব ঘোষণা

ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ওপর বিশ্বনেতাদের প্রবল চাপ: যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারে বড় ঘোষণা
ইরান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের ওপর বিশ্বনেতাদের চাপ: যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারে বড় ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ ইরান যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রবল চাপের মুখে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছানোয় এই আহ্বান জানানো হয়েছে।   রয়টার্স ও সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা ওয়াশিংটনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। তারা স্পষ্ট করেছেন যে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।   এদিকে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার অনড় অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ জনমত এবং তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে তিনি এখন একটি সম্মানজনক প্রস্থান বা যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছেন।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, সামরিক শক্তির চেয়ে এখন কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন জরুরি। তারা মনে করছেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে একটি নতুন কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।   জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনটা হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হবে, যা এক বিশাল মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।   অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থান কিছুটা নরম করেছে বলে কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা দাবি করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, যদি তাদের ওপর থেকে অবৈধ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়, তবে তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকরে প্রস্তুত রয়েছে।   তবে পেন্টাগনের সামরিক কর্মকর্তারা এখনও যুদ্ধের ময়দানে শক্তি প্রদর্শনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। তারা মনে করেন, লক্ষ্য অর্জন না করে সরে আসলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রভাব ম্লান হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি।   সাধারণ আমেরিকানরা এখন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে বড় বড় শহরগুলোতে জ্বালানি তেলের পাম্পের সামনে দীর্ঘ লাইন ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ।   আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠক থেকেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হতে পারে।   বিশ্ববাসী এখন অধীর আগ্রহে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। যুদ্ধের এই দামামা শান্ত হয়ে পৃথিবীতে আবার স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে কি না, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
দ্রুত ইরান যুদ্ধের অবসান চায় দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান: রয়টার্সের জরিপ

যুদ্ধে হারলেও দ্রুত ইরান যুদ্ধের অবসান চায় দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান: রয়টার্সের জরিপ

ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর চটেছেন ট্রাম্প: ইরান যুদ্ধে সহায়তা না পাওয়ায় চরম হুঁশিয়ারি

ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর চটেছেন ট্রাম্প: ইরান যুদ্ধে সহায়তা না পাওয়ায় চরম হুঁশিয়ারি

ইরান যু/দ্ধ যেভাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরাকের সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে

0 Comments