বিশ্ব

‘তেলাপোকা’ মন্তব্যের পর এবার তরুণদের ভূয়সী প্রশংসা ভারতের প্রধান বিচারপতির

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৫:১১
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত তরুণ আইনজীবী ও আইনক্ষেত্রের নতুন প্রজন্মকে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কিছুদিন আগে বেকার তরুণদের নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে সমালোচনার পর এবার তিনি তরুণদের ভূমিকা ও সক্ষমতার প্রশংসা করলেন।

 

রোববার যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বিচারব্যবস্থায় প্রযুক্তির ভূমিকা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।

 

বক্তব্যে তিনি বলেন, ভারতের আইনক্ষেত্রের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত অভিযোজনক্ষম এবং প্রযুক্তি গ্রহণে দ্রুত সক্ষমতা দেখাচ্ছে। জেলা আদালত থেকে শুরু করে সরকারি আইনজীবী ও করপোরেট লিগ্যাল অ্যাডভাইজরদের মধ্যে এই প্রজন্ম বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

তিনি আরও বলেন, এই তরুণ প্রজন্মই ভারতের বিচারব্যবস্থার চলমান সংস্কার ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। ‘সংবিধানের প্রতিশ্রুতি থেকে ডিজিটাল বাস্তবতায়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির যুগে ন্যায়বিচার রক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি বিচারব্যবস্থায় এআই ব্যবহারের দিক নিয়েও আলোচনা করেন।

 

প্রধান বিচারপতি জানান, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রযুক্তিকে মানবিক বিচারবোধের বিকল্প হিসেবে দেখে না। এটি বিচারিক প্রক্রিয়াকে সহায়তা করার একটি মাধ্যম মাত্র। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘স্বদেশি জুরিসপ্রুডেন্স’ ধারণার ওপর গুরুত্ব দেন, যা ভারতের সাংবিধানিক মূল্যবোধ, প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা, ভাষাগত বৈচিত্র্য এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটকে ভিত্তি করে গড়ে উঠবে বলে উল্লেখ করেন।

 

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি বিচারব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সহজ করেছে এবং বৈশ্বিক বিচারিক সংলাপকে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যতই উন্নত হোক না কেন, তা মানবিক বিচারবোধ, সহানুভূতি ও নৈতিক উপলব্ধির বিকল্প হতে পারে না।

 

এর আগে গত ১৫ মে এক শুনানিতে বেকার তরুণদের নিয়ে করা তাঁর মন্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ওই সময় তিনি কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। সেই মন্তব্যের পর এবার তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে ইতিবাচক অবস্থান প্রকাশ করলেন তিনি, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
জাপানের উটসুনোমিয়া শহরে ভালুকের আতঙ্ক, ৯৪টি স্কুল বন্ধ ঘোষণা

জাপানের উটসুনোমিয়া শহরে হঠাৎ একটি ভালুকের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরটির ৯৪টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।   রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এই শহরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। শনিবার একটি পার্কের কাছে মাঝারি আকারের একটি কালো ভালুক দেখা যাওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।   পরদিন রোববার ভোরে শহরের কেন্দ্রস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে ভালুকটির উপস্থিতি ধরা পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই তরুণের সামনে দিয়ে দ্রুত দৌড়ে যাচ্ছে প্রাণীটি। এরপর সারাদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে ভালুকটি।   সোমবার ভোরে শহরের কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে একটি কারখানা এলাকায় আবারও ভালুকটিকে দেখা যায়। এর পরপরই স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়। নাগরিকদের দরজা ও জানালা বন্ধ রাখতে, ভালুক দেখলে তার কাছে না যেতে এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।   ভালুকটিকে ধরতে পুলিশ ও স্থানীয় শিকারি সংগঠন যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চলছে। চলতি বছর জাপানে ভালুক দেখার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ৫০ হাজার ভালুক দেখা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যদিও এসব প্রাণী সাধারণত টোকিওর কাছাকাছি এলাকায় দেখা যায় না।   গত মাসে টোকিওর পশ্চিমাঞ্চল ওকুতামায় একটি ভালুকের আক্রমণে এক রুশ হাইকার আহত হন। এর কিছুদিন পর হাচিওজি উপশহরেও ভালুক দেখা যায়। একই সময়ে ফুকুশিমা অঞ্চলে একটি ভালুক চারজনকে আক্রমণ করে এবং একটি অফিসে ঢুকে একজনকে আহত করে বলে জানা যায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে ভালুকের মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে আসার ঘটনা বাড়ছে। মূল হনশু দ্বীপে আনুমানিক ১২ হাজার থেকে ৪২ হাজার এশীয় কালো ভালুক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৬:৮
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ছবি: সংগৃহীত

‘তেলাপোকা’ মন্তব্যের পর এবার তরুণদের ভূয়সী প্রশংসা ভারতের প্রধান বিচারপতির

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। ছবি: রয়টার্স

‘আজ রাতে তেহরানকে জ্বলতে হবে’: ইসরায়েলি নিরাপত্তামন্ত্রী বেন-গভিরের মন্তব্যে নতুন উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে নজির গড়লেন নারী মেয়র শোকো কাওয়াতা, নিচ্ছেন মাতৃত্বকালীন ছুটি

ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী কারা, কী তাদের পরিচয়

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সোমবার জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন থেকে নিক্ষিপ্ত একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এপ্রিলের পর এটি প্রথম এমন ঘটনা হিসেবে রিপোর্ট করা হয়েছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যাদের ইরান-সমর্থিত শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   কারা এই হুথি গোষ্ঠী হুথি আন্দোলন, যা ‘আনসার আল্লাহ’ (ঈশ্বরের সমর্থক) নামেও পরিচিত, ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের অন্যতম প্রধান পক্ষ। ১৯৯০-এর দশকে ‘বিলিভিং ইয়ুথ’ নামের একটি ধর্মীয় পুনর্জাগরণ আন্দোলনের মাধ্যমে এই গোষ্ঠীর যাত্রা শুরু হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন হুসেইন আল-হুথি, যিনি জাইদি শিয়া ইসলামের অনুসারীদের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতিনিধিত্বের দাবি তোলেন।   জাইদি সম্প্রদায় ইয়েমেনে শতাব্দীর পর শতাব্দী শাসন করলেও ১৯৬২ সালের পর প্রতিষ্ঠিত সুন্নি-নেতৃত্বাধীন শাসনব্যবস্থার অধীনে তারা প্রান্তিক অবস্থানে চলে যায়। এই প্রেক্ষাপটেই হুথি আন্দোলনের উত্থান ঘটে, যা মূলত তাদের রাজনৈতিক অধিকার ও ধর্মীয় প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠে।   ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ ২০১৪ সালে হুথি বাহিনী রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করলে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তী বছর সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।   ২০২২ সালে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ছয় মাস পর সেটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আর শুরু না হলেও দেশটিতে সীমিত পর্যায়ের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।   ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ২০১৪ সাল থেকে ইরান হুথিদের প্রতি সহায়তা বাড়াতে শুরু করে। বিশেষ করে গৃহযুদ্ধ তীব্র হওয়ার পর এবং সৌদি আরবের সঙ্গে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই সহযোগিতা আরও দৃশ্যমান হয়।   হুথিরা ইরানের নেতৃত্বাধীন তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ জোটের অংশ, যা মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক ও সামরিক নেটওয়ার্ক হিসেবে পরিচিত। এই জোট ইসরায়েল ও পশ্চিমা প্রভাবের বিরোধিতায় অবস্থান নেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৮, ২০২৬ ১:৫৭
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, জারি সুনামি সতর্কতা

ছবি: সিএনএন

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় বাড়ছে অস্বস্তি, যুদ্ধের প্রভাব পৌঁছাচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনে

সূত্র: জিও নিউজ

ইসরাইল-ইরান সংঘাতেও শান্তি চুক্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে না: ট্রাম্প

ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি ইরানের। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান রোববার রাতে ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলায় নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রোববার (৭ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে ইরান থেকে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। হামলার পরপরই ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।   সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার প্রায় এক ঘণ্টা পর দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ড নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেয়। ইসরায়েলের দাবি, হামলায় নিক্ষেপ করা সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   এদিকে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরের কাছাকাছি অবস্থিত রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের উপকণ্ঠে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।   আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি থেকেই লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তাই এটিকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।   হামলার পর প্রকাশিত বিবৃতিতে আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, এটি কেবল একটি বার্তা। ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তাহলে তাদের প্রতিক্রিয়া আরও বিস্তৃত হতে পারে।   ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়িও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ইরান বারবার জানিয়েছে যে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং লেবাননের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ মেনে নেবে না।   তার ভাষায়, “আজ রাতের জবাব ছিল একটি সতর্কবার্তা। যদি এই বার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যতের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে।”   মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যখন ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে, তখন সংযমের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে তাকে নতুন করে পাল্টা হামলা না চালানোর অনুরোধ জানাবেন।   মার্কিন সাংবাদিক বারাক রাভিদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের হামলায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আমি আশা করি ইসরায়েলও নতুন করে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। কারণ পাল্টাপাল্টি হামলা চলতে থাকলে এই সংঘাতের কোনো শেষ থাকবে না।”   ট্রাম্প আরও জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য একটি সমঝোতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা অগ্রসর হয়েছে এবং তিনি চান না বর্তমান উত্তেজনা সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করুক।   তার মতে, “আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। এটি একটি ইতিবাচক চুক্তি হতে পারে। তাই বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেটি ভেস্তে যাক, তা আমি চাই না।”   বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। যদিও উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে প্রতিরক্ষামূলক বলে দাবি করছে, তবুও পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।   আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২২:৫৬
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপানের পরিচয়ের অংশ হয়ে থাকা শান্তিবাদী সংবিধান এখন বড় পরিবর্তনের মুখে। ছবি: সংগৃহীত

সংবিধানের যুদ্ধবিরোধী অনুচ্ছেদ সংশোধনের আলোচনা জোরালো। গণভোটের দিকে এগোচ্ছে কি জাপান?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (বাঁ থেকে)। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে নেতানিয়াহুকে তা মানতেই হবে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

ইরান যুদ্ধের ১০০ দিনে যুক্তরাষ্ট্রে জনসমর্থন সংকট, রাজনৈতিক চাপের মুখে ট্রাম্প

0 Comments