ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর পশ্চিমাঞ্চলে মাঝ আকাশে দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় দুটি উড়োজাহাজই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর একটি হেলিকপ্টার একটি গাড়ি বিক্রয়কেন্দ্রের পার্কিং এলাকায় আছড়ে পড়ে আগুন ধরে যায়, যা দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে মার্কিন গায়ক ও কৌতুক অভিনেতা অলিভার ট্রি এবং আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ইউটিউবার গ্যাসপার প্রিম দিয়াজ, যিনি ‘গ্যাসপি’ নামে পরিচিত, রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার পর মরদেহগুলোর আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কর্তৃপক্ষ শুরুতে সতর্ক অবস্থান নেয়। পরে বিভিন্ন সূত্র নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করে।
দুর্ঘটনাটি ঘটে রিও ডি জেনিরোর রেক্রেইও দোস বান্দেইরান্তেস এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে প্রচণ্ড ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের পর একটি হেলিকপ্টারে আগুন ধরে যায় এবং সেটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে থাকে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই একটি হেলিকপ্টার বৈদ্যুতিক গাড়ি রাখা একটি পার্কিং এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এতে সেখানে থাকা একাধিক গাড়িতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানান, সংঘর্ষের পর তিনি একটি হেলিকপ্টারকে আগুনে জ্বলতে দেখেন। একই সঙ্গে একজন যাত্রীকে নিচে লাফ দিতে দেখেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে ওই ব্যক্তির ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
৩২ বছর বয়সী অলিভার ট্রি সংগীত জগতে তার ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা ও জনপ্রিয় গান ‘লাইফ গোজ অন’ এবং ‘মিস ইউ’-এর জন্য পরিচিত ছিলেন। দুর্ঘটনার আগে তিনি বিশ্ব সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে ২৩ বছর বয়সী গ্যাসপি আর্জেন্টিনার অন্যতম জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা ছিলেন। তার ইউটিউব চ্যানেলের অনুসারী ছিল কয়েক মিলিয়ন।
দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ব্রাজিলের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা এবং আকাশপথে চলাচল নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রিও ডি জেনিরোতে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক কাজে হেলিকপ্টার ব্যবহারের হার তুলনামূলক বেশি। ফলে শহরের আকাশপথে প্রায়ই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হেলিকপ্টার চলাচল করে। সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা আকাশপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন অলিভার ট্রি ও গ্যাসপির অসংখ্য ভক্ত। সংগীত ও ডিজিটাল কনটেন্ট জগতের বিভিন্ন ব্যক্তিত্বও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
দীর্ঘ উত্তেজনার পর অবশেষে যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তিচুক্তির বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এর আগে তিনি ‘অবিলম্বে’ প্রণালিটি খুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। ফলে চুক্তির বিষয়ে সমঝোতার ঘোষণা আসার পরই অনেকেই জলপথটি খুলে দেওয়ার আশা করেছিলেন। তবে পরে ট্রাম্প পরিষ্কার করেন, চুক্তি সইয়ের পরই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে মোট ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার। চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এই অবরোধ তুলে নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালির কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোববার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া প্রায় আধা ঘণ্টার এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পর এটি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত রাখা হবে। অর্থাৎ এই পথ ব্যবহারকারী কোনো জাহাজকেই আর টোল দিতে হবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ওয়াশিংটন আবার সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ‘মধ্যপ্রাচ্যের অভিভাবক’ হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে অঞ্চল থেকে অর্জিত রাজস্বের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্র পেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন। ইরানের সঙ্গে এই সমঝোতার বিষয়টি ট্রাম্প নিজেই তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তিনি এই চুক্তিকে ‘মহান চুক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরান, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে ১৩ এপ্রিল ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে দেশটির সমুদ্রবাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হলে শুধু আঞ্চলিক উত্তেজনা কমবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে চুক্তির শর্তগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।
জি৭ সম্মেলনকে ঘিরে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আয়োজিত একটি বড় বিক্ষোভ রোববার সহিংস রূপ নেয়। প্রথমদিকে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া মিছিলে অংশ নেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি টেসলা গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন ভবনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জেনেভার কেন্দ্রস্থলে আয়োজিত এই বিক্ষোভ মূলত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, ধনী রাষ্ট্রগুলোর প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণবিরোধী আন্দোলনের অংশ ছিল। তবে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল ও বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করলে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, জেনেভার আকাশে কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের একটি কেন্দ্রীয় বাসস্টপের পাশে পার্ক করে রাখা একটি টেসলা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া কয়েকটি ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবনের জানালাও ভাঙচুর করা হয়। আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুন ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-ব্যাঁ শহরে জি৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। লেক জেনেভার তীরবর্তী ওই শহরটি সুইজারল্যান্ড সীমান্তের খুব কাছেই অবস্থিত। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্দোলনকারী গোষ্ঠী কর্মসূচি দিয়ে আসছিল। আয়োজকদের দাবি, জি৭ বিশ্বের ধনী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর একটি ক্লাব, যেখানে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো প্রায়ই সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর সুবিধাকে প্রাধান্য দেয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই বিশ্বায়ন, সম্পদের অসম বণ্টন, জলবায়ু সংকট, লিঙ্গ বৈষম্য এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, বিক্ষোভকারী পিপা সজি বলেন, “এটি ধনীদের একটি বৈঠক, যা আবারও দেখায় কীভাবে ধনীরা আরও ধনী হয়ে ওঠে, আর দরিদ্ররা পিছিয়ে পড়ে।” বিক্ষোভের সময় টেসলা গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। কারণ এর কয়েকদিন আগেই টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে আলোচনায় আসেন। বিশ্লেষকদের মতে, টেসলায় আগুন দেওয়ার ঘটনাকে অনেকেই চরম সম্পদ বৈষম্য ও করপোরেট ক্ষমতার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন। তবে আন্দোলনের আয়োজকরা দাবি করেছেন, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী শান্তিপূর্ণ ছিলেন এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। একই ধরনের চিত্র অতীতের বিভিন্ন জি৭ সম্মেলন ঘিরেও দেখা গেছে, যেখানে বড় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পাশাপাশি ছোট কিছু গোষ্ঠী সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে। এদিকে সম্মেলনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড। ফরাসি সরকার জানিয়েছে, জি৭ সম্মেলনের নিরাপত্তায় ১৩ হাজারের বেশি পুলিশ ও জেন্ডারম মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত শত শত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এবারের জি৭ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা ও জাপানের নেতাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, ইউক্রেন পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ এখনো গ্রেপ্তার বা হতাহতের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী আশঙ্কা করছে, সম্মেলন চলাকালেও আরও বিক্ষোভ কর্মসূচি হতে পারে। তবুও নির্ধারিত সময়েই জি৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চরম প্রতিশোধ নেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। রবিবার (১৪ জুন) বৈরুতের দাহিয়াহ এলাকায় সংঘটিত এই ভয়াবহ হামলাকে 'ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর জঘন্য অপরাধ' বলে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আগ্রাসনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নীরব ও প্রত্যক্ষ ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন এই শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা। ইব্রাহিম আজিজি তার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বৈরুতের বুকে চালানো এই বর্বরোচিত অপরাধ আবারও বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কতটা দুর্বল ও নীতিহীন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের কোনো প্রকার বিশ্বস্ততা অবশিষ্ট নেই বলেও তিনি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন। ইরানি এই নেতার মতে, ইসরায়েলের মতো একটি অবৈধ ও অনৈতিক শাসকগোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করার ন্যূনতম ক্ষমতা বা সদিচ্ছা কোনোটাই যুক্তরাষ্ট্রের নেই, বরং তাদের প্রচ্ছন্ন মদদেই এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী এই বর্বরোচিত হামলার সমুচিত ও কড়া জবাব খুব শিগগিরই দেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন। এই হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।