- প্রচ্ছদ
- Topic
ব্রাজিল
ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফুটবলার রবর্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে সামাজিক যোগা যোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টির একজন সংসদ সদস্য এই দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কার্লোস নিজে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেননি। ফলে বিষয়টিকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। দাবিটির মূল সূত্র তুরস্কের একে পার্টির গাজিয়ানতেপের সংসদ সদস্য আলি শাহিন। ব্রাজিল সফরের সময় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রবার্তো কার্লোসের ধর্মান্তরের বিষয়টি সামনে আনেন। শাহিন জানান, ব্রাজিলের মুসলিম নেতা শেখ জিহাদ হাম্মাদেহের কাছ থেকে তিনি কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের কথা জেনেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, কার্লোসের সঙ্গে হাম্মাদেহের আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল এবং কয়েক সপ্তাহ আগে সাও পাওলোতে তাদের একটি সাক্ষাৎ হয়। ওই সাক্ষাতের সময় রবার্তো কার্লোস শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন শাহিন। একই সঙ্গে তিনি ব্রাজিলের সাবেক এই তারকাকে অভিনন্দন জানান। শাহিনের বক্তব্যের পর তুরস্কের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফুটবলবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গোলও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রবার্তো কার্লোস নিজে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘোষণা দিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার নিজের আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য সামনে আসেনি। এ কারণে আলি শাহিনের বক্তব্যকে একটি দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হচ্ছে। কার্লোস নিজে অথবা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তার ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের খবর নিশ্চিতভাবে বলা সমীচীন নয়। এর মধ্যেই রবার্তো কার্লোসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। মরক্কোর বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ নারী সুহাইলা এল তাহিরির সঙ্গে তার বিয়ের কিছু ছবি নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তাদের সম্পর্ক বা বিয়ের বিষয়টি ব্যবহার করে কার্লোসের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। রবার্তো কার্লোস বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা লেফট ব্যাক হিসেবে পরিচিত। ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ১২৫টির বেশি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি দীর্ঘদিন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন এই তারকা। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি একাধিক লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন। বিশেষ করে শক্তিশালী ফ্রি কিক, গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের কারণে নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের দশকের শুরুতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন কার্লোস। এত বড় একজন ফুটবল তারকার ধর্মান্তরের খবর হওয়ায় দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ধর্মীয় পরিচয় একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল বিষয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা তৃতীয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত ঘোষণা করা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে যথাযথ নয়। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবার্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেছেন তুরস্কের সংসদ সদস্য আলি শাহিন। কিন্তু কার্লোস নিজে সেই দাবি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেননি। তার নিজের বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না আসা পর্যন্ত বিষয়টি দাবি হিসেবেই থাকছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও এক ধাপ গড়ালে চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত মারিয়া লুইজা রিবেইরো ভিওতির ভিসা বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত রাষ্ট্রদূতকে ব্রাজিল অনুমোদন না দেওয়া এবং দুই মার্কিন কূটনীতিককে ভিসা না দেওয়ার পাল্টা জবাব হিসেবে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূতের ভিসা বাতিল করার অর্থ এই নয় যে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে বা বহিষ্কার করা হচ্ছে। তিনি মার্কিন মাটিতে অবস্থান করতে পারবেন, তবে তাঁর ভিসা কার্যকর থাকবে না। যদি ব্রাজিল সরকার ট্রাম্প মনোনীত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে দ্রুত আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করে, তবে সঙ্গে সঙ্গেই ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূতের ভিসা পুনর্বহাল করা হবে। দুই দেশের মধ্যে বিরোধের মূল সূত্রপাত ঘটে গত ১ জুন, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যানিয়েল পেরেজকে ব্রাজিলে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেন। তবে কূটনৈতিক নিয়ম মেনে ওয়াশিংটন এই নাম আগেই ব্রাসিলিয়াকে জানায়নি এমন অভিযোগ তুলে সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও পেরেজকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা ‘এগ্রিমেন্ট’ দেওয়া থেকে বিরত থাকে ব্রাজিলের সরকার। এই জটিলতার মধ্যেই গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম বিষয়ক বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় ব্রাসিলিয়া। ব্রাজিলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের প্রতিনিধি দলকে স্বাভাবিক কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভিত্তিহীন দাবির ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাজিল সরকার। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাষ্ট্রদূত প্রার্থীর বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নীতি মেনেই বিবেচনা করা হচ্ছিল। ওয়াশিংটনের উচিত ছিল নাম প্রকাশের আগেই ব্রাজিলের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সম্মতি নেওয়া। এ ছাড়া মার্কিন কর্মকর্তাদের ভিসা নাকচ করার বিষয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ওই মার্কিন কূটনীতিকেরা ব্রাজিলের আসন্ন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে এসেছিলেন। কোনো অবস্থাতেই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বহিরাগত হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না বলেই তাঁদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক নীতি নিয়ে ট্রাম্প ও লুলার মধ্যে তৈরি হওয়া স্নায়ুযুদ্ধের পরিণতিতেই এই কূটনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। আগামী নির্বাচনে লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জায়ার বলসোনারোর জ্যেষ্ঠ পুত্র সেনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো। উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারো ২০২২ সালে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বর্তমানে গৃহবন্দি রয়েছেন এবং তিনি ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ব্রাজিল থেকে রফতানি হওয়া বেশ কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। লুলার অভিযোগ, নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা পেতেই বলসোনারো পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ইন্ধন জুগিয়েছে। যদিও বলসোনারো পরিবার থেকে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। কূটনৈতিক এই অচলাবস্থা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ব্রাজিলের সঙ্গে স্বাভাবিক, স্বচ্ছ ও প্রসংগভিত্তিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে পারস্পরিক মর্যাদা বজায় রাখতেই ব্রাজিলীয় রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে এই তাৎক্ষণিক ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্রাজিলের বৃহত্তম শহর সাও পাওলোর একটি শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে (ডে-কেয়ার) মাত্র এক বছর চার মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার সময় শিশুদের পর্যাপ্ত তদারকি করা হচ্ছিল না। এমনকি কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মী জন্মদিন উদ্যাপনে ব্যস্ত ছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। নিহত শিশুর নাম আবদুলায়ে দিয়েং। তিনি সেনেগালি বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের সন্তান। গত বুধবার সাও পাওলোর ব্রাস এলাকার সিইআই লুজ দো ব্রাস (CEI Luz do Brás) শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলার সময় আবদুলায়ের মাথা দেয়ালে লাগানো একটি আয়নার সামনে থাকা ধাতব সুরক্ষা বারের ফাঁকে আটকে যায়। নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সে প্রায় ছয় মিনিট ধরে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। পরে কর্মীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে বের করলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। শিশুটিকে দ্রুত মুকা জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাও পাওলো সিভিল পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড (Negligent Homicide) হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। অর্থাৎ ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ নয়, বরং দায়িত্ব পালনে অবহেলা ছিল কি না, সেটিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিশুটির বাবা ইব্রাহিমা দিয়েং জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি ছেলেকে ডে-কেয়ারে রেখে যান। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর প্রতিষ্ঠান থেকে ফোন করে জানানো হয়, তার ছেলে একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সন্তান আর বেঁচে নেই। তিনি বলেন, "আমি গিয়ে শুধু জানতে চেয়েছিলাম, আমার ছেলে কোথায়। তারা আমাকে অপেক্ষা করতে বলল। এরপর জানাল, সে মারা গেছে।" পরিবারের ভাষ্য, এই ঘটনায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। শিশুটির মা খবরটি শোনার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে শিশুদের তদারকির বিষয়টি। পরিবারের আইনজীবী এরসন দে অলিভেইরা দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার সময় শিশুরা কার্যত নজরদারিহীন ছিল। তার অভিযোগ, যদি কোনো কর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতেন, তাহলে খুব সহজেই শিশুটিকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হতো। তিনি আরও প্রশ্ন তুলেছেন, গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার আগে কেন জরুরি চিকিৎসা সেবা বা দমকল বিভাগে খবর দেওয়া হয়নি। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা ডে-কেয়ারের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করেছেন। সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে, দুর্ঘটনার আগে সেখানে একটি জন্মদিনের আয়োজন হয়েছিল এবং কয়েকজন কর্মী সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তাধীন। এ ঘটনায় ডে-কেয়ারের পরিচালক, সমন্বয়কারী, দুইজন শিক্ষাবিদ এবং একজন শিক্ষকসহ মোট পাঁচজন কর্মী তদন্তের আওতায় রয়েছেন। পাশাপাশি সাও পাওলো সিটি শিক্ষা বিভাগও পৃথক প্রশাসনিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, এমনকি অনুমোদন বাতিলের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে কয়েকজন অভিভাবক ব্রাজিলের গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এর আগেও তারা ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মীসংকটের অভিযোগ করেছিলেন। একজন অভিভাবকের দাবি, অনেক সময় একজন শিক্ষককে ১২ থেকে ১৫ জন শিশুর দায়িত্ব একাই পালন করতে হতো।
বিশ্বকাপের পর ব্রাজিলের ভিনিসিউস জুনিয়রকে চেনা দায় হয়ে পড়েছে। চিবুক সুন্দর করার অস্ত্রোপচারের (চিন হারমোনাইজেশন সার্জারি) পর তাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষের মতো দেখাচ্ছে, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বিশ্বকাপের সময় ব্রাজিলের হয়ে মাঠে দৌড়েছিলেন। ব্রাজিলীয় সংবাদমাধ্যম টিএমসি সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাজিলের গোইয়ানিয়ার একটি ক্লিনিকে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. আলেসান্দ্রো আলারকাওর অধীনে চিবুকের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। এই অস্ত্রোপচারে ফিলারের সাহায্যে মুখের সীমানা বা ফেসিয়াল কনট্যুর তৈরি করা হয়। ভিনিসিউস তার চিবুককে আরও স্পষ্ট করতে চেয়েছিলেন, যা বিশ্বকাপের সময় পর্যালোচনার বিষয় ছিল। 🚨 Vini Jr at the clinic after his chin harmonization surgery. pic.twitter.com/WOq8OC0fgs — Madrid Zone (@theMadridZone) July 20, 2026 অস্ত্রোপচারের পর ভিনিসিউসের বেশ কয়েকটি ছবি সামনে এসেছে এবং সেখানে তার পরিবর্তন চমকে দেওয়ার মতো। সোমবার ভিনিসিউসের সাবেক প্রেমিকা ভার্জিনিয়া ফনসেকা তাদের একসঙ্গে তোলা একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন, যেখানে তারা নতুন জিমনেসিয়ামে একসঙ্গে পোজ দিয়েছেন। এছাড়া ড্যানিলো সানফোনেইরো অফিসিয়াল নামের এক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ভিনিসিউস যখন স্বাক্ষর করছিলেন, তখনকার একটি পার্শ্ব-প্রোফাইলের ছবি প্রকাশ করেন। যাদের ভিনিসিউসের ক্যারিয়ার সম্পর্কে ধারণা আছে, তারা চিবুকের এই প্রক্রিয়ার পর তার চেহারার পার্থক্য বুঝতে পারবেন। বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর তিনি এই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাকি এটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ছিল তা স্পষ্ট নয়। তবে প্রকাশিত ছবিতে তাকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে এবং নতুন চিবুক নিয়ে তিনি বেশ হাসিখুশি আছেন।
ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলে বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছোট একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এক চিকিৎসক ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় শনিবার সকালে টোকান্টিন্স অঙ্গরাজ্যের রাজধানী পালমাসের একটি ছোট বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি পারা অঙ্গরাজ্যের রেডেনসাও শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। এতে পাইলটসহ মোট তিনজন আরোহী ছিলেন। নিহতরা হলেন ৬৮ বছর বয়সী চিকিৎসক এডারসন দা সিলভা এবং তার ৬২ বছর বয়সী স্ত্রী রোজেলি আমারিলদা পেচুলো সিলভা। তারা পারা অঙ্গরাজ্যের রেডেনসাও শহরের বাসিন্দা এবং সেখানে সাও লুকাস হাসপাতালের মালিক ছিলেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তারা চিকিৎসকের বাবার শেষকৃত্যে অংশ নিয়ে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই উড্ডয়ন করেছিল। তবে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। এরপর একটি বিকট শব্দ শোনা যায় এবং বিমানটি একটি খামারসংলগ্ন এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। রোজেলিকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসক এডারসনকে জীবিত অবস্থায় ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করা হলেও পরে তারও মৃত্যু হয়। পাইলট হ্যামিলটন লোপেস দা কনসেইসাও গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য থাকলেও তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর এলাকাটি নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে ফেলে। ব্রাজিলের সংশ্লিষ্ট বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বিমানটি কেন বিধ্বস্ত হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ও সাবেক আইনপ্রণেতা এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপত্র বা গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। নিজ দেশে কারাদণ্ডের রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রে তার অবস্থান নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি। রয়টার্সকে এদুয়ার্দো বলসোনারো জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-১এ (EB-1A) ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। এই ক্যাটাগরিতে বিজ্ঞান, শিল্প, ব্যবসা, ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা বা অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্রিয়াটি প্রায় এক বছর আগে শুরু হয়েছিল। এদুয়ার্দো ২০২৫ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি দাবি করেন, ব্রাজিলের সর্বোচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার কারণেই তিনি দেশে ফিরছেন না। তার মতে, ব্রাজিলে ফিরে গেলে তিনি স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবেন না। গত জুনে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট এদুয়ার্দো বলসোনারোকে চার বছর দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়। আদালতের রায়ে বলা হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়ে তার বাবা জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান মামলায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে এদুয়ার্দো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ নয়, সাংবিধানিক ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। জাইর বলসোনারোও বর্তমানে ব্রাজিলে আইনি জটিলতার মুখে রয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর কথিত অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন। সম্প্রতি ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তার সঙ্গে সাক্ষাতের ওপরও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এদিকে এদুয়ার্দো বলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং দেশটির রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ বা ব্রাজিলের ওপর আরোপিত শুল্কের পেছনে তার কোনো ভূমিকা নেই।
ব্রাজিলে বিমানের একটি জানালার আসন নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়ার পর এবার আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন সেই নারী যাত্রী। সংরক্ষিত আসন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোর ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে ক্ষতির অভিযোগ এনে তিনি বিমান সংস্থা গোল এয়ারলাইন্স এবং ভিডিও ধারণ ও প্রকাশকারী এক সহযাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ২৯ বছর বয়সী জেনিফার কাস্ত্রো ব্রাজিলের একটি ব্যাংকের কর্মী ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে গোল এয়ারলাইন্সের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে তিনি আগে থেকেই সংরক্ষণ করা জানালার আসনে বসতে গেলে সেখানে একটি শিশুকে দেখতে পান। শিশুটি সরে যাওয়ার পর তিনি নিজের নির্ধারিত আসনে বসেন। পরে শিশুটি কান্না করায় তাকে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও কাস্ত্রো তা প্রত্যাখ্যান করেন। ঘটনার সময় আরেক যাত্রী তার অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করেন এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায় এবং বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। কেউ কাস্ত্রোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন, আবার অনেকে বলেন, আগে থেকে সংরক্ষণ করা আসন ব্যবহার করা একজন যাত্রীর অধিকার। কাস্ত্রোর দাবি, ভাইরাল ভিডিওর পর তিনি ব্যাপক অনলাইন হয়রানি, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও মানসিক চাপে পড়েন। এর প্রভাব তার কর্মজীবনেও পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে আগের পেশা ছাড়তে হয়। তার অভিযোগ, একটি সাধারণ বিমানযাত্রাকে অননুমোদিতভাবে ভিডিও করে প্রকাশ করার কারণে তার সুনাম ও ব্যক্তিগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে তিনি গোল এয়ারলাইন্স এবং ভিডিও ধারণকারী যাত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন। তার বক্তব্য, এই আইনি পদক্ষেপ শুধু নিজের ক্ষতির প্রতিকার চাওয়ার জন্য নয়, ভবিষ্যতে যেন কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া একইভাবে জনসমক্ষে অপদস্থ না হন, সেই বার্তাও দিতে চান তিনি। এদিকে মামলার বিষয়ে গোল এয়ারলাইন্স প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। ঘটনাটি এখন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, যাত্রীর অধিকার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রকাশের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তা করা একটি আন্তঃদেশীয় মানবপাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্রাজিলে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুনকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের পর টেক্সাসে তার বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর তিনি লারেডো, টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালতে প্রথমবার হাজির হন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ৩৯ বছর বয়সী আল-মামুনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সংশোধিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশ থেকে অভিবাসীদের দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর ষড়যন্ত্রে অংশ নেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অবস্থানকারী অভিবাসীদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং তাদের পরবর্তী যাত্রার সমন্বয় করতেন। মামলার নথি অনুযায়ী, আল-মামুনের সঙ্গে আরও দুই বাংলাদেশি—মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮)—এই চক্রে জড়িত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় অভিবাসীদের রাখতেন এবং তাদের মনতেরের দিকে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। অন্যদিকে মোক্তার হোসেন মনতেরেতে তাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি রিও গ্র্যান্ডে নদী পার হয়ে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অনেক অভিবাসীকে অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, এই নেটওয়ার্ক দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে পাচারের জন্য একাধিক দেশের রুট ব্যবহার করত। দোষী সাব্যস্ত হলে আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবপাচারের ষড়যন্ত্র এবং অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে সহায়তার অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে মানবপাচারের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন এর আগে দোষ স্বীকার করেছেন এবং তারা কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (HSI), যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (JTFA) এবং ব্রাজিলসহ একাধিক দেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্থা। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুন আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
বাংলাদেশি নাগরিক সাইফুল্লাহ আল-মামুন (৩৯)কে ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের পর টেক্সাসের লারেডোতে ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকা ও মেক্সিকো হয়ে বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৮ জুলাই ব্রাজিল থেকে প্রত্যর্পণের পর আল-মামুনকে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয় এবং তিনি লারেডোতে প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির হন। তার বিরুদ্ধে দাখিল করা দ্বিতীয় সংশোধিত অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসীদের ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আশ্রয় দেওয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, এই চক্রে আরও দুজন বাংলাদেশি—মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮)—জড়িত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মিলন হোসেন মেক্সিকোর তাপাচুলায় অভিবাসীদের রাখতেন এবং তাদের মন্টেরে শহরে পাঠানোর ব্যবস্থা করতেন। অন্যদিকে মোক্তার হোসেন মন্টেরেতে তাদের আশ্রয় দিয়ে রিও গ্র্যান্ডে নদী পেরিয়ে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিতেন। নদী পার হওয়ার সময় অনেক অভিবাসী গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের এই যাত্রার জন্য অনেক বাংলাদেশি দালালদের মাধ্যমে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ পরিশোধ করেছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, আল-মামুনকে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মামলায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেন আগে দোষ স্বীকার করেন এবং প্রত্যেককে ৪৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাইফুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অবৈধ অভিবাসী আনা, অবৈধভাবে অভিবাসী প্রবেশে ষড়যন্ত্র এবং অভিবাসীদের অবৈধ প্রবেশে উৎসাহ ও সহায়তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে অভিবাসী আনার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তার ন্যূনতম পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া ষড়যন্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই মামলার তদন্তে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই), যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, ব্রাজিলের ফেডারেল পুলিশ, কলম্বিয়ার জাতীয় পুলিশ, যুক্তরাষ্ট্রের মার্শাল সার্ভিস এবং ব্রাজিলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ একাধিক সংস্থা যৌথভাবে কাজ করেছে। ব্রাজিল থেকে অভিযুক্তকে প্রত্যর্পণে বিচার বিভাগের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই মামলাটি তাদের যৌথ টাস্কফোর্স ‘জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা (জেটিএফএ)’-এর আওতায় পরিচালিত হয়েছে। এই টাস্কফোর্স আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে। তবে বিচার বিভাগ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, অভিযোগপত্র কোনো ব্যক্তির অপরাধ প্রমাণ করে না। আদালতে সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাইফুল্লাহ আল-মামুন আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
ব্রাজিলে এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত এক বন্দি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম জোয়াও ফেরেরা দা সিলভা। এই ঘটনাটি দেশটির স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জোয়াও ফেরেরা একটি শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে আদালত কর্তৃক ৪২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ ২০ বছর অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে কারাভোগ করার পর সম্প্রতি আদালত তাকে ‘অর্ধ-মুক্ত’ বা আংশিক স্বাধীনতার বিশেষ সুবিধা প্রদান করেন। এই আইনি সুবিধার আওতায় কারাগার থেকে বের হওয়ার ২৪ ঘণ্টাও পার করতে পারেননি জোয়াও। মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় একটি গেস্টহাউস বা পান্থশালার অদূরে ওত পেতে থাকা দুই মুখোশধারী বন্দুকধারী তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছাড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ব্রাজিলের পুলিশ জানিয়েছে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। মুখোশ পরিহিত দুই হামলাকারী জোয়াওয়ের মুক্তির সময় ও তার অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। গুলি করার পরপরই অপরাধীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে এটিকে কোনো প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি। প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, তা বের করতে তদন্ত চলছে।
মিশন ছিল বিশ্বমঞ্চে ষষ্ঠ শিরোপা বা 'হেক্সা' জয় করা। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে উল্টো এক ট্র্যাজিক হেক্সার বৃত্ত পূরণ হলো ব্রাজিলের। এই নিয়ে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে ব্যর্থ হলো ফুটবলের সফলতম এই দেশটি। সেই ২০০২ সালে এশিয়ার মাটিতে রোনালদো-রিভালদোদের হাত ধরে সর্বশেষ সোনালি ট্রফিতে চুমু খেয়েছিল সেলেসাওরা। এরপর দীর্ঘ ২৪টি বছর কেটে গেলেও বিশ্বকাপের ট্রফি আর ব্রাজিলে ফেরানো সম্ভব হয়নি। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই। কিন্তু মাঠের খেলায় ভাগ্য ও পারফরম্যান্স কোনোটিই পক্ষে ছিল না দলটির। প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিসের ধাক্কা এবং দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল ব্রাজিলকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয়। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে নেইমার জুনিয়র পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও তা কেবল সান্ত্বনার তালিকাই ভারী করেছে, ব্রাজিলের বিদায় আটকাতে পারেনি। ২০০২ সালের পর থেকে প্রতিবারই ফেভারিটের তকমা নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে ব্রাজিল। কিন্তু ২০০৬, ২০১০, ২০১৮, ২০২২ এবং এবার ২০২৬—এই পাঁচবারই কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই থামতে হয়েছে তাদের। আর ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে সেমিফাইনালের সেই ৭-১ গোলের দুঃস্বপ্ন তো রয়েছেই। সোনালি ট্রফি জয়ের মিশন নিয়ে এসে প্রতিবারই এভাবে খালি হাতে ফিরতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠের মধ্যেই নেইমারসহ ব্রাজিলের ফুটবলারদের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন কোটি সমর্থকের সেই ২৪ বছরের কান্নারই প্রতিচ্ছবি। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ট্রফির খোঁজে আসা সেলেসাওদের এখন আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। আর এর মধ্য দিয়েই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হলো টানা ছয়টি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ট্রফিহীন থাকার এক অনাকাঙ্ক্ষিত দীর্ঘ খরা।
অতীতের শারীরিক সম্পর্কের স্মৃতি মুছে ফেলে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে এক অভিনব পথে হাঁটছেন নারীরা। ১৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে নিজেদের 'বডি কাউন্ট' শূন্যে নামিয়ে আনার এক বিশেষ প্যাকেজ গ্রহণ করতে তারা ছুটে যাচ্ছেন সুদূর ব্রাজিলে। সেখানে তথাকথিত এক 'বডি কাউন্ট রিকভারি সেন্টার' নারীদের আধ্যাত্মিকভাবে শুদ্ধ করার এই ব্যয়বহুল ও অদ্ভুত সুযোগ দিচ্ছে। এই বিশেষ চিকিৎসায় বেশ কিছু আধ্যাত্মিক আচার ও রীতিনীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেন্টারটির কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীরা তাদের অতীতের সঙ্গীদের এনার্জি বা মানসিক প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে অংশ নেওয়া নারীরা নিজেদের পুনরুজ্জীবিত এবং বিশুদ্ধ অনুভব করেন। মূলত, অতীত সম্পর্কের সমস্ত মানসিক ও আধ্যাত্মিক ছাপ মুছে ফেলে তাদের 'বডি কাউন্ট' বা শারীরিক সম্পর্কের সংখ্যা পুনরায় শূন্যে ফিরিয়ে আনাই এই থেরাপির প্রধান লক্ষ্য। ১৩ হাজার ডলারের এই বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে সেন্টারটি নারীদের একটি পরিপূর্ণ 'স্পিরিচুয়াল রিসেট' বা আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অতীত সম্পর্কের গ্লানি বা স্মৃতি চুকিয়ে যারা মানসিকভাবে সম্পূর্ণ নতুন এক জীবন শুরু করতে চাইছেন, তাদের কাছে বিপুল খরচের এই থেরাপি এখন ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘ সময় পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। জাপানের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ২-১ গোলের জয় পেয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে একই দিনে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে জাপান, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস—যাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল ব্রাজিলের জন্য। ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে নকআউট পর্বে জাপানের মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। ম্যাচের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না লাতিন আমেরিকার দলটির জন্য। ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর গোলে এগিয়ে যায় জাপান। সেই লিড ধরে রেখে ম্যাচ জয়ের আশা জাগিয়েছিল তারা। দ্বিতীয়ার্ধে এসে খেলার মোড় ঘুরে যায়। ৫৬ মিনিটে কাসেমিরোর গোল ব্রাজিলকে সমতায় ফেরায়। এরপর ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির গোলে জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের। জয়ের কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় জাপানকে। এই জয়ের ফলে সম্ভাব্য কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পায় ব্রাজিল। গ্রুপে অবস্থানের ভিত্তিতে রানার্সআপ হলে তাদের খেলতে হতো নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, আর তৃতীয় হলে পড়তে পারত জার্মানির মুখে। তবে নাটকীয়ভাবে এই দুই দলই নিজেদের ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে। ব্রাজিলের ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামে জার্মানি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও পরে সমতা ফেরায়। কিন্তু টাইব্রেকারে আর ভাগ্য সহায় হয়নি তাদের। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো হিলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় জার্মানি। অন্য ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর লড়াই গড়ায় টাইব্রেকারে। নির্ধারিত সময়ে ৭২ মিনিটে কোডি খাকপোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ডাচরা। কিন্তু যোগ করা সময়ে ইসা দিওপের গোলে সমতা ফেরায় মরক্কো। এরপর টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। সব মিলিয়ে একদিনেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দেখা গেছে একাধিক নাটকীয়তা। ব্রাজিল শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়ে স্বস্তিতে থাকলেও বিদায়ের বেদনাই সঙ্গী হয়েছে জাপান, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের।
সব শঙ্কা, স্নায়ুচাপ আর নাটকীয়তার অবসান ঘটল শেষ মুহূর্তের এক দুর্দান্ত আক্রমণে। নির্ধারিত সময়ের খেলা যখন ১-১ সমতায় শেষ হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ব্রাজিল। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল জাপানের দখলে। ২৯ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাইশু সানো দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে জাপানকে এগিয়ে দেন। গোলের পর কোচ হাজিমে মোরিয়াসু দলকে আরও রক্ষণাত্মক করে তোলেন। ৫-৪-১ ছকে গড়ে ওঠা জাপানের শক্ত রক্ষণে প্রথমার্ধজুড়ে ছন্দ খুঁজে পায়নি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে আটকে রাখে ব্লু সামুরাইরা। বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের নিখুঁত ক্রস থেকে কাসেমিরো দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে সমতায় ফেরান পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৫৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ প্রচেষ্টা গোলরক্ষক জিওন সুজুকির স্পর্শে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও জাপানের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না ব্রাজিল। ম্যাচের শেষভাগে একের পর এক পরিবর্তন এনে আক্রমণে নতুন গতি যোগ করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ৬৫ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার পরিবর্তে মাঠে নামেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। এনদ্রিক ও রায়ানের গতিময় ফুটবলে ক্রমেই চাপে পড়ে জাপানের রক্ষণভাগ। ৮৫ মিনিটে রায়ানের ফ্রি-কিক এবং পরে ব্রুনো গিমারাইসের প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে অতিরিক্ত সময়ই যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এরই মধ্যে ৮৯ মিনিটে ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়েন কাসেমিরো। তার জায়গায় নামেন ফাবিনিও। তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে ব্রুনো গিমারাইসের নিখুঁত পাস ধরে জাপানি ডিফেন্ডারদের ফাঁক গলে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান মার্তিনেল্লি। জাপানের গোলরক্ষক সুজুকির কিছুই করার ছিল না। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি জাপান। ২-১ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। নেইমারকে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে রেখেই গুরুত্বপূর্ণ এই জয় তুলে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল।
জাপানের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ নক-আউট লড়াইয়ে মাঠের রণকৌশলে কোনো রকম ঝুঁকি বা পরিবর্তন আনতে রাজি নন ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া জয়ের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে আজ জাপানের বিরুদ্ধে হুবহু একই এবং অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর আগে ফুটবল বিশ্লেষকদের আলোচনায় ব্রাজিলের রক্ষণভাগের যে ফুল-ব্যাক পজিশন নিয়ে দুর্বলতার কথা উঠেছিল, সেই দানিলো এবং দগলাস সান্তোসের ওপরই ফের আস্থা রেখেছেন আনচেলত্তি। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে মার্কিনহোস ও গাব্রিয়েলের শক্তিশালী জুটির সামনে গোলপোস্টের নিচে যথারীতি দেয়াল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন আলিসন বেকার। মিডফিল্ডে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রাখতে কাসেমিরোর অভিজ্ঞতার সাথে খেলছেন ব্রুনো গিমারায়েস এবং লুকাস পাকেতা। আর আক্রমণভাগে চোট কাটিয়ে ফেরা নেইমারকে বেঞ্চে রেখে শুরুর একাদশে ভিনিসিউস জুনিয়র এবং মাথেউস কুনহার সাথে রাইট উইংয়ে থাকছেন তরুণ তুর্কি রায়ান। জাপানের গতিময় উইং-ব্যাক ও কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলকে রুখে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে আনচেলত্তির এই চেনা ‘উইনিং কম্বিনেশন’ কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ব্রাজিলের শুরুর একাদশ: গোলরক্ষক: আলিসন বেকার ডিফেন্ডার: দানিলো, মার্কিনহোস, গাব্রিয়েল মাগালায়েস, দগলাস সান্তোস মিডফিল্ডার: ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, লুকাস পাকেতা ফরোয়ার্ড: রায়ান, ম্যাথিউস কুনহা, ভিনি জুনিয়র
ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ। বুধবার (২৪ জুন) বিভিন্ন দেশের নেতারা ত্রাণ, উদ্ধার ও মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সবার আগে প্রতিক্রিয়া জানায় বলিভিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই দুর্যোগের সময়ে বলিভিয়ার জনগণ ভেনেজুয়েলার পাশে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে দেশটি প্রস্তুত। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কারাকাসে অবস্থিত ব্রাজিলীয় দূতাবাসকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ভেনেজুয়েলার প্রয়োজনীয় মানবিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়গুলো মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট যমন্দু ওরসি এক বার্তায় ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলা যে ধরনের সহযোগিতা চাইবে, উরুগুয়ে তা দিতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মানবিক সহায়তার বার্তা দিয়েছে আর্জেন্টিনাও। দেশটির প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই এক বিবৃতিতে বলেন, কূটনৈতিক মতভেদ থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় আর্জেন্টিনা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ভেনেজুয়েলার এই সংকটময় সময়ে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সংহতি ও সহায়তার আশ্বাস আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মায়ামিতে দাপুটে ফুটবল খেলেই ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। একই সময়ে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় রানার্সআপ হয়েছে মরক্কো। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় শেষ ৩২-এ ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হবে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। অন্যদিকে রানার্সআপ মরক্কো খেলবে ‘এফ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে। বর্তমানে ওই গ্রুপে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেনের মধ্যে শেষ ষোলোর সমীকরণ জমে উঠেছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ের নায়ক ছিলেন ভিনিসিউস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড জোড়া গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। অপর গোলটি করেন ম্যাথুস কুনহা। অন্য ম্যাচে মরক্কোর হয়ে গোল করেন আশরাফ হাকিমি, ইসমাইল সাইবারি, সুফিয়ান রহিমি ও গেসিমে ইয়াসিন। মায়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। সপ্তম মিনিটেই ভিনিসিউস জুনিয়র দলকে এগিয়ে দেন। স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনার ক্লিয়ার করা বল গোলরক্ষকের সামনে থাকা ভিনিসিউসের কাছে চলে এলে তিনি ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। ২২ মিনিটে আবারও বল জালে পাঠান ভিনিসিউস। তবে জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে বল কেড়ে নেওয়ার সময় ফাউল করার কারণে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করা হয়। তবে বিরতির ঠিক আগে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। ব্রুনো গিমারাইসের ভাসিয়ে দেওয়া নিখুঁত ক্রসে হেডে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে এটি ছিল ভিনিসিউসের চতুর্থ গোল। এর আগের কাতার বিশ্বকাপে তিনি করেছিলেন একটি গোল। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে ব্রাজিল। ম্যাচের ৬০ মিনিটে রক্ষণভেদী আক্রমণ থেকে সহজ একটি সুযোগ তৈরি করেন ব্রুনো গিমারাইস। নিজে শট না নিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ম্যাথুস কুনহার দিকে। ব্রাজিলের এই স্ট্রাইকার সহজেই বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল। এর আগে হাইতির বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপে মাঠে ফিরলেও গোল কিংবা অ্যাসিস্টের দেখা পাননি এই তারকা ফরোয়ার্ড। অন্য ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় তুলে নেয় মরক্কো। দলটির হয়ে আশরাফ হাকিমি, ইসমাইল সাইবারি, সুফিয়ান রহিমি ও গেসিমে ইয়াসিন একটি করে গোল করেন। এই জয়ে ব্রাজিলের সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠতে হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটিকে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও মরক্কো দুটিই অপরাজিত থেকেছে। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ‘সি’ গ্রুপের সেরা দল হিসেবে শেষ ষোলোয় পা রাখল ব্রাজিল। এখন নকআউট পর্বে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ফুটবল, সাম্বা, আমাজনের বিস্তীর্ণ অরণ্য এবং মনোমুগ্ধকর সমুদ্রসৈকতের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রাজিল। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশটির পরিচিতি সাধারণত এসব বিষয় ঘিরেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে এই পরিচিত চিত্রের আড়ালে দেশটিতে নীরবে বিস্তার লাভ করছে ইসলাম, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গবেষক ও ধর্মীয় পর্যবেক্ষকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ এই লাতিন আমেরিকান দেশে মুসলিম সম্প্রদায় এখন আর কেবল অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অভিবাসনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের মধ্যেও ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে, যা দেশটির ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ব্রাজিলের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা আইবিজিই এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৬৭ হাজার থেকে ১৫ লাখের মধ্যে রয়েছে। যদিও বিভিন্ন গবেষণায় সংখ্যাগত কিছু পার্থক্য দেখা যায়, ইসলামিক সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী বর্তমানে ব্রাজিলে প্রায় ১৫ লাখ সক্রিয় মুসলিম বসবাস করছেন। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ। গবেষকদের মতে, সরকারি আদমশুমারিতে ধর্ম পরিবর্তনের তথ্য অনেক সময় দ্রুত হালনাগাদ না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। ব্রাজিলে মুসলিমদের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার। ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশজুড়ে প্রায় ১৫১টি সক্রিয় মসজিদ রয়েছে। এর পাশাপাশি শতাধিক নামাজকেন্দ্র এবং ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে সাও পাওলো, পারানা, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া, কুরিতিবা এবং ফোজ দো ইগুয়াসু অঞ্চলে মুসলিম জনসংখ্যা এবং মসজিদের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলে ইসলামের প্রসারের পেছনে দুটি বড় কারণ রয়েছে। প্রথমটি হলো অভিবাসন। গত শতাব্দীতে সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিন থেকে বিপুল সংখ্যক আরব মুসলিম ব্রাজিলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও মুসলিম অভিবাসীরা সেখানে আসেন। দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে স্থানীয় ব্রাজিলীয়দের ইসলাম গ্রহণের প্রবণতাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কারণে অনেক ব্রাজিলীয় ইসলাম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হচ্ছেন। ফেডারেশন অব মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনস ইন ব্রাজিলের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশটিতে ইসলাম গ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি স্থানীয় ব্রাজিলীয় ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে সংগঠনটির দাবি। ব্রাজিলের ইসলামি ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো সাও পাওলোর মেসকিতা ব্রাজিল। ১৯২৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদকে শুধু ব্রাজিল নয়, সমগ্র দক্ষিণ আমেরিকার প্রথম এবং সবচেয়ে পুরোনো মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি দেশটিতে ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া ফোজ দো ইগুয়াসু শহরের ওমর ইবনুল খাত্তাব মসজিদও মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা। ১৯৮৩ সালে নির্মিত এই মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী এবং বিশাল মিনার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পারানা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কুরিতিবায় অবস্থিত ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব মসজিদ এবং রাজধানী ব্রাসিলিয়ার ইসলামিক সেন্টারও মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রাজিলের প্রায় সব মুসলিমই নগরাঞ্চলে বসবাস করেন। সাও পাওলো, রিও ডি জেনেইরো, ব্রাসিলিয়া, ফোজ দো ইগুয়াসু, কুরিতিবা এবং বেলো হরিজন্তে শহরগুলো মুসলিম জনসংখ্যার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের অন্যতম বড় হালাল মাংস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও ব্রাজিলের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। দেশটির বিশাল হালাল খাদ্যশিল্প শুধু স্থানীয় মুসলিমদের প্রয়োজন মেটাচ্ছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও বিপুল পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রাজিলে ইসলাম এখন আর শুধুমাত্র অভিবাসীদের ধর্ম হিসেবে বিবেচিত হয় না। স্থানীয় সমাজে মুসলিমদের অংশগ্রহণ, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামের প্রতি আগ্রহ দেশটিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। ফুটবলপ্রেমী এই লাতিন আমেরিকান দেশে মুসলিমরা এখন একটি ছোট কিন্তু ক্রমবর্ধমান সম্প্রদায় হিসেবে নিজেদের অবস্থান গড়ে তুলেছেন। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে ব্রাজিলে ইসলামের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
ডান পায়ের কাফ মাসলের (পেশি) চোটের কারণে দীর্ঘ এক মাস মাঠের বাইরে থাকার পর অবশেষে দলের সঙ্গে অনুশীলনে ফিরেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। বুধবার (১৭ জুন) নিউ জার্সির মরিসটাউনে চলমান বিশ্বকাপের প্রথমবারে মতো ব্রাজিল দলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অনুশীলনে যোগ দেন তিনি। অনুশীলনে মাঠে নেমে সতীর্থ রাফিনহা, ব্রুনো গুইমারেস, গ্যাব্রিয়েল ম্যাগালহেস এবং ফাবিনহোর সঙ্গে হালকা গা গরম করেন এই ফরোয়ার্ড। সেখানে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে রসিকতা করে নেইমার বলেন, "তোমরা কি আমাকে মিস করেছ?" অবশ্য দলের সঙ্গে প্রাথমিক কিছু কাজ করার পর তিনি মাঠের একপাশে গিয়ে কোচিং স্টাফদের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করেন। এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর প্রথমবারের মতো একাকী রানিং ড্রিল এবং কোচ কার্লো আনচেলত্তির সহকারী স্টাফের সাথে কাজ করেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় কাফ মাসলে চোট পান নেইমার, তবে চোট থাকা সত্ত্বেও দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তাকে বিশ্বকাপের দলে রাখা হয়। এদিকে নেইমারকে ছাড়া পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছে। গ্রুপ 'সি-তে শুক্রবার তারা হাইতির এবং আগামী ২৪ জুন বুধবার স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। সোমবার গ্রেড টু পেশির চোট থেকে সেরে ওঠার জন্য নেইমারের পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে, যদিও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (CBF) এখনও এর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, নকআউট পর্বের আগে নেইমার পুরোপুরি ফিট হবেন বলে আশা করছে মেডিকেল টিম, যার অর্থ হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে তিনি খেলতে পারবেন না। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বাঁ হাঁটুর এসিএল (ACL) এবং মেনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে আর মাঠে নামা হয়নি নেইমারের। ফুটবলভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ট্রান্সফারমার্কেট’-এর তথ্য অনুযায়ী, এরপর থেকে চোট, পুনর্বাসন ও বিশ্রামের কারণে প্রায় ৭০০ দিন মাঠের বাইরে কেটেছে তার। মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দলের বেঞ্চে উপস্থিত থাকলেও ম্যাচ খেলার মতো কিট বা জার্সি পরেননি তিনি। নেইমারের ফেরা প্রসঙ্গে কোচ কার্লো আনচেলত্তি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "নেইমার দ্রুত সেরে ওঠার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। আগামী সপ্তাহে সে দলের সঙ্গে পুরোপুরি যোগ দেবে বলে আমরা আশা করছি। তার প্রশ্নাতীত কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ও তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের কারণেই তাকে দলে রাখা হয়েছে।" সূত্র: ইএসপিএন
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে দাপুটে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। তার এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেসির বর্তমান ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাস্যরসের ভঙ্গিতে লুলা বলেন, তিনি মেসিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলানোর জন্য সই করানোর কথা ভাবছেন। ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এটি রসিকতা হিসেবে বলা, তবুও মেসির পারফরম্যান্স যে প্রতিপক্ষ দেশের নেতাদেরও মুগ্ধ করছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে লুলার বক্তব্যে। এদিকে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ব্রাজিল ড্র দিয়ে। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা। এই প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন লুলা। তিনি বলেন, স্পেন কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করেছে, সেটি আরও খারাপ ফলাফল। এবারের বিশ্বকাপ মেসির জন্যও বিশেষ হয়ে উঠেছে। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা তাকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার পাশে বসিয়েছে সর্বাধিক বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়ার পর গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। ২২ জুনের ওই ম্যাচে জয় পেলে নকআউট পর্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে মেসির দল।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে একের পর এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। এক তরুণীর বাঞ্জি জাম্পিংয়ের সময় দড়ি ছাড়া নিচে পড়ে মৃত্যুর ঠিক পরদিনই পাহাড়ি ট্রেইলে মশার স্প্রে করতে গিয়ে ১০০ ফুট গভীর খাদে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরেক নারী। গত রবিবার (১৪ জুন) ব্রাজিলের মারিকাহ এলাকার ‘গ্রুটাস ডো স্পার’ পাহাড়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত ওই নারীর নাম রোসমারি সুজার্ট গার্সিয়া (৫৯)। তিনি রিও ডি জেনিরোর বাসিন্দা এবং একদল পর্যটকের সাথে ওই পাহাড়ে ট্র্যাকিং করতে গিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড়ের একটি উঁচু পয়েন্টে দাঁড়িয়ে রোসমারি মশার কামড় থেকে বাঁচতে পায়ে স্প্রে করার জন্য এক পা ওপরে তোলেন। কিন্তু উঁচু ও খাড়া পাহাড়ের ওপর একক পায়ে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদের দিকে পড়ে যান। দলের ট্যুর গাইড তাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে হাত ধরলেও শেষ রক্ষা হয়নি। তীব্র টানে গাইড নিজেও পড়ে যাচ্ছিলেন, তবে শেষ মুহূর্তে একটি গাছের শিকড় ধরে তিনি নিজেকে সামলে নেন। চোখের পলকে ১০০ ফুট নিচে পাথুরে মাটিতে আছড়ে পড়েন রোসমারি। উদ্ধারকর্মীরা পাহাড়ের নিচ থেকে রোসমারির নিথর দেহ উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, পাহাড়ে হাঁটার জন্য হেলমেট ও গ্লাভসসহ সমস্ত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম তার শরীরে ছিল। পুলিশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এর ঠিক আগের দিন শনিবার (১৩ জুন) ব্রাজিলের সাও পাওলোতে আরও একটি ভয়ংকর কাণ্ড ঘটে। একটি সেতু থেকে ২৩ বছর বয়সী মারিয়া এদুয়ার্দো নামের এক তরুণী বাঞ্জি জাম্পিং করতে গেলে আয়োজকরা তার পায়ে দড়ি না বেঁধেই তাকে নিচে ফেলে দেয়। ১৩০ ফুট নিচে পড়ে তাৎক্ষণিকভাবেই তার মৃত্যু হয়। পরপর দুই দিনে এমন দুটি মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো দেশটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।