সান্তোসের হয়ে রোববার (১৫ মার্চ) করিন্থিয়াসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচে মাঠে নামলেও নেইমার জুনিয়র তার চেনা রূপে খেলতে পারেননি। পুরো ম্যাচে উপস্থিত থাকলেও ব্রাজিলিয়ান তারকা তার পরিচিত ছন্দে চোখে পড়েননি। চলতি মাসে ব্রাজিল জাতীয় দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে। দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি আজ সেই দলের ঘোষণার কথা ঘোষণা করবেন। তবে নিজে পারফরম্যান্স ও ফিটনেস নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন নেইমার। ম্যাচ শেষে তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলে ফিরতে ও বিশ্বকাপে খেলতে তাঁর প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি এখন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। নেইমার বলেছেন, “আমি আবারও জাতীয় দলে ফিরতে চাই এবং বিশ্বকাপে খেলতে চাই। কিন্তু সত্যি বলতে, এটি এখন আর আমার হাতে নেই। আমি দলে থাকি বা না থাকি, ব্রাজিলের জন্য আমার সমর্থন সবসময় থাকবে।” কার্লো আনচেলত্তি আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছেন, শতভাগ ফিটনেস ছাড়া কাউকেই বিশ্বকাপের জন্য দলভুক্ত করা হবে না। ইনজুরির কারণে নেইমার গত ম্যাচে খেলতে পারেননি এবং সেই সময় গ্যালারিতে বসেই কোচের কাছ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। করিন্থিয়াসের বিপক্ষে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নেইমার ছিলেন নিষ্প্রভ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে চোটের পর থেকে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানো হয়নি নেইমারের। ক্লাবের হয়ে মাঠে ফিরে আসলেও মাঝেমধ্যে ছোটখাটো চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। ডিসেম্বরে হাঁটুর অস্ত্রোপচার হওয়ায় তার খেলার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে জোড়া গোল করলেও ধারাবাহিকতার অভাবে নেইমারের বিশ্বকাপের ভাগ্য এখন অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ড্যারেন বিটির ভিসা বাতিল করেছে ব্রাজিল সরকার। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করতে বিটির এই সফরের কথা ছিল, যা বর্তমান লুলা প্রশাসন আটকে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটি ‘বিনিময়’ শর্ত কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গত বছর ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেকজান্দ্রে প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা বাতিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। লুলার দাবি, যতক্ষণ না প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা পুনর্বহাল করা হচ্ছে, ততক্ষণ ট্রাম্পের উপদেষ্টাকে ব্রাজিলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনে বিটি তার সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ৭০ বছর বয়সী জইর বলসোনারোর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। বলসোনারোর ছেলে সেনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তার বাবার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ড্যারেন বিটির ভিসা বিতর্ক এবং বলসোনারোর অসুস্থতা—এই দুই ইস্যুতে ব্রাজিল ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন অগ্নিগর্ভ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর কট্টর ডানপন্থি উপদেষ্টা ড্যারেন বিটি–র ভিসা বাতিল করেছে ব্রাজিল সরকার। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো–র সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা ছিল তার। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা শুক্রবার নিশ্চিত করেন যে বিটির ভিসা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনে ব্রাজিলীয় কর্মকর্তাদের ভিসা বাতিলের মার্কিন সিদ্ধান্তের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেসব ব্রাজিলীয় কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে তাদের মধ্যে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেকজান্দ্রে পাদিলহাও রয়েছেন। তার মার্কিন ভিসা গত বছর বাতিল করা হয়েছিল। রিও ডি জেনিরোতে এক অনুষ্ঠানে লুলা বলেন, যে আমেরিকান ব্যক্তি বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করতে ব্রাজিলে আসতে চেয়েছিলেন, তাকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র আমার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভিসা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততক্ষণ ওই ব্যক্তিকেও ব্রাজিলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। পৃথকভাবে ব্রাজিলীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিটি তার ভিসা আবেদনে সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, বলসোনারো ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে বর্তমানে তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। শুক্রবারের এই সিদ্ধান্তকে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ও লুলার সম্পর্ক কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে গত আগস্টে বলসোনারোর বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ব্রাজিলের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। তিনি বলসোনারোর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং ব্রাজিল সরকারের বিরুদ্ধে ডানপন্থি কণ্ঠস্বর দমনের অভিযোগ তোলেন।
দক্ষিণ-পূর্ব মিনাস গেরাইস রাজ্যে সোমবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া অন্তত ৪০ জনের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জুইজ ডি ফোরো শহরে। সেখানে এখন পর্যন্ত ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের খুঁজতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে—এমন পূর্বাভাস থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। রাজ্যের সিভিল ডিফেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রিও ডি জেনিরো থেকে প্রায় ৩১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত জুইজ ডি ফোরোতে অন্তত ৪৪০ জন বাসিন্দা গৃহহীন হয়েছেন। শহরের মেয়র মার্গারিদা সালোমাও জানিয়েছেন, অন্তত ২০টি ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে এবং বহু বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে একটি শিশুকে জীবিত বের করতে সক্ষম হয়েছেন। তবু এখনও অনেকের খোঁজ মেলেনি। জুইজ ডি ফোরোর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উবা শহরেও অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলের ফায়ার ব্রিগেডের মেজর ডিমেট্রিয়াস গৌলার্ট বলেন, সোমবার রাতের প্রবল বর্ষণের সময় অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন। নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা কাদা ও পলিতে ঢেকে গেছে। মেয়র সালোমাও জানান, মাত্র চার ঘণ্টায় ১৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসটি এ অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে আর্দ্র সময় হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার আশ্বাস দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, এখন প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে জীবন রক্ষা, বাস্তুচ্যুতদের পাশে দাঁড়ানো এবং জরুরি সেবা দ্রুত পুনর্বহাল করা। বর্তমানে মিনাস গেরাইস ফায়ার সার্ভিসের শতাধিক সদস্য উদ্ধারকাজে যুক্ত রয়েছেন। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন যৌথভাবে পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিলেও অব্যাহত বৃষ্টি ও ভূমিধসের ঝুঁকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং দুর্লভ মৃত্তিকা (রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট) খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী চুক্তিতে সই করেছে ভারত ও ব্রাজিল। শনিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী মোদী এই চুক্তিকে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, লিথিয়াম বা কোবাল্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলো ইলেকট্রিক যান, সোলার প্যানেল, স্মার্টফোন এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির অপরিহার্য উপাদান। বিশ্বে এই খনিজগুলোর দ্বিতীয় বৃহত্তম মজুদ রয়েছে ব্রাজিলে। বর্তমানে এই খাতের বাজার মূলত চীনের নিয়ন্ত্রণে, তাই বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে ব্রাজিলের সাথে এই অংশীদারিত্ব ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং খনিজ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিই এই সফরের মূল লক্ষ্য। খনিজ ছাড়াও ডিজিটাল সহযোগিতা, স্বাস্থ্য এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ আরও ৯টি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করেছে দুই দেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ভারত মূলত ব্রাজিল থেকে অপরিশোধিত তেল, চিনি ও লৌহ আকরিক আমদানি করে থাকে। উল্লেখ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক একটি শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদলসহ বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট লুলা। সফর শেষে তার দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার কথা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।