বিশ্ব

অভিবাসন আইন আরও কঠোর করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৩:৫
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা |সংগৃহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা |সংগৃহীত

অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের ক্ষমতা বাড়াতে নতুন ও কঠোর অভিবাসননীতির চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। বুধবার স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত ভোটে অনুমোদন পেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে ‘ডিপোর্টেশন সেন্টার’ বা নির্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের পথও উন্মুক্ত হবে।

 

দীর্ঘ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া শেষে এই সংস্কার এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি এবং ইউরোপজুড়ে জনমতের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

 

ইইউর অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, “এই আইন স্পষ্টভাবে বার্তা দিচ্ছে যে পাচারকারীরা নয়, বরং আমরাই সিদ্ধান্ত নেব ইউরোপীয় ইউনিয়নে কে থাকতে পারবে এবং কাকে চলে যেতে হবে।”

 

নতুন আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা বহিষ্কার কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। যেসব অভিবাসীর ইউরোপে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের এসব কেন্দ্রে পাঠানোর সুযোগ থাকবে।

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। তবে ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

 

সম্প্রতি ইইউভুক্ত দেশগুলোর একটি বড় অংশ এসব কেন্দ্র পরিচালনায় ইউরোপীয় অর্থায়নের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। যদিও ফ্রান্স ও স্পেন এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে।

 

গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে এসব কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম চুক্তি সম্পন্ন করা, যাতে ২০২৭ সাল থেকে এগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।”

 

ইউরোপীয় দেশগুলোতে অভিবাসন ইস্যুতে জনমত ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে ডানপন্থি রাজনৈতিক দলের উত্থানের ফলে সরকারগুলোও অভিবাসন নীতিতে আরও কড়াকড়ি আরোপের পথে হাঁটছে।

 

২০২৫ সালে ইউরোপে অভিবাসীর আগমন কিছুটা কমে এলেও ব্রাসেলস এখন মূলত প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ নিজ দেশে ফিরে গেছে।

 

ইইউ কর্মকর্তাদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেলে ব্রিটিশ নৌযানের কাছে রুশ যুদ্ধজাহাজে গুলি, ক্ষুব্ধ স্টারমার

ইংলিশ চ্যানেলে একটি ব্রিটিশ পতাকাবাহী নৌযানের কাছে রুশ নৌবাহিনীর একটি ফ্রিগেটের ‘হুঁশিয়ারি গুলি’ ছোড়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘটনাটিকে “বেপরোয়া” এবং “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে মন্তব্য করেছেন।   বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বলেন, রুশ নৌবাহিনীর জাহাজের এমন আচরণ “ঘটা উচিত ছিল না”। তার ভাষায়, “এটি বেপরোয়া। নৌযানে থাকা দম্পতি নিশ্চিতভাবে ভীষণ আতঙ্কিত হয়েছিলেন।”   ঘটনার সময় ‘ব্রাইট ফিউচার’ নামের ব্রিটিশ পতাকাবাহী একটি ইয়ট ইংলিশ চ্যানেলে চলছিল। ইয়টটিতে থাকা নাবিক জেন কেলভি বিবিসিকে জানান, রুশ যুদ্ধজাহাজটি শুরুতে পাঁচবার হর্ন বাজিয়ে সতর্ক সংকেত দেয়, এরপর ছোট অস্ত্র দিয়ে হুঁশিয়ারি গুলি ছোড়ে।   তিনি বলেন, নৌযান দুটি কোনোভাবেই সংঘর্ষের পথে ছিল না। তার দাবি অনুযায়ী, পরিস্থিতি তখনই উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন গুলি ছোড়া হয়, যা “সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়” ছিল।   তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ইয়টটি বিপজ্জনকভাবে যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল এবং একাধিক রেডিও সতর্কবার্তার পরও অবস্থান পরিবর্তন করেনি। পরে সংঘর্ষ এড়াতে সতর্ক গুলি ছোড়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত ইয়টটি দিক পরিবর্তন করে।   যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুলিটি সরাসরি নৌযানকে লক্ষ্য করে নয়, বরং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। স্টারমার আরও বলেন, ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন দুই দিন আগে ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করে যুক্তরাজ্যের বাহিনী।   ঘটনার সময় রুশ ফ্রিগেট ‘অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ’-কে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ এইচএমএস মার্সি পর্যবেক্ষণ করছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এখন পর্যন্ত দুই পক্ষই ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান সঠিক বলে দাবি করছে। তবে বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৪:৩৫
ছবি: সংগৃহীত

ইরান চুক্তির লিখিত ভাষার বাইরে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা, দাবি মার্কিন কর্মকর্তাদের

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা |সংগৃহীত

অভিবাসন আইন আরও কঠোর করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ছবি: সংগৃহীত

ইরান-মার্কিন চুক্তিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা

মোদি–মেলোনির রসিকতায় সরগরম নেটদুনিয়া, ‘মেলোডি’ আবার আলোচনায়
মোদি–মেলোনির রসিকতায় সরগরম নেটদুনিয়া, ‘মেলোডি’ আবার আলোচনায়

জি-৭ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক ব্যস্ততার মাঝেও এক অনানুষ্ঠানিক মুহূর্ত ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সম্মেলনস্থলে রাষ্ট্রনেতাদের পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও কথোপকথনের ফাঁকে এই দুই নেতার সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে।   সম্মেলনের এক পর্যায়ে অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আলাপরত অবস্থায় মেলোনি কাছে আসতেই মোদি এগিয়ে যান। তখন দুজনের মধ্যে হালকা হাস্যরসাত্মক কথোপকথন হয়। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মেলোনি মোদিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আবার আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগছে।” এরপর মজার ছলে তিনি যোগ করেন, “আমরাই ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি।”   মেলোনির এই মন্তব্যে সায় দিয়ে মোদিও তাদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। মুহূর্তটি দ্রুতই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।   ‘মেলোডি’ শব্দটি মূলত মোদি ও মেলোনির নামের সংমিশ্রণ। ২০২৩ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে মেলোনি মোদির সঙ্গে তোলা একটি সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ‘মেলোডি’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করলে বিষয়টি প্রথম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এরপর থেকেই দুই নেতার প্রতিটি সাক্ষাৎ ঘিরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য মিম, ভিডিও ও রসাত্মক কনটেন্ট।   এই জনপ্রিয়তাকে আরও উসকে দেয় সম্প্রতি রোম সফরের একটি ঘটনা। ওই সফরে মোদি মেলোনিকে ‘মেলোডি’ নামের একটি টফি উপহার দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নীল রঙের বন্দগালা স্যুট পরিহিত মোদি মেলোনির হাতে টফির একটি প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। সাদা স্যুট পরা মেলোনি হাসিমুখে উপহার গ্রহণ করে তাকে ধন্যবাদ জানান।   ভিডিওতে মেলোনিকে বলতে শোনা যায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের জন্য একটি উপহার এনেছেন... খুব, খুব ভালো টফি।” এ সময় দুই নেতাকেই বেশ স্বতঃস্ফূর্ত ও হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।   বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির কঠোর আনুষ্ঠানিকতার বাইরে এমন স্বতঃস্ফূর্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বিশ্বনেতাদের মানবিক দিকটি সামনে আনে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের মুহূর্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে জনমনে আলাদা আগ্রহও তৈরি করে। মোদি ও মেলোনির এই ‘মেলোডি’ রসায়নও তার ব্যতিক্রম নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ২:৩১
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির কথা বললেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

সমঝোতার আগেই ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দাবি তেহরানের কূটনীতিকের

সমঝোতার আগেই ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, দাবি তেহরানের কূটনীতিকের

মিশিগান সিনেট নির্বাচনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলেন মিশরীয়-আমেরিকান আবদুল সায়েদ

ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা, মিশিগান সিনেট নির্বাচনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলেন মিশরীয়-আমেরিকান আবদুল সায়েদ

ছবি: সংগৃহীত
শান্তিচুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৪; কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। নতুন করে একাধিক ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। এ ঘটনার পর ইসরাইলকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।   আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৭ জুন) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ গভর্নরেটে একাধিক হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। হামলাগুলো সংঘটিত হয় এমন এক সময়ে, যখন অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা চলছে।   লেবাননের জাতীয় বার্তাসংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, মাইফাদুন এলাকায় দুটি গাড়িকে লক্ষ্য করে পৃথক ড্রোন হামলা চালানো হয়। একই সময়ে শৌকিন গ্রামেও একটি গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় এবং তারা কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলা আলোচনার পুরো সময়জুড়ে তেহরান বারবার বলে এসেছে, যে কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।   যদিও দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সম্প্রতি দাবি করেন, চুক্তির আওতায় লেবাননসহ সংঘাতের সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে বাস্তবে দক্ষিণ লেবাননে নতুন হামলার ঘটনায় সেই প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।   ইরানের শীর্ষ সামরিক সমন্বয় কেন্দ্র খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরাইলকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ না হলে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।   এদিকে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ। আলোচনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে ইসরাইলকে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং দখল করা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়া হয়।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ঘোষণার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নিরাপত্তা নীতি এবং সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে।   এ অবস্থায় অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা এগোলেও মাঠের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। ফলে সংঘাত পুনরায় বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   এদিকে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইরান তাদের আশ্বস্ত করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনায় লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও দক্ষিণ লেবাননের সাম্প্রতিক হামলা দেখিয়ে দিচ্ছে যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ এখনো অনেকটাই অনিশ্চিত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ২৩:৫১
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ঘোষণার পরও পুরোপুরি সচল নয় হরমুজ প্রণালি, জাহাজ চলাচলে বাধা হয়ে আছে যে ৩ কারণ

ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীন ইউরোপের অজানা রীতি? সমাধিক্ষেত্রে পাওয়া গেল ৭৭ মুণ্ডুহীন মানবকঙ্কাল

ছবি: সংগৃহীত

কাশ্মীর সীমান্তে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলি, হতাহত ১২ ভারতীয় সেনাসদস্য

0 Comments