অভিবাসন আইন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা |সংগৃহীত
অভিবাসন আইন আরও কঠোর করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও বহিষ্কারের ক্ষমতা বাড়াতে নতুন ও কঠোর অভিবাসননীতির চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। বুধবার স্ট্রাসবুর্গে অনুষ্ঠিত ভোটে অনুমোদন পেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে ‘ডিপোর্টেশন সেন্টার’ বা নির্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের পথও উন্মুক্ত হবে।   দীর্ঘ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া শেষে এই সংস্কার এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক চাপ বৃদ্ধি এবং ইউরোপজুড়ে জনমতের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।   ইইউর অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, “এই আইন স্পষ্টভাবে বার্তা দিচ্ছে যে পাচারকারীরা নয়, বরং আমরাই সিদ্ধান্ত নেব ইউরোপীয় ইউনিয়নে কে থাকতে পারবে এবং কাকে চলে যেতে হবে।”   নতুন আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ বা বহিষ্কার কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে। যেসব অভিবাসীর ইউরোপে থাকার বৈধ অধিকার নেই, তাদের এসব কেন্দ্রে পাঠানোর সুযোগ থাকবে।   মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। তবে ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।   সম্প্রতি ইইউভুক্ত দেশগুলোর একটি বড় অংশ এসব কেন্দ্র পরিচালনায় ইউরোপীয় অর্থায়নের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। যদিও ফ্রান্স ও স্পেন এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে।   গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে এসব কেন্দ্র স্থাপনের প্রথম চুক্তি সম্পন্ন করা, যাতে ২০২৭ সাল থেকে এগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।”   ইউরোপীয় দেশগুলোতে অভিবাসন ইস্যুতে জনমত ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে ডানপন্থি রাজনৈতিক দলের উত্থানের ফলে সরকারগুলোও অভিবাসন নীতিতে আরও কড়াকড়ি আরোপের পথে হাঁটছে।   ২০২৫ সালে ইউরোপে অভিবাসীর আগমন কিছুটা কমে এলেও ব্রাসেলস এখন মূলত প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। বর্তমানে ইউরোপ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ পাওয়া অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ নিজ দেশে ফিরে গেছে।   ইইউ কর্মকর্তাদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

Unknown জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইওর নাগরিকত্ব বাতিলে মার্কিন সরকারের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক প্রযুক্তি উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।   অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নীরজ শর্মা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে পরিচিত। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তিনি এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির আওতায় এমন কিছু চাকরির আবেদন জমা দিয়েছিলেন, যেগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না। পাশাপাশি অভিবাসন ও নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।   মার্কিন বিচার বিভাগের দাবি, ভুয়া তথ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করা হয়ে থাকলে আইনের আওতায় সেই নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় নীরজ শর্মার বিরুদ্ধে ‘ডিন্যাচারালাইজেশন’ বা নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।   তবে এখনো তার নাগরিকত্ব বাতিল হয়নি। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে। মার্কিন আইনে নাগরিকত্ব বাতিল হলে ভবিষ্যতে বহিষ্কারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই বহুল ব্যবহৃত। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও আইটি খাতে ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় একটি অংশ এই ভিসার মাধ্যমে কাজ করে থাকেন। তবে অতীতে এই কর্মসূচিকে ঘিরে জালিয়াতি, ভুয়া চাকরির অফার এবং ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও তদন্ত জোরদার করেছে।   এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন, আবার কেউ কেউ আদালতের রায়ের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমসসহ একাধিক সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

Unknown জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস | ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ইমিগ্রান্ট ভিসা স্থগিতাদেশ বহাল, ঢাকায় দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ শুরু হলেও মিলছে না ভিসা

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রান্ট ভিসা কার্যক্রমের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ এখনো বহাল রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে আইনি লড়াই চলমান।   এদিকে স্থগিতাদেশ বহাল থাকলেও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ১ জুন থেকে ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে সব ধরনের ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। আবেদনকারীরা আগের মতোই আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। তবে বর্তমান স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ভিসা ইস্যু করা হবে না এবং আবেদনকারীরা পাসপোর্টে ভিসা পাবেন না।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর কিছু অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বহন করেন, যা ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছে।   তাদের দাবি, জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য সামগ্রিকভাবে ইমিগ্রান্ট ভিসা বন্ধ করে দেওয়া মার্কিন অভিবাসন আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এ বিষয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে চলমান CLINIC v. Rubio মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট জাতীয়তার ভিত্তিতে ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদানে বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে এবং ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর একযোগে নিষেধাজ্ঞা সেই আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।   মামলাটি ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। বাদীপক্ষের মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল সেন্টার, ডেমোক্র্যাসি ফরওয়ার্ড, লিগাল এইড সোসাইটি অব নিউইয়র্ক, সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটসসহ একাধিক অধিকারভিত্তিক সংগঠন। এছাড়া এমন কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও মামলায় যুক্ত আছেন, যারা এই নীতির কারণে তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারছেন না।   বাদীপক্ষ আদালতের কাছে চারটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে। তারা চায় আদালত এই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করুক, স্থগিতাদেশ স্থায়ীভাবে বাতিল করুক, স্টেট ডিপার্টমেন্টকে আগের নিয়মে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দিক এবং যেসব আবেদনকারী এই নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের নতুন করে সুযোগ দেওয়া হোক।   বর্তমানে মামলাটি ‘ক্রস-মোশন ফর পার্শিয়াল সামারি জাজমেন্ট’ পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।   আদালত বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত। ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান পুনরায় শুরু হতে পারে মূলত দুটি উপায়ে। প্রথমত, ফেডারেল আদালত স্থগিতাদেশ বাতিলের নির্দেশ দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসন নিজ উদ্যোগে নীতিটি প্রত্যাহার করতে পারে।   উল্লেখযোগ্য যে, এই স্থগিতাদেশ কেবল ইমিগ্রান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা অর্জনের জন্য আবেদনকারীরাই এর সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অ-অভিবাসী ভিসা, যেমন বি-১/বি-২, এফ-১ এবং এইচ-১বি, এই স্থগিতাদেশের আওতাভুক্ত নয়।   তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য বি-১/বি-২ ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দেওয়ার একটি নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।   ফলে বর্তমানে ঢাকায় ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ চালু হলেও, স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। কবে আবার ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান স্বাভাবিক হবে, তার উত্তর নির্ভর করছে আদালতের রায় এবং মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

তাবাস্সুম জুন ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০