ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন, ৩০ জুন পর্যন্ত মাঠে থাকার নির্দেশ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তীসহ ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মোতায়েনের আওতায় থাকা জেলাগুলো হলো ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও চট্টগ্রাম। নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এসব এলাকায় সেনা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। আইএসপিআর সূত্রে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সেনাবাহিনীকে মাঠে রাখা হয়েছে।
এদিকে ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশ সূত্র জানায়, নগরজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঢাকার বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে ২০০টির বেশি বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি রাজধানীর সব প্রবেশপথে তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো হবে।
ডিএমপির নিয়মিত ইউনিটগুলোর পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখা, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট এবং অন্যান্য বিশেষ ইউনিট মাঠে সক্রিয় থাকবে। সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের সদস্যরা গোয়েন্দা নজরদারি চালাবেন।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চারটি কন্ট্রোল রুমে রিজার্ভ ফোর্স স্ট্যান্ডবাই থাকবে। ডিএমপি জানিয়েছে, নিরাপত্তা কার্যক্রমে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreমধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কায় ইরান ভ্রমণে মার্কিন নাগরিকদের নিষেধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব দেশটি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ভার্চুয়াল দূতাবাস। ২০ সেপ্টেম্বর জারি করা নিরাপত্তা সতর্কতায় সম্ভাব্য বিমান চলাচল বন্ধ, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অন্যান্য ভ্রমণ বিঘ্নের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান ভ্রমণ সতর্কতায় ইরানকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘লেভেল ৪: ডু নট ট্রাভেল’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। নতুন নিরাপত্তা সতর্কতায় আবারও বলা হয়েছে, কোনো কারণেই ইরানে ভ্রমণ না করতে এবং দেশটিতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের এখনই চলে যেতে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দূতাবাস নেই, ফলে সেখানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সরাসরি কনস্যুলার সহায়তার সুযোগও সীমিত। সতর্কতায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল এবং পরিস্থিতি কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই দ্রুত অবনতি হতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিমানবন্দর ও এয়ারলাইনসের সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল বা আকাশসীমা বন্ধ হয়ে গেলে ইরান থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা দ্রুত পরিবর্তন করতে হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। ইরান থেকে স্থলপথে বের হতে চাওয়া মার্কিন নাগরিকদের জন্যও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইরানের স্থলসীমান্তে প্রবেশ ও বের হওয়ার নিয়ম অল্প সময়ের নোটিশে পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে যে দেশে প্রবেশের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেই দেশের প্রবেশের শর্ত আগে থেকে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। নতুন সতর্কতার পেছনে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে এবং বেসামরিক বিমানবন্দরও অতীতে তাদের হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে সতর্কতায় বলা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও বিস্তৃত হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও হামলার পর আগুন ও কালো ধোঁয়া দেখা যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও সৌদি আরবের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাও নতুন করে বেড়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার ক্ষেত্রে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারাও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের বিক্ষোভ, বড় জমায়েত ও পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি থাকা এলাকা এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্কিত স্থানগুলোতে কম দৃশ্যমান থাকার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং ফোন সচল রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পেতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রামে নিবন্ধনের কথাও জানানো হয়েছে। ইরান ছাড়ার ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শের মূল কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আকস্মিক সামরিক উত্তেজনা এবং যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকির কথা বলছে। ফলে ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপদে দেশ ছাড়ার সুযোগ পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
“অন্তত এক্টি সন্তান দিন, তাকেই আমি সাধ্যমতো বড় করর” সন্তানদের হারিয়ে প্যাট্রিকের আকুতি
হানিমুনে গিয়ে বার্সেলোনায় আগুনে পুড়তে থাকা নার্সারির ২০ শিশু উদ্ধার করেন দম্পতি
ম্যাসাচুসেটসে নবজাতকের পরিচর্যা পরীক্ষনে মা-বাবার বাড়িতে নার্স পাঠাবে সরকার, তীব্র বিতর্ক
মেক্সিকো উপকূলের কাছে কার্নিভাল প্যানোরামা ক্রুজ জাহাজ থেকে ৫৬ বছর বয়সী এক পুরুষ যাত্রী সাগরে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান চলছে। শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভায়ার্তা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের দিকে ফেরার পথে ঘটনাটি ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড, মেক্সিকোর নৌবাহিনী এবং ওই এলাকায় থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিখোঁজ যাত্রীকে উদ্ধারে তল্লাশিতে অংশ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে আলামেডা রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার ঘটনাটির খবর পায়। এরপর নিখোঁজ যাত্রীকে খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান সমন্বয় করা হয়। তল্লাশিতে সহায়তার জন্য একটি আকাশযানও মোতায়েন করা হয়েছে। মেক্সিকোর নৌবাহিনী এবং আশপাশে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে অনুসন্ধান অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই যাত্রীর সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে, যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর জাহাজের ক্রুরা প্রথমে পুরো জাহাজে তল্লাশি চালান। পরে জাহাজের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই ব্যক্তি জাহাজ থেকে সাগরে পড়ে গেছেন। এরপর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ঘটনার সময় কার্নিভাল প্যানোরামা পুয়ের্তো ভায়ার্তা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচের দিকে ফিরছিল। এটি ছিল সাত রাতের মেক্সিকান রিভিয়েরা ক্রুজ ভ্রমণের শেষ পর্যায়। জাহাজটি ১৩ সেপ্টেম্বর লং বিচ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। মেক্সিকোর পুয়ের্তো ভায়ার্তা ঘুরে এটি আবার ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে ফিরছিল। যাত্রী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানার পর জাহাজের ভেতরেও ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। যাত্রীদের কিছু সময়ের জন্য নিজ নিজ কেবিনে অবস্থান করতে বলা হয়, যাতে ক্রুরা পুরো জাহাজে অনুসন্ধান চালিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন যে নিখোঁজ ব্যক্তি জাহাজের অন্য কোথাও অবস্থান করছেন কি না। পরে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে তিনি সাগরে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর কার্নিভাল প্যানোরামা কিছু সময়ের জন্য গতিপথ পরিবর্তন করে আশপাশের সমুদ্র এলাকায় তল্লাশি চালায়। পরে জাহাজটি আবার লং বিচের দিকে যাত্রা শুরু করে। একই সময়ে মেক্সিকোর নৌবাহিনী, যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড এবং আশপাশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সম্ভাব্য এলাকায় অনুসন্ধান চালাতে থাকে। কার্নিভাল ক্রুজ লাইন জানিয়েছে, নিখোঁজ যাত্রীর পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি কী কারণে সাগরে পড়ে গেলেন বা জাহাজ থেকে কীভাবে পানিতে গেলেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ বা ক্রুজ কোম্পানির পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। সমুদ্রের মাঝখানে কোনো ব্যক্তি জাহাজ থেকে পড়ে গেলে তাকে দ্রুত শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। সাগরের স্রোত, বাতাস এবং জাহাজের গতিপথের কারণে দুর্ঘটনার পর অল্প সময়ের মধ্যেই একজন নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান অনেক দূরে সরে যেতে পারে। এ কারণেই এ ধরনের ঘটনায় আকাশযান, নৌযান এবং আশপাশের বাণিজ্যিক জাহাজকে একসঙ্গে তল্লাশিতে যুক্ত করা হয়। নিখোঁজ ৫৬ বছর বয়সী যাত্রীর সন্ধানে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মঞ্চে অভিনয় নাকি বাস্তব জীবন! গাজার অভিনেতাদের কাছে দুটোই এক
মালিতে সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৯৩ সেনাকে আটকের দাবি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর
মারামারির সময় মাথায় আঘাত করে স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন স্বামী
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি সেন্টারে এক বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে সাউচিহল স্ট্রিটের একটি সুপারশপের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ২৭ বছর বয়সী ইফতেখার উল ইসলাম নামের ওই তরুণের দাবি, সিগারেট দিতে অস্বীকার করার পর এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে জানানো হয়। ইফতেখারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি সাউচিহল স্ট্রিটে একটি সুপারশপের কাছে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার কাছে এসে একটি সিগারেট চান। অতিরিক্ত সিগারেট না থাকায় তিনি দিতে পারেননি। এরপর ওই ব্যক্তি তাকে পানীয় কিনে দেওয়ার কথা বলেন। ইফতেখার জানান, তার কাছে টাকা না থাকায় সেটিও দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। ইফতেখারের দাবি, সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ওই ব্যক্তি পেছন থেকে তার ব্যাগ ধরে ফেলেন এবং মাথা ও নাকে একাধিক ঘুষি মারেন। এতে তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে এবং তিনি মাথা ঘোরার মতো অনুভব করেন। তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেননি বলে জানান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে জানান। ঘটনার পর হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে ইফতেখার জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও তিনি জানান। ইফতেখার ঘটনাটিকে বর্ণবাদী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটি এখনো পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত করেনি। পুলিশ তদন্তের ফলের ভিত্তিতেই হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হবে। পুলিশ স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে গ্লাসগোর সাউচিহল স্ট্রিট এলাকায় এক ব্যক্তির ওপর হামলার খবর তারা পায়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। ঘটনার পর গ্লাসগোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। ইফতেখারের দেওয়া তথ্য, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং পুলিশ স্কটল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই হামলাকারীর পরিচয়, উদ্দেশ্য কিংবা সম্ভাব্য বর্ণবাদী সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
করোনার টিকা কেলেঙ্কারি ১২০০ কোটি টাকা আজও ফেরত দেয়নি ভারত
রাত ১০টায় অসুস্থ স্বামীর ওষুধ পেয়ে ভারতের স্বাস্থ্যসেবার প্রশংসায় সাবেক ব্রিটিশ চিকিৎসক