সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করলেন মেয়র মামদানি, কার্যকর ১ অক্টোবর থেকে

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৭:৫০
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করলেন মেয়র মামদানি, কার্যকর ১ অক্টোবর থেকে
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করলেন মেয়র মামদানি, কার্যকর ১ অক্টোবর থেকে

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল শহর নিউইয়র্কে ক্রমবর্ধমান বাড়িভাড়ার লাগাম টানতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের অনুমোদনের পর তিনি শহরের প্রায় দশ লাখ রেন্ট-কন্ট্রোলড বা নিয়ন্ত্রিত ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করতে সক্ষম হয়েছেন। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি এক ও দুই বছর মেয়াদি উভয় লিজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মের আওতায় নিউইয়র্ক সিটির পাঁচটি বোরোর প্রায় ৪০ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

 

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ও দুই বছর মেয়াদি চুক্তিতে এ ধরনের স্থগিতাদেশ দেওয়া হলো। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়ে আসা ভাড়াটে অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলো এই সিদ্ধান্তকে বিপুল উদযাপনের মাধ্যমে স্বাগত জানিয়েছে। এর আগে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ভাড়াটেরা অভিযোগ করেছিলেন যে, মূল্যস্ফীতি এবং ইউটিলিটি বিলের ঊর্ধ্বগতির সাথে তাদের আয়ের কোনো সমন্বয় হচ্ছে না।

 

মেয়র মামদানির এই পদক্ষেপটি তার ‘ব্লক বাই ব্লক’ আবাসন উদ্যোগের একটি অংশ, যার লক্ষ্য শহরে চার লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণ ও সংরক্ষণ করা। এই পরিকল্পনার আওতায় ভাড়াটেদের ইউনিয়নের আইনি স্বীকৃতি প্রদান, ভবনে নিজস্ব পরিদর্শনের সুযোগ, নিয়ম ভঙ্গকারী বাড়িওয়ালাদের জন্য কঠোর শাস্তি এবং হিটিং সমস্যা বা লিফট বিকল হওয়ার মতো অভিযোগগুলোতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

 

এই পদক্ষেপকে একটি বড় ভিত্তি হিসেবে দেখছেন আবাসন অধিকার কর্মীরা। মেট্রোপলিটন কাউন্সিল অন হাউজিংয়ের কর্মকর্তা আন্দ্রেয়া শাপিরো জানিয়েছেন, তারা এই বিজয়কে পুঁজি করে ভবিষ্যতে সর্বজনীন রেন্ট কন্ট্রোল বা ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর আশা করছেন। তবে জাতীয় পর্যায়ে আবাসন নীতি সংস্কার করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

 

ন্যাশনাল লো ইনকাম হাউজিং কোয়ালিশন এবং পিউ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের গবেষণায় দেখা গেছে, আবাসন সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। ২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে নিউইয়র্কে কর্মসংস্থান ২২ শতাংশ বাড়লেও আবাসন সরবরাহ বেড়েছে মাত্র ৪ শতাংশ, যা গৃহহীনতা ও বাস্তুচ্যুতির অন্যতম প্রধান কারণ।

 

অন্যদিকে অস্টিন বা ডেনভারের মতো শহরগুলোতে সরবরাহ বাড়ায় ভাড়া বৃদ্ধির হার কমেছে। ভাড়াটেরা প্রায়ই ছাদ ধসে পড়া, শীতে পানি না থাকা এবং ইঁদুর-তেলাপোকার উপদ্রবের মতো চরম দুর্দশার মধ্যে বসবাস করলেও অনেক বাড়িওয়ালা মেরামতের বদলে শুধু ভাড়া বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

ভাড়াটেদের জন্য এই সিদ্ধান্ত স্বস্তিদায়ক হলেও এর তীব্র বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস মেয়র মামদানির এই পদক্ষেপকে 'উদ্ভট নাটক' বলে কটাক্ষ করেছেন। অন্যদিকে ক্ষুব্ধ বাড়িওয়ালারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ, মেয়র রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের ওপর অন্যায্য প্রভাব খাটিয়েছেন এবং বাড়িওয়ালাদের খরচ কমিয়ে ও আয় বাড়িয়ে দেখানোর জন্য তথ্য বিকৃত করেছেন। তবে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত এবং ভাড়া স্থগিতের বিপক্ষে ভোট দেওয়া বোর্ডের একমাত্র সদস্য অর্পিত গুপ্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

 

অবশ্য তিনি সতর্ক করেছেন যে, এই পদক্ষেপ বাড়িওয়ালাদের আর্থিকভাবে দুর্বল করে ভবনের রক্ষণাবেক্ষণকে ব্যাহত করতে পারে। প্রবল বাধা ও সমালোচনা সত্ত্বেও অধিকার কর্মীরা জোর দিয়ে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে বাস্তুচ্যুতি রোধ এবং ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালাদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত অপরিহার্য।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসির বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্পের
নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইসিসির বিরুদ্ধে বড় নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবার আদালতের বিচারক বা প্রসিকিউটরদের ব্যক্তিগতভাবে নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে আইসিসির আর্থিক লেনদেন, প্রযুক্তি সেবা এবং তদন্ত কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা খুব শিগগিরই আসতে পারে। তবে এখনো এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের গ্রেস পিরিয়ডের পর আইসিসির সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ লেনদেন নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়সীমা ছয় থেকে সাত মাস হতে পারে। ফলে আদালতের অর্থ পরিশোধ, আইটি সেবা, ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।    এই পদক্ষেপের পেছনে আইসিসির ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রসংক্রান্ত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর আইসিসি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধের সময় সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়। আইসিসি বলেছে, তদন্তের আওতায় থাকা কর্মকাণ্ডের সময়কাল ছিল ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২০ মে পর্যন্ত।    আইসিসির সিদ্ধান্তের পর থেকেই ওয়াশিংটন আদালটির এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়। মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান হলো, আদালত এমন দেশগুলোর নাগরিকদের বিরুদ্ধে এখতিয়ার প্রয়োগ করছে, যেসব দেশ রোম স্ট্যাটিউটের সদস্য নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সমালোচনা করেন।    এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিচারকের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালতের জ্যেষ্ঠ ট্রায়াল আইনজীবী আবদুলায়ে সেয়েকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়। তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। আইসিসি তখন এই পদক্ষেপকে আদালতের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করে।    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আইসিসির বিরোধ শুধু গাজা যুদ্ধের তদন্তে সীমাবদ্ধ নয়। আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা অপরাধ নিয়েও আইসিসির একটি পুরোনো তদন্ত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা চান আদালত ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করার পাশাপাশি আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীসংক্রান্ত সেই তদন্ত থেকেও সরে আসুক।    এদিকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে আরও বিচ্ছিন্ন করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করার কথা জানান। তিনি অন্যান্য দেশকে আদালত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একই সময়ে আদালটির পক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।    আইসিসি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক আদালত, যার কাজ গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আগ্রাসনের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দুটিই আদালটির সদস্য নয়। ফলে আইসিসির এখতিয়ার, বিশেষ করে সদস্য নয় এমন দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক বিতর্কের অংশ।    প্রস্তাবিত নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও আইসিসির মধ্যকার বিরোধকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে পারে। কারণ এবার নির্দিষ্ট কর্মকর্তা নয়, সরাসরি পুরো প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে লক্ষ্য করার কথা বলা হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত পরিধি, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং কোন কোন লেনদেনের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ২:৫
তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ

তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে মুখোমুখি বিএনপি-আওয়ামী লীগ, জ্যাকসন হাইটসে বাড়ল পুলিশ

টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ভেনেজুয়েলার ডোরড্যাশ চালক আহত, তদন্তের দাবি

টেক্সাসে আইসিই এজেন্টের গুলিতে ভেনেজুয়েলার ডোরড্যাশ চালক আহত, তদন্তের দাবি

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিথিয়া রামনকে ঘিরে ‘গোপন এজেন্ডা’র অভিযোগ

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১,৩৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের শেষ সুযোগ ৮ অক্টোবর
নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১,৩৬৯ ডলার ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট, লটারিতে আবেদনের শেষ সুযোগ ৮ অক্টোবর

নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কস এলাকার ওয়েস্ট ফার্মসে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন বা 'অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং' প্রকল্পের অধীনে লটারির মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক ওয়াইআইএমবিওয়াই (YIMBY) ও এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'লংফেলো মারমিয়ন অ্যাপার্টমেন্টস' নামের এই প্রকল্পে মোট ১৪টি এক ও দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।   ১৯০০ লংফেলো অ্যাভিনিউ ও ১৯৬৮ মারমিয়ন অ্যাভিনিউয়ের দুটি পাঁচতলা ভবনে অবস্থিত এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোর মাসিক ভাড়া পরিবারগুলোর আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে, যা সর্বনিম্ন ১ হাজার ৩৬৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   প্রকল্পটিতে সাধারণ ভাড়ার পাশাপাশি বেশ কিছু বিশেষ ভাড়ার সুবিধাও রয়েছে। এখানে ১ হাজার ৩৬৯ ডলার ভাড়ায় এক বেডরুমের তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার জন্য আবেদনকারীর বার্ষিক আয় ৫১ হাজার ২৫৮ থেকে ৭৬ হাজার ৩৫০ ডলারের মধ্যে হতে হবে। অন্যদিকে, ২ হাজার ৮ ডলার ভাড়ায় দুই বেডরুমের দুটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫৭২ থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯২০ ডলার।   এর বাইরেও এক বেডরুমের চারটি অ্যাপার্টমেন্ট ১ হাজার ৬৮৭ ডলারে এবং দুই বেডরুমের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ১ হাজার ৬২৭ ডলারে পাওয়া যাবে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এক ও তিন বেডরুমের মোট চারটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া নির্ধারিত হবে আবেদনকারী পরিবারের মোট আয়ের মাত্র ৩০ শতাংশের সমপরিমাণ।   এই বিশেষ ইউনিটগুলোতে কোনো আয় না থাকলেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে হাউজিং কর্তৃপক্ষের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   এই অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত করতে আবাসিক তত্ত্বাবধায়ক বা সুপারিনটেনডেন্ট, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী আধুনিক যন্ত্রপাতি, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ক্যামেরা, ইন্টারকম ও যৌথ লন্ড্রির মতো চমৎকার সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে ভাড়াটিয়াদের নিজেদের ব্যবহারের বিদ্যুৎ ও চুলার বিল আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হবে।   আগ্রহী প্রার্থীরা নিউইয়র্ক সিটির 'এনওয়াইসি হাউজিং কানেক্ট'-এর ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রকল্পের নাম খুঁজে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার বা ডাকযোগে পাঠানোর শেষ সময় আগামী ৮ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ২১:৫২
মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে বিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ ১০৫ থেকে বেড়ে ৪০৭ মিলিয়ন ডলার, বোঝা গ্রাহকদের ঘাড়ে

মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে বিদ্যুৎ প্রকল্পের খরচ ১০৫ থেকে বেড়ে ৪০৭ মিলিয়ন ডলার, বোঝা গ্রাহকদের ঘাড়ে

২০২৮ নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের প্রার্থিতা অনিশ্চিত, ৮ সাবেক সহকারীর ৫ জনের মত ‘লড়বেন না’

২০২৮ নির্বাচনে কমলা হ্যারিসের প্রার্থিতা অনিশ্চিত, ৮ সাবেক সহকারীর ৫ জনের মত ‘লড়বেন না’

ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, চুক্তি না হলে ‘পুরো দেশ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি

ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, চুক্তি না হলে ‘পুরো দেশ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি

যুক্তরাষ্ট্রে মদ্যপানে ক্যানসার মৃ ত্যু ৩৩ বছরে দ্বিগুণ, তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রে মদ্যপানে ক্যানসার মৃ ত্যু ৩৩ বছরে দ্বিগুণ, তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে ঝুঁকি

গত তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যালকোহল বা মদ্যপানের কারণে ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি মিলার স্কুল অব মেডিসিনের অধীন 'সিলভেস্টার কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টার'-এর গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সালে যেখানে দেশটিতে মদ্যপানজনিত ক্যানসারে বার্ষিক মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৩৬১, ২০২৩ সালে তা লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ১২৬ জনে।   'গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ'-এর তিন দশকেরও বেশি সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি এই প্রতিবেদনটি 'দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ—আমেরিকাস' জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং শিকাগোতে আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল অনকোলজির বার্ষিক সম্মেলনে তা উপস্থাপন করা হয়।   গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্ক পুরুষদের মধ্যেই মদ্যপানজনিত ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এই ক্যাটাগরিতে লিভার ক্যানসার মৃত্যুর প্রধান কারণ হলেও খাদ্যনালী এবং মলাশয়ের (কোলোরেক্টাল) ক্যানসারও কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে মদ্যপানজনিত ক্যানসারে মৃত্যুর প্রধান কারণ স্তন ক্যানসার।   তবে গবেষণার সবচেয়ে চমকপ্রদ ও উদ্বেগজনক দিকটি লক্ষ্য করা গেছে ২০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী তরুণ ও মধ্যবয়সীদের ক্ষেত্রে। এই বয়সের পুরুষদের মধ্যে মদ্যপানজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ এবং নারীদের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কোলোরেক্টাল বা মলাশয়ের ক্যানসার, যা উভয় ক্ষেত্রেই লিভার ক্যানসারের মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।   আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (আইএআরসি) অ্যালকোহলকে বহু আগেই শীর্ষ শ্রেণির ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান (গ্রুপ-১ কার্সিনোজেন) হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে সচেতনতা অত্যন্ত কম।   ধূমপানের ভয়াবহতা নিয়ে সমাজে সচেতনতা থাকলেও অ্যালকোহলের সঙ্গে খাদ্যনালী, অগ্ন্যাশয়, প্রোস্টেট কিংবা মলাশয়ের ক্যানসারের গভীর সম্পর্কের বিষয়টি অনেকেই জানেন না।   চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে মদ্যপানের কোনো 'নিরাপদ মাত্রা' নেই; তাই মদ্যপানের পরিমাণ যতটা কমানো যায়, ক্যানসারের ঝুঁকিও ততটাই হ্রাস পায়। যেহেতু এটি একটি পরিবর্তনযোগ্য জীবনযাত্রার অভ্যাস, তাই দৈনন্দিন সচেতনতাই পারে এই প্রাণঘাতী ঝুঁকি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ২০:২৩
ক্যালিফোর্নিয়ায় ট্রেন ও বাসযাত্রীদের মধ্যে হামের সংস্পর্শের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি

টিকা না নেওয়া ব্যক্তির ট্রেন-বাস ভ্রমণ, ছয় কাউন্টিতে হামের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি

আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের পাশে বসে বই পড়ে শোনাচ্ছে ১১ বছরের নেহেমিয়াহ টার্নার

আশ্রয়কেন্দ্রের প্রাণীদের ১০০ ঘণ্টা বই পড়ে শোনাল ১১ বছরের শিশু, গড়ল অনন্য রেকর্ড

পাম্পে খরচ কমাতে চালকদের বিভিন্ন কৌশল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে

পাম্পে গ্যাস নিতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দেবেন না, জানুন কৌশল

0 Comments