আমেরিকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলছাত্র হ ত্যার পেছনে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, আদালতে প্রসিকিউশনের দাবি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৮:৫২
ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলছাত্র হ ত্যার পেছনে যৌন হেনস্থার অভিযোগ
ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলছাত্র হ ত্যার পেছনে যৌন হেনস্থার অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় এক হাইস্কুল ছাত্রকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক কিশোর যুগলের আদান-প্রদান করা গোপন বার্তা গত বুধবার আদালতে পড়ে শোনানো হয়েছে। কৌঁসুলিরা দাবি করেছেন, এটি মূলত একটি প্রতিশোধমূলক হত্যার পরিকল্পনা ছিল। ক্যাসান্দ্রা মাইকেল এবং তার তৎকালীন প্রেমিক বায়রন রেঞ্জেল নামের ওই দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা গত ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল ক্লোভিসের নিস ও উইলো অ্যাভিনিউয়ের কাছে একটি ম্যাকডোনাল্ডসের বাইরে কেলেব কুইক নামের ওই কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। বর্তমানে ক্যাসান্দ্রার বিরুদ্ধে কিশোর আদালতে চলা হত্যা মামলার তৃতীয় দিনে এসব বার্তা প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

 

কৌঁসুলিদের অভিযোগ, অপর এক কিশোরীকে যৌন হেনস্থা করার জের ধরেই ১৬ বছর বয়সী ওই যুগল কেলেব কুইককে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল। মামলায় নিজেদের ১৭তম সাক্ষীকে তলব করার সময় কৌঁসুলিরা এসব বার্তা উপস্থাপন করেন। ক্লোভিসের প্রধান গোয়েন্দা লাভদীপ মালহি সাক্ষ্য দেন যে, তল্লাশি পরোয়ানায় ফোন জব্দের পর মাইকেল ও রেঞ্জেলের মধ্যে হওয়া এসব কথোপকথন উদ্ধার করা হয়।

 

জুরিরা গোলাগুলির আগের ও পরের দিনের বার্তাগুলো শোনেন। সাক্ষ্য অনুযায়ী, রেঞ্জেল মাইকেলের কাছে জানতে চেয়েছিল যে কে তাকে এই কথিত হেনস্থার কথা বলেছে। মাইকেল ‘জেন ডো’ ছদ্মনামের ওই কিশোরীর কথা উল্লেখ করে জানান, মেয়েটি অতিরিক্ত মদ্যপানে অচেতন থাকার সুযোগে কুইক তাকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। এর জবাবে রেঞ্জেল লিখেছিলেন, "হ্যাঁ, এটি খুবই ভয়ানক ব্যাপার।"

 

হত্যাকাণ্ডের পর মাইকেল রেঞ্জেলকে মেসেজ করে লিখেছিলেন, "বুঝতে পারছি না কেমন অনুভব করা উচিত... সত্যি বলতে আমি এখনও ঘোরের মধ্যে আছি।" তবে উদ্বোধনী বক্তব্যে মাইকেলের আইনজীবীরা দাবি করেন, কথিত ওই হেনস্থার জেরে মাইকেল যে কুইকের কোনো ক্ষতি করতে চেয়েছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ তদন্তকারীরা পাননি।

 

অন্যদিকে, কৌঁসুলিদের অভিযোগ, মাইকেল এই হত্যার পরিকল্পনায় সাহায্য করেছিলেন এবং রেঞ্জেলকে পালিয়ে যেতে গাড়ি চালিয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কালো হুডি ও কালো সার্জিক্যাল মাস্ক পরা রেঞ্জেল কুইকের পিছু নিয়ে ম্যাকডোনাল্ডসের বাইরে তার মাথার পেছনে গুলি করেন। যদিও মুখ ঢাকা থাকায় বন্দুকধারীকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা কঠিন ছিল।

 

আদালতে ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিসের অপরাধবিজ্ঞানী ক্রিস্টোফার জনসন সাক্ষ্য দেন যে, রেঞ্জেলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সিলভার রঙের স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন রিভলবারে মাইকেল ও রেঞ্জেল দুজনেরই ডিএনএ পাওয়া গেছে। তবে মাইকেলের আইনজীবীদের যুক্তি, গাড়ির যে সিটে মাইকেল বসেছিলেন, সেখানে বন্দুকটি রাখার কারণেই তার ডিএনএ সেখানে লেগে থাকতে পারে।

 

এছাড়া রেঞ্জেলের বাড়ির আলমারি থেকে একটি ব্যবহৃত গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়, যার দাগ উদ্ধারকৃত রিভলবারের সাথে হুবহু মিলে যায়। বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী মাইকেলের বিচার কিশোর আদালতেই চলবে, কারণ তাকে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে স্থানান্তরের আবেদন গত মে মাসে খারিজ করে দেন বিচারক। এদিকে গত জুন মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের একটি চিঠি এই মামলায় নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করে। কুইক পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ওই চিঠিতে ট্রাম্প প্রশাসন সহিংস অপরাধ দমনে এবং দেশের রাস্তাঘাট নিরাপদ রাখতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
নিউইয়র্কে কম খরচে থাকার সুযোগ, আবাসন লটারিতে ভাড়া মাত্র ৫০০ ডলার
নিউইয়র্কে কম খরচে থাকার সুযোগ, আবাসন লটারিতে ভাড়া মাত্র ৫০০ ডলার

নিউইয়র্ক সিটির মতো বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল শহরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়া যেখানে অত্যন্ত ব্যয়বহুল, সেখানে মাত্র ৫০০ ডলারে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া পাওয়ার এক দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং লটারি’। শহরটির হাউজিং কানেক্ট পোর্টালের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা এই সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।   আবাসন সংকট নিরসনে এবং কর্মজীবী মানুষদের স্বস্তি দিতে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।   এই কর্মসূচির আওতায় নিউইয়র্কের বিভিন্ন আধুনিক ও নবনির্মিত ভবনে নির্দিষ্ট সংখ্যক অ্যাপার্টমেন্ট সাধারণ মানুষের জন্য লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ রাখা হয়।   মূলত আবেদনকারীদের বার্ষিক আয় ও পরিবারের সদস্য সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এসব অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। আয়ের নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণকারী যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই এই লটারিতে অংশ নিতে পারেন।   যাদের আয় শহরের গড় আয়ের তুলনায় বেশ কম, তারা এই লটারির মাধ্যমে মাসিক মাত্র ৫০০ ডলার বা তার কাছাকাছি ভাড়ায় উন্নতমানের অ্যাপার্টমেন্টে থাকার সুযোগ পেতে পারেন।   লটারিতে নির্বাচিত হলে আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে নিজেদের আয়ের প্রমাণ দিতে হয়। আবাসন ব্যয় আকাশচুম্বী হওয়ার এই সময়ে এমন সাশ্রয়ী মূল্যের লটারি ব্যবস্থা অনেক স্বল্প আয়ের পরিবারের জন্যই নিউইয়র্কে টিকে থাকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন হয়ে উঠেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৯:২৮
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ারবলে ৭৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জ্যাকপট, প্রকাশিত হলো লাকি নম্বর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ারবলে ৭৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জ্যাকপট, প্রকাশিত হলো লাকি নম্বর

ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলছাত্র হ ত্যার পেছনে যৌন হেনস্থার অভিযোগ

ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলছাত্র হ ত্যার পেছনে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, আদালতে প্রসিকিউশনের দাবি

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বাতিলে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বাতিলে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

কসকোর সামনে নারী সহকর্মীকে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে ধরতে দেখে ক্ষেপে যান তরুণ, গাড়িচাপায় হত্যা সহকর্মীকে
কসকোর সামনে নারী সহকর্মীকে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে ধরতে দেখে ক্ষেপে যান তরুণ, গাড়িচাপায় হত্যা সহকর্মীকে

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নর্থ ইসাকোয়াতে কসকো সদর দপ্তরের সামনে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সামান্থা পিটারসন নামের এক নারী সহকর্মীর প্রতি অন্ধ মোহ থেকে জোনাথন ল্যাংডন (২০) নামের আরেক সহকর্মীকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করেছেন টাইলর মার্টিন সোরেনসেন (২২) নামের এক তরুণ।   গত ৩১ জুলাই পার্কিং লটে সামান্থা ও জোনাথনকে আলিঙ্গন করতে দেখে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন সোরেনসেন। প্রথমে তিনি দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে তাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন। এরপর বন্ধুদের কাছে দুজনের একটি ছবি পাঠিয়ে টেক্সট করেন, "সে সবসময় বলত ও শুধুই বন্ধু। আমার রক্ত ফুটছে।"   প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, জোনাথন মোটরসাইকেল নিয়ে পার্কিং লট থেকে বের হওয়ার পর সোরেনসেন তার গাড়ির গতি বাড়িয়ে পিছু নেন। একপর্যায়ে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে জোনাথনের মোটরসাইকেলের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেন, যার ফলে ২০ বছর বয়সী এই তরুণ রাস্তার পাশের একটি সাইনবোর্ডে ছিটকে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।   মর্মান্তিক এই ঘটনার পর পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স না ডেকে সোরেনসেন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এমনকি পালানোর সময় তিনি কেবল নিজের গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করতে একবার থেমেছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর জন্য তাকে জরিমানাও করে টহল পুলিশ, যদিও তারা তখনো এই দুর্ঘটনার কথা জানত না। পরে বাবার চাপে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।   গ্রেপ্তারের পর সোরেনসেন পুলিশকে জানান যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই এই কাজ করেছেন। তিনি সামান্থাকে নিজের 'প্রাক্তন প্রেমিকা' হিসেবে দাবি করলেও, সামান্থা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন যে তাদের মধ্যে কখনোই প্রেমের সম্পর্ক ছিল না; বরং সোরেনসেন বারবার বন্ধুত্বের সীমা অতিক্রম করছিলেন।   কিং কাউন্টির সিনিয়র ডেপুটি প্রসিকিউটিং অ্যাটর্নি এলাইন এস. লি আদালতকে জানান, সোরেনসেনের ধারণা ছিল তিনি সামান্থাকে না পেলে অন্য কেউ তাকে পাবে না। বর্তমানে সোরেনসেনের বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি হত্যা, মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং অপরাধমূলক প্রচেষ্টাসহ তিনটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তার জন্য ২০ লাখ ডলারের জামিন নির্ধারণের আবেদন করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৮:১৬
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করলেন মেয়র মামদানি, কার্যকর ১ অক্টোবর থেকে

নিউইয়র্কে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত করলেন মেয়র মামদানি, কার্যকর ১ অক্টোবর থেকে

নিউইয়র্কে ২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের ভুল মেডিকেইড পেমেন্ট শনাক্ত

নিউইয়র্কে ২ কোটি ১৬ লাখ ডলারের ভুল মেডিকেইড পেমেন্ট শনাক্ত

ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানলে ছাই ৭ শতাধিক বাড়ি, ঘরছাড়া ৬৫ হাজার  বাসিন্দা

ওয়াশিংটনে ভয়াবহ দাবানলে ছাই ৭ শতাধিক বাড়ি, ঘরছাড়া ৬৫ হাজার বাসিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় সবচেয়ে সস্তায় বাড়ি মিলছে? দেখে নিন ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় সবচেয়ে সস্তায় বাড়ি মিলছে? দেখে নিন ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান আবাসন ব্যয়ের কারণে যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, তখন এক নতুন বিশ্লেষণে দেশটির সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজারগুলোর চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য সবচেয়ে কম খরচের অঙ্গরাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে আইওয়া।   প্রপার্টিশার্ক-এর তথ্যমতে, সেখানে একটি বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা দেশটির জাতীয় গড়ের তুলনায় দুই লাখ ডলারেরও বেশি কম। সাশ্রয়ী দামের এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আলাবামা। অন্যদিকে ওকলাহোমা এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, যেখানে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪২ হাজার ডলার।   আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইওয়া, ওহাইও, ওকলাহোমা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া, মিশিগান, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, আরকানসাস, ইন্ডিয়ানা ও মিসৌরির মতো অঙ্গরাজ্যগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সাশ্রয়ী আবাসন বাজারের তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মধ্যম মূল্য সাধারণত ২ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তুলনামূলকভাবে বাড়ির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় কম হওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আবাসন সরবরাহ রয়েছে। এ কারণে এই অঞ্চলগুলো প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।   তবে সাশ্রয়ী বাজারের এই খবরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক আবাসন সংকটের চিত্রটি এখনও বেশ তীব্র। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দেশজুড়ে একটি গড় মানের বাড়ি কিনতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম পারিবারিক আয়ের তুলনায় অনেক বেশি।   এর ফলে অধিকাংশ মার্কিন পরিবারের জন্যই নিজস্ব বাড়ি কেনা এখনও একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। একদিকে যেমন আইওয়া, আলাবামা, ওকলাহোমা, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া এবং ইন্ডিয়ানার মতো রাজ্যগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি মিলছে, ঠিক তেমনি ক্যালিফোর্নিয়া, হাওয়াই, ম্যাসাচুসেটস ও নিউইয়র্কের মতো অঙ্গরাজ্যগুলো এখনও দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজার হিসেবে তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৬:৫৬
১৫ হাজার ডলারের সঞ্চয় থেকে বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ

১৫ হাজার ডলারের সঞ্চয় থেকে বছরে ৬০০ ডলারের বেশি আয়ের সুযোগ

ফ্লোরিডায় ডেঙ্গু সতর্কতা, বাড়ির আশপাশের জমা পানি পরিষ্কারের আহ্বান

ফ্লোরিডায় ডেঙ্গু সতর্কতা, বাড়ির আশপাশের জমা পানি পরিষ্কারের আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে এখনো বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে এখনো বছরে ১ লাখ ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন

0 Comments