ইরানে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে ‘অদ্ভুত বস্তু’ দেখেন মার্কিন পাইলট
ইরানের আকাশে বিধ্বস্ত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার আগে তিনি আকাশে অস্বাভাবিক একটি উড়ন্ত কাঠামো দেখতে পেয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বস্তুটি দেখতে অনেকটা জেলিফিশের মতো ছিল এবং সেটি সম্ভবত একাধিক ড্রোনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে ইরানের আকাশসীমায় একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা দুই ক্রুকে পরে জটিল উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে জীবিত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
মার্কিন সামরিক নির্ভরতা থেকে ইসরায়েলকে ‘মুক্ত’ হতে হবে: নেতানিয়াহু
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পাইলট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার আগে আকাশে এমন একটি কাঠামো দেখতে পান যা প্রচলিত কোনো উড়ন্ত যানের মতো ছিল না।
সিএনএনের বরাতে জানা গেছে, পাইলটের বক্তব্য শুনে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যদি বস্তুটি সত্যিই সমন্বিত ড্রোন প্রযুক্তির অংশ হয়ে থাকে, তাহলে তা আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, পাইলটের বর্ণনায় বড় আকারের কিছু ড্রোনের নিচে ছোট ছোট ড্রোন একত্রে এমনভাবে চলছিল, যা দূর থেকে জেলিফিশের শুঁড়ের মতো দেখাচ্ছিল। ওই দৃশ্যটি তার কাছে অত্যন্ত অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল।
আরেকটি সূত্রের দাবি, পাইলট আকাশে ছড়িয়ে থাকা ড্রোনগুলোর বিন্যাসকে ‘ড্রোনের মাইনফিল্ড’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবে কীভাবে কাজ করতে পারে বা আদৌ এমন কোনো ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানটি কীভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ড্রোন-সংশ্লিষ্ট কোনো ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র বদলে দিয়েছে। নজরদারি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং আক্রমণাত্মক অভিযানে ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে কোনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহার নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এলে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। পাইলট যে বস্তুটি দেখেছেন বলে দাবি করেছেন, সেটি আসলে কী ছিল, তার সঙ্গে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, কিংবা সেটি কোনো পরীক্ষামূলক প্রযুক্তির অংশ ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreএকটি দেশের অর্থনীতি গড়ে উঠতে লাগে বছরের পর বছর পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সেই অর্জনকে খুব অল্প সময়েই ধ্বংস করে দিতে পারে। ইয়েমেন তার অন্যতম কঠিন উদাহরণ। ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীদের রাজধানী সানা দখল এবং পরের বছর পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির অর্থনীতি ও উন্নয়নব্যবস্থা গভীর সংকটে পড়ে আছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে ইয়েমেনের অর্থনীতি ৫০ শতাংশের বেশি সংকুচিত হয়েছে এবং মাথাপিছু জিডিপি অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা সানা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর রাজনৈতিক সংকট দ্রুত সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি আঞ্চলিক জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সামরিক অভিযান শুরু করলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হয়। সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস উৎপাদন, বাণিজ্য, অবকাঠামো এবং সরকারি সেবাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শুধু ২০১৫ সালেই ইয়েমেনের জিডিপি প্রায় ২৮ শতাংশ কমে যায় এবং বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। যুদ্ধের প্রভাব শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৫ সাল থেকে যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের প্রায় ৮৯ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হারিয়েছে। সংঘাত বাজার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে, ধ্বংস করেছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং বাড়িয়েছে দারিদ্র্য ও বৈষম্য। বর্তমানে ইয়েমেনের অর্থনীতি কার্যত বিভক্ত। বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, মুদ্রা ও প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে একটি অভিন্ন অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। তেল রপ্তানি বন্ধ থাকা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৫ সালে দেশটির প্রকৃত জিডিপি আরও ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে এবং ২০২৬ সালেও আরও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সংকোচনের পূর্বাভাস রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের হিসাবে, ইয়েমেনে ২ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। খাদ্য পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং ইউনিসেফের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুধু সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেই ২০২৬ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সংকটে পড়তে পারে। অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে ভেঙে পড়েছে মৌলিক সেবাও। জাতিসংঘের হিসাবে, ইয়েমেনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র প্রায় ৫৯ শতাংশ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। দেশটি খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও সরবরাহব্যবস্থার যেকোনো বিঘ্ন সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করে। ইয়েমেনের এই সংকট দেখিয়ে দিচ্ছে, যুদ্ধ শেষ হলেও অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সহজ হবে না। ইউএনডিপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের মানব উন্নয়ন বহু বছর পিছিয়ে গেছে এবং শান্তি ফিরে এলেও যুদ্ধের আগের উন্নয়নস্তরে ফিরতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু যুদ্ধ বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। কার্যকর সরকারি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ব্যাংকিং ও মুদ্রাব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনা, তেল ও অন্যান্য রপ্তানি পুনরায় চালু করা, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং মানুষের কর্মসংস্থান ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের মতে, স্থায়ী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য শান্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি কার্যকর সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা জরুরি।
এই ফল এই ন্যাটোর কোনো মিত্র দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া! সতর্ক করল মার্কিন গোয়েন্দারা
অ্যাসাইলাম সিকারদের জোর করে পলাতে বাধ্য করা হচ্ছে টানা তিনবারের মতো! থেটফোর্ডে উত্তেজনা থামছেই না
মাত্র ২০ হাজার ডলারে তৈরি সৌরচালিত ইয়ট, জ্বালানি ছাড়াই পাড়ি ৩ হাজার নটিক্যাল মাইল
যুক্তরাজ্যের একটি এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনাল মুসলিম স্বাস্থ্যকর্মী নজিয়া আয়ুবের করা ধর্মীয় বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, এনএইচএস কর্তৃপক্ষ তাকে ইসলামিক পোশাক ‘জিলবাব’ পরে কাজ করতে না দিয়ে বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বৈষম্য করেছে। তবে ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে, হাসপাতালের ইউনিফর্ম নীতি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং এতে বৈষম্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ট্রাইব্যুনালের নথি অনুযায়ী, ব্রিটিশ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নজিয়া আয়ুব ২০২১ সালের মার্চ থেকে নর্দার্ন কেয়ার অ্যালায়েন্স এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টে হেলথকেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি ভেন্টিলেশন-নির্ভর শিশুদের সেবার দায়িত্ব পালন করতেন। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তিনি মাথায় হিজাব এবং গলা থেকে গোড়ালি পর্যন্ত ঢেকে রাখে এমন ‘জিলবাব’ পরতেন। ২০২৩ সালের মে মাসে তার লাইন ম্যানেজার ওয়েন্ডি বেকন লক্ষ্য করেন, আয়ুব হাসপাতালের নির্ধারিত ইউনিফর্ম ট্রাউজারের পরিবর্তে টিউনিকের নিচে লম্বা কালো পোশাক পরেছেন। তিনি বিষয়টি তুলে ধরলে আয়ুব জানতে চান, ম্যানেজারের ‘মুসলিম পোশাক নিয়ে কোনো সমস্যা’ আছে কি না। জবাবে ম্যানেজার জানান, মুসলিম পোশাক নিয়ে তার কোনো আপত্তি নেই; তবে কর্মীদের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরা নিশ্চিত করা তার দায়িত্ব। শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল জানতে পারে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে ঢিলেঢালা ট্রাউজারসহ অন্যান্য পোশাকের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আয়ুব তা প্রত্যাখ্যান করে জানান, তিনি কর্মস্থলে কী পরবেন, তা নিয়ে কোনো সমঝোতা করবেন না। ট্রাইব্যুনালে তিনি আরও বলেন, ঢিলেঢালা ট্রাউজারও তার কাছে ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়; তার জন্য লম্বা স্কার্ট বা ড্রেসই আবশ্যক। পরবর্তীতে তিনি ধর্মীয় বৈষম্য, হয়রানি এবং বর্ণবাদের অভিযোগ এনে মামলা করেন। তবে এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনাল রায় দেয়, এনএইচএস ট্রাস্টের ইউনিফর্ম নীতি রোগী, কর্মী ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে। আদালত মনে করেছে, এ নীতি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে করা হয়নি এবং আয়ুবের অভিযোগগুলো আইনগতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তার সব দাবি খারিজ করা হয়।
পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষার নামে নিজের মেয়েকে খুন করালেন বাবা
অবরুদ্ধ বাড়ি থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুর প্রাণ বাঁচালেন পুলিশ, মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রাণ গেল গর্ভবতী মায়ের
রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে যোগ দিলেন ডেনমার্কের ১৯ বছর বয়সী রাজকুমারী ইসাবেলা
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চলমান ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের ২৫টি জেলায় এখনো ১১ লাখের বেশি মানুষ বন্যার প্রভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ব্রহ্মপুত্রসহ রাজ্যের একাধিক নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে হাজার হাজার গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এএসডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজারের বেশি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শতাধিক ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। দুর্গম এলাকায় নৌকায় করে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বন্যার প্রভাব পড়েছে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানেও। প্রতিবছরের মতো এবারও উদ্যানের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বন্যপ্রাণী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণসহ বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসামে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র ও এর উপনদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় ধরনের বন্যা দেখা দেয়। তবে চলতি বছরের বন্যাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন কর্মকর্তারা। আবহাওয়া বিভাগ আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলছে না, নতুন নৌচলাচল ব্যবস্থায় সমঝোতার পথে ইরান-ওমান
ইসরায়েল নিয়ে সমালোচনার ব্যাখ্যা চাইতে ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু