বিশ্ব

ইরানে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে ‘অদ্ভুত বস্তু’ দেখেন মার্কিন পাইলট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৬:৫৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের আকাশে বিধ্বস্ত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলট দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার আগে তিনি আকাশে অস্বাভাবিক একটি উড়ন্ত কাঠামো দেখতে পেয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বস্তুটি দেখতে অনেকটা জেলিফিশের মতো ছিল এবং সেটি সম্ভবত একাধিক ড্রোনের সমন্বয়ে গঠিত ছিল।

 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে ইরানের আকাশসীমায় একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। বিমানে থাকা দুই ক্রুকে পরে জটিল উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে জীবিত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পাইলট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার আগে আকাশে এমন একটি কাঠামো দেখতে পান যা প্রচলিত কোনো উড়ন্ত যানের মতো ছিল না।

সিএনএনের বরাতে জানা গেছে, পাইলটের বক্তব্য শুনে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যদি বস্তুটি সত্যিই সমন্বিত ড্রোন প্রযুক্তির অংশ হয়ে থাকে, তাহলে তা আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

 

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, পাইলটের বর্ণনায় বড় আকারের কিছু ড্রোনের নিচে ছোট ছোট ড্রোন একত্রে এমনভাবে চলছিল, যা দূর থেকে জেলিফিশের শুঁড়ের মতো দেখাচ্ছিল। ওই দৃশ্যটি তার কাছে অত্যন্ত অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল।

আরেকটি সূত্রের দাবি, পাইলট আকাশে ছড়িয়ে থাকা ড্রোনগুলোর বিন্যাসকে ‘ড্রোনের মাইনফিল্ড’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে এ ধরনের প্রযুক্তি বাস্তবে কীভাবে কাজ করতে পারে বা আদৌ এমন কোনো ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিমানটি কীভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ড্রোন-সংশ্লিষ্ট কোনো ভূমিকা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র বদলে দিয়েছে। নজরদারি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং আক্রমণাত্মক অভিযানে ড্রোনের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে কোনো সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহার নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এলে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

 

তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনাটি নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। পাইলট যে বস্তুটি দেখেছেন বলে দাবি করেছেন, সেটি আসলে কী ছিল, তার সঙ্গে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, কিংবা সেটি কোনো পরীক্ষামূলক প্রযুক্তির অংশ ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Advertisement

বিশ্ব

View more
গাছেরও আইনি অধিকার স্বীকৃতি
গাছেরও আইনি অধিকার স্বীকৃতি, কানাডার ছোট শহরের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত

গাছ যে কেবল প্রকৃতির অংশ নয়, বরং একটি জীবন্ত সত্তা—এই ধারণাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে কানাডার একটি ছোট পৌরসভা। দেশটির কুইবেক প্রদেশে মন্ট্রিল থেকে প্রায় ৪০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত তেরাস-ভদ্রেয়ঁ শহর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, গাছেরও জীবনধারণ, স্বাভাবিক বৃদ্ধি, অখণ্ডতা ও বংশবৃদ্ধির অধিকার রয়েছে।   কানাডীয় সংবাদমাধ্যম সিবিসি’র প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রায় দুই হাজার বাসিন্দার এই শহরে গত ৯ জুন সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়, যার মাধ্যমে গাছকে আইনি মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শহরের মেয়র মিশেল বুর্দো জানান, পৌর কাউন্সিলের সব সদস্য একমত হয়েই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।   নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পৌরসভার বিদ্যমান সব নিয়মকানুন ও উপবিধি পুনর্বিবেচনা করা হবে। গাছ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনে গাছ কাটা বন্ধ করা এবং কোনো গাছ কাটা হলে তার পরিবর্তে নতুন গাছ লাগানোর বিষয়টি বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   স্থানীয় প্রশাসনের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক জলবায়ু সংকটের অভিজ্ঞতা। গত কয়েক বছরে তেরাস-ভদ্রেয়ঁ তিনবার বড় ধরনের বন্যার মুখোমুখি হয়েছে। মেয়র বুর্দোর ভাষায়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গাছই ‘আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু’। তিনি বলেন, গাছ এক ধরনের প্রাকৃতিক বা সবুজ অবকাঠামো হিসেবে কাজ করে—যা শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বায়ুর মান উন্নয়ন, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   এই উদ্যোগের পেছনে একটি সাংস্কৃতিক প্রভাবও কাজ করেছে। কুইবেকের চলচ্চিত্র নির্মাতা অঁদ্রে দেসরোশের নির্মিত ‘দেস আর্ব্রেস এ দেস আর্তস’ নামের একটি চলচ্চিত্র স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করে। ছবিটি দেখার পর অনেকেই উপলব্ধি করেন, গাছ কেবল স্থির বস্তু নয়; তারা শ্বাস নেয়, পরিবেশের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে এবং শিকড়ের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে।   মেয়র বুর্দো বলেন, “গাছ মানুষের মতোই একটি জীবন্ত সত্তা। তারা পানি গ্রহণ করে, বেঁচে থাকে এবং আমাদের নানা বিপদ থেকে রক্ষা করে।”   পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব দ্য রাইটস অব দ্য ট্রি’-তে প্রথম পৌরসভা হিসেবে স্বাক্ষর করেছে তেরাস-ভদ্রেয়ঁ। ইন্টারন্যাশনাল অবজারভেটরি অব নেচার রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘোষণাপত্রের মূল তিনটি নীতি হলো—পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব গাছের ওপর নির্ভরশীল, গাছের সঙ্গে মানুষের ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি বজায় রাখা জরুরি এবং গাছ একটি জীবন্ত সত্তা, যা মানবজাতির জন্য সামগ্রিকভাবে উপকারী।   সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ইয়েনি ভেগা কার্দেনাস সিবিসিকে বলেন, গাছের নিজস্ব মর্যাদা ও উপলব্ধি রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এটি আবেগের বিষয় নয়, বরং একটি বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা—গাছের প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা আছে।   বিশ্বজুড়ে প্রকৃতি ও পরিবেশকে আইনি অধিকার দেওয়ার যে প্রবণতা বাড়ছে, এই সিদ্ধান্ত তারই একটি অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে ২০২১ সালে কানাডার কুইবেকেই ম্যাগপাই নদীকে ‘আইনগত ব্যক্তি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, যা পরিবেশ সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, তেরাস-ভদ্রেয়ঁর এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য শহর ও দেশগুলোর জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে, যেখানে পরিবেশ রক্ষাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আরও শক্তিশালীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার পথ তৈরি হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৭:৫৪
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ নতুন ধাপে, নিষেধাজ্ঞা এখনই উঠছে না

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে ‘অদ্ভুত বস্তু’ দেখেন মার্কিন পাইলট

ছবি: সংগৃহীত

ইতালির রোম-মিলানসহ ১৫ শহরে ‘লাল সতর্কতা’ জারি

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন সামরিক নির্ভরতা থেকে ইসরায়েলকে ‘মুক্ত’ হতে হবে: নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশকে ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।   ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের গুশ এতজিওন এলাকায় রিজার্ভ কমব্যাট অফিসারদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব মন্তব্য করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। নেতানিয়াহু বলেন, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তবে দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং অস্ত্র উৎপাদনে স্বনির্ভর হতে হবে।   তার ভাষায়, “আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনকে আমরা গভীরভাবে মূল্যায়ন করি। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের নিজস্ব স্বাধীন অস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র আমাদেরই তৈরি করতে হবে।” ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশটি ইরান এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। এসব চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।   তিনি বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। এই প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। আগামী ৩০ বছরে ইসরায়েল কোথায় থাকবে, তা নির্ভর করবে আমাদের নিজস্ব শক্তি, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর।” নেতানিয়াহু আরও বলেন, কেবল অস্ত্র উৎপাদন নয়, নতুন প্রজন্মের সামরিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং উন্নত প্রযুক্তিকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করাও জরুরি। তার মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দক্ষ নেতৃত্বই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হয়ে উঠছে।   বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। ইরানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা, প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামরিক সক্ষমতা উন্নয়নের প্রতিযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান সামরিক ও কৌশলগত মিত্র, তবুও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প ও অস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত সামরিক প্রযুক্তি খাতে দেশটি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে।   নেতানিয়াহুর সর্বশেষ মন্তব্যকে সেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইসরায়েল নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করার পথে এগোতে চায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৬:১৪
ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্যেই দিল্লিতে ভারত-চীনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের আগের দিন বাবা-মাসহ হবু কনের আত্মহত্যা

ছবি: সংগৃহীত

কানাডার মন্ট্রিয়লে বন্দুক হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, পাল্টা গুলিতে হামলাকারীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ এক সফরে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian। মঙ্গলবার (২৩ জুন) শুরু হওয়া এই রাষ্ট্রীয় সফরে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif-এর আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এ সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলও পাকিস্তান সফরে অংশ নিয়েছে।   সফরের শুরুতেই ইসলামাবাদে পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের সূচি রয়েছে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের। এর মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট Asif Ali Zardari, সিনেট চেয়ারম্যান Yousaf Raza Gillani, জাতীয় পরিষদের স্পিকার Ayaz Sadiq এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী Ishaq Dar।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান Asim Munir-এর সঙ্গেও বৈঠক করবেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং আন্তঃসীমান্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ দুই দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ফলে এবারের বৈঠকগুলোতে নিরাপত্তা সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।   একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণও সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও পাকিস্তান উভয় দেশই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে আগ্রহী। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানও আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় অবস্থান ধরে রেখেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের এই যোগাযোগকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।   কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নেই নয়, বরং আঞ্চলিক সংলাপ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ জোরদার করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। সফর শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা ও যৌথ উদ্যোগের ঘোষণা আসতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।   ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর ফলাফল এখন নজর কাড়ছে আঞ্চলিক কূটনৈতিক মহলের। বিশেষ করে বাণিজ্য, জ্বালানি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে কী ধরনের অগ্রগতি হয়, তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৩, ২০২৬ ৩:৫৪
সরকারি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় চেক প্রজাতন্ত্রে পাবলিক মিডিয়ার কর্মীদের সতর্কতামূলক ধর্মঘট

সরকারি নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় চেক প্রজাতন্ত্রে পাবলিক মিডিয়ার কর্মীদের সতর্কতামূলক ধর্মঘট

ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

চুক্তি ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা: ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, চিন্তার ভাঁজ ভারতের কপালে

চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, চিন্তার ভাঁজ ভারতের কপালে

0 Comments