পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষার নামে নিজের মেয়েকে খুন করালেন বাবা
যুক্তরাজ্যে আলোড়ন তোলা বানাজ মাহমুদ হত্যা মামলার দুই দশক পর নতুন করে সামনে এসেছে ঘটনাটির বেদনাদায়ক স্মৃতি। পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেই আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বর্তমানে সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় থাকা বানাজের ছোট বোন বেখাল মাহমুদ প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, বোনকে শেষবার যখন দেখেছিলেন, তখনই বুঝতে পেরেছিলেন তিনি চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২০ বছর বয়সী বানাজ মাহমুদকে হত্যা করা হয়। পরে তদন্তে প্রমাণিত হয়, পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষার অজুহাতে তার বাবা মাহমুদ বাবাকির মাহমুদ ও চাচা আরি আঘা মাহমুদ এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছিলেন।
সম্প্রতি জারা ম্যাকডারমটের উপস্থাপিত Truth Be Told অনুষ্ঠানে বেখাল মাহমুদ বলেন, শেষবার যখন তিনি বানাজকে দেখেন, তখন তার চেহারা ভেঙে পড়েছিল এবং তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোথাও আটকে আছেন।
বানাজ মাহমুদ ১৯৯৮ সালে পরিবারের সঙ্গে ইরাক থেকে যুক্তরাজ্যে যান। পরে তাকে নিজের চেয়ে প্রায় ১০ বছর বড় এক ব্যক্তির সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেওয়া হয়। বেখালের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সম্পর্কে বানাজ নিয়মিত শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হতেন। পরে তিনি ওই সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে এসে নিজের পছন্দের একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান।
প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত মামলায় বলা হয়, এই সিদ্ধান্তকে পরিবার তাদের ‘সম্মানের জন্য কলঙ্ক’ হিসেবে বিবেচনা করে। এরপরই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
২০০৬ সালের ২৪ জানুয়ারি দক্ষিণ লন্ডনের মিচামের পারিবারিক বাড়িতে বানাজ মাহমুদকে হত্যা করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভাড়াটে হামলাকারী মোহাম্মদ হামা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। পরে তার মরদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে বার্মিংহামে নিয়ে গিয়ে গোপনে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
বানাজের নিখোঁজ হওয়ার পর তার প্রেমিক রহমান সুলেমানি বিষয়টি পুলিশকে জানান। প্রায় তিন মাস পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের ভিত্তিতে বানাজের বাবা, চাচা এবং আরও কয়েকজন আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালত বানাজের বাবা মাহমুদ বাবাকির মাহমুদকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন, যার ন্যূনতম মেয়াদ ২০ বছর। চাচা আরি আঘা মাহমুদকে একই সাজা দিয়ে ন্যূনতম ২৩ বছর কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই চাচাতো ভাইও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।
বেখাল মাহমুদ বলেন, নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন পদক্ষেপ। তিনি বলেন, প্রতিবার ভয় পেলে তিনি শুধু ভাবতেন “বানাজ আর বেঁচে নেই। তার জন্য কথা বলবে কে?”
বর্তমানে সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় জীবন কাটানো বেখাল জানান, পরিচয় গোপন রেখে বসবাস করা অত্যন্ত নিঃসঙ্গ একটি জীবন। নিজের মাতৃভাষায় কাউকে কথা বলতে শুনলেও তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অন্যদের পরিবার নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে দেখলে নিজের হারিয়ে যাওয়া পরিবারের কথা মনে পড়ে।
এদিকে বেখাল বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ‘বানাজস ল’ (Banaz's Law) নামে একটি আইনি উদ্যোগের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার দাবি, পারিবারিক ‘সম্মান’ রক্ষার নামে সংঘটিত নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডকে সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আইনে আরও কঠোরভাবে বিবেচনা করা উচিত।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
বিশ্ব
View moreযুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ। নির্বাচনে জয়ের পর তাঁর দেওয়া বিজয় ভাষণে আরবি শব্দ ‘হাবিবি’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ ব্যবহারের বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ আরব বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে ‘জেডি, হাবিবি’ বলার মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে মিশিগানের সিনেট আসনে জয়ী হন ৪২ বছর বয়সী এল-সায়েদ। বুধবার ভোরে ডেট্রয়েটে সমর্থকদের সামনে দেওয়া ভাষণে তিনি নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্যের জবাব দেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘জেডি, হাবিবি। এর মধ্যে এক অদ্ভুত আনন্দের বিষয় রয়েছে যে, আগামী জানুয়ারিতে সংবিধান অনুযায়ী তোমাকেই আমাকে শপথ পড়াতে হবে।’ ‘হাবিবি’ আরবি ভাষার একটি স্নেহসূচক শব্দ। এর আক্ষরিক অর্থ ‘আমার প্রিয়জন’ হলেও দৈনন্দিন কথাবার্তায় বন্ধু, কাছের মানুষ কিংবা প্রিয় কাউকে সম্বোধন করতেও শব্দটি ব্যবহার করা হয়। আরব সংগীত ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও শব্দটির বহুল প্রচলন রয়েছে। এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারে সমর্থকদের অনেকে ‘হাবিবি ফর আবদুল’ লেখা টি-শার্ট পরেছিলেন। বিজয় ভাষণে শব্দটির ব্যবহার আরবদের কাছে বিশেষ আনন্দের বিষয় হয়ে উঠেছে। এল-সায়েদ তাঁর ভাষণে ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দও ব্যবহার করেন। ‘ইনশাআল্লাহ’ অর্থ আল্লাহ চাইলে এবং ‘আলহামদুলিল্লাহ’ অর্থ সব প্রশংসা আল্লাহর। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় তিনি নিয়মিত ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতেন উল্লেখ করে জানান, এবার সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় কথাটি ‘আলহামদুলিল্লাহ’তে পরিণত হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য আরবি ভাষাভাষীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এল-সায়েদের বিজয় ভাষণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অভিনন্দন ও আনন্দের প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে। অনেকে ‘হাবিবি’ শব্দযুক্ত আরবি গানের ভিডিও, মিসরীয় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শিরিন আবদেল ওয়াহাবের গানের দৃশ্য এবং নানা হাস্যরসাত্মক ভিডিও প্রকাশ করেন। মিসরের চলচ্চিত্রের দৃশ্য ব্যবহার করে তৈরি মিমও ছড়িয়ে পড়ে। মিসরীয় শিক্ষাবিদ খলিল আল-আনানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘হাবিবি’কে সবচেয়ে মিষ্টি শব্দ হিসেবে উল্লেখ করে এল-সায়েদকে ধন্যবাদ জানান। এল-সায়েদ মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর নির্বাচনী প্রচারে মুসলিম পরিচয় ও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন। প্রচারের সময় ভ্যান্সও এল-সায়েদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্যের জবাবে এল-সায়েদ নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও মিসরীয় ঐতিহ্যকে আড়াল না করে বরং প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অভিজ্ঞতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কয়েক দশক ধরে হলিউডের বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক বক্তব্যে আরব ও মুসলিমদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের প্রবণতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ইসলামি আইন বা শরিয়াহ যুক্তরাষ্ট্রে চাপিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন অনেকে। এমন প্রেক্ষাপটে একজন মুসলিম ও মিসরীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিকের সিনেটে নির্বাচিত হওয়া এবং নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রকাশ্যে উদ্যাপন করাকে অনেকেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিজয় ভাষণের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশেও কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য করেন এল-সায়েদ। তিনি বলেন, ট্রাম্প তাঁর নাম উচ্চারণ করতে সমস্যায় পড়েছেন। তাই আগামী জানুয়ারিতে জেডি ভ্যান্স তাঁকে শপথ পড়ানোর পর প্রেসিডেন্ট চাইলে তাঁকে শুধু ‘সিনেটর’ বলে ডাকতে পারেন। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারে ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে করা মন্তব্যের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের নতুন অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি। উল্লেখ্য, মিশিগানের সিনেট আসনে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে পরাজিত করে এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে তাঁর। তাঁর বিজয়কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ও আরব জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মহলেও আনন্দ ও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস নিউজ।
এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিদ্র ওজোন স্তরে, কারণ জানাল নাসা
শিরক ও ইসরায়েলকে সমর্থনের অভিযোগে লিবিয়ায় নিষিদ্ধ হচ্ছে নাইকি
ফ্রান্সজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ, বেতন ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি
মোবাইল ফোনে খামার তৈরি, গরু-ছাগল ও মুরগি পালন করে আয় করার সুযোগ। এমন আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিয়ে তুরস্কের হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১৩ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছিলেন মেহমেত আইদিন নামের এক যুবক। ‘চিফতলিক ব্যাংক’ নামের একটি অনলাইন গেমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিনিয়োগ প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রতারণায় পরিণত হয়। বিপুল অর্থ নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর কয়েক বছর আত্মগোপনে ছিলেন আইদিন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেই কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আলোচিত এই মামলায় ২০২৫ সালে তাঁকে ৪৫ হাজার ৩৭৬ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন তুরস্কের একটি আদালত। তুরস্কে ২০১৬ সালে ‘চিফতলিক ব্যাংক’ বা ‘ফার্ম ব্যাংক’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি চালু করেন মেহমেত আইদিন। জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক গেম ফার্মভিলের আদলে তৈরি এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা ভার্চুয়াল জমি, গরু, ছাগল ও মুরগি কিনতে পারতেন। তবে সাধারণ গেমের সঙ্গে এর বড় পার্থক্য ছিল বাস্তব অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ। ব্যবহারকারীদের জানানো হয়েছিল, গেমে বিনিয়োগ করা অর্থ দিয়ে তুরস্কের বিভিন্ন এলাকায় বাস্তব খামার পরিচালনা করা হবে এবং সেখান থেকে পাওয়া মুনাফার একটি অংশ বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হবে। শুরুর দিকে অনেক ব্যবহারকারী নিয়মিত অর্থ ফেরত পাওয়ায় প্ল্যাটফর্মটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। নতুন বিনিয়োগকারীরাও লাভের আশায় এতে অর্থ জমা দিতে শুরু করেন। তুরস্কের বিভিন্ন অঞ্চলে খামার, মাংস, দুধ, মধু ও ডিম উৎপাদনসংক্রান্ত ব্যবসার কথা প্রচার করা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের দিকে অনেক গ্রাহক নিজেদের জমা দেওয়া অর্থ তুলতে সমস্যায় পড়েন। একপর্যায়ে নতুন সদস্য নেওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রকল্পটির কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ২০১৮ সালের মার্চে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির বিরুদ্ধে প্রতারণার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রকল্পটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ মাসে আনুমানিক ১ লাখ ৩২ হাজার মানুষের কাছ থেকে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়া হয়। তবে সব বিনিয়োগকারী আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করেননি। তদন্তের সময় আইদিন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। দেশ ছাড়ার পর আইদিন উরুগুয়েসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ একাধিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আত্মগোপনে থাকার সময় বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের খবরও সামনে আসে। তবে কয়েক বছর পর ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে তুরস্কের কনস্যুলেটে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন আইদিন। এরপর তাঁকে তুরস্কে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়। আত্মসমর্পণের আগে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আইদিন দাবি করেছিলেন, কাউকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে তিনি প্রকল্পটি চালু করেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ব্যবহারকারীরা যেন গেম খেলার পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে পারেন, সেটিই ছিল তাঁর লক্ষ্য। ব্যবসার পরিধি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নিয়েছেন এবং তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানান, জব্দ করা সম্পদ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেছিলেন। তবে আদালতে এসব বক্তব্য তাঁকে দায়মুক্তি দেয়নি। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইস্তাম্বুলের আনাদোলু ষষ্ঠ গুরুতর অপরাধ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা, অপরাধলব্ধ অর্থ পাচার এবং অপরাধী সংগঠন পরিচালনাসহ বিভিন্ন অপরাধে মেহমেত আইদিন ও তাঁর ভাই ফাতিহ আইদিনকে পৃথকভাবে ৪৫ হাজার ৩৭৬ বছর ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় আরও কয়েকজনকে সাজা দেওয়া হয়। আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় মোট ২০ জন আসামির নাম ছিল এবং হাজার হাজার মানুষের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি উঠে আসে। অনলাইন গেমের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার নামে পরিচালিত এই প্রতারণা তুরস্কের অন্যতম আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারিতে পরিণত হয়। ঘটনাটি দেখিয়েছে, বাস্তব ব্যবসায় বিনিয়োগ ও অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কীভাবে একটি সাধারণ গেমকেও অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইদিনের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ এবং পরবর্তী সময়ে আদালতের নজিরবিহীন দীর্ঘমেয়াদি সাজা দেশটির গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সংবাদ সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, দ্য ন্যাশনাল।
ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র দিতে চুক্তি রাশিয়ার
যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হচ্ছে বিকৃত পর্নোগ্রাফি, আইন ভঙ্গ করলে ৫ বছরের জেল
আটতলা থেকে পড়ে আধঘণ্টা অচেতন, জ্ঞান ফিরেই নির্বিকার ভঙ্গিতে ২০ মিনিট মোবাইল ব্যবহার করলেন নারী
অসুস্থ মায়ের সেবা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনের আনহুই প্রদেশের এক শিক্ষার্থী। তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানার পর পাশে দাঁড়িয়েছে সহপাঠীরা। নিজেদের প্রিয় সংগ্রহের জিনিসপত্র দান করে তারা আয়োজন করেছে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ। এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নিজের প্রিয় অনলাইন গেমের অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে পাওয়া খুচরা টাকা তুলে দিয়েছে তার হাতে। সহপাঠীদের এমন ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের লাখো মানুষ আবেগাপ্লুত হয়েছেন। শিক্ষার্থীর নাম ছাও ফেং। তিনি চীনের মধ্যাঞ্চলীয় আনহুই প্রদেশের ইউওয়াং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর ৪৭ বছর বয়সী মা ছুইপিং দীর্ঘদিন ধরে জেনারালাইজড মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস নামের একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন। এতে শরীরের বিভিন্ন পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি তাঁর থাইমাস গ্রন্থিতে টিউমার রয়েছে। সম্প্রতি শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার কারণে তাঁকে সাংহাইয়ের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও বেশ কঠিন। ছাও ফেংয়ের বাবা নিজেও টিউমারে আক্রান্ত। তারপরও তিনি প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা স্ত্রীর পাশে সময় কাটিয়ে বাকি সময় অনলাইনভিত্তিক যাত্রী পরিবহন সেবা দিয়ে গাড়ি চালান। দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা কাজ করেও পরিবারের চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ইউয়ান, যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের সমান, খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছাও ফেং মনে করেছেন, পরিবারের এই সংকটে তাঁরও দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। পরিবারের অন্য সদস্যরা আয় করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাঁর পক্ষে তখনই অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই মায়ের পাশে থেকে দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর বড় বোন স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তিনিও পড়াশোনা ছেড়ে কাজে যোগ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। নিজের সিদ্ধান্তের কথা শিক্ষককে জানালে তিনি ছাও ফেংকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ, ছাত্রী হিসেবে তিনি বরাবরই ভালো ফল করেছেন এবং প্রতিবছর বৃত্তি পেয়েছেন। তবে মায়ের পাশে থাকার বিষয়ে ছাও ফেং ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পরে শিক্ষক লি এবং ২ কোটি ২০ লাখ অনুসারী থাকা অনলাইন ব্যক্তিত্ব লিয়াংতিয়ানের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে তাঁর জন্য বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সহপাঠীরাও তাঁর পরিস্থিতি জেনে স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রিয় জিনিসপত্র দান করতে শুরু করে। বিদায় অনুষ্ঠানে ছাও ফেংয়ের এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তাঁর হাতে একটি ব্যাগভর্তি খুচরা টাকা তুলে দেয়। জানায়, নিজের প্রিয় ‘অনার অব কিংস’ গেমের অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে সে এই অর্থ সংগ্রহ করেছে। অন্য সহপাঠীরাও নিজেদের পছন্দের আলট্রাম্যান কার্ড, প্রিয় নাটকের স্মারক, হাতে তৈরি সামগ্রী, ব্যাজ, পছন্দের গায়কের গানের রেকর্ড এবং প্রিয় বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের জার্সি দান করে। এসব জিনিস বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ছাও ফেংয়ের পরিবারের সহায়তায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিদ্যালয় থেকে বিদায়ের সময় কয়েক শ সহপাঠী করিডরে দাঁড়িয়ে তাঁকে হাত নেড়ে শুভকামনা জানায়। সেই মুহূর্তের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। লিয়াংতিয়ান ভিডিওটি প্রকাশ করার পর তাতে প্রায় এক কোটি পছন্দের প্রতিক্রিয়া এবং দুই লাখের বেশি মন্তব্য আসে। অনেকে ছাও ফেংয়ের মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন, পাশাপাশি সহপাঠীদের ত্যাগ ও বন্ধুত্বেরও প্রশংসা করেন। একজন মন্তব্য করেন, বড়দের কাছে এসব জিনিসের আর্থিক মূল্য কম হতে পারে, কিন্তু শিশু-কিশোরদের কাছে সেগুলোই তাদের প্রিয় সম্পদ, যা বন্ধুকে সাহায্য করতে তারা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাও ফেংয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠাতে শুরু করেন অনেকে। তাঁর শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে একটি লাল খামে তাঁকে সহায়তা দেওয়া হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাও ফেংয়ের পড়াশোনা যেন পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য শিক্ষকেরা প্রতিদিন দূর থেকে তাঁকে পড়াশোনায় সহায়তা করবেন এবং তাঁর মানসিক অবস্থারও খোঁজ রাখবেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ছাও ফেংকে ভবিষ্যতের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ‘গাওকাও’-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আবার বিদ্যালয়ে ফিরলে তাঁর বেতনও মওকুফ করা হবে। বর্তমানে মায়ের পাশে সাংহাইয়ে থাকা ছাও ফেং শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার পড়াশোনা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, দ্য পেপার।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পালাবদল, ক্ষমতা হারানোর মুখে ট্রাম্পের দল
চীনের কারখানায় ৮ ঘণ্টার শিফট শেষ করে ইতিহাস গড়ল শাওমির হিউম্যানয়েড রোবট